Golpo romantic golpo অন্তরালে আগুন

অন্তরালে আগুন পর্ব:৬০


অন্তরালে_আগুন

পর্ব:৬০

তানিশা সুলতানা

নিস্তব্ধ অন্ধকার কেটে যেতেই নতুন দিনের সূচনা ঘটে।সেই দিন কারো জন্য সুখকর আবার কারো জন্য দুঃখের। তবে নওয়ান তালুকদার এর নিকটে আজকের দিনটা একদম স্বপ্নের মতো। এমনটাই সে চেয়ে এসেছে। তার প্রশস্ত বুকের উপর পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে নুপুর। সূর্যি মামা আসমানে উদয় হলেও চাঁদের ঘুম ভাঙে নি। তবে নওয়ান গোটা রাত ঘুমোতে পারে নি৷ ঘুম যেনো আজকে ছুটি নিয়েছিলো।
এখুনই তাদের ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে। মায়ের অবস্থা খুবই একটা ভালো নয়। ইমিডিয়েটলি কিডনি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আর সেটা নওয়ান তালুকদার না গেলে হবে না।
অগাত্য নুপুরের শান্তির ঘুম ভাঙাতেই হবে।
তাই মৃদু স্বরে দুবার ডাকে।
তিন বার ডাকার আগেই নুপুর নরেচরে ওঠে। পিটপিট করে চোখ খুলতেই তার মনে পড়ে হাসপাতালে যেতে হবে।
এক লাফে উঠে বসে। কম্বল খানা গায়ে জড়িয়েই ওয়াশরুমের পানে ছোটে।
নওয়ান বাঁকা নয়নে কিছু মুহুর্ত তাকিয়ে থাকে। তারপর নিজেও বিছানা ছাড়ে। আলমারি থেকে নুপুরের জামাকাপড় বের করে ওয়াশরুমে দিয়ে আসে।
তারপর নিজেও চেঞ্জ করে বাইরে বের হয়। তখুনি বাড়ির বাইরে থেকে হট্টগোল এর আওয়াজ ভেসে আসতে থাকে।
পঁচা ডিম, টমেটো, ইট, পাটকেল ফিক্কে দেওয়া হচ্ছে তাদের বাড়িতে। জানালার গ্লাস ভেঙে ভেতরে চলে আসছে তা।।
একটা ইটের টুকরো এসে লাগে নওয়ান এর কপালে। মুহুর্তেই সেখান থেকে র/ক্ত গড়াতে থাকে।
কপালে ভাজ পড়ে নওয়ান তালুকদারের।।
আজকে বাইরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ায়। পেছন থেকে স্নেহা হাত টেনে ধরে।
কাঁপা-কাঁপা স্বরে বলে
“আপনি বাইরে যাবেন না দয়া করে।।ওরা বিপক্ষ দলের। ভীষণ চটে আছে।

নওয়ান ভ্রু কুঁচকে স্নেহার হাতের পানে তাকায়। মুহূর্তে হাত ছেড়ে দেয় স্নেহা। দু পা পিছিয়ে দাঁড়ায়।

“তোরা যাসনি?

“আপু বললো সবাই একসাথে যাবো।

মজনু তালুকদার সবিতা তালুকদার সিনথিয়া স্নেহা নুপুর আর নওয়ানই শুধু বাড়িতে।
ভাংচুরের আওয়াজ পেয়ে সকলে নিজ নিজ কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে।
মজনু নওয়ান কে উদ্দেশ্য করে বলে
“খোঁজ নিয়ে দেখো এসব তোমার বউয়ের ভাড়া করা মানুষ কি না।।

নুপুরও ততক্ষণে চলে এসেছে এবং শুনতে পেয়েছে কথা খানা।
জবাবও যেনো তৈরি ছিলো তার ঠোঁটের আগায়।

“নুপুর শিকদার এত ভীতু নয়।
পেছন থেকে ছুড়ি মারার অভ্যাস আপনার।

সবিতা বলে
” এই মেয়ে এতো চোপা কেনো তোমার? একটা কথাও মাটিতে পড়তে দাও না

“দিবো কেনো?
আমা

বাকিটা শেষ করার আগেই একটা ইটের টুকরো এসে লাগে নুপুরের কপালে। খুব বেশি আঘাত পায় নি। তবুও
“আহহহ” শব্দ করে উঠতেই নওয়ান এর মেজাজ বিগড়ে গেলো। ধপ করে মাথায় আগুন জ্বলে ওঠে। প্রথমে নুপুরের কপাল পরোখ করে তারপর
কাউকে পরোয়া না করে বড় বড় পা ফেলে বেড়িয়ে যায় বাইরে।
স্নেহা অনবরত ডাকতে থাকে। না যেতে অনুরোধ করে। নওয়ান তালুকদার সেদিকে তাকায় না।

তালুকদার বাড়ির সামনে শখানেক মানুষের ভিড় জমেছে। ওই উঠতি বয়সী কিছু ছেলেপেলে। তারা কেনো আক্রমণ করছে কারণ জানার প্রয়োজন বোধ করলো না নওয়ান।
সদর দরজা খুলে বাইরে বের হয় সিনা টান করে। হাতে কোনো অশ্র নেই। নিজেকে প্রটেক্ট করার মতোও কোনো কিছু নেই।
সকলেই অবাক হলো।
আক্রমণ করার জন্য যে ইটের টুকরো উঠিয়েছিলো তা ছুঁড়ে মারার সাহস হলো না।।
নওয়ান বলে
“আমাকে মা/রা/র জন্য এই আয়োজন করা হলে আমি সর্ব সম্মুখে বুক পেতে দিলাম।
মা/রো আমায়।

কেউ মা/রে না। বা কিছু বলেও না।।
” ভয় পেলে চলবে না
বীরের মতো বাঁচো
সিংহ হতে না পারলে
হাতে চুড়ি পড়ে নাচো

পুরুষ হয়ে জন্ম নিয়েছো, রাজনীতি দলে নাম লিখিয়েছো অথচ এখনো ভয় পাও?
তোমাদের দিয়ে দেশ পরিচালনা করা অসম্ভব। যে তোমাদের পাঠিয়েছে তার জানা দরকার বিড়াল নিয়ে সিংহের সঙ্গে লড়াই করা যায় না।
এতে পরাজয় নিশ্চিত।

একটা ছেলে বলে ওঠে
“ভাই আপনার মুখের দিকে তাকালেই আমাদের সাহস ফুরিয়ে যায়।
আমরা পারবো না আপনাকে মারতে।

হাসলো নওয়ান। ছেলেটাকে ডেকে কাছে আনে। তার কাঁধে হাত রেখে বলে
” মায়া বড়ই ভয়ংকর নেশা রে পাগলা
মায়া কাটাতে শেখো।

ছেলেটা জবাব দিলো না তবে নওয়ান এর মুখ পানে তাকিয়ে রইলো কিছু মুহুর্ত।
“ভাই তোমাদের সঙ্গে ঝগড়া করার বা তর্ক বির্তক করার সময় নেই।
আমার আম্মু হাসপাতালে। সে সুস্থ হয়ে ফিরলে তোমাদের সকলের কথা শুনবো আমি।


“দেহের প্রেম ক্ষণস্থায়ী
ফুরিয়ে গেলে যৌবন
আত্মার প্রেম চিরন্তন
হারিয়ে গেলেও প্রিয়জন”

স্নেহার ডাইরির এক পৃষ্ঠায় লাইন গুলো লেখা ছিলো। গতকাল রাতেই এটা লিখেছে মেয়েটা। কেনো জানি মনের ভেতর থেকে কথা খানা উদয় হলো। এর সত্যতা সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। তবে আত্মার প্রেমের ক্ষয় নেই এটা সে মানে।
এবং প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছে “যে প্রেমে ক্ষয় নেই সেই প্রেমকেই নিজের অশ্র বানাবে।”

এই মুহুর্তে তারা ঢাকার শহরের জ্যাম নামক বিরক্তকর পরিস্থিতিতে বসে আছে ওদের গাড়ি খানা। ড্রাইভিং সিটে স্বয়ং নওয়ান তালুকদার বসে আছে।।নুপুর তার কাঁধে মাথা রেখল ঘুমুচ্ছে। গা গরম। হালকা জ্বর এসেছে।
স্নেহা এবং সিনথিয়া পেছনের সিটে বসে আছে।
সিনথিয়ার নজর ফোনের স্কিনে।
নেহাল শিকদার নামক আইডি খানা তার বেশ প্রিয়। সিঙ্গাপুর থাকতে কয়েকবার কথা হয়েছে এই আইডির মালিকের সঙ্গে।
আর আজকে সামনে থেকে দেখেছে। তারা যখন মানিকগঞ্জ স্বাধীনতা চত্বরের সামনে দিয়ে আসছিলো তখন ছেলেটাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে।
এক পলক দেখেই সিনথিয়ার বুক কেঁপে উঠেছে। প্রেমে পড়ে গিয়েছে।
এখন সেই আইডির মানুষটাকে মেসেজ দেয় “আজকে আপনাকে আমি দেখেছি”

সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই আসে “আচ্ছা”
ব্যাসস আর কিছুই না।


নুপুরকে দেখে আমিনা বেগম খুশি হয়। মনে মনে চাচ্ছিলো নুপুর আসুক কিন্তু মুখে বলার সাহস পায় নি। এই মুহুর্তে ছেলের পাশে ছেলের বউকে দেখে চোখ ভিজে ওঠে আমিনার৷ ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটিয়ে ওদের কাছে ডাকে।।
কাছে যেতেই নুপুরের হাত খানা শক্ত করে ধরে আমিনা। ধরে আসা স্বরে বলে
“নুপুর কথা দাও
আমার দুটো ছেলে আগলে রাখবে তুমি। কোনোদিনও তাদের ছেড়ে যাবে না।

চট করেই কথা দিতে পারে না নুপুর। এদিক ওদিক দৃষ্টি ফিরিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে।
নায়েব তালুকদারকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। অথচ কথা ছিলো সে সব সময় হাসপাতালে থাকবে ঠিক আমিনা বেগম এর কাছাকাছি।
স্নেহা বুঝলো নুপুর কথা দিবে না। তাই প্রসঙ্গ বদলাতে সে এগিয়ে আসে। আমিনা বেগমকে জড়িয়ে ধরে বলে
” বড় মা
কিছু খেতে চাও তুমি?
আমি আনবো খাবার?

আমিনা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে
“খাওয়ার সময় শেষ হয়ে গিয়েছে রে স্নেহা। এখব আর খেতে ইচ্ছে করে না। শুধু আপনজনদের দেখতে ইচ্ছে করে। তাদের সঙ্গে দুই দন্ড গল্প করতে মন চায়।

নুপুর শুনলো এবং তখুনি বেরিয়ে যায় কেবিন থেকে।।
তামিমকে কল করে জেনে নেয় নায়েব তালুকদার কোথায় আছে।
তারপর চলে যায় সেখানে।

পার্টি অফিসে দলের নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করছেন নায়েব তালুকদার।
বাংলাদেশের রাস্তা ঘাটের অবস্থা বড়ই করুন। সাধারণ মানুষের চলাচলের বেশ অসুবিধা।
রাস্তা মেরামতের জন্য ইনভেস্ট করতে হবে।
কোন কোন জায়গা থেকে অর্থ কালেক্ট করে রাস্তা মেরামতে খরচ করা যাবে সেটা নিয়েই এই বৈঠক।
এমন মুহুর্তে বীণা অনুমতিতে অফিসে ঢুকে পড়ে নুপুর। নায়েব সহ সকলেই দাঁড়িয়ে পড়ে। নায়েব ছাড়া বাকি সবাই সালাম দেয়।
নুপুর সালাম ফিরিয়ে নায়েব তালুকদার এর পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।

“আজকের মতো মিটিং এখনেই সমাপ্ত। আমার শাশুড়ী মা অসুস্থ। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন।
এখন আমি বাবাকে নিয়ে যাচ্ছি।

বলেই নায়েব তালুকদারের হাত ধরে।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply