Golpo ডিফেন্স রিলেটেড ডেসটেনি

ডেসটেনি [ সারপ্রাইজ_পার্ট ]


ডেসটেনি [ সারপ্রাইজ_পার্ট ]

সুহাসিনি_মিমি

তারপর? তারপর গুনে গুনে পেরিয়ে গেছে ঠিক ষোলোটা দিন। কতশত ঘন্টা, কতহাজার মিনিট! সবকিছু তো আগের মতোই আছে। আগের মত আছে প্রিয়ন্তী ও। প্রয়োজন মত হাসে, কথা বলে, স্বাভাবিক থাকার ভানও করে। কিন্তু ভেতরে? ভেতরে সেই দগদদে গাঁয়ের ক্ষতটা শুকোনি আজও।

কত চেষ্টা করেছে লোকটাকে ভুলতে। নিজের সঙ্গে জোড় করেছে, সংগ্রাম চালিয়েছে। তবে দিনশেষে হেরে গেছে ও। পারছেইনা। উহু, লোকটাকে ভুলার ক্ষমতা নয়,বরং লোকটার ওর প্রতি ঐরকম ব্যবহার, যেটা যাওয়ার আগে করে গেছে। সরাসরি প্রত্যাখ্যান এর বিষয়টা। তবে প্রিয়ন্তীর একটা হিডেন গুন আছে বলাবাহুল্য।কারো সামনে দুর্বল হয়ে পড়েনা মেয়েটা । বুঝতে দেয়না কাউকে কিছুই। এই একগুঁয়েমিটুকুই আঁকড়ে ধরে আছে গত ষোলোটা দিন যাবৎ!

সেদিন সকালটা ছিল পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে প্রিয়ন্তীর একটা সময় কত জল্পনা কল্পনা ছিল। কি কি করবে, কোথায় কোথায় যাবে দু মাস আগে থেকে বান্ধবীর সঙ্গে মিলে প্ল্যান কষা শেষ। তবে এবারের পহেলা বৈশাখও পারেনি প্রিয়ন্তীর মন রাঙাতে। নিত্যদিনের মত আজও নিজের রুমেই বসেছিল ও। বের হয়নি কোথাও।তখনি দরজায় নক করে ভেতরে ঢুকে পাভেল।বলে,

“প্রিয় শোন!”

“জি ভাইয়া?”

“তিনদিন পর আমার এক ফ্রেন্ডের বোনের বিয়ে। আগামীকাল বাদ পরশু গায়ে হলুদ। তাই তোকে জানিয়ে গেলাম। খুব কাছের ফ্রেন্ড তো। আমাকে তো বলছে এখন থেকেই ওদের বাড়ি জয়েন করতে!”

খুব আস্তে করে মাথা তুলে বলল প্রিয়ন্তী,

“ও মানে, আমাকেও যেতে হবে? আমি না গেলে হয় না?”

পাভেল ভ্রু কুঁচকে বলে,

“এটা কেমন কথা প্রিয়? মাথা ঠিক আছে তোর? তোকে ছাড়া আমরা একা যাবো?আর যেতে চাচ্ছিস না কেন হঠাৎ? এই তোর কি হয়েছে বলতো আমায়? খুব করে দেখছি, বাড়ি থেকে বের হোস না। ভার্সিটিও যাস না। সারাটাদিন ঘাপটি মেরে রুমে করিস টা কি তুই?”

“এমনি ভাইয়া। ভালো লাগছে না তাই বলেছিলাম। আচ্ছা যাবো।”

“সবসময় নিজের মতো করে চলা যায় না, প্রিয়ু। এটা ফ্যামিলি ইনভাইটেশন।”

“বুঝেছি ভাইয়া!”

“আর শোন, আজকে মিতালীকে নিয়ে মার্কেটে যাবি। যা যা লাগবে,ড্রেস, জুয়েলারি সব কিনে আনবি দুজন একসঙ্গে গিয়ে।”

“আজকেই?”

“হ্যাঁ, আজকেই। আজকে না পারলে কাল যাবি!”

“ঠিক আছে ভাইয়া!”

“এখন নিচে যা তোর ভাবি ডাকছে তোকে। কি যেন বানিয়েছে বলল। কিরে উঠছিস না কেন?”

অগত্যা উঠে দাঁড়ালো প্রিয়ন্তী। ভাইয়ের কথা ফেলার সাহস ওর নেই। ভয় পায় যে খুব। বিষয়টা আসলে ভয় না, মান্য বলা চলে একপ্রকার। প্রবল ভালোবাসাও কাজ করে এখানে। পাভেল আর দাঁড়ালো না। বোনকে শাসিয়ে নেমে গেলো নিচে।


সকালটা ভাইয়ার কথামতো ভাবীর সঙ্গে ব্যস্ততায় পাড় করলেও অলস দুপুরটা আবারও ওকে ফিরিয়ে নিয়ে এলো সেই একই জায়গায়। বিছানার এক কোণে হেলান দিয়ে বসে বসে উপন্যাসের বই পড়ছে ও। জানালার ফাঁক গলে ঢুকে পড়া রোদের সরু রেখাগুলো লম্বা হয়ে পড়েছে মেঝেতে।

আজকাল আর তেমন একটা বাইরে বের হয় না ও।
অতি প্রয়োজন ছাড়া নয়ই বলা চলে। নিজের ঘরটাতেই এখন ওর সবচেয়ে বেশি স্বস্তি লাগে।
এই নিয়েই অবশ্য শ্রেয়ার রাগের শেষ নেই। কদিন পরপরই চড়াও হয় মেয়েটা। কেন এভাবে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে, কেন ভার্সিটি যাচ্ছে না—এসব নিয়ে হাজারো প্রশ্ন শ্রেয়ার। গত ষোলো দিনে মাত্র তিনদিন ভার্সিটিতে গিয়েছে প্রিয়ন্তী। বাইরে টুকটাক প্রয়োজনে একদিন-দুদিন বের হয়েছিল। এই পর্যন্তই।

এই অল্প ক’দিনেই ওর মনে বেশ কিছু সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ব্যাপারটা খুব একটা আমলে নেয়নি প্রিয়ন্তী। ভেবেছিল ভ্রম বা হয়তো অতিরিক্ত ভাবনার ফল। কিন্তু সময়ের গতিতে অনুভূতিটা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

ওর মনে হয় বাড়ি থেকে বের হলেই কেউ ওকে অনুসরণ করে।কারো দৃষ্টি ওর উপরই নিবদ্ধ থাকে। ও যখন ঘুরফিরে তাকায়, খুঁজে বেড়ায় কাউকে ওর আশেপাশে তখন কাউকেই খুঁজে পায়না ও। কিন্ত এসব তো বাস্তবে হয়না। উপন্যাসের পাতায় কত পড়েছে এসব। নিজের ভাবনায় নিজেরই হাসি পায় ওর আজকাল।

আর তারথেকেও অদ্ভুত বিষয়টা ঘটে রাতের বেলা।
প্রতিদিন, একদম নিয়ম মেনে, একই সময়ে
নতুন নতুন অচেনা নাম্বার থেকে একটা মেসেজ আসে ওর। Mine💙! জাস্ট এতটুকুই। এর বেশি আর একটি শব্দও না। প্রথম প্রথম ভীষণ অবাক হয়েছিল প্রিয়ন্তী।
বারবার নম্বরগুলোতে কল ব্যাক করেছে। কিন্তু তাতে বিশেষ কোনো সুরাহা হয়নি। প্রতিবারই নম্বর বন্ধ পেয়েছে।

এই পুরো ব্যাপারটা এখনো কাউকে বলা হয়নি।
শ্রেয়াকেও না। কারণ কথাগুলো নিজের কাছেই কেমন অদ্ভুত শোনায় যে। মেয়েটা শুনলে নিশ্চই আগের বারের মত এবারও ওকে উল্টাপাল্টা লজিকে বুঝ দিতে আসবে।
:
:
:
সকালের কড়া রোদটা এখন আর নেই। সেখানে ভর করেছে মেঘের আনাগোনা। বৈশাখের সেই চেনা আবহ এটা। ওই সময়ে বাড়িতে এসে হাজির হয় শ্রেয়া।মিতালী গিয়ে দরজা খুলতেই ঝড়ের মতো ভেতরে ঢুকে পরে মেয়েটা। লাল পাড়ের সাদাটে একটা সুতির শাড়ি পড়েছে। খোলা চুলে লাগিয়েছে বেলির মালা। মিলিয়ে মিলিয়ে কপালে একটা টিপ ও লাগিয়েছে। ভেতরে ঢুকেই চারপাশে চোখ বুলিয়ে বলল,

“কোথায় সেই মহারানী?”

মিতালী হেসে বলল,

“উপরে, নিজের রুমে।”

“উঠেনি , তাই না?”

শ্রেয়া সোজাসুজি উঠে এলো বান্ধবীর ঘরে। রুমে ঢুকতেই বিছানায় হেলান দিয়ে বসে থাকা প্রিয়ন্তীকে দেখে কপাল কুঁচকে গেল ওর বিরক্তিতে। বলল,

“কিরে বিধবা মহিলা!”

“কি?”

“আজকে পহেলা বৈশাখ, আর তুই এইভাবে বসে আছিস?”

প্রিয়ন্তী নির্লিপ্ত স্বরে বলল,

“ভালো লাগছে না। কখন এসেছিস তুই?”

শ্রেয়া এবার সত্যিই ক্ষেপে গেল,

“ভালো লাগছে না মানে? কতবার বললাম, বাইরে যাবি। একটু ঘুরব—শুনলি সেসব?”

“আমার ঘুম পাচ্ছে দোস্ত। আবহাওয়া দেখেছিস? এই আবহাওয়ায় বের হয় কেউ?”

“বাইরে না বের হয়ে ভিতরে ধ্যানে বসলে দেখবি কিভাবে বের হয় কিনা? উঠ এখন। জলদি!”

প্রিয়ন্তী উঠতে না চাইলেও জোড় করে উঠালো শ্রেয়া। সোজা গিয়ে কাবার্ড খুঁজে খুঁজে বের করল একটা নীল রঙা শাড়ি। কালার কম্বিনেশনটা না গেলেও আপাতত তাতে হবেই ভেবে একপ্রকার জোড় করেই পড়িয়ে দিলো সেটা।

“আমি শাড়ি পরব না।”

“পরবি।”

“শ্রেয়া!”

“চুপ!”

এরপর শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে কাঁচের একথোকা নীল চুরি পরালো। চুলগুলো খুলে দিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে আসা বেলির মালাটা গুজলো সেখানে। এরপর টুকটাক সাজিয়ে ভালো করে ঠোঁট কামড়ে কিছুক্ষন পরখ করে নিয়ে বলল,

“একটা জিনিস মিসিং। তাকা আমার দিকে!”

প্রিয়ন্তী সাথে সাথে ফুসে গিয়ে আপত্তি জানাল,

“এই না না আমি কাজল দিবোনা”

“কেন?”

“পরে চোখের নিচে কালি পড়ে যায় তাতে!”

“ওটা মেয়েদের আরও সুন্দর্য্য বাড়ায়। একটু আকটু পড়লে কিছু হবেনা। স্থির হয়ে চুপচাপ বস।”

শেষমেশ শ্রেয়ার জোরাজোরিতে চোখে কাজল ও পড়ল ও। ঠোঁটে লাগালো পিঙ্ক লিপগ্লস। সবশেষে একটু দূরে সরে দাঁড়িয়ে শ্রেয়া নিজেই বলল,

“ওয়াও! একদম পারফেক্ট!এখন চল বাইরে যাই। “

“আমি কোথাও যাচ্ছি না।”

“কি?”

“ভালো লাগছে না। তুই গেলে যা।”

শ্রেয়া বিরক্ত হয়ে তাকাল। বাইরে ততক্ষনে মেঘের গর্জন আরও তীব্র হলো। আকাশটা পুরোটাই মেঘে ঢেকে গেছে। বৈরী বাতাস বইছে শু শা আওয়াজ তুলে।মিতালী নিচ থেকে উঠে এলো তখন,

” বাইরে গেলে বৃষ্টি হতে পারে।এরথেকে ভালো বাড়িতেও আড্ডা দাও তোমরা!”

শ্রেয়া একটু ভেবে হঠাৎ বলল,

“তাহলে ছাদে যাই ভাবি?”

প্রিয়ন্তী চোখের ইশারা করতেই শ্রেয়া আবার বলল,

“ছাদে যেতে সমস্যা কি?”

কিছুক্ষণ চুপ থেকে শেষমেশ রাজি হলো। তিনজন একসাথে ছাদে উঠল। ছাদে দাঁড়াতেই এলোমেলো বাতাস এসে ছুঁয়ে গেল ওদের মুখ। মেঘলা আকাশটা অদ্ভুত সুন্দর আজ।শ্রেয়া উত্তেজিত হয়ে ফোন বের করে বলল,

“এইদিকে আয়, আগে ছবি তুলি।”

বলে গটাগট কয়েকটা ছবি তুলে ফেলল ওরা।
এরমধ্যেই মিতালী নিচ থেকে ট্রে করে চা নিয়ে এলো।
ছাদের কার্নিশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে, মেঘলা আকাশের পানে চেয়ে চেয়ে চা খেলো অল্প স্বল্প।
:
:
:
:
তিনজন বসে আছে নিরিবিলি। শ্রেয়া ফোন বের করে ভিডিও করছে ওয়েদারের। এই নিরবতার মাঝেই হঠাৎ কী যেন মনে পড়ল শ্রেয়ার।চোখ দুটো চকচক করে উঠল তাতে। আকস্মিক প্রিয়ন্তীর হাতে থাবা মেরে বলল,

“এই প্রিয়,একটা গান গা না।”

প্রিয়ন্তী চমকে তাকাল। কপাল কুঁচকে বলল,

“কি?”

“ গা না। অনেকদিন তোর গান শুনি না।এই ওয়েদারে তোর গলায় গান শুনলে একদম জমে ক্ষীর হয়ে যাবে ব্যাপারটা!”

“আমি আর গান? তাও এখন? অসম্ভব!”

“এখনই গাবি তুই। আমার কথা রাখবি না দোস্ত? তোর জন্য সবাইকে ফেলেফুলে বাড়ি আসলাম। এমনিতেই মনটা খারাপ। না করিসনা প্লিজ?”

“বললাম তো ভালো লাগছে না। গলায় সুর আসবেনা ভাই!”

শ্রেয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে তাকাল,

“তোর কোনো কিছুই ভালো লাগে না এখন, তাই না?দুইদিন পর আমাদেরও ভালো লাগবেনা। তিনদিন পর তোর ভাই ভাবীকেও ভালো লাগবে না। চারদিন পর দেখা যাবে নিজেকেও ভালো লাগছেনা। পাঁচদিন…

“হয়েছে হয়েছে। থাম থাম। গাইবো। খুশি এবার?”

মিতালী এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিল সবটা। পাভেলের মুখে বেশ কয়েকবার শুনেছিল প্রিয়ন্তী ভালো গান গাইতে পারে। ওর গানের গলা নাকি তার শাশুড়ির মত। ভদ্রমহিলা খুব সুন্দর গান গাইতেন। তবে সরাসরি কখনো শুনেনি এর আগে। কৌতূহলী চোখে বলল তাই,

“তুমি গান গাইতে পারো প্ৰিয়?”

“পারে না মানে! স্কুল-কলেজে কত প্রাইজ পাইছে এই মেয়ে জানেন? এত ভালো টেলেন্ট কেউ হাইড করে রাখে?”

মিতালীর চোখ যেন আরও বড় হয়ে গেল বিস্ময়ে। বলল,

“ওমা সত্যি নাকি?”

প্রিয়ন্তী একটু অস্বস্তিতে পড়ল। বলল ইতস্তত করে,

“অমন কিছুনা ভাবি। ও সবসময় একটু বাড়িয়েই বলে।”

“তুমি জানো আমার গান শুনতে খুব ভালো লাগে। ভাইয়া তো আমায় একবার গানের ক্লাসে ভর্তি করেছিল। তবে সবাইকে দিয়ে আর কি সবকিছু হয়? আমার গলার স্বর সুন্দরনা। মোটা। তাই ছেড়ে দিয়েছি!”

প্রিয়ন্তীর মনটা কেমন নিগড়ে উঠে আকস্মিক। নিজেকে সামলা দিতে দিতে শুনতে পায় পাশ থেকে উঠে যাচ্ছে শ্রেয়া। একছুটে সোজা দৌড়ে নিচে পরোক্ষনে আবার হাঁপাতে হাঁপাতে উঠে এলো। হাতে ধরা একটা গিটার। ওটা প্রিয়ন্তীরই। কয়েক বছর আগে পাভেল কিনে দিয়েছিলো সেটা।

“এই নে।”

গিটারটা সরাসরি প্রিয়ন্তীর হাতে গুঁজে দিয়ে থামে শ্রেয়া।প্রিয়ন্তী একেবারে হতবাক তাকায়। বলে,

“তুই এটা এনেছিস কেন?”

“তো কি হয়েছে? আজকেই প্রথম ধরলাম নাকি এটা?”

“আমি গাইব না। সর!”

“প্লিজ দোস্ত!”

পাশ থেকে মিতালী ও অনুরোধ করল,

“গাও না প্রিয়। খুব ইচ্ছে হচ্ছে শুনতে।”

দুইজনের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল প্রিয়ন্তী। হাড় মানলো অবশেষে। গোল হয়ে গিটার টা হাতে নিয়ে বসল। আঙুলগুলো আলতো করে ছুঁয়ে গেল গিটারের চিকুন, সরু তারের উপর।
হাওয়াটা একটু জোরালো হয়ে উঠেছে ততক্ষনে। দ্রিম দ্রিম শব্দ তুলছে। দূরে কোথাও বিদ্যুৎ চমকালোও বোধহয়। প্রিয়ন্তী শাড়ির আঁচলটা ঠিক করে গান ধরল। ঝোড়ো বাতাসে খুলে রাখা চুলগুলো উড়ে এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে মুখ।

মেয়েটা গানের সুর ধরতেই এতক্ষন মুগ্ধ নয়নে পাশে বসে থাকা মিতালীর ধ্যান ভাঙলো। কি মনে করে যেন ফোন বের করে ভিডিও অন করে রাখল এই মুহূর্তটা ধরে রাখার জন্য। এত সুন্দর জিনিস ফোন বন্ধি না করে রাখা যায় কি? মেয়েটা গায়-ই এত সুন্দর।
:
:
:
দীর্ঘ,শ্বাসরুদ্ধকর এক অপারেশন শেষে অবশেষে ঘাঁটিতে ফিরেছে টিম “লেভায়াথান”। তখন বিকেলের আলো স্লান হয়ে এসেছে কেবল। মিশন শেষে ফেরার এই মুহূর্তটা প্রতিবারই অন্যরকম হয়। শরীরে বাসা বাধে ক্লান্তিরা। অচল হয়ে পরে একেকজন। জাহাজ থেকে নামতেই অপেক্ষমাণ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একে একে এগিয়ে এলেন। চোখে-মুখে চাপা গর্ব নিয়ে আহ্বান জানাচ্ছেন সকলকে। অপারেশন সফল হয়েছে। জয়ী হয়ে ফিরেছে টিম। আর সেই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে যে নামটা সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠে, সেটা হলো তাজধীর সিদ্দিক আযান।

একজন সিনিয়র অফিসার এগিয়ে এসে দৃঢ়ভাবে তাজধীরের কাঁধে হাত রাখলেন।প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বললেন,

“ইমপ্রেসিভ ওয়ার্ক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার। এই লেভেলের এক্সিকিউশন, এটা সবাই পারে না। তোমার
ওপর ভরসা করা যায়। প্রতিবারই প্রমাণ করে আমাদের আস্থা আরও বাড়িয়ে দাও তুমি। গ্রেইট জব!”

তাজধীর সংক্ষিপ্তভাবে মাথা ঝুঁকাল শুধু। তার মধ্যে আলাদা কোনো উচ্ছাসতা কাজ করলনা। আর তার এই স্বভাবটাই তাকে সবার থেকে আলাদা করে তোলে। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল অর্ণব, ফাহিম আর সেহরোজ। অল্প কিছুক্ষণ পর সবাই নিজেদের কোয়ার্টারে ফিরে এলো। আপাতত শরীরটা আরাম দিতে হবে। গভীর বিশ্রামের প্রয়োজন। কতদিন রাত জেগে জেগে পাড় করেছে সেই হিসাব রাখে কে।

তাজধীর নিজের রুমে ঢুকে ক্যাপটা খুলে টেবিলের ওপর রাখল। তারপর গিয়ে বিছানার পাশে হেলান দিয়ে বসল। এলিয়ে দিলো শরীরটা। মাথাটা পেছনে ঠেকিয়ে কয়েক সেকেন্ড চোখ বন্ধ রাখল।অমনি হুড়মুড় করে ঢুকে গেল অর্ণব, ফাহিম। অর্ণব ঢুকেই জুতা ছুঁড়ে দিয়ে সোফায় গা এলিয়ে বলল। তাজধীর চোখ খুলে বিরক্তিতে বলল,

“এখানে কি চাই? তোদের থাকার জায়গায় নেই? সবাই যার যার রুমে গিয়ে রেস্ট নে!”

এইই রুমটায় কি পায় ওরা কে জানে। নিজেদের রুম ফাঁকা রেখেও এখানে এসে বসতেই ভালো লাগে সবার। সবাই বলতে অর্ণব আর ফাহিম। সেহরোজ ও আসে। তবে দরকার ছাড়া অপ্রয়োজনীয় আলোচনায় থাকেনা সে। একান্ত দরকারেই এসে জড়ো হয় সেখানে।

“আগে পাঁচ মিনিট আড্ডা মারি ভাই। মাইন্ডটা একটু রিফ্রেশ ও তো করতে হবে নাকি?”

“তো এটা কি সরকারি ক্যাফে পেয়েছিস? যা বের হো!রেস্ট করবো আমি!”

“এমন খেঁক খেঁক করছিস কেন? তুই বসেছিস বিছানায় আর আমরা সোফায়। তোর কোলের উপর তো উঠে আর বসিনি যে তোর প্রবলেম হবে!”

ফাহিম সায় মিলালো তাতে। বলল,

“তোর কি হয়েছে বলতো আগে। এইবার আসার পর থেকেই বেশ নোটিস করছি বিষয়টা।এমনে শেয়ালের মত খালি খেঁক খেঁক করতেই থাকিস। সেহরোজ এর ভাইরাসে ধরসে নাকি তোরে?”

“ধরতেই পারে। দুইটা তো এক গোয়ালেরই মাঝি। নিশ্চই কোনো ভালো কাজের রেজাল্ট হিসাবে আমাদের মত দুজন কে পাইসে।”

বলতে বলতেই পকেট হাতড়ে ফোন বের করল অর্ণব।সময় পরখ করে নিয়ে কল লাগায় বোনকে।তাজধীর যথারীতি নিজেকে শান্ত রাখতে চেষ্টা করে ফুস করে দম ছাড়ে। ওদিকে কলটা রিসিভ হতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠল ফারহানার মুখ। ভাইকে কিছু বলতে না দিয়েই নিজেই বলতে লাগে,

“তোর প্রাণপাখি। বাসায় নাই।”

“মানে?”

“খালার বাসায় গেছে।”

“কিহ? কখন?”

“এইমাত্র গেছে।”

অর্ণব সোজা হয়ে বসে। ভ্রু টানটান করে সুধায়,

“তুই এখনই কল দিয়ে আসতে বল ওকে।”

“আমি কেন? তুই করতে পারিস না? “

“ইডিয়েট ওর কাছে ফোন আছে?”

“তাহলে আমি কিভাবে করবো?”

“ফুপী কে কল দিয়ে বল আসতে।”

“পারতাম না! এতে আমার লাভ?”

“শোন না বোন আমার। এবার আসলে যা চাস তাই কিনে দিবো। এখনই একটু দেখার ব্যবস্থা কর, না হলে আমি স্ট্রোক করে মা রা যাবো!”

“আচ্ছা দেখছি। অপেক্ষা কর। লেটেস্ট মডেলের ফোন চাই আমার এবার আসলে। দিবি কিনা আগে বল!”

“দিবো, দিবো!”

কল কেটে দিলো ফারহানা। পাশ থেকে খুব মনোযোগ দিয়েই বন্ধুর এহেন ছটফটানি দেখছিলো ফাহিম। চোখ কপালে তুলে বলল ছেলেটা,

“মাত্রই ফিরলি ব্যাটা। আগে গিয়ে রুমে রেস্ট করবি একটু রিলিফ নিবি। এত তাড়াহুড়ার কি আছে?মেয়েটা কি হারায়া যাচ্ছে?”

“ওসব তুই বুঝবি না। আগে কাউকে ভালোবাস, প্রেমে পর তারপর আর জিজ্ঞেস করারও দরকার পরবেনা। এমনিতেই বুঝে যাবি!”

এরপর শরীরটা এলিয়ে তপ্ত একটা শ্বাস ছেড়ে বলতে লাগল ফির,

“যতই ব্যস্ততা, কাজের কড়া সিডিউল থাকুক না কেন, ভালোবাসার মানুষটাকে এক নজর দেখলে সারাদিনের শরীরের সকল ক্লান্তি, সকল অসস্তি এক মুহূর্তে গায়েব হয়ে যায়। দুই ঘন্টা শাওয়ার নিলে, সারারাত ঘুমাইলেও—যেই রিলিফটা পাবো না ওরে এক নজর দেখলেই ওইটা পাই।”

“তুই শেষ। পুরো রোমিও হয়ে গেছিস।”

বলেই ফাহিম ডাকে ফির,

“আচ্ছা অর্ণব!”

“হুঁ?”

“তুই তো মেয়েটারে ভালোবাসিস তাই না?কবে থেকে পছন্দ করিস ওরে?”

অর্ণব এবার সোজা হয়ে বসল। খুব আগ্রহী দেখালো ছেলেটাকে হুট্ করেই। বললো ওভাবেই,

“কবে থেকে পছন্দ করি এইটা ঠিক করে বলতে পারব না। কারণ ওরে তো আমি দেখতেছি জন্ম থেকেই। প্রথমবার কোলেও নিসিলাম আমি।কিন্ত
যেদিন প্রথম বুঝলাম ওর সামনে দাঁড়াইলে আমার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে ধুকপুক করে। কেঁপে উঠে সমস্ত অস্তিত্ব। ওর হাসি দেখলে মনে হয়—সবকিছু থেমে যাক, শুধু হেসেই যাক আমার প্রাণপাখিটা।
আর আমি সারাজীবন মুগ্ধ হয়ে সেই হাসিটুকু দেখে যাই।ওর খানিকটা স্পর্শে আমার ভিতরটা শুদ্ধ টলমল করে উঠে। নাড়িয়ে দেয়। তখন থেকেই বুঝেছি। প্রেমে পরে গেছি আমি ওর। ওকে আমার লাগবেই। তবে মেয়েটা ছোট। কোনো রকম টাইনা টুইন্না এস এস সি টা দেয়াই আগে। এরপর সব ধৈর্য্য সহ্যর কুরবানী।”

“মেয়েটা জানে?”

অর্ণব মাথা নাড়ল। বলল,

“উহুম। বলিনি।”

“কেন?”

“আগে আরেকটু বড় হোক।এই বয়সে এসব বলার মানে নাই। বাচ্চা মানুষ। ভয় পাইবো উল্টো। এমনিতেই আজকাল বাড়ি গেলে সামনে আসতে চায়না।”

“যদি এর আগে অন্য কারো চক্করে পড়ে যায়?”

অর্ণব বিন্দুমাত্র দেরি না করে উত্তর দিল ফটাফট,

“পড়বে না।”

“এত কনফিডেন্ট?”

“ওর মা—মানে আমার ফুপু খুব স্ট্রিক্ট পার্সন। আর রাহিও ঐরকম মেয়ে না।”

“তোরে দেখে ভয় পায়, আর তুই আছিস বউ বানানোর ধান্দায় ?”

“এই ভয়টাই একদিন ভরসায় পাল্টাইবো। দেখিস।”

“বাপরে! দোয়া করি তোর প্রাণপাখিই যেন শেষমেশ তোর হয়।”

ফাহিম আকস্মিক চুপ থেকে ফট করে প্রশ্ন করে বসল আবার,

“আচ্ছা ভাই আমি কিভাবে বুঝবো যে আমিও কারো প্রেমে পড়েছি?”

“সালা আমারে কি তোর লাভ গুরু মনে হয়? “

“বলনা। তোর তো এক্সপেরিয়েন্স আছে।”

“সবার কথা তো বলতে পারিনা, তবে যখন তোর কাউকে ভালো লাগবে তখন সেটা সবার আগে তুই নিজেই বুঝতে পারবি। তোর মন বলে দিবে সেটা। তার আশেপাশে থাকলে দুনিয়ার সমস্ত ধ্যান, জ্ঞান, চিন্তা সবকিছু লোপ পেয়ে যাবে। তুই এমন এমন কাজ করে বসবি তার মুখে হাসি ফুটানোর জন্য যা তুই নিজেও উপলব্ধি করতে পারবি না। আদৌ সেসব তোর ক্যারেক্টতার এর সঙ্গে যায়কিনা। পরে নিজেই ভেবে ভেবে হাসবি। মানুষটার অনুপস্থিতিতে, দুনিয়াটা তোর কাছে রংহীন লাগবে, নিস্প্রান লাগবে। কোনো কিছুই ভালো লাগবেনা সে পাশে না থাকলে।মানুষটার সঙ্গে একটা দিন কথা না বললে দেখবি তোর দিনটা অসম্পূর্ণ লাগবে। চারপাশে সব কিছু থাকার পরও কেমন খালি খালি লাগবে।অকারণে বারবার মনে পরবে তাকে। হাজার মানুষের ভিড়ে ঠিকই তোর দুচোখ আটকাবে ওই মানুষটার মাঝে। আর তাকে না দেখতে পেলে মেজাজ খিট মিট করবে সার্বক্ষণিক।

” আমাদের তাজধীরের মত?”

অর্ণব থামল। চোখ তুলে চাইলো বিছানায় নিলিপ্ত গা এলিয়ে ফোন স্ক্রোলিং করা তাজধীরের উপর।ছেলেটার আশেপাশে দুজন মানুষ যে নিজেদের একটা আলাদা ভালোবাসার দুনিয়া বানিয়ে রেখেছে সেদিকে হুসমাত্র ও নেই। ফাহিমের আকস্মিক কথার পরিপ্রেক্ষিতে দুই বন্ধুই এক সঙ্গে শব্দ করে হেসে দিল।

ফাহিমের প্রশ্নের পর অর্ণব একটু হেসে পিঠ ঠেকাল সোফার সাথে। ওদিকে একদম ভিন্ন জগতে ডুবে আছে তাজধীর। শার্টের বুকের দুটো বোতাম খোলা।
ক্লান্ত শরীরটা হেলান দিয়ে রেখেছে।
হাতে ফোন—আঙুল ধীরে ধীরে স্ক্রল করছে স্ক্রিনে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তার তেমন কোনো উপস্থিতি নেই।
পাঁচ বছর আগে খোলা একটা ফেসবুক আইডি—
নামেমাত্র। বন্ধু তালিকায় হাতে গোনা কয়েকজন।
পরিবার ছাড়া তেমন কেউ নেই। মেসেজ রিকোয়েস্ট, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট—সবকিছুই প্রায় অযত্নে পড়ে থাকে সবসময় ।চেক করার সময় আর আগ্রহ কোনোটাই নেই তার। হয়নি ও কোনোদিন। হঠাৎ কি মনে করে যেন ফেইসবুকে ঢুকে সে। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছাড়াই। মিনিট খানেক স্ক্রল করল লাগাতার। কানের মাঝে তখনো অর্ণবের বলা একেকটা বাক্য ঘুরছে।

অস্তির হয়ে ফেইসবুক স্ক্রলিং করতে করতে আকস্মিক, একদম অপ্রত্যাশিত ভাবেই
হঠাৎই থেমে গেল তার আঙুলদুটো। মেঘলা আকাশের নিচে ছাদে গোল হয়ে বসে আছে দুজন নারী।
গাঢ় নীল শাড়ি জড়িয়ে আছে তার শরীরে। ওই নীল শাড়িতে আবৃত নারীটিকে দেখেই আকস্মিক হৃদপিন্ডটা কেমন খামচে উঠল তার। ফর্সা গোলগোল হাত দুটোয় শোভা পাচ্ছে নীল কাঁচের চুড়িগুলো।
কপালে ছোট্ট টিপ। চুলগুলো খোলা, এলোমেলো হয়ে উড়ছে বাতাসের তালে তালে।অবাধ্য হয়ে বারবার এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে মুখ।এক হাতে গিটার আঁকড়ে ধরা।
অন্য হাতে ধীরে ধীরে স্ট্রাম করছে সে মহিয়সী। আর সেই নারীর গলায় বাজতে থাকা সুরতানে কেঁপে উঠে তার সমস্ত সত্তা,

“ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাওয়া এ সময়,
মেনে নেয় তার পরাজয়!
জীবন পরে ধুলোতে, হারিয়ে সঞ্চয়!
যার কথা ভাসে মেঘলা বাতাসে,
তবু সে দূরে তা মানিনা,
জানি না কেন তা জানি না, জানিনা
কেন তা জানি না, জা নিনা…”

তাজধীর অনুভব করল তার বুকের কম্পিত সেই হৃদস্পন্দন। এই অনুভূতির সঙ্গে এর আগে কখনো, কোনোদিন পরিচিত হয়নি সে। একবারে
অচেনা,অস্বস্তিকর সেই অনুভূতি। আশ্চর্য! তার হুট্ করে এমন লাগছে কেন? শ্বাস নিতেও কেমন যেন কষ্ট হচ্ছে মনে হচ্ছে। হাঁসফাঁস লাগছে ভিতরটা। অস্তির লাগছে কেন তার এতটা? বারবার কেন ঘুরফিরে মেয়েটার এই দৃশ্যটুকুই তার চোখে ভাসছে?একটু আগের বন্ধুর বলা অবহেলা, বিরক্তিতে শোনা প্রত্যেকটা শব্দই হুবহু মিলে যাচ্ছে। সেতো এমন নয়।
এইসব আবেগ, অনুভূতি এসব তার জন্য না।তাহলে
তার ভেতরটা এমন এলোমেলো করে দিচ্ছে কেন হঠাৎ?

“কে রে মেয়েটা? কোনো ভয়েস আর্টিস্ট?”

ফাহিমের ডাকে ধ্যান ভাঙে তার। ফাহিম আবারও বলে,

“এত সুন্দর গলা! দেখাতো একটু! যার গলা এত কোমল, মিষ্টি—সে দেখতে কেমন, নিশ্চই খুব সুন্দরী?”

বন্ধুর কথার পরিপেক্ষিতে চুপ করে রইলো তাজধীর। ঠোঁট কামড়ে কি মনে করে যেন ঢুকলো মেসেঞ্জারে। মাস খানেক আগে আসা সেই মেয়েলি আইডিটার মেসেজ বারে ক্লিক করতেই নিচে লেখা উঠল, this persons isn’t available in mesengar”

চোখ দুটো আশ্চর্যে বড় হলো তাজধীরের। মেয়েটা ওকে ব্লক করেছে? সিরিয়াসলি? কিছু একটা ভেবে আকস্মিক উঠে দাঁড়ালো বিছানা ছেড়ে। সোজা গিয়ে দাঁড়ালো বারান্দায়। ফোনের ডায়াল অপশনে গিয়ে কল লাগালো কাউকে। রিং বাজতেই ওপাশে ভেসে এলো কারো কণ্ঠ,

“হ্যাঁ তাজধীর বলো।”

“স্যার, আমি একটা ইমেইল পাঠাচ্ছি।”

একটু থেমে আবার বলল,

“আমার আর্জেন্ট কিছুদিনের ছুটি লাগবে। বিস্তারিত মেইলে জানিয়ে দেব।”

ওপাশ থেকে অবাক কণ্ঠ ভেসে এলো তখুনি,

“সবেমাত্র তো এলে তুমি, তাজধীর! কি হলো হঠাৎ?
এত ঘন ঘন বাড়ি যাচ্ছ যে? ইজ এভরিথিং অলরাইট?”

“ইস্যুটা পার্সোনাল স্যার!”

“আচ্ছা, ঠিক আছে আমি ম্যানেজ করার চেষ্টা করবো। বাকি বিস্তারিত মেইলে পাঠিয়ে দিও।”

“ওকে স্যার। থ্যাংক ইউ।”

বলে কল কাটলো সে। তারপর চোখ তুলে তাকালো আকাশের পানে। মনে মনে বিড়বিড় করে বলল,

“মিস ব্লু হাফ মুন। একজন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার কে ব্লক করার শাস্তি আপনায় পেতে হবে। সেই শাস্তিই দিতে আসছি আমি। প্রস্তুত থাইকেন কিন্ত !”

চলবে…

সারপ্রাইস পার্ট কেমন লাগল গায়িস? নেন এখন একটু শান্তি শান্তি ফিল করুন। আর অপেক্ষা করুন। ভালো কিছুই পাবেন। ভরসা রাখুন কেমন? আর একটু রেসপন্স কইরেন আজকের পর্বে। যেন আমার মনটা ভালো হয়ে যায় আপনাদের কমেন্ট পড়লে। জানাবেন কিন্তু 🫶

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply