Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ২৮


তোমাতেই আসক্ত পর্ব ২৮

তানিশা সুলতানা

ভোরের আলো ফোঁটার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম হালকা হয়ে যায় আদ্রিতার। পিটপিট করে চোখ খুলতেই দেখতে পায় সূর্যি মামা উঠে গেছে। গোটা কক্ষ আলোকিত। একটুখানি নড়াচড়া করতে যেতেই অনুভব করে গলা প্রচন্ড ব্যথা। সেই সঙ্গে হা করতে পারছে না। ঢোক চিপতে পারছে না। এমনকি ঘাড় এদিক ওদিক নাড়াতেও পারছে না। নিজেকে কেমন ভারী ভারী মনে হচ্ছে।
এমনটা কেনো হয়েছে আদ্রিতার খুব ভালো করেই মনে আছে। কালকের দৃশ্য খানা মনে পড়তেই কেনো জানি কান্না পেয়ে গেলো। আবরারের জন্য মনের মাঝে যে ভালোবাসা উঁকি দিয়েছিলো মুহূর্তের মধ্যে সে ভালোবাসা ম/রে গেলো। মানুষটা বরাবরই এমন৷ কখনো স্পেশাল ফিল করায় আবার কখনো আঘাত করে। তার আঘাতের মাত্রা এতোই বেশি যে আদ্রিতা সহ্য করতে পারে না।
সুন্দরের প্রেমে মজতে নেই৷
আবরার তাসনিন ভয়ংকর। আদ্রিতার সঙ্গে একদমই তাকে মানাবে না। তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা বাদ দিতে হবে। ভাবতে ভাবতেই গায়ের ওপর থেকে কম্বল সরিয়ে উঠে বসে। বালিশের পাশে থাকা ফোন খানা হাতে নিয়ে কল করে বাবাকে।
আরিফ তখন ব্রেকফাস্ট করছিলো। তার পাশেই রয়েছে আব্দুল রহমান এবং হাফিজুর চৌধুরী। বর্ষা ওনাদের খেতে দিচ্ছে। কল বাজতে দেখে আব্দুল রহমান প্রশ্ন করে
“কে কল করেছে?

আরিফ ওনার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে কল রিসিভ করে। এবং বলে
“মামনি কেমন আছো তুমি? এতো ভোরে কল করলে যে?

আদ্রিতা বলতে চাইছে সে ভালো নেই। কিন্তু গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। অনেক চেষ্টা করেও একটা কথা বলতে পারেনা। ওদিকে বাবা হ্যালো হ্যালো করছে তো করছেই। শেষে বিরক্ত হয়ে কল কাটে। বাবাকে টেক্সট করে জানিয়ে দেয় পরে কল করবে।
আরিফ যেনো হতাশ হলো। ডিম পোচে কামড় বসিয়ে বলে
” আদ্রিতা কল করেছিলো কিন্তু কথা বললো না।

আব্দুল রহমানও চিন্তিত হলো। খাওয়া বাদ রেখেই কল করলো নিজ স্ত্রীকে।

আদ্রিতা ফোন খানা জায়গা মতো রেখে ড্রেসিং টেবিলের দিকে তাকায়। মুহূর্তে ওর চোখ দুটো বড় বড় হয়ে যায়। কেনোনা ড্রেসিং টেবিল এর সামনে অনেক ফুল রাখা। ব্যালকনি জানালা যেদিকে তাকাচ্ছে সেদিকেই শুধু ফুল আর ফুল।
যেনো গোটা একটা গাছের সমস্ত ফুল তুলে এনে ওর কক্ষে রাখা হয়েছে।
অসুস্থতা ভুলে চটজলদি বিছানা ছেড়ে নামলো মেয়েটা। কিছু সংখ্যক ফুল হাতে নিয়ে ঘ্রাণ শুঁকে।অদ্ভুত সুন্দর গন্ধ। মনে হচ্ছে নাকের সাথে একটুখানি মেখে রাখতে।
কিন্তু ঠোঁট মেলে শব্দ করে হাসতে যেতেই অনুভব করে হাসতে পারছে না। গলার মধ্যে ব্যথা করে ওঠে।
পুনরায় মনটা খারাপ হয়। হাতে থাকা ফুলগুলো ফেলে দিয়ে ওয়াশরুমের দিকে ছোটে।
ঠিকঠাক ব্রাশ করতে পারল না। কোনরকমে একটু কুলি করে ওয়াশরুম থেকে বেরুলো। এবং সেভাবেই কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।

ইতোমধ্যেই সকলে ব্রেকফাস্ট করতে বসে পড়েছে। আবরার তাসনিনও সেখানে উপস্থিত। তার সামনে রাখা রয়েছে দুটো ডিম পোচ লেটুস পাতার উপর বসানো, আর এক গ্লাস দুধ৷ সে কাঁটা চামচ দিয়ে ডিম পোচ কেটে কেটে খাচ্ছে।
সিয়াম, আমান, আহাদ, ইভান এবং অহনা খাচ্ছে লুচি আলুরদম সাথে মাংস ভুনা।
আদ্রিতা গিয়ে এক পাশে দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর দৃষ্টি আবরার তাসনিন এর পানে।
কিভাবে খাচ্ছো দেখো
যেনো কালকে সে মোটেও আদ্রিতাকে আঘাত করে নি। মেরে গাল টাল ফুলিয়ে দেয় নি।
একটা মানুষ এমন রোবট কিভাবে হতে পারে?
কিভাবে?
প্রথমে সিয়ামের নজরে পরে আদ্রিতা
সে মুখে আস্ত একটা লুচি ঢুকিয়ে বলে
“এ কি আদ্রিতা তোমার গাল ফুললো কিভাবে?

সিয়ামের কথায় সবাই তাকায় আদ্রিতার দিকে। শুধু আবরার তাকায় না সে খাবার থেকে মনোযোগও সরায় না। যেনো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও তার খাবার খাওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আতিয়া বেগম এগিয়ে যায় আদ্রিতার দিকে। গাল এবং গলা ছুঁয়ে দেখে বলে
“আম্মু কিভাবে ব্যাথা পেলে?

আদ্রিতা নাকের পাঠাতন ফুলিয়ে আবরারের দিকে আঙুল তাক করে। গলা দিয়ে কথা না বেরোলেও ঠোঁট নেরে বোঝানোর চেষ্টা করে ” তোমার ছেলে মে/রে/ছে”

আতিয়া বেগম না বুঝলেও আমান, আহাদ, ইভান, এবং সিয়াম বুঝে ফেলে।
অহনাও অল্পস্বল্প বুঝলো। তবে চুপ থাকাই ভালো মনে করে চুপ থাকে। নিজে খেতে খেতে মাংসের টুকরো পানি দিয়ে ধুঁয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে এ্যানিকে দিতে থাকে।

আমান বলে
“আন্টি আদ্রিতা আসলে বোঝাতে চাচ্ছে ও আবরারের সঙ্গে হাসপাতালে যাবে। কথা বলতে পারছে না।

সিয়ামও তাল মিলিয়ে বলে
” হ্যাঁ হ্যাঁ সেটাই বলছে ও।
আহারে খুব কষ্ট হচ্ছে না? আবরার এখুনি তোমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে।

আদ্রিতা কিছু মুহুর্ত ছোট ছোট চোখ করে তাকিয়ে থাকে আমান এবং সিয়াম এর মুখ পানে। তারপর ধুপধাপ পা ফেলে এগিয়ে যায়। জগে থাকা পানি ভাগাভাগি করে দুজনের মাথার ওপর ঢেলে দেয়। ইভান এবং আহাদ হো হো করে হেসে ওঠে। আতিয়া বেগম চোখ পাকিয়ে তাকায় আদ্রিতার দিকে। অহনা ঠোঁট টিপে হাসে।
আবরার চোখ মুখ শক্ত করে বলে
“সার্কাস চলছে এখানে?

ধমকটা এতোটাই ভয়ানক ছিলো যে আদ্রিতার কলিজা কেঁপে ওঠে। আহাদ এবং ইভানের হাসিও থেমে যায়।
সিয়াম একটু হাসার চেষ্টা করে বলে
“আমি কিছু মনে করিনি তো।
বাচ্চা মেয়ে
ধমকাচ্ছিস কেনো?

আদ্রিতা আর সেখানে দাঁড়ালো না। দৌড়ে নিজ কক্ষে চলে যায়। এবং মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে
“আর কখনোই মানুষটার সামনে যাবে না”

তবে আদ্রিতা সেই প্রতিজ্ঞা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারল না। একটু পরেই খাবারের ট্রে হাতে কক্ষে প্রবেশ করে আবরার তাসনিন।
আদ্রিতা তখন ফোনে গেমস খেলছিলো। তার আগে অবশ্য আসিফকে কয়েকবার কল করেছে। কিন্তু কল ঢোকে নি। ছেলেটার কি অবস্থা কে জানে?
আসিফের চিন্তা ঝেঁড়ে ফেলতেই গেমস খেলায় মন দিতে চাচ্ছিলো।
তবে আবরার তাসনিনের উপস্থিতিতে মনোযোগ দিতে পারল না।
ফোন খানা রেখে ছোট ছোট চোখে তাকিয়ে থাকে পাষাণ রোবট হাতর দিকে।
হাতি ট্রি টেবিলের হাতে খাবারের ট্রে রেখে বিছানায় বসে। হাত বাড়িয়ে আদ্রিতার গাল ছুঁতে চায়। তবে আদ্রিতা মাথা পেছন দিকে সরিয়ে নেয়।

“চাপকে গাল লাল করে দিবো ইডিয়েট। চুপচাপ এগিয়ে বসো।

ভয় পেলো আদ্রিতা। এমনিতে ব্যথায় ঘাড় নাড়াতে পারছে না। এর উপর আরেকটা থাপ্পর পড়লে বেঁচে থাকবে বলে মনে হয় না।
অগত্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও একটুখানি এগিয়ে বসে।
আবরার সুপের বাটি হাতে নিয়ে। চামচে সুপ তুলে তাতে ফু দিয়ে আদ্রিতার ঠোঁটের সামনে ধরে।
এবার নরম স্বরে বলে
” খাও

কান্না পেতে চায় আদ্রিতার। কখনো ভালোবাসা দেখাচ্ছে আবার কখনো মারতে মারতে আধমরা করে ফেলছে। এমন নাটকের মানে কি? বোকা পেয়ে ইচ্ছে মতো নাচাচ্ছে।
খেতে মন চায় না আদ্রিতার।।তবুও মুখে নেয়। খুব কষ্টে গিলে।
আবরার দেখলো সবটা। তারপর সুপের বাটি নামিয়ে আচমকা আদ্রিতাকে করে তুলে নেয় এবং বড় বড় পা ফেলে কক্ষ থেকে বের হয়৷


গোটা রাস্তা আবরার তাসনিন একটা কথাও বলে না। শুধু দক্ষ হাতে গভীর মনোযোগে ড্রাইভ করতে থাকে। আদ্রিতা দুই একবার কথা বলার চেষ্টা করলো। তবে এখনো গলা দিয়ে কথা বেরোচ্ছে না।
রাস্তায় যেতে যেতে এক নজরে বোধ হয় আসিফ আদনানকে দেখতে পেলো। হাতে পায়ে ব্যান্ডেজ লাগানো। কোথায় একটা যাচ্ছে যেনো।
খুব বেশিক্ষণ দেখতে পেল না।
কারণ আবরার তাসনিন হাই স্পিডে গাড়ী চালাচ্ছে।
কিছু মুহূর্তের মধ্যেই তারা হাসপাতালে পৌঁছে যায়।
আবরার গাড়ি থেকে নামতেই মানুষ জন তাকে ঘিরে ধরে। আগামীকাল বাইক রেস রয়েছে। আবরার সেখানে পারটিসিপেট করছে কি না এটা নিয়েই তাদের যত চিন্তা।।তাছাড়া পার্সোনাল লাইফ, বিজনেস এটা সেটা কত ধরনের প্রশ্ন
আদ্রিতা গাড়িতে বসে বসে দেখতে থাকে। মনে মনে বলে
“নিজে নবাব সেজে এসেছে
আর আমাকে ফকিন্নির মতন এনেছে। নিশ্চয়ই এই মানুষদেরকে বলবে ” এই মেয়েটা আমার বাসার মেইড”
মুখ বাঁকালো আদ্রিত।
আবরার গম্ভীর স্বরে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে
“আমার পাখি অসুস্থ
আপনারা আমাকে ডিস্টার্ব করা বন্ধ করুন।

সকলে বুঝলো বোধহয়। মুহূর্তের মধ্যেই পথ ক্লিয়ার করে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যায়। আবরার এবার আদ্রিতার পাশের দরজা খুলে ওকে কোলে তুলে নেয়।
আবরারের চেনা ডক্টরের চেম্বার তিন তলায়। আর এই হাসপাতালের লিফটে কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। যার ফলে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে।
আবরার সিঁড়ি বেয়ে তিন তলায় উঠলো। ডাক্তারের চেম্বারে এগিয়ে আদ্রিতাকে নামায়।
এবং ডাক্তারকে উদ্দেশ্য করে বলে
“এই ডাক্তার ওর গলা ব্যাথা করছে।
দুই মিনিটে গলা ঠিকঠাক করে দিবি। নাহলে তোকে খু/ন করবো আমি।

চলবে

https://link.boitoi.com.bd/R7Hs

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply