Golpo romantic golpo দ্যা ব্ল্যাক মার্ক

দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩০


লেখনীতেআশুও_নিশু

পর্বসংখ্যা_৩০

বিছানায় অভিমানী মুখ করে বসে আছে তুবা।গাল আর নাকটা ফুলে আছে তার।নিহান সেই যে সকালবেলা বেরিয়েছে, এরপর আর কোনো খবরই নেই।কখন গেল, কখন ফিরবে—কিছুই বলে যায়নি তুবাকে।দুপুর গড়িয়ে গেলেও তুবা একটুও কিছু খায়নি, অভিমানে বুকটা ভার হয়ে আছে তার।
ধীর পায়ে বেলকনির কাছে গিয়ে দাঁড়ায় তুবা।দেখে আকাশটা লালচে হয়ে উঠেছে।চারপাশেহাওয়া বইছে,প্রচণ্ড বাতাসে তুবার লম্বা চুলগুলো উড়ছে এলোমেলোভাবে, তার ওড়নাটাও বারবার উড়ে গিয়ে গায়ে জড়িয়ে পড়ছে।অভিমান আর অস্থিরতায় চোখ দুটো ভিজে উঠলেও, সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।চারিদিক থেকে হঠাৎ মাগরিবের আজানের প্রতিধ্বনি পাওয়ার সাথে সাথে তুবা বেলকনি থেকে আবারো বিছানায় এসে বসল।অপেক্ষার প্রহর যেন তার শেষই হচ্ছে না।

.
.
.
রাত বাজে নয়টা।তুবা বিছানায় শুয়ে আছে।পেটে গুড়গুড় করছে দুপুর থেকে কিছু না খাওয়ার কারণে।নিহানের অপেক্ষা করতে করতে তুবা কিছুক্ষণ ঘুমিয়েই গিয়েছিলো কিন্তু নিহানের আসার খবর নেই।হঠাৎ দরজায় কারো আসার টের পেতেই চোখ গোল গোল করে তাকালো তুবা।
সেই দুপুর থেকে যে মানুষটির জন্য অপেক্ষা করছে সেই মানুষটিই এসেছে।তুবা মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে নেয়।নিহান রুমে ঢুকে ভ্রু কুঁচকে বলে,

“কি হয়েছে?এখানে বসে আছেন কেনো?”

তুবা অন্যদিকে ফিরেয় উত্তর দেয়।

“কার কি যায় আসে তাতে।ম’রলে ম’রলাম বাঁচলে বাঁচলাম। ”
নিহান অন্যদিকে তাকিয়ে হাসল।নিজের এলোমেলো চুলগুলো হাত দিয়ে ধরে বলে,

“অভিমান হয়েছে নাকি আমার উপর কারো?”

তুবা গাল ফুলিয়ে চুপ করে থাকে।নিহান বুঝতে পেরে পাশে এসে দাঁড়ায়। আর কিছু না বলেই পাজাকোলে তুলে নেই তুবাকে।তুবা হাত পা ছুড়ছে,নিহানের বুকে মারছে কিন্তু নিহানের কোনো পরিবর্তন ই হয় না।নিহান তুবাকে কোলে করে নিয়ে ছাঁদের দিকে এগোয় তুবা নিহানের গলা জড়িয়ে আছে।নিহান ছাঁদে এসেও তুবাকে নামায় না সেই একিইভাবে কোলে নিয়ে রেখেছে।তুবা নরম কন্ঠে বলে,

“নামিয়ে দিন আমাকে।”

“না,আজকে নামাবো না।”

“কেনো নামান প্লিজ কেউ দেখলে ভুল কিছু ভাববে।”

নিহান দুষ্টু হাসল কিছুক্ষণ তারপর বলল,

“আমার বউকে আমার যা ইচ্ছে তাই করব কার কি?”

তুবা মিটিমিটি হাসছে।আজকাল নিহানের কথাগুলো তুবার হৃদয়ের গভীরে গিয়ে যেনো জমে থাকে।প্রত্যেকটি কথা যেনো তুবার হৃদয়কে স্পর্শ করে।নিহান ফিসফিস করে বলে,

“তুমি এত সুন্দর কেন লিটল বার্ড?তোমাকে দেখে তো চাঁদ ও লজ্জা পাবে পাখি।”

”কি বিড়বিড় করছেন?”

“কিছু না,তুমি বুঝবেনা।”

তুবার লম্বা চুলগুলো বাতাসের কারণে নিহানের মুখে এসে লাগছে।তুবা বলল,

“আমাকে নামিয়ে দিন।কিছু খেয়ে নিন আপনি।”

নিহান হাসল।কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইচ্ছেটা তুবা টের পেলো না।নিহান তুবার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,

“সত্যি খেয়ে নিবো?”

“কি?”

নিহান কিছুক্ষণ তুবার দিকে তাকিয়ে থাকল।কোনোকিছুর পূর্বাভাস না দিয়েই কোলে থাকা তুবার ঠোঁট নিজের আয়ত্তে নেয়।তুবা থরথর করে কাঁপছে,কাপা কাপা হাত গুলো নিহানের চুল খামচে ধরেছে।নিহান কয়েক মিনিট পর তুবা’র ঠোঁট ছেড়ে দেয়।হাস্কি স্বরে বলে,

“তোমাকে দেখলেই আমি বেসামাল হয়ে পরি কেন?”

”আজ..আজকে ন..না প্লিজ।”

“আমি এখন তোমাকে ছাড়লে ম’রে যাবো।প্লিজ আমাকে আমার কাজ করতে দাও।

তুবা হতভম্ব হয়ে আছে নিহানের কথাগুলো শুনে।ঠোঁটদুটো কাঁপছে। নিহান তুবার গলায় নাক ঘষল কিছুক্ষণ। তুবা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,

“ছ..ছেড়ে দিন কেউ এসে যাবে।”

“হুশ আমার বউকে আমি আদর করছি। কার কি তাতে? ”

“তাও নিহান প্লিজ।”

নিহান তুবার কথা শুনে তুবাকে কোলে নিয়েই সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল।দুইতলায় প্রথম রুমটাই নিহানের নিহানের রুমের পরে নিশানের তারপর নাহিয়নের।নিহান নিজের রুমে যেতে নিশানের রুমের সামনে দিয়ে যেতে হবে। নিহান হঠাৎ দেখল নিশান উপরে উঠছে।দুই ভাইয়ের মুখোমুখি হলো।তুব লজ্জায় ইচ্ছে করল নিহানের বুকের ভেতর ঢুকে যেতে কিন্তু তা আর পারল কই?নিশান প্রশ্ন ছুড়ল,

“অফিস থেকে সেই কখন এসেছিস?কিছু খাসনি শুনলাম।”

নিহান গম্ভীর গলায় উত্তর দেয়,

“কিছু খেতেই যাচ্ছিলাম।তুমি মাঝপথে বাধা দিলে।”

বলেই তুবাকে কোলে নিয়ে রুমে চলে যায়।নিশানের বেশ রাগ লাগল।নিহান হয়েছে বউপাগলা।সারাদিন বউয়ের সাথে এসব করতে করতে আর কাজে মনযোগ দেই না।নিশান এসব ভাবতে ভাবতে নিজের রুমে ঢুকে যায়।

অন্যদিকে নিহান আর তুবা নিজেদের মধ্যে একেকার হচ্ছে। নিহান বড়ই বেপরোয়া। সে যেটা করবে সেটা করবেই।নিহান তুবার কানের লতিতে ছোট্ট করে চুমু দিলো।তুবার লজ্জায় গালদুটো লাল হয়ে আছে।চোখ দুটো নিচু করে রেখেছে।সেই দিন দুটো মন ধীরে ধীরে একে অপরের কাছে এসে থেমে গেলো।


সকালের নরম রোদ জানালর ফাঁক গলে ধীরে ধীরে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে।হালকা সোনালী আলো এসে পড়েছে
বিছানার উপর,তুবার মুখে।ঘুমন্ত তুবার চোখের পাপড়িগুলো কাঁপছে,যেনো সে কিছু অনুভব করছে।
হঠাৎ পাশ ফিরতেই সুদর্শন পুরুষটিকে দেখে থমকে গেলো সে।মনে মনে ভাবল? ছেলেরাও এত সুন্দর হয়?ছেলেদের এত সুন্দর ঠোঁট কীভাবে হয়,কীভাবে এত সুন্দর চোখের পাপড়ি কীভাবে হয়?তুবা এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ হাত গিয়ে ঠেকলো নিহানের চোখের পাপড়িগুলোতে।তুবা মুচকি হাসল।তুবা কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়ালো বিছানা থেকে ব্যাথায় শরীরটা ম্যাচম্যাচ করছে যেনো!কাবার্ড থেকে কাপড় নিয়ে
এগিয়ে গেলো ওয়াশরুমের দিকে।অনেকক্ষণ পর লম্বা এজটা শাওয়ার নিয়ে বের হয় তুবা।নিহান এখন ও ঘুমোচ্ছে তুবা ভেবেছিল নিহানকে ডাকবে, কিন্তু ডাকলোনা।চুলগুলোকে হালকা শুকিয়ে মাথায় কাপড় দিয়ে রুম থেকে বের হয়।
ডাইনিং টেবিল ভর্তি নাস্তা সাজানো।যার যেটা ভালো লাগে সেটা খায়।সেখানে সবাই উপস্থিত তুবার বেশ খিদে পেয়েছিলো সে আর দেরি না করে নোভার পাশের চেয়ারটায় বসল।নিশান সাধারণত তুবার সাথে কথা বলে না তেমন মাঝেমধ্যে বলা হয় কিন্তু খুবই কম।নিশান গম্ভীর আওয়াজে বলে,

“নিহান কই?”

“উনি ঘুমোচ্ছে।”

“সারাদিন ষাঁড়ের মতো পরে পরে ঘুমোয় নাহিয়না আর ও আর কোনো কাজ নেই যেনো।”

নুশান এগুলো বলতে বলতেই হঠাৎ নাহিয়ান সিঁড়ি বেয়ে নামতো নামতে উত্তর দেয়,

”তুমি তো আমার নামে বদনাম ছড়াচ্ছো ভাইয়া।আমি ঘুমায় সাধে আর ভাইয়া বেশি রাত করে ঘুমায় তো তাই আরকি।”

কথার মাঝেই নাহিয়ান কিছুর ইঙ্গিত দিয়ে কেশে উঠলো।তুবার লজ্জায় ম’রে যাচ্ছে। নোভা খাবার চিবুচ্ছে কোনোকিছুর ই যেনো হুশ নেই তার।সবাই খাবার খেয়ে যার যার কাজে যায়।

চলবে??

(ছোট্ট লাগছে কেনো জানিনা।পর্বটার শব্দ ও বেশি।কালকে আরেকটা পর্ব দিবো ইনশাআল্লাহ। হতাশ হবেন না।কারেন্ট মাত্রই আসলো।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply