[পর্ব ৫৬] (প্রথম অর্ধেক)
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
ঈশানকে রেখে বাংলাদেশে ফিরে এসেছে আফরিদ এহসান । এভাবে গোপনে ফিরে আসার কারণ অবশ্যই রয়েছে, সেই কারণটি কারো কাছেই উন্মুক্ত করে নি মাফিয়া কিং।
রাত তখন গভীর। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে। আঁকাবাঁকা পথ ধরে সেই জল রাশি আপন মনে মিশে যাচ্ছে প্রকৃতির সহিতে। ফালাক কাঁপিয়ে আলোক রাশি হুটহাট ধরণীক আলোকিত করে আবারো ঝিমিয়ে যাচ্ছে।
এহেন প্রলয়ংকরি মূহুর্তে রুমের একপাশে ওয়াইনের গ্লাস হাতে সিঙ্গেল কাউচের উপর পায়ের উপর পা তুলে রাজকীয় ভঙ্গিতে বসে আছে মাফিয়া কিং।
“আমি যখন সব হারিয়ে নিঃস্ব,তখন তার আগমন ছিলো
তৃষ্ণার্ত মরুভূমিতে নেমে আসা প্রথম বৃষ্টিধারার মতো। ~আফরিদ এহসান
নিশুতে রাত। মুখে কৃষ্ণবর্ণের আচ্ছাদন জড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে এক মেয়ে। কে এই মেয়ে জানা নেই। তার পরিচয় সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। লোহার চেয়ারের সাথে বাঁধা অবস্থায় রয়েছে লুসিফার এলেন ইদ্রান।
“ভাই।”
ঠোঁটের কোণে এক পৈশাচিক হাসি খেলে গেল ইদ্রানের। মেয়ের দিকে তাকালো ইদ্রান। ওষ্ঠো বাঁকিয়ে ব্যঙ্গাত্মক হেসে বলল।
“বেচারা ইস্ক্রিয়াস কত কষ্ট করে ধরেছে আমাকে, মাস্টার মাইন্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে। তার ইচ্ছেটা ইচ্ছে রয়ে গেল।”
আশেপাশে পুলিশ গুলো র’ক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে। মেয়েটা কোনো সাধারণ নয়,তাকে ফাইটিং স্কিল শেখানো হয়েছে।
“ভাই চলুন।”
ইদ্রানকে মুক্ত করা মাত্রই একজন দুর্বৃ’ত্তকারী হিং’স্র ক্ষি’প্ততায় ঝাঁ’পিয়ে পড়ে মেয়েটার উপর। দু’জনের মধ্যেই শুরু হয় তীব্র সংঘর্ষ। পাল্টাপাল্টি আ’ঘাত। প্রতি’আঘাতের এক নি’র্মম নৃত্য। ইদ্রান কৌশলে একটা ছু’রি তুলে ফ্যাস করে তার পেটের ভেতরে ঢুকিয়ে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তকারী লুটিয়ে পড়ে মেঝেতে।
কাঁধে ব্যথা পেয়েছে মেয়েটা। হাতের আঙ্গুলের ব্যথা পেয়েছে অনেকটা।
ইদ্রান এক বাক্যে , সংক্ষিপ্ত ভাবে বলল,
“উই উইল গো টু বাংলাদেশ।”
মেয়েটা আড়চোখে তাকালো শুধু। নৈঃশব্দ্যে চেয়ে রইল, কোনো রকম প্রশ্ন করার দুঃসাহস দেখালো না।
বিছানায় অচেতন হয়ে পড়ে আছে স্মাইলি।
ন্যান্সি বুঝে উঠতে পারছে না তারা কি করবে? পরিস্থিতির আকস্মিকতায় দিশেহারা ন্যান্সি। আফরিদ কেন ঈশান কে এখানে রেখে গিয়েছিল? সে কি জানতো তাদের উপর হাম’লা হবে? পূর্বানুমান করেছিল এই আকস্মিক আক্র’মণের?
স্মাইলি কে জাগানোর চেষ্টা করলো না ন্যান্সি। মেয়েটার ভীতু মন ভয় পেয়েছে। অবশ্য ন্যান্সি নিজেও ভয়ে সেঁধিয়ে যাচ্ছিল। যতই সাহসী হওয়ার ভান ধরুক অন্তর্নীলের ভয়টুকু এখনো কা’টিয়ে উঠতে পারেনি কন্যা। তড়িঘড়ি করে এগিয়ে গেল ঈশানের কাছে। গার্ডদের সাথে কথা বলছে সে।
মৃদ্যুমধুর সুরে ডেকে ওঠে,
“ঈশান ভাইয়া!”
ঈশান ন্যান্সিকে দেখা মাত্রই কৌশলে গার্ড গুলোকে পাঠিয়ে দিয়ে ন্যান্সির দিকে পূর্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ করল।
“সত্যি করে বলুনতো ঈশান ভাইয়া এই অ্যাটাক টা কে করেছে? আর আপনি কিভাবে জানতেন আমাদের উপর অ্যাটাক করা হবে?”
ঈশান নিশ্চুপ ,তার কাছে কোনো উত্তর নেই। তার দৃষ্টিতে অদ্ভুত স্থিরতা।
তার এই খামোশি বরদাস্ত করল না ন্যান্সি। আগের থেকে তীব্র ক্ষোভ দেখিয়ে বলল,
“ঈশান ভাইয়া চুপ থাকবেন না সত্যি করে বলুন কি হচ্ছে এসব?”
ঈশান হাত দুটো পিছমোড়া করে বেঁধে দাঁড়ালো। দৃষ্টি তার আগের মতো স্থির। নির্লিপ্ত কন্ঠে জবাব দেয়,
“আপনার সব উত্তর একজনের কাছে পাবেন।”
তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে ন্যান্সি। অধর নড়ে ওঠে মৃদু স্বরে বলল,
“আফরিদ এহসান!”
ঈশানের অধরে ফুটল রহস্যময় হাস্যরেখা। পুনরায় দৃঢ় কন্ঠে উচ্চারণ করল,
“ফ্লাইট রেডি, আমাদের বাংলাদেশে ব্যাক করা প্রয়োজন!”
ন্যান্সি এখানে যে কাজে এসেছিল তা হয়নি । তার কাছে আপাতত শুধু এটুকুই তথ্য রয়েছে যে
মিস্টার আলবার্ট যে কিনা একজন সায়েন্টিস্ট। ইয়েস একজন সায়েন্টিস্ট ,তাকে আজ থেকে গুনে গুনে ঠিক এগারোটা বছর হয়েছে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ স্টেশন থেকে জানতে পেরেছে আর সেই পুরোনো ফুটেজ গুলো থেকে উদ্ঘাটিত হয়েছে এক ভয়াবহ সত্য। মিস্টার আলবার্ট কে কিডন্যাপ করা হয়েছে। সুপরিকল্পিতভাবে।
যে বা যারা তাকে কিডন্যাপ করেছে তারা সেই আগুন্তকের লোকজন। যার হাতের আঙ্গুলে ঈগল খচিত আংটি টা রয়েছে। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে একই ঈগল খচিত ট্যাটু তো ইদ্রানের ঘাড়েও রয়েছে। কিন্তু কে এই দুর্বোধ্য আগুন্তক যার জন্য লুসিফার এলেন ইদ্রান কাজ করে?
পাবে একমাত্র ইদ্রান-ই তাকে সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। এই জটিল রহস্যের একমাত্র চাবিকাঠি স্বয়ং ইদ্রান নিজেই।
🌿_______🌿
আজকে আফরিদ এহসান মহা খুশি। অপরিমেয় উল্লাসে উদ্বেল । তার প্রিয় পরাণ ফিরছে মঞ্জিলে।
আরো একবার মঞ্জিল সাজাতে বলা হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সবকিছুতে যেন নতুনত্বের ছোঁয়া পায় সেই কন্যা।
কল্পনা, মাইমুনা এহসান শুধু আফরিদ এহসানের পাগলামি দেখে চলেছে। নৈঃশব্দ্যে পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন তার উ’ন্মত্ত উচ্ছ্বাস। গুরুগম্ভীর নির্দয় পুরুষের এহেন উচ্ছ্বসিত মূহূর্ত দেখে তারা স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
অবশেষে সংযত কন্ঠে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন,
“আফরিদ এগুলো করা কি খুব প্রয়োজন?”
মাইমুনা এহসানের কথায় ভ্রুক্ষেপমাত্র নেই আফরিদের। ক্ষুব্ধ হলেন মাইমুনা এহসান।
“আফরিদ আমি তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করছি। তুমি কি দয়া করে বলবে?”
আফরিদ গাম্ভীর্যে আচ্ছন্ন কন্ঠে উচ্চারণ করল,
“আমার রাজ্যের রানী ফিরেছে মম সেলিব্রেট তো করতেই হবে।”
কল্পনা তীর্যক হাসিতে ঠোঁট বাঁকিয়ে বিদ্রুপের সুরে বলল,
“পালিয়ে যাওয়া বউ কে নিয়ে এত আদিখ্যেতা না করলেই নয় ভাইয়া?”
আফরিদ দৃষ্টি তৎক্ষণাৎ প্রজ্বলিত অগ্নিশিখার মতো প্রখর হয়ে উঠল। কল্পনার রক্ত জমাট বেঁধে যাচ্ছে।
“দ্বিতীয়বার ওই মুখ থেকে যদি আর একটাও কথা বের হয় তবে, মুখগহ্বরে জিভের অস্তিত্ব থাকবে না।”
এহেন হুমকিতে গা সুদ্ধ কম্পিত হলো কল্পনার। মুখে কুলুপ আঁটলেও মনে মনে ঠিকই ভর্ৎসনা করে বলল,
“ঠিকই বেয়াদব মেয়েটা আবারো ফিরে আসছে।”
এদিকে তিতলি মহা খুশি ইলহাম ফিরবে বলে। অপরিসীম এই উচ্ছ্বাসে উদ্ভাসিত সেও। প্রিয় মানুষটার আগমণে মঞ্জিলের কোণায় কোণায় আনন্দের ছটা লেগেছে যেন।ভাবটা এমন ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা এই মহলের রাণী শুধু মুকুটকা পড়ানো বাকি। সেই রানীর আগমনে রাজ্যবাসী উল্লাস করে বেড়াচ্ছে।
আফরিদ কাউকে ফোন করলো। ওপর প্রান্ত হতে শীতল কন্ঠে ভেসে এলো,
“শুধু সে নয় আপনার শ’ত্রু ফিরছে!”
আফরিদ চওড়া হেসে বলে উঠে,
“আমি স্পেন যাওয়াতে সে আমার আপ্যায়ন করেছিল তাহলে সে বাংলাদেশ আসছে তাকেও আপ্যায়ন করো। তবে হ্যাঁ আমার পরণের যেনো একটাও আঘা’ত না লাগে।”
🌿____🌿
একদিন পর
বাংলাদেশ……
আবারও বাংলাদেশে ফিরে আসতে হলো ন্যান্সি কে। যেন পৃথিবীর সব রাস্তা পাক খেতে খেতে শেষমেষ এই মাটিতেই এসে মিশেছে। যাকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল, যার শক্ত হাতের বাঁধন থেকে মুক্তির জন্য বহুবার দৌড়েছে, শেষমেষ আবারো সেই মানুষটার কাছেই তার ফিরে আসা।
চারপাশের দৃশ্য যেন অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা যতই পালাতে চাও, ততই যেন ঘুরেফিরে একই প্রান্তে এসে দাঁড়াতে হয়। সবকিছু কেমন এলোমেলো, জট পাকানো সুতোয় গাঁথা। আকাশটা ভারী হয়ে আছে অদৃশ্য কোনো বোঝায়, বাতাসে রহস্যের ঘন কুয়াশা। সেই কুয়াশাচ্ছন্ন শহরকে দেখছে ন্যান্সি। দূরে শূন্যে দৃষ্টি ফেলে রেখেছে কিন্তু মন? মন যে তার দোলাচলে দুলছে।
তার মনে একটাই প্রশ্ন বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে নিরবচ্ছিন্নভাবে।
এই সব রহস্যের আসল সমাধান কোথায়? কোন হাত খুলে দেবে এই গোপন জটের শেষ গিঁট?
সমান্তরাল গতিতে এগিয়ে চলেছে দু’টো’ গাড়ি , একটায় ন্যান্সি ঈশান আর স্মাইলি। আর সামনের গাড়িতে লুসিফার,ইভান।
হঠাৎ করেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলো।আকস্মিক তাদের ঠিক পিছনে দুটো গাড়ি আক্রমণ করে বসলো একের পর এক ফায়ারিং হচ্ছে। আকস্মিক এই আক্রমণের কারণ ঠিক আত্মস্থ হলো না কারোই।
আতংক শিহরিত হয়ে উঠল উঠে ন্যান্সি আর স্মাইলি।
স্মাইলির হাতটা দৃঢ়ভাবে চেপে ধরলো ন্যান্সি । স্মাইলি কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল।
“কি হচ্ছে এসব? কারা ওরা?”
ঈশান কঠোর , অথচ সংযত কন্ঠে নির্দেশ দিলো।
“আপনারা নিচু হন প্লিজ।”
তৎক্ষণাৎ তারা দুজনে নির্দেশ মেনে মাথা নিচু করে ফেলল ন্যান্সি আর স্মাইলি।
ঈশান গু লি চালাতে গিয়েও থমকালো। চেতনার গভীরে অপ্রত্যাশিত উপলব্ধি আ’ঘাত,হানল।এটা তো আফরিদের লোকজন! কিন্তু তাদের উপর হামলা করছে কেন?
সামনের গাড়িতে অবিরাম ফায়ারিং হতেই টুং করে একটা ম্যাসেজ এলো। ইদ্রান সেটা খুলতেই ঠোঁটের কোণে রহস্যময়ী হাসি ফুটে উঠল,।
ম্যাসেজে সুস্পষ্ট ভাবে লেখা আছে “ওয়েল কাম।”
ইদ্রানের হাসি তাৎপর্যপূর্ণ । হাসিটা শুধু নির্দিষ্ট সেই মানুষটার নিবেদনে।
নট ব্যাড। মাফিয়া কিং বলে কথা ,ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না। তাই জন্যেই সে সবার থেকে আলাদা,তার ব্যক্তিত্ব তাকে আলাদা করে উপস্থাপন করে। তার ক্ষমতা, দখলদারি ভাব।সবটাই তার অহংকার।
অথচ কে বলবে তার এই অহং এসে ভেঙ্গে গুড়িয়ে যায় এক সাধারণ রমণীর পদতলে?
চলবে……….।
(📌আরেকটা অংশ বাকি ওটা দু একদিনের মধ্যে দিয়ে দেব,পাজি রাজকন্যা এসেই আফরিদকে নাকানিচোবানি খাওয়াবে। বাট ডোন্ট ওয়ারি প্রজাপতিরা মাফিয়া ঠিকই শায়েস্তা করব। ততক্ষনে এটা পড়ে ঝটপট আপনাদের ভালোবাসা জানান প্রজাপতিরা 😘🦋)
আমার আইডি Farhana Nijum
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৪(প্রথমাংশ + মধ্যাংশ + শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭