অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২ পর্ব ১৩
অবন্তিকা_তৃপ্তি
তিতলি ব্যাগ প্যাক করছিলো। লাগেজটা বিছানার উপরেই তুলে ফেলেছে, লাগেজের চেইন খোলা, তিতলি সেটাতে কাপড় ঢোকাচ্ছে নিজের। ভীষণ ব্যস্ত ও। শোয়েব বাথরুমে ছিলো। ফ্রেশ হয়ে, বেরিয়ে এসে দেখে তিতলি বেকুবের মতো লাগেজের দিকে তাকিয়ে আছে। লাগেজ ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে জামা-কাপড়ে, তারউপর তিতলির হাতে এখনও আরো একদলা কাপড় রয়ে গেছে। শোয়েব কিছুক্ষণ সেই দৃশ্য দেখল। পরপর ছোট শ্বাস ফেলে এগুলো।
‘কাপড় জায়গা হচ্ছে না নাকি?’
শোয়েব এসে বিছানায় বসলো। তিতলি ওর হাতের কাপড় দেখিয়ে বলল,
‘হ্যাঁ, এগুলো এখন রাখবটা কই? পাঁচ দিনের ট্যুরে দুটো লাগেজ নিলে মানুষ আমাকে নিয়ে হাসবে। কিন্তু আমার তো দুটোই লাগবে দেখছি এখন।’
শোয়েব ভীষণ মনোযোগ দিয়ে; ভ্রু-ট্রু কুচকে শুনল। অথচ ওর কিন্তু ভীষণ হাসি পাচ্ছে। লাগেজে যেভাবে তিতলি কাপড় ঢুকিয়েছে, ভীষণ হ্যাপাজার্ড। কাপড় জায়গা হবার কথাও না। শোয়েব কিছু বলার আগে, তিতলি হঠাৎ বলে উঠে, চোখ-মুখ উজ্জল,
‘এই আপনার লাগেজ কোথায়? ওতে এগুলো জায়গা হবে? কটা কাপড়ই তো। হবে, হবে।’
শোয়েব তিতলির দিলে চেয়ে, হাসে অল্প,
‘আমি ব্যাগ এনেছি; লাগেজ না।’
‘মানে? মানে ব্যাগে আপনার সবকিছু নিয়েছেন? কিভাবে? জামা কয়টা নিয়েছেন?’
‘জামা যা নিয়েছি; ৫ দিনের ট্যুরে মোর দ্যান এনাফ এগুলো, এটা বলতে পারি শুধু।’
তিতলি ভ্রু কুচকে আবার তাকালো লাগেজের দিকে।তারপর আবার শোয়েবের দিকে চেয়ে ঠোঁট উল্টে বলল,
‘আমার তো মেকআপ আইটেমও নেওয়া লাগবে; ফেসওয়াশ, টয়লেট্রিজ নিতে হবে। এগুলো নেব কিকরে?’
শোয়েব এবার উঠলো বিছানা থেকে। তারপর সোজা এসে তিতলির ঠিক পেছনটায় দাঁড়াল। শোয়েবের এতটা কাছে, বুকের সামনে তিতলিকে বেশ ছোটখাটো দেখাচ্ছিল। তিতলি একবার মাথা ঘুরিয়ে শোয়েবের দিকে তাকাল,
‘কি. .কি হয়েছে?’
শোয়েব হাত বাড়িয়ে তিতলির দুপাশে হাত এগুলো। তিতলি শক্ত হয়ে দাড়িয়ে রইল ওভাবেই। শোয়েব লাগেজ থেকে একে একে সব কাপড় বের করে ফেলল। তিতলি অবাক, তাড়াহুড়ো করে বলল,
‘আরে কি করছেন? এগুলো লাগবে তো আমার। বের করবেন না।’
‘দাঁড়াও না, বের করছি না। একটা জিনিস দেখাব।’
শোয়েব সব কাপড় বের করল। একটা প্যাকেট ছিলো লাগেজের একদম নিচে। শোয়েব প্যাকেট দেখে জিজ্ঞেস করল,
‘কি এটাতে?’
তিতলি অপ্রস্তুত হয়ে গেল হঠাৎ। প্যাকেটটা টেনে এনে লুকিয়ে একপাশে রেখে মিনমিন গলায় বলল,
‘পার্সোনাল কাপড়।’
শোয়েব মৃদু হাসল স্রেফ, কিছু বললো না আর। লাগেজ থেকে সব কাপড় বের করে শোয়েব কাপড় ভাঁজ করল যতটা ছোট করে সম্ভব। তিতলি দেখে যাচ্ছে ওসব কাজ। শোয়েব দেখাচ্ছে,
‘ড্রেস ভাঁজ করে পাশ করে করে ঢুকবে অলওয়েজ। এভাবে দলাই-মলাই করে ঢোকালে জায়গা হবে না কোনো লাগেজেই। ভাঁজ দেখেছো কিভাবে করেছি? ঠিক এইভাবে, এইভাবে ফোল্ড করবে। দেখেছো?’
তিতলি কাপড় ভাঁজ করা দেখতে দেখতে আবার শোয়েবের দিকে তাকাল। শোয়েব ভীষণ মনোযোগ দিয়ে ওর প্রতিটা কাপড় কোনোরূপ বিরক্তি ছাড়া ভাঁজ করে করে সুন্দর করে গুছিয়ে লাগেজে ঢোকাচ্ছে, সাথে তিতলিকেও শেখাচ্ছে কিভাবে রাখবে; ভাঁজ করবে। তিতলির মনোযোগ বারবার শোয়েবের ভ্রুতে চলে যাচ্ছে। এত সুন্দর করে কুচকে রেখেছে, দেখতে ভীষণ ম্যানলি দেখাচ্ছে।
শোয়েব কাপড় ভাঁজ করে লাগেজে সবগুলো রাখলো। লাগেজ এখনও অর্ধেকটার মতো খালি। শোয়েব এবার তিতলির দিকে তাকাল।
‘আর কি ঢোকাবে; দাও। লাগেজ অর্ধেক খালি তোমার।’
তিতলি মৃদু হাসলো। কাপড় এগিয়ে দিল শোয়েবের দিকে। শোয়েব সেগুলোও ভীষণ ধৈর্য নিয়ে ভাঁজ করল। শোয়েব আবার বলল, ——-‘মেকআপ আর কি ঢোকাবে বললে? নিয়ে আসো।’
তিতলি দ্রুত বাথরুম থেকে টয়লেট্রিজ নিয়ে আসলো, সাথে মেকআপও নিয়ে আসলো। শোয়েবের সামনে এগুলো রাখতেই, শোয়েব সেসব দেখে ভ্রু বাকায়,
‘এত মেকআপ নিয়ে কি করবে? সব লাগবে এখানে?’
‘হ্যাঁ।’
তিতলির এক বাক্যের জবাব। শোয়েব ভাবল, পরপর বলল,
‘কোনো শপিং ব্যাগ নিয়ে আসো।’
তিতলি তোষকের নিচে থেকে বের করে দিল। শোয়েব সব আইটেম শপিং ব্যাগে রেখে গিট্ দিয়ে দিল। তারপর সেটাও একপাশে রেখে দিল। জিজ্ঞেস করল,
‘আর কিছু?’
তিতলি হঠাৎ মনে পড়ল। ও সেই প্যাকেটটা আলগোছে শোয়েবকে না দিয়ে নিজেই লাগেজের একদম ভেতরে রেখে দিল। শোয়েব দেখে, অল্প হাসেও, কিন্তু এবারেও কিছু বলে না। তিতলি লাগেজ রেডি করতেই: শোয়েব চেইন লাগিয়ে দিল।
তিতলির মুখে এতক্ষণে কালজয়ী হাসি,
‘সবকিছু এক লাগেজেই তো জায়গা হয়ে গেছে। দুটো লাগবে না আর।’
শোয়েব লাগেজ বিছানা থেকে তুলে মাটিতে রাখল। বলল,
‘এক লাগেজেই হয় সব। শুধু টেকনিক জানা লাগে।’
তিতলিও হেসে বলল,
‘তাহলে এখন থেকে আপনিই আমার সব ট্যুর বা বেড়াতে যাওয়ার লাগেজ গোছাবেন। টেকনিক তো আপনিই ভালো জানেন এসবের।’
শোয়েব হাসল উত্তরে। তাড়া দেখিয়ে বলল,
‘রেডি হও দ্রুত। বাস মিস চলে যাবে নাহলে। আবার যাওয়ার পথে ফারদিনদেরও নিতে হবে।’
তিতলি দ্রুত কাপড় নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেল। শোয়েব ও যেতে; বিছানা গুছিয়ে আলমারি লাগাল। বই-খাতা ছিটিয়ে আছে টেবিলে, সেসবও গুছিয়ে রাখল। একটা ব্যাপার লক্ষ করল শোয়েব— তিতলির একটা পেনেরও ক্যাপ নেই। প্যানগুলোর কালি বাতাসেই শুকিয়ে যাবে; আবার ব্লা স্ট করতে পারে কালি।
তিতলি একটা রেড, এমব্রয়েডারি করা কুর্তি-সাদা পাজামা পরে বের হয়েছে। সাথে গলায় ঝুলানো হোয়াইট ওড়না। তিতলি এসে আয়নার সামনে দাড়িয়ে মুখে মেকআপ দিচ্ছে টুকটাক। শোয়েব জিজ্ঞেস করল,
‘তিতলি? তোমার একটা পেনেরও ক্যাপ নেই। কেন?’
তিতলি কনসিলার দিতে দিতে জবাব দিল,
‘ভার লাগে ক্যাপ রাখলে।’
শোয়েব আশ্চর্য পুরোই——‘দুই গ্রামের ক্যাপের জন্যে প্যান ভার লাগে?’
‘হু লাগে। একটা ইউটিউব ভিডিওতে দেখেছিলাম আমি।’
‘পেনগুলো তো নষ্ট হয়ে যাবে এভাবে রাখলে।’
‘হয়না, হলেও দশটার মধ্যে একটা বা দুটো। সমস্যা নেই।’
‘একটা বা দুটো পেনই কেন নষ্ট হবে? এগুলো তো অপচয় তিতলি।’
তিতলি এবার বিরক্ত হয়,
‘উফ. . আচ্ছা ক্যাপ রাখব নেক্সটগুলোর। রেডি হয়ে নেই এখন?’
শোয়েবও আর বিরক্ত করেনা ওকে।
তিতলি রেডি হয়ে মায়ের থেকে বিদায় নিতে যাবে: পায়রা ওকে টেনে আনেন নিজের রুমে। তিতলিকে এনে বিছানায় বসিয়ে আলমারি খুললেন। আলমারি থেকে ১০ হাজার টাকা বের করে তিতলির হাতে দিলেন, তিতলি অবাক। পায়রা বলে যান,
‘প্রথম প্রথম যাচ্ছো, কিছু ভালো লাগলে কিনে নিও এই টাকা দিয়ে। শোয়েবকে বারবার টাকার জন্যে ডিস্ট্রাব করবে না। ও নিজে থেকে দিলে নিও, না দিলে এই টাকা খরচ করবে। বিয়ের শুরু-শুরুতেই হ্যাংলামো করা উচিত না। আর টাকা-পয়সার ব্যাপারে আরও করবে না, এগুলোই চোখে লাগে একসময়।’
তিতলি হা করে মায়ের দিকে তাকায়,
‘কিছু ভালো লাগলে উনাকে বলব না কিনে দিতে? এত ভাবতে হবে?’
‘বলবে; যদি সেটা অল্প দামের হয়। বেশি দাম হলে বলার দরকার নেই: টাকা দিয়ে কিনে নিও। টাকা আরও লাগলে আমাকে ফোন করবে; বিকাশ করে দিব।’
‘এত রেস্ট্রিকশন কেন আম্মু? বিয়েই তো হয়ে গেছে।’
তিতলি বিতৃষ্ণা নিয়ে বললে, পায়রা বললেন শান্ত স্বরে,
‘হ্যাঁ; বিয়ে হয়েছে। কিন্তু শোয়েবকে তোমার সবপ্রকার দায়িত্ব নেওয়ার জন্যে সময় তো দিতে হবে তিতলি। আর আর্থিক সাপোর্ট চোখে লাগে সবসময়। তবে শোয়েব নিজে থেকে তোমাকে দামি জিনিস দিতে চাইলে, পছন্দ হলে নিয়ে নিবে। কিন্তু নিজে থেকে হ্যাংলামো করবে না কখনো। ও যেন না ভাবে, আমাদের মেয়ে টাকা-পয়সা দেখেনি কখনো। বুঝেছো?’
‘হু।’ —- তিতলি ছোট করে জবাব দিল।
পায়রা এবার এগিয়ে এসে তিতলির কপালে চুমু খেলেন। আলতো স্বরে বললেন,
‘আমাকে স্ট্রিক্ট লাগছে খুব? এখন হয়তো লাগবে একটু, পরবর্তীতে তুমি বুঝতে পারবে এই কথাগুলো কেন আমি বলি তোমাকে। যাও এখন। ভালো হয়ে থাকবে, লক্ষ্মী বউ হবে ওখানে। ঠিকাছে?’
তিতলি হাসল অল্প —-‘বুঝেছি।’
‘যাও এখন। শোয়েব গাড়িতে ওয়েট করছে। আমু মনুকে বলেছি তোমাদের দিয়ে আসতে স্টেশন অব্দি।’
———————
শোয়েব-তিতলি সামনের সারির দুটো সিটে, ফারদিন এবং ওর স্ত্রী তাহমিনা পেছনের দিকের দুটো নিয়েছে। তিতলির তেমন কথা হয়নি ওদের সাথে। কারণ ওরা আগেই স্টেশনে এসে কেবিনে উঠে গেছে। শোয়েব-তিতলির স্টেশনে পৌঁছাতে বড্ড দেরি হয়েছে আজ। বাসে ঢোকার সাথেসাথে বলতে গেলে বাস ছেড়ে দিয়েছে।
শোয়েব বাসে উঠে তিতলির দিকে একটা চাদর এগিয়ে দিয়েছে। তিতলি জিজ্ঞেস করে,——-‘কি করব এটা দিয়ে?’
‘গায়ে জড়িয়ে নাও। মানুষ আছে বাসে; যদি কাপড় সরে-টরে যায়। সাবধানে থাকাটা ভালো।’
তিতলি শোয়েবের দিকে তাকাল। পরপর সামান্য হেসে, চাদর জড়িয়ে নিলো নিজের গায়ের উপর। বাস চলছে, বাতিও নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে বাসের। শোয়েব এতক্ষণে চুপ করে, গম্ভীর মুখে বসে ছিলো সিট। যেইনা বাতি নিভিয়ে দিয়েছে, ওমনি শোয়েব ঘেঁষে এলো তিতলির গায়ের সঙ্গে। তিতলি জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছিলো। শোয়েব ওর গা ঘেঁষতেই ও ফিরে তাকাল——-‘কি?’
শোয়েব ফিসফিস করল——‘আমিও এই চাদরে ঢুকি? আসলে ঠান্ডা লাগছে।’
তিতলি ভ্রু কুঁচকে ফেলে। কতবড় ধুরন্দর! তবুও তিতলি দয়ার সাগর, চাদর বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ——‘আসুন, ঠান্ডায় এত কাপছেন যেহেতু।’
শোয়েব একচাদরে দুজনকে ঢেকে বসল। তিতলির হাতটার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
‘তোমার হাতটা ধরে রাখি একটু? হাতটাও বোধহয় বরফ হয়ে যাবে।’
তিতলি মুচকি মুচকি হাসে, মুখ টিপে বলল,
‘হ্যাঁ ধরুন: এই গ্রীষ্মকালে বরফের মতো ঠান্ডাই তো পরে। আমার হাতটাই ধরুন নাহয়।’
শোয়েব তিতলির হাতটা ধরে মুঠোবন্দী করে ফেলে। শোয়েব আবার বলল, ——-‘মাথাটা ব্যথা করছে খুব। বালিশ হলে ভালো হত একটা। ওহ, তোমার কাঁধ তো আছে। কাঁধটা এগোও তো; মাথাটা একটু রাখি।’
তিতলি হা-হুতাশ করার ভান করে——-‘আহারে, কি ব্যথা না মাথার? আসুন রাখুন মাথা কাঁধে।’
তিতলি এগিয়ে বসল। শোয়েব ওর কাঁধে মাথাটা রাখলো। শোয়েবের হাত তখনও তিতলির হাত চেপে ধরে রেখেছে, বারবার তিতলির রিং ফিঙ্গারের আংটি নিয়ে খুলছে আর লাগাচ্ছিলো। তিতলি জানালার দিকে চেয়ে মুচকি মুচকি হাসছে শুধু।
পরপর তিতলি বলল, ——‘আপনি কিন্তু ভালো একটিং করতে পারেন।’
শোয়েব মুখ চেপে লুকিয়ে হাসল অল্প, পরপর তিতলির কোমরের পাশটা আলগোছে ধরে বলল,আবারও একটিং করল ———-‘একটিং না তো এগুলো।’
তিতলি শোয়েবের দিকে একবার ভ্রু বাকিয়ে তাকায়। শোয়েব ওর তাকানো দেখে বলল—‘কি? এভাবে তাকানোর কি আছে?’
তিতলি মুচকি হাসে পালটা——‘না কিছু নেই। মাথাটা কি টিপে দিব? ব্যাথা কি বেশি করছে?’
শোয়েব ওর কোমরটা চেপে ওকে নিজের সাথে ঘেঁষে ধরে রেখে চোখ বুজে জবাব দিল——‘উহু; শান্তি লাগছে।’
তিতলি তবুও শোয়েবের মাথার চুল টেনে দিতে থাকে। শোয়েব আরামে গোঙ্গালো অস্ফুটে, একসময় বলেও বসে,
‘তিতলি, তুমি অনেক ভালো বউ হতে পারবে।’
তিতলি শোয়েবের মাথার চুল টেনে দিতে দিতে হাসে অল্প,
‘জানি।’
তিতলি আবারও জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। ওই কেন যেন বুক ধড়ফড় করছে শুধু। বারবার মনে পড়ছে, ওরা সাজেক যাচ্ছে। শোয়েবের সাথে প্রথম ঘুরছে। যেটাকে শোয়েব বলেছে,
‘হানিমুন।’
চলবে
সবাই রিঅ্যাক্ট-কমেন্ট করবেন। আমি আজ সবার কমেন্টের রিপ্লাই করব। গত
Share On:
TAGS: অবন্তিকা তৃপ্তি, অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেনিম_জ্যাকেট পর্ব ৩৫
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১০
-
অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২ পর্ব ৫
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১৭
-
অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২ পর্ব ১১
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৩
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৬
-
ডেনিম জ্যাকেট অন্তিম পর্ব
-
অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২ পর্ব ৯
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩