Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৫ (প্রথম অর্ধেক)


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৫৫] (প্রথম অর্ধেক)

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

“কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে? আমি কিন্তু সত্যি বলছি আমি হেলিকপ্টার থেকে ঝাঁপ দেব।”

ন্যান্সি এমন হুমকি ধামকিতে বিন্দুমাত্র হেলদোল দেখা গেল না আফরিদের মধ্যে।
আশেপাশে দৃষ্টি বুলিয়ে ঈশানকে খোঁজ করল মেয়েটা। এখানে আফরিদ আসার পর থেকে একটিবারের জন্যও ঈশান মানুষটিকে দুটি চোখে দেখতে পেলো না। সে কি তবে আসেনি?

নিজের পোশাক পরিবর্তন করতে ব্যস্ত। গায়ে কি জড়াচ্ছে তা দেখার প্রয়োজন বোধ করল না ন্যান্সি।সে তো লোকটার মুখের দিকে চেয়ে আছে।কি নিদারুণ ভঙ্গিতে ঠোঁটের একপাশে সিগারেট গুঁজে অন্যপাশ দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ছে। ন্যান্সি শুকনো ঢোক গিলল। মনে পড়ে গেল সেদিন সে নিজ থেকেই আফরিদের ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়েছিল। অস্থির করে দিয়েছিল লোকটাকে। তারপর? তারপর ঠিক তাই হলো যা একজন হাসব্যান্ড ওয়াইফের মধ্যে হয়ে থাকে। ন্যান্সি ধীরে ধীরে দৃষ্টি নামিয়ে তাকালো তার অ্যাডামস আপেলের দিকে। শিরশির করে উঠল পায়েল তালু।
আফরিদ বেশ আয়েশিভঙ্গিতে বলল,
“কতদিন ধরে সিগারেট খাইনা, উফ্!”

ন্যান্সি নিশ্চুপ। ড্রেস চেঞ্জ করে ন্যান্সির দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিলো আফরিদ। লম্বা লম্বা টান দিয়ে এবারে সবটুকু ধোঁয়া তার মুখের উপরেই ছেড়ে দিলো। মেয়েটা খুক খুক করে কেশে উঠলো।
হেলিকাপ্টারে রয়েছে দুজনে। ন্যান্সি কম্পিত চিত্তে আওড়াল,
“আমি আপনার সাথে যেতে চাইনা! যদি টানাটানি করেন তাহলে হেলিকপ্টার থেকে লাফ দেব।”

ন্যান্সির মেজাজ নিয়ে বলা কথাগুলো শুনলো আফরিদ। বিরক্তিতে কপালের পাশ ঘষে আঙ্গুলে। তীর্যক কন্ঠে ঈশানের দিকে তাকিয়ে বলল,

“এই ঈশান, আমার রিভলবার দে। এই বান্দির মুখ বেশি চলে। আজকে ওর কন্ঠনালিতে শ্যুট করব। ওকে মারলে পৃথিবীর বুক থেকে একটা বলদ কমবে।”

বলদ ডাকটা শুনে ঠোঁট উল্টে তাকালো ন্যান্সি। এভাবে মুখের উপর অপমান?
“ঈশান ভাইয়া নেই, ভুলে গেছেন?”

আফরিদ ভুলেই বসেছে ওকে ইদ্রানের কাছে পাঠিয়েছে।
“আমি বাংলাদেশে যাবো না।”

আফরিদ ভ্রু নাচিয়ে স্মিথ কন্ঠে বলে,
“হেলিকপ্টার দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়া যায়?”

ন্যান্সি বেকুব বনে গেল।মাথা চুলকে বলে, আসলেই যাওয়া যায় না? ইশ্ লজ্জা পেলো!

আফরিদ অকস্মাৎ তার দিকে এগিয়ে এসে ন্যান্সিকে নিজের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জাপটে ধরে।ভয় পেলো মেয়েটা। যখন পুরোপুরি বিষয়টা বুঝল তখন চিৎকার শুরু করল। আফরিদ তাকে নিজের সাথে বেঁধে ফেলেছে,চোখে অদ্ভুত রকম মোটা চশমাটা পরিয়ে দিয়েছে।

“ক্রেভিংস উঠেছে সোনা। মানিয়ে নে।”

কথাটা বলেই ন্যান্সি কে নিয়ে হেলিকপ্টার থেকে ধীরে ধীরে জাম্প করল। সে যে স্কাইড্রাইভিংয়ে মারাত্মক ভাবে আসক্ত। একবার যদি আকাশে উড়তে না পারে তাহলে কি চলে মনস্টার মাফিয়া কিংয়ের?
আকাশে উড়ছে ন্যান্সি। দুহাত মেলে রেখেছে, আফরিদ পিছনের বাটন চাপতেই প্যারাসুট মেলে গেল! আহ্ কি শান্তি। পাখনা বিহীন নাকি উড়তে পারেনা কেউ। এইতো আফরিদ দিব্যি শখ পূরণ করছে।
চোখ দুটো খিঁচে নিল মেয়েটা। ভয় পেয়েছিল ভীষণ।
এখানেই থেমে নেই আফরিদ। তাকে নিয়ে নিচে নামতেই বলল,

“তোকে হাতে নয়,ভাতে নয়। একেবারে আকাশে ছেড়ে দিয়ে মারব!”

রাগে গজগজ করছে মেয়েটা। ওই রাগের ধার ধারে না আফরিদ এহসান। দিব্যি সিগারেট ধরিয়ে টান দিলো।

সন্ধ্যা নেমেছে ধরণীতে। সামনে হাঁটছে ন্যান্সি,তার ঠিক পিছনে লম্বা লম্বা পা ফেলে এগিয়ে আসছে আফরিদ এহসান।
ফ্ল্যাটে ফিরছে দুজনে। আজকে পুরোটা দিন আফরিদ ন্যান্সির সাথে ছিলো। কিছুটা দূরে যেতেই একটা ফুলের দোকান দেখতে পেলো। এক জোড়া বিদেশি কপোত কপোতীর জন্য ফুল নিয়ে বেরিয়ে এলো। মেয়েটার হাতে ধরিয়ে দিয়ে দিলো। মেয়েটা আনন্দে নেচে উঠল রীতাও।চোখ দুটো কেমন ছলছল করছে তার।
অনূভুতি প্রকাশ করার মতো নয়। ন্যান্সি মন দিয়ে দেখলো তাদের অনূভুতি প্রকাশ। সত্যি অবাক হওয়ার মতো।
কিন্তু পরক্ষনেই লজ্জা পেলো যখন দেখল ছেলেটা মেয়েটাকে লিপকিস করছে। সহসা দৃষ্টি সরিয়ে ফেলল ন্যান্সি। দ্রুত পা বাড়িয়ে হাঁটতে লাগলো।

আফরিদ পিছনে ছিলো, দৃশ্যটা মোটেও তার বাজপাখির দৃষ্টি এড়াতে সক্ষম হলো না। মিটিমিটি হাসলো সে। বউ তার লজ্জা পেয়েছে, কিন্তু বাইরের দেশে এগুলো একদম নরমাল।
ন্যান্সি সামনে এগিয়ে চলেছে, পিছন থেকে আফরিদ বলে উঠে,
“ফুল কি পছন্দ হয়েছে তোর?”

ন্যান্সি গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“হ্যাঁ হয়েছে,এখন কি ফুলের বর্ষন করাবেন?”

আফরিদ হালকা হেসে ফোন বের করে কাউকে কল দিলো।
কিছুটা দূরে থাকায় ফোনে কি আলাপ হলো শুনতে পেলো না ন্যান্সি।
কিছুটা এগুতেই বুঝল পায়ের তালু গরম হয়ে এসেছে। জুতো পরে হাঁটা অসম্ভব রীতিমতো। মাঝপথে দাঁড়িয়ে জুতো জোড়া খুলে পা টানটান করল। সত্যি মনে হচ্ছে পায়ের তালু জ্বলে যাচ্ছে। জেদ করে আফরিদের গাড়িতে উঠেনি, মাঝরাস্তায় নেমে বলেছে হেঁটে হেঁটে যাবে। অগত্যা আফরিদও মেনে নিয়েছে।

কেউ ঝুঁকে জুতো জোড়া এক হাতে নিতেই হকচকালো মেয়েটা। এক হাতে জুতো অন্য হাতটা পকেটে গুঁজে রেখেছে।

“কোলে উঠবি?”
কোলে ওঠার কথা শুনেই ঢোক গিলল ন্যান্সি। দ্রুত সামনে পা বাড়ায়।‌
“আপনার মতো ভেজাইশ্লা লোকের কোলে উঠতে চাইনা।”

আফরিদ দিব্যি বউয়ের পিছু পিছু জুতো নিয়ে হাঁটছে। আকস্মিক ন্যান্সি অস্ফুট স্বরে শুধোয়,
“আপনি আমাকে কেন ভালোবাসেন আফরিদ?”

“তোর মতো বলদকে ভালোবেসে ফেঁসে গেছি। এখন যদি দেই তাহলে তো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবি। তাই ভাবলাম একটু ভালোবেসে জ্ঞান সাপ্লাই করি। আইমিন ভালোবাসা সাপ্লাই করি। আমি তো আবার দয়াশীল।”

বোচা নাকটা ফুলে ওঠে ন্যান্সির। আফরিদ মজা পেলো বউকে বিরক্ত করে। বিদ্যুৎ বেগে এগিয়ে এসে অন্যহাতে কোলে তুলে। ভারসাম্য রক্ষার্থে ন্যান্সি গলা জড়িয়ে ধরে তার।
🌼🌼🌼
গেটের সামনে পা রাখতেই যেন হঠাৎ এক অন্য জগতে ঢুকে পড়ল ন্যান্সি। চারপাশের অন্ধকার রাতটাকে হার মানিয়ে রঙের উল্লাস ছড়িয়ে আছে মাটির বুকে। পদতলে নরম পাপড়ির ছোঁয়া মখমলের মতো কোমল।
লাল গোলাপ, সাদা লিলি, হালকা বেগুনি ল্যাভেন্ডার, উজ্জ্বল টিউলিপ, আর স্পেনের বিখ্যাত কার্নেশন ফুলের মিশেলে সাজানো পথটা যেন এক নীরব প্রেমপত্র। গেটের ধাতব গায়েও জড়িয়ে আছে সাদা জুঁই, যার সুগন্ধ বাতাসে মিশে নেশার মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
ন্যান্সি থমকে দাঁড়াল। বিস্ময়ে চোখ দুটো বড় হয়ে গেল।
ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখল,
আফরিদ দাঁড়িয়ে আছে। পকেটে হাত গুঁজে, শরীরটা টানটান, অথচ চোখে সেই চিরচেনা দুষ্টু ঝিলিক। ঠোঁটের কোণে একগাল হাসি যেন সে আগেই জানত, এই দৃশ্য ন্যান্সিকে স্তব্ধ করে দেবে।
ন্যান্সির বুকের ভেতরটা ধকধক করে উঠল।
উদগ্রীবতা আর বিস্ময় মিশে গিয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করল। কিছু না বলেই গেটটা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ল সে।
যতই এগোচ্ছে, ততই ফুলের ঘনত্ব বাড়ছে। পায়ের নিচে পাপড়ি চূর্ণ হচ্ছে, কিন্তু সেই শব্দটুকুও যেন মধুর লাগছে।
“এত নাটক?”

নিজের মনে বিড়বিড় করলেও, কণ্ঠে লুকোনো হাসি ন্যান্সির। সত্যি কল্পনা করেনি এসব।
ফ্ল্যাটের মেইন ডোরের সামনে এসে থামল। দরজার হাতলে গাঁথা গোলাপের মালা। দরজা খুলতেই ঝরে পড়ল ফুল। উপর থেকে, চারদিক থেকে এক মুহূর্তে সে ঢেকে গেল রঙিন পাপড়িতে। ন্যান্সি চোখ বন্ধ করে ফেলল।
মনে হলো সে কি স্বপ্ন দেখছে?

ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই তার শ্বাস আটকে গেল। পুরো ঘরটা ফুলে ভরা। মেঝে, সোফা, টেবিল সব কিছু যেন ফুলের আড়ালে হারিয়ে গেছে। সিঁড়ির দিকে তাকাতেই দেখল প্রতিটি ধাপ সাজানো লাল গোলাপ আর সাদা লিলিতে।
মাঝে মাঝে ছড়ানো আছে নীল আইরিস যেন রাতের আকাশের টুকরো।
ন্যান্সি আর নিজেকে থামাতে পারল না। দৌড়ে উঠতে লাগল সিঁড়ি বেয়ে। কণ্ঠে রাগের চেয়ে বিস্ময়ই বেশি‌ নিয়ে আওড়ালো,
“এই লোকটা একেবারে পাগল!”

রুমে ঢুকতেই ন্যান্সি থমকে গেল। মাস্টার বেডের উপর লাল গোলাপ দিয়ে বানানো নিখুঁত হার্ট শেপ। চারপাশে ছড়ানো সাদা লিলি আর নরম গোলাপি পিওনি।
বেডের পাশে মোমবাতির আলো হালকা, উষ্ণ, রোমান্টিক। ন্যান্সি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করল ফুলগুলো।
“এত কম সময়ে কিভাবে?”

ন্যান্সির চোখে মুখে অবিশ্বাস। হঠাৎ কানের পেছনে নরম স্পর্শ। চমকে উঠল সে। আফরিদ তার খুব কাছে দাঁড়িয়ে।
একটি গভীর লাল কার্নেশন গুঁজে দিল তার কানের পেছনে। নিম্নস্বরে বলল,
“ওয়াইফি, ডু ইউ লাইক ইট?”

ন্যান্সির গলা শুকিয়ে গেল। শুষ্ক ঢোক গিলল সে।
দু’পা পিছিয়ে গেল।
“আপনি আপনি আসলেই একটা পাগল!”

কণ্ঠে রাগ, কিন্তু চোখে লুকানো আলো। আফরিদ হালকা হেসে মাথা চুলকাল। ঠোঁট কামড়ে দুষ্টু ভঙ্গিতে বলল
“পাগল না হলে কি এমন ফুলের রাজ্য বানাতে পারি?”

এক পা এগিয়ে এল সে।
“আর এই রাজ্যের সবচেয়ে সুন্দর ফুলটা কে জানো?”

ন্যান্সি ভ্রু কুঁচকাল।
“ড্রামা বন্ধ করবেন?”

আফরিদ ঝুঁকে তার চোখের দিকে তাকাল,
“ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা।”

ন্যান্সির বুক কেঁপে উঠল। আফরিদ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,

“বাসরঘর তো রেডি, চল বাসর করি।”

ভ্রু নাচিয়ে ফিসফিস করল সে,
“এবার বাসরটা কমপ্লিট করা যাক?”

ন্যান্সির গাল লাল হয়ে উঠল। এক ঝটকায় পাশ ফিরল।
“ডোন্ট ইউ ডেয়ার, আফরিদ!”

কিন্তু আফরিদ থামার মানুষ না। তার হাত ধরে টেনে নিল কাছে।ন্যান্সি তাকাল তার চোখে।আফরিদ ধীরে বলল,
“মাফিয়া আমি কিন্তু তোর কাছে?‌শুধু একটা পাগল প্রেমিক।”

কিছুক্ষণ নীরবতা। চারপাশে শুধু ফুলের গন্ধ।
ন্যান্সি ধীরে বলল,

“আপনি খুব বাজে!”

“হুম?”

“কারণ এত সুন্দর কিছু কেউ সহ্য করতে পারে না।”

আফরিদ হেসে উঠল।
“তাহলে শাস্তি হিসেবে গ্রহণ কর।”

ন্যান্সি পিটপিট করে তাকাচ্ছে, আফরিদ আরও কাছে ঝুঁকল,
“আজকে তোমাকে একটুও ছাড়বো না জানকি বাচ্চা।”

ন্যান্সির বুক ধক করে উঠল। কিন্তু এবার সে আর পিছায় না। আফরিদ কম্পিত পদ্ম ফুলের মতো ওষ্ঠো জোড়া দেখে জিভ দিয়ে নিজের ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে নেয়।

ন্যান্সি এবারে দু’পা পিছিয়ে বলে,
“ম রতে চান?এত তাড়াতাড়ি?”

আফরিদ আবারো মাথা চুলকে বলে,
“শালীর মাইয়া। এখুনি আমার টাকা ফেরত দে। গরিবের নিতা আম্বানিরেএ তোর জন্য এসব করতে গিয়ে আমার কতগুলো টাকা খরচ হইছে জানিস? বাসর না করতে দিলে দে টাকা ফেরত দে।”

রীতিমতো চোয়াল ঝুলে এলো ন্যান্সি, বিস্মিত কন্ঠে বলে।
“আমি বলছি এগুলো করতে?”

“ঠিক আছে ধর ,তুই আমার থেকে টাকা লোন নিয়ে এলো করেছিস। নিজের ড্রিম পূরণ করেছিস।এখন লোন শোধ কর বেয়াদব মহিলা। হয়তো বাসর কর নয়তো টাকা ফেরত। আমি গরিব মানুষ।

চলবে………।

(📌 আজকের পর্ব আফরিদ আর ন্যান্সিময়।পরের পর্বে বাংলাদেশে ব্যাক করব। কিভাবে করব সেটাও দেখবেন। পরের পর্বে টানটান উত্তেজনা 🫣!)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply