Golpo romantic golpo দ্যা ব্ল্যাক মার্ক

দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৮


দ্যাব্ল্যাকমার্ক

লেখনীতেআশুও_নিশু

পর্বসংখ্যা_২৮

নিহান,নিশান,নাহিয়ান পাশাপাশি বসে আছে তাদের সামনে আরো কিছু নামিদামি লোক।তারা গুরুত্বপূর্ণ কথাতে ব্যাস্ত
পরিবেশটা বেশ গম্ভীর।নিহানরা এসেছে মাত্র অনেকক্ষণ হয়েছে।কিন্তু নিহানের এতক্ষণ মনযোগ ছিলো না কোনোদিকেই মাথায় শুধু ঘুরছিলো কিছুক্ষণ আগের মুহুর্তের কথা।নিহান এসব ভাবতে ভাবতে মুচকি হাসল।
পাশ থেকে নাহিয়ান নিহানের এসব কান্ড খেয়াল করে ফিসফিস করে বলে,

”কি হয়েছে? বউয়ের সাথে রোমান্সের কথা মনে করে হাসছো বুঝি?”

নিহান নাহিয়ানকে পাল্টা জবাব দেয়,

“হ্যা,তুই ও বিয়ে করে নে।তারপর বিয়ে করে ভাবতে পারবি।”

নিশান ভাইদের কান্ড দেখে হতভম্ব হয়ে আছে।নাহিয়ান এসব দেখে উচ্চস্বরে হেঁসে উঠল।হঠাৎ নিহান আর নিশান কটমট করে তাকায় তার দিকে।নাহিয়ান সাথে সাথে এসব দেখে চুপ হয়ে মিটিং এ মনযোগ দেয়।এরপর কিছুক্ষণ পরেই মিটিংয়ে থাকা একজন বলে উঠে,

“কি ব্যাপার নিহান? তোমার গলায় এমন লালচে কালো হয়ে আছে কেনো?দেখে তো লাগচে বেশ ঝঘম হয়েছে?”

নিহান অন্যদিকে তাকিয়ে দুষ্টু হাসল।

“আসলে মিঃ অমিত প্রজাপতি কামড়ে দিয়েছে।”

অমিত চৌধুরী ভ্রু জোড়া কুঁচকে বলে,

“প্রজাপতি কামড়াঁতে পারে?”

“হুম যে প্রজাপতি আমাকে কামড়েছে সে কামড়াতে পারত।”

এর মাঝেই নিশান বলে,

“মিটিং এর কথায় ফিরে আসি।”

নিহান বিড়বিড় করে বলে,
“আমার ব্যাক্তিগত প্রজাপতি কামড়াঁতে পারে।”


তুবা সোফার এককোণে বসে টিভি দেখছে।পাশে বসে আছে নোভা।দুজনেরি টিভিতে মনযোগ নেই তারা তাদের মতো কথা বলছে।নোভা কথায় কথায় বলে উঠে,

“জানো তুবা,কিছুদিন আগে নিশান স্যার আমাকে মোবাইল দিয়েছিলো আর কয়েকদিন যেতেই সেটা নিয়ে ফেলে কারণ আমি নাকি সারাক্ষণ মোবাইল দেখি।আবার আজকে অনেক আকুতি মিনতি করে নিয়েছি কিন্তু রাগে আসলে আবার দিয়ে দিতে হবে।”

তুবা খিলখিল করে হেঁসে উঠল।আর বলে,

“তোমাকে তো দুই-তিনতিন এর জন্যও দিয়েছে, আমাকে তো চোখেও দেখাইনি।যতই হোক আমি এই বাড়ির কাজের লোক।”

“কাজের লোক মনে করলে তো বিয়ে করত না।”

তুবা শুকনো হাসল।হঠাৎ তাদের চোখ পড়ল মোবাইলের স্ক্রিনে ।একজন সাংবাদিক নিউসে বলছে,

“কানাডার বিখ্যাত বিজন্যাসম্যান নিহান এহসানের একটি মেয়ের সাথে অ’ন্তরঙ্গ মুহুর্ত ফাঁস।”

এরপর ই ভেসে উঠল মোবাইলের স্ক্রিনে।বিকেলের হয়ে যাওয়া সেই মুহুর্ত।মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে দৃষ্টিপলক ভাবে চেয়ে আছে তুবা আর নোভা।তুবার ভেতর অসস্তি কাজ করছে।নোবা অবাক সুরে বলে,

“এটা কখন?কেমনে?কে করলো?”

তুবা চুপ।চোখের কোণে জল জমে এসেছে এটা ভেবেই কত কত মানুষ দেখবে এগুলো!সবাই ছিঃ ছিঃ করবে।সমাজের মানুষ তাকে টিকতে দিবে?নিহান তো পুুরষ পুরুষের গায়ে তো কখনো কলঙ্ক লাগে না, নারীর গায়েই লাগে।তুবা কাঁদো গলায় বলে,

“এ..এ..এক..একটু আগ..আগের ঘটেছিলো এটা।কিন্তু কে এসব করলো কীভবে করলো তা আমরা জানি না।”

“বাগানের মধ্যে ও মানুষ কন্ট্রোললেস হয়ে যায় কীভাবে?”

“নিহান স্যার আরকি।”

”আচ্ছা কুল তুবা।নিহানকে ব্যাপারটা জানাতে হবে ও বা নিশান স্যার ই কিছু করতে পারবে।”

“কিন্তু কীভাবে জানাবো?”

নোভা আতিয়াকে ডাকল।তার মোবাইল নিয়ে নিহানকে বেশ কয়েকবার কল লাগায়।কিন্তু বারবার ফোন সুইচ টপ।এরপর নিশানকে কল লাগায় নিশানের ফোন ও একিই রকম।এরপর শেষ ভরসা নিয়ে নাহিয়ানকে কল লাগায়।এক-দুইবার দিতেই নাহিয়ান কল উঠায়।ধীরে বলে,

“হ্যালো কেন কল করেছেন?জানেন না আমি মিটিংয়ে।”

“আ..আমি বলছি নাহিয়ান ভাইয়া।”

”হু তুবা বলো।কি ব্যাপার?”

“আসলে..।”

কথাটা আর বলতে পারল না সে কান্নাগুলো আটকে ছিলো গলায়।তুবা হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলে,

”নিহান স্যার কে দিন।”

“ভাইয়া এখন মিটিংয়ে আমিও মিটিংয়ে।”

“দিন না প্লিজ।”

নাহিয়ান মোবাইলটা নিহানকে দেয়।ওপাশ থেকে ফুপিয়ে কাঁদার শব্দ পেয়ে বুঝে গেলো কে কাঁদছে! নিহান উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলে,

“কাঁদছো কেন লক্ষী?কিছু হয়েছে সোনা?”

তুবা কাঁদার জন্য কথা বলতে পারছেনা।নিহান এবার ধমক মেরে বলে,

”কি হয়েছে বলবে তো।”

”আসলো কিছুক্ষণ আগে বাগানের সেই ইয়েগুলো কে জানি ভিডিও করেছে।এখন মোবাইলে ও দেখাচ্ছে।”

“হুয়াট?কার এত বড় সাহস?”

তুবার থেকে কোনো প্রতিউত্তর না পেয়ে নিহান বলে,

“ওকে সোনা টেনশন করিও না যাস্ট ফাইভ মিনিটস এর মধ্যে আমি বাসয় আসছি।আর বাসায় আাসার পর ফাইভ মিনিটস এর মধ্যে এগুলো ডিলেট হবে।”

বলেই কল কেটে দেয় নিহান।নোভা তুবাকে কোনোমতে শান্ত করে।কিন্তু তুবা’র কান্না কোনোমতেই শান্ত হচ্ছেনা।

.
.
৫ মিনিট পর নিহান এহসান বাড়িতে আসে যদিও মিটিং থেকে আসতে কেউ দিচ্ছিলো না তাকে সে জোর করে এসেছে।নিহান লিভিংরুমে প্রবেশ করে বলে,

“কাদবে না।”—গম্ভীর স্বরে বলল তুবা।

কিন্তু তুবা তো কেঁদেই চলেছে।নিহান কঠিন স্বরে বলে,

“ভিডিও টা ডিলেট করা হয়েছে।যারা ছেড়েছিলো তাদের পেজ থেকে।তো এখন কাঁদছো কেন?”

”অনেকেই দেখেছে।”

“কিছু হবে না সোনা।নো টেনশন।”

তুবার গাল মুহুর্তের মধ্যেই লাল হয়ে উঠেছে।দেখেই বুঝা যাচ্ছে মেয়েটা বেশ লজ্জা পেয়েছে।মনে মনে নিহানকে গালি দিচ্ছে,কারণ নোভা আর আতিয়া বেগম সব শুনছে। নিহান তুবাকে লজ্জা পেতে দেখে ঠোঁট বাকিঁয়ে হাসল।নিহান সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে তুবাকে বলে,

“রুমে আসো।”

তুবা নিহানের পিছুপিছু রুমে যায়।হঠাৎ তুবা নিজের রুম দিয়ে যেতে যেতে টের পায় ভেতরে কেউ কাঁদছে।পরক্ষণেই মনে পড়ল আরু’র কথা।কিন্তু মেয়েটা কাঁদছে কেন তা জানা নেই তুবার।তুবা রুমের দরজা বন্ধ দেখে নিহানের রুমেই চলে যায়।তুবা রুমে ঢুকতেই নিহান রুমের দরজা বন্ধ করে তুবাকে নিজের কাছে টেনে নেয়।তুবা চমকে উঠে বলে,

“ছাড়ুন তো!সবসময় ভালো লাগে না এগুলা।”

”মিটিং থেকে একদৌড়ে চলে এসেছি শুধুমাত্র তোমার জন্য।”

“আমি কি আসতে বলেছি নাকি?”

“এদিকে কামড় দিয়েছো যে কিরকম হয়ে গেছে দেখেছো?”

”আপনাকে তো আমি ভুলে দিয়ে দিয়েছি আপনি তো আমাকে ইচ্ছে কের দিয়েছেন।পুরো শরীরে সব…”

তুবা জিহ্বায় কামড় দেয়।লজ্জায় ম’রি ম’রি অবস্থা তার।নিহানের সামনে কি বলে ফেলল। তুবা লজ্জায় অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।নিহান তুবার কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলে,

“আমি কেমন পুরুষ হ্যাঁ?এতকিছু করার পর ও বউয়ের লজ্জা ভাঙাতে পারিনা।মানুষ তো আমাকে নিয়ে মজা করবে বউ।”

তুবা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। যেনো মুক দিয়ে কোনো শব্দ বেরোচ্ছে না।কিছুক্ষণ পর জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে মিনমিনিয়ে বলে,

“আ.. আমি নিচে যাবো।”

”হুশ।”

এই বলে নিহান তুবার গলায় নাক ঘষতে থাকে।এরপর ছোট্ট ছোট্ট কামড়ে ভরিয়ে দিতে থাকে তুবার গলা।তুবা বিরক্ত হয়ে ”চ” সূচক শব্দ করে।একেতো গলা কত কত কামড়ের দা’গ তার উপর নিহান আরো কামড়াচ্ছে।নিহান তুবা বিরক্ত হচ্ছে দেখে গলা থেকে মুখ উঠিয়ে মুখশ্রী কঠিন করে তাকালো।চোখগুলো ইতিমধ্যেই কেমন ভয়ংকর লাগছে।
তুবা শুকনো ঢোক গিলল।একটা মানুষ এখন ভালো,এখন রাগী কীভাবে সম্ভব?কই আর কারো বেলায় তো তা দেখলোনা সে তো সবসময় গম্ভীর থাকে।নিহান তুবার গাল চেপে ধরে বলে,

“আমার স্পর্শ ভালো লাগেনা।”

”ইয়ে..ম..মা”

”হ্যা বা না তে উত্তর দাও।”

“না।”

”ওকে ফাইন।”

নিহান তুবাকে এক ঝটকায় সরিয়ে দেয় নিজের কাছ থেকে আর সোফায় গিয়প বসে পকেট থেকে মোবাইল বের করে সে।তুবা অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে নিহানের দিকে।লোকটা এমন করলো কেন?কি হয়েছে?এসব ভাবতে ভাবতে নিজেও রেগে যায় তুবা।মনে মনে বলে,

“এখন আমার সাথে ভাব দেখাচ্ছে।হুহ।”

বলেই তেজ দেখিয়ে চলে যায় সেখান থেকে।নিচে গিয়ে দেখে নোভা সেই একিই জায়গায় বসে আছে কিন্তু মোবাইলে কথা বলছে হেঁসে হেসে।তুবা কানে হঠাৎ একটা কথা বেজে উঠল,

“কালকে দেখা করতে পারবো না।লোকটা থাকবে।”

অপাশ থেকে কি বলছে কিছুই শুনতে পারছে না তুবা।নোবা আবার বলে,

“আচ্চা ঠিকাছে সকাল ১১ টার দিকে অফিস যাবে মনেহয় তখন দেখা করব”

তুবা’র মনে খটকা লাগে।কার সাথে এত হেঁসে হেঁসে কথা বলছে নোভা?সে যতদূর জানে নিশান নোভাকে ধরে এনেছে কিন্তু কেনো?এ প্রশ্নটা তুবার মাথায় ঘুরে সবসময়।নোভা কল রাখতেই তুবা প্রশ্ন করল,

“আপু কার সাথে কতা বলছো?”

নোবা একটুর জন্য ভ্যাবাচ্যাকা খেলো।পরে ধীরে বলে,

“আমার ফ্রেন্ড।”

তুবা আর কিছু বলল না। রান্নাঘরের দিকে এগোয়।আতিয়া বেগমকে নাস্তা বানাতে সাহায্য করতে লাগে।কিন্তু তুবার মনে এখনও একটা কথা গুরছে নোভা কথা বলল যে সেটা কি আসলেই নোবার বন্ধু নাকি অন্যকেউ??


নাহিয়ান মিটিং শেষ করে গাড়ি নিয়ে একাি বেরিয়েছে।নিশানের কাজ থাকায় নিশান পরে যাবে।নাহিয়ান আজকে ফুল স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে।হঠাৎ ব্রেক কষল সে।একটি মেয়ে গাড়ির সামনে এসে পড়েছে।নাহিয়ান তারাহুড়ো করে গাড়ি থেকে নামে।মেয়েটির সেই মায়াবী মুখশ্রী দেখে চিনে ফেলল নাহিয়ান।তিশা ওই ঝগড়ুটে মেয়েটা।নাহিয়ান চোখ বড় বড় করে তাকালো মেয়েটার কপালের একপাশ থেকে র*ক্ত ঝড়ঝড় করে পড়ছে।আশপাশের লোকগুলো চিৎকার করছে।আর কতজন গা’লাগা’লি করছে নাহিয়ানকে।নাহিয়ান এক মুহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়েছিলো তারপরমুহুর্তেই কোলে তুলে গাড়িতে বসায় তিশাকে।কিছুক্ষণের মধ্যেই হসপিটালে এসে পৌঁছায়। নাহিয়ান হসপিটালে প্রবেশ একজন ডাক্তার এসে চেকাপ করে তিশাকে।মাথার একপাশে ঔষধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেয়।ডাক্তার বলে,

“ওনার এই অবস্থা কীভাবে হয়েছে?”

”এক্সিডেন্ট হয়েছে।”

”আপনি কে হন ওনার?হাসবেন্ড?”

নাহিয়ান গম্ভীর কন্ঠে বলে,

”শত্রু হই।”

এগুলো বলতে বলতেই নাহিয়ান দেখে তিশা পিটপিট করে চোখ খুলছে।নাহিয়ানের মনটা শান্ত হলো।তিশা পুরোপুরি চোখ খুলে তাকালো নাহিয়নের দিকে দুজনের চোখাচোখি হয়।তিশা ধীরে বলে,

”আমি এখানে কীভাবে?”

”যেভাবে মানুষ আসে সেভাবে।”

”আমার মাথাটা এমন ব্যাথা করছে কেন?”

বলেই আবার চোখদুটোকে বন্ধ করে ফেলে।ডাক্তার সাহেব পাশ থেকে বলে,

“উনি বেশি প্রেশার নিয়ে ফেলেছে তাই আমি মনে করি ওনাকে একদিন বা দুইদিন হসপিটালে থাকতে হবে। নাহলে নানারকম সমস্যা হতে পারে।”

নাহিয়ান কিছুক্ষণ ভাবলো।তারপর বলে,

”আচ্ছা।”

ডাক্তার বেরিয়ে যাওয়ার পর নাহিয়ান গিয়ে চেয়ারে বসে।
তিশার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। কেমন জানি একা একা লাগছে।কি মনে করে হাত বাড়িয়ে মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

চলবে???

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply