Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২৯


কীভয়ংকরমায়া_তোর

পার্ট_২৯

লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু

কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ🚫❌

“থ” মেরে আদ্রের বুকের উপর পড়ে আছে আহি।ক্ষনে ক্ষনে তার ছোটখাটো শরীরটা কাঁপছে। তার এসব কিছু বিশ্বাসই হচ্ছে না তার মনে হচ্ছে। সে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছে।ঘুম ভেঙ্গে গেলেই সব মিথ্যা হয়ে যাবে।হসপিটালে যখন আদ্রের মুখে “বউ” ডাকটা শুনেছিলো।তখন সে ভেবে নিয়েছে আদ্রও তাকে পছন্দ কিংবা ভালোবাসে। এরই জন্য হয়তো মজা করে ডেকেছে।তার পর আর সে এসব নিয়ে ঘাটায়নি।কিন্তু আজ?আজ তো কোনো কিছু মজা কিংবা মিথ্যা না।চাইলেও সব কিছু মজা কিংবা মিথ্যা সে বলতে পারছে না।কারণ আজ প্রমাণ সহ সব তার হাতেই।এই যে এখন সে আদ্রের বুকে শুয়ে আছে। এই বুকটা একান্তই তার?এই মানুষ টা পুরোটাই কী তার?হুম তারই তো। সে না চাইতেই পেয়ে গেলো এই মানুষ টাকে। সে কতটা ভাগ্যবতী হলে এমন একজনের ভালোবাসা তার কপালে জুটে?তা জানা নেই।

সেদিন কেন আদ্র আহিকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো।A to Z সব আদ্র আহিকে বলেছে সব শুনার পর থেকেই আহি এমন “থ” মেরে পড়ে আছে।সে বুঝতে পারছে না এই মুহুর্তে তার কী করা বা বলা উচিত? আচ্ছা একটা মানুষ কতটা পাগলের মতো ভালোবাসলে হারানোর ভয়ে তিন বছরের এক বাচ্চাকে বিয়ে করে?কতটা ভালোবাসলে নিজের পরিবার,শৈশব,শখ, ইচ্ছে সব ফেলে মাএ চৌদ্দ বছর বয়সে দূর দেশে পাড়ি জমায়? এসবের উওর জানা নেই আহির।আদ্রের এতো এতো ভালোবাসা ফল আহিকে ও’কে দিয়েছে?কিছুই না উল্টো তাকে ঠকিয়ে অন্য কারো প্রেমে পড়েছে।তাকে বিয়ে পর্যন্ত করতে যাচ্ছিলো।তার সাথে সংসার করার স্বপ্ন দেখেছিলো। আচ্ছা এসব যদি আদ্র জানে তাহলে কতটা কষ্ট পাবে?একটু না অনেক বেশি?বেশি কম না আদ্র একবারেই শেষই হয়ে জাবে আহি নিশ্চিত।সঙ্গে আহিকে ভুলও বুঝবে বেইমান বলবে।আচ্ছা যদি আদ্র তাকে আবারও ছেড়ে চলে যায়?না আর ভাবতে পারলো না শরীর থরথর করে কেঁপে উঠলো আদ্রের বুকে আরো চিপছে গেলো। আদ্র এতক্ষন আহিকে দেখছিলো।মেয়েটার শরীর কাঁপছে সে অনেক আগেই বুঝতে পেরেছে।কিন্তু হঠাৎ এভাবে থরথর করে কেঁপে তার দিকে চিপছে যাচ্ছে কেন বুঝতে পারছে না।

—আর ইউ ও’কে বার্বিডল?

আহি জোর গলায় বলতে পারছে না।সে ঠিক নেই সে ভয় পাচ্ছে। যদি তাকে রেখে তার আদ্র ভাই আবারও চলে যায়?এবার তো আহি তাকে ভালোবেসে ফেলেছে। আহি থাকবে কীভাবে তাকে ছাড়া?আহি তো মরেই যাবে শ্বাস আটকে।হঠাৎই আহি ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো। আদ্র চমকায় কী হলো বুঝতে পারছে না সে। অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল

—কী হয়ছে জান কাঁদছিস কেন?কোথাও ব্যথা পেয়েছিস কলিজা?বল না কোথায় পেইন হচ্ছে পাখি.?

আহির কান্না আরো বেড়ে যায়।লোকটা এতো আদুরে মাখা গলায় তাকে ডাকে কেন?সে তো পাগল হয়ে যাবে একবারেই। আদ্র অস্থির কি হয়েছে হঠাৎ তার পাখিটার।এভাবে কাঁদছে কেন? কিছুক্ষণ এভাবে কান্না করার পর আহির কান্না কমে আসে হেঁচকি তুলে বলল

—এত কেন ভালোবাসলেন আমাকে?

এতক্ষণে আদ্র বুঝলো তার পাখির কান্নার কারণ সে।বুকটায় হঠাৎ শান্তি শান্তি ফিল হচ্ছে। আদ্রের মন চাচ্ছে লুঙ্গি ডান্স দিতে। কিন্তু এখন সেটা সম্ভব না।এখন ওর পাখি কাঁদছে তাকে থামাবেও না আদ্র।কাঁদুক কেঁদে কেটে তার বুক ভাসিয়ে ফেলুক।সে চায় তার বার্বিডল শুধু তার জন্যই কাঁদুক। ছোট বেলা থেকেই আহির কান্না কারণ যদি আদ্র নিজেই হয়।তাহলে আদ্র পারতো না লুঙ্গি ডান্স দিতে। পিচ্চি টা তার জন্য কান্না করলে তার অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করতো।এই যে এখন লুঙ্গি ডান্স না দিতে পারায় আদ্রের একটু আফসোস হলো।আপাতত আফসোস সে দূরে ঠেলে দিয়ে গম্ভীর কন্ঠে উওর দিলো।

—আমার ভালোবাসার পরিমান মাপতে আসিস না বার্বিডল।এই পনেরো বছরে এমন কোনো বৃহস্পতিবারের রাএি নেই যে রাএিতে তাহাজ্জুদ পড়ে আমি তোকে চায় নি।


খাটে শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে ফাইজ।চোখে তার ঘুমই দরা দিচ্ছে না।দিবে কীভাবে বেচারা তো বুঝতেই পারছে না তার মনটা যে এক জোড়া চোখ চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। বেচারা না পারছে খেতে না পারছে ঘুমাতে।তার এই ২৬ বছর বয়সে এমন কখনোই হয়নি।বিদেশে থাকাকালীন কত সুন্দর সুন্দর রমনী তার আশেপাশে ছিলো।অথচ ফাইজ ভুলেও তাদের দিকে তাকাতো না। তারা সেচ্ছায় ফ্রেন্ডশিপ করতে আসলেও ফাইজ এড়িয়ে যেতো।

সেদিন এয়ারপোর্টে থেকে আসার পথে হঠাৎই ফাইজের গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। বাইরে তখন মোটামুটি ভালোই বৃষ্টি হচ্ছিল। ডাইভার ছাতা নিয়ে আশেপাশে গাড়ি সারানোর জন্য দোকান খুঁজতে বের হয়।ফাইজ ভিতরে বসে বসে মোবাইল দেখছিলো। অনেক্ষণ একধারে মোবাইল দেখার পর। পাশ ফিরে জানালার বাইরে তাকাতেই একজোড়া চোখ দেখে সে থমকে যায়। লাল টপস্ সাথে লেডিস্ জিন্স পড়া একটা মেয়ে বৃষ্টি বিলাশ করছে। মাথায় তার হিজাব মুখ মাক্সের আড়ালে ডাকা।চোখ জোড়া ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না আর সেই চোখ জোড়া অতি মায়াবী। এতো মায়াবী চোখ ফাইজ আরেকজনের দেখেছিল।সে হচ্ছে তার বনু আহি ওর চোখও অতি মায়াবী তবে চোখের মণিটা ভিন্ন রং বিদেশি বলে কথা। আহির চোখ টানা টানা বড় বড় পাপড়ি। আর এই মেয়ের চোখ বড় বড় তবে মায়াবী।ফাইজ সেই চোখ জোড়া থেকে যেন চোখই সরাতে পারছিলো না।চোখ বন্ধ করে আবার খুলে বাইরে তাকাতেই সে মেয়ে নেই।হারিয়ে গেছে।বৃষ্টির মধ্যে ফাইজ বের হয়ে আশেপাশে খুঁজে ছিলো পায়নি।

সেইদিনের কথা ভেবে ফাইজ চোখ বন্ধ করে নিজে নিজে বলল

—কে ছিলে তুমি?তোমার চোখ জোড়া এতো মায়াবী কেন?কয়জন কে ধ্বংস করেছো আজ পর্যন্ত মেয়ে?


সকাল সকাল রৌদ্র এসে হাজির নেওয়াজ বাড়িতে। বেচারা কাল রাতে ঘুমাতে পারেনি।আদরের বোনকে দূরে রেখে চোখের পাতা এক করতে পারেনি।বোনকে কল দিয়ে না পেয়ে আদ্রকে কল করেছিলো।আদ্র তো কলই ধরল না। উল্টো মেসেজ দিয়ে বলে

” বউয়ের বড় ভাই সমন্দী ছোট বোনের প্রেমে কাবাব মে হাড্ডি হতে লজ্জা করেনা?বউ নিয়ে প্রেম করছি খবরদার ডিস্টার্ব করবি না একদম।আর একবার ডিস্টার্ব করলে অভিশাপ দিলাম জীবনেও বউ পাবি না।

মেসেজ টা পড়ে রৌদ্র যেন আকাশ থেকে পড়ল।মানে কী নিজে তার বোনের সাথে প্রেম করবে।আবার সে কল দিলে অভিশাপ দিবে?সে নাকি জীবনেও বউ পাবে না?রৌদ্র পাল্টা রিপ্লাই দিয়ে বলল

—শালা বউ না ফেলে তোর বোনকে তুলে নিয়ে আসব।তখন তোকে বুঝাব অন্যের বোনের সাথে প্রেম করো।নিজের বোনের সাথে করলে কেমন লাগে।

আদ্র হা হা রিয়েক্ট দিয়েছে শুধু। সেটা দেখে রৌদ্র আরো ক্ষেপে যায়।বেচারা রাতভর রুমময় পায়চারি করেছে আবার অবশ্য একটা কেলেঙ্কারিও করেছে।

সকাল সকালে তেমন কেউই ঘুম থেকে উঠে নি।আতিয়া নেওয়াজ দরজা খুলে দেয়।তিনি রৌদ্রকে দেখে খুব খুশি হন।রৌদ্রকে উনার বেশ লাগে।দায়িত্ববান ছেলে একদম তার আদ্রের মতই।আতিয়া নেওয়াজকে রৌদ্র বলেছে খুব জরুরি কাজে আদ্রের কাছে এসেছে।আতিয়া নেওয়াজ আদ্রের রুমে যেতে বলে রৌদ্র কে।তার পর ছুটলেন রান্না ঘরে।রৌদ্র অনেকগুলো বছর হলো উনাদের বাড়িতে এক গ্লাস পানিও খায়নি আজকে তিনি না খাইয়ে ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন। রৌদ্র হাসি মুখে মেনে নিয়েছে।

সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে রৌদ্র। আর উপর থেকে ঘুমে দুলতে দুলতে নেমে আসছে ইয়ানা।রাতে ভালো ঘুম হয়নি তার।মন মেজাজ খুবই খারাপ কালকে সারারাত তাকে কোন বাঁদরে জ্বালিয়েছে।অচেনা একটা আইডি থেকে তাকে বার বার উল্টা পাল্টা কথা বলেছে মজা নিয়েছে।ইয়ানা অবশ্য ব্লক করতে চেয়েছে তবে লোকটার হুমকিতে আর পারেনি করতে।রৌদ্রকে ইনায়া এখনো দেখেনি। তবে রৌদ্র ইয়ানা দেখে সাইড করে দাঁড়িয়ে থেকে ইয়ানার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে আবার কিছু ভাবছে।হঠাৎ কিছু পড়ে যাওয়ার আওয়াজ পেয়ে রৌদ্র সামনে থাকতেই মুখটা আপনা আপনি হা হলে গেলো।সিঁড়ি উপর উষ্ঠা খেয়ে পড়ে আছে ইয়ানা।এই মেয়ের এই রোগ টা জীবনেও জাবেনা।ছোট বেলা থেকেই রৌদ্র দেখে আসছে।ইয়ানা যেখানে সেখানে উষ্ঠা খেয়ে পড়ে যায়।এই মেয়ের কী পায়ে শক্তি নেই নাকি?রৌদ্র আজও বুঝলো না।তাই সে ধরে নিয়েছে এটা এই মেয়ের এক ধরণের রোগ।

রৌদ্রের মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি আসলো।তাকে চার বাচ্চার বাপ বানানোর মজা দেখাবে।ভাই-বোন দুটোর সাথে রৌদ্রের কোন জন্মের শত্রুতা রৌদ্র আজও বুঝলনা।আগে বোনকে একটু ভেজিয়ে দাওয়া যাক তার পর ভাইকে দেখে নিবে।যেই ভাবা সেই কাজ।একহাত বাড়িয়ে দিয়ে শয়তানি হাসি দিয়ে বলল

“নোটন নোটন পায়রা গুলি ছোটন বেঁধেছে “
~ওইখানে তে একটা মেয়ে উষ্ঠা খেয়ে পড়েছে~
“কে দেখেছে কে দেখেছে আমি দেখেছি”
~আমি আবার দয়ালু তাই তো~
“হাত বাড়িয়ে দিয়েছি

_(লেখিতে:তোমাদের ভন্ড তামু আপা)এটা শুনে কেউ আবার কোমায় চলে যেও না🙂🫠🙏

[কী লেখছি নিজেও জানি না ভাই।এই পার্ট তিন তিনবার লেখছি।কপি করতে গিয়ে খাতাম হয়ে গেছে মানে কাটা গেছে।কেমন হয়ছে জানিও ভালো রেসপন্স পেলে তাড়াতাড়ি গল্প দিবো]

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply