দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_১১
— “কাঁদছো কেন? বেশি লেগেছে, পাখি?”
হঠাৎ তুবা কান্না থামিয়ে বিস্মিত চোখে নিহানের দিকে তাকাল। নিহান আবারও নরম গলায় বলল,
— “বেশি লেগেছে?”
তুবা আর নিজেকে সামলাতে না পেরে ফুপিয়ে উঠল। মুহূর্তেই নিহান, টাওয়াল জড়ানো অবস্থাতেই, তুবাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল। তুবা অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে তার খোলা বুকে কিল-ঘুষি মারতে মারতে বলল,
— “আমাকে নামান! বলছি নামান! কী অসভ্য লোক আপনি!”
নিহান ভ্রু তুলল।
— “না নামালে?”
— “না নামালে… আমি…”
কথা শেষ করার আগেই সে তুবাকে আলতো করে বিছানায় শুইয়ে দিল। ঠোঁট কামড়ে দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল,
— “কিছু করার আগেই তোমাকে বিছানায় শুইয়ে দিলাম।”
তুবা আড়চোখে তাকাল। লোকটা এখনও সেই একইভাবে হাসছে। বিরক্ত কণ্ঠে বলল,
— “আপনার কি জামাকাপড় নেই? এভাবে আর কতক্ষণ থাকবেন?”
— “তোমার সমস্যা কোথায়? আমাকে তো কোনো কিছু ছাড়াই কালকে দেখছো।”
তুবা চোখ রাঙাতেই নিহানের কণ্ঠ হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল—
— “আমাকে চোখ রাঙাচ্ছো?”
তুবা চুপ। ওর নীরবতা দেখে নিহান নিচু স্বরে বিড়বিড় করল,
— “আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে এভাবে তাকানোর দুঃসাহস টা পর্যন্ত করেনি সেখানে কটু কথা বলা তো দূর।আর সেখানে তুমি…
বলতে গিয়েও থেমে যায় নিহান।তুবা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
— “কিছু বললেন?”
কোনো উত্তর না দিয়ে নিহান কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। তুবা স্থির চোখে তার চলে যাওয়া দেখতেই থাকল।
★★★
ছাদের এক কোণে বসে ছিল নাহিয়ান। হঠাৎ মোবাইল বেজে উঠতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠল অপরিচিত নম্বর। কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে এক মেয়েলি কণ্ঠ—
— “হ্যালো?”
নাহিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
— “কে বলছেন?”
— “ত… তিশা।”
— “কোনো তিশা-ফিশাকে চিনি না। কল রাখুন।”
— “আপনি ওই দিনের সেই বজ্জাতটা না?”
— “তোমার সাহস কীভাবে হলো আমাকে বজ্জাত বলার?”
— “আচ্ছা স্যরি ভাইয়া। তুবা কোথায়? আজ ও আসেনি কেন?”
নাহিয়ান বিরক্ত স্বরে বলল,
— “আমি তোমার কোন জনমের ভাই, হ্যাঁ? রাস্তার যে কাউকে দেখলেই ভাই ডাকতে ইচ্ছে করে?”
তিশা রেগে গেল,
— “দেখুন, পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে আসবেন না।”
— “আমি না, তুমিই তো ঝগড়া করার জন্য কল করেছো।”
— “আমি ঝগড়া করতে কল করিনি। আমার ফ্রেন্ডের জন্য করেছি।”
— “তাহলে ফ্রেন্ডকে কল করো। ফ্রেন্ডের দেবরকে কেন?”
তিশা বিরক্ত হয়ে বলল,
— “উফ! এত কথা বলেন কীভাবে?”
নাহিয়ান ঠান্ডা গলায় উত্তর দিল,
— “মুখ দিয়ে।”
তিশা চুপ করে রইল।নাহিয়ান ও চুপ।ছাদের হালকা বাতাসে নাহিয়ানের চুল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ নীরব থেকে ওপাশ থেকে তিশা বলে উঠল,
—”শুনুন….”
কথা শেষ হওয়ার আগেই নাহিয়ান কল কেটে দেয়।ফোনটা নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো সে।নাহিয়ানের বিরক্ত,রাগ,হাসি তিনটাই পাচ্ছে।
★★★★
নিশান নিজের রুমে বসেে ডিংক্স করছে।নিশান সাধারণত দিনে ডিংক্স করে না কিন্তু আজ ব্যতিক্রম। রাগে দাঁত কিড়মিড় করছে নিশান।মনে দাউদাউ করে জ্বলছে প্রতিচোধের আগুন।তখনিই কি মনে করে নোভার নাম্বারে কল লাগায়।দুই-তিন বার রিং পরার পর ওপাশ থেকে ফোন তুলে বলে,
—”হ্যালো।”
নিশান নিজেকে স্বাভাবিক করে বলে,
—”অফিসের কাছে ক্যাফে টাতে আসিও আজকে বিকালে।”
নোভা হালকা ভ্রু কুচকে বলে,
—”কেনো স্যার?”
নিশান এবার রেগে বলে,
—”আসতে বলেছি আসবে এতো কথা বলে কী লাভ?”
নোভা অন্তত ধীরে বলে,
—স্যার আমার বাসায় এখনো ওরা আছে।রাত পর্যন্ত থাকবে। আমি আসতে পারবো না।”
—”কারা আছে?”
—”আমার হবু শশুড় বাড়ির লোকেরা।”
—”রাতে যাবে?”
—”হুম।”
—”আচ্ছা। কী পড়ে আছো তুমি?”
নোভা অস্ফুট কন্ঠে বলে,
—”শাড়ি।”
নিশান আর কিছু বলল না।কল কেটে আরেক বোতল ড্রিংক্স ঢকঢক করে খেয়ে উচ্চস্বরে হেসে উঠে আর বলে,
—”আমার খেল আমি আজকে থেকেই শুরু করব।”
নাহিয়না নিশানের রুমের বাইরে দিয়ে যাওয়ার সময় এসব শুনে থেমে গেল।দরজা হালকা করে টানানো।দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল নাহিয়ান।অবাক কন্ঠে বলে,
—”ভাই?কি হয়েছে?তোমার এই অবস্থা কেন?”
নাহিয়ান বুঝতে পারে নিশান সম্পূর্ণ নেশায় রয়েছে।নিশান নাহিয়ান এর কথার উত্তর না দিয়ে ঢুলতে ঢুলতে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ে।নাহিয়ান আর কিছু বলল না। নিশানের রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।
★★★
নিহান বসে আছে তুবার সামনাসামনি।তুবা বিরক্ততে চোখ
মুখ কুঁচকে রয়েছে। নিহান গম্ভীর কন্ঠে বলে,
—”খাচ্ছো না কেন?খেয়ে নাও।”
তুবা মিনমিন করে বলে,
—”আমি খাবো না বলছি।”
নিহান এবার রেগে বলে,
—”একটা থাপ্পড় মারব বেয়াদব মেয়ে। নাটক করো?খেতে বলেছি খাও নাহলে কালকে রাতের মতে অবস্থা করবো যে শোয়া থেকে উঠতেই পারবে না আজকে তো উঠতে হলেও পেরেছো।”
তুাবর কান দিয়ে যেন গরম ধোয়া বেরোচ্ছে।লজ্জায় কানের লতি সহ লাল হয়ে আছে।নিহান আড়চোখে দেখে বাঁকা হাসি দেয়।তুবা কিছুক্ষণ পর খাবার তুলে আস্তে আস্তে খেতে খেতে বলে,
—”আপনি খাবেন না?”
—”না।”
—”কেনো খাবেন না?”
—”খাইয়ে দাও তাহলে খাবো।”
তুবা ইতস্তত হলো কিছুটা।কিছুক্ষণ পর প্লেট থেকে খাবার তুলে নিহানের মুখের সামনে ধরল।নিহান খেতে খেতে দুষ্টু হাসি দিল।দুজনেই খাবার খাওয়া শেষে তুবা বলল,
—”আচ্ছা আপনারা এতো বড় বাসায় তিন ভাই একা থাকেন?”
—”আরেহ না একা কেনো থাকব আমাদের বাসায় তোমার মতো একটা ছাগল আছে না।”
তুবা গাল ফুলিয়ে বলে,
—”আমি ছাগল?”
নিহান হেসে বলে,
—”নয়তো কি?”
তুবা রাগে ফুসতে ফুসতে বলে,
—”আমি ছাগল হলে আপনি গরু।”
নিহান ভ্রু কুঁচকে বলে,
—”তাহলে তুমি গরুর..”
নিহান কথাটা বলতে যাবে তখনিই ফোনে কল বেজে উঠে।
তুবা দেখল ফোনের স্ক্রিনে আরু লেখা আর পাশে লাল হার্টের ইমুজি।নিহান ফোন তুলে সোফায় গিয়ে বসল।ওপাশ থেকে বলে,
—”আমাকে মনে আছে নাকি আপনার?”
নিহান হেসে বলে,
—”আরেহ আরু তোকে আমার মনে থাকবে না তো কাকে থাকবে।”
ওপাশ থেকে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে মেয়েটি বলে,
—”তো মনে থাকলে একটা কল করতি এই এক মাসে একটা কল ও করলি না।”
—”স্যরি আরু আমি কাজে খুব ব্যাস্ত ছিলাম তাই।”
—”তাই বলে ৫ মিনিট ও সময় পাসনি আমাকে কল করার?
—”আচ্ছা বাবা স্যরি তো।”
—”আচ্ছা। কেমন আছিস?”
—”এইতো ভালো তুই কেমন আছিস।”
—”এইতো আছি কোনোমতে তোকে ছাড়া কীভাবে ভালো থাকতে পারি।”
নিহান হালকা হেঁসে বলে,
—”কেনো?আমাকে ছাড়া ভালো থাকা যায় না?”
ওপাশ থেকে কিছু বলল না।কিছুক্ষণ নীরবতার পর মেয়েটি বলে,
—”আমি বাংলাদেশে ফিরছি।”
—”কী বলিস সত্যি।”
—”হুম।তোর বাসার এড্রেস দিস।”
—”আচ্ছা রাখি এইবার।আমি এড্রেস পাঠিয়ে দিবো।”
—”আচ্ছা ভালো থাকিস।”
নিহান কল কাটতে দেখল তুবা বিছানায় নেই।সোফায় বসেই চিল্লিয়ে ডেকে উঠে,
—”তুবা?এই তুবা?রুমে আসো।”
কোনো সাড়াশব্দ নেই।নিহান কিছুক্ষণ পর সোফা থেকে উঠে তুবার রুমে গেল।সেখানেও দেখতে পেল না তাকে।নিহান রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা।রাগী স্বরে বলে,
—”আজকে তোমাকে যদি পায় থাপড়িয়ে গালের সব দাঁত ফেলে দিবো বেয়াদব মেয়ে। “
নিহান কিছুক্ষণ পর ছাঁদে গিয়ে দেখে তুবা ছাদের এককোণে দাড়িয়ে আছে।নিহান হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছে।তুবা গান গায়ছে।
আমি কি তোমায় খুব বিরক্ত করছি,
বলে দিতে পারো তা আমায়।
হয়তো আমার কোনো প্রয়োজন নেই।
কেনো লেগে থাকি একটা কোণায়।
তুমি বলে দিতে পারো তা আমায়।
হঠাৎ পেছন থেকে নিহান ডেকে উঠে,
—”এখানে বসে বসে গান গাওয়া হচ্ছে। “
তুবার কোনো সাড়াশব্দ নেই।ওপাশে ফিরেই চুপ করে বসে আছে।নিহান আবারো বলে,
—”জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছোনা?”
এবারেও কোনো কথা বলে না তুবা।নিহান আরো রেগে যায়। তুবার কাছে গিয়ে বলে,
—”আমি কিছু বলেছি।”
তুবা এবারেও কিছু বলল না।নিহান তুবাকে নিজের দিকে ঘুড়ায়।তুবা চোখমুখ লাল।নিহান ভাবলো হয়তো জ্বরের কারণে।নিহান গম্ভীর কন্ঠে বলে,
—’জবাব দিচ্ছোনা কেনো?”
তুবাকে চুপ থাকতে দেখে নিহান আরো রেগে গেল।নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে কিছুতেই পারছেনা।নিজের শক্ত হাতদিয়ে সাপটে একটা থাপ্পড় মারল ডানগালে তারপর বামগালে।তুবার মাথা যেনো চক্কর মেরে উঠল।তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে নিলেই নিহান এক হাত দিয়ে কোমড় জড়িয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।নিহান মাথা নিচু কের তাকাল।অজ্ঞান হয়প গিয়েছে মেয়েটা। নিহান নিজের উপর একরাশ বিরক্তি ও রাগ প্রকাশ করল।তুবাকে পাজাকোলে তুলে নিল।
★★★★★
নিশান গাড়িতে বসে আছে।ড্রাইভ করে যাচ্ছে সিদ্ধান্ত নেওয়া গন্তব্য। নোভার বাসার সামনে গাড়ি থামায়।চোখ মুখে রাগের ছাপ স্পষ্ট।দরজার সামনে দাড়িয়ে বেল বাজায়।মধ্যবয়স্ক
একটা লোক এসে দরজা খুলে বলে,
—”তুই এখানে কেনো এসেছিস?”
—”নিজের সম্পদ নিয়ে যাবো।”
—”আমার বাসায় ঢোকার সাহসটাও করবি না।”
নিশান লোকটাকে ধাক্কা দিয়ে বাসায় ঢুকে।লিভিংরুমে কয়েকজন বসে আছে।নিশান চোখ বুলিয়ে নোভা কে খুলতে থাকে।নোভার মা নিরা খাতুন বলে,
—”তুমি এখানে?”
—”চুপ করুন।”
—”বেরিয়ে যাও কোনোমতে আমার ময়েের বিয়ে ভাঙার চেষ্টা করবে না।”
লিভিংরুমে বসা এক মহিলা নিরা খাতুন কে বলে,
—”এটা কে আপা?”
নিরা খাতুন হালকা হাসি দিয়প কিছু বলতে যাবে তখনিই নিশান বলে,
—”উনার মেয়ের জামাই।”
চলবে?
(গঠনমূলক কমেন্ট করবেন সবাই)✨
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৫
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৯
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০