Golpo romantic golpo মিস্টার মাংকিম্যান

মিস্টার মাংকিম্যান পর্ব ৫


মিস্টার_মাংকিম্যান

পর্ব_৫

লেখিকাঃ Atia Adiba – আতিয়া আদিবা

দেখতে দেখতে কেটে গেছে সাতটি বসন্ত ||

ছাদের এক কোণে দেয়ালের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এক যুবক অত্যন্ত আয়েশ করে, দু পা ফাঁক করে কোমর দুলিয়ে দুলিয়ে প্রস্রাব করছে। তার চোখদুটো আকাশের পানে নিবদ্ধ।

শরতের গভীর রাতগুলো কেমন অদ্ভুত মায়াজাল বুনে দেয় আকাশে। বর্ষার ধুয়ে যাওয়া আকাশটা এখন একদম স্বচ্ছ। কোথাও মেঘের ছিটেফোঁটা নেই।
মাথার ওপর আজ সহস্র তারাদের মেলা বসেছে।
ছায়াপথের আবছা ধোঁয়াটে রূপালী রেখা উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রলম্বিত হয়ে আছে। চারিদিকে কি সুন্দর প্রাণ জুড়ানো শীতলতা! কাশফুলের গন্ধ জড়িয়ে আসা মৃদু হাওয়া যুবকের চোখেমুখে আছড়ে পড়ছিল।
অথচ এমন স্বর্গীয় মুহুর্তকে এক নিমেষে ধূলিসাৎ করে দিল এক জঘন্য, অর্ধ স্বরচিত চটুল গান,

“মাতাল হয়ে হিসু করব দেয়ালে,
সালা যা হবে দেখা যাবে কাল সকালে!
প্রেমিকা গেছে উড়ে প্রবাসের বিমানে,
আমি মূত্র বিসর্জন করি অতি আরামে!”

এই স্থান থেকে কিছু দূরে ঠিক ছাদের মাঝখানে রয়েছে একটি কাঠের টেবিল আর কয়েকটা প্লাস্টিকের চেয়ার। সেখানে বসে আছে আসিফ, ফাহিম আর রিফাত।
তারা পরম আয়েশে কাঁচের গ্লাসে তরল মদ ঢালছে।
আবার বরফের টুকরো মেশাচ্ছে। চামচের সাথে কাঁচের টুং টাং শব্দ আর যুবকের গাওয়া অসভ্য গানের সুর মিলেমিশে এক বিচিত্র মাতাল পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।

-ওই স্বপ্নিল! তোর মূত্রথলি কি তিমি মাছের মতো নাকি রে ভাই? পাঁচ মিনিট ধরে তো শুধু শ্রাবণের ধারাই নামাচ্ছিস! শেষ হওয়ার নাম নেই।

আসিফ গ্লাসে একটা বড় চুমুক দিয়ে ওপাশ থেকে চেঁচিয়ে বলল।

যুবক তার কোমরটা শেষবারের মতো একটা ঝাঁকুনি দিয়ে জিপারটা টেনে ঘুরল। মুখে তার এক চিলতে বেপরোয়া হাসি লেগে আছে। চোখের দৃষ্টিতে মদের মৃদু ঘোর। কিন্তু তাতেও এক ধরণের তীক্ষ্ণ বুদ্ধিদীপ্ত আভা স্পষ্ট।

যুবকের নাম আরিয়ান স্বপ্নিল চৌধুরী। এদেশের অন্যতম নামকরা, বাঘা ডিফেন্স লইয়ার শাহরিয়ার ওসমান চৌধুরীর একমাত্র ছেলে। বাবার মতোই স্বপ্নিলও পেশায় একজন আইনজীবী। তবে তার ওকালতির আর জীবনযাপনের ধরণ বাবার রাশভারী চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। কোর্টরুমে সে যেমন প্রতিপক্ষকে এক তুড়িতে বাজিমাত করে দিতে পারে, ঠিক তেমনই কোর্টের বাইরে কাছের মানুষজনদের কাছে সে একজন বানর প্রজাতির মানুষ। পুংটামিতে ওস্তাদ!

স্বপ্নিল ধীর পায়ে হেঁটে টেবিলের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে তার শার্টের ওপরের দুটো বোতাম আলগোছে খুলে দিল। বলল,

-তোরা বুঝবি না রে! শরতের এই হিমেল বাতাসের মুখোমুখি, বিস্তৃত ছায়াপথের নিচে দাঁড়িয়ে মূত্র বিসর্জন করার মাঝে যে সুখ, তা তোদের ওই বিলাতি স্কচের চেয়ে ঢের বেশি। ডোপামিন ব্যাটা ডোপামিন! ডিরেক্ট মগজে হিট করে। এসব তো জানবি না মূর্খের দল!

চেয়ারটা টেনে ধপাস করে বসে পড়ল স্বপ্নিল। আসিফের হাত থেকে মদের গ্লাসটা প্রায় কেড়ে নিল। এক চুমুকে গ্লাস অর্ধেকটা খালি করে সে একটা তৃপ্তির ঢেকুর তুলল।

ফাহিম একটু স্বপ্নিলের দিকে ঝুঁকল। চাতুর্যের হাসি দিয়ে বলল,

-তা স্বপ্নিল সাহেব, আপনার নায়গ্রা ফলসের বেগ তো কমল। এবার মনের ভেতরের বেগটার খবর বলেন শুনি? মাতাল হয়ে তো দেওয়াল ভেজালি। কিন্তু মনটা যে এখনো তোর ওই প্রবাসীর বউয়ের জন্য পুড়ছে, ওটা নিভাবি কিভাবে?

স্বপ্নিল গ্লাসটা টেবিলে ঠক করে রাখল। মুখ দিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের শব্দ বের করে বলল,

-ওসব মন পোড়ার কাহিনী এখন ওকালতি ফাইলের নিচে চাপা পড়ে গেছে। ক্লাইন্ট সামলিয়েই কূল পাই না! দিনে কতগুলো ফাও কেস আসে জানিস? দু একটা জাতের কেস যদিও আসে, ওগুলো আবার ঘুম হারাম করে দেয়।

স্বপ্নীল এবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

-লাইফিটা পুরো চুদ*লিং পং হয়ে গেছে রে। শান্তি নাই!
শান্তির মা পালাইছে।

রিফাত এতক্ষণ বড় ভাইদের কথপোকথন চুপচাপ উপভোগ করছিল। এবার সে একটু আমতা আমতা করে বলল,

-স্বপ্নিল ভাই, একটা কথা জিজ্ঞেস করব? রাগ করবেন না তো?

-বলে ফেল। আজকে ক্ষমার রাত। ভুল কিছু জিজ্ঞেস করে ফেললেও ক্ষতি নাই।

স্বপ্নিল প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে খুব যত্ন সহকারে ধরালো।

রিফাত ঢোক গিলে বলল,

-ভাই, শুনেছিলাম আপনার ওই এক্স গার্লফ্রেন্ড, অনন্যার গায়ে হলুদে নাকি ইচ্ছা করে গিয়েছিলেন? আবার অনুষ্ঠানে গিয়ে স্টেজ কাঁপিয়ে নেচেও এসেছেন?
তাও আবার ‘আজ আমার গার্লফ্রেন্ডের বিয়া’ এই গানে? এটা কি সত্যি ভাই?

প্রশ্নটা করা মাত্র আসিফ আর ফাহিম একসাথে হো হো করে হেসে উঠল। ছাদের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে ওদের হাসি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল। স্বপ্নিল একটুও রাগল না।
সে ধোঁয়ার একটা নিখুঁত রিং বাতাসে ছেড়ে চেয়ারে গা এলিয়ে দিল। তার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা বক্র হাসিটা আরও চওড়া হলো এবার। সে হাঁক ছেড়ে বলল,

-একশ ভাগ খাঁটি সত্য কথা রে, রিফাত। নাচতে নাচতে স্টেজ ভেঙ্গে ফেলার প্ল্যান ছিল। কিন্তু শা*লীর শ্রদ্ধেয় বাপ স্টেজে ভালোই টাকা ঢালছে। পরিকল্পনা সফল হয় নি।

-ভাই কাহিনীটা বলেন না প্লিজ?

  • কাহিনী আবার কি? ওর হলুদের অনুষ্ঠানে আমি পাঞ্জাবি পরে, চোখে সানগ্লাস দিয়ে গেলাম। ডিজে-কে হাজার টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিলাম।
    বললাম, লুপে চালা ব্যাটা ‘আজ আমার গার্লফ্রেন্ডের বিয়া। আমি অনন্যার চোখের দিকে তাকিয়ে পুরোটা সময় নেচেছি। মেয়ের তো চক্ষু চড়কগাছ! এমন সীন বোধহয় সে দুঃস্বপ্নেও কখনো দেখে নি। দেখার কথাও না।

স্বপ্নিল কথা শেষ করতেই সকলে টেবিল চাপড়ে হাসতে লাগল। আসিফ বলল,

-সত্যি স্বপ্নিল, তোর মত খবিশ আর দুটো দেখিনি! সাধে কি তোকে আমরা বানর ডাকি? মাংকি ম্যান!
বসে
রিফাত আবার প্রশ্ন করল,

-আচ্ছা স্বপ্নিল ভাই, আপনার তো সব আছে। আপনি দেখতে সুন্দর। সেই হ্যান্ডসাম! টাকা পয়সার অভাব নাই। ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড একশ তে একশ। তাও আপনারে চিট করল কেন?

স্বপ্নিল চোখজোড়া সরু করে সামান্য জড়োসড়ো হয়ে বসে জিজ্ঞেস করল,

-কিরে! ব্যাডা মানুষ হয়ে আরেক ব্যাডারে হ্যান্ডসাম বলস? গে নাকি তুই শালা? দূরে সর। হুস হুস.. শু শু…

-ধুর কি যে বলো স্বপ্নিল ভাই! আমি গে হইতে যাব কেন?

ফাহিম বলল,

-তোরে দিয়ে বিশ্বাস নেই।

আসিফও সহমত পোষণ করল,

-ঠিক ঠিক!

রিফাত এবার সামান্য গলা উঁচিয়ে বলল,

-হুহ! যাও আমার গার্লফ্রেন্ডরে জিগাও। ও যদি বলে আমি গে, তো মেনে নিব।

স্বপ্নিল সিগারেটের ছাই ঝেড়ে হাসতে হাসতে বলল,

-আরে থাম থাম! বিশ্বাস করলাম তুই গে না। যাহ!

স্বপ্নিল এবার তার গ্লাসের বাকি মদটুকু এক চুমুকে গিলে ফেলল। আকাশের দিকে তাকিয়ে উপহাসের সুরে বলল,

-কিছু সংখ্যক মেয়ে আছে ওরা যত্নে আটকায় না। ভালোবাসায় আটকায় না। আবার টাকাতেও আটকায় না। এরা আটকায় কোথায় জানিস? এরা আটকায় একমাত্র বিদেশে!

স্বপ্নিলের কথা শুনে ছাদ জুড়ে আবার হাসির রোল উঠল। ফাহিম তার পিঠে একটা চাপড় মেরে বলল,

-বাহ্! কবি স্বপ্নিল চৌধুরী! তা আমাদের না হওয়া ভাবি ব্রেকাপের সময় তোকে উইশ করে যায় নি?

-গেছে তো!
স্বপ্নিল সিগারেটটা অ্যাশট্রেতে পিষে ফেলল।

-কি উইশ সেটা?

রিফাত হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করল,

-মিস ওয়াল্ড বাংলাদেশের ওই কনটেস্টেন্টের কক্সবাজারের লংগেস্ট সী বিচ , সুন্দরবন, পাহাড়-পর্বত এগুলোকে উইশ করে নি তো আবার?

রিফাতের প্রশ্নে আরেক দফা হাসির রোল পড়ে গেল।

স্বপ্নিল মাথা নেড়ে বলল,
-আমার এক্স আরোও ভালো উইশ করে গেছে। আমি যেন কচি বউ পাই।

তিন জনের চোয়াল একসাথে ঝুলে পড়ল। আসিফ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

-আসলেই এটা বলেছে?

স্বপ্নিল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

-আরে হ্যাঁ! মাথার তারছেড়া মহিলা। আর কী বলবে বল?

সহসা শরতের আকাশের উত্তর-পূর্ব কোণ থেকে একটা উজ্জ্বল আলোর বিন্দু তীব্র গতিতে ছুটে গিয়ে অন্ধকারের বুকে মিলিয়ে গেল। জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড! শুটিং স্টার।

“ভাই ওই! ওই দেখ! শুটিং স্টার!”
রিফাত ঝট করে আকাশের দিকে আঙুল তুলল।

-স্বপ্নিল ভাই, জলদি কিছু উইশ করেন! এই সময়ে যা চাবেন, তাই সত্যি হয়!

আসিফ আর ফাহিম সাথে সাথে স্বপ্নিলকে খোঁচাতে শুরু করল।

-আরে বউ চা স্বপ্নিল! বিয়েটা খেয়েই ফেলি তোর এবার!

স্বপ্নিল আসমানের সেই শূন্য স্থানটার দিকে তাকিয়ে রইল। উল্কাটা মতন তার মুখের সেই হাসিটাও মিলিয়ে গেল। তার অবচেতন মনে কেমন অদ্ভুত স্পন্দন শুনতে পেল। স্বপ্নিল নিজে অবশ্য এসব বিশ্বাস করে না। অনুভূতিটাকে পাত্তা না দিয়ে সে আবার তার মদের গ্লাসটা হাতে তুলে নিল।

★★★★★

আফতাবনগরের বিশাল ডুপ্লেক্স বাড়ির আলিসান গেটের সামনে নেমপ্লেট ঝুলছে।
তাতে লিখা – ‘এডভোকেট শাহরিয়ার ওসমান চৌধুরি’
স্বপ্নিল সেই লিখাটার দিকে ক্ষণিককাল তাকিয়ে রইল। এরপর মাথা চুলকাতে চুলকাতে সদর দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল।

গত রাতে বন্ধুর বাসার ছাদে মদ্যপান করেছে। নিদ্রাহীন রাত কেটেছে। এখন তার চোখ দুটো ঘুমে জড়িয়ে আসছে। শার্টের ওপরের বোতামগুলো খোলা। চুলগুলো উষ্কখুষ্ক। অলস ভঙ্গিতে পায়ের জুতো জোড়া ছেঁচড়ে হাটতে হাটতে বাড়ির ডাইনিং রুমের দিকে এগোলো সে।

শাহরিয়ার ওসমান চৌধুরী এবং তার স্ত্রী নীলা চৌধুরী সকালের ব্রেকফাস্ট করছেন।

স্বপ্নিল কোনো আপত্তি না করে বাউণ্ডুলে অবস্থাতেই একটা খালি চেয়ার টেনে ধপাস করে বসে পড়ল।

শাহরিয়ার সাহেব চশমার ওপর দিয়ে ছেলের এই দশা এক পলক দেখলেন। তার কপালটা সামান্য কুঁচকে গেল। আদালতের কাঠগড়ায় স্বপ্নিল যতই উঠতি বাঘা আইনজীবী হোক না কেন, ঘরের ভেতরে তার এই অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন শাহরিয়ার সাহেবকে কিছুটা বিরক্ত করে। তবে তিনি ছেলের মনের খবরও রাখেন।

অনন্যা নামের মেয়েটার জন্য যে স্বপ্নিল ইদানীং রাত জাগছে, তা তিনি বোঝেন।

শাহরিয়ার সাহেব কফির মগটা টেবিলে রেখে কিছুটা রসিকতার সুরে বললেন,

-এভাবে নিদ্রা বিসর্জন দিয়ে আর কতদিন বেঁচে থাকবে?
নাকি পার্মানেন্টলি নিশাচর হওয়ার প্ল্যান করছো?

স্বপ্নিল একটা পরোটা ছিঁড়ে মুখে পুরতে পুরতে বাবার দিকে না তাকিয়েই বলল,

-কি যে বলো না, পাপা! এটা টেম্পোরারি ব্যাপার স্যাপার। ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করো না।

নীলা স্বপ্নিলের প্লেটে একটা ডিম পোচ তুলে দিতে দিতে বললেন,

  • জীবনটাকে নিয়ে এমন হেলাফেলা করো না। অনেক তো ফাজলামি করলে। অনন্যা বিয়ে করে চলে গেছে। এবার নিজের একটা গতি করো। এমন দিশেহারা হয়ে আর কতদিন ঘুরে বেড়াবে?

স্ত্রীর কথার সুর ধরে শাহরিয়ার সাহেব এবার মূল প্রসঙ্গে এলেন,

-কথায় যখন উঠলই, তাহলে বলি। আমার এক পুরনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছে, আসলাম সাহেব। ব্যবসায়ী। অত্যন্ত সৎ, আন্তরিক এবং সম্ভ্রান্ত মানুষ। তার একজন বিবাহযোগ্যা মেয়ে আছে। এবার ইন্টার পরীক্ষা দিয়েছে।আসলাম তার মেয়ের জন্য বেশ ভালো এবং চেনা-জানার মধ্যে পাত্র খুঁজছে। তুমি যদি রাজী থাক, তবে একদিন সময় করে মেয়ে দেখতে যাব।

ইন্টার পরীক্ষা দিয়েছে! শব্দটা শোনামাত্র স্বপ্নিলের মগজ অংক কষতে ব্যস্ত হয়ে গেলো। মেয়েটার বয়স টেনেটুনে আঠারো হবে। আর সে এখন আঠাশ বছর বয়সের দামড়া ব্যাটা। অনন্যা কি মন থেকে তার জন্য দোয়া করে গেছে নাকি?

স্বপ্নিল সামান্য হেসে চায়ের কাপটা হাতে নিল। বলল,

-একদিন না একদিন তো বিয়ের পিঁড়িতে বসতেই হবে, পাপা। আমার দেখতে যেতে সমস্যা নেই। কিন্তু বয়সের তফাতটা একটু বেশি হয়ে গেল না?

শাহরিয়ার সাহেব গম্ভীরমুখে বললেন,

  • তোমরা দুজনেই এডাল্ট। এটাই ম্যাটার করে। তোমার মা আমার চেয়ে পনেরো বছরের ছোট। আমরা সংসার করছি না? সুখী আছি না?

স্বপ্লিল পুনরায় মাথা চুলকে বলল,

-ঠিকাছে, যাব। তা আপুজানের নাম কি?

নীলা আকাশ থেকে পড়ল। বলল,

-আপুজান মানে? এসব কেমন কথা স্বপ্নিল?

  • না মানে বিয়ের আগ অব্দি তো ছোট আপুই হবে আমার তাই না?

শাহরিয়ার সাহেব বললেন,

  • নাযাহ ইসলাম। ডাকনাম নিয়তি।

স্বপ্নিল বিড়বিড় করে বলল,

-নিয়তি। নামটা অনেক মজা তো!

শাহরিয়ার এবার ছেলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

-আচ্ছা, ওসব তো হবে। এখন কাজের কথায় এসো। ‘চৌধুরী অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’ – এর নতুন কোন কেসটা নিয়ে ডিল করছ এখন?

স্বপ্নিল চায়ের কাপটা টেবিলে রাখল। তার চোখের সেই চটপটে ভাবটা এক নিমেষে উধাও হয়ে গেল। সে গলার স্বর সামান্য স্তিমিত করে বলল,

-চেম্বারে একটা সেক্সু*য়ালি সেনসিটিভ ফাইল এসেছে, পাপা। একটা পাঁচ বছরের ছেলেকে বলাৎকার করা হয়েছে। আর এই জঘন্যতম কাহিনীটা ঘটেছে একটা মাদ্রাসায়। একজন হুজুরের মাধ্যমে। ভুক্তভোগী পরিবারটা আমাদের কাছে এসেছে। কেসের সাক্ষী, মেডিকেল প্রমাণ সব আমাদের পক্ষে আছে। আমিই কেসটা মুভ করছি।

শাহরিয়ার সাহেবকে কিছুটা চিন্তিত দেখালো এবার।তিনি চোখ থেকে চশমাটা খুলে টেবিলের ওপর রাখলেন। কণ্ঠে উদ্বেগ ধরে রেখেই বললেন,

-সাক্ষী-প্রমাণ যতই থাকুক স্বপ্নিল, আমাদের এই সমাজ কিন্তু ধর্মের নামে অন্ধ। দেখবে আইন তার নিজের গতিতে চলতে চাইলেও চারপাশের ওই মব ঝামেলা বাঁধাবে। এসব কেস নিয়ে ডিল না করাই ভালো।

শাহরিয়ার সাহেব এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের জীবনের কথা বলতে লাগলেন।

-আমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমি আমাদের মহল্লার মাদ্রাসায় আরবি শিখতে যেতাম। আমাদের সেই মাদ্রাসার হুজুর কী যে ভালো মানুষ ছিলেন! তার চেহারার মাঝেই একটা অদ্ভুত নূরানি আলো ছিল। আমাদের সবাইকে নিজের সন্তানের মতো আদর করতেন। ভুল করলে কখনো মারতেন না। কত মমতা করে বুঝিয়ে দিতেন। তার মতোন ভালো মানুষ আমি খুব কম দেখেছি।

স্বপ্নিল তার বাবার দিকে না তাকিয়েই মুচকি হেসে বলল,

-সময় বদলে গেছে, পাপা। আমাদের আশেপাশে, চেনা লেবাসের আড়ালে কে যে প্রকৃত মানুষ আর কে যে অমানুষ তা আমরা কেউই জানি না! এই অমানুষগুলো সবত্র বিচরণ করে। মসজিদ, মন্দির, চার্চ সবখানে।

শাহরিয়ার ভ্রুঁ কুচকে বলল,

-যাই হোক, ভবিষ্যতে এমন সেন্সেটিভ কেস নেওয়ার আগে আমার সাথে কথা বলে নিবে। আমি চাই না আমাদের ল-ফার্ম কোনো কন্ট্রোভার্সিতে জড়াক।

বাবার এই শেষ কথাগুলো স্বপ্নিলের পছন্দ হল না।ব্রেকফাস্ট টেবিলের ওপর তৎক্ষনাৎ নীরবতা নেমে এলো।

⚠️ আমার লিখা #মিস্টার_মাংকিম্যান গল্পটি ক্রেডিট ছাড়া অনেক পেইজ অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।আমি একশন নিয়েছি। ইন শা আল্লাহ দ্রুত ফলাফল পাব। আপনারা অন্য পেইজে গল্প পড়ে বিভ্রান্ত হবেন না অনুগ্রহ করে। পেইজে ফলো, লাইক, কমেন্ট করলেই নতুন পর্ব সবসময় আপনার সামনে যাবে। ভালোবাসা রইল ❤️

[চলবে……]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply