#আমার_আলাদিন
#জাবিন_ফোরকান
আজকে চাকরি থেকে বেশ দেরী করে ফিরেছে রাহাত। মেজাজ ক্ষিপ্ত হয়ে এসেছে তার এক জুনিয়রের সঙ্গে বোঝাপড়া করে এসে। মিথিলা তাকে ভাত বেড়ে দিয়েছে। টেবিলে বসে চুপচাপ খাচ্ছে সে। স্বামীর সামনে চেয়ার টেনে বসে মিথিলা জিজ্ঞেস করল,
“দলিলের কোনো ব্যবস্থা করলে?”
রাহাত তাতে আরও বিরক্ত হয়ে উঠল। ঠাস করে পানির গ্লাস টেবিলে রেখে বলল,
“আমাকে কি রোবট মনে হয় তোমার? দু দন্ড শান্তি দিতে পারনা?”
“শান্তি? আমি তোমাকে শান্তি দেই না নাকি তোমার আদরের আপু?”
পাল্টা তেঁতে উঠল মিথিলাও।
“আপু ডাকতেও তো লজ্জা হচ্ছে। কেমন বেশরম হলে ওভাবে সম্পত্তির ভাগ চাইতে পারে? লোভী একটা!”
“তুমি বেশরম না? হাত পেতে নাওনি আপুর আগের বিয়ের দেনমোহরের টাকা? ওই টাকাতেই আমার আজকের বড় চাকরি জুটেছে আর তুমি এই বাড়িতে আয়েশ করে থাকতে পারছ, ভুলে যেও না!”
রাহাত খেঁকিয়ে উঠল। চুপ বনে গেল। কথাটা মিথ্যা নয়। ইরামের অরণ্যর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার সময় যে উপঢৌকন এবং দেনমোহর পেয়েছিল, তার সবটাই সে নিজের ভাইদের ভাগ করে দিয়েছে। রাহাত অনেকদিন ধরে বেশ বড় একটা পদের চাকরির জন্য দৌঁড়াদৌড়ি করছিল, আগের ছোট চাকরিতে সংসার চলছিল না। কিন্তু এই দেশে অর্থ না ঢাললে বুঝি কিছুই হতে চায়না। ইরাম সেই ব্যবস্থা করে দিয়েই গিয়েছে। ইহানের ভাগ আজও ব্যাংকে জমা। মিথিলা কেন যেন স্বামীর কথার বিরুদ্ধে আর কিছু বলতে পারলনা। দাঁত চেপে হজম করল বিষয়টা।
এমন সময় সদর দরজায় জোরালো কড়া নাড়ার আওয়াজ। রাহাত এবং মিথিলা উভয়ে খানিক থমকাল। এমন জোরে জোরে ধাক্কাচ্ছে যেন দরজা ভেঙে ঢুকে যাবে কোনো হিংস্র প্রাণী। রাহাত ভ্রু কুঁচকে ফেলল,
“কোন কুলাঙ্গার এসেছে দেখ। দরজা খুলেই একটা রামধমক দেবে।”
মিথিলা উঠে গেল। হেঁটে গিয়ে সে কোনমতে দরজা খুলেছে কি খোলেনি, তাকে ঠেলে বিদ্যুৎ গতিতে ভেতরে ঢুকে গেল কিছু একটা। মনে হলো বুঝি কোনো শিকারী প্রাণী হুট করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ভড়কে গিয়ে ঘুরে তাকাল সে। অবশেষে দেখতে পেল অপ্রত্যাশিত অস্তিত্বটিকে।
সাইবান আলাদিন। রাহাতের খালাতো ভাই। স্লিভলেস একটা সাদা রঙের ঢোলা টি শার্ট গায়ে, সঙ্গে ডার্ক জিন্স। চোখেমুখে আঁধার। মিথিলা বিয়ের পর থেকে কোনোদিন এই ছেলেকে মুন্সীবাড়ির চৌকাঠ পেরোতে দেখেনি। আজ সোজা বাড়ির ভেতরে উপস্থিত বিধায় হতবাক সে। রাহাত অব্দি ভাত ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়েছে। বিস্ফারিত চোখে চেয়ে আছে সাইবানের দিকে। স্বামী স্ত্রীর কেউই কথা বলতে পারলনা প্রচন্ড বিস্ময়ের কারণে।
সাইবান রাহাতের দিকে এগিয়ে গেল ধীরে ধীরে। স্লিভলেস টি শার্টের কারণে তার বাহুর পেশীগুলো কীভাবে ফুলেফেঁপে উঠছে স্পষ্ট দেখা গেল। ভ্রু তুলল সে, পিয়ার্সিং চিকচিক করে উঠল মৃদু আলোয়। রাহাত মুখোমুখি দেখল সাইবানের চোখের ভেতর ভাসতে থাকা কালিগোলা অন্ধকার, ঠোঁটের লেপ্টানো রক্তবিন্দুর হাহাকার। অসম্ভব অশরীরী একটা কন্ঠ ভেসে এলো রাহাতের কানে,
“জঙ্গলের ঠিকানা?”
রাহাত এবং মিথিলা উভয়ের শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল তরঙ্গ খেলে গেল বুঝি। ভৌতিক একটা ব্যাপার আছে ছেলেটার মাঝে। মিথিলা অজান্তেই স্বামীর কাছে গিয়ে গা ঘেঁষে দাঁড়াল। রাহাতও বেগ পোহাচ্ছে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মেহমানকে মোকাবেলা করতে। যে সাইবানকে সে সর্বদা চিনে এসেছে, সেই সাইবানের সঙ্গে এই অশরীরীর কোনো মিল নেই!
“জ…জঙ্গল? কোন জঙ্গল? কিসের জঙ্গল?”
রাহাতের প্রশ্নে মাথা কাত করল সাইবান, বিনোদনের লেশমাত্র নেই তার চেহারায়। সদা প্রফুল্লতা গায়েব হয়েছে কোথাও।
“জঙ্গল মুরদা ওরফে অরণ্য মির্জা। আপনার প্রিয় দুলাভাই। ঠিকানা দিন। কোন গুহায় থাকে জানোয়ারটা?”
কেঁপে উঠল রাহাত। মিথিলার সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় করল। তারপর বল উঠল,
“ওনার ঠিকানা দিয়ে তুই কি করবি? খেয়েদেয়ে আর কাজ নেই তোর পাস্ট ঘেঁটে…”
“চোপ! মুখ থেকে শুধু ঠিকানা বেরোবে, অন্য কোনো কথা না! ঠিকানা বাদে অন্য কিছু বেরোলে আর কোনোদিন মুখ খোলার অবস্থায় থাকবেন না!”
মিথিলা স্বামীর বাহু আঁকড়ে ধরে চেঁচিয়ে বলল,
“রাত বিরাতে বাড়িতে ঢুকে এ কেমন মাস্তানগিরি? পুলিশে ফোন করব কিন্তু! তখন সম্মান নিয়ে টানাটানি লেগে যাবে।”
সাইবান এমন এক দৃষ্টিতে মিথিলার দিকে তাকাল যে রমণীর শরীর বরফখন্ডে পরিণত হলো। ওই চোখের তীব্র চাহুনি সহ্য হলনা তার। দৃষ্টি সরিয়ে ফেলতেই কানে এলো অশুভ বাক্যটি,
“নারী পুরুষের সমঅধিকারে বিশ্বাসী আমি, আপনার স্বামীর মতন গায়ে পড়া সুশীল না। থাপ্পড়ের কাজ করলে উল্টো ঘুরিয়ে থাপ্পড় লাগিয়ে দেব, নারী জেন্ডারের মা বাপ দেখব না!”
“সাইবান থাম! কি হয়েছে তোর? সমস্যাটা কি আগে বল? এভাবে গুন্ডাদের মতন আচরণ করছিস কেন?”
রাহাত জিজ্ঞেস করতেই ক্ষিপ্র গতিতে এক হাত বাড়িয়ে খালাতো ভাইয়ের কলার চেপে সোজা টেবিলের উপর আছড়ে ফেলল সাইবান। মিথিলা মাথা চেপে ধরে আতঙ্কে ছিটকে সরে গেল। চিৎকার তার গলায় আটকে রইল। সাইবান রাহাতের গলা চেপে ঠেসে ধরল শক্ত কাঠের টেবিলের উপর, ভাতের থালা, বাটি সব ঝনঝন করে আছড়ে পড়ল মেঝেতে। ব্যথায় গুঙিয়ে উঠল রাহাত, খামচি দিয়ে সাইবানের হাত ছাড়াতে চাইলেও কোনো লাভ হলনা।
“একটা মেরুদন্ডহীনের বাচ্চা যখন বোনকে বাঁচানোর বদলে উল্টো নরপশুর ভোঁজ হিসাবে ঠেলে দিয়ে শুধু নিজের পেট – পকেটের চিন্তা করে, তখন তাকে ধোলাই করতে গুন্ডার দরকার হয়। তোর মতন ভাইয়ের থেকে একটা কলাগাছও ভালো, শালা সুশীল ভীতুর ডিম!”
“অরণ্য মির্জার ঠিকানা তোমাকে আমি দেব।”
গম্ভীর কন্ঠস্বরটি কানে যেতেই সাইবান থামল। ঝট করে মুখ ঘুরিয়ে তাকাল। সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে ইহান। বুকে দুবাহু বেঁধে রেখেছে। ভ্রু কুঁচকে ধারাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রাহাতকে ঝটকা দিয়ে ছেড়ে সরে গেল সে। মিথিলা দৌঁড়ে গেল স্বামীর কাছে তৎক্ষণাৎ। সাইবান পাত্তাও দিলনা আর কোনোদিকে। সোজা ইহানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
“কোথায় থাকে?”
“চলো। দেখিয়ে দিচ্ছি।”
ইহান নিজের প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে সামনে সামনে হাঁটতে শুরু করল। সাইবান খানিকটা বিস্মিত হল।
“এই পোংটা! দেখিয়ে দিচ্ছি মানে কি? মুখ নেই তোর? বোবা নাকি?”
ইহান থামল। ঠিক সাইবানের মতো করেই দুচোখে ধোঁয়াশা ঘেরা দৃষ্টি নিয়ে ফিরে তাকাল কিশোর ছেলেটি। সাইবান ভ্রু তুলল। এই ছেলের ভাব তার ভালো লাগছেনা। মনের আশঙ্কাটাই প্রমাণ হল। ইহান বলল,
“অরণ্য মির্জার বাড়িতে আমিও যাব। বহু পুরাতন হিসাব নিকাশ বাকি আছে আমার।”
সাইবান কিছুক্ষণ স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তবে এই মুহূর্তে এসে তার কারো সঙ্গে আর কোনপ্রকার তর্কে যেতে ইচ্ছা হচ্ছেনা। এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে হুট করে টেবিলে বিছানো সাদা টেবিলক্লথটা ধরে টান দিল। যাও বা বাসন কোসন টেবিলের উপর অবশিষ্ট ছিল, তাও মহা হট্টগোল করে ছড়িয়ে পড়ল মেঝেতে। আঁতকে উঠল মিথিলা আর রাহাত। তবে সাইবানকে রোখার দুঃসাহস আজ নেই কারোর। সাদা কাপড়টা হাতে নিয়ে হনহন করে এগোল সাইবান বাড়ির বাইরে, তার অনুসরণে বেরিয়ে যাওয়ার আগে বারান্দায় রেখে দেয়া নিজের ক্রিকেট ব্যাটটা কাঁধে তুলে নিল ইহান। নিষ্পলক তাকিয়ে থাকতে পারল শুধু মিথিলা রাহাত দম্পতি। এছাড়া আর কিছুই করার রইলনা তাদের।
─────────────────────────────
আলিশান দুই তলা একটি বাড়ির সামনে এসে থামল সাইবানের গাড়ি। বাড়ির কোনো নাম নেই। শুধু রূপালী রঙের গেট দেয়া। ভেতরের কোথাও কোনো লোক নেই বললেই চলে। শুধু গেটের কাছে একজন দারোয়ান টুলে বসে বসে ঝিমুচ্ছে। বেশি রাত হয়নি। এরপরও চারপাশ কেমন সুনসান নীরব। আবাসিক এলাকা বলেই বোধ হয়। উপরন্তু, অভিজাতদের বাস। ভাবসাব একটু তো থাকবেই। সাইবান দরজা খুলে গাড়ি থেকে নামল। একটা সাদা কাপড় জড়ানো তার মুখে, আলগোছে ঝুলছে কাঁধের চারপাশে। দূর থেকে হঠাৎ দেখলে যে কেউ ভূত ভেবে ভয় পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। অথচ পরোয়া নেই তার। প্যাসেঞ্জার সিট থেকে বাইরে পা রাখল ইহানও। ছেলেটার মাথায় মোটরসাইকেলের একটা হেলমেট। সেটার কারণে তার চেহারা দেখা যাচ্ছেনা। হাতে ভারী সিজন ক্রিকেট ব্যাট। পুরোদস্তুর তৈরি সে চার ছক্কা হাঁকাতে। সাইবান আড়চোখে সঙ্গীর দিকে তাকাল। দুই আঙুলে কিছু একটা ইশারা করল। অতঃপর নিজে এগোল সামনে, দারোয়ানের দিকে।
পদশব্দ শুনে ঝিমানো বাদ দিয়ে দারোয়ান মুখ তুলে তাকিয়েই দেখল যেন এক অশরীরীকে। হেলেদুলে এগিয়ে আসছে। মুখে পেঁচানো কাফনের মতন সাদা কাপড়! তাতে আবার লালচে ছোপ ছোপ দাগ! মধ্যবয়স্ক দারোয়ান নিজের হাতের লাঠিটা তুলে ধরেছে কি ধরেনি, সাইবানের হাতের জোরালো এক ঘায়ে উল্টে পরে গেল নিচে। সেই যে পড়ল, আর উঠলনা। অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। সাইবান তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল আপনমনে। গেট খুলে বীরদর্পে এগিয়ে গেল। বিশাল সদর দরজার সামনে মৃদু হলদেটে আলোর বাল্ব জ্বলছে। তার নিচে দাঁড়িয়ে কলিংবেল চাপল সাইবান, একটানা কয়েকবার। ভেতর থেকে হুটোপুটির আওয়াজ এলো। তারপরই দরজাটা হাট করে খুলে গেল। মুখ বাড়াল এক মধ্যবয়স্ক লোক। পরনে লুঙ্গি আর হাফহাতা শার্ট। সাইবানকে দেখেই সে ভড়কে গেল। কিন্তু এদিক সেদিক করার সুযোগ অব্দি পেলনা। বিদ্যুৎ গতিতে এগোল সাইবানের হাত। চেপে ধরল লোকটার গলা। একটাই প্রশ্ন করল,
“জঙ্গল কোথায়?”
লোকটা সাইবানের শক্তির সঙ্গে পারলনা। এমন দুর্ধর্ষ এক অবয়ব, যেন কাফনে মোড়ানো। হাতের জোরালো বাঁধন আর গভীরতর কন্ঠস্বর লোকটাকে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য করে ফেলল বুঝি। কোনমতে বলতে পারল সে,
“ক…কে? স…স্যার?”
আন্দাজেই বলেছে সে। সাইবান মাথা কাত করে সায় জানাল,
“হ্যাঁ। তোর স্যার কোথায়? আর তুই কে?”
হাতের বাঁধনে একটু ঢিল দিল সে যেন লোকটা কথা বলতে পারে। হড়বড় করে সেই লোক বলে দিল,
“আম…আমি এই বাড়ির কেয়ারটেকার। স্যার বাড়িতে নাই বহুত দিন। কোথায় আছে কেউ জানেনা, কবে আসবে তাও কেউ জানেনা। আমি শুধু শুনছিলাম, বিদেশ গেছে কোথাও। বিশ্বাস করেন আমি এর বেশি কিছু জানিনা। আমি তো শুধু জান নিয়া এখানে কাম করি!”
“তাহলে এবার জান নিয়া পালা!”
একটা ঘাড়ধাক্কা দিয়ে লোকটাকে রীতিমত পুতুলের মতন ছুঁড়ে বাইরে বের করে দিল সাইবান। একেবারে সিঁড়ির উপর উপুড় হয়ে পড়ল সে। হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল সে ভেতরে। বাড়িটা ভেতর থেকেও আলিশান। একদম চকচকে তকতকে। পরিপাটি আসবাব। দুই তলায় উঠে গিয়েছে সাপের মতো পেঁচানো সিঁড়ি। গোটা সিঁড়ি কার্পেটে বাঁধাই করা। সাইবান কাপড়ের ভেতর থেকে ঝাপসা ধোঁয়াশার মতন দেখছে সবকিছু, তবুও তার কিছুই বুঝতে বাকি রইলনা। এই বাড়ি, ওই সিঁড়ি দেখার সাথে সাথেই বুঝি তার মাথায় যেটুকু তার জায়গামতো ছিল, সেটাও চটাশ করে ছিঁড়ে গেল! এই বাড়ি! এই বাড়িতেই তার অর্ধাঙ্গিনী নিজের জীবনের রোমহর্ষক দুটো বছর কাটিয়েছে! সহ্য হলনা সাইবানের। পিছনে ততক্ষণে ইহান এসে দাঁড়িয়েছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে ছেলেটার হাত থেকে ক্রিকেট ব্যাট কেড়ে নিল। হনহন করে এগিয়ে গিয়ে লিভিং রুমে থাকা কাঁচের টেবিলের উপর সজোরে আঘাত করল। ঝরঝর করে ভেঙে গেল টেবিলটা। রীতিমত পাগলপ্রায় হয়ে গেল সাইবান, বাঁধনহারা ঝড়। আশেপাশে যা কিছু তার চোখে পড়ল, সবকিছুর উপরেই ভাঙচুর চালাল। শো পিস, দেয়ালে সাজিয়ে রাখা পেইন্টিং। সিঁড়ির রেলিংয়ে গিয়ে এমনভাবে ব্যাট দিয়ে আঘাত করতে লাগল যে ব্যাট অর্ধেক ভেঙে গেল, তবুও থামলনা সে। ইহান তাকে আটকাল না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ধ্বংসলীলা দেখল প্রাণভরে।
ভাঙচুরের শব্দে চারপাশ যেন সাক্ষাৎ নরকে পরিণত হলো কিছুক্ষণের মাঝেই। কেয়ারটেকার লোকটা পালিয়ে যায়নি। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া দারোয়ানটাও কোনোভাবে জ্ঞান ফিরে পেয়েছে। দুজনেই ছুটে এসেছে ভেতরে। সাইবানের দিকে দৌঁড় লাগাতে গেল তারা, কিন্তু ইহান মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ল।
“শরীর ভর্তি কলিজা তোদের মনে হয়। আয় গুণে দেখি কয়টা আছে।”
“পুলিশ! পুলিশকে ফোন…!”
একজন নিজের ফোন বের করতেই ইহান ঘুরে গিয়ে লাথি হাঁকিয়ে বসল। ফোনটা ছিটকে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। একটা কিশোর ছেলের অতি দ্রুত গতির সঙ্গে অসচেতন লোকদুটো হঠাৎ করে পেরে উঠলনা। কেয়ারটেকারের লুঙ্গি ধরে টান দিল ইহান, লোকটা চেঁচিয়ে উঠল,
“আয় হায়! আমার ইজ্জতে টান দিল খাচ্চরটায়!”
“তুই খাচ্চর! তোর স্যার আরও বড় খাচ্চর!”
দারোয়ানের নাক বরাবর ঘুষি হাঁকিয়ে কেয়ারটেকারের মাথায় হেলমেট সমেত বাড়ি দিল ইহান। অবস্থা বেগতিক, বুঝতে বাকি রইলনা কারোরই। তাই ঠাস করে পরে যেতেই দুজনই হামাগুড়ি দিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে গেল। হাঁপাতে হাঁপাতে ইহান ফিরে তাকাল। সমস্ত রুম ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ফেলেছে সাইবান। তার ক্রিকেট ব্যাটটা আধভাঙা অবস্থায় ঝুলছে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়া সিঁড়ির রেলিংয়ের সঙ্গে। কার্পেট ছিঁড়ে উঠে এসেছে অনেকখানি। যেন হিংস্র কোনো জন্তু আঁচড় দিয়েছে। অথচ সাইবান কোথাও নেই! ক্ষণিকের জন্য সত্যিই ভয় পেয়ে গেল ইহান। আধপাগল ছেলেটা গেল কোথায়?
যে মুহূর্তে চিন্তিত হয়ে সে এগোতে যাবে, তখনি সিঁড়ি বেয়ে দুইতলা থেকে হুড়মুড় করে নেমে আসতে দেখল সে সাইবানকে। সাদা কাপড়টা এখনো মুখে জড়ানো আছে। তবে অস্ফুট স্বরের কথাগুলো শোনা যাচ্ছে,
“শিট! দ্যাট স্কাউন্ড্রেল ইয নট হেয়ার!”
তার মানে অরণ্য সত্যিই বাড়িতে নেই। ইহান কি করবে বুঝতে পারলনা। অরণ্যর প্রতি তার এতই রাগ যে মনে হয় সামনে পেলে সত্যিই খু*ন করে ফেলতে পারবে! নিজের চোখে দেখেছে সে, ওই একটা মানুষের জন্য ইরামকে কতটা ভুগতে হয়েছিল। কিন্তু ইহানকে শুধু হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়েছে। দুঃসাহস করতে পারেনি সে। প্রতিটা রাত আফসোসে বিছানায় মুখ গুঁজে চোখের জল ফেলে গিয়েছে, রাগে বালিশ ফাটিয়ে ফেলেছে ঘুষি হাঁকাতে হাঁকাতে। কেন বয়স কম হলো তার? কেন ইরামের ছোট ভাইয়ের বদলে বড় ভাই হতে পারলনা সে? কেন আর কয়েক বছর আগে তার জন্ম হলোনা? কেন কেন কেন? ইহান শুধু অপেক্ষায় ছিল, আর একটুখানি বড় হওয়ার। কিন্তু আজ যখন সে সাইবানকে রুদ্রমূর্তি হয়ে প্রবেশ করতে দেখল, তখন আর নিজেকে রুখতে পারলনা। চলেই এলো। কিন্তু এখন ওই শয়তানটাকেও পাওয়া গেল না। শয়তান কীভাবে কীভাবে যে এতকাল বাঁচে!
ভাঙাচোরা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এসেছে সাইবান। তার মাথায় র*ক্ত উঠে গিয়েছে বোধ হয়। মুখে সাদা কাপড় জড়ানো থাকলেও শুধু লাল দেখতে পাচ্ছে সে চোখে, কটকটে উদ্ভট লাল! ঠোঁট কামড়ে ধরল সে, তাতে মুখের ভেতর নতুন করে র*ক্তের নোনতা স্বাদটা পেল। মনে পড়ে গেল তার। ইরামের কথাগুলো শোনার পর কীভাবে রুখেছিল সে নিজেকে। চোখ থেকে ঠিকরে বের হয়ে আসতে চাওয়া অশ্রুদের সে থামিয়েছে নিজেকে তীব্র ব্যথা দিয়ে। সুচারু দাঁতে জিভ কামড়ে ধরেছিল সে কান্না আটকাতে। আবার জ্বলে উঠল জিভ, নতুন র*ক্তে ভরে উঠল মুখ। সাইবানের কোনো পরোয়া নেই আর ওসব বিষয়ের প্রতি। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। তীব্র প্রতিশোধ বাসনা সে পূরণ করতে পারছেনা বিধায় শরীর গুলিয়ে উঠছে। কিছু একটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে ইচ্ছা করছে।
“আহহহহ!”
হুট করে নিয়ন্ত্রণহারা এক হুংকার দিয়ে উঠল সাইবান। এত জোরে রেলিংয়ের মাথায় একের পর এক ঘুষি হাঁকাল যে তার দুই হাতের চামড়া ফেটে ক্ষত হয়ে গেল। তবুও থামলনা সে। এক লাথিতে পায়ের সামনে পড়ে থাকা ভাঙা টেবিলটাকে আরেক দফায় উল্টে ফেলল। একেবারে বিনা প্রয়োজনেই দফারফা হয়ে যাওয়া দেয়ালের পেইন্টিংয়ের ক্যানভাস টেনে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ল। সে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেনা কিছুতেই। ধ্বংস! ধ্বংস! ধ্বংস! শুধু ধ্বংস চাই তার! ইহান দৌঁড়ে গিয়ে তার দুহাত চেপে ধরল,
“থামো! পাগলামি করো না। লোক দুটো পালিয়েছে, দ্রুতই ফিরে আসতে পারে। আমাদের এখন যাওয়া উচিত।”
“চলে যাব? ওই কুলাঙ্গারটাকে সাড়ে তিন হাত মাটির জগৎ না দেখিয়ে চলে যাব? হেল নো!”
ঝটকা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল সাইবান। তাকে রীতিমত জন্তুর মতোই দেখাচ্ছে। ইহান অব্দি কিছুক্ষণের জন্য ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল এমন উদ্ভট আচরণ দেখে। সাইবান দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়েছে বুঝি। তারপর হঠাৎ করেই থমকেও গেল। পিনপতন নীরবতা ভর করল চারিপাশে। ইহান শুধু নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে। সাইবান দানবের মতন স্থির দাঁড়িয়ে আছে। শ্বাস পর্যন্ত নিচ্ছেনা বুঝি। রক্তাক্ত দুহাত দুদিকে ঝুলছে, অশনির ন্যায়। একটি ঢোক গিলল ইহান।
“ঠি…ঠিক আছো?”
হুট করে মাথা তুলে তাকাল সাইবান। কাপড়ের কারণে বোঝা গেলনা তার চেহারায় কেমন অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে। কিছুই বলল না সে। হুট করে লিভিং রুমের সাথে লাগোয়া করিডোরে ঢুকে পড়ল। ইহানও পিছু নিল সঙ্গে সঙ্গে। এদিক সেদিক ঘুরপাক খেয়ে অবশেষে সাইবান যা খুঁজছিল, পেয়ে গেল। রান্নাঘর। ভেতরে ঢুকেই সোজা স্টোভের কাছে গেল। নিচের কেবিনেট খুলতেই দু দুটো সিলিন্ডার পাশাপাশি পেয়ে গেল। বাঁকা হাসি ফুটল তার ঠোঁটে।
ইহান তখন সবেমাত্র রান্নাঘরের দরজায় পৌঁছেছে। এই ছেলে এত দ্রুত হাঁটে কীভাবে? আদৌ মানুষ নাকি? মস্তিষ্ক ঠিকমত বুঝেও উঠতে পারেনি তার, এর আগেই কানে গেল একটি রহস্যময় শীষ। অত্যন্ত করুণ সুরে বাজছে। করুণ থেকে ক্রমশ চড়া হয়ে উঠল সেই শীষ, অতঃপর অচেনা গলার পাশবিক সুরেলা আওয়াজ,
“আঁতরও, গোলাপও চন্দন মারো বন্দের গায়ে,
আঁতরও, গোলাপও চন্দন মারো বন্দের গায়ে~”
জমে গেল ইহান। হেলমেটের উইন্ডো খুলে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে রইল সামনের দিকে। দুইটা সিলিন্ডার টেনে হিঁচড়ে বের করেছে সাইবান। গুণগুণ করে গাইছে সে। তার অশরীরী আওয়াজ ছেয়ে গিয়েছে চারপাশে। যেন দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কন্ঠস্বর। গায়ে কাটা দেয়ার মতো ব্যাপার। ইহান অনুভব করল ওই কণ্ঠের তাড়নায় তার শরীরের লোমগুলো কেমন দাঁড়িয়ে গিয়েছে। গানের কথাগুলোও কেমন! আঁতর, গোলাপ, যেন মৃত্যুর পর লা*শ সাজানোর কথা বলা হচ্ছে! সাইবান এক এক করে দুটো সিলিন্ডারের মুখই হালকা খুলে দিল। সাক্ষাৎ কবরের ব্যবস্থা করছে সে! কার্যক্রমের সাথে হেলেদুলে বেখেয়ালিভাবে সে তালে তালে গাইছে,
“ছিটাইয়া দাও শুয়া চন্দন~ ছিটাইয়া দাও শুয়া চন্দন~
ওই রাঙা চরণে~”
দাহ্য গ্যাসের কটু গন্ধে ভরে উঠল চারপাশ, সাইবানের হাতে উঠে এলো লাইটার। গুণগুণ করতে করতে সে পিছিয়ে এলো রান্নাঘর থেকে, এক পা দু পা করে, সময় নিয়ে। ইহান ছিটকে দূরে সরে গেল। বুক কাঁপছে তার। পরিস্থিতি নয়, বরং সাইবানকেই ভয় লাগছে তার! সাদা কাফনের মতন কাপড় শরীরে জড়ানো, তাতে হাত ফেটে লাগা র*ক্তের ফোঁটা। অদ্ভুতভাবে সুরে সুরে দুলছে শরীরটা, অনেকটা তন্ত্র সাধনার মত করে। হাতের লাইটারে যদি ভুলবশতও আঙুল চেপে যায়, তাহলে শেষ! ইহানের দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়া উচিত। এই ছেলের জীবনের পরোয়া না থাকতে পারে, কিন্তু তার নিজের তো আছে! অথচ সে যেতে পারলনা। আতঙ্কিত হৃদয়ে সম্মোহিতের মতন চেয়ে রইল। এ যেন এক ভয়ংকর আসক্তি!
সাইবান অবশেষে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো। ইহানকে দেয়ালের সঙ্গে লেপ্টে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল একেবারে। কোনো মন্তব্য না করে হেঁটে লিভিং রুমের দিকে চলে গেল। ইহানের সম্মোহন এতক্ষণে কেটেছে বুঝি। সে কাঁপা কাঁপা পদক্ষেপে অনুসরণ করল। সাইবান লিভিং রুমে এসে পড়ল। উদ্দেশ্য বেরিয়ে যাওয়া। কিন্তু পারলনা। হুট করে একটা জিনিসের উপর চোখ আটকে গেল তার।
দেয়ালের উপরে, একদম কোণার দিকে, ছোট একটা যন্ত্র জ্বলজ্বল করছে। বুঝতে বাকি রইলনা সাইবানের। সিসিক্যামেরা! বিজয়ীর হাসি প্রস্ফুটিত হলো তার রক্তাভ ঠোঁটজুড়ে। এগিয়ে গেল সে পায়ে পায়ে। সোফার উপর উঠে দাঁড়িয়ে একেবারে সরাসরি তাকাল সিসিক্যামের দিকে। পিছন থেকে ইহান খেঁকিয়ে উঠল,
“আরে কি করছ? তোমার মুখ দেখে ফেলবে তো!”
সাইবান কোনো পরোয়াই করলনা। সোনার হরিণ পেয়ে গিয়েছে বুঝি সে। তাই বিন্দুমাত্র দ্বিধা ছাড়াই এক টানে মুখের উপর থেকে সাদা কাপড়টি সরিয়ে ফেলল, লা*শ থেকে কাফন সরানোর মতন করে। সরাসরি ক্যামেরার লেন্সের দিকে তাকাল। রক্তাভ ঠোঁটে ভাসল বাঁকা হাসি। তার চোখজোড়া বুঝি তপ্ত লাভার সরোবর, যাতে ভাসমান রক্তপিপাসা। আস্তে করে নিজের বাম হাতটা ক্যামেরার সামনে তুলে ধরল সাইবান, সবগুলো আঙুল নামিয়ে ফেলল একে একে, কেবল মধ্যাঙ্গুলি বাদে। তাতে চকচক করে উঠল সিলভারের আংটি। অশুভ ভাবে জিভের গোঁড়ায় লেগে থাকা র*ক্তবিন্দুটুকু অনায়াসে চেটে সে সরাসরি ক্যামেরার উদ্দেশ্যে বলে উঠল,
“গেইম অন!”
চেয়ে রইল সাইবান ক্যামেরার দিকে, একনাগাড়ে। যেন ক্যামেরায় নয়, সরাসরি চেয়ে আছে অরণ্যর দিকে। তারপর লাফিয়ে নিচে নেমে গেল। লাইটারটা উপরে ছুঁড়ে দিল, ক্যাঁচ ধরল। আবার ছুঁড়ল, ক্যাঁচ ধরল। এমনটা করতে করতে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে পেছাতে লাগল। হুট করে লাইটারে জ্বলে উঠল ফুলকি, সঙ্গে সেই অসহনীয় অমানবিক কন্ঠের গীত,
“আজ পাশা খেলব রে, শাম~ আজ পাশা খেলব রে শাম~~”
─────────────────────────────
সাইবান যখন বাড়িতে ফিরল, তখন চারিদিক নিস্তব্ধ। কোথাও না থেমে সোজা বেডরুমে চলে গেল সে। রুমের কোথাও ইরাম নেই। বিছানায় শান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে ছোট্ট ইযান। সাইবান থামল। পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল বিছানার কাছে। অপলক চেয়ে দেখল সে ইযানকে। ছোট্ট শিশুটি ঘুমে আচ্ছন্ন। নরম শরীর নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের সাথে সাথে ওঠানামা করছে। বারান্দা থেকে আসা মৃদু আলোয় মুখটা অপূর্ব দেখাচ্ছে। সাইবান বলতে পারবেনা বুকের ভেতর কেমন অনুভূতি হলো তার। বিছানার একপাশে আস্তে করে বসল সে। একটি হাত বাড়িয়ে দিল ইযানকে ছোঁয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু হাতে জমা রক্তবিন্দু চোখে পড়ায় ভ্রু কুঁচকে গেল তার। মাথা নাড়ল সে। উঠে গিয়ে বাথরুম থেকে দুই হাত ঘষে ঘষে জমাট বাঁধা দাগ উঠিয়ে ধুয়ে নিল। তোয়ালেতে মুছে পুনরায় ফিরে এলো সে ইযানের কাছে। এবার সাহস করে একটি হাত বাড়িয়ে দিল। নমনীয় শরীরটা হাতের তালুর মাঝে আলতোভাবে তুলে নিয়ে বুকে ঠেকাল। ওভাবেই বসে রইল কিছুক্ষণ। ইযান ঘুমের ঘোরে ছোট্ট দুখানা হাত ছড়িয়ে সাইবানের বুক আঁকড়ে ধরল। নাজুক সত্তাটির হৃদপিণ্ড যেন একই ছন্দে স্পন্দিত হচ্ছে তার সাথে। চোখ বুঁজে অনুভব করল সাইবান। ভেতরের জ্বালাময়ী ক্রোধ ধীরে ধীরে অনেকখানি শান্ত হয়ে এলো তার। যেন তপ্ত মরুভূমির বুকে হুট করে এক নদী পানি ঢেলে দেয়া হয়েছে।
অবশেষে চোখ খুলল সাইবান। ঝুঁকে ঘুমন্ত ইযানের কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দিল। কি যেন ভাবল কিছুক্ষণ। তারপর হুট করে পকেট থেকে ফোন বের করে নিল। নাম্বারটা ডায়াল করল সে, কানে চাপল। কয়েকবার রিং পড়তেই রিসিভ হলো,
“জন্মনিবন্ধনের কাজ দিয়েছিলাম, কতদূর হলো?”
ওপাশ থেকে কিছু বলা হলো। সাইবানের ভ্রুর মাঝে গাঢ় ভাঁজ পড়ল। ফোন চেপে ধরে সে বলল,
“সাহরান আলাদিন ইযান, মায়ের নাম ইরাম কিবরিয়া, বাপের নাম সাইবান আলাদিন! একটাও যদি বানানে ভুল হয়েছে তো নিবন্ধন অফিসে গিয়ে কম্পিউটার পিটিয়ে ভেঙে আসব, মনে থাকে যেন!”
—চলবে—
[ কালকে থেকে আমার ঈদের ছুটি। এরপর গল্প কবে আসবে জানি না, তাই আজকে কিন্তু বড় দিসি, হুহ! ঈদের আগে আর গল্প নাই বুঝছেন? গেলাম ছুটিতে। অগ্রিম ঈদ মোবারক!
]
Share On:
TAGS: আমার আলাদিন, জাবিন ফোরকান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আমার আলাদিন পর্ব ২২
-
আমার আলাদিন পর্ব ৩০
-
আমার আলাদিন পর্ব ৪
-
আমার আলাদিন পর্ব ১২
-
আমার আলাদিন পর্ব ৩৪
-
আমার আলাদিন পর্ব ২০
-
আমার আলাদিন পর্ব ২৫
-
আমার আলাদিন পর্ব ২
-
আমার আলাদিন পর্ব ১৮
-
আমার আলাদিন পর্ব ২১