Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৪


কিসঅফবিট্রেয়াল

পর্ব_২৪

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
সেরিনের ভেতরটা ভয়ঙ্কর ভাবে দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে।
রীতিমতো হাত পা কাঁপা কাপি করছে তার।
আরিফ চৌধুরী জিজ্ঞেস করলেন,

“সেরিন মা। তুমি কোন ইয়ারে পড়ালেখা করছো?”

সেরিনের হাত পা যে কাঁপা-কাঁপি করছে এটা তার আম্মা নূরবানু সিকদার লক্ষ করলেন।
তিনি ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
ওদিকে আরিফ চৌধুরী প্রশ্ন করে তাকিয়ে আছে উত্তরের অপেক্ষায়।
কিন্তু সেরিন কিছুই বলতে পারছে না।
নূরবানু সিকদার বুঝলেন মেয়ে তার প্যানিক এটাক করছে৷
নূরবানু সিকদার দ্রুত সেরিনকে জড়িয়ে ধরলেন।
উপস্থিত সবাই বেশ অবাক হলো,
নূরবানু সিকদার, ফিসফিসিয়ে বললেন,

“আম্মা কি হয়েছে আপনার? এরকম ভয় পাচ্ছেন কেন? সেরিন শান্ত হন আম্মা জান। ভালো না লাগলে আামর ভেতরে চলে যাব৷”

সেরিন,শক্ত করে আম্মাকে জড়িয়ে ধরেন।
সেরিনের বাবা বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সেরিনের হাত ধরেন,

“আম্মা জান কি হয়েছে?’

” শিমুলের আব্বু আমি সেরিনকে ভেতরে যাচ্ছি আপনি কথা বলুন৷’

নূরবানু সিকদার মেয়েকে নিয়ে ভেতরে চলে গেলেন।
উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।
আবু সুফিয়ান চিন্তিত স্বরে বললেন,

“আসলে সেরিন হুট হাট কোন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে না পারলে অসুস্থ হয়ে যায়।
আমি জানিনা কেন ও এভাবে ঘাবড়ে গিয়েছে। কিন্তু আমার আম্মাকে সময় দিবেন।”

আবু সুফিয়ানের মুখের কথা শেষ হতে না হতে আসলাম ভুইয়া বলে উঠলেন,

“সেরিনের এত বড় রোগ আছে আগে বলেন নিত সুফিয়ান ভাই৷’

আবু সুফিয়ান অবাক হলেন। কি বলে এই লোক। তিনি ভ্রু কুঁচকে তাকান। এবং ঝরঝরে কন্ঠে বলে ওঠেন,

“মস্টার মসাই বন্ধু বলে আপনি সব সময় রসিকতা করবেন সেটা কিন্তু হবেনা। সেরিন আমার মেয়ে আমার সালি না।
আর হ্যাঁ আমার আম্মা জানের কোন রোগ নেই। ও শুধু একটু প্যানিক করে নতুন পরিস্থিতিতে।
আপনাদের যদি মনে হয় আমার আম্মা অসুস্থ তবে আপনারা আসতে পারেন। জেনে শুনে একটা অসুস্থ
মেয়েকে বিয়ে করাবেন না নিজেদের ছেলের সাথে৷”

আবু সুফিয়ানের শক্ত মেজাজ দেখে শাহরিয়ার ঘাবড়ে গেলো।

“আরে নানা আঙ্কেল আপনি প্লিজ মনে কিছু নিবেন না। চাচা পুরাতন কালের মানুষ।
এসব বুঝেনা।’

আরিফ চৌধুরী ছেলের সাথে তাল দিলেন,

” হ্যাঁ আসলাম। কি যে সব বলোনা তুমি। সম্পর্ক করতে এসেছি ভাঙতে না৷”

এরপর বেশ কিছুক্ষণ তারা বসে কথা বলে।
আরিফ চৌধুরী বলেন,

“আমি চেয়েছিলাম আজ সেরিন মাকে আংটি পরিয়ে যাব। কিন্তু সেসব হলোনা। যাই হোক আপনি কি সিদ্ধান্ত নিলেন আমাকে জানাবেন।”

“জি অবশ্যই’

শাহারিয়ার শহ সবাই উঠে দাঁড়ায় বেরিয়ে যাবে। কিন্তু শাহারিয়ার বার বার তাকাচ্ছিলো একটু সেরিনকে দেখবে বলে।
আবু সুফিয়ান বুঝতে পেরে বললেন,

” বাবা শাহারিয়ার তুমি কি সেরিনের সাথে দেখা করতে চাও?”

শাহারিয়ার চোখ উজ্জ্বল হয়ে গেলো

“জি পারব কি?’

” হ্যাঁ যেতে পারো। সেরিনের রুম ওদিকে।’

শাহারিয়ার খুশি হয়ে গেলো। সে দ্রুত সেরিনের রুমের দিকে এগিয়ে গেলো৷
সেরিনের জ্বর চলে এসেছে।
সেরিন ঘাবড়ে গেলে ওর এমন হয়। কক্সবাজার থেকেও সেরিনের এ কারণেই জ্বর এসেছিলো। কায়ানের বোল্ড কনফার্মেশন সেরিন হজম করতে পেরেছিলো না৷
তখনো সেরিন প্যানিক এটাক করেছিলো।
নূরবানু সিকদার মেয়ের পাশে বসে আছেন।
হুট করে মেয়েটদ ঘাবড়ে গেলো কেন তিনি বুঝতে পারলেন না। এমনটা সেরিনের সাথে তখন হয় যখন সেরিনের ছোট্ট স্বচ্ছ মনটা কোন কঠিন সত্যি মেনে নিতে পারেনা৷
এটা তিনি জানেনা৷
তবে আজ কি হলো। এ বিষয়ে সেরিনের সাথে কথা বলতে হবে।
এমন সময় রুমে আসে শাহারিয়ার।

“আন্টি আসব?”

নূরবানু সিকদার ফিরে চায়৷

“হ্যাঁ বাবা এসো৷ “

শাহারিয়ার ভেতরে প্রবেশ করলো।
মেহেগুনি কাঠের ডিজাইন করা একটা জব্দ খাট।
তার উপর নীল রঙা একটা বেডশিট।
সেরিনের পরনে গোলাপি রঙা একটা ড্রেস। ওর গায়ে নূরবানু সিকদারের হাতে বোনা একটা কাথা। মেয়েটার চোখ বন্ধ। মায়াবী চোখ জোড়া অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে।
সেরিনের রুমটা গোছানো। সেরিনের রুমে একটা সুন্দর মিষ্টি ঘ্রাণ আছে।
শাহারিয়ার অনুভব করে সেটা।
শাহারিয়ার অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয় সেরিনের দিকে।
নূরবানু সিকদার বলেন,

“তুমি বসবে?”

“না না আন্টি, আপনি বসুন। যদি কিছু মনে না করেন সেরিনের নাম্বার টা পেতে পারি?”

“না। “

“কেন?’

” সেরিনের ফোন নেই।”

“কি বলেন ওরত বয়স হয়েছে।”

“হ্যা বয়স হয়েছে। ওর ফোন ছিলোও পরে ট্যুরে গেলো আমার বড় মেয়ের সাথে। তারপর ওখান থেকে ফোনটা ভেঙে গিয়েছে।”

“বড় আপুর সাথে গেছিলো?”

“হ্যাঁ আমার বড় মেয়ে সাথে ওর বড় ভাসুর। তার স্ত্রী।”

“বড় ভাসুরের নাম কি?”

“সিকদার কায়ান মাহাবুব।”

শাহারিয়ার ভেতরে খটকা লাগে। সেদিন রাস্তায় কি ওই লোকটাই ছিলো।
শাহারিয়ার ভাবতে পারেনা আর কিছু। সে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে যায়।


রাত ৮ টা।
কায়ান বসে আছে লিভিং রুমে।
অপর দিকে শিমুল এসে বসলো।
বাচ্চা দের খাইয়ে একটু টিভি দেখতে পাঠিয়েছে সে।
কায়ান নিজের ফোনে কিছু করছিলো এমন সময় শিমুলের ফোনে কল করে ওর মা।
শিমুল কল কেটে ব্যাক করে।
শিমুলের হাতে ছিলো পানির গ্লাস তাই সে ফোন লাউড দেয়।

“হ্যালো মা।”

“কেমন আছিস মা?”

“আমি ভালো। তুমি?’

” এইত ভালো।”

“সেরিনের কি খবর?”

সেরিন নামটা শুনে কায়ান ফোন থেকে মনোযোগ সরিয়ে শিমুলের দিকে তাকায়।

“সেরিন অসুস্থ রে মা৷”

“কেন কি হয়েছে?”

“আমি তোর সাথে কথা বলব কিন্তু তার আগেই অনেক কিছু হয়ে গেলো। জামাই বাবাকে বলিস। সেরিনের জন্য ভালো সম্বন্ধ এসেছে।
ছেলে আর্মির ক্যাপ্টেন কিছুদিন পর মেজর হয়ে যাবে। তার বাবা এসেছিলো আজ। সেরিনকে দেখতে। সেরিন ওই সময় কোন ভাবে প্যানিক এটাক করেছে। এখন ভীষণ জ্বর ওর শরীরে।”

“ও মা কি বলো। সেরিনের সুস্থতা আগে। এসব বিয়ে ফিরে পরে।’

” হ্যাঁ তোর বাবা বলেছে। আমার মেয়ের সুস্থতা আগে কিন্তু ছেলেটা ভালো রে মা। তুই জামাইকে বলিসত সেও যাতে একটু খোঁজ নেয়।”

“আমাকে ডিটেইলস দিয়ে দাও কায়ান ভাইকে বলব। ভাইয়া ভালো পারে এসব কাজ।”

“আচ্ছা।’

শিমুল এরপর আরও কিছু কথা বলে কেটে দিলো কল। ওদিকে কায়ান পুরাই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। রাগে তার মাথাটা ফেটে যাচ্ছে।
কায়ান কিছু না বলেই উঠে গেলো সেখান থেকে।
শিমুল অবাক হলো।


কিছুক্ষণ পর কায়ানের গাড়ির শব্দ শুনে সবাই অবাক। এত রাতে কায়ান কই যায়।
তবে বানু মির্জার মুখে কোন চিন্তা নেই। যেন তিনি জানেন তার ছেলে কই যাবে।


রাত ১২ টা।
সবাই ঘুমিয়ে গিয়েছে।
সেরিনকেও কোন মতে খাইয়ে দিয়ে ঔষধ দিয়ে দিয়েছে নূরবানু সিকদার।
সেরিন আপাততঃ ঘুমাচ্ছে।
এমন সময় সেরিনের রুমের জানালা টপকে এলো কায়ান।
অন্ধকারের মাঝে সে ফ্লাস লাইট জ্বালে।
সে রুমে প্রবেশ করে আগে সেরিনের রুমের দরজা বন্ধ করে।
এরপর ধির পায়ে সেরিনের দিকে এগিয়ে যায়৷
সেরিনের কাপলে হাত রাখে,

” সেরিন৷”

সেরিন নড়েচড়ে না। কোন রেসপন্স করেনা।
কায়ান সেরিনের কপালে চুমু খায়। এরপর সেরিনের কাপলে কপাল ঠেকিয়ে আবার ডাকে সেরিনকে,

“সেরিন, ওয়েক আপ। আমি কায়ান৷’

সেরিন আদো আদো শুনতে পায় কথা গুলো। সে হলকা নড়েচড়ে ওঠে।
কায়ান ফের ডাকে সেরিনকে।

” ওয়েক আপ লাভ৷”

সেরিন চোখ খুলে তাকায়।
ফোনের আলোতে কায়ানের মুখশ্রী স্পষ্ট।
সেরিনের ভেতরে থাকা ইমোশন গুলো হুট করেই বেরিয়ে এলো।
সেরিন জড়িয়ে ধরলো কায়ানকে।
কায়ান, সেরিনের পিঠে হাত রাখে।

“রিলাক্স আই এম হেয়ার৷”

সেরিন নীরবে কাঁদছে। সেরিন চাপা সভাবের। ও চাপা কান্না করে। ওর কান্নায় কোন শব্দ হয়না।
কায়ান শক্ত করে সেরিনকে জড়িয়ে রাখে যেন ছাড়লেই হারিয়ে যাবে।

“সেরিন, এত ঘাবড়ে যাও কেন? আমি আছিত৷”

“কই আছেন? থাকলে কারোর সামনে আমাকে বসতে হতোনা৷”

অভিমান করেছে মেয়েটা কায়ান বুঝে। কিন্তু কায়ান ভেবেছিলো সে সবটা ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু এই শাহারিয়ার যে এত বড় প্লেয়ার তা জানতা না কায়ান।
সে সেরিনের পিঠে হাত বুলিয়ে দেয়।
সেরিনের মুখটা নিজের সামনে এনে সেরিনের ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরে।
পরম আদরে ভালোবাসা দিতে থাকে।
কিছুক্ষণ পর কায়ান সরে আসে।

“রিলাস্ক সেরিন। আমি কথা দিচ্ছি কারোর চোখ পড়তে দেবনা তোমার উপর।”

সেরিন একটু সরে আসে। ফুপাতে ফুপাতে বলে,

“ম মিথ্যুক। ক কোথায় ছিলেন তাহলে বিকালে?”

কায়ান নিজের কান ধরে বলে,

“সরি লাভ। তখন আমি জানতাম না৷”

“আমাকে ফোন দিন। আমার ফোন ঠিক করে দিন।”

“এনেছি ফোন এনেছি৷”

সেরিন চোখ তুলে তাকায়৷

“হ্যাঁ।”

সেরিন নাক টেনে বলে,

“কিন্তু বাড়িতে কি বলব?”

“কাল আমি আসব। এসে ফোন দিয়ে যাব সবার সামনে। আর বলব আমার থেকেই তোমার ফোন নষ্ট হয়েছে তাই আমি ফেরত দিয়ে গেলাম।”

কায়ান আলতো করে সেরিনের ফুলে থাকা নাকে চুমু দিল। তারপর তাকে নিজের বুকে জড়িয়ে খাটের সাথে হেলান দিয়ে রাখল।

“পাগল মেয়ে, এত ভয় পাচ্ছো কেন? আমি তো আছি।”

সেরিন কাঁপা গলায় বলল,

“ওরা আজ আমাকে আংটি পরিয়ে দিত… আমি শুনেছি।”

কায়ান হালকা হেসে মাথা নাড়ল,

“পাগল নাকি? কার এত সাহস আছে?”

সেরিনও একটু হাসল,

“হ্যাঁ, কারোরই তো সাহস নেই।”

দু’জনেই হেসে উঠল।
কায়ান স্নেহভরে সেরিনের কপাল, চোখ আর গালে চুমু খেল।
নরম গলায় বলল,

“আমি আছি, সেরিন…”

চলবে?

[ গল্প ধিরে এগাবে। সব কিছু ধুম ধারাক্কা হইলে মজা নাই। তাইলেত ফিকশন হয়ে গেলো। বাস্তবে এ সম্পর্কের পূর্ণতা পেতে বনুত কসরত করতে হবে]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply