দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_৩১
নিহান সবেমাত্র তুবার ডাকাডাকিতে ঘুম থেকে উঠেছে।বেলা বাজে সকাল ১১ টা।তুবা নিহানকে তুলে দিয়ে রান্না ঘরের দিকে যায়।আতিয়া বেগমকে হাতে হাতে সাহায্য করছে।কতক্ষণ পর নিহান নিচে নামে চোখগুলো এখন ও ঘুমুঘুমু।চুল থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে নাকে।নিহান এসে ডাইনিং টেবিলে বসল।তুবা নিহানের জন্য নাস্তা দিয়ে আবার রান্নাঘরের দিকে এগুতে যাবে তার আগেই নিহান বলে উঠল,
“এদিকে বসো।”
“কাজ আছে।”
“এত এত কাজের লোক তারপর ও মালকিন কে কাজ করতে হবে কেন?”
তুবা শান্ত হাসল।কিছুক্ষণ পর নিহানের পাশের চেয়ারটাই বসে পড়ল।নিহান নাস্তা খাওয়া শেষ করে তুবাকে বলে,
“রেডি হয়ে নাও,ঘুরতে যাবো।”
“কোথায়?”
“এত কথা বলো কেন?বলেছিলাম না এত কথা আমার পছন্দ না তাও এত কথা? চুপচাপ রেডি হতে যাও।আমি নিচপ দাড়াচ্ছি।
নিহানের কথা শুনে তুবা মাথা নুইয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেলো।নিহান ও গেলো এহসান বাড়ির বাইরে।
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর তুবার নিচে নেমে এলো।পরনে ব্রাউন কালারের আবায়া আর হিজাব।গাড়িতে উঠে বসল।
নিহান একবার তাকালো মেয়েটার দিকে। নিকাবের ভেতর চেহারাটা দেখা যাচ্ছে না কিন্তু নিহানের লাগলো অভিমান করেছে সে।নিহান গম্ভীর কন্ঠে বলে,
”এখানে নিকাব খুলে ফেলতে পারো। ”
“প্রয়োজন নেই।”—ধীরে বলল তুবা।
গাড়ি চলছে নিজ গতিতে। নিহান বরাবর ই গাড়ি স্পীডে চালায় আজ ও তাই হলো।নিহান গাড়ি চালাতে চালাতেই বলল,
“অভিমান করেছেন ম্যাডাম?”
তুবা চুপ। নিহান আদুরে কন্ঠে বলে,
“ও বউ রাগ করেছেন?”
তুবা এবার নিঃশব্দে কেঁদে উঠল নিকাবের ভেতরেই।নিহান গাড়ি থামিয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকালো মেয়েটার দিকে।চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে।নিহান তা দেখে তুবাকে নিজরে কোলে এনে বসাল।নিজের হাতে নিকাবের বাধন টা খুলে দিলো।নাক ও গালগুলো লাল হয়ে আছে।নিহান চোখের পানিগুলো একহাত দিয়ে মুছে দিলো।কপালে একটা চুমু দিয়ে বলল,
“পাখি স্যরি তো।আর বকা দিবো না।”
তুবা এখন ও কাঁদছে। নিহানের কিছুক্ষণ আগের ধমকগুলো বেশ গায়ে লেগেছে মেয়েটার তাই কাঁদছিলো।নিহান এভাবে বলাতে কেঁদে দিয়েছে আরো।নিহান তুবাকে আগের জায়গায় বসিয়ে গান ছেড়ে দেয়।গাড়ি স্টার্ট দেয় আবারো।
কিছুক্ষণ পর গাড়ি থামায় মেলার সামনে।তুবা চারপাশে দেখে বুঝতে পারে যে এটা মেলা।নিহান তুবাকে নিয়ে মেলার ভেতরে ঢুকে চারপাশে জাঁকজমকপূর্ণ অবস্থা,নানা দোকানপাট।নিহান তুবাকে জিজ্ঞেস করে,
“কি কিনবে?”
“চুড়ি কিনে দিন একজোড়া।”
নিহান তুবার হাতকে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে যায় চুড়ির দোকানের সামনে।সেখানে নানা রকমের চুড়ি সাজানো।নিহান তুবাকে বলে,
“কোনটা পছন্দ? ”
“ যেকোনো একটা কিনে দিলে হবে।”
নিহান সুন্দর একজোড়া চুড়ি হাতে নেয়।যেগুলো কাস্মিরি চুড়ি নামে পরিচিত।নিহান চুড়িগুলো হাতে পড়িয়ে দেয় তুবার।
“পছন্দ হয়েছে?”
“হুম।”
নিহান সেই রকমের বিভিন্ন কালারের ১৬ জোড়া কিনে।তুবা অবাক হচ্ছে লোকটার পাগলামি দেখে।চুড়ি কেনা শেষে দোকান থেকে বেরিয়ে আসে দুজনে।
“এতগুলো কিনলেন কেনো?”
“এমনি।আর কি লাগবে?”
“আর কিছু লাগবে না।আমি ফুচকা খাবো তারপর চলে যাবো।”
“এখানের ফুচকা ভালো না।বাইরে গিয়ে খেয়ো।
তুবা মাথা নেড়ে নিহানের কথায় সম্মতি জানায়। যদিও নিহান চাইছিল আরও কিছুক্ষণ মেলায় থাকতে হয়তো আরো জিনিস কিনতে, একটু বেশি সময় কাটাতে কিন্তু তুবা আর রাজি হয়নি। তার মনটা যেন অন্য কোথাও আটকে ছিল। শেষমেশ আর কিছু না বলে দু’জন আবার গাড়িতে উঠে বসে।
নিহান তার কথামতোই শহরের এক রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়ি থামায়। ভেতরে ঢুকতেই হালকা আলো, চারপাশে মানুষের গুঞ্জন সব মিলিয়ে অন্য এক পরিবেশ। তারা দু’জন একটা কোণের টেবিলে বসে পড়ে।
নিহান ওয়েটারকে ডেকে একদম নির্ভাবনায় বলে ওঠে,
“পাঁচ প্লেট ফুচকা দিন।”
তুবা বিস্মিত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে নিহানের দিকে। ভ্রু কুঁচকে হালকা অবাক স্বরে বলে,
“এত ফুচকা তো দুইজন মিলে শেষ করতে পারবোনা।”
নিহান ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে শান্ত গলায় জবাব দেয়,
“আমি খাই না এসব। তুমি খাবে সব।তুমি যে জিনিস পছন্দ করবে সব তোমার ই হবে।”
তুবা মনে মনে ভাবল আশ্চর্য!তাই বলে এত ফুচকা। তুবা মানা করার পরেও নিহান তুবার কথা শুনে না।
তারমধ্যই আকাশটা কালো মেঘে ঢেকে আছে।বেশ কিছুদিন পরেই আকাশ এমন হয়েছে।সেই যে একবার বৃষ্টি হয়েছিলো আর দেখা পাইনি কেউ বৃষ্টির।আজ আকাশটা দেখে এমন মনে হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি বৃষ্টি নামবে।কয়েক মিনিট পর তুবার ফুচকাগুলো আসলো।তুবা খেতে খেতে নিহানের দিকে তাকিয়ে বলে,
“এত ফুচকা তো দুইজন মিলে শেষ করতে পারবোনা।”
“আমি খাই না এসব।তুমি খাবে সব।”
নিহান হা করতেই তুবা একটা ফুচকা মুখে ঢুকিয়ে দেয় নিহানের।নিহান সাধারণত ফুচকা খাই না আজকে তুবার জোড়াজুড়িতে খেতে হয়েছে।
.
.
.
খোলা বিস্তীর্ণ মাঠের মাঝে নিঃশব্দে বসে আছে এক যুবক। চারপাশে হালকা বাতাস বইছে, দূরের আকাশটা ম্লান হয়ে এসেছে। অথচ তার ভেতরের ঝড়টা যেন থামতেই চায় না। চোখ দুটো ভিজে আছে, দৃষ্টি কোথাও স্থির নয়—শূন্যতায় হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, এ সেই দিনের ইহতিশাম জাওয়াদ। যে ছেলেটা কখনো এতটা ভেঙে পড়েনি, আজ সে-ই নিজের অনুভূতির কাছে অসহায়।
ইহতিশামের পাশে বসে থাকা ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে থেকে নরম গলায় বলল,
“ভাই, তুই অচেনা একটা মেয়ের জন্য এমন পাগলামি করছিস কেনো?”
ইহতিশাম হালকা করে চোখ মুছে নিলো। ঠোঁট কেঁপে উঠলো, কণ্ঠটা ভারী হয়ে এলো। ধীর স্বরে বলল,
“অচেনা মেয়ে না… ওকে প্রথম দিন দেখেই ভালোবেসে ফেলেছিলাম আমি।
অনেকদিন ধরেই অস্থিরতায় ভুগছে ইহতিশাম। দিন কেটে যায়, কিন্তু তুবার কোনো খোঁজ মেলে না। একটা মেয়ের জন্য যেন পাগলের মতো হয়ে উঠেছে সে। তুবার কোনো খবরই নেই—না নিজের কাছে, না তিশার কাছে। তিশাও আজকাল ভার্সিটিতে আসে না। এসব ভাবতে ভাবতেই নিঃশব্দে বসে থাকে ইহতিশাম। আর তার চোখের সামনে বারবার ভেসে ওঠে সেই মায়াবী মুখটা—যেটা ভুলতে চাইলেও সে পারে না।
তুবা আর নিহান রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে দেখল গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে।তুবা আবদার ধরল পার্কে যাবে।নিহান কথা ফেলতে পারলো না মেয়েটার। গাড়ি নিয়ে পার্কে গেলো তুবার সাথে।সেখানে বেশি মানুষজন নেই কিন্তু একদম ই নেই তা নয়।তুবা আর নিহান হাতে হাত রেখে হাঁটছে।হঠাৎ একটা বাচ্চা মেয়ে এসে বলে,
“আপা ফুল নিবেন?”
তুবা কিছু বলার আগেই নিহান বলল,
“কত করে?”
“একটা ২০ টাকা মাত্র।”
নিহান দুইটা ফুল নিলো মেয়েটার থেকে।তুবার হাতে ফুলের গাজরাগুলো পড়িয়ে দেয়।নিহান নরম স্বরে বলল,
“অভিমান করেছে সোনা?”
“হু।”
নিহান হালকা হাসল।তুবার হাত ধরে হাঁটতে হাটতে চেয়ারে বসল পার্কের এক কোণায়।
নোভা জানালার সামনে বসে বৃষ্টি দেখছে আর মোবাইলে কার সাথে চ্যারিং করছে।নিশান রুমে থাকলে হয়তো তা করতে পারত না তাই সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায়নি সে।
মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একেরপর একেক মেসেজ।নোভার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি,কখনো স্লান।হঠাৎ নতুন একটা মেসেজ নোভার চোখে ভেসে উঠল,
“যা করবি সাবধানে করবি কেউ যাতে টের না পায় মা।এদিনের জন্য অনেক অপেক্ষা করেছি আমি।”
নোভা মেসেজের রিপ্লাই দিল,
“অবশ্যই তোমার ছেলে নেইতো কি হয়েছে মেয়ে আছে তো।”
নোভা এসব জথা বলছিলো হঠাৎ দরজা দিয়ে নিশান এসে দাঁড়ালো নোভা খেয়াল করেনি।নিশান হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে বলল,
“কার সাথে কথা বলছো?”
এমন ঘটনায় নোবা হচকচিয়ে উঠল।সবকিছু এত তাড়াতাড়ি হলো যে নোভার মস্তিষ্কে ঢুকছে না।নোভা আমতা আমতা করে বলে,
“কারো সাথে না।আমি…আমি..তো ভিডিও দেখছিলাম।”
নিশান গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকালো নোভার দিকে।মেয়েটার চোখ বলছে যে সে মিথ্যে বলছে।এদিকে নিশান মোবাইলের পার্সওয়ার্ড ও জানে না যে খুলে দেখবে।নিশান দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“তুমি খুব বোকা নোভা।তোমার চালাকি আমি বেশ সহজেই টের পেয়ে যায়।”
চলবে???
(আমার মাথায় কিচ্ছু আসছেনা।দুই-তিনঘন্টা ধরে নোটপ্যাডে বসে আছিলাম,এখন তাও কষ্ট করে কি লিখেছি জানিনা।)
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৫
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৭(শেষাংশ)
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩(প্রথমাংশ +শেষাংশ)