Golpo romantic golpo দ্যা ব্ল্যাক মার্ক

দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৪


দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৪

লেখনীতেআশুও_নিশু

পর্বসংখ্যা_৪

তুবা সাহসী ভাব নিয়ে বলে,

“চুপ করুন মিস্টার নিহান এহসান।একটা কেয়ারট্যাকারকে এসব বলতে লজ্জা করছেনা?”

নিহান ইনার খুলতে গিয়েও হাত থেমে যায়।যেনো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে পুরো পৃথিবী।একহাত দিয়ে তুবার গাল চেপে ধরে বলে,

“কী বললি জা’নোয়ারের বাচ্চা আবার বল বল,বলনারে ?”

তুবা নিহানের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলে,

“যা বলেছি ঠিকিই তো শুনতে পেরেছেন, এমন ভাব করছেন যেনো শুনতেই পাননি।”

নিহান তুবার গাল ছেড়ে কিছুক্ষণ চুপ থাকে।পরপর নিজের পুরুষালী শক্ত হাত দিয়ে থাপ্পড় দেয় তুবার নরম গালে। ঠোঁ’টের কোন বেয়ে গড়িয়ে পরে তাজা তাটকা র’ক্ত। নিহান একটা থাপ্পড় দিয়ে দমে যায় না।
পরপর চারটা থাপ্পড় দিয়ে নিজের গায়ের জ্বালা মেলায়।
নিহানের থাপ্পড়ের তাল সামলাতে না পেরে তুবা মাটিতে পরে যায়।তুবা ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। কাঁদতে কাঁদত বলে,
“এ.. এসব করার জন্য এনেছেন আমাকে।”
“শাট আপনি?।”

নিহান আর কিছু বলে না। তুবা নিজের কাপড় ঠিক করে নেয়, দরজা খুলে বেরিয়ে যায় নিহানের রুম থেকে। নিহান সোফায় বসে পড়ে।নিহান বিড়বিড়িয়ে বলে,
“এই স্টুপিড মেয়েটার জন্য কালকে থেকে ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিলো।”

নিজর মস্তিষ্ক শান্তনা দিয়ে ল্যাপটপে অফিসের কাজ নিয়ে বসে নিহান। মন মস্তিষ্ক সবটাই এখন কাজে।
—————————————————————
তুবা রান্নাঘরে ঢু’কতেই মহিলাটি বলে,
“এতক্ষণ কী করছিলে? তাড়াতাড়ি রান্না শেষ করতে হবে তো।”
রান্নার কথা শোনা মাত্রয় তুবার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তার পরেও মহিলাটার কথায় রান্নার কাজে হাত দেয়।

কিছুক্ষণ পর রান্নাবান্না সেড়ে রান্নাঘর থেকে চলে আসল তুবা।কত কষ্ট করে রান্না করেছে একমাত্র সে ছাড়া আর কেউ জানে না।কেমন হয়েছে সেটাও জানেনা।
তুবার জায়গা হয়েছে এখন কেয়ারট্যাকার দের আলাদা রুমে।রুমটা দেখেও তুবা অবাক কন্ঠে বলে,
“বাহ্!রুমটা কী সুন্দর। এটা নাকি কেয়ারট্যাকার দের রুম।
বড়লোকদের সবকিছুতেই ফু’টানি।”


সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়েছে।সবাই ডাইনিং টেবিলে বসেছে খাবার খেতে। নিশান ভাত আর মাংস নিয়ে মুখে দিতেই মুখের ধরণ পাল্টে যায়।থুথু করে খাবারগুলা ফেলে দেয়।নিশান রাগান্বিত স্বরে বলে,

“আজকের রান্না কে করছে?”

কেও কোনো কথা বলে না। নিশান আবারো বলে,

“আমি বলছি রান্না কে করেছে?”

তুবা নরম কন্ঠে পাশ থেকে বলে,

“স্যার আমি করেছি।”

নিশান ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে চুপ করে যায়, যানে তার ভাই এই মেয়েটার প্রতি দুর্বল হয়েছে, এখন কিছু বলা মানেই ভাইয়ের কাছে খারাপ হওয়া, তাই আর কিছু বলে না।খানার টেবিল থেকে উঠে সোফায় বসে গিয়ে।
নিহানও খাবার মুখে দিয়ে দেখে খাবারে নুন এবং মরিচে ভরপুর।না আছে কোনো টেস্ট। তারপরেও নিহান তুবাকে কিচ্ছুটি বলে না, কষ্ট করে হলেও সেই খাবারই খায়।
নাহিয়ান আর খায়নি
মোবাইল থেকে কল করে অনলাইনে খাবার অর্ডার করে।

★★
অন্ধকার রাত, যদিও শহর এখনও কোলাহল পূর্ন। তবে এহসান মঞ্জিল সর্বদা নিশ্চুপ থাকে। হয়তো কোন কিছুর আগাম বার্তা দেয়।
নিশান বসে আছে লিভিং রুমে। রুমের সকল বাতি বন্ধ করা শুধু মাত্র একটা নীল রঙের বাতি জ্বলছে যাতে সকল কিছু স্পষ্ট দেখা না গেলেও কিছু কিছু দেখা যাচ্ছে। নিশানের অধিক আলো পছন্দ নয়, যার বাস্তব জীবনে কোন আলো নেই তার কি করে সাধারন বানোয়াট আলো ভালো লাগবে?
নিশান সোফার উপরে মাথা হেলিয়ে দিয়ে, দু’হাত ছড়িয়ে দিয়েছে। এই বাড়িতে বেশি মানুষ নেই। দুয়েকজন কাজের ছেলে আর নিশানরা তিন ভাই।

নিশান অনেক্ষন বসে থেকে বিরক্ত হয় নিহানকে ডেকে বলে,

“নিহান? আয় জলদি যেতে হবে তো!”

নিহানের কোন উত্তর নেই। নিশান প্রচুর বিরক্ত হয়। নিহানের ফোনে কল দেয় তাও সেন্ড হয় না। বিরক্তে চরম পর্যায়ে নিশান, নাহিয়ানকে ডেকে বলে,

“নাহি, চলতো কাজে যায়।”

ভায়ের ডাক শুনে নাহিয়ান দৌঁড়ে লিভিংরুমে আসে। আধো আলো আধো অন্ধকারে ভাইয়ের অভিমুর্তি বুঝতে নাহিয়ানের কিছুটা কসরত করতে হয়। যখন নিশান নিজের ফোনের ফ্ল্যাশ অন করে তখন ভাইয়ের অবস্থান বুঝতে পারে নাহিয়ান।

নিশান উঠে এসে ভাইয়ের ঘাড়ের উপর হাত রাখে। নাহিয়ান একবার সেই হাতটার দিকে তাকায়। পরপর বলে,

“ভাই তোমার কি মন খারাপ?”

নিশান, নাহিয়ানকে নিয়ে বাড়ির বাহিরে যেতে যেতে বলে,

“শোন নাহি, নতুন মেয়েটার প্রতি নিহান দুর্বল কিছুটা। আর যদি এমনই চলতে থাকে তাহলে আমাদের ব্যাবসা লাটে উঠবে।”

“কিন্তু ভাইয়া, নাহিয়ান ভাইতো মেয়েটারে ভালোবাসে তাহলে?”

“নাহি, নানী সর্বদা সর্বোনাশা, সেই নারী কি করে হবে কারো ভালোবাসা?
নাহিয়ান মেয়েটাতে মজার আগেই ওরে বলতে হবে যাতে মেয়েটাকে যেখান থেকে এনেছে সেখানে রেখে আসে।”

নাহিয়ান আর তেমন কিছু বলে না। চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসে। নিশান গাড়ি স্ট্রাট দিলে নাহিয়ান বলে,

“ভাইয়া একটা গান দিবা?”

“কি গান? তুই নিজেই দে না! বারন করেছে কে?”

“একটা বাংলা বা হিন্দি গান দিই?”

“দে।”

নাহিয়ান ফোন বের করে কানেক্ট করে, তারপর বাজায়,

“সুতোয় বাধা জীবন ছেড়ে পালাবি কোথায়..

আমাকে কেন হায়,
হারালে দোটানায়
বানালে এমন বালিঘর..”

মাঝ পথেই নিশান গান বন্ধ করে বলে,

“শোন এসব বাদ দে, আজ ভালোবাসা দিবস গেছে মাইয়া অনেক পাবি। পোলাগোও ছাড় দিস না। রেট বেশি পামু।”

“আচ্ছা ভাই।”

নাহিয়ানকে মেনে নিতে দেখে নিশান সতর্কসরূপ আবার বলে,

“আর একটা কথা মনে রাখবি। কখনো যেন নিহানের মত বাড়িতে কোন মেয়ে তুলবি না! নারী হয় চতুর। ওদের থেকে কিছু লুকানো সম্ভব হবে না। আর নিহানকেও জলদি ওর জায়গা দেখতে বল। কোন এক ব্যাশা তুলে আনছে কে জানে। খান*কিরে বিক্রি করার ব্যাবস্থা কর।”
কিছুটা থেকে আবার বলে নিশান,

“নারী সলনাময়ী, নারী ধ্বংসের একমাত্র ধাপ, নারীরে ভালোবাসা মানেই পাপ।”

নাহিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,

“বাদ দাও ভাই। আজ আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। ওসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো।”

নাহিয়ান আবারও দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তার মধ্যে কি যেন একটা নেই। কি যেন বলতে চাই মনটা কিন্তু বলতে পারে না।


নিহান বসে আছে বিছানার এক কোণে। মনটা ভারী ভারী লাগছে হঠাৎ করে।মেয়েটার কথা হঠাৎ করে ভীষণ মনে পড়ছে নিহানের।নিহান মনে মনে বলে,
“তুবাকে কী আমি বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলছি?”
পরক্ষণেই আবার বলে,
“না না আমি কী ভাবছি এসব।নারী মানেই সর্বনাশ।নারী মানেই ছলনাময়ী।”
কিছুক্ষণ পর নিহান কিছু একটা ভেবে রেডি হয়ে চলে যায় বাইরে।


তুবা বসে আছে ছাদের চাঁদের দিকে তাকিয়ে।চাঁদের আলো জ্বলমল করছে।তুবা প্রায়ই চাঁদ দেখে। রাতের চাঁদের পাশে যেসব তারা থাকে সেগুলাতে যেনো লাগে তুবার বাবা -মা দেখছে তারা হয়ে।তুবার চোখে পানি টলমল হয়ে আছে।
তুবা কান্নারত অবস্থায় বলে,
“আব্বু,আম্মু আমাকে কেন একা ফেলে গেলে?বলোনা?জানতেনা এই পৃথিবীটা নিষ্টুর? বলোনা আমাকে কেনো একা ফেলে রেখে চলে গেলে?এই নিষ্টুর পৃথিবীর মানুষজন আরো নিষ্টুর।”
তুবা ফুপিয়ে কেঁদে উঠে।চোখের জল মুছতে থাকে।হঠাৎ পেছন থেকে কেও ডাক দেয়।তুবা পেছনে ফেরে চাদের আলোয় লোকটার মুখটা হালকা স্পষ্ট। তুবা দেখে নিহান এসেছে।তুবা চোখের জল মুছতে থাকে।নিহান নরম স্বরে বলে,
“তুবা।কাঁদছো? “
“না,না কাঁদবো কেন?”
নিহান আর কিছু বলে না। হাত বাড়িয়ে গোলাপ ফুলের তোড়াতা দেখিয়ে বলে,
“ধরো।”
“এগুলা কী? “
“গোলাপ তোমার জন্য। “
“লাগবে না।”
“নাও।”
তুবা হাতে নেয়।নিহান অন্যদিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসে।
আর বলে,
“এখানে কয়টি ফুল আছে জানো?”
“না।”
“এখানে ১১৮ টা গোলাপ ফুল আছে।”
তুবা কিছু বলে না।গোলাপ তার নিতান্তই পছন্দ। আর এখন একসাথে ১১৮ টা।কিন্তু বুঝতে পারলোনা লোকটা কেনই বা দিল।

চলবে_ইনশাআল্লাহ

(ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা সবাইকে।নিহানের মতো কেউ নেই বলে ১১৮ টা গোলাপের তোড়া দিল না)🫠❤️

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply