Golpo Love or hate romantic golpo

Love or Hate পর্ব ৩৯


Love_or_Hate

|#পর্ব_৩৯|

ইভেলিনা_তূর্জ

⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে

ঘৃণা আর ভালোবাসার মাঝখানের দেয়ালটা যখন কাঁচের মতো স্বচ্ছ হয়ে যায়, তখন যন্ত্রণার প্রতিটি বিন্দু একেকটি বিষাক্ত নীলপদ্ম হয়ে ফোটে। ভালোবাসা যখন সম্মানের চেয়েও বেশি ভারী হয়ে দাঁড়ায়, তখন বিসর্জনের প্রতিটি ক্ষণ একেকটা দীর্ঘস্থায়ী মৃ*ত্যুকে আলিঙ্গন করতেও দ্বিধা করে না।

​রোজ বিছানার আরও সন্নিকটে এসে তীব্র আক্রোশে ইউভানের ঘাড়ের শক্ত পেশি আঁকড়ে ধরলো। এতোটাই শক্ত রূঢ়ভাবে যে এই বুঝি বলিষ্ঠ গ্রিবায় নখ বসে যাবে।
“দরদ দেখাচ্ছি না! আমি মানুষ, আপনি পশু হতে পারেন, কিন্তু আমি তো নই! আমার তো রক্ত-মাংসে গড়া একটা মন আছে, আমি তো আপনার মতো পাষাণ নই! এত দাম্ভিকতা কিসের আপনার? কী বোঝাতে চান আপনি? নিজেকে জানোয়ার প্রমাণ করতে? অথচ এইটুকু জানেন না যে বন্য হিংস্র জানোয়ারের শরীরে আঘাত পড়লে তারও ব্যথা হয়!”

​ইউভান চোখজোড়া বন্ধ করে নিলো। তাচ্ছিল্যের হাসি দেখা গেলো ঠোঁটের কার্ণিশে। ইউভানের ভালো লাগলো না। ইউভান তো চেয়েছিলো রোজ তৃপ্তি পাবে। তৃপ্তি ভরা চাহনিতে ক্ষতগুলো দেখবে আর নুন ছিটাবে। কিন্তু না, রোজ তো অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে। করুণা করছে এই নিষ্ঠুর মানবের জন্যে? তাও একটা মানুষরূপী পশুর জন্যে! কিসের এতো তাড়না, কিসের এতো টানাপোড়েন? ইউভান চাইলো না রোজ জানতে পারুক যে তার মতো রমণীর মোহে বিদ্ধ হওয়ার ফলস্বরূপ যন্ত্রণার ক্ষ*ত এগুলো।

​রোজ ডুকরে কেঁদে উঠলো। পুনরায় ঝাঁকাতে লাগলো মানবের গ্রিবাদেশ।রোজ না চাইতেও অশ্রুসিক্ত হচ্ছে তার নয়নপল্লব।শব্দসহ কাঁদার ফলে নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে রোজের।
“চু..চুপ করে আছেন কেনো? উত্তর দিচ্ছেন না যে? জবাব দিন আমায়। জবাব চাই আমি। কী হাল করেছেন নিজের! শরীরের আর কোনো অংশ বাদ আছে আপনার? বুকের উপর এতো বড় সেলাইয়ের দাগ কিসের? জানতে চেয়েছিলাম, তার জবাবও দেননি আগে!”

​ইউভান ছোট্ট করে রূঢ়কণ্ঠে তাচ্ছিল্যের সহিত বললো “তাতে তোর কিছু যায় আসে বুঝি?”

​”যায় আসে!” রোজ প্রায় চিৎকার করেই বললো, “আমার যায় আসে! শ্বাস নিতে পারছি না, মনে হচ্ছে এই ক্ষতগুলো আমার শরীরের! আমি সহ্য করতে পারছি না, ক্লান্ত আমি… ভীষণ ক্লান্ত…”
রমণীর নেত্রপল্লব বেয়ে অবিরাম অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। হাত ছেড়ে দিলো, যেন আর শক্তি নেই হাতটা ধরে রাখার। চোখের সামনে এতো বিভৎসতা! একটা রাস্তার কুকুরের শরীরেও এমন আঘাত হলে তা মায়াময় মানুষের রুহ কাঁপিয়ে দিতে সক্ষম। সেখানে ইউভান তো রোজের স্বামী হয়। হউক না পুরুষটা অধম, অত্যাচারী, পাপিষ্ঠ।

​হঠাৎই এক তীব্র আত্মঘৃণার হাসি ফুটে উঠলো রোজের ঠোঁটে।
“বিশ্রী প্রকৃতির নারী যে আমি, তাই যায় আসে। কী বিশ্রী আমি, কী বিশ্রী আমার এই অনুভূতি। আপনার মতো পশুর জন্যেও আমার অন্তর জ্বলে যাচ্ছে। পুড়ে যাচ্ছে। বেহায়া মনকে কী করে বোঝাই যে আপনি ভালোবাসার অযোগ্য। অথচ… অথচ কী কদর্য আমি! কী বীভৎস আমার এই মায়া! আপনাকে ভালোবাসার আগে যেন সৃষ্টিকর্তা আমার নিঃশ্বাসটাই চিরতরে বন্ধ করে দেন।”

​”যেখানে ভালোবাসা নেই সেখানে ভালোবাসা শব্দটা আনিস কী করে!” ইউভানের স্বর তখনও পাথরের মতো শীতল।

​”ঠিকই বলেছেন! ভালোবাসা আসবে কোত্থেকে? পবিত্র শব্দটা আপনার সাথে যায় না।” কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো রোজ। তারপর আবার বললো, “কিছুক্ষণ আগে আপনার হবু…! ক্যাটরিনা বললো, আপনারা নাকি এক রুমেই থাকেন,বেড শেয়ার করেন?ভেতরটা মুচড়ে উঠলো কেন?? শুনে যতটা না খারাপ লেগেছিলো, তার থেকেও বেশি খারাপ লাগছে আপনাকে দেখে! আমার কী করা উচিত জানি না আমি! দমবন্ধ করা শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে আছি। মন চাচ্ছে নিজেকে নিজে শেষ করে দিতে!”

​”হ্যাঁ তোর তো নয়, আমার ক্ষত আমার। আর আমার জিনিসের উপর অন্য কারোর দখলদারিত্ব বরদাস্ত করি না। হউক সেটা…” ইউভান অক্ষীপল্লব মেলে রোজের দিকে তাকালো। দেখলো মেয়েটার গাল বেয়ে অনবরত টুপটুপ করে পানি ঝরছে। ​ইউভানের ভেতরের সুপ্ত দহন বিধ্বংসী ক্রোধে রূপ নিলো। গভীর অন্তঃদহনের চোটে দাঁতে দাঁত পিষে রোজের কোমল কব্জিটা সজোরে চেপে ধরলো। ইউভানের লৌহকঠিন হাতের চাপে মনে হলো রোজের হাড়গুলো এখনই মটমট করে ভেঙে গুঁড়িয়ে যাবে। ইউভানের চোখমুখ লাল হয়ে উঠেছে, এই বুঝি চোখ ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়বে। অন্য হাতে রোজের গলাটা দৃঢ়ভাবে চেপে ধরলো ইউভান। বুঝাতে পারছে না পাষাণ মাফিয়াটা যে এই মুহূর্তে রোজের প্রতিটা অশ্রু ভস্ম করে দিচ্ছে তাকে।
​”আমি তো পশু! হ্যাঁ, আমি এমনি। ভালোবাসা নেই আমার মধ্যে। আর না আমি ভালোবাসতে পারি, না অনুভব করতে পারি। আমি এমনই। বাকিদের মতো নই। পাষাণ আমি। আমি যা তা-ই! না পারি ভালোমানুষির নিখুঁত অভিনয় করতে, আর না পারি ছলনা। আর এই প*শুর জন্য তুই কেন দরদ দেখাতে এসেছিস! এই বান্দীর বাচ্চা। বলেছি না বেরিয়ে যা আমার রুম থেকে! রিক আলবার্ট এক কথা একবারের বেশি রিপিট করে না!”
​রোজ যন্ত্রণায় নীল হয়েও ফিসফিস করে সুধালো, “তাহলে ক্যাটরিনা ঠিকই বলেছে? আপনারা একসাথে…”

​”ইয়েস! কোনো কিছুই মিথ্যা নয়। মিথ্যা তো তুই! শালা তুই একটা বান্দী শালী… শেষ করে দিচ্ছিস আমায়!”

​ইউভান দহনমিশ্রিত ক্রোধের তাড়নায় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে রোজকে ছেড়ে দিলো একটু জোরেই। আচমকাই রোজ হুমড়ি খেয়ে পড়লো ঠান্ডা ফ্লোরে। ব্যথাসিক্ত হয়ে রোজের ঠোঁট গলে শব্দ বের হয়ে এলো “আহহ!”
​ইউভান নিজের চুল নিজেই টেনে ধরে নিজেকে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে আনলো। রোজ হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে অশ্রু মুছে নিলো। গভীর অপমানে লিপ্ত হয়ে হেসে উঠলো যেই হাসিতে নেই কোনো প্রফুল্লতার সংমিশ্রণ।

“তাড়িয়ে দিচ্ছেন? আপনি তো বলেছিলেন, আপনাকে ছাড়া নাকি আমার আর কোথাও ঠাঁই মিলবে না। রাস্তার কু*কুররা ছিঁড়ে খাবে। এখন কি কুকুররা ছিঁড়ে খাওয়ার জন্যেই এই পথ অবলম্বন করছেন?”

​”এই বান্দীর মেয়ে, যা ভাবার ভেবে নে!”

​”আজ একটা জিনিস বলতে খুব ইচ্ছে করছে। জানেন, প্রতিদিন রাতে একটা স্বপ্ন দেখতাম। আমি কারোর পিছু নিচ্ছি। একটা পুরুষ। আমি শুধু পিছুই নিচ্ছি তার। তিশাকে তো চিনেন, ওকে বলেছিলাম একবার। তিশা বলেছিলো হবে কেউ একজন হয়তো-বা তোকে মনে প্রাণে চায়, দূর দেশে থাকে তাই প্রতিরাতে স্বপ্নে এসে দেখা দিয়ে যায়। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি কখনো। আচ্ছা কেউ যদি আমাকে চায় তাহলে সে আমার পিছু নেওয়ার কথা, তবে আমি কেন পিছু নিতাম পুরুষটার? তবে স্বপ্নটা দেখিনা আজ বহুদিন। বহু মাস।আপনার কাছে আসার পর থেকে। “

​ইউভানের নয়নজোড়া পৈশাচিক আক্রোশে জ্বলে উঠলো। “আর কতো পুরুষকে স্বপ্নে দেখিস তুই? বল আমাকেও একটু বল! তোর মতো শালী ধান্দাবাজ, বে*ইমান নারী এই জগতে আর একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছলনাময়ী তুই একটা! তুই কি ভেবেছিস আমি কিছু জানি না? রিকের সিক্সথ সেন্স তোর ট্রিক্স থেকে কয়েকগুণ শার্প। সো বি কেয়ারফুল!”

​রোজের মস্তিষ্ক শূন্য হয়ে এলো। “কিসের কথা বলছেন আপনি?”

​”তোর বংশই তো একটা বেজন্মা জাতদের! তোর থেকে কী-ই বা আশা করা যায়। আবার বলিস আমি জানোয়ার? আমি কুলাঙ্গার বংশের? তো শোনো সোনা, তুমি কোন বংশের? তুইও তো একটা কালনাগিনী, বিষধারিণী সর্পিণী!” ইউভানের বলা প্রতিটা শব্দ যেন রোজের আত্মাকে ক্ষতবি*ক্ষত করে দিচ্ছে।
​রোজের ওষ্ঠাধর থরথর করে কাঁপতে লাগলো। অতিরিক্ত হাইপারটেনশন আর অপমানে রোজের প্যানিক অ্যাটাক শুরু হচ্ছে। হাত-পা জিমিয়ে বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আসছে তার।
“আমাকে যা খুশি তা বলুন। আমার বংশকে টানবেন না এসবে…”

​রোজের বুকটা ধড়ফড় করছে, যেন এখনই দমটা বেরিয়ে যাবে।
ইউভান তার পিঠের মাংসল ক্ষতগুলোর অসহ্য দহনকে একপাশে সরিয়ে রেখে বিছানা থেকে নেমে এলো। মেঝেতে নিথর হয়ে বসে থাকা রোজের সামনে সে যখন এসে দাঁড়ালো, মনে হলো এক প্রকাণ্ড দাব সত্তা তার শিকারীকে পুনরায় কুড়িয়ে নিতে উদ্যত। ইউভান এক ঝটকায় রোজের রেশম-কোমল চুলের মুঠি সাপের ন্যায় সজোরে নিজের মুষ্ঠিবদ্ধ করে রোজকে হ্যাঁচকা টানে নিজের দিকে তুলে ধরলো। রোজের মস্তকটা ইউভানের বলিষ্ঠ গ্রীবায় হেললো।
​ইউভান রোজের ওষ্ঠাধরের একদম সন্নিকটে নিজের সিগারেটের ধোঁয়ায় কালচে হওয়া ঠোঁট নামিয়ে এনে নেশাতুর দৃষ্টিতে তাড়নার সীমারেখা অতিক্রান্ত করে বলল।
​”তুই বুঝতে পারছিস না লিটল ডা’ব, তোকে দেখলে আমি কন্ট্রো*ললেস হয়ে যাই! মেটাতে পারবি আমার ভেতরকার জমাটবদ্ধ তাড়না? তা তো পারবি না!”

​কথাগুলো শেষ করেই ইউভান কর্কশ ও রুক্ষ করতল দিয়ে রোজের কোমল কপোল সজোরে ঘর্ষণ করে অশ্রু মুছে দিতে লাগলো।রোজের ফর্সা ত্বক মুহূর্তে লাল হয়ে উঠলো।মেয়েটার ঠোঁট এ আঙুল চেপে ধরে ঠোঁটজোড়া পিষতে লাগলো।
​”আমি যদি ধরি না, একবারে ক্ষতবিক্ষত করে ছাড়বো তোকে!এতোদিনও চিনতে পারিস নি আমায়।স’ফটলি ধরা ছোঁয়া আমার ডিকশনারীতে নেই।একবার ধরলে এর থেকেও দ্বিগুণ অশ্রু ঝরবে তোর!সহ্য করতে পারবি না।”

যন্ত্রণায়সিক্ত হয়েও রোজ বড় বড় শ্বাস টেনে ইউভানের জ্বলন্ত অক্ষিগোলকের দিকে চেয়ে অবজ্ঞার সুরে বললো।
​”কেনো? আপনার জন্য তো ক্যাটরিনা আছেই!”

​শব্দটা নিঃশেষ হওয়ার পূর্বেই এক প্রচণ্ড চড় আছড়ে পড়লো রোজের গালে। রোজের মস্তিষ্ক যেনো এক লহমায় অবশ হয়ে এলো, কর্ণকুহরে শোনা গেল এক অদ্ভুত ঝিঁঝিঁ শব্দ।নেত্রপল্লবে আসাড় হয়ে এলো।হিংস্র ইউভান রোজের পরিহিত টপের কলার খামচে ধরে তাকে শূন্যে তুলে দেয়ালের সাথে পিষে ধরলো। রোজ তীব্র যন্ত্রণায় চোখ-মুখ খিঁচিয়ে ধরলেও, পরক্ষণেই তার দৃষ্টি স্থির হলো ইউভানের উন্মুক্ত পৃষ্ঠদেশের ওপর। দেখল, ইউভানের বলিষ্ঠ পিঠ বেয়ে তাজা লাল রক্তের ধারা নৃত্যে ফ্লোরে গড়িয়ে পড়ছে।আঁতকে উঠে রোজ গাল স্পর্শ করলো।
​”শুয়ে পড়ুন! দেখছেন না আপনার পিঠের কী দশা!”

​ইউভানের ওষ্ঠাধরে এক পাশবিক হাসি খেলে গেলো। রোজের সুকোমল গ্রীবায় নিজের বলিষ্ঠ আঙুলগুলো গেঁথে দিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর স্বরে বললো। ​”তুই কেন এসেছিস? রক্তরঞ্জিত হতে? ট্রাস্ট মি ফাকিং ব্লাডি ডার্করোজ… রক্তের বন্যা বইয়ে দিবো! হয় আমার, না হয় তোর!”
​রোজের হৃদপিণ্ড এর পাঁজরের যেনো দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইলো। ইউভান রোজের চোয়াল শক্ত করে ধরে রোজের গালে কা*মুড় দিয়ে বসলো।পরপর কয়েকটা কামু’ড়াঘাতে ভিজে লাল হয়ে উঠলো রমণীর ত্বক। রোজ ডুকরে কেঁদে উঠে বাধা দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করলো, কিন্তু ইউভান এক নিমেষেই তার হাত দুটিকে বিচ্যুত করে ইউভান নিজের পুরুষালী দেহাংশের অতি সং/বেদনশীল স্থানে রোজের করতল স্পর্শ করিয়ে দিলো। সেই স্পর্শে রোজের শিরদাঁড়া বেয়ে আতঙ্কের শিহরণ বয়ে গেলো,শিরশির করে উঠলো সমস্ত সর্বাঙ্গ। রুহ যেনো শরীর ছেড়ে পলায়ন করতে চাইলো।
​ইউভান রোজের কানের লতিতে নিজের তপ্ত নিশ্বাস ফেলে কামার্ত স্বরে সুধালো।
​”আই থিঙ্ক ইউ নিড হবি ওয়াটার, ডার্লিং!মে আই?”
​রোজ এক হাড়কাঁপানো ত্রাসে উচ্চস্বরে শিউরে উঠে কেঁদে দিলো। ইউভান রমণীর নয়নকোণে জমে থাকা লোনা অশ্রু তে চুমু খেয়ে বিদ্রূপের স্বরে বললো।
​”হোয়াই ইউ আর ক্রাইং সুইটহার্ট? ব্যথা তো পিঠে, সামনে তো নয়! অ্যান্ড আই অ্যাম আ ভেরি স্ট্রং অ্যান্ড কনফিডেন্ট ম্যান মোর দ্যান ইয়োর ইমাজিনেশন!”

সেই মুহূর্তে কক্ষের দরজায় সজোরে করাঘাত পড়লো। দু’জন সশস্ত্র গার্ড অত্যন্ত ত্রস্ত ভঙ্গিতে প্রবেশ করে জানালো। ডরমিটরিতে জরুরি তলব পড়েছে ইউভানের।তাকে এখনই সেখানে উপস্থিত হতে হবে। ইউভান গায়ে একটা কালো শার্ট জড়িয়ে নিলো।শার্টের হাতা গুটাচ্ছে রোজের দিকে তাকিয়ে। রোজ শুধালো।
​”আ..বার… আবার কোন অপকর্মে লিপ্ত হতে যাচ্ছেন আপনি?”

​ইউভান কোনো উত্তর দিলো না। কেবল এক পলক রোজের সেই অশ্রুসিক্ত মায়াবী মুখপানে তাকালো যে চাহনিতে দেখতে পেলো অধিকারবোধ। ধীরপায়ে রোজের সন্নিকটে এসে রমণীর ললাটে এক গভীর চুমু এঁকে দিলো।রোজের মন চাইলো একবার আটকাতে তবে সেই অধিকার কি তার আছে??ইউভান কি তাকে সেই অধিকার দিয়েছে কোনোদিন?? তাহলে?


​ডরমিটরির গুমোট পরিবেশে উপস্থিত দামিয়ান, রাহা আর তুষার। ইউভানের ভারী পদশব্দে দামিয়ান নীরবতা ভেঙে সরাসরি প্রশ্নে বিদ্ধ করলো ইউভানকে।
​”তুই মাস্টারকে আটকালি না কেন রিক?মেনে নিলি কেনো??”

দামিয়ানের কথা শেষ না হতেই রাহা হকচকিয়ে নিজের ভ্রাতার সামনে এসে দাঁড়ালো।
​”ভাইয়া! আই কান্ট টলারেট ইট। চলো ক্যালিফোর্নিয়াতে ফিরে যাই। আর তুমি কেন বলোনি যে কালো জাদুর বংশধর আই মিন রোজ ইভেলিনা মহিলার বংশের?”
​ইউভানের অক্ষীপল্লব দুটো মুহূর্তেই রুদ্রমূর্তিতে দামিয়ানের ওপর নিবদ্ধ হলো। কারণ, এইটা কিছুদিন আগে ইউভান দামিয়ানকে বলেছিলো। দামিয়ান শুকনো ঢোক গিলে ত্রস্ত পায়ে রাহার পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো।এই বুঝি এনাকন্ডা সাপের ন্যায় তার গলা টিপে না ধরে বসে ইউভান।তবে ইউভানের ওষ্ঠাধরে ফুটে উঠল এক কদর্য হাসি।

​”আমি কী করে জানবো ওই বান্দী আদৌ ইমরান চৌধুরীর মেয়ে কি না!বান্দীর মা তো এক থার্ড ক্লাস দুশ্চরিত্রা নাগীন নারী! কয় পুরুষের বেডে শুয়েছে!” ​দ্যামিয়ান রাহার পেছনে নিজেকে আড়াল করে বিড়বিড় করে উঠলো! ​”কিউটিপাইকে নিয়ে এভাবে বলিস না রিক, কষ্ট লাগে! কত্ত ইনোসেন্ট মেয়েটা!” ​”ইনোসেন্ট?” ইউভান তাচ্ছিল্যের এক পৈশাচিক অট্টহাসি হাসলো।ইনোসেন্ট নারী ইউভানের তো চোখের বালি।রোজ তূর্জ চৌধুরী আধেও কোনো ইনোসেন্ট নারী?? পরক্ষণেই ইউভান নিজের প্যান্টের বেল্টটা খুলে অত্যন্ত ধীরলয়ে দু-হাতে পেঁচাতে শুরু করলো। কক্ষের উপস্থিত সকলের শিরদাঁড়া বেয়ে এক হিমশীতল স্রোত বয়ে গেলো। দামিয়ান ভাবলো আজ হয়তো তার অন্তিমকাল উপস্থিত, কিন্তু ইউভান তাকে পাশ কাটিয়ে এক কোণে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকা তুষারের দিকে অগ্রসর হলো। তুষার শান্ত অথচ গম্ভীর কণ্ঠে বললো।
“তুই যেমনটা ভাবছিস, তেমনটা নয় রিক।”
​ইউভান এক দা*নবীয় চিৎকারে কক্ষের নিস্তব্ধতা চূর্ণ করে দিলো
​”বাংলাদেশের বিয়ের ইস্যুটা শুধু তুই জানতিস, তাই না? তোদের মাস্টারের কাছে সেই বিয়ের পেপার কে দিয়েছে? ইজন্ট ইট ট্রু যে ওইটা তুই দিয়েছিস!”
​তুষার এক ম্লান ও বিষাদগ্রস্ত হাসিতে ফেটে পড়লো।এতো বছর কেটে গেলো অথচ তুষার এখনো অব্দি ইউভানের বিশ্বাস অর্জন করতে পারেনি সেই ভেবেই হাসলো।অবশ্য রিক আলবার্ট বিশ্বাস করেটা কাকে??কাউকেই না!সে শুধু নিজের মর্জি মাফিক চলে।
তুষার বিদ্রুপ করলো।

​”রিক!তুই যদি আমাকে আঘাত করে খায়েশ মিটিয়ে নিতে পারিস… তবে অবশ্যই সেটা হবে তোর বিশ্বাস অর্জন না করতে পারার ব্যর্থতার ফলস্বরূপ। কোনো মিথ্যা ইস্যু নিয়ে না!”

​তুষার অত্যন্ত স্থিরভাবে নিজের শার্টের বোতামগুলো একে একে উন্মুক্ত করতে লাগলো।বুকের পাঁজরে ফুটে উঠলো স্পাইডার ট্যাটু।তুষারের নয়নযুগলের সামনে ফুটে উঠলো একটুকরো স্মৃতি তুষারের বয়স তখন তেরো-চৌদ্দ বছর।রাশিয়ার ‘ভলগা অরফানেজ’ নামের একটা আশ্রম। যেখানে ইউভান তার বয়সী একটা ছেলে সেই আশ্রমের পণ্ডিতকে মেরে মাং/স খণ্ডগুলো কমোডে ফেলে দিচ্ছিলো, আর তুষার সেই বীভৎস দৃশ্য দেখে নিয়েছিলো।তবে সেদিনটা ছিলো ইউভানের সাথে তুষারের প্রথম সাক্ষাৎ। তুষার সেদিন সাহায্য করেছিলো ইউভানকে প্রমান লোপাটেও।

​তুষার হাঁটু গেড়ে ইউভানের সামনে বসে পড়লো, চওড়া বুকটা উ*ন্মুক্ত। ইউভান কোনো দ্বিধা না করে বেল্ট দিয়ে এক প্রচণ্ড আঘাত তুষারের উপর পড়ার পূর্বেই রাহা এক ঝটকায় তুষারের সামনে এসে ঢাল হয়ে দাঁড়ালো।
​”ভাই! তাইওয়ানকে আঘাত করো না! তাইওয়ান কোনোদিনও তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না! করতে পারে না!”

তুষার এক পলক তাকালো রাহার পানে।এই মেয়ে কি পাগল??বারবার নিষেধ করার পরও কথা শুনতে চায় না।তুষারের পাথুরে চোয়াল তখন ক্রোধ। হাড়কাঁপানো রূঢ় স্বরে ধমকে উঠলো।

​”ইনায়া, সামনে থেকে সরে দাঁড়াও!আমাদের মাঝে এসো না!”
​তুষারের এই কর্কশ কণ্ঠস্বর রাহার হৃদয়ে সহস্র চাবুকের

ইউভানের ললাটে তখন সন্দেহের পাঁচ ভাঁজ। এক কুটিল ও বাঁকা হাসিতে বিদ্রূপ উগরে দিয়ে রাহাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো
​”রাহি, তুই কার পক্ষ নিতে এসেছিস? যে তোকে অবলীলায় রিজেক্ট করেছে, তার জন্য?? সিলি গার্ল মাই সিস্টার ইজ্।রাবিশ।”
​ইউভানের মুখে ‘প্রত্যাখ্যান’ শব্দটি শোনামাত্র তুষার তার ঘাড় উঁচিয়ে একবার ইউভানের দিকে তীব্র নজরে তাকালো, পরক্ষণেই এক গভীর দীর্ঘশ্বাসে চোখ দুটো বুজে নিলো। তুষার চাইলো ইউভান যেনো আর এক শব্দও মুখ থেকে বের না করে। কিন্তু রাহা স্তম্ভিত হয়ে ইউভানের দিকে চেয়ে রুদ্ধস্বরে সুধালো।

​”রিজেক্টেড মানে? কী বোঝাতে চাইছ তুমি ভাই?”
​তুষার তড়িৎগতিতে এক পাক্ষিক লুকানোর চেষ্টায় বলে উঠলো। “কিছু না!”

​কিন্তু রিক আলবার্ট আজ দয়া মায়া করার মেজাজে নেই।মাথা চুলকে । হাতের বেল্টটা সজোরে ফ্লোরে আছড়ে ফেলে আগুন কণ্ঠে বললো।
​”আমি তো তুষারের সাথেই তোর এনগেজমেন্ট দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তুষার তোকে রিজেক্ট করে দিয়েছে। রিক আলবার্ট কোনোদিন কারও পার্সোনাল ইস্যুতে নাক গলাতে পছন্দ করে না, তাই কথা আর বাড়াইনি!ইট’স ট্রু সিস।”

ঘটনাটি ছিলো ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে থাকাকালীন, মিসেস অ্যাশ আলবার্টের মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের। রাহার ইউভানের প্রতি যে অগাধ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছিলো, তার একমাত্র গন্তব্য ছিলো সারাজীবন ইউভানের ছায়ার নিচে থাকা।দূরে যেতে কোনোদিনও চায় নি। আর ইউভান, পৃথিবীর কোনো মানুষের ওপরেই আস্থার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারেনা।
​ রিক আলবার্টের শত্রুর অভাব নেই, যেকোনো সময় যেকোনো দিক থেকে রাহার ওপর হামলা হতে পারে। তাই রাহার চরম নিরাপত্তা আর সুরক্ষার কথা ভেবেই চেয়েছিলো তুষারকে দিয়েই রাহাকে নিজের কাছে রেখে দিতে।শুধু মাত্র দায়িত্ববোধ থেকেই।তুষারের হাতে রাহাকে সঁপে দিতে চেয়েছিল।তবে তুষার সেদিন প্রত্যাখান করেছিলো।বরাবরের মতো একটাই কথা। কোনো বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হবে না কখনো।

​রাহা মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলো।এইটুকুই জানার বাকি ছিলো।বেশ জেনে গিয়েছে ভালোই হয়েছে।তুষার কিছু বলতে চেয়েও পারলো না।রাহা আর একটা টু শব্দ অব্দি উচ্চারণ করলো না।

দামিয়ান হতভম্ব হয়ে রাহাকে যেতে দেখলো।মাথা চুলকিয়ে হালকা সোনালী টোনের সিল্কি চুলগুলো বেকব্রাশ করে বিদ্রোপ করলো।
​”সবাই আমায় দেখেই সব ট্র্যাজেডির স্ক্রিপ্ট লেখে! সব কিছুতেই তোরা দিনশেষে আমাকেই ফাঁসিয়ে দিস। ভালো কিছু হলেও দামি, আবার খারাপ কিছু হলেও বলির পাঁঠা সেই দামি! তোরা তো একেকজন ট্র্যাজিক হিরো সেজে আছিস।সরি সরি ভিলেন।শালা শো*য়োরের দল।নাটকীর নাতি এক একটা।, আর আমার অবস্থা হয়েছে ওই মাঝ সমুদ্রে ছাতা ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মতো।”
​দামিয়ান ইউভানের রাগী চাউনি দেখে একটু পিছিয়ে গিয়ে কাঁধ কুঁচকে আবার বিড়বিড় করলো
​”সত্যি বলছি রিক, তোদের ব্রোমান্স’ আর ‘বিট্রেয়াল’ এর মাঝে পড়ে আমার হার্টবিট এখন অলিম্পিক দৌড় দিচ্ছে। একটু শান্তি দিবি নারে বাপ?থুক্কু নানা!”


|সময়কাল:অক্টোবর, ২০০৮|
|স্থান: মারদিন,Mardin, Turkey|

দেশজুড়ে নিউজ চ্যানেলে কেবল একটাই হেডলাইন ব্রেকিং নিউজ হিসেবে স্ক্রল করছিলো। মারদিন শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত জমিদার সুলতান শাহ-এর সেই বিশাল ও রাজকীয় প্রাসাদোপম অট্টালিকাটি তখন জ্বলন্ত এক নরককুণ্ড।​

বিভিন্ন নিউজ প্রেজেন্টাররা নিউজ করছিলো।
​”মারদিনের ঐতিহাসিক সুলতান শাহ প্রাসাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! রাজবাড়ির ভেতরে দশজন পরিবার সদস্যের জীবন্ত দগ্ধ হওয়ার আশঙ্কা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিলো।একজনেরও বেঁচে থাকার কোনো চান্স নেই। পুলিশ ও দমকল বাহিনী এখনও আগুনের উৎস খুঁজে পায়নি। তবে সবচেয়ে ভীতিজাগানিয়া তথ্য হলো, সিসিটিভি ফুটেজে এক কিশোরকে দেখা গেছে, যার মুখমণ্ডল কালো কাপড়ে ঢাকা এবং বাম হাতে একটা গভীর ক্ষ*তচিহ্ন স্পষ্ট। প্রশ্ন উঠছে, মাত্র ১৪ বছরের এক কিশোর কীভাবে দুর্ভেদ্য এই প্রাসাদে আগুন লাগিয়ে পুরো একটা পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিলো?”
​পুরো তুরস্ক জুড়ে তখন আতঙ্কের রাজত্ব। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কূলকিনারা পাচ্ছিল না কে এই কিশোর? কিসের এতো জিঘাংসা যে সুলতান শাহ-এর মতো প্রভাবশালী জমিদার পরিবারকে সে আগুনের লেলিহান শিখায় আহুতি দিলো? সেদিনের সেই কিশোরের পরিচয় অন্ধকারেই থেকে গিয়েছিলো। কেবল জানা গিয়েছিলো, আগুনের সেই লেলিহান শিখার সামনে দাঁড়িয়ে ছেলেটি কেঁদে কেঁদে রুহ কাঁপানো কিছু আর্তনাদ করেছিলো।

​বর্তমান↓

নিজের বাঁ হাতের গভীর ক্ষ*ত টার দিকে তাকিয়ে ভাবছে ঠিক তখনই ভাবনার জগতে বিঘ্ন ঘটলো।​এক অতি সুমধুর এবং কোমল নারী কণ্ঠস্বরে।

​আদ্রিয়ান ঝটকা খেয়ে পেছন ফিরে তাকালো। তার সেই বরফশীতল চাউনি মুহূর্তেই স্থবির হয়ে গেলো। চৌকাঠে দাঁড়িয়ে আছে রোজ। নীলচে আলোয় রোজের মায়াবী মুখটা দেখে মনে হচ্ছে কোনো এক দীর্ঘস্থায়ী দুঃস্বপ্নের মাঝে হঠাৎ এক চিলতে পবিত্র সকাল।

রোজের হাতে তখন ২০০৮ সালের ফাইলটা।রোজ আদ্রিয়ানের অতি সন্নিকটে এসে অস্ফুট স্বরে সুধালো।
​”আপনি দিয়ে গিয়েছিলেন এই ফাইলটা?”
​আদ্রিয়ানের বরফশীতল দৃষ্টি তখন রোজের ওপর স্থির। সে অতি সংক্ষিপ্ত কিন্তু ধারালো কণ্ঠে প্রশ্ন ছুড়লো
​”পড়ে দেখেছো?”
​রোজ এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফাইলটির পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে বিষণ্ণ হাসলল।
​”আমি কি তুর্কি ভাষা জানি? এতে তো সব কিছু তুর্কি ভাষায় লেখা!”
​আদ্রিয়ানের অক্ষিপল্লব ক্ষণিকের জন্য মুদে এলো। বুকের ভেতরের কোনো এক গোপন কক্ষের কপাট যেন খুলে বসলো।
​”এতে তোমার মায়ের এক্সিডেন্ট কেসের রিপোর্ট রয়েছে।”

​রোজ স্তম্ভিত হলো।আচমকা বুকটা মুচড়ে উঠলো। আদ্রিয়ানের আরও কাছে চলে এলো।মেয়েটার নেত্রপল্লবে তখন রাজ্যের বিস্ময় আর আকুতি।
​”মানে! আর কী আছে এতে? বলুন না আমাকে!”
​আদ্রিয়ান বাইরের অন্ধকারের দিকে চেয়ে ধীরলয়ে বলতে শুরু করলো।
​”আমি ব্যাপারটা খতিয়ে দেখছি। তোমার মায়ের ম*রদেহ তো খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাই না? অবশ্য অত উঁচুপাহাড় থেকে খাদে পড়লে তা পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।”

​বলতে বলতেই আদ্রিয়ানের দৃষ্টি স্থির হলো রোজের ওষ্ঠাধরের কোণে। সেখানে জমাটবদ্ধ রক্তের ছোপ দেখে আদ্রিয়ানের ভেতরে অস্থিরতা জেগে উঠলো। রোজকে একপ্রকার জোর করেই সোফায় বসিয়ে দিয়ে অস্থির গলায় সুধালো। ​”কী হয়েছে তোমার? দেখি তো!” ​রোজ সচকিত হয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলো। ​”কই, কিছু না তো! আপনি দুর্ঘটনার ব্যাপারে বলুন না, আর কী জানতে পেরেছেন?” ​আদ্রিয়ান কোনো কথা না শুনেই ‘বিটাডিন’ আর কটন নিয়ে এলো।অতি সন্তর্পণে অথচ জোরপূর্বক রোজের ঠোঁটের ক্ষতে ওষুধ লাগিয়ে দিতে লাগলো। ওষুধের তীব্র জ্বালায় রোজের মুখভঙ্গি কুঁচকে গেলো। অবাক হয়ে আদ্রিয়ানের অস্থিরতা লক্ষ করল।
​”আপনি আমাকে নিয়ে এতোটা ভাবেন কেন এ’ডশ?”

​আদ্রিয়ানের হাতটা ক্ষণিকের জন্য স্থির হলো।।শূন্যে দৃষ্টি রেখে বিষাদগ্রস্ত গলায় বললো।
​”পৃথিবীতে যাদের আপন বলতে কেউ থাকে না, তারা যখন হুট করে কাউকে আপন ভাবতে শুরু করে, তখন মন বড় অস্থির হয়ে পড়ে। আমি জানি তুমি এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারোনি, কিন্তু তুরস্কে যাওয়ার এইটাই তোমার একমাত্র পথ। তোমার কি জানতে ইচ্ছে করে না যে সে সময় তোমার মায়ের মামলাটি কেন মাঝপথে বন্ধ করা হয়েছিলো?”

​রোজ কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ থেকে ভাবলো।মেয়েটার নয়নপল্লব বেয়ে লোনা জল গড়িয়ে পড়লো।কম্পিত গলায় উত্তর দিলো।
​”চাই, তবে এভাবে নয়!”
​রোজকে কাঁদতে দেখে আদ্রিয়ানের ভেতরের সংযম যেনো বাঁধ ভাঙতে চাইল।
​”তোমাকে একবার বলেছি না কাঁদবে না?”

​রোজ আরও ডুকরে কেঁদে উঠলো।আজ আবারো মায়ের কথা ভীষন মনে পড়ছে তার।
​”জানেন, যদি আমার মা বেঁচে থাকতো, তবে এই মুহূর্তে আমি তাঁর কাছে ছুটে চলে যেতাম। আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। সবাই আমাকে শুধু কষ্টই দেয়, কেউ আমাকে বোঝার চেষ্টাও করে না! আমি আসলেই বেহায়া নারী তাই না?”

​রোজ নিজের বুকে হাত রেখে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যেতেই আদ্রিয়ানের নজর পড়লো রোজের গালে ফুটে ওঠা নীলচে দাঁতে দাগ। মুহূর্তেই আদ্রিয়ানের ভেতটা আগ্নেয়গিরি জলাভূতে ফেটে পড়লো। ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে হাতের ভারী কাঁচের ওষুধের বোতলটা সজোরে ফ্লোরে আছড়ে ফেললো। কাঁচ ভাঙার শব্দে রোজ ক্রন্দনরত অবস্থায় আঁতকে উঠলো। আদ্রিয়ান রোজকে বুঝালো যে বোতলটা ভুলবশত পড়ে গিয়েছে।

​”না, তুমি বেহায়া নও। তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও পবিত্র ফুল… এমন এক ফুল, যার মুগ্ধতা সীমানা ছাড়িয়ে গিয়েছে।”

আদ্রিয়ানের কথায় ​রোজ অবজ্ঞার হাসি হাসলো।
​”মিথ্যা কথা! সব মিথ্যে! আমি কাউকেই মুগ্ধ করতে পারি না। যদি পারতাম, তবে জীবনের এই কিনারায় আমায় এসে দাঁড়াতে হতো না। কী করে বোঝাবো আমার বুক ফেটে যাচ্ছে, মস্তিষ্ক ছিঁড়ে যাচ্ছে!”

​রোজ কান্নায় ভেঙে পড়ে সোফায় মাথা এলিয়ে দিলো।আদ্রিয়ান একদৃষ্টে সেই বিদীর্ণ মূর্তির দিকে চেয়ে রইলো। যাকে ছোঁয়ার অধিকার বিধাতা তাকে দিয়ে উঠেনি।,অথচ সেই রমণীর প্রতি বারবার আকৃষ্ট হচ্ছে সে।সহ্য ক্ষমতা যে ফুঁড়িয়ে এসেছে। আদ্রিয়ানের পুরুষালী বুকের বাঁ পাশটা চিনচিন করে উঠলো।না বলতে পারা কিছু কথার অন্তর্দহন।
​আদ্রিয়ান ধীর পায়ে রোজের সামনে এক হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। টেবিল থেকে এক গ্লাস রেড ওয়াইন ঢেলে কয়েক চুমুক দিয়ে করুণ হাসলো।কি হয়েছে তার??একজন গ্যাংস্টারের কি এমন নারীর মায়ায় পরা শুভা পায়।তাও এমন এক নারী!এমনটা হওয়ার কথা তো ছিলো না কোনো কালে তাহলে!পাপিষ্ঠ জীবনে পুনঃরায় কোনো ভয়াবহ পাপের খাতায় নাম লিখছে না তো??কি হবে এর পরিণতি? আদ্রিয়ান ওয়াইনের গ্লাসে আরেক চুমুক বসিয়ে বেসুরা কন্ঠে গেয়ে উঠলো।

  Nasha tera,dil ko laga,Dena behi mejhko daga!
  Mein teri adhat ka mara, hein keya meri khata!
         Tera bin na mumkin,apna guzara hein.
    Haar duya mein meine,tujhko hi mangha hein!

                   Tera jana jeisa koi badua?

         Door jaaoge jo tum, mar jayenge hum!

     Sanaam teri kasam o!sanam teri kasam o!

আদ্রিয়ানের কণ্ঠের মোহমুগ্ধ মেশানো সুর রোজের অবদমিত যন্ত্রণার দুয়ার যেন অবারিত করে দিলো। রোজ সোফায় মাথা এলিয়ে নেত্রপল্লব বুজে নিতেই তার মানসপটে এমন এক পুরুষের মুখাবয়ব ভেসে উঠলো যার প্রতি এক তিব্র ঘৃণায় জলাভূত রমণীর অন্তর।
রোজ নিজের অজান্তেই এক অন্য জগতের অতল গহ্বরে তলিয়ে চোখের পাতা দুটো শক্ত করে বন্ধ করতেই তার অন্ধকারের পর্দায় ভেসে উঠলো এক জোড়া ধূসর চাক্ষুষ মণি।যাতে মিশে আছে আজন্ম আক্রোশ আর না বলা কোনো তৃষ্ণা। রোজের চেতনার ক্যানভাসে ধীরে ধীরে ফুটে উঠলো সেই সুদর্শন অথচ লৌহকঠিন মুখশ্রী।
সেই পুরুষ যার ​উষ্কখুষ্ক অবিন্যস্ত চুলগুলো অবাধ্যের মতো কপাল ছুঁয়ে পড়ে থাকে সর্বক্ষণ।,কালচে ঠোঁটের নিচে ছোট্ট একটা কালো মোহনীয় তিল।অভিশপ্ত সৌন্দর্যের রাজতিলক। সেই মুখচ্ছবি যেকোনো রমণীর হৃদস্পন্দন স্তব্ধ করে প্রলয় ঘটিয়ে দিতে সক্ষম।ইউভানই কি তবে রোজের এই নিভৃত একাকিত্বের একমাত্র অধিপতি?
​কঠিন হৃদয়ের পুরুষটার মদির ও তীক্ষ্ণ চাহনি রোজের চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠতেই রোজের অবরুদ্ধ কণ্ঠে গানের কলি বেরিয়ে এলো। আদ্রিয়ানের সুরের সাথে তাল মিলিয়ে রোজ যেন নিজের অজান্তেই কোনো এক অতৃপ্ত মায়ার জবানবন্দি দিতে শুরু করলো।

    Thum hein dekhte hi,Ankein ho jaati naam!
      Sanaam teri kasam o!saanam teri kasam o!

                          Sanaam teri kasam!

দুই বিদীর্ণ হৃদয়ের সুরের মেলা বহমান, অথচ তাদের গন্তব্য আর ধ্রুবতারা যেনো সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুতে। রোজের চোখের কোণ বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা লোনা জল গড়িয়ে পড়লো তা কি সামনে থাকা পুরুষটার সুরের মায়ার জন্যে মায়ার নাকি সেই ধূসর চোখের অধিশ্বর ইউভানের প্রতি জমাটবদ্ধ কোনো ঘৃণার ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা অনুরাগের জন্য?

রোজের অবশ হয়ে আসা শরীরটা যেন এক অদৃশ্য মাদকতায় টলমল করছে। সে তো নেশা করে নি?তাহলে এতো নেশা লাগছে কেনো???ডুকরে কেঁদে উঠলো পুনঃরায়। ইদানীং নিজেকে বড্ড বেশি ‘কাঁদুনি বুড়ি’ মনে হয় তার।দহনে জর্জরিত এক নিঃস্ব মানবী।
​রোজ তার ভিজে যাওয়া নেত্রপল্লব মেলে শূন্যে এক কাল্পনিক অবয়বকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো।যেখানে আছে একরাশ অভিযোগ।
​”শুধু নিজের চাহিদাটুকুই মিটিয়ে গেলেন! একবারও কি এই অভাগীর মনের খবর নিতে ইচ্ছে হলো না আপনার?”
​রোজের কণ্ঠস্বর অশ্রুতে বুজে এলো।
​”আমাকে কেন ভালোবাসলেন না আপনি? আমাকে একটু ভালোবাসলে কি খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যেতো আপনার? আমি তো আপনার সাথে কোনো ভুল করিনি! তবে কেন আমার অস্তিত্বকে প্রতিমুহূর্তে এভাবে তুচ্ছ করে দিলেন?”

হ্যাঁ! নিয়তি আজ সত্যিই ইয়াজিদ ইবনে মু-আবি য়া। আর আপনিই সেই কারবালার প্রান্ত।:)

চলবে?

জানি চলবে না।৩৫০০+শব্দ সংখ্যা। ছিলো ৬৫০০ +হাজার বাকি ৩০০০হাজার কাল রাতে আপলোড করবো কেমন??।দেরি করে দি বলে অভিযোগ।তাই বাকি অংশ কেটে রেখে দিয়েছি কাল আপলোড করবো হ্যাপি??🤧।অবশ্যই রেসপন্স করবেন।গঠনমূলক মন্তব্য।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply