Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১৭


তোমাতেই_আসক্ত

পর্ব:১৭

তানিশা সুলতানা

“শুনুন

সঙ্গে সঙ্গেই আবরার জবাব দেয়
” বলো জান

খুবই ছোট একটা কথা তবে আদ্রিতার কলিজা কাঁপিয়ে তোলে। আঁখি পল্লব বড় বড় করে তাকায় আবরারের মুখ পানে। মানুষটা স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় ড্রাইভ করছে। যেনো এখুনি অদ্ভুত কথাটি সে বলে নি। কপালের র/ক্ত শুকিয়ে জমাট বেঁধেছে।।
আদ্রিতার লোভী মন ভুল শুনলো কি না এটা নিয়েই দ্বিধায় ভুগছে। এই দ্বিধা তখুনি কাটবে যখন আবারও সেম কথাটা শুনতে পাবে৷
তাই রিনরিনিয়ে বলে
“কি বললেন?

আবরার যেনো জানতো এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। এবং জবাব যেনো আগেই তৈরি করে রেখেছিলো।
” কি বললাম?

আদ্রিতা আশাহত। কি বললাম মানে কি? এতো বড় একটা কথা সে বলে ফেললো আর ইতিমধ্যেই ভুলে গেলো?
না কি অভিনয় করছে?
নিশ্চয় অভিনয়ই৷ তবে আদ্রিতাও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয়৷ সে পূণরায় শুনেই ছাড়বে৷
তাই আবরারের পানে বাঁকা নয়নে তাকিয়ে বলে
“এখুনি বললেন। ভুলে গেলেন?

“এখুনি বললাম
কি বললাম

” তার একটু আগে।

“কি বলেছি?

আদ্রিতা ফট করেই বলে ফেলে
” বললেন না?
বলো জান?

আবরার এবার তাকালো আদ্রিতার মুখ পানে। কোনো লুকোচুরি নেই। সহজ ভাবেই স্বীকার উক্তি দেয়
“মনে তো হয় বলেছি।।
তো?

আদ্রিতা এবার কি বলবে খুঁজে পায় না। জান বলেছে আবার বলে “তোহ”
জান তো গার্লফ্রেন্ড বা বউকে বলতে হয়। আদ্রিতা কি তার গার্লফ্রেন্ড না কি? যে জান বলবে। এক ছিলো যদি পছন্দ করতো তাও হইতো। কিন্তু তাও তো করে না। তার আবার বউও আছে।
এটা যে সে অন্যায় করলো।

“আপনার বউ কি এসব জানে?

অভিমানী আদ্রিতা বলেই ফেলে কথাটা।
আবরার দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে বলে
” কি জানবে?

দমকা হাওয়ায় এক গুচ্ছ চুল উড়ে এনে মুখে পড়ে। আদ্রিতা ডান হাতের সাহায্যে চুল গুলো কানের পেছনে গুঁজতে গুঁজতে জবাব দেয়
“এই যে একটা মেয়েকে জান বলে ডাকছেন।

” জানলে কি হবে? ভয় পাই না কি?
ইউ নো এ’ম আবরার তাসনিন।

“বউয়ের কাছে আপনি হিরো থাকবেন ঠিক আছে কিন্তু আপনাকে ভয় পাবে না একদম। পরনারীকে জান টান ডাকলে বকবে, ঝগড়া করবে।

“চাপকে কানের তালা ঝুলিয়ে দিলে শুধু ভয় না আরও অনেক কিছুই পাবে।

আদ্রিতা হতাশ হয়। ফোঁস করে শ্বাস টেনে জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। রাত বোধহয় গভীর হয়েছে। চাঁদ মাথার ওপরে এসে পড়েছে। খুব কাছে মনে হচ্ছে। যেনো হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। আদ্রিতা গাড়ির জানালা ভেদ করে বাইরে মাথা বের করে। ঝিরিঝিরি বাতাসে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে। বেশ আরাম লাগছে।
হঠাৎ গাড়ি থামে। আদ্রিতার হাসি মুখ খানাও চুপসে যায়। কপাল কুঁচকে গাড়ির ভেতরে মাথা ঢোকায়। কিছুটা রাগান্বিত স্বরে বলে
” কি হলো?
গাড়ি কেনো থামালেন?

“ঠিক করে না বসলল গাড়ি চলবে না।

” আমি বেঠিক করে বসেছি কখন?
ঠিক করেই বসেছি।

আবরার শুনলো। জবাব দিলো না। আদ্রিতা পূণরায় বাইরে মাথা বের করে যায় কিন্তু সেই সুযোগটা পায় না। কেনোনা আবরার ততক্ষণে নিজের সিটবেল্ট খুলে আদ্রিতার কোমর জড়িয়ে ধরেছে। মুহুর্তেই শূন্যে তুলে নিজের কোলের ওপর বসায় দুই পাশে দুই পা দিয়ে।
আদ্রিতা থতমত খেয়ে যায়। কয়েক মুহুর্ত সময় লাগে বুঝতে “আসলল তার সাথে কি হলো?”
যখন বুঝে উঠতে সক্ষম হয় তখনই অনুভব করে আবরার তাকে সহ সিটবেল্ট লাগাচ্ছে। মানে বাকি পথ এভাবেই যেতে হবে?
চোখের সামনে আবরার তাসনিন এর উন্মুক্ত বুক। খুবই মিষ্টি একটা সুঘ্রাণ নাকে লাগছে। মাতাল করার মতো।
আদ্রিতা ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করে।।
বলে
“আর বাইরে মাথা বের করবো না। ছাড়ুন আমায়।

আবরার শুনলো না বোধহয়। গাড়ি স্ট্রাট করেছে এবং চালানো শুরু করে দিয়েছে।
আদ্রিতা পূণরায় বলে
” আরেহহ আমাকে আমার সিটে বসিয়ে দিন না। কেমন ফাঁপছ লাগছে।

বলতে বলতেই ওর চোখ যায় আবরার তাসনিন এর গলায়। এডমস এ্যাপেল ওঠানামা করছে।।
আদ্রিতার খুব করে ইচ্ছে করে একটু ছুঁয়ে দিতে। কিন্তু পারে না।
নজরে আসে বুকে ক্ষতস্থানে। বুকেও আঘাত পেয়েছে?
কোল থেকে নামার কথা বেমালুন ভুলেই গেলো আদ্রিতা। সে ডুবে যায় ক্ষতস্থানে। মনে হাজারটা প্রশ্ন জাগে। সেগুলো দমিয়ে না রেখল বলেই ফেলে
“যা আপনাকে এতো আঘাত করে তার পেছনেই কেনো ছুটছেন?
ক্ষতিকর সব কিছুকেই ইগনোর করতে হয় জানেন না?

আবরার গম্ভীর স্বরে জবাব দেয়
“দ্যা ভ্যালু অফ ভিক্টোরি ইজ ফন্ট ইন দ্যা পেইন অফ এচ্যিভিং ইট

আদ্রিতা বুঝলো না। ইংরেজিতে বড়ই কাঁচা সে।
এইচএসসিতে পাশের জনের খাতা দেখে টেনেটুনে পাশ নাম্বার তুলেছিলো।
তবে আবরারকে সেটা বুঝতে দিলে চলবে না। এমন ভাব করতে হবে যেনো সে বুঝতে পেরেছে।

“ভুল বললেন৷
যা আঘাত করে তা মেয়ে হোক বা খেলা এড়িয়েই চলতে হয়।
যাক গে আপনার ইচ্ছে সেসব
আমায় নামান।

বলতে বলতেই গাড়ি থামে। আদ্রিতা তাকিয়ে দেখে বাড়িতে চলে এসেছে ওরা। তাই ছটফটিয়ে ওঠে নামার জন্য।
আবরার কপাল কুঁচকে সিটবেল্ট খোলে। নিজের পাশের দরজা খুলে আদ্রিতাকে নামার জায়গা দেয়।
আদ্রিতা এক লাফে নামে এবং এক দৌড়ে বাড়ির সামনে গিয়ে কলিং বেল বাজানো শুরু করে।।আবরার গাড়ি পার্ক করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে আসে। দরজা খোলাই ছিলো।
সে গিয়ে সোফায় বসে। আঘাত বেশ ভালোই লেগেছে। ইতিমধ্যেই ব্যাথায় শরীর টনটন করছে। এখুনি ড্রেসিং করে পেইন কিলার না খেলে সুস্থ হওয়া দায়।
তখুনি আবরার অনুভব করে পাশে কেউ এসে দাঁড়িয়েছে। চোখ খুলে তাকাতেই আদ্রিতার মুখ খানা দেখতে পায়। হাতে ফাস্ট এইচ বক্স।

” আমি ভালো ঔষধ লাগাতে পারি।।
একটুও ব্যাথা লাগবে না। পাক্কা

বলতল বলতেই হাঁটু মুরে বসে। স্যাভলন এর বোতল খুলে একটু তুলো নিয়ে তাতে ডুবিয়ে আবরারের মুখোমুখি দাঁড়ায়।
কাঁপা-কাঁপা হাতে কপালের ক্ষত স্থানে ছোঁয়ায়। আবরার মোটেও কোনো রিয়াকশন দিলো না। সে আদ্রিতার মুখ পানে তাকিয়ে আছে। তবে আদ্রিতা ফু দেওয়া শুরু করে।
ব্যাথা পাবে ভেবে আলতো হাতে ঔষধ লাগাতে থাকে।
ভালো লাগে আবরারের। ঠোঁটের কোণে একটু হাসির রেখা ফুটতে যায় তবে হাসতে পারে না।

আদ্রিতা বড় গলার জামা পড়েছে। ওড়না এক পাশে নেওয়া। ঝুঁকে ঔষধ লাগানোর ফলে নিষিদ্ধ স্থান স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

“তুমি ইনার পড়ো না?

আদ্রিতার হাত থামে। সে প্রথমে তাকায় আবরারের মুখ পানে পরপরই নিজের দিকে। চমকালো যেনো। তাড়াহুড়ো করে ওড়না ঠিক করতে গিয়ে হাত থেকে তুলো পড়ে যায়।
এলোমেলো পা ফেলে সেখান থেকে চলে যেতে নিলে পায়ে লেগে ঔষধ এর বোতলও পড়ে যায়। সেদিকে খেয়াল করে না নিজ কক্ষের পানে দৌড় লাগায়।
মনে মনে আবরারকে হাজারটা বকা দিতেও ভোলে না। লুচ্চা হাতি কোথাকার। বউ থাকতেও পরনারীর দিকে নজর। ছিহহহ
এদিকে আবরার ভ্রু কুচকে কিছু মুহুর্ত আদ্রিতার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। পরপরই ফ্লোর থেকে তুলো তুলে নিজে নিজে ক্ষত স্থানে ঔষধ লাগানো শুরু করে।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply