তোমাতেই আসক্ত পর্ব ২৫
পর্ব:২৫
তানিশা সুলতানা
আদ্রিতা ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আবরার তাসনিনের মুখপানে। কলিজাটা কাঁপছে। এটা মানুষ না কি সাইকো সেটাই বুঝতে পারছে না। খানিকটা দূরে র/ক্তা/ক্ত আসিফ আদনান পড়ে আছে। ভীষণ বাজেভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। তবে আবরার গাড়ি থেকে নামছে না আদ্রিতা কেউ নামতে দিচ্ছে না।
বারণ করেছে বা ধরে রেখেছে এমনটা নয়।
আসলে আদ্রিতা গাড়ির দরজাই খুলতে পারছে না। পাক্কা পাঁচ মিনিট একটানা টানাটানি করেও কোনো কুল কিনারা খুঁজে পেলো না।
শেষমেষ আবরারের সাহায্য পাওয়ার লোভে তাকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে
“ওনাকে হাসপাতালে নিতে হবে। না হলে মা/রা যাবে।
আবরার দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে এক পলক তাকালো আদ্রিতার মুখ পানে। পরপরই দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে গাড়ির ডেক্স থেকে সিগারেট এর প্যাকেট নিলো। তা থেকে একটা সিগারেট বের করে ঠোঁটের ফাঁকে সিগারেট গুঁজে বলে
” তো যাও
হেল্প করো।
আফটারঅল তোমার কান্ট্রির মানুষ।
আদ্রিতা হতাশার সুরে বলে
“গাড়ির দরজাই তো খুলতে পারছি না। খুলে দিন না প্লিজজ
আবরার খুলে দিলো না। লাইটারের সাহায্যে সিগারেট এ আগুন জ্বালিয়ে কেউ একজনকে কল করলো। নাক মুখে ধোঁয়া ওড়াতে ওড়াতে গম্ভীর স্বরে বলে
” মলের সামনে একটা ইডিয়েট পড়ে আছে। আমার কোটি টাকার গাড়ি নষ্ট করে দিয়েছে।
জরিমানা না দেওয়া ওবদি তাকে যেনো কেউ হাসপাতালে নিতে না পারে।
ব্যাস তারপরে কল কেটে দেয়।
আদ্রিতা হা করে তাকিয়ে থাকে। এটা মানুষ নাকি অন্য কিছু? নিজেই একটা সুস্থ সবল মানুষকে ধাক্কা মেরে হাত পা ভে/ঙে দিলো আবার তার থেকেই জরিমানা চাচ্ছে। মনুষত্ববোধ তো নেই সাথে কমনসেন্স এর অভাব।
রাগ হলো অদ্রিতার। সে ঠোঁট ফুলিয়ে আবরারের পানে আঙ্গুল তাক করে বলে
“আপনার নামে আমি মা/ম/লা করব।
একেতে নিজেই আসিফ আদনানকে ধাক্কা মেরে দিলেন। আবার জরিমানাও চাচ্ছেন।
বলি বিবেকবোধ কি চায়ের সঙ্গে গুলে খেয়ে ফেলেছেন? না কি বিক্রি করে দিয়েছেন?
আর সুইজারল্যান্ড এর মানুষ জনও ভাই
একটা মানুষ এক্সিডেন্ট করলো কোথায় তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাবে। যে গাড়ি ধাক্কা দিয়েছে সেই গাড়ির মালিককে ইচ্ছে মতো ধোলাই দিবে তা না
আবরার আদ্রিতার মুখপানে না তাকিয়েই ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে
” ইটস মাই কান্ট্রি
এখানে আমার কথাই শেষ কথা।
তারপর দক্ষ হতে গাড়ির স্টারিং ঘুরিয়ে বেরিয়ে গেলো মলের সামনে থেকে। আদ্রিতা কথা বলার মতো ভাষা খুঁজে পেলো না। আসলেই বোধহয় এটা আবরার তাসনিন এর শহর। নাহলে সব মানুষ কেনো আবরারের দিকেই তাকিয়ে থাকবে। তাকেই কেনো গুড মর্নিং জানাবে।।
আদ্রিতার খুব করে বলতে ইচ্ছে করলো
“বাংলাদেশে যাইয়েন খালি একবার
হাত ভে/ঙে গলায় ঝুলিয়ে দিবো।
ফাঁকা রাস্তার রেস ধরে ধীরেসুস্তে গাড়ি চালাতে থাকে আবরার। যেনো একটু আগে সে একটা নির্দোষ মানুষকে আধমরা করে নি।
এই পৃথিবীর সব থেকে ভালো মানুষ উনিই। আদ্রিতা পলকহীন দৃষ্টিতে শুধু তাকিয়েই থাকে। সুন্দর মানুষরা এমন ভয়ংকর কেনো হয়?
এইযে এখন রিলাক্স এ সিগারেট টানছে। গোলাপি অধরের মাঝে কালো রংয়ের সিগারেট। অদ্ভুত সুন্দর এই দৃশ্য।
সাদা শার্টের বুকের উপরের তিনটে বোতাম খোলা। যার ফলে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ফর্সা বুক খানা। কালো রংয়ের সানগ্লাস খানা মাথায় রাখা।
এসব দেখে আসিফ আদনানের কথা বেমালুম ভুলেই গেলো আদ্রিতা। তার মাথায় এক খানা গান ভেসে বেড়াতে থাকে।
বাংলাদেশের জসিমের একটা সিনেমার গান ছিলো
“রংচটা জিন্সের প্যান্ট পড়া
জ্বলন্ত সিগারেট ঠোঁটে ধরা
সাদা শার্ট গায়ে তার বুক খোলা
সানগ্লাস কপালে আছে তোলা
রাখো না কেনো ঢেকে ওই দুটি চোখ
হেই যুবক
গুনগুনিয়ে গান খানা খেয়ে উঠে আদ্রিতা। যেন সে একটা স্বপ্নে চলে গেছে। সেখানে আবরার তাকে কোলে নিয়ে জুরিখ নদীর পানিতে পা ভিজিয়ে হাঁটছে। আদ্রিতা ওর গলা জড়িয়ে ধরে রেখেছে। মাঝেমধ্যে একটু আতটু আলতো করে চুমু খাচ্ছে আবরারের ঠোঁটে। আর হেই যুবক গানটা গাইছে।
” থা/প্প/ড়ে গাল লাল করে দিবো ইডিয়েট। এসব কি গান?
আবরারের ধমকে আদ্রিতার হুশ ফিরলো। নড়েচড়ে সোজা হয়ে বসে। এতক্ষণ ঠোঁটের কোণে হাসি থাকলেও এবার মুখ বাঁকালো কয়েকবার।
নিজেকেই নিজে গালি দিতে থাকে।
ছিহহহ
স্বপ্ন দেখার মানুষ পেলো না। এই হাতি নাকি ওকে কোলে নিয়ে জুরিখ নদীর পানিতে হাঁটবে।
খু/ন করে এই নদীতে ভাসিয়ে দিবে সে।
“এভাবে ধমকানোর কি আছে? এটা একটা বাংলা গান। আমার ক্রাশ জসিম এর ছোট ভাই জব্বার এই গানের হিরো। নায়িকার নাম মন
বাকিটা শেষ করার আগেই আবরার দ্বিতীয় বার ধমকে বলে
“স্টপ ইউওর মাউথ।
তারপর বাকি রাস্তা আদ্রিতা আর একটা কথাও বললো না। চুপচাপ বসে ছিলো।
আজকের ফ্রাইডে। বাংলাদেশের শুক্রবার সবকিছু বন্ধ থাকলেও সুইজারল্যান্ডে সবকিছু খোলা। এই নিয়মটাই আদ্রিতার ভালো লাগলো না। আসলেই এটি একটি উন্নত দেশ। এখানকার সব কিছুই কেমন জানি উল্টাপাল্টা। শেখ হাসিনার বানানোর নিয়ম এরা মানে না। ছিহহহ
আদ্রিতা অলস ভঙ্গিমায় এ্যানিকে কোলে নিয়ে ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে আছে। অহনা বড়মা কেউ বাসায় নেই। কোথায় গেছে আদ্রিতা তা জানেও না। সকালে ঘুম থেকে উঠে গোটা বাড়ি দু-তিনবার চক্কর দিয়েও কাউকে খুঁজে পায় নি। শেষ মুহূর্তে হাল ছেড়ে দিয়ে নিজের জন্য নুডুলস বানিয়ে সোফায় এসে বসেছে খাওয়ার জন্য। তখনই কোথা থেকে যেনো এ্যানিটা দৌড়ে চলে আসে।
তারপর আর কি?
দুজন মিলে ভাগাভাগি করে নুডলস শেষ করে।
এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ্যানিকে নিয়ে একটু হাঁটতে বেরুবে। সেই হিসাব মোতাবেক চটজলদি কক্ষে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে আসে।
সাদা রং বড়ই প্রিয় আদ্রিতার।।তাই আজকে সাদা রঙের লং কুর্তি পড়েছে। হালকা পাতলা সেজেও নিয়েছে।
সেই সঙ্গে আরও একটা বিষয় রিয়েলাইজ করেছে।
সেটা হলো
ও আসিফ আদনানকে নয় বরং আবরার তাসনিনকে ভালোবাসে। এই মানুষটার প্রতিই রয়েছে সীমাহীন দুর্বলতা। আর এই দুর্বলতা কখনো কাটবে না। আসিফ আদনান আদ্রিতার মনের কোথাও নেই। ঝোঁকের বশে তার সঙ্গে রিলেশনশিপ এ যাওয়ার ঠিক হয় নি৷ এখনি ব্রেকআপ করে নিতে হবে।
আর আবরার তাসনিনকেও মনের কথা জানাতে হবে। তাকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে হবে
“যেহেতু আমায় কলঙ্কিনী করেছেন সেহেতু বিয়ে করতে হবে।
মধু খেয়ে চলে যাওয়ার দিন শেষ।
চলবে
” আবরার তাসনিন” ইবুক কিনুন বইটই থেকে।
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত, তোমাতেই আসক্ত সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২০
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৮
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৫৩
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১০
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৭
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২৯
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১১
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৪
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২