তোমাতেই_আসক্ত ২
পর্ব:২০
তানিশা সুলতানা
“আমান ভাই বুঝলেন পুরুষ মানুষ কখনোই এক নারীতে আসক্ত থাকে না।।
কিছু কিছু পুরুষের চরিত্র যবর খারাপ। তারা ঘরের মেয়ের দিকেও নজর দেয় আবার বাইরেও বউ রাখে।
আমান কপাল কুঁচকালো। সোফার ওপর পা তুলে বসে গালল হাত দিয়ে।
“এমন যবর খারাপ পুরুষটি কে?
আমরা কি তাকে চিনি?
বড়ই আগ্রহী আমান এবং সিয়াম। দুজনেরই নজর আদ্রিতার মুখ পানে। যদিও তারা আন্দাজ করে নিয়েছে মেয়েটা আবরারকে মিন করেই বলছে কথা গুলো। তারপরও শিওর হওয়া প্রয়োজন।
এ্যানি এতোক্ষণে বোধহয় বুঝতে পেরেছে আদ্রিতা বাসায় চলল এসেছে তাই তো কোথা থেকে যেনো দৌড়ে এলো আদ্রিতার নিকট। এক লাফে কোলে উঠে পড়ে। মিউ মিউ আওয়াজ তুলে কিছু একটা বললো। আদ্রিতা যেনো বুঝে নিলো। আদরে ভরিয়ে দিতে থাকে ছোট্ট দেহখানা। ঠোঁট দাবিয়ে চুমু খায় তুলতুলে শরীরে।
তারপর বুকের সঙ্গে জাপ্টে জড়িয়ে তাকায় আমান এবং সিয়ামের মুখ পানে। তাদের আগ্রহ দেখে বেশ মজা লাগলো।
সিদ্ধান্ত নিলো কিছুই বলবে না। বলা তো উচিতও নয়। এখানে কি শুধু আবরার তাসনিন একার সম্মান না কি?
আদ্রিতার সম্মানও জড়িয়ে আছে।
তাই প্রসঙ্গ পাল্টে বলে
“পুরুষ চেনা বড়ই কঠিন। ডিপজল আর বাপ্পারাজ দুজনই পুরুষ।
ডিপজল বলে দিল তো পাগল
আর বাপ্পারাজ বলে এ আমি বিশ্বাস করি না।
ডিপজল ভালোবাসি বললে মা/ই/র খায়। এদিকে বাপ্পারাজ ভালোবাসি বললেই প্রেম হয়।
এ কেমন অমানবিক কর্মকান্ড।
একই পুরুষ জাতীর মধ্যে এতো কেনো ব্যবধান?
আমানের মাথা ঘুরছে। জ্বরের তাপে নিশ্চয় মেয়েটা পাগল হয়ে গেছে। আহারে পৃথিবীর বুকে একটা পাগল বাড়লো।
__
১২০ কিলোমিটার বেগে সাইক্লোন ধেয়ে আসছে পৃথিবীর বুকে। বিজ্ঞানীদের গবেষণা মোতাবেক পৃথিবীর নিচু স্থান গুলোতে বেশ আঘাত হানবে। সেই জন্য প্লেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবরার তাসনিন এর ফ্লাইট ছিলো রাত ৭ টায়। এখন সেই ফ্লাইট গিয়েছে পরেরদিন রাত বারোটায়।
মালয়েশিয়া বড়ই পছন্দের কান্ট্রি আবরারের। তার জন্মস্থান মালয়েশিয়া।
আব্দুল রহমান বিজনেস এর কাজে প্রায় সময়ই এদেশ ওদেশ ঘোরাঘুরি করেন। তো সেবার মালয়েশিয়াতে কাজ পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় থাকতে হবে। সেই জন্য আতিয়া বেগমকেও সঙ্গে এনেছিলেন।
তারপর ফিরেছিলেন ছয় মাসের ছোট্ট আবরারকে কোলে নিয়ে।
দ্বিতীয় বার যখন মালয়েশিয়াতে এসেছিলো তখন তার বয়স ১২ বছর। সেবারও বাবা মায়ের সঙ্গেই এসেছিলো।
তারপর কয়েকবার আসা হয়েছে তবে একা।
এরপর যখন আসবে তখন আদ্রিতা সঙ্গে থাকবে।
বর্তমানে আবরার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত প্যাসিফিক রিজেন্সি হোটেল এর ১৯ তালার বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে কফির মগ। ক্ষণে ক্ষণে তাতে চুমুক দিচ্ছে। তার দৃষ্টি দূরে থাকা পেট্রোনাস টাওয়ারের পানে৷
দিনের বেলায় এর সৌন্দর্য বোঝা না গেলেও রাতে আলোয় ঝলমলে ওঠে। দেখতে বেশ লাগে।
আবরার তাসনিন এর শরীর আজও ঠিক হলো না। কপাল গরম। অল্প জ্বর রয়েই গিয়েছে।
এই প্রথম সামান্য জ্বরের কারণে ডাক্তারের কাছে গিয়েছে। এবং ঔষধও খেয়েছে।
তবুও জ্বর ছুটি দিচ্ছে না।
এবার আবরারের বিরক্ত লাগছে। মন বলছে “পাখিকে না দেখা ওবদি জ্বর যাবে না। একদম রক্তে মিশে গিয়েছে”
ভাবনার মাঝেই কক্ষে ইভান এবং আহাদ প্রবেশ করে। দুজনেরই মুখ খানা কালো। যেনো কেনো একটা বড়সর কান্ড ঘটিয়ে তারা ফিরলো।
আবরার এক পলক তাকালো ওদের মুখ পানে। কিন্তু কিছু বললো না। ও ঠিক জানে না জিজ্ঞেস করলেও কি কান্ড ঘটিয়েছে গড়গড় করে বলবে দুজন।
হলোও তাই।
ইভান বলতে শুরু করে
“হোটেল এর বাইরে দুটো বাঙালি মেয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। ভাবলাম আমরা গিয়ে একটু কথা বলি আলাপ জমাই।
তো গেলাম এগিয়ে। হাই হ্যালো বললাম। ফোন নাম্বার নিবো তখুনি তোর হিটলার বাপ সেখানে হাজির।
বিশ্বাস করবি না ভাই ওই মেয়ে দুটোর কাছে আমাদের নামে কি খারাপ খারাপ কথা যে বললো৷
আবরার কফির মগে শেষ চুমুক দিয়ে শুধায়
” উনি এখন কোথায়?
আহাদ মুখ বাঁকিয়ে বলে
“আমার কোলে দেখ
কোনো মতে জান নিয়ে দৌড়ে পালিয়েছি আমরা। কুত্তার সাথে আমাদের তুলনা করতেছিলো।
” ভাগ্যিস কেঁচোর সাথে করে নি
বলেই কক্ষে ফিরে আসে আবরার। কফির মগ রেখে গায়ে শার্ট জড়াতে জড়াতে কক্ষ হতে বেরিয়ে যায়। পেছনে আহাম্মকের মতো দাঁড়িয়ে থাকে আহাদ এবং ইভান।
হোটেল থেকে বের হতেই আব্দুল রহমানকে দেখতে পায়। যেনো তারই জন্য অপেক্ষা করছিলো।
আবরার এগিয়ে যেতেই বলে
“কি সব ছেলেদের সাথে মেলামেশা করো তুমি?
সব কয়টা বেয়াদব অসভ্য মেয়েবাজ।
আবরার স্পষ্ট ভাষায় জবাব দেয়
” ওরা আগে এমন ছিলো না।।আমার সাথে মিশে এমন হয়ে গেছে।
কথায় আছে না সৎ সঙ্গে সর্গ বাস
অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।
ওদের অসৎ সঙ্গ আমিই।
কথা বলার খৈ হারিয়ে ফেলেন আব্দুল রহমান। শুধু হতাশ নয়নে তাকিয়ে থাকে আবরারের মুখ পানল।
আদ্রিতা আজকে ভীষণ খুশি৷ একেতে তার জ্বর সেরে গেছে দ্বিতীয়ত বাবা দুইটা গরু কিনেছে। আদ্রিতার বেশ পছন্দ হয়েছে। কিছুক্ষণ আগেই ভিডিও কলে তাকে দেখালো।
গরু কেনার রিজন হলো হাফিজুর চৌধুরীর আকিকা দিবেন। ছোট বেলায় তার আকিকা করানো হয় নি। তাই এখন সেটা করা হবে।
আদ্রিতার ইচ্ছে করছে এখুনি এক দৌড়ে বাংলাদেশে চলে যেতে। এখানে একদমই ভাল্লাগছে না। কেমন বোরিং সময় কিছু।
বড় মা সারাদিন রান্না করে। কেউ খাক আর না খাক তার হরেক রকমের খাবার বানানো চাই ই চাই।
আবরার বাসায় থাকে না। অহনা তার মতো কক্ষে থাকে সর্বক্ষণ।
সিয়াম আর আমান ভাই একটু ভালো তারপরও তারা প্রায় সময়ই বাড়ির বাইরে থাকে।
আদ্রিতা বড়ই একা। ইদানীং এ্যানিটাও নিজেট মতো করে সময় কাটাতে শিখে গেছে। আদ্রিতার কাছাকাছি ঘেষে না সহজে।
এই মুহুর্তে আদ্রিতা করার মতো কোনো কাজ খুঁজে পাচ্ছে না৷ অগাত্য ওর ইচ্ছে হলো আবরারকর কক্ষ খানা ঘুরে দেখার৷
যেহেতু হাতি বাসায় নেই সেহেতু কোনো রিক্সও নেই। আরামসে রুম ট্যুর দিতে পারবে।
এটা ভেবেই ও এক পা দু পা করে আবরারের কক্ষের দিকে এগিয়ে যায়।
মনে মনে একটু ভয়ই পাচ্ছিলো তালা দেওয়া কি না।
কিন্তু নাহহ আদ্রিতা হাত লাগাতেই দরজা খুলে গেলো।
আদ্রিতা এক লাফে ভেতরে ঢুকে পড়ে।
খুবই সাজানো গোছানো রুম খানা। দেয়াল হাজারটা বাইকের ছবি টাঙানো।
সেই সঙ্গে নিজেরও এক খানা বিশাল বড় সাইজের ফ্রেমে বাঁধানো।
দেখতে বেশ সুন্দর।
আদ্রিতা কিছু মুহুর্ত তাকিয়ে থাকে ছবিখানার পানে। তারপর বলে
“খারাপ মানুষ
আমায় কলঙ্কিনী করে
আমার ঠোঁটের ভার্জিনিটি নষ্ট করে আবার স্টাইল মেরে ছবি তোলা হচ্ছে?
হাহহ
পাষাণ
আমিও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নই।
হয় আমার ভার্জিনিটি ফেরত দিতে হবে। নাহলে আমায় গ্রহণ করতে হবে।
মধু খেয়ে চলে যাবেন এতো সোজা নয়।
” বাট মধু তো ঠিকঠাক খেতেই দিলে না।
পেছন থেকে কেউ বলে ওঠে। গলাটা বড্ড চেনা চেনা লাগছে আদ্রিতার নিকট। ও পেছন ঘুরে তাকাতেই
চলবে
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১২
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৭
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৬
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১৪
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৫৩
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২৬+২৭
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১১
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৯
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৫০
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২১