তোমাতেই_আসক্ত
পর্ব:১৯
তানিশা সুলতানা
আদ্রিতা ঠিকঠাক বুঝতে পারলো না আবরারের কথা তবে নিজেকে ছাড়ানোর পায়তারা শুরু করে দেয়। বোয়াল মাছের মতো নারাচরা করতে থাকতে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে তার। বুকের ভেতরটা কাঁপছে৷
আবরার বিরক্ত হলো। শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো কোমর। শাড়ির আঁচলের ফাঁকে হাত গলিয়ে দেয়। উন্মুক্ত কোমরে ঠান্ডা হাতের বিচরণে কেঁপে উঠলো আদ্রিতার সত্তা৷ সেই কাঁপাকে আতঙ্কে রূপ দিতে কোমর হতে হাত ওপরে ওঠাতে থাকে। নিষিদ্ধ স্থান ছুঁয়ে দেয়।
মৃদু চিৎকার করে ওঠে আদ্রিতা। ঠোঁট কাঁপছে তিরতির করে।
আসমানে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। চারিপাশে থেকে ছেয়ে আসছে ঘনোকালো মেঘ। ঘড় তুফানও হবে হয়ত প্রকৃতি এমনটাই জানান দিচ্ছে।
দূরে পাহাড়ের ওপরে এক ফালি ফকফকে সাদা অসমান। মানে পাহাড়ের ওইপাশে বৃষ্টি হচ্ছে না।
আদ্রিতা এক পলক তাকায় আবরারের মুখ পানে।
চোখ দুটো অসম্ভব লাল। ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
সেই নিঃশ্বাস আঁচড়ে পড়ছে আদ্রিতার মুখে। সদ্য সিগারেট খেয়েছে। এমনিতে সিগারেট এর গন্ধ আদ্রিতার পছন্দ নয়। তবে আজকে অদ্ভুত ভালো লাগছে।
শুকনো ঢোক গিলে আদ্রিতা। এবং সঙ্গে সঙ্গে আঁখি পল্লব বন্ধ করে নেয়।।
কাঁপা-কাঁপা স্বরে কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যায়।
আবরার ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে হাঙ্কি বলে
“হুহহহহহহ ডোন্ট টেল্ক।
ছোঁয়া যতটা ভয়ংকর তার থেকেও অধিক ভয়ংকর শোনালো আবরার তাসনিন এর কন্ঠস্বর। আদ্রিতার বোধহয় আজকে পাগল হওয়ারই দিন।
সে আবরারের হুশিয়ার শুনলো না।
বিরবির করে বলেই ওঠে
” ব্যাথা পাচ্ছি আমি।
তখুনি বিদ্যুৎ চমকে ওঠে। সেই সঙ্গে সঙ্গে আবরার আদ্রিতার চিকন পাতলা ওষ্ঠদ্বয় দখল করে নিজ ওষ্ঠের ভাজে।
দুই হাতে শূন্যে তুলে নিজেদের মধ্যেকার উঁচু নিচুর ব্যালেন্স ঠিক করে এবং উম্মাদের মতো চুমু খেতে থাকে। আদ্রিতা কয়েকবার গুঙিয়ে ওঠে। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়। আবার সহ্য করে নেওয়ারও ক্ষমতা তার নেই।
তাই নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে রয়।
আবরার অনুভব করে আদ্রিতা রেসপন্স করছে না। হাত পা ছেড়ে দিয়েছে।
হাসবে না কি কাঁদবে বুঝে উঠতে পারে না। ছেড়ে দেয় ওষ্ঠ। সেভাবেই ঘুরিয়ে পাঁজা কোলে নেয়।
বন্ধ চোখের পানে তাকিয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড।
পরপর চুমু খায় উঁচু নাকে।
“ইডিয়েট একটা
ইচ্ছে করছে খু/ন করে মাটিতে পুঁতে রেখে দেই।
সেই রাতে গা কাঁপিয়ে জ্বর আসলো আদ্রিতার।জ্বরের কবল থেকে রেহায় পায় নি আবরারও।
দুজনই এক সাথে অসুস্থ হয়ে পড়লো। পরেরদিন আবরার তাসনিন এর মালয়েশিয়া যাওয়ার ডেইট ছিলো। আতিয়া বেগম কোনোমতেই যেতে দেবে না। তবে আবরারকে কি আর বেঁধে রাখা যায়?
শরীরে ১০২° জ্বর নিয়েই সে চলে যায়। সাথে যায় আহাদ এবং ইভান।
আর আদ্রিতাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। কেনোনা কোনো মতেই তার জ্বর নামছিলো না।
পাঁচ দিনের মাথায় আজকে আদ্রিতা হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেলো। তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অহনা চিকেন স্যুপ বানিয়েছে আদ্রিতার জন্য। সিয়াম কল করে জানিয়েছে তারা গাড়িতে উঠে পড়েছে। কিছু মুহুর্তের মধ্যেই চলে আসবে।
এসেই যাতে আদ্রিতা খেতে পারে তাই একটু তাড়াহুড়োই করছে।
আমান কিচেনে যায়। অহনার পাশে দাঁড়িয়ে বলে
” একটা ছেলের সাথে মিট করতে সুইজারল্যান্ড এসেছো তুমি। বাট এখন ছেলেটা তোমার সাথে কন্টাক্ট করছে না।
চমকালো না অহনা। ঘটনা সত্যি। আর সত্য স্বীকার করতে কখনোই ভয় পায় না ও।
তাই বলে
“হ্যাঁ
” ছেলেটা ভালো নয়। সে ম্যারিড। তার বউ বাচ্চা আছে।
“এখানে আসার পরে আন্দাজ করেছিলাম। ইটস ওকে
আমি মানিয়ে নিয়েছি।
” দ্যাটস লাইক এ গুড গার্ল
সিয়াম তোমায় খুব পছন্দ করে। ও খুব ভালো ছেলে।
“আমারও ওনাকে পছন্দ। তবে লাইফ পার্টনার হিসেবে নয়।
ভালোবাসতে পারবো না।।
যদি পারি আই উইল বি হ্যাপি।
আমান মুখ বাঁকায়। হাঁটুর বয়সী মেয়ে কথা বলার কি এটিটিউট। সিয়াম থাকলে ভালো লাগলো। অন্তত সুন্দর একটা কবিতা তো শুনতে পেতো।
জীবনে প্রথমবার সিয়ামের কবিতা মিস করছে আমান।
কথা খানা সিয়াম জানতে পারলে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলতো আর নাচতো।
এরই মধ্যে আদ্রিতারা চলে আসে। এ্যানিটাও বড্ড অসুস্থ। তারও ঠান্ডা লেগেছিলো যদিও এখন আলহামদুলিল্লাহ ঠিক আছে।
আতিয়া বেগম আদ্রিতাকে ধরে এনে সোফায় বসায়।
এই পাঁচ দিনে মেয়েটার মুখ শুকিয়ে এই টুকুনি হয়ে গিয়েছে।।কালোও হয়েছে অনেকটা।
আমান এসে আদ্রিতার পাশে বসে ভিডিও কল করে আবরারকে।।
আবরার মোটেও কল করতে বলে নি৷ তারপরও আগ বাড়িয়েই কল দিয়েছে আমান।
প্রথমবার রিং হতে হতে কেটে যায়। দ্বিতীয় বারের বেলায় রিসিভ করা হয়।
বড়ই গম্ভীর স্বরে বলে
“হোয়াইট রং উইথ ইউ
তখুনি পেছন ক্যামেরা দেয় আমান। আবরার দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে ফেলে।
” এর জ্বর এখনো সারে নি?
আদ্রিতাও স্পষ্ট শুনতে পেলো। দাঁতে দাঁত চেপে মুখ বাঁকায়। বিরবির করে বলে
“শালা লুচ্চা
বউ থাকতেও আমায় কলঙ্কিনী করলি। এ যে কলঙ্কের জ্বর। এ জ্বর সহজে সারবে না”
আমান বলে
“আজকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। তোর জ্বর সেরেছে?
আবরার জবাব দিলো না। কল কেটে দিলো। সামনে ক্লাইন্ট বসে আছে। তাদের সঙ্গে ইমপটেন্ট মিটিং করছিলো।
“তাসিন ফ্যাশন হাউস” এর কিছু ড্রেস মালয়েশিয়া শোরুমে রাখতে চাচ্ছে। পরবর্তীতে চাহিদা বাড়লে বা মানুষের ভালো লাগলে একটা শোরুম দেওয়ার কথা চিন্তা করবে।
তবে এই মুহুর্তে আবরারের মাথায় আদ্রিতার চিন্তা ঢুকে গেলো। তাই মিটিং এর ইতি টানে এবং নিজ কক্ষে গিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।
তার জ্বরটাও এখনো পুরোপুরি সারে নি। কপাল গরম, মুখল রুচি নেই, শরীর দুর্বল, মাথা ব্যাথা আরও অনেক সমস্যা।
যেখানে বড় বড় এক্সিডেন্ট কখনোই আবরার তাসনিনকে কাবু করতে পারে নি। সেখানে সামান্য জ্বর ঘায়েল করে ফেলেছে।
“একটা চুমু আমাদের আর কতো ভোগাবে পাখি? এবার তো সুস্থ হওয়া উচিত”
আবরার কল কেটে দিতেই আদ্রিতা বলে
“আপনার বন্ধু ভীষণ খারাপ। তাকে বলে দিবেন আমার থেকে দূরে থাকতে।
সিয়ামের গাড়ি পার্ক করে সবেই আসলো। এসেই আদ্রিতার কথা খানা শুনতে পেলো এবং পাল্টা প্রশ্ন করে
” কেনো কেনো?
কি করেছে আমাদের বন্ধু?
“কি করে নি? গাছেরও খাবে তলারও কুড়োবে।
চরিত্র খারাপ। আমি নাহয় ঘরের মেয়ে কিন্তু ওনার বউ তো বাইরের মেয়ে। সে জানতে পারলে ওনাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবে।
” কি জানতে পারবে?
“কি আবার। এই যে আমার জ্বর আসলো এটা কার জন্য?
আমান আহাদ এক সাথে বলে
” কার জন্য?
“ওই হাতির জন্য।
উনি যদি ওই দিন চু
বাকিটা শেষ করার আগেই আমানের ফোন খানা বেজে ওঠল। স্কিনে আবরার তাসনিন নাম খানা ভেসো উঠেছে। ভিডিও কল করেছে।
আমান সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ করে।
বিরক্ত স্বরে বলে
” ডিস্টার্ব কেনো করছিস? ইমপটেন্ট কথা বলছিলো আদ্রিতা।
আবরার জবাব দেয়
“ও আবার ইমপটেন্ট কথা বলতে পারে না কি?
জবাবটা আদ্রিতাই দিলো
” আপনার মতো মুখ মোছা কাক না কি আমি? আপনার বউয়ের নাম্বার দিন। কথা বলবো তার সাথে।
“রাতে আসছি আমি। তারপর বউয়ের নাম্বার দিবো।
চলবে
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৩
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩০
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৬
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৯
-
অন্তরালে আগুন পর্ব:৬০
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৭
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২১
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৮
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৬
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২৩