Golpo romantic golpo প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা

প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৩৭


প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||৩৭||

ফারজানারহমানসেতু

‌তুবার হাসিমুখ দেখে ভ্রু কুচকে তাকাল রোজা । হঠাৎ এত খুশি কেন? জানতে চাইলে বলল,” আমি অচেনা লোককে পেয়ে গেছি।”

যতটা উচ্ছাস নিয়ে বলল তুবা ,রোজা ওতটা উচ্ছাসিত হলো না। তুবা মুখ কুচকে বলল,” তুই খুশি না ? আমি অচেনা লোককে পেয়ে গেছি।”

” জানি ।” এই জানি কথাটাই কর্ণকুহুরে পৌছাতেই তুবা যেন আকাশ থেকে পড়ল। বিস্ফরিত নয়নে চেয়ে বলল,” মানে ,তুই কিভাবে জানলি?”

” জিজু বলেছে ।”

” কোন জিজু ?”
” তুবার অচেনা ব্যাক্তি ,আমার জিজু ।”

তুবা কিছুই বুঝতে পারছে না।রোজা কিভাবে জানবে ? রোজা এবার পুরো তুবার দিকে ঘুরে বসল।বলতে শুরু করল, “সেদিন তোকে রাস্তায় বাচিয়েছিল কে ?”

” জানিনা।একটা ছেলে,মুখে মাস্ক ছিলো ।মুখ দেখতে পাইনি।”

” ওইটা জিজু ছিলো ‌। আই মিন ,আরিয়ান ভাইয়া।”

তুবা অবাকের পর অবাক হচ্ছে।সে একসাথে‌ কত সারপ্রাইজ নিবে আজকে ? যাকে বেঈমান বলল,সেই অগোচরে তার প্রাণ বাচালো।
তবে সেদিন পরিচয় দিলে কি এমন ক্ষতি হতো? নিশ্চই তুবাকে কত খারাপ মেয়ে ভেবেছে।আজকেও রুড বিহেভিয়ার করেছে।তবে রোজা কেমনে জানল আরিয়ানই সেই লোক তাও তো জানতে হবে। ” তুই কিভাবে জানলি বললি না তো ?”

“আরে ধৈর্য্য ধর বলছি ।তুই সেদিন বললি না আমাকে সব ?”

” হুম । আমি তোকে না জানিয়েই মিরান ভাইয়াকে তোর ফোন থেকে নাম্বার নিয়ে দিয়েছিলাম। আর বাকি কাজটা ভাইয়া করেছে ।”

” কতদিন আগে জেনেছিস?”

” সাতদিন মতো আগে ।সরি, তোকে জানাতে চেয়েছিলাম ‌কিন্তু জিজু বলল ,তোকে একেবারে এসে সারপ্রাইজ দিবে।”
” মিরান ভাইয়া কিভাবে ওত তাড়াতাড়ি সব বের করল?”

” কিভাবে করেছে ? তা আমি জানি না। ওত তাড়াতাড়ি একজনের খোজ ভাইয়া কিভাবে বের করল তা আমি ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম ? কিন্তু ভাইয়া আমাকে এইসব বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করল। তাই আমিও ঘাঠি নি বিষয়টা । তোর মনে এখন প্রশ্ন যে আমি জিজুর সাথে কিভাবে কথা বলেছি তাই তো?”

তুবা উপর নিচ মাথা নাড়ল। রোজা আবার বলতে শুরু করল,” আসলে হঠাৎ উধাও হওয়ায় আমার কেমন জানি সন্দেহ হচ্ছিলো,তুই যাকে এত ভালোবাসিস,সে তোকে আদেও ভালোবাসে তো ? তাই রাফিয়া ভাবিকে দিয়ে টেস্ট করেছিলাম। কিন্তু বেচারাও তোকে প্রচন্ড ভালোবাসে ,তা ভাবি প্রথম কথাতেই বুঝে গেছিলো।তাই আমরা কেউ আর বিষয়টা বাড়ায়নি। পরে শুনলাম বড় বাবা তোর বিয়ের কথা বলছে।আরিয়ান ভাইয়াকে বলার পর বলল ,বড়বাবা নাকি তার বাবার বন্ধু।আর বিয়েও তার সাথে হওয়ার কথা চলছে।সরি আমি তোকে বলতে চেয়েছিলাম ,কিন্তু জিজুর কথা রাখতে গিয়ে বলতে পারি নি।ট্রাস্ট মি,আমি তোর কষ্ট দেখেও কিছু বলিনি,জিজুর জন্য। আমাকে ভুল বুঝিস না।”

বলতেই তুবা নিজের জায়গা ছেড়ে এসে সোফায় রোজার পাশে বসল।তারপর হঠাৎ রোজাকে ঝাপটে ধরে কান্না করে দিল।রোজা হঠাৎ তুবার এমন আরচণে হকচকিয়ে গেল। তুবাকে ঠেলে সোজা করতেই তুবা কান্নার মাঝে হেসে উঠল। তারপর গালে আলতো করে ঠোট ছুইয়ে বলল,” তুই আমার দেখা পৃথিবীর বেষ্ট বোন,বেষ্টফ্রেন্ড ,বেষ্ট ভা….

বলতেই থেমে গেল। এক্ষুনি ভাবি বলে ফেলছিলো। তারপর আবার জাপটে ধরে বলল,” বেষ্ট,বেষ্ট,বেষ্ট একজন পারসন তুই। “

রোজা এবার তুবাকেও জড়িয়ে ধরে বলল,” ঠিক আছে জিজুর বউ। কিন্তু‌জিজুর জন্যও কিছু ভালোবাসা জমিয়ে রাখ । এমনিতেই জিজু একবার বলেছে,আমি নাকি তার ভালোবাসাতে ভাগ বসিয়েছি। তার বউ নাকি তার থেকে আমাকে বেশি ভালোবাসে।”

বলতেই দুজনে হেসে উঠল। ততক্ষনে মিরান এসে বলল,” কি-রে তুবু বুড়ি । রোজাকে সব বেষ্টএওআর্ড দিয়ে দিলি।আমাকে একটা থ্যাংকস ও দিলি না।”
তুবা হেসে বলল,” তোমাকেও অনেক অনেক বস্তা থ্যাংকস ।”

” বস্তা টানতে পারবো না।একটা দিলেই হবে।”

আরেকদফা হাসির রোল পড়ল। মিরান কষ্টমাখা মুখ করে বলল,” হাহহ,কষ্ট ।সবার‌ লাইফ এই মিরান নেওয়াজ সেট করছে ।আর তার লাইফ এখনো সিঙ্গেল পরে আছে।একটু তো হেল্প করতে পারিস দুজন।”

রোজা চোখ কুচকে বলল,” ভাইয়া তোমার লজ্জা লাগে না,ছোটবোনদের কাছে ভালোবাসার কথা বলো?”

” হাহহ লজ্জা। ভালোবাসা উড়ে গেলে ,তারপর লজ্জা ধুয়ে পানি খাবো। হেল্প কর ,ওই শাশুড়ির বেডি অনন্যারে পটাতে।”

রোজা তুবা দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে তারপর মিরানকে সব বুঝিয়ে দিল। মিরান সব শুনে নিল মনোযোগ সহকারে। তার যেতে যেতে বলল,” কি দিনকাল এলোরে,ছোট বোনরা‌ বড়‌ভাইকে প্রেমে টেকনিক দেখায়। ধিক্কার জানাই তোদের এই‌সমাজকে। সব এক একটা প্রেমে পিএইডি করেছে।”

রোজা তড়িৎ বেগে বলল,” ফ্রিতে সার্ভিস দিলাম ,দূর্নাম দিলে। আমিও দেখে নিবো অনন্যা আপু রাজি হয়‌ কিভাবে ? “


দেখতে দেখতে কেটে গেল দুইদিন। পরশুদিন ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলো রোজা , আবার আজকে যেতে হবে।
সকালে মোস্তফা নেওয়াজ আর তাজারুল নেওয়াজ অফিসে গেছেন। মিরান নাকি তার কোনো কাজে গেছে। রাফেজ আরাজকে নিয়ে স্কুলে গেছে।তূর্জানও ভার্সিটি গেছে। আবার কি হয়েছে কে জানে? কথা বলছে না। কিন্তু কেন? কথা না বললে তো রোজা এখন থাকতেই পারে না। তবে প্রবাদটা আজ সত্যিই মনে হচ্ছে,

“ তুমি যখন কারোর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ফিল করবে, দেখবে তখনি তার অবহেলা শুরু হয়ে যাবে। “

যদিও তূর্জান অবহেলা করেনি। রোজার সকল বিষয় খেয়াল রাখছে। কিন্তু তাতে কি? কথা তো বলছে না। আরাজের বার্থডে আজ দুদিন হয়ে গেছে। এই দুদিনে নিজে একটুও কথা বলেনি।

তবে এতকিছুর পরেও একটা জিনিস ভেবে রোজা শান্তি পাচ্ছে। তুবা তার অচেনা লোকেকে চিনেছে। সেই লোক যে আরিয়ান মির্জা তাও বুঝেছে। আগামী সপ্তাহে তাদের বিয়ের ডেটও ফাইনাল করা হয়েছে। মানে তুবার লাইফ পুরো সেট। নয়তো এভাবে সারপ্রাইজ কয়জন পায়। নিজে থেকে বিয়ে ঠিক করে বাংলাদেশে এসে বাবা মাকে নিয়ে হাজির বিয়ের জন্য। অথচ তুবা ডুকরে কেদেছে এই বিয়ে করবে না বলে। আবার বিয়ে ভেঙে দিতে বলেছে। ভাগ্যিস আগেই বিয়ে ভাঙেনি তার আগেই আসল লোককে পেয়ে গেছে। ভাগ্য বলে একেই।

তূর্জানের সাথে তুবাও ভার্সিটি গেছে। একজন গেলে অনন্ত পড়াশোনার অবস্থা বুঝতে পারবে। আর রাফিয়া সে তো বাড়িতে এইকাজ সেইকাজ করেই সময় পাচ্ছে না। রাহেলা নেওয়াজ ইদানিং অসুস্থই বেশি থাকেন। তার জন্য তানিয়া নেওয়াজ ও কোথাও যেতে পারেন না। আর রেহেনা নেওয়াজ রান্নার কাজেই ব্যাস্ত। পরশুদিন তাও মিরান নিয়ে গিয়েছিলো ডাক্তারের কাছে। তবে নিয়ে গিয়ে রোজাকে হসপিটালে রেখে নিজের কাজে গিয়েছিলো।হয়তো রোজা ডাক্তারের সাথে একা কথা বলেছিলো, তাই নেক্সট চেকাপের ডেট কেউ জানে না। আর রোজারও মনে নেই কাউকে জানানোর কথা।

তানিয়া নেওয়াজ রোজাকে চুপ করে সোফায় বসে থাকতে দেখে এগিয়ে এলেন। রোজাও ইদানিং একদম শান্ত বাচ্চাদের মতো থাকে। হয়তো জ্বরের জন্য অসুস্থতা যায়নি। তানিয়া নেওয়াজ সোফায় রোজার পাশে বসতেই রোজা তানিয়া নেওয়াজের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল। তানিয়া নেওয়াজ শুধালেন, “ কি হয়েছে আম্মু? মন খারাপ? “

রোজা মাথা ঝাকালো মানে মন খারাপ নয়।
“ তাহলে কি হয়েছে? এত চুপচাপ কেন? কেউ কিছু বলেছে? “

“ না বড় আম্মু, এমনি। ভালো লাগছে না। “

“ কিছু খেতে মন চাচ্ছে? তোমার বড় আব্বুকে বলবো? “

“ না। “

“ তাহলে এত মন খারাপ কেন? “

“ এমনি, ভালো লাগছে না। কেমন যেন অসস্তি ফিল হচ্ছে। “

তখনি দরজা দিয়ে ঢুকল তূর্জান আর তুবা। তূর্জান নিজের রুমে যাওয়ার সময় বলল, “ আম্মু ওকে তাড়াতাড়ি রেডি হতে বলো! “

বলেই রুমে চলে গেল। রোজার মন খারাপ আরো বেরে গেল। সে কি এখানে নেই যে বড় আম্মুকে বলে যেতে হলো? নাকি রোজার সাথে কথা বললে, পৃথিবী অশুদ্ধ হয়ে যাবে। তানিয়া নেওয়াজ কিছু একটা আন্দাজ করলেন।

তুবার দিকে তাকাতেই তুবা বলল, “ আজকে রোজার চেকাপ আছে, তা তো ভুলে বসে আছে। ডাক্তার বর্ষা ফোন করেছিলেন, ভাইয়াকে। আগেও রেগে ছিলো তারপর থেকে আরো রেগে আছে।”

তানিয়া নেওয়াজ রোজার দিকে তাকালো। কিছু বললেন না। শুধু রোজাকে রেডি হতে বলে তিনি আবার তার কাজে চলে গেলেন। রোজাও বেশি কথা বললো না, রুমে গিয়ে একটা সুন্দর অলিভ কালারের চুড়িদার পড়ে নিল। এই রঙে রোজার আলাদা একটা ফিলিংস কাজ করে। এটা নূরের বিয়ের আগে তূর্জান কিনে দিয়েছিলো পড়ায় হয়নি। হয়তো তূর্জানেরও পছন্দের কালার এটা। নয়তো রোজাকে যা কিনে দেয়, তার বেশিরভাগ জিনিসই অলিভ কালার হয়ে থাকে।

আজকে তূর্জানের কাছে সরিও বলে দিবে। তার জন্য কথা শুনতে হয়েছে তূর্জানকে, হয়তো ওই রাগটাই এখনো কাটেনি । রেডি হয়ে তুবার সামনে গেলে, তুবা মাশাআল্লাহ বলে উঠল।

রোজা নিচে নামতেই দেখল, তূর্জান হাতে বাইকের চাবি নিয়ে ঘোরাচ্ছে। রোজাকে দেখেও না দেখার ভান করে, গিয়ে বাইকের কাছে দাড়ালো।রোজাও তূর্জানের অভিমানের কারণ হিসাবে ধরল, সবার বকাঝকা, যা তূর্জান পেয়েছে। তূর্জান নিষেধ করার পরও রোজা বৃষ্টিতে ভিজেছে। হিসাব অনুযায়ী বকাগুলো রোজা খাবে। কিন্তু তূর্জান পেয়েছে সেইগুলো। তবে রোজা তো সরি বলেছিলো তাহলে? আর তারপর তো কিছুই করেনি।

রোজা গিয়ে বাইকের কাছে যেতেই তূর্জান হেলমেট নিয়ে পড়িয়ে দিয়ে নিজেও পড়ে নিল। রোজা পিছনে উঠে বসে আছে। তবে বাইক স্টার্ট দিচ্ছে না তূর্জান। রোজা বুঝল, দোমনা করে তূর্জানের কাধে হাত রাখতেই তূর্জানের বাইক নেওয়াজ বাড়ির মূল ফটক পেরিয়ে চলল তার গন্তব্যে।


হসপিটালে পৌছাতেই তূর্জান রোজার আর নিজের হেলমেট খুলে রাখলো। রোজার হাত ধরে এগোতে থাকল হসপিটালের ভিতরে। যেন ছেড়ে দিলেই উড়ে যাবে। কথা বলছে না অথচ কেয়ার দেখাচ্ছে। কে বলেছে এভাবে কেয়ার দেখাতে? রোজার কারোর সিমপ্যাথির প্রয়োজন নেই। লাগবে না কারোর সিমপ্যাথি। কথা বললে কি এমন ক্ষতি হবে?

হয়তো এমনি দিন হলে রোজা খুশিই থাকতো। তবে উদ্দেশ্যহীন কারণে রোজা আজকে খুশি হতে পারলো না। হসপিটালে ঢুকতেই,রোজা বলল, “ আমি একাই ডক্টরের চেম্বারে যেতে পারবো। হাত ছাড়ুন! “

“ কেন আমি গেলে সমস্যা? “

“ আমার ওতটাও কিছু হয়নি, যে আমি একা ডক্টরের সাথে কথা বলতে পারবো না। “

“ একা যেতে পারবি? “

“ হুমম। আমি যথেষ্ট ম্যাচুরিটি। সো এরকম বাচ্চাদের মতো ট্রিট করবেন না। “

বলেই ডক্টরের চেম্বারে ডুকল। পিছনে থেকে তূর্জান বিরবিরালো, “ যথেষ্ট ম্যাচুওর একটা মেয়ে তুই। ভালো ম্যাচুরিটি কতটা আমিও দেখে নিবো। যাস্ট একেবারে জানে খেয়ে ফেলবো। “

রোজা ডাক্তার দেখিয়ে বাইরে আসতেই দেখল তূর্জান বসে আছে। বিরক্ত একটা লোক। ফোনে কি দেখে উপরওয়ালাই ভালো জানে! একটু সময় পেলেই বাচ্চাদের মতো ফোন স্কল করে। রোজা গিয়ে সামনে দাড়াতেই মনে হলো, কিছু একটা আড়াল করল। কিছু একটা দেখছিলো, রোজাকে দেখে তা গোপন করল। হাহ তাতে রোজার কি?

“ডক্টর কি বললো?”

“ কিসের কি বলবে? “

“ তাইতো জানতে চাইছি, ডক্টর কি বললো? শরীরের কন্ডিশন এখন কেমন? জ্বরের প্রকোপ কমেছে? “

“ হুমম। “

“ কতোটা? “

“ পুরোটা। “

“ নাও পারফেক্ট। “

বলেই তূর্জান উঠে আবার বাইকের চড়ে বসল। রোজাও গিয়ে বসল।

বাইকে আবার তারা চলতে শুরু করল। রোজার ভালোই লাগছে, বাইকে বসে পুরো শহর ঘুরে দেখার স্বপ্ন আজ না চাইতেও পূরণ করে দিল তূর্জান। এই যা, সরি বলার আগেই তূর্জান থ্যাংকস ডিজার্ভ করে ফেলল। রোজা কাধে রাখা হাত দিয়ে তূর্জানের কাধ খুচিয়ে মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা করল। হলোও তাই!

হেলমেটের উপর তূর্জান চলতি বাইকেই হালকা মুখ ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “ কি সমস্যা? এভাবে খোচাখুচির মানে কি? এখন কি চাস আমি এক্সিডেন্ট করে ম’রে যাই!“

রোজার মন খারাপ হলো ভীষণ। এই লোকের মুড এমন চেঞ্জ হচ্ছে কেন,? তাও আবার সেকেন্ডের মধ্যে। প্রথম কথা তাও ভালো লাগলো, শেষে ওইটুকু না বললে কি হতো? রোজা আর কথা বললো না। মুখ ঘুরিয়ে নিল। তূর্জান বাইক চালাচ্ছে আপন গতিতে, চোখ তার মিররে নিবদ্ধ। হেলমেটের উপর দিয়েই বুঝতে পারছে রোজার এক্সপেশন। তূর্জান বাইকের স্পিড কমালো। ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, “ কি? কি বলতে চাইলি? “

“ কিছু না। “

“ সত্যিই। “

“ হুমম। আপনাকে মারার আমার কোনো ইচ্ছা নাই। “

“ কেন? আমি মরে গেলে তোর কি? বরং বেচে যাবি। অসহ্য লোককে আর সহ্য করতে হবে না। “

“ আমি বলেছি আপনি অসহ্য? আর যাও বলেছি তা তো এমনিতেই বলেছি, রাগ করে তো বলিনি। তাহলে উল্টো পাল্টা কথা বলছেন কেন? “

“ উল্টো পাল্টা কথা বললাম কোথায়? যাস্ট মরার কথা বললাম। মরে গেলেই তো সব চুকে যাবে। “

“ বারবার মরার কথা কেন বলছেন? ওকে আপনার এতো মরার শখ তাহলে, এককাজ করুন একটা গাছে কিংবা গাড়িতে বাধিয়ে দিন। সব শেষ হয়ে যাবে। “

“ সত্যিই চাইছিস মরে যাই? ওকে। তাহলে তুই নাম বাইক থেকে। “

“ আমি কেন নামবো? আমার জন্যই তো মরতে চাচ্ছেন। তো আপনি একা মরবেন কেন? আমাকে নিয়েই মরুন। না থাকলো ঝামেলা আর না থাকলো ঝামেলা সহ্য করার মানুষ। ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং। কি বলেন? “

“ সে তো বুঝলাম, কিন্তু আমার সাথে মরার শখ হলো কেন? আমার সাথে মরতে চাইছিস?“

“ প্লিজ থামুন তূর্জান ভাই। ভালো লাগছে না এইসব কথাবার্তা। ”

“ কেন ভয় করছে? “

“…….”

“ ভয় করলে একটু চেপে বসে, আরেকটু এটে ধরতে পারিস। “

“ লাগবে না কারোর সিমপ্যাথি। আমি বাড়ি যাবো তাড়াতাড়ি, একটুও ভালো লাগছে না। “

বলতেই তূর্জান বাইকের স্পিড বাড়িয়ে দিলো। রোজা কাধ থেকে রাগ করে হাত সরিয়ে ফেলেছিলো। বাইকের হঠাৎ স্পিড বাড়ায় নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে তূর্জানর পেটের কাছে নিজের হাত দ্বারা আবদ্ধ করে মাথা তূর্জানের পিঠে ঠেকিয়ে দিল। কিছুক্ষনের মধ্যেই তূর্জানের পিঠে ভেজা অনুভূত হলো। তূর্জান বেশ বুঝতে পেরেছে, তখন বারবার মরার কথা বলায়, এমন করছে।

তূর্জান মুচকি হেসে বললো, “ কি রে
ভালো টালো বেসে ফেলেছিস না কি?এভাবে জড়িয়ে ধরে মরা কান্না কাদছিস!লোকে তো ভাববে বউকে কষ্ট দিয়েছি জন্য কান্না করছে। কিন্তু আমি তো কিছুই করিনি, তাহলে আমার উপর মিথ্যা দোষারোপ দিচ্ছিস কেন?“

বলতেই রোজার কান্না থেমে গেল। তূর্জানের টেকনিক ভালোই কাজে দিয়েছে। রাগিয়ে দিলেই কান্না বন্ধ।

“ আপনি সত্যিই একটা অসহ্য, বিরক্ত, হিটলার, ভিলেন, ব্রিটিশ পুরুষ। “

বলেই তূর্জানের পিঠ থেকে মাথা উঠিয়ে হাতও আগলা করে আনতে চাইলো। কিন্তু তার আগেই তূর্জান একহাতে রোজার দুহাত মুষ্টিবদ্ধ করে সামনের দিকে টেনে নিল। যার ফলে রোজার মাথার স্থান আবার সেই তূর্জানের পিঠেই হলো। তূর্জান নমনীয় স্বরে বলল,“ কি বলবি বল? “

রোজাকে কথা বলতে না দেখে আচমকাই বাইকের স্পিড আবার বাড়িয়ে দিল। ভাগ্যিস রোজা তূর্জানের পিঠে মাথা রেখে হাত দিয়ে ধরে রেখেছিলো তূর্জানকে। বাইকের স্পিড বাহতেই জাপটে ধরল , নয়তো এতক্ষনে। তবে রোজা বুঝল কেন এমন করল। রোজা বলল, “ সরি! এন্ড থ্যাংকস।”

“ হোয়াই? “

“ আমার জন্য আপনাকে সবাই কত কথা শুনিয়েছে তার জন্য সরি। আর এইজন্যই আপনি মন খারাপ করে আছেন। “

“ উহু এইজন্য না। “

“ কি জন্য তাহলে? “

“ পরে বলবো। এখন বল থ্যাংকস কিসের জন্য? “

“ আমার অনেক দিনের স্বপ্ন বাইকে ঘুরবো, সেটাও পূরণ হলো তার জন্য থ্যাংকস…

হয়তো আরো কিছু বলতো। কিন্তু তূর্জান বাইকে ব্রেক কষলো। তারপর রোজাকে নামতে বলে নিজেও নামলো। রোজা প্রথমে ভেবেছে বাড়ি পৌঁছে গেছে। কিন্তু না এই জায়গা তো রোজা চেনেই না। রোজা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল,
“ তূর্জান ভাই, এইটা কোথায় এসেছি আমরা?”

“ পড়ালেখা করিস না। সামনে বড় বড় অক্ষরেই তো লেখা “ কাজি অফিস। “

ইনশাআল্লাহ চলমান…

📌নোট: কাল সারাদিন কারেন্ট না থাকায় ফোন বন্ধ হয়ে ছিল। একটা আঙ্কেলের বাড়িতে ফোন চার্জে দিয়ে ওই ভিডিও টা পোস্ট করছিলাম। মানে ওনাদের অন্য লাইন ছিল। তো, তিন ঘন্টা পর ফোন আনতে গিয়ে দেখি, ফোনে ৬% চার্জ। মেজাজ টা একদম তুঙ্গে উঠে গেছে। ওনার ছোট ছেলে হয়তো দুষ্টামি করতে গিয়ে, চার্জার নড়িয়ে ফেলেছিলো। আবার চার্জ দিলাম। তারপর আমাদের কারেন্ট আসলো। খুশিতে আমি তো নাচছি এমন লাগলো। কারণ ওয়াইফাই ইউজার। গল্প লিখেছি আব্বুর ফোনে, তারপর আমার ফোনে নিলাম। একটু রিচেক দিতে গেছি। আবার কারেন্ট ফুস, মানে বৃষ্টির জন্য চলে গেছে। বিশ্বাস করো রাত এগারোটা পর্যন্ত, শুধু ওসখুস করেছি গল্প দেওয়ার জন্য। আমি কথা দিয়ে কথা রাখতে পারিনি। পরে যখন কারেন্ট আসলো মধ্যেরাতে মনে হচ্ছিলো এখনই গল্প আপলোড দি। কিন্তু যাই হোক,, তোমাদের কাছে মিথ্যাও লাগতে পারে। বাট ট্রাস্ট মি, এইজন্যই সকাল সকাল গল্প দিয়ে দিলাম।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply