Golpo romantic golpo দ্যা ব্ল্যাক মার্ক

দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৯


লেখনীতেআশুও_নিশু

দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৯

কপি করা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ।🚫🚫

রাত ১২ টা।হসপিটালের করিডোরে হাঁটছিল নাহিয়ান।সাদা আলোয় ভরা লম্বা করিডোরটা যেন আরও নির্জন লাগছিলো তার অস্থির মনটার মতো।যদিও চারপাশে নির্জন নয় যথেষ্ট মানুষের আনাগোনা রয়েছে।মুখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ,কপাল৷ কুঁচকে আছে,চোখে ক্লান্তি।নাহিয়ানের ফোনে কল বেজে উঠায় সঙ্গে জলজল করে উঠল নিশানের নামটি।নাহিয়ান কল রিসিভ করে শান্ত গলায় বলে,
“হ্যালো ভাইয়া।”
ওপাশ থেকে কিছুটা বিরক্ত,কিছুটা উদ্বিগ্ন কন্ঠ ভেসে আসে,
“কীরে কোথায় তুই?রাত কয়টা বাজে দেখেছিস?”
নাহিয়ান বাইরের দিকে তাকিয়ে বলে,
“হসপিটালে আমি।”
নিশান দুশ্চিন্ত হয়ে বলে,

“কেনো?কিছু হয়েছে তোর??”

নাহিয়ান একটু থেমে ধীরে উত্তর দেয়,

“না,আমার কিছু হয়নি।একটা মেয়ের এক্সিডেন্ট হয়েছিল..আমার গাড়ির সাথেই।তাই ওকে তখনিই হসপিটালে নিয়ে এসেছিলাম।”
কথাটা শুনে নিশান কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে।তারপর কঠিন স্বরে বলে,

“তো বাসায় আয় এখন।সেই কোন বিকালে মিটিং শেষ হওয়ার পর বেরিয়েছিস।”

নাহিয়ান দৃঢ়ভাবে বলে,

“না ভাইয়া,ওই মেয়েটাকে হয়তে কালকে রিলিজ দিবে তাই আজকে আমাকে এখানে থাকতে হবে।”

নিশানের রাগ,বিরক্ত সবকিছু একসাথে লাগছে।মনে মনে ভাবতে থাকে একটা অচেনা,অজানা মেয়ের জন্য কেন তার ভাই হসপিটালে থাকবে?এরপর আর কিছুক্ষণ কথা বলার পর কল কেটে দেয়।ফোনটা পকেটে রেখে নাহিয়ান কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাড়িয়ে থাকে।তারপর ধীরে ধীরে কেবিনের দিকে এগিয়ে যায়।দরজা খুলতেই তার চোখে পড়ে নিষ্পাপ মেয়েটির দিকে।মেয়েটার ঠোঁটগুলো শুকনো হয়ে আছে।মাথায় ব্যান্ডেজ করা চোখগুলো পাকিয়ে তাকাচ্ছে চারিদিকে।নাহিয়ান ধীরে বলল,

”কেমন লাগছে এখন?”

”ভালো কিন্তু মাথাটা ভার ভার লাগছে।”

”সমস্যা নেই।এরকম লাগবে।”

“আমাকে এখানে আপনও এনেছেন?”

“আমি ছাড়া কাউকে দেখছো?”

তিশা একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলে,

”আপনি শুয়ে পড়ুন।অনেক রাত হয়েছে।”

“আমার এখানে ঘুম আসবেনা।তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।”

তিশা অন্যদিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটে।মনে মনে ভাবে
নবাবপুত্র এসেছে যেন হুহ।এসব ভাবতে ভাবতেই কিছু সময় পর তিশা ঘুমিয়ে পড়ে।


এহসান বাড়ির সবচেয়ে বড় কক্ষটি নিহানের। বিশাল ঘর—গোছানো, পরিপাটি, আর এক ধরনের নিঃশব্দ আভিজাত্যে ভরা। দেয়ালজুড়ে হালকা রঙের ছোঁয়া, বড় জানালাগুলোতে ঝুলছে সাদা পর্দা। বেলকনি দিয়ে ভেসে আসা চাঁদের নরম আলো পুরো ঘরটাকে এক স্বপ্নময় আবহে ঢেকে রেখেছে।

বিছানার একপাশে শান্তভাবে ঘুমিয়ে আছে তুবা। চাঁদের আলো এসে পড়েছে তার মুখে নিঃশব্দ, নিরীহ, যেন কোনো গল্পের চরিত্র। আর অপর পাশে মুখ ফিরিয়ে ঘুমোচ্ছে নিহান। অন্যদিনের তুলনায় আজ সে অনেক আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে, যেন দিনের ক্লান্তি তাকে জোর করেই বিশ্রামে ঠেলে দিয়েছে।চারপাশে গভীর নীরবতা।মাঝে মাঝে শুধু জানালার সাদা পর্দাগুলো বাতাসে দুলে উঠছে।

হঠাৎ একজন কালো কাপড়ে মোড়া,লম্বা চৌড়া এক ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।হাতে ধরা ছোট্ট একটা ছুড়ি।সে ধীরে ধীরে নিহানের দিকে এগিয়ে এলো নিহানের দিকে।ধীরে ধীরে ছুড়িটা নিহানের পেটের কাছে নামাল।

“না!”

হঠাৎ করেই চিৎকার করে ধড়ফড় করে উঠে বসে তুবা।
হাত পা সব কাঁপছে চোখ দিয়ে টপটপিয়ে পানি পড়ছে।
নিহান কান্নার শব্দ পেয়ে উঠে বসে।উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলে,

“কি হয়েছে? কাঁদছো কেন?”

তুবা কাঁপা কাঁপা হাতগুলো দিয়ে নিহানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।নিহান অবাক হলো বেশ হঠাৎ মাঝরাতে তুবা তাকে জড়িয়ে ধরলো কেন?কাঁদছেই বা কেন?নিহান জড়িয়ে থাকা অবস্থায় আবারো জিজ্ঞেস করে,

”কি হয়েছে পাখি?কাঁদছো কেন আবার?কোনো খারাপ সপ্ন দেখেছো।”

তুবা হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলে,

“কিছু হয়নি তো আপনার?”

“এত তাড়াতাড়ি ম’রছি না আর ম’রলেও তোমাকে সাথে নিয়ে মরবো।তোমাকে কার ভরসায় রেখে যাবো আমি?”

তুবা একটু শান্ত হলো। নিহান মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে,

“ঘুমিয়ে পড়ো।”

তুবা বাধ্য মেয়ের মতো চোখের জল মুছে শুয়ে পড়ে।নিহান ও কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে যায়।


রোদ্রময় সকালের আলোয় ছোঁয়ায় চারপাশের নতুন করে জেগে উঠেছে।সূর্যের কোমল সোনালি রশ্মি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে আকাশজুড়ে,নীল আকাশটা হয়ে আছে স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল। পাখিগুলো তালে বসে কিচিরমিচির শব্দ করছেে।
এহসান বাড়ির সবাই বসেছে ব্রেকফাস্ট করতে।আতিয়া বেগম সহ আরো কিছু সার্ভেন্ট খাবার সার্ভ করতে ব্যাস্ত।
এখানে সবাই উপস্থিত থাকলেও নেই শুধু নাহিয়ান।নিহান মনযোগ সহকারে খাবার খাচ্ছে। খাবার খাওয়ার সময় তার কথা একদম পছন্দ নয় সে চুপচাপ খাবার খেতে খেতে খেয়াল করলো নাহিয়ান নেই।নিহান ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,

“নাহিয়ান কই?”

নিশান জবার দেয়,

”ও হসপিটালে।একটা মেয়ের ওর গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট হয়েছিলো তাই।”

নিহান মাথা নাড়ায়।তুবা ভাবতে থাকে কার না কার এক্সিডেন্ট হয়েছে কে জানে?এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ নাহিয়ান উপস্থিত হয় ক্লান্ত চেহারা পড়নে কালকের সেই কালো শার্ট আর ট্রাউজার,চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে।নিশান নাহিয়ানকে আসতে দেখে বলে,

”বস এখানে ব্রেকফাস্ট করে যা।”

“না ভাইয়া আমি ফ্রেশ হবো তারপর।”

নাহিয়ান চলে যাচ্ছিলো হঠাৎ কিছু একটা মাথার মধ্যে আসায় তুবাকে বলে,

“তোমার বান্ধবীর এক্সিডেন্ট হয়েছিলো আরকি আমার গাড়ির সাথে।”

তুবা অবাক কন্ঠে বলে,

“ও ঠিক আছে তো?কীভাবে হলো এসব?আপনি কি ঠিক করে গাড়ি চালাননি?”

নাহিয়ান কিছু বলার আগেই নিহান ধমকে উঠে বলে,

“শাট আপ!চুপচাপ খাবার খাও।”

তুবা চুপসে গেল।চুপচাপ খাবার খেয়ে উঠে চলে যেতেই চেনা কন্ঠস্বর শুনে পেছনে তাকালো দেখল আরু।সঙ্গে সঙ্গে মাথার মেজাজটা গরম হয়ে গেলো।কিন্তু কেন হলো সেটা তুবার ও অজানা।আরু মেয়েটা নিহানের পাশে বসেছে।কালকো কখন গিয়েছিলো আরু সেটা তুবা দেখেনি আর কেনো গিয়েছিলো সেটাও তুবার জানা নেই।নিহান হালকা হেসে কথা বলছে মেয়েটার সাথে।তুবা হনহনিয়ে এসে নিহানের আরেকপাশে বসে।আরু ভ্রু কুঁচকালো হালকা।এরপর আবারো নিহানের সাথে কথা বলতে লাগে।তুবা শান্ত গলায় বলে,

“উপরে আসুন নিহান।”

নিহান চমকে তাকালো তার সাথে আরু আর নিশান ও।তুবা আবারো বলে,

”কি হলো?শুনছেন না কি বলছি।”

নিহানের অবাক লাগলো বেশ।আরু রেগে বলে,

“দেখছোনা ওর সাথে কথা বলছি? তারপর ও চিৎকার করছো কেন?স্টুপিড একটা।”

তুবা’র রাগ এবার চেহারায় স্পষ্টভাবে ফুটে আছে।তুবা দাঁড়িয়ে হাতে হাত চেপে তাকিয়ে আছে।কিছুক্ষণ আগে আরুর বলা কথাগুলো এখনো কানে বাঝছে সবকিছু ভেবেই আরুর দিকে এগিয়ে আসে তুবা।কয়েক সেকেন্ড পর আরুর কাঁধ সমান চুলগুলো টেনে ধরে বলে,
“কি বলেছিলি না, তোরা কথা বলছিস?আমাকে চিনিস আমি নিহান এহসানের অফিসিয়াল ওয়াইফ মিসেস নিহান এহসান।শুনেছিস নাকি আরো শুনবি?এইযে গলায় এগুলো দেখছিস না হু এগুলা ওই সমানে বসা তোর ফ্রেন্ড নাকি কি ওনার করা।আর কিছু শুনবি।”

আরু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে তুবার দিকে।নিহান কি বলবে নিজেই বুঝতে পারছেনা।এরকম আচরণ তুবার কোনোদিন দেখেনি।তো আজকে কিজন্য এসব।নিশান তুবার শেষের কথাগুলো শুনে কাশছে।নোভা খিলখিল করে হাসছে তা দেখে আরু মেয়েটা আরো রেগে যায়।নোভা রেগে বলে,

“কি হয়েছে?আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেন।অন্যের জামাইর দিকে নজর দিতে বেশ ভালো লাগে না।”

আরু চিৎকার করে নিহানকে বলে,

“হুয়াট ইজ দিস নিহান।এই স্টুপিডগুলোর কি সমস্যা ওরা আমার সাথে এমন কেন করছে?তোর বাসায় এসে আমাকে এমন অপমানিত হতে হবে আমি জীবনেও ভাবি নি।তার উপর এই মেয়েটা আমার চুল টেনে ধরে আছে।এই মেয়ে সরো।”

তুবা নিজের শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে আরুর গালে একটা থাপ্পড় দেয়।আর বলে,

“কালকে অনেক সহ্য করেছি কিন্তু আর না।আমার জামাই এর সাৎে আরেকবার কথা বলতে আসলে তোর জিভ টেনে ছিঁড়ে দিবো আমি।”

নিহান যেনো অবাকের চরম পর্যায়ে চলে গেলো।হঠাৎ মেয়েটার এমন ব্যবহার এমন রূপে বেশ অবাক হয়ে গেলো।নিহান তুবার হাত ধরে ধমকের সুরে বলে,
“তুবা এমন করছো কেন?আরু তোমার যথেষ্ট বড় ওকে
স্যরি বলো।”

“বলবোনা স্যরি,কি করবেন?মা’রবেন মারুন।”
নিহান বুঝতে পারলোনা মেয়েটা এমন কেন করছে হুট করে।নিহান জানতো মেয়েটা তাকে ভয় পায় একটু হলেও পায় তাহলে এখন সবার সামনে এমন করছে কেন।নিহান কিছুতেই হিসাব মিলাতে পারছেনা।এরমধ্যে আরু কান্না করে নিহানকে জড়িয়ে ধরে বলে,

“নিহান দেখেছিস মেয়েটা আমাকে কেমন করছে?”

“ন্যাকা কান্না করছিস কেনো?ছাড় ওনাকে।”

নিহান চোখ রাঙিয়ে তাকালো তুবার দিকে।তুবা এবার একটু চুপসে যায়।কিন্তু মনের ভেতরে জলছে দপদপ করে আগুন।কিন্তু কেন জলছে তা তুবার জানা নেই।তুবা হনহনিয়ে উপের চলে যায়।নিহান নিজের থেকে আরুকে সড়িয়ে দিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে পড়ে।নিশান আর নোভা এখনো বসে আছে।নোভা মিটিমিটি হাসছে আরুকে দেখে।ওদিকে তুবা উপরে গিয়ে রুমের দরজা লাগিয়ে দিয়েছে।নিহান দরজার কাছে গিয়ে দেখে দরজা ভেতরে থেকে লক করা।নিহান চিৎকার করে বলে,

“তুবা প্লিজ দরজা খুলো।”

ভেতর থেকে অভিমানী কন্ঠ ভেসে এল,

“আপনি আপনার বান্ধবীর কাছে যান।আমার কাছে এসেছেন কেনো?”

”বাচ্চার আম্মু বানানোর জন্য।”

নিহান ভেতর থেকে কোনো আওয়াজ শব্দ না পেয়ে বুঝল মেয়েটা লজ্জা পেয়েছে।তুবা কয়েক সেকেন্ড পর দরজা খুলে দেয়।নিহান ভেতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়।ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,

“আহা বউ!এমন ফকফকে দিনে তুমি আমার মুড এনে দিলে।রাতে আনলে কি হতো এখন দিনে করতে হবে।”

“সরুন।কাছে আসবেন না।”

নিহান কেশে বলে,
”তুমি না বললে তোমার গলায় করা দা’গগুলো আমার করা।তো আমি তো আমার টা দেখায় নি।”

তুবা লজ্জায় অবস্থা শেষ।নিজেকে মনে মনে গালি দিতে থাকে কথাগুলোর জন্য।তুবার লজ্জায় গাল লাল হয়ে আছে।

চলবে??

(হুট করে বাসায় মেহমান চলে এসেছে।তাই তেমন বড় করে লিখতে পারিনি। আর আজকের পর্ব কেমন লেগেছে জানাবেন।শব্দগুলো গুছাতে পারছিলমা না আজকে।)🙂

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply