পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৮
ঈশিতারহমানসানজিদা
আশেপাশের লোকজন উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ভেতরে থাকা মেয়েটার কি হলো জানার আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। নূর দরজা খুলে বেরিয়ে এলো। ঠকঠক করে কাঁপছে সে এখনো। গাড়ি চালানো শুরু করার পর আজ প্রথম এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। এজন্য বেশি ভয় পেয়েছে। এতক্ষণ বাদে লোকজনের কথা ভেসে এলো।
‘ছেলেটার গাড়ি চালানো ঠিক ছিলো না।’
‘এই ছেলে মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলে? দেখে তো ভদ্রলোক মনে হয়।’
‘ভদ্রলোকেরাই এমন হয়, টাকা থাকলে পাখা গজায়।’
আরো কিছু বাজে বাক্য কানে আসতে শুরু করে। আজমাঈন বিরক্ত হয়ে এক ধমক লাগায়,’থামুন তো! একটা মেয়ে ভয় পেয়েছে দেখছেন না? কথা বাড়াবেন না। আমরা পরিচিত, আমাদের ব্যাপার আমরা বুঝে নিব। ভিড় কমান আপনারা।’
আস্তে ধীরে সবাই এড়িয়ে গেল। আজমাঈন ফের নূরকে উদ্দেশ্য করে বলে,’আর ইউ ওকে?’
বাড়ির মানুষ ব্যতীত কেউ কোন কিছু জিজ্ঞেস করলে নূরের গলা আটকে আসে। কথা বলতে ইচ্ছে করে না। সে কোনরকমে মাথা দোলায়। ফয়েজ দু’জনের গাড়ি চেক করলো, ধাক্কা লাগেনি। সঠিক সময়ে ব্রেক করেছিল বিধায় এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছে। নূরের অস্থিরতা দু’জনেই টের পেলো। ফয়েজ বললো,’যা ভয় পেয়েছে, মনে হয় না ড্রাইভ করে যেতে পারবে।’
আজমাঈন খেয়াল করেছে, তাই সে বললো,’আমি নিয়ে যাচ্ছি। তুই আমার পেছন পেছন আয়।’
বাঁধা দিতে পারেনি নূর, সে সত্যিই ড্রাইভ করার ক্ষমতা হারিয়েছে। আজমাঈন নূরের গাড়িতে চড়ে বসলো। হাত কচলাতে কচলাতে নূর পাশের সিটে বসে। সিট বেল্ট লাগিয়ে আজমাঈন বলে,’লোকেশন সেট করে দিলে ভালো হয়, আপনার বাসার ঠিকানা জানি না।’
নূর আলতো হাতে ফোনের লক খুলে লোকেশন সেট করলো। মুচকি হেসে আজমাঈন গাড়ি স্টার্ট করে।
গাড়িটা গেইট পেরিয়ে বাড়ির প্রাঙ্গণে থামলো। কিন্তু নূর থামলো না, দরজা খুলে দৌড়ে বেরিয়ে গেল। বেশ আশ্চর্য হয় আজমাঈন, একটা ধন্যবাদ পর্যন্ত দিলো না! অদ্ভুত মেয়ে তো!! ফোনটাও ফেলে চলে গেছে, লক স্ক্রীনে একটা ছবি জ্বলজ্বল করছে। একটা কোমল হাত, দু’টো পদ্মফুল হাতের ভাজে। তবে আংটি দেখে বুঝলো যে এটা সেই আংটি। তাহলে এটা নূরের হাত!! চট করে ফোন আগের স্থানে রেখে দিলো। এভাবে অন্যের ফোন ধরা ঠিক হলো না। মেয়েটা নিজেকে আড়াল করে রাখে, অনুমতি ব্যতীত তাকে দেখা ঠিক হবে না। অবশ্য দেখার অনুমতিও মিলবে না। দারোয়ানের হাতে চাবি বুঝিয়ে দিয়ে বের হয়ে এলো সে।
সারা রাস্তা ফয়েজ বকবক করলেও আজমাঈন কোন কথা বলেনি। জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখছিল। নারায়ণগঞ্জ খুব একটা আসা হয়না। বাড়ির কাজের জন্য আসা। অথচ এতেই কত অঘটন ঘটে গেল। এটা কি অযাচিত ঘটনা, নাকি এই ঘটনার কোন কারণ আছে। ফয়েজের জন্য মেয়ে দেখার দায়িত্ব আজমাঈনের উপরে দিয়েছে ওর বাবা। কিন্তু পরমুহূর্তে তিনি নিজেই খবর পাঠালেন, মেয়ে দেখেছেন। এখন ফয়েজ কে নিয়ে দেখে আসতে। রাশেদ সাহেবের নাতনিই যে সেই মেয়ে এটা ওদের ধারণায় ছিলো না।
হুট করেই আজমাঈন বলে উঠলো,’বিয়েটা করে ফেল, এবং এই মেয়েকেই।’
‘এমন বাচ্চা টাইপের মেয়ে বিয়ে করার কোন ইচ্ছা নেই। কিন্তু এখন যদি না করি তাহলে বাপের মুখ ছোট হবে। কি জ্বালা যন্ত্রণায় পড়লাম রে। মা’কে দেখলাম গয়না বানাতে দিয়েছে।’
‘মেয়েটা কি খারাপ নাকি?’
‘পারফেক্ট, তবে!!’
‘তবে তবে কি? আমি গিয়ে বলে দিচ্ছি তুই রাজি। এবং এক মাসের মধ্যে বিয়ে কমপ্লিট করা চাই।’
‘একটু তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে না?’
‘রাখ তোর তাড়াতাড়ি, আমাকে বাসায় ফিরতে হবে। বাড়িতে কবে উঠতে পারব কে জানে?’
ওদের মধ্যে আর কোন কথা হয়না। ফয়েজের কথাগুলো আজমাঈন গড়গড় করে বলে দেয়। এবং বিয়ের কথা এগোনোর জন্য তাড়া দেয়। ফলস্বরূপ সপ্তাহ খানেক বাদেই রাশেদ সাহেবের বাড়িতে সবাই হাজির। বিয়ের কথাবার্তা বলতেই দুই পক্ষের একসাথে হওয়া। ফয়েজের পরিবারের সাথে আজমাঈনও উপস্থিত, আয়োজনের কোন কমতি নেই। ফয়েজের বাবা তৌফিক আহমেদ বলেন, ‘তাহলে আপনারা বিয়ের তারিখ ঠিক করে ফেলুন, আমাদের সমস্যা নেই কোন।’
রাশেদ সাহেব বলেন,’সেকি! আপনারা ছেলেপক্ষ, আপনাদের কথা আগে, যেহেতু দুই পক্ষের দেখাদেখি শেষ। এখন সুবিধা মত দিন তারিখ ঠিক করে ফেলুন। তবে বিয়ের অনুষ্ঠান বাড়িতেই করব। যথেষ্ট পরিমাণ জায়গা আছে।’
‘তা ঠিক, আমার বড় ছেলেটা বউমাকে নিয়ে দেশের বাইরে থাকে। ও সামনের মাসে আসবে। এজন্য একটু সময় লাগবে।’
‘তাহলে সামনের মাসের তারিখ দেখুন, আপনার বড় ছেলে টিকিট কেটে বলুক। আমরা নাহয় ততদিন মার্কেট সেরে ফেলি। একমাত্র নাতনি তো, বুঝতেই পারছেন।’
সবাই হাসলো, সাইমন চুপ করে বসে আছে। রাশেদ সাহেব ওকে চুপ থাকতে বলেছেন। মুখে তো কোন কথা আটকায় না, ভেজালযুক্ত মানুষদের চুপ থাকাই উচিত। তবে দুই স্বামী স্ত্রীর ফয়েজ কে বেশ পছন্দ হয়েছে। তাই কথা বাড়ায়নি। ফয়েজের মা বলে উঠলো,’আপনার মেয়েরা কোথায়? ওদের কথা অনেক শুনেছি, এসেছি যখন একটু দেখা সাক্ষাৎ করে যাই!’
ভদ্রমহিলা সাদাসিধে ভাবেই প্রশ্নটি করেন। রাশেদ সাহেব জবাব দেওয়ার আগেই অনুপমা বলে বসলো, ‘আমার ননদ দুজনের বিয়ে হয়ে গেছে তো, হুট করে আপনারা চলে এলেন। ব্যস্ততায় আসতে পারেনি। তবে বিয়ের দিন অবশ্যই আসবে।’
পরিবেশ বদলে গেল চট করে। আজমাঈন, ফয়েজ নড়েচড়ে বসল। এরকম মিথ্যা কথা বললো কেন এই মহিলা তা বুঝতে পারলো না। রাশেদ সাহেবের মুখ বেশ থমথমে হয়ে গেল। মেয়েটাকে এত অপছন্দ যে তার উপস্থিতি ঠেকানোর জন্য মিথ্যা বলতে হলো! রেহানা আড়চোখে স্বামীর মুখ দেখলেন। তারপর কড়া চোখে অনুপমার দিকে তাকায়। বয়স হয়েছে ঠিক কিন্তু এখনও কথা বলতে শিখেনি। নূরের কথা কি লুকানোর বিষয়? এটা কি টাকা যে লুকিয়ে রাখবে? পরে যখন সবাই জানবে তখন কি জবাব দিবে? পাত্রপক্ষ চলে যাওয়ার পর রাশেদ সাহেব সাফ সাফ জানিয়ে দিলেন যে সে এই বিয়ের আর কোন বিষয়ে থাকবে না। এমনকি নূরও থাকবে না। আজ তার মেয়েকে অপমান করেছে অনুপমা। এ কিছুতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
সাইমন আপাতত বাবাকে কিছু বললেন না। এখন রেগে আছেন তিনি, রাগ একটু পড়লে তখন কথা বলা যাবে। ক্ষমা চাইবে নাহয়, নাহলে এই বিয়েতে বড়সড় গন্ডগোল লেগে যাবে। বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজন কম নেই সাইমনের। তারা সকলে এসে যদি দেখে বাড়ির সবচেয়ে বড় মানুষ টাই নেই তাহলে নানান কথা রটাবে।
রেহানা স্বামীর কাছে গেলেন। তাকে বুঝিয়ে বলেন, ‘ছেলের বউকে তো চেনোই তুমি, ওর কথা ধরার কোন মানে হয়না। তাছাড়া নূর তো সবসময় ঘরের মধ্যে থাকে, বিয়েতে ওর থাকা না থাকা একই কথা। মাথা ঠান্ডা কর।’
‘আমার মাথা ঠান্ডা আছে, এজন্য কথাগুলো বলেছি। জন্মের পর থেকে আমার মেয়েটা কি পেয়েছে বলবে? তুমি শেষ কবে ওকে মাতৃস্নেহে ছুঁয়েছ বলতে পার? না না ভুল বললাম, তুমি সবসময় ওকে বোঝা মনে করেছ। মেয়ে বলেই মনে করনি, মেয়ের আগে তোমার মানসম্মান বেশি হয়ে গিয়েছে, অন্ধ হয়ে গেছ তুমি। আমি ওর পাশে না দাঁড়ালে ও হয় গলায় দড়ি দিতো নাহয় গলায় কলসি বেঁধে নদীতে ঝাঁপ দিতে হতো। কখনো হাতে তুলে খাইয়ে দিয়েছ? কখনো জিজ্ঞেস করেছ যে ওর কি পছন্দ, কি খেতে ভালোবাসে? মা হয়ে ওর ঢাল হওয়ার কথা তোমার ছিলো, কিন্তু তুমি কি করলে? সামান্য কিছু হলেই গালে থাপ্পড় দিতে। ক’দিন আগেও দিয়েছ। এখন সকলের সামনে তোমার মেয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হলো, এটা ওর অপমান। আমারও অপমান, তুমি চুপ থাকলেও আমি পাবর না। মেয়েটাকে আমি সব কিছু দিয়েছি, তবুও মায়ের ভালোবাসা পরিবারের ভালোবাসা পায়নি সে। তোমাদের জন্য নূর এবনরমাল ভাবে বড় হয়েছে। কারো সাথে মিশতে পারে না, বড়দের সাথে কেমন আচার আচরণ করতে হয় তাও জানে না ঠিকমতো। কথাই তো বলতে পারে না। এসব আদব কায়দা তো তোমার শেখানো উচিত ছিলো তাই না? যাক, সেসব কথা থাক। আমি এই বিয়েতে থাকছি না।’
রেহানা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন,’আচ্ছা! তোমাদের ত্যাগের কথা খুব ভালো ভাবেই বলে দিলে। আমার কত স্বপ্ন ছিলো তা জানো না তুমি? বিভিন্ন দেশে ঘুরব শেষ বয়সে, তা তো হলো না। উল্টে কত কথা শুনলাম। ছেলের বউয়ের মুখের বাজে কথা শুনেছিলে কখনো? তখন মনে হতো আমি নিজেই গলায় দড়ি দেই। কোথাও যেতে পারতাম না, গেলেই সবাই দেখে হাসাহাসি করত। অথচ আমার বন্ধুবান্ধবের অভাব ছিলো না। মাসে প্রায়ই ওদের সাথে ঘুরতে যেতাম। তারপর থেকে আমি সবকিছু বাদ দিয়ে দিলাম। নিজেকে ঘরবন্দি করলাম সবার কথা শুনতে। আমার এত স্যাক্রিফাইস দেখলে না তুমি।’
রাশেদ সাহেব ঘাড় ফিরিয়ে তাকালেন,’এতে নূরের দোষ কোথায় যে ও শাস্তি পাবে? এখানে তোমার আমার দোষ ছিলো, আমাদের অসাবধানতায় এতো কিছু হয়েছে। যে দোষ করেনি সে কেন শাস্তি পাবে?’
রেহানা আর কথা বাড়ায় না, তা ঝুলিতে কোন কথা নেই। তিনি নূর কে আলাদা ডেকে পাঠিয়ে ঘটনা বললেন। বলেন,’তোমার বাবাকে তো চেনো, একবার কিছু বললে সেটাই করে ছাড়েন। তোমার কথা তিনি শুনেন। তাই একটু বোঝাও। মাসের শেষ তো প্রায় হয়ে আসছে। ক’দিন বাদে কেনাকাটা করতে হবে। সেখানে তো তোমাকেও থাকতে হবে, গিয়ে ওনাকে বোঝাও।’
মাথা নিচু করে মনোযোগ দিয়ে শুনে নূর। তারপর এক কাপ চা নিয়ে বাবার কাছে যায়। আরাম করে পাশে বসে। বলে,’মাম্মামের বিয়েতে তুমি কি দিবে? একটা গহনার সেট দিও, আমি পছন্দ করে দেব। আর ডেকোরেশনের লোকদের বলে দিও আমি সব বুঝিয়ে দিব, কোথায় কিভাবে সাজাতে হবে সব। ইন্টেরিয়র ডিজাইন করতে করতে এসব ও বুঝে গেছি বুঝলে। ভেবেছি পদ্ম ফুলের কম্বিনেশনে কিছু ডিজাইন করব। ভালো হবে না? তবে আমার ফুল দিব না কিন্তু। তুমি বাইরে থেকে কিনে আনবে।’
মেয়ের এমন উচ্ছাস দেখে বিস্মিত হলেন রাশেদ সাহেব। এমন কথা কখনো মেয়ের মুখে শোনেন নি। ও তো কোথাও যেতে চায়না, আজ হঠাৎ এত উৎসাহ নিয়ে কথা বলছে!! হয়তো সাহারার বিয়ে নিয়ে অনেক প্ল্যানিং করেছে। নূর ফের বলে উঠলো,’বরের বাড়ি থেকে তো কিছু দিবে, বিয়ের শাড়ি আমি পছন্দ করে দিব বলে দিও, মাম্মাম তো শাড়ি সম্পর্কে তেমন বোঝে না। আমি নাহয় গিয়ে দেখে শুনে কিনতে বলব। কি বলো?’
এবার আরো চমকে গেলেন তিনি। নূরের চোখ চিকচিক করছে খুশিতে, এসব দেখে তিনি ভাবলেন হয়তো ও সহজ হতে চাইছে। তাই কোন কথা বলেন না। শুধু মাথা নাড়েন। বলেন,’ঠিক আছে, তোর একাউন্টে টাকা দিয়ে দেব। ইচ্ছে মতো কেনাকাটা করিস। তোর কিছু লাগলে নিস।’
নূর আচ্ছা বলে বেরিয়ে আসে। রাশেদ সাহেব যে নূরের খুশি দেখে কিছু বলতে পারবে না এটা ও বেশ বুঝেছে। তাই এমন খুশি খুশি ভাব করে কথাগুলো বলেছে। যাকে বলে সুক্ষ্ম অভিনয়। এছাড়া ওর কিছু করার ছিলো না। মা এতদিন পর কিছু চেয়েছেন ওর কাছে, সেটা কি না দিয়ে পারে! রেহানা কে আশ্বস্ত করে রুমে ফিরে গেল। কিন্তু সমস্যা তো হয়েছে একটা, এতো লাফালাফি করে বলে দিয়েছে যে সে বিয়ের শপিং এ যাবে। এখন কি হবে? এতো মানুষ, শপিং, ভিড় শুনলেই মাথা ঘুরে ওঠে ওর। অভ্যস্ত নয় এসবে। নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছে নূর। এরপর যদি না যায় তাহলে রাশেদ সাহেব বুঝবে যে মন ভোলানো কথা বলেছিল সে। কি যে একটা অবস্থা!!
রাশেদ সাহেব ফয়েজ কে বলে দিয়েছে যে বিয়ের শপিং যেনো তার নাতনির পছন্দ মতো হয় এবং ওদের সাথে নিয়ে যেতেও বলেছে। ফয়েজ পড়েছে বিপদে, ওর কোন বোন নেই। একমাত্র ভাবি দেশের বাইরে। অবশ্য দেশে এসেও সে তেমন সময় পাবে না। বাচ্চা নিয়ে এতকিছু সামলানো তার পক্ষে সম্ভব নয়।
অগত্যা তাকেই যেতে হবে। বিয়ে ঠিক হওয়ায় পর মেয়েটার সাথে কথা হয়নি, কি বলবে তাও বুঝতে পারছে না। এতো ঝামেলা হবে বিয়ে করতে গেলে আগে জানলে বিয়েই করতো না। বাড়িতে একটা মেয়ে মানুষের বড্ড প্রয়োজন। তার একমাত্র সঙ্গী আজমাঈন। তাকেই সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। তবে সাহারার ইচ্ছে ঢাকা থেকে শপিং করবে। বিয়ে মানুষ এক বারই করে, মনের মতো কেনাকাটা না করলে চলে!!
সপ্তাহ খানেক পর ওরা বের হলো। নূর নিজের গাড়িতে যাবে। অন্যের গাড়িতে যেতে অস্বস্তি হয়। এবার সাথে অনুভব রয়েছে। ফয়েজের বাড়ির ঠিকানা রাশেদ সাহেব বলে দিয়েছেন। সেখান থেকে ফয়েজ কে নিয়ে তারপর ঢাকা রওনা হবে। নূর অনুভব কে টেনে নিজের পাশে বসিয়েছে। সাহারার পাশে ফয়েজ কে বসানোর জায়গা করে দিয়েছে। কিন্তু আসল ব্যাপার এই যে, নূর এখনও জানে না যে ফয়েজের সাথে সাহারার বিয়ে ঠিক হয়েছে। এ বিষয়ে তেমন আগ্রহ ছিলো না, তাকে কেউ জানায়নি পর্যন্ত।
কিন্তু ফয়েজের বাসার সামনে গিয়ে যখন ওকে দেখলো, খালি মুখে বিষম খেলো। মুখ ফুটে বলে ফেললো,’আবার এই ছেলেটা??’
সাহারা শুনতে না পেলেও অনুভব শুনে ফেললো। বলল,’এর সাথেই আপুর বিয়ে ঠিক হয়েছে।’
এবার কান্না পেল নূরের, দুহাতে মুখ ঢেকে জোরে জোরে শ্বাস নিলো। তারপর ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসলো। ওদের গাড়ি নিতে দেখে ফয়েজ নিজের গাড়ি নিলো না। তবে ব্যাকসিটে সাহারা কাচুমাচু করে বসে আছে। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ যে এত ভয়ানক তা ফয়েজ আজ বুঝেছে। সে সাবধানে এবং দূরত্ব বজায় রেখে বসলো। সাহারা এমুখো ফিরলো না আর।
প্রায় ঘন্টা দুয়েক বাদে সাহারার পছন্দের শপিং মলের সামনে গাড়ি থামায় নূর। ফয়েজ লোকেশন দিয়ে রাখায় আজমাঈন সঠিক সময়ে পৌঁছে যায়। এবার নূরের হার্ট অ্যাটাক করার দশা। এই ছেলে দুটো বোধহয় ওদের পিছু ছাড়বে না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে সাহারার হাত ধরে এগিয়ে যায়। অনুভব আজমাঈন কে টেনে ধরে। ঘড়িটা ওর হাতে দিয়ে বলে,’এটা ওই দিন ফেলে গিয়েছিলেন। ফুপি পেয়েছিল।’
ফয়েজ দাঁড়িয়ে পড়লো, অনুভব ঘড়ি দিয়েই দ্রুত এগিয়ে গেল বোনের পিছু পিছু। ঘড়িটা হাতে পড়তে পড়তে মাথা নিচু করে হাসলো আজমাঈন, তার এমন খুশি দেখে ফয়েজ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে,’তোর ঘড়ি নূরের কাছে কিভাবে গেল? তোরা কি দেওয়া নেওয়া করছিস নাকি?’
আজমাঈন ওর গালে চাপড়ে বলে,’তুই বাচ্চা মানুষ, অতো বুঝবি না।’
চলবে,,,,,,,
অনেকে বলেন প্রতিদিন গল্প দিতে, কিন্তু আমার যে কত সমস্যা তা তো বুঝবেন না কেউ। প্রথমত প্রচুর গরম, তারপর ভার্সিটির ক্লাস। দশটা থেকে বারোটা পর্যন্ত। বাসায় ফিরতে ফিরতে দু্পুর একটা বাজে। রান্না করি, বিকেলে প্রাইভেট এ যাই। রাতে পড়াশোনা করি, এতকিছুর মাঝেও যে একদিন পর পর গল্প দেই শোকর করেন।
Share On:
TAGS: ঈশিতা রহমান সানজিদা, পদ্মপ্রিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৭
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৫
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ১
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৬
-
পদ্মপ্রিয়া গল্পের লিংক
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৯
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৪
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ২