Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২১


তোমাতেই_আসক্ত ২

পর্ব:২১

তানিশা সুলতানা

“পুরুষ মানুষের রুম এতো গোছানো হওয়া উচিত নয়। পুরুষের রুম থাকবে অগোছালো। এখানে ওখানে এটা ওটা ছড়ানো ছিটানো থাকবে।
তা না
আয়নার মতো চকচকে কক্ষ।
বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে আদ্রিতা। ঠোঁট বাঁকা করে বসে খাটের ওপর। তুলতুলে নরম খাট।
গালে হাত দিয়ে কিছু মুহুর্ত চিন্তা করতে থাকে। এ্যানি এক লাফে উঠে পড়লো আবরার তাসনিন এর ড্রেসিং টেবিলের ওপরে। আয়নায় নিজেকে দেখলো তারপর নেমে গেলো। এবার বেলকনিতে গিয়ে ফুলের টব ফেলে দেয় ঠাসস করে।
মুহুর্তেই আদ্রিতার মাথায় এক খানা আইডিয়া চলে আসে। ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমির হাসি ফুটে ওঠে।।
এক লাফে দাঁড়িয়ে আবরার তাসনিন এর ছবির সামনে দাঁড়ায়।
আবরারের মতো করেই দুই ভ্রু কুঁচকে বলে ওঠে
” শুনুন মিস্টার তাসিন
নিজের হট হট ফিগার পকেটে রাখুন।
আপনার প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই।
তবে আপনার কক্ষ খানা অগোছালো করাতে যবর ইন্টারেস্ট।
স্যরি কাজিন বাদার্স

বলেই এক লাফে ড্রেসিং টেবিলের সামনে যায়। সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা পারফিউম এর বোতল গুলো একটা একটা করে ফেলতে থাকে ফ্লোরে। মেইল ক্রিম চিরুনি সব ফেলে দেয়।
তারপর চলে যায় আলমারির কাছে। খুলতেই দেখতে পায় এখানে হরেক রকমের পারফিউম।
একটা মানুষের এতো গুলো পারফিউম থাকতে পারে?
দেখে বেশ দামী মনে হচ্ছে।
মায়া লাগলো আদ্রিতার। তাই ভাঙলো না।
চলে গেলো জামাকাপড়ের কাছে। সব গুলো শার্ট টিশার্ট প্যান্ট জুতো সব কিন্তু গোটা কক্ষে এলোমেলো করে রাখে।
এসব করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছে আদ্রিতা। মানুষের ক্ষতি করাও বড়ই কঠিন কাজ। শক্তি খরচ হয় অনেক। নাহহন হরলিক্স খেতে হবে দুই মগ।
এ্যানিও বোধহয় অবাক হচ্ছে। সে সমানতালে মিউ মিউ করেই যাচ্ছে।
আদ্রিতার সেদিকে খেয়াল নেই। সে ক্লান্ত ভঙ্গিমায় বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। এসির রিমোট হাতে নিয়ে পাওয়ার বাড়িয়ে নেয়।
তারপর আবরারের ছবির পানে তাকিয়ে বলে

“খারাপ মানুষ
আমায় কলঙ্কিনী করে
আমার ঠোঁটের ভার্জিনিটি নষ্ট করে আবার স্টাইল মেরে ছবি তোলা হচ্ছে?
হাহহ
পাষাণ
আমিও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নই।
হয় আমার ভার্জিনিটি ফেরত দিতে হবে। নাহলে আমায় গ্রহণ করতে হবে।
মধু খেয়ে চলে যাবেন এতো সোজা নয়।

কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জবাবে কেউ বলে ওঠে

” বাট মধু তো ঠিকঠাক খেতেই দিলে না।

গলাটা বড্ড চেনা চেনা লাগছে আদ্রিতার নিকট। কোথায় যেনো শুনেছে।
কপাল কুঁচকে উঠে বসে। পেছনে ঘুরে তাকাতেই বুক কেঁপে ওঠে। চমকে ঠাস করে বিছানা থেকে ফ্লোরে পড়ে যায়।
কোমরে একটুখানি ব্যাথা পেলো।
চোখ মুখ কুঁচকে আবারও তাকায় আবরারের পানে। লোকটা বুকে হাত গুঁজে রোবটের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
যেনো এখুনি আদ্রিতাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে। ঢেকুরও তুলবে না।
আদ্রিতা উঠে দাঁড়ায়। নিজের ওড়নাটা কোথায় যেনো ফেলেছে। আবরারের কাপড় চোপড়ের ভাজে সেটি খুঁজে পাওয়া গেলো না। তাই আবরারেরই একটা প্যান্ট ওড়নার মতো করেই গলায় ঝুলিয়ে নেয়৷
তারপর একটু হাসার চেষ্টা করে বলে

“হে হে আসসালামু আলাইকুম
কাজিন ব্রাদার্স ভালো আছেন? হঠাৎ চলে আসলেন যে?
মালয়েশিয়ার মানুষ গণপি/টা/নির মাধ্যমে সম্মান জানিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে না কি?

আবরার জবাব দেয় না। তবে এক পা এক পা করে এগোতে থাকে।।
আদ্রিতা জিভ দ্বারা ঠোঁট ভিজিয়ে পেছাতে থাকে।

” এ বাবা এগোচ্ছেন কেনো?
দুরত্ব বাজায় রাখুন। আমার ফিউচার স্বামী স্বপ্নে এসে বলে গেছে কাজিন ব্রাদার্সদের থেকে ডিস্টেন্স মেইনটেইন করে চলতে।

দেয়ালে ঠেকে গেলো আদ্রিতার পিঠ। এবার আর পেছানোর উপায় নেই। আবরার আদ্রিতার ওপর দিয়ে এক হাত ওর মাথার ওপরে দেয়ালে রাখে আরেক হাত আদ্রিতার পেটের কাছের দেয়ালে।
মুখটা একটু নিচু করে বলে

“এসব কে করেছে?

আদ্রিতা জবাব দিতে এক মিনিটও সময় নিলো না।
” সিয়াম ভাই করেছে। তিন সত্যি
এই যে আপনার শার্টের বাটন ছুঁয়ে বললাম।

বলতে বলতেই আবরারের শার্টের বাটন ছোঁয় আদ্রিতা।

“দশ মিনিট দিচ্ছে
সব গুছিয়ে রাখবে।
নাহলে

বাকিটা শেষ করতে পারে না আবরার। আদ্রিতা বলে

” হ্যাঁ বুঝেছি।
এবার সরুন তো একটুৃ ফাঁপড় লাগছে। ছেলে মানুষের শরীরের গন্ধ যবর খারাপ।
খালি গরম লাগে।

আবরার ঠোঁট বাঁকালো। তবে কিছু বললো না। চুপচাপ সরে গেলো।
ছাড়া পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আদ্রিতা। তাড়াহুড়ো করে গোছাতে থাকে জামাকাপড়।
বিরবির করে বলতে থাকে
“পাষাণ পাষাণ পাষাণ
মায়া দয়া বিক্রি করে ঝালমুড়ি খেয়েছে হয়ত।
কতো কষ্ট করে এগুলো এলোমেলো করলাম৷ দুই কেজি ওজন ঘেটে গেছে এখন আবার দুই কেজি ওজন ঘাটিয়ে এসব গোছাতে হবে।
আবার চুমু খেয়
বলতে বলতেই আদ্রিতার মনে পড়ে
সে কপাল কুঁচকে আবরারের দিকে তাকায়। সে আপাতত সোফায় বসে ল্যাপটপ ঘাটছে গভীর মনোযোগে। আদ্রিতা এগিয়ে গেলো আবরারের দিকে।
কোমরে হাত রেখে বলে
” মালয়েশিয়া কি একাই গিয়েছিলেন?

আবরার ল্যাপটপে মনোযোগ রেখেই জবাব দেয়
“কেনো?

” বউ নিয়ে গিয়েছিলেন আমি জানি।
তা কতোজনকে আমার মতো কলঙ্কিনী করেছেন?
হাজার হবে?
আমি নাহয় ঘরের মেয়ে এখনো চুপ আছি। বাইরের মেয়েরা কিন্তু ডিরেক্ট মামলা ঠুঁকে দিবে।
কাজিন ব্রাদার্স লাগেন তাই সাবধান করলাম৷
বাকিটা আপনার ইচ্ছে।

বলতে বলতে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে নেয় আদ্রিতা। আবরার বলে
“গোছানো শেষ হয় নি।

” কানা না আমি। জানি শেষ হয় নি। পানি আমায় ডাকছে। তাকে একটু গিলে আসি৷
আদ্রিতা একবার দায়িত্ব নিলে সেটা শেষ করেই ছাড়ে।
আপনি দশ মিনিট অপেক্ষা করুন।
আমি তিন ঘন্টার মধ্যে আসছি

বলেই ভৌ দৌড় দেয় আদ্রিতা। আবরার কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থাকে। বিরবির করে বলে
“এ মানুষ হবে কবে?


মায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বললো আদ্রিতা। মনটা বেশ ফুরফুরে। সামনে মাসের এক তারিখ তারা বাংলাদেশ ফিরে যাবে কনফার্ম। কেনো না ৯ তারিখ এক্সাম৷ পরিক্ষার ব্যাপারে কখনোই আগ্রহী ছিলো না। দুচোখের শত্রু ওই বই গুলো। তারপরও এইবার পরিক্ষা নিয়ে বেশ চিন্তিত হওয়ার চেষ্টা করলো। আহহা একমাত্র এটাই পারবে তাকে বাংলাদেশ নিয়ে যেতে।

ঘড়ির কাটায় দুইটা বেজে আট মিনিট। খুধায় পেটে ইঁদুর দৌড়াদৌড়ি করছে।
আদ্রিতা অহনা আবরার সিয়াম আমান আর আহাদ খেতে বসেছে। ইভান বড়ই ক্লান্ত। সে আপাতত ঘুমুচ্ছে। আতিয়া বেগম সবাইকে খাবার দেওয়ার শেষে আদ্রিতাকে দিলো।
লেআু চিপে গরুর মাংসের ঝোল দিয়ে ভাত মেখে একটু আলু এবং মাংস ছিঁড়ে লোকমা বানিয়ে মুখে পুরে আদ্রিতা।
আহহা কি মজা।
খেতে খেতে বলে

” অউন্নত দেশ সুইজারল্যান্ড।
আমাদের বাংলাদেশই ভালো। এখানে রাস্তা ঘাটে আইসক্রিম বিক্রি করে না। ফুসকা মামারা হরেন বাজিয়ে বলে না “এই ফুসকা”
এখানে চোর ডাকাত নেই। এ বাড়ির মানুষ ও বাড়িতে গিয়ে কুটনামি করে না।
একটাও মশা মাছি নেই। গাড়ির হরেন বাজে

বাকিটা শেষ করতে পারে না। তার আগেই আদ্রিতার জিভে কামড় লাগে। বেশ খানিকটা কেটে গেলো বোধহয়। গল গল করে র/ক্ত ঝড়তে শুরু করলো।
চোখ দুটে ছলছল করে উঠলো। আতিয়া বেগম ব্যস্ত হয়ে ওঠেন।
আবরার ছোট ছোট নয়নে তাকিয়ে থাকলো কিছু মুহুর্ত।
দেখলো ঠোঁট উল্টে কিভাবে কাঁদছে। আর কতোটা কে/টে/ছে।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply