দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_২৬
[এহেম,এহেম]🌚
চারপাশে ঝুম বৃষ্টি পড়ছে। বজ্রপাতের শব্দে পরিবেশটা আরও ভারী হয়ে উঠছে। এর মাঝেও তুবা পড়তে বসেছে—পড়তে বসেছে বললে ভুল হবে, নিহান জোর করেই বসিয়েছে। সামনে তুবার পরীক্ষা।
নিহানের চোখে গোল ফ্রেমের চশমা। বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকলেও মাঝেমধ্যে তার দৃষ্টি গিয়ে থামছে তুবার মুখে। আর তুবা? সে তো হা করে তাকিয়েই আছে নিহানের দিকে।
নিহান ধমক দিয়ে বলল,
“তাকিয়ে আছো কেন? পড়তে বলেছি না?”
হঠাৎ ধ্যান ভাঙতেই তুবা কেঁপে উঠল। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“আমি… পড়ব না। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, একটু উপভোগ করি না।”
নিহান চোখ রাঙিয়ে তাকাল তার দিকে।
“পরীক্ষা মাথায় আছে? নাকি বৃষ্টি দেখেই পাস করবে?”
তুবা ঠোঁট ফুলিয়ে নিচের দিকে তাকাল। আর কিছু না বলে বইয়ের দিকে চোখ রাখল ঠিকই, কিন্তু তার মন পুরোটা পড়ে আছে জানালার ওপাশে।
বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ, মাঝে মাঝে বজ্রপাত—সব মিলিয়ে মনটা বারবার উড়ে যাচ্ছে বাইরে। তুবা চুপচাপ একবার চোখ তুলে তাকাল নিহানের দিকে।
নিহান এবার খেয়াল করল। ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কি হলো আবার?”
তুবা আস্তে করে বলল,
“একটু… শুধু পাঁচ মিনিট… প্লিজ?”
নিহান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ বইটা বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল। তুবা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
নিহান জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
“চলো।”
তুবা বিস্মিত,
“কোথায়?”
নিহান হালকা হেসে বলল,
“বৃষ্টি উপভোগ করতে। কিন্তু পাঁচ মিনিট—এর বেশি না।”
তুবার চোখ দুটো মুহূর্তেই চকচক করে উঠল। সে দৌড়ে গিয়ে দাঁড়াল নিহানের পাশে। বাইরে ঝুম বৃষ্টি, ঠান্ডা হাওয়া, আর তাদের মাঝখানে এক অদ্ভুত নীরবতা।হঠাৎ এক ঝলক বাতাস এসে তুবার চুল এলোমেলো করে দিল। নিহান হাত বাড়িয়ে চুলগুলো সরিয়ে দিল।তুবা এক নজর তাকাল নিহানের দিকে।
হঠাৎ তুবা বায়না ধরল সে বেলকনিতে যাবে বৃষ্টির পানিগুলো ধরবে!নিহান প্রথমে না করলেও মেয়েটার সেই অনুরোধভরা চোখের সামনে শেষপর্যন্ত হার মানল নিহান।হালকা বিরক্ত হলেও অনুমতি দিল।তুবার মুখ মুহুর্তেই খুশিতে জলজল করে উঠল।আর অপেক্ষা করল না দ্রুত পায়ে বেলকনির দিকে গেল।নিহান চুপচাপ তুবার পিছু পিছু গেল।
বেলকনিতে পা রাখতেই বৃষ্টি পানির ছিটে এসে লাগল তুবার গালে।মুহুর্তেই চোখ বন্ধ করে ফেলল সে।একহাত মেলে বৃষ্টির পানিগুলো ধরছে।নিহান যদিও ভেতরে ভেতরে ইর্ষা কাজ করছে।কেন বৃষ্টির ফোঁটা গুলো মেয়েটাকে ছুঁবে? কেন?দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে নিহান এসব ভাবছে।হঠাৎই তুবা পেছনে ফিরে বলল,
“আপনি আসবেন না?”
নিহান মাথা নাড়িয়ে বলল,
“আমি এখানেই ঠিক আছি।
তুবা ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,
“একদম বোরিং আপনি।”
নিহান চোখ সরিয়ে নেয়।হঠাৎ তুবা দৌড়ে এসে নিহানের হাত ধরে টেনে বলল,
“চলুন না..একবার!”
হঠাৎ টান খেয়ে একটু সামনে এগিয়ে গেল নিহান।হাতে এবং মুখে বৃষ্টির ফোটা পড়ল কয়েকটা।নিহান ধীরে বলে,
“সোনা আসো ৫ মিনিটের বেশি হয়ে গেছে।”
তুবা এই ঠান্ডা পরিবেশের মাঝেও শরীর উষ্ণ হয়ে গেল।নিহানের গলায় এগুলো শুনলে তুবা’র বুকের ভেতর এক রকম লাগে!সেটা সে মুখে প্রকাশ করতে না পারলেও মনে মনে ঠিকিই অনুভূতি হয়!
হঠাৎ তুবা দেখল নিহান তার দিকে এক পা এক পা করে এগিয়ে আসছে।চারপাশে অন্ধকার তুবার মনের ভেতর এক অজানা ভয়।নিহানের ধূসর বাদামী চোখজূড়ে মাদকতা।নেশাগ্রস্তের ন্যায় এগিয়ে আসছে তুবার দিকে।তুবা দু’পা দু’পা পিছুতে পিছুতে বেলকনির দেওয়ালের সাথে পিঠ ঠেকল।এবার কই যাবে তুবা?গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
নিহান তুবার একদম কাছাকাছি এমনিই কাছাকাছি যেআরেকটু হলেই নিহানের ঠোঁট তুবার ঠোঁটে স্পর্শ করবে।তুবা কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে,
“প..পড়তে বসব।”
নিহান ঠোঁট কামড়ে হাসল।মেয়েটা কত বোকা।এতক্ষণ ঠিকিই বলল যে পড়বে না, আর এখন এগুলো দেখে বলল পড়তে বসবে।কিন্তু নিহান কি ছাড়ার পাত্র?একবার যখন মন অন্যকিছু বলেছে তো সে কীভাবে থামাবে?নিহান নিজের একহাত দিয়ে তুবার হাতদুটো পেছনে চেপে ধরল আর এক হাত তুবার গাল, রেশমের মত চুল গুলো ছুঁয়ে দিচ্ছে। নিহান ঝুঁকে তুবার কানের লতিতে কামড় দেয়।তুবা “উফ্” করে উঠল।নিহান ঠোঁট কামড়ে ফিসফিস করে বলে,
“এখনো তো কিছু করলাম না লিটল ফেইরি।”
তুবা’র পুরো শরীর কেঁপে উঠছে।তুবা ধীরে বলে,
“ছে..ছেড়ে দিন।”
“দেখা যাক জান।”
এই বলেই কোনোকিছুর পূর্বাভাস না দিয়েই নিহান তুবার ওষ্টজোড়া আঁকড়ে ধরল গভীরভাবে।তুবা নিহানের হাত থেকে নিজরে হাতদুটো ছাড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকো।তুবাকে এমন করতে দেখে নিহান বেশ বিরক্ত হয়েই বলে,
“এমন করছো কেন বউ?এরকম বৃষ্টির মৌসুমে নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনা।”
“ছাড়ুন অসভ্য লোক।ঠোঁট জ্বলছে আমার।”
নিহান তুবার কথা শুনে ঠোঁটে জোরে কামড় দেয়।তুবার।চোখের কোণে পানি।নিহান গলায় মুখ ডোবায়।তুবা মনে মনে ভাবছে কি ভুলটাই না করল!তখন যদি পড়া থেকে না উঠতো তাহলে তো এত কষ্ট পেতে হতো না।সেই যে নিহান গলায় মুখ ডুবিয়েছে এখনো খবর নেই তার!এদিকে নিহানের শার্ট ভিজে চুপচুপ তুবা ও ভিজেছে কিন্তু হালকা।নিহানের আড়ালে থাকার কারণে সে বেশি ভিজেনি।তুবা বিরক্ত হয়ে বলে,
“উঠুন আপনি?ঘুমিয়ে গেলেন নাকি?”
নিহান মুখ উঠিয়ে বলে,
“তাহলে রুমে আসো।কিছু করি।”
তুবা রুমের দিকে ছুট্টে গেল।উদ্দেশ্য ছিল নিজের রুমে চলে যাবে দৌড়ে কিন্তু তা আর হলো কই? নিহানের রুম থেকে পা বাড়াতেি পারলোনা নিহান এসে খপ করে হাত ধরে কাছে টেনে নিলো নিজের। তুবা নিহানের ধূসর বাদামি চোখদুটোর দিকে তাকালো।নেশাগ্রস্তের ন্যায় তাকিয়ে আছে তার দিকে। নিহান তুবার ঠোঁটে স্লাইড করতে করতে বলে,
“চলো আজকে পড়তে হবেনা।আজকে অন্যকিছু করি।”
তুবা চোখদুটো যেন আবেশে বন্ধ হয়ে আসছে।নিহানের অবাধ্য হাতের বিচরণে তার বুকের ভেতর একরকম অনুভূতি কাজ করছে।নিহান আর অপেক্ষা করল না তুবাকে বিছানায় গিয়ে বসালো।কালো জামাটা ঘাড় থেকে কিছুটা নামিয়ে নিল।আবারও সেই অবাধ্য হাত তুবার শরীরের এ পাশে ওপাশে ছুঁয়ে দিচ্ছে।তুবা চোখ বন্ধ করে রেখেছে।গলায় লাল লাল দা’গগুলো দেখে নিহান বাঁকা হেসে বলে,
“কি সুন্দর লাগছে এগুলো।”
নিহান আবারো তুবার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট মিশিয়ে নেয়।
তুবা নিহানের শার্ট পেছন থেকে খামচে ধরেছে।কতক্ষণ পর নিহান তুবার ঠোঁট ছেড়ে তুবার উপট ঝাপিয়ে পড়ল।আজকের পুরো রাত তুবার মাঝে ডুব দিলো।সে রাত ছিল তাদের দুজনার।সময়ের স্রোত থেমে গেল তাদের একত্র নিঃশ্বাসে,মনের গভীরে জন্ম নিল এক অমলিন অধ্যাই।এ যেন এক আত্মার সাথে আরেক আত্মার চিরত্নন সংলাপ।
সকাল ৮ টা।বৃষ্টির সকাল যেনো এক নতুন অনুভূতির চাদরে মোড়া সময়।আকাশ জুড়ে মেঘের ভিড়,টুপটাপ বৃষ্টির শব্দে চারপাশ ভিজে ওঠে এক অন্যরকম শান্তিতে।জানালার কাঁচে জমে থাকা জলের ফোঁটাগুলো ধীরে ধীরে গড়িয়ে পড়ে।
মাটির সোঁদা গন্ধ বাতাসে মিশে মনকে অদ্ভুদভাবে ছুঁয়ে যায়।গাছের পাতায় জমে থাকা বৃষ্টির জল হালকা বাতাসে ঝড়ে পড়ে,আর দূরে কোথাও পাখিরা আশ্রয় খুঁজে নেয়।মানুষের ব্যাস্ততা ও যেন থেমে যায় এসময়।
নিহানের ঘুম ভেঙেছে আজ সকাল সকাল।চোখজোড়া খুলে একটা মায়াবী মুখ দেখে সকালটা শুরু হয়েছে নিহানের। তুবার ঠোঁট দুটো কাঁপছে,চোখের পাতাগুলো ও কাপছে নিহান মুচকি হাসল।চুলগুলোতে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে হালকা করে।কাল রাতে মেয়েটা ভীষণ কেঁদেছিলো তাই গালগুলো লাল হয়ে আছে।নিহান কিছুক্ষণ পর উঠে বসল ভেবেছিলো একবার তুবাকে ডাকবে সাওয়ার নেওয়ার জন্য কিন্তু পরমুহুর্তে ভাবল মেয়েটার ঘুম এখন ভাঙাবে না!তাই নিজেই সাওয়ার নিতে চলে যায়।কিছুক্ষণ পর একটা লম্বা সাওয়ার নিয়ে বের হয় নিহান।চুল থেকে পানি এসে পড়ছে নাকে।কোমড় পর্যন্ত শুধু টাওয়াল জড়নাো। নিহানের মাথায় হঠাৎ দুষ্টু কিছু আসতেই ঘুমন্ত মেয়েটাকে ভেজা ঠোঁটগুলো দিয়ে কপালে চুমু খেল।গোলাপি ঠোঁটগুলো ক্রমশ কাঁপছে। নিহান তা দেখে মুচকি হাসল।হঠাৎ পিটপিট করে চোখ খুলল।নিহান মৃদুস্বরে বলে,
“গুড মর্নিং ডার্লিং!”
তুবা বিরক্ত হলো বেশ কালকে রাতের কথা মনে পড়তেই।
তাও ধীর কন্ঠে বলে,
“গুড মির্নিং।”
“গোসল করবা না?”—দুষ্টু কন্ঠে বলে নিহান।
তুবা অসত্বিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো।নিহান অন্যদিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসল।তুবা অসস্তি নিয়ে বলে,
“উঠতে পারছিনা।”
“কেন কি হয়েছে?”—উদ্বিগ্ন হয়ে বলল নিহান।
“সারা শরীর ব্যাথা করছে।”
নিহান টাওয়াল পড়া অবস্থায় তুবাকে পাজাকোলে তুলে নেয়।ওয়াশরুমের গিয়ে দাঁড় করালো তুবাকে।নিহান বলে,
“আমি কাপড় এনে দিচ্ছি।”
তুবা নিহানের কথামতো দাঁড়িয়ে রইলো।নিহান একটু পর তুবার কাপড় এনে দেয়।
নোভা আর নিশান সামনাসামনি বসে আছে।নিশানের মুখজুড়ে গম্ভীরতা।নোভা’র মনযোগ কোনোদিকে নেই সে চুপচাপ মোবাইলে বন্ধুদের সাথে ম্যাসেজিং করছে।নিশান গম্ভীর কন্ঠে বলে,
“সারাদিন মোবাইলে কি?কার সাথে কথা বলছো?”
“কারো সাথে না।”
নিশান মনে মনে ভাবলো নোভাকে মোবাইল দেওয়ায় তার ভুল হয়েছে।মেয়েটা সারাদিন মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে!সারাদিন কারো না কারো সাথে কথা বলতেই থাকে।নিশানের এই ব্যাপারগুলো বেশ নজরে লাগে!নিশান হাত বারিয়ে নোভার মোবাইল এক ঝটকায় নিয়ে নেয়।নোভা রেগে বলে,
“কি সমস্যা? মোবাইল নিয়ে ফেললেন কেনো?”
“একদম থাপ্পড় মারব ধরে বেয়াদব।সারাদিন মোবাইলে কি?”
নোভা গাল ফুলিয়ে তাকালো নিশানের দিকে।নিশান চোখদুটো দেখে আজ নোভার ভয় করছে।ছোট্ট এজটা কারনের জন্য কত রিয়েক্ট করছে নিশান!
(আসসালামু আলাইকুম। ১.২ কে করে দিয়েন।সুন্দর মন্তব্য করবেন সবাই)
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৯
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৫
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৫ এর সকল পর্ব
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১১