Golpo romantic golpo নতুন প্রেমের গান

নতুন প্রেমের গান পর্ব ২০


নতুনপ্রেমেরগান (২০)

“ সুপ্রভা চোর নয়।তার সাক্ষী আমি নিজে।”

পুরুষালি কণ্ঠস্বর শুনে সবাই চমকে উঠে পেছন ফিরে তাকায়।দরজার কাছে শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির দীর্ঘদিনের ড্রাইভার, রহমত মিয়া। তার চোখেমুখে কোনো দ্বিধা নেই, বরং রয়েছে এক অটল সত্য প্রকাশের দৃঢ়তা।তাকে দেখে চোখ দুটো বড় বড় হয়ে যায় নোরার।সে রহমত মিয়ার দিকে তেড়ে আসে।কুপিত কণ্ঠে বলে–

“আমাদের পারিবারিক ব্যাপারে আপনি কেন কথা বলতে এসেছেন?নাকি এই চুরির সাথে আপনা‌র‌ও যোগ রয়েছে?সুপ্রভা ধরা পড়লে আপনি‌ও ধরা পড়ে যাবেন, এই ভয়ে সুপ্রভাকে সাধু প্রমাণ করতে এসেছেন?”

রহমত মিয়া নোরার কথার উত্তর দেন না। বরং তিনি ধীরে ধীরে ঘরের মাঝখানে এগিয়ে আসেন। চারপাশের জেরা করা দৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি বলতে শুরু করেন, “সেদিন রাতে সুপ্রভা মা যখন ঘর থেকে বের হয়, তখন আমি গ্যারেজেই ছিলাম। আমার ফোনটা ভুল করে গাড়ির সিটের ওপর ফেলে গিয়েছিলাম, সেটা নিতেই আমি এসেছিলাম।ফোন নিয়ে রুমের ফেরার সময় হঠাৎই একটা অবয়ব আমার সামনে দিয়ে ছুটে যায়।ভয়ে আমার পুরো শরীর কেঁপে উঠে।ভয়ের চোটে লুঙ্গি‌ও সামান্য ভিজে গেছিল। তবুও আমি পেছন থেকে হাক ছাড়ি– “ এই কে? কে এখানে?
দাঁড়া‌ও ! দাঁড়াও বলছি।”

আমি বলতেই অবয়ব টা দাঁড়িয়ে যায়।আমি দৌড়ে গিয়ে অবয়ব টাও মুখের উপর লাইট ধরতেই চমকে উঠি।কাঁপা গলায় বলি– “ সুপ্রভা মা তুমি? তুমি এতো রাতে কোথায় যাচ্ছো?”

সুপ্রভা মা কোনো উত্তর দেয় না। কাচুমাচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।আমি তাকে ঘরে ফেরার কথা বলি। কিন্তু সে ফিরবে না বলে।আমি‌ও নাছোড়বান্দা।
মাকে ঘরে ফেরানোর জন্য বাচ্চাদের মতো তার ব্যাগ ধরে টানাটানি করি।এক পর্যায়ে ব্যাগ টা নিচে পড়ে যায়। ব্যাগের চেইন খোলা থাকার দরুন ব্যাগের ভেতর যা ছিল সব বেরিয়ে আসে।বিশ্বাস করুন স্যার , ম্যাডাম সুপ্রভা মায়ের ব্যাগে কোনো গয়না, টাকা পয়সা ছিলো না।আমি স্পষ্ট দেখেছিলাম কয়েকটা কাগজপত্র ছাড়া আর কিছুই নেই।আমি আল্লাহর কসম করে বলছি
সুপ্রভার ব্যাগে আমি কাগজপত্র ব্যতীত আর কিছুই দেখি নি। না সুপ্রভা মা চুরি করেছে আর না আমি তার সাথে রয়েছি।আমি একটা নির্দোষ মেয়েকে অপবাদের হাত থেকে বাঁচাতে চেয়েছি।এর পেছনে আমার আর কোনো উদ্দেশ্য নেই।”

রহমত মিয়ার কথা শেষ হতেই রওনক চৌধুরী এগিয়ে এসে তার কাঁধে দৃঢ়ভাবে হাত রাখেন। রহমতের চোখে চোখ রেখে শান্ত গলায় বলেন –

“ তুমি কুড়িটা বছর আমাদের সাথে রয়েছো।
আমি তোমাকে খুব ভালো করেই চিনি জানি।
আমি তোমাকে বিশ্বাস করি।আমি জানি তুমি কোন অন্যায় কাজ করতে পারো না।আর এটাও জানি সুপ্রভা মাও চুরি করতে পারে না।”

নোরার উদ্দেশ্য হাসিল না হলেও সে দমে না। বরং বিরক্ত গলায় বলে– “ তুমি তো জানতে সুপ্রভা বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে, তাহলে আমাদেরকে বলো নি কেন?”

র‌হমত মিয়া কিছু বলার আগেই বাড়ির হেল্পিং হ্যান্ড লতিফা বেগম বলে উঠেন – “ ভাবীর যাওনের কথা আপনি‌ও তো জানতেন ম্যাডাম ‌‌। তাইলে আপনে হগ্গলরে ক্যান জানাননি?”

নোরা হকচকিয়ে যায়।সে ধরা পড়া চোরের ন্যায় আমতা আমতা করে বলে– “ মানে? কী সব আজেবাজে কথা বলছো তুমি? সুপ্রভা বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে, এটা আমি কিভাবে জানবো?”

লতিফা বেগম ফস করে বলে বসেন – “ আপনে সত্যি‌ই কিছু জানেন না ম্যাডাম?”

নোরা অস্ফুট স্বরে বলে– “ না।আমি কিছু জানি না।”

লতিফা বেগম বাঁকা হেসে বলেন – “ আপনে না জানলেও আমি অনেক কিছু জানি ম্যাডাম।”

ঈশিতা চৌধুরী কঠিন গলায় বলেন – “ এতো ভনিতা না করে যা বলবি খোলসা করে বল তো।আমার আর ভালো লাগছে না।মাথাটা আউলা হয়ে আছে।”

লতিফা বেগম দৃঢ় কণ্ঠে বললেন – “ ভাবী নিজের ঘর সংসার ছাইড়া চেয়ে চায় নাই।তারে বাধ্য করা হয়েছে।তারে কেডায় বাধ্য করছে জানেন?”

সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে লতিফা বেগমের দিকে তাকিয়ে থাকে। লতিফা বেগম নোরার দিকে আঙ্গুল তুলে শক্ত গলায় বলেন – “ এই যে এই মাইয়াডা। প্রফেসর স্যার ভাবীরে বিয়া করতে চাইছে দেখে ভাবীরে যা নয় তাই বলে অপমান করছে।ভাবী অপমান সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হ‌ইছে।”

লতিফা বেগমের কথায় উপস্থিত সকলে চমকে উঠে। ঈশিতা চৌধুরীর চোখে ক্রোধের আগুন জ্বলে ওঠে।তিনি হিসহিস করে বললেন, “এত বড় সাহস তোর! লতিফা যা বলছে তা কি সত্যি?”

নোরার ফ্যাকাশে মুখটা ভয়ে আরও সাদা হয়ে যায়। সে তোতলামি করে কিছু একটা বলতে চায়, কিন্তু তার আগেই ঈশিতা চৌধুরী হিংস্র বাঘিনীর মতো নোরার দিকে তেড়ে যান। তিনি হাত উঠিয়ে সজোরে এক চড় বসাতে উদ্যত হলেন।

ঠিক সেই মুহূর্তে বাতাসের বেগে সুপ্রভা সামনে এগিয়ে এসে ঈশিতা চৌধুরীর হাতটা ধরে ফেলে।
নরম গলায় বলে– “ এখানে নোরার কোনো দোষ নেই মা।বাড়ির মেয়েকে দেখতে এসে বিধবা ভাবীকে পছন্দ করা, একটা মেয়ের কাছে এর থেকে বড় অপমান আর কী হতে পারে বলুন? আপনি আমার দিকটা দেখেছেন, কিন্তু নোরার কথাটা একবার‌ও ভেবে দেখেননি মা।সেই মুহূর্তে নোরার মনের অবস্থা জানতে চাননি।নোরা তো প্রফেসরের জন্যেই সেজেছিল, তাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু প্রফেসর তার সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিল। সেটাও আবার আমার জন্য। এখানে নোরার রাগ হ‌ওয়াটা স্বাভাবিক মা।নোরার জায়গায় আমি থাকলে হয়তো আমিও এমনটাই করতাম।”

সুপ্রভা একটু থেমে আবারও বলে–
“একটা মেয়ের স্বপ্ন যখন চুরমার হয়ে যায়, তখন সে বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলে।ঠিক, ভুল বিচার করার ক্ষমতা থাকে না তার।নোরা যা করেছে না বুঝে করেছে।নোরার প্রতি কোনো অভিযোগ নেই আমার।আমি নোরাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আপনারাও নোরাকে ক্ষমা করে দিন।”

নোরা যেন বাকরুদ্ধ হয়ে যায়।সুপ্রভাকে কোনো কালেই পছন্দ ছিল না তার।সময়ে অসময়ে সে সুপ্রভাকে অপমান অপদস্থ করেছে।এরপরও সুপ্রভা তার হয়ে কথা বলবে ,এটা কল্পনাতীত ছিল তার।সে ভেতরে ভেতরে সুপ্রভার প্রতি নরম হলেও তার ধারালো কুৎসিত অহম বজায় রেখে রাগে গজগজ করতে করতে নিজের রুমে চলে যায়।

ঈশিতা চৌধুরী সুপ্রভাকে জড়িয়ে ধরে কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে দেন। দরদমাখা গলায় বলেন– “ তোকে খুব ভালোবাসি রে মা।অনেক বেশি ভালোবাসি।”

সুপ্রভার চোখের কোণে জল জমে। ঈশিতা চৌধুরীর আড়ালে চোখের জল মুছে নেয় সুপ্রভা।ভেজা গলায় বলে– “ আমি‌ও আপনাকে ভালোবাসি মা।”

ঈশিতা চৌধুরী সুপ্রভার চিবুক ধরে অভিমানী গলায় বলেন– “ এবার আমার কথা না শুনলে আমি কিন্তু খুব রাগ করব।”

সুপ্রভা মাথা নিচু করে বলে– “ আপনার সব কথা শুনবো মা।”

ঈশিতা চৌধুরীর চোখ মুখ খুশিতে ঝলমল করে উঠে।তিনি আনন্দিত গলায় বলেন– “ আমি এক্ষুনি সিয়াদাতকে কল করছি।যত দ্রুত সম্ভব তোদের বিয়ের….! বাক্য শেষ করার আগেই সিয়াদাতের রাশভারী গলা শোনা যায় – “ সুপ্রভার কোনো যোগ্যতাই নেই প্রফেসর শেখ সিয়াদাত শাহারিয়ার ব‌উ হ‌ওয়ার।আমি সুপ্রভাকে নয় নোরা চৌধুরীকে বিয়ে করতে চাই।।”

চলবে ইনশাআল্লাহ।।

[ সবার বিয়ের দাওয়াত থাকলো।নোরা আর প্রফেসরের বিয়ের]

®Nuzaifa Noon

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply