তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২২
পর্ব:২২
তানিশা সুলতানা
আদ্রিতার আর খাওয়া হলো না। সে হাত ধুঁয়ে উঠে ড্রয়িং রুমের সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়ে। ইসস কি যন্ত্রণা হচ্ছে জিভে। একটু তো কেটেছেই এতো যন্ত্রণা হওয়ার কি আছে? ব্যাথারও কোনো আক্কেল নেই।
তারওপর কতো খাবার রান্না করেছিলো আজকে বড়মা। পোলাও রোস্ট গরুর মাংস।
কিছুই খেতে পারলো না। রোস্ট গুলো আদ্রিতার মুখ পানে তাকিয়ে আছে অসহায় দৃষ্টিতে। তাদেরও বড্ড আফসোস আদ্রিতা খেতে পারলো না সেই জন্য।
মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে “আর জীবনেও খাওয়ার সময় কথা বলবে না। কোনোদিনও না”
অহনা ফাস্ট এইচ বক্স নিয়ে এসেছে৷ একটুখানি ঔষধ লাগিয়ে দিতে চায় আদ্রিতার জিভে। এটা শুনেই ও লাফিয়ে ওঠে। ঘোর বিরোধিতার সুরে বলে
“নাহহহহহ
তেঁতো ঔষধ জিভে লাগাবে সেটা আমার গলায় চলে আসবে। আমি গিলবো তারপর পেট সহ নাড়িভুড়ি পর্যন্ত তেঁতো হয়ে যাবে।
ইয়াকককক
না না এই রিক্স নিবো না।
অহন জোর করলো না৷ ফাস্ট এইচ বক্স নিয়ে ফিরে গেলো।
আবরারের খাওয়া শেষ। সে টিস্যু পেপার দিয়ে হাত মুছতে মুছতে নিজ কক্ষে চলে গেলো। একবার ফিরেও তাকালো না আদ্রিতার পানে। যেনো চিনেই না। অথচ কয়েকদিন আগে চুমুও খেয়েছিলো।
আসলেই পৃথিবী থেকে মানবিকতা উঠে গেছে৷ পাষাণ হয়ে যাচ্ছে ইট পাথর থেকে শুরু করে মানুষ জন।
হাহহহ
সিয়াম আর আমান এসে বসে আদ্রিতার পাশে। প্রথমে সিয়াম বলে
” তোমার কি খুব ব্যাথা লেগেছে?
তাহলে ডাক্তারের কাছে চলো।
আদ্রিতা মুখ বাঁকিয়ে জবাব দেয়
“আপনারা কতো ভালো। এসে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এই বাড়িতে কিছু পাষাণ মানুষ থাকে যারা খোঁজ খবর নেওয়ার প্রয়োজন টুকুও বোধ করে না। অমানবিক।
আমান বলে
” সেই অমানবিক মানুষটি কি আবরার?
“অবশ্যই
তার মতো পাথর পাষাণ অমানবিক আর কেউ আছে না কি?
যাক গে সেসব কথা
আমি ঠিক আছি।
তখনই কলিং বেল বেজে ওঠে। আমান গিয়ে দরজা খোলে। স্বল্প পরিচিত এক খানা মুখ দেখে ভ্রু কুচকে বলে
” হু আর ইউ?
মেয়েটি মিষ্টি হেসে জবাব দেয়
“আমি টিশা
আবরার তাসনিন এর সঙ্গে দেখা করতে চাই।
” কিন্তু সে আপনার সঙ্গে কেনো দেখা করবে?
আদ্রিতা গোল গোল নয়নে টিশাকে দেখছে। ওই দিন রেস্টুরেন্ট এ ছিলো একটা মেয়ে। বাইক রেসের ওইখানে ছিলো মনা। আবার এখানে টিশা।
একটা মানুষের কতো গুলো বউ থাকতে পারে?
তবে কি আবরার তাসনিন বউয়ের কোম্পানি খুলেছে?
“এখানে স্বল্প মূল্যে বউ পাওয়া যায়”
এমন অফারে বউ বিক্রি করে?
ওহহহ হো তাই তো তার এতো টাকা। বাপের থেকে তো একটা পয়সাও নেয় না। তাহলে দামী দামী গাড়ি বাইক এসব পাচ্ছে কোথায়?
মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের বিয়ে করে তারপর বিক্রি করে দেয় লোকটা।
আদ্রিতাকেও ফেলতে চাচ্ছে ফাঁদে। না না এবার থেকে প্রচন্ড কঠোর হতে হবে। খারাপ হাতির থেকে দূরে থাকতে হবে।
ভাবনার মাঝেই খেয়াল করে আবরার তাসনিন নেমে আসছে সিঁড়ি বেয়ে। পরনে তার ফর্মাল ড্রেসআপ। সাাা শার্ট কালো ট্রাই কালো কোট কালো প্যান্ট কালো জুতো।
এইমাত্র বোধহয় দাঁড়িতে নতুন নকশা এঁকেছে। দেখতে বেশ লাগছে। চোখ ফেরানো দায়।
আদ্রিতা শুকনো ঢোক গিলে।
বিরবির করে বলে
“ওরেহহহ শালার চোখ কন্ট্রোলে থাক।
পর পুরুষের দিকে তাকাস না।
খারাপ চোখ সে কথা শুনলো না। হ্যাংলার মতো তাকিয়েই রইলো। আবরার আদ্রিতার পাশ দিয়ে গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়ায়। অদ্ভুত সুন্দর একটা সুঘ্রাণ আদ্রিতার নাকে লাগে। আহহা মাতাল করার মতো।
আবরার ওই মেয়েটির সামনে গিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে
” কি চাই?
টিশা কিছু মুহুর্ত তাকিয়ে থাকলো। তারপর খুশিতে গদগদ হয়ে বলে
“স্যার ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম। আপনি দেখা করতে বলেছিলেন।
আবরার হাত ঘড়িতে সময় দেখে নিয়ে বলে
” অফিসে দেখা করতে বলেছিলাম।
বাকিটা টিশা বুঝে নিলো। সে তাড়াহুড়ো করে বলে
“স্যরি স্যার
” ইটস ওকে
আপনি অফিসে যান।
টিশা মাথা নারিয়ে চলে যায়। আদ্রিতা ঠোঁট বাঁকায়। এ্যানি এসে ঠাস করে তার কোলে উঠে পড়লো।
আদ্রিতা বিরবির করে বলে
“ওহহ হো এটা তাহলে বউ না।
যাক গে মেয়েটা বেশ সুন্দর।
কিছু একটা ভেবে আদ্রিতা সিয়ামকে ডেকে বলে ওঠে
” সিয়াম ভাই
আমি বেশি সুন্দরী না কি আলেয়া ভাট বেশি সুন্দরী?
সিয়াম এক সেকেন্ডও ভাবলো না। সে চট করে জবাব দেয়
“অবশ্যই তুমি।
তোমার থেকে সুন্দর পৃথিবীতে ক
বলতে বলতে এগোচ্ছিলো আদ্রিতার দিকে। আবরার নিজের পা খানা এগিয়ে দেয়। তাতে বেঁধে মুখ থুবড়ে ফ্লোরে পড়ে যায় সিয়াম।।বাকি প্রশংসা টুকু আর করা হয় না।।
নাকটা সোজা ফ্লোরে লাগে। বেশ ব্যাথা পেলো। র/ক্তও চলে আসে।
আমান টেনেটুনে তুললো সিয়ামকে। বলে
” পড়লি কিভাবে?
সিয়াম হাতের উল্টো পিঠে র/ক্ত মুছে তাকালো আমানের মুখ পানে। তারপর বলে
“দাঁড়া দেখাচ্ছি।
বলেই উঠে দাঁড়ায়। একবার ঠিক যেভাবে পড়েছিলো আবারও সেভাবে পড়ে যায়। এবার ইচ্ছে করে পড়লো বলে ব্যাথা পায় নি।
আদ্রিতা খিল খিল করে হেসে ওঠে।।
আমান হা হুতাশ করে সিয়ামকে রুমে নিয়ে যায়। এই মুহুর্তে নাকটা ব্যান্ডেজ করা প্রয়োজন। ভালোই ব্যাথা পেয়েছে।
আবরারের মনোযোগ ফোনের স্কিনে ছিলো এতোক্ষণ। এবার আতিয়া বেগম কফি নিয়ে চলে আসাতে ফোন পকেটে পুরে কফির মগ হাতে নেয়।
তাতে চুমুক বসিয়ে বলে
” আম্মু তোমাদের কিছু লাগবে?
শপিং এ যাবো আমি।
“তাহলে আদ্রিতাকে সঙ্গে করে নিয়ে যা।
ওর প্রয়োজনীয় কিছু লাগবে। আমাকে বলছিলো কাল থেকে।
” ওকেহ
পাঁচ মিনিটে রেডি হয়ে আসতে বলো।
আদ্রিতা যাবে কি যাবে না ভাবছে৷ এই যন্ত্র মানবের সঙ্গে গেলে কাঠের পুতুলের মতো হাঁটাবে হবে পেছন পেছন।
আবার সুইজারল্যান্ড এর শপিং মল দেখার প্রবল লোভ সামলাতে পারছে না।
মনের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে সিদ্ধান্ত নেয় যাবে। যা হওয়ার হবে। তবে সোজাসাপ্টা রাজি হলে হাতির ভাব বেড়ে যাবে। একটু ভাব নিতে হবে আগে। এটা ভেবেই
বলে
“যেতে পারি তবে আমার একটা শর্ত আছে।
শর্ত শোনার সময় আবরারের নেই। সে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। আদ্রিতা তাড়াহুড়ো করে বলে
” আরেহহ কোনো শর্ত তর্ত নেই। দুই মিনিটে রেডি হয়ে আসছি। আশ্চর্য লোক একটা
বলতে বলতেই এক দৌড়ে কক্ষে চলে যায়। কোলে থাকা এ্যানি ঠাসস করে পড়ে গেলো ফ্লোরে। সেদিকে আদ্রিতার খেয়াল নেই। আতিয়া বেগম বিড়াল ছানাটিকে কোলে তুলে নিলো।
আদ্রিতা আবরারের সঙ্গে ম্যাচিং করে সাদা কালোর কম্বিনেশন একটা থ্রি পিচ পড়ে নেয়। তারপর হালকা মেকাপও করে। আহহা দেখতে বেশ লাগছে।
এই অবস্থায় আসিফ আদনান দেখলে পাঁচশোবার ক্রাশ খেয়ে ফেলতো ভাতের মতোন।
বাই দ্যা ওয়ে তার কি খবর? ফোন খানা কোথায় আদ্রিতার?
মোটামুটি এতোদিন সে ভুলেই গিয়েছিলো আসিফ আদনানের কথা। বিছানার এক কোণায় অযত্নে পড়ে থাকা ফোন খানা হাতে তুলে নেয় আদ্রিতা। দেখতে পায় ৫৫০ খানা মিসড কল। ১৩০০ মেসেজ। সবই আসিফ আদনানের দেওয়া।
ফোনে চার্জ আছে ২%
যখন তখন বন্ধ হয়ে যাবে। তাই ফোন খানা চার্জে বসায়। সিদ্ধান্ত নেয় বাসায় এসে কল করবে আসিফকে।
তারপর আরেক দরফা আয়না দেখে দৌড়ে চলে যায়। কিন্তু ড্রয়িং রুমে এসে দেখে আবরার নেই।
চলবে
“আবরার তাসনিন” ইবুক কিনুন বইটই থেকে।
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১৮
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৮
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৫৮
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৯
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২৩
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৬
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৩
-
তোমাতেই আসক্ত ২ পর্ব ১৫
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৮
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৫