Golpo কষ্টের গল্প পদ্মপ্রিয়া

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৭


পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৭

ঈশিতারহমানসানজিদা

নূর বুঝতে পারছে না যে আজমাঈন কিভাবে ওর মেইল এড্রেস পেল। মাথায় হাত চেপে সে কিছুক্ষণ বসে রইল। মেসেজ ওপেন করার সাহস পেলো না। পরে ভেবে দেখলো কাজের বিষয়ে কথা বলতে পারে। এক্ষেত্রে জবাব দেয়া যায়। দ্রুত হাতে মেসেজ ওপেন করতেই চোখ বড়বড় হয়ে গেল ওর। সবচেয়ে প্রিয় ও এক্সপেন্সিভ আতরের বোতলের চকচকে ছবি স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে। এটা কখন আজমাঈনের হাতে পড়লো? ছেলেটা ছোট করে একটি বার্তা পাঠিয়েছে। বার্তাটি হলো, বারবার হারাতে দিতে নেই, শক্ত করে ধরে রাখতে হয়।
ঠাস করে সাটার নামিয়ে বসে‌ রইল নূর, মাথা ঘুরছে। এতো চাপ নেওয়া ঠিক হচ্ছে না বোধহয়। মনটা ফ্রেশ করতে সে গুটিগুটি পায়ে ছাদে চলে গেল। বিকেলে রাশেদ সাহেব কে নিয়ে ডক্টরের কাছে যেতে হবে।


আজমাঈন বিরক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, মিস্ত্রী গুলো ঠিকঠাক কাজ করছে না। খালি ফাঁকি দিচ্ছে। এজন্যই ছয় মাসের কাজ করতে গিয়ে বছর লাগিয়ে দিচ্ছে। ইচ্ছে করছে সবগুলো কে পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে ফেলতে, তবে রাগ দমন করতে হচ্ছে তার। হোটেলের সামনে গার্ডেন হবে, আপাতত গাছ লাগানো হচ্ছে। সামনে ঝর্ণা হবে, সুইমিং পুল হবে ডানপাশে। যদিও আজমাঈন চেয়েছিল ছাদে দিবে। তবে এই মুহূর্তে পসিবল নয়। এজন্য নিচে ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি পাঁচতলা কমপ্লিট করার পর ছাদে পুলের ব্যবস্থা করা যাবে। এসব ভাবনার মাঝেই ফয়েজ পাশে দাঁড়ায়, সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে দিয়ে বলে,’টেনশন নিস না, সব কমপ্লিট হয়ে গেলে কতগুলো ঢ্যামনা ব্লগার দিয়ে ভিডিও করাবি। দেখবি ভাইরাল।’

আজমাঈন হাত বাড়িয়ে সিগারেট টেনে নিলো। নিজেও ধোঁয়া ছেড়ে বলে,’ওসব চাই না, ভিডিও তো বানাব, তবে বিভিন্ন চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিয়ে দর্শকদের আকর্ষণ করাব। আর আমাদের যে পরিচিতি আছে সেটা নাহয় এখন কাজে লাগাব।’

ফয়েজ হাসতে হাসতে বলে,’তোর বাপ তাহলে অজ্ঞান হয়ে যাবে। জমি বিক্রি করেছিস এতেই এই অবস্থা।’ ফের সিগারেট টেনে নিলো,’ভালো কথা তোর এক্স গতকাল মেসেজ করেছিল। হাজবেন্ড নিয়ে থাইল্যান্ড হানিমুনে গেছে দ্বিতীয় বারের জন্য সেসব ছবি দিলো।’
মুহূর্তেই আজমাঈনের মুখের রং পাল্টে গেল। কুৎসিত গালি দিতে গিয়েও থেমে গেল,’ওটাকে যেখানে পাবি সেখানেই ইট দিয়ে মাথা ফাটাবি। খবিশটা অনেক জ্বালিয়েছে আমাকে। বাপের কিপ্টামি নিয়েও কথা শুনিয়েছে।’
ফয়েজের হাসি বাড়ে,’কথা তো মিথ্যা বলেনি, তুই তো এক টাকাও খরচ করতে পারতি না। বেচারি থাকবে কিভাবে বল?’

‘আরে থাম, এক সাথে চৌদ্দটা ধরলে থাকবে কেমনে! এখন এই কথা বলে মাথা খারাপ করিস না।’

আজমাঈনের ফোন বেজে উঠল, রাশেদ আঙ্কেল ফোন করেছেন। দ্রুত রিসিভ করে সালাম দিলো। রাশেদ সাহেব জবাব দিলেন,’কি খবর তোমার? সব ঠিকঠাক?’

‘জি আঙ্কেল।’

‘আমাদের আগের কাজটা আজই শেষ হয়েছে, তাই দেরি করতে চাচ্ছি না। পরশু তোমাদের বাসায় লোকজন চলে যাবে। মেয়ে আমার সব প্রজেক্ট করে ফেলেছে। আশা করছি তোমার পছন্দ হবে।’

‘অনেক অনেক ধন্যবাদ, কাজ শেষ হলে আমাদের বাড়ি আপনাকে আসতে হবে। না করবেন না।’

‘অবশ্যই যাব, এখন ডক্টরের কাছে যাচ্ছি তো, তোমায় পরে ফোন করব।’

ফোন রাখতেই নূর বলে উঠলো,’কোথায় যাবে?’

‘ওর বাড়ি দেখতে যেতে বলেছে, কাজ শেষ হোক একবার গিয়ে ঘুরে আসব। বুঝলি মা, অনেক লোকদের সাথে কাজ করেছি, কিন্তু ভালো সম্পর্ক খুব কম মানুষদের সাথে হয়েছে। ফয়েজের বাবা, আমার খুব ভালো বন্ধু বলতে পারিস।’

নূর মাথা দুলিয়ে ড্রাইভিং এ মন দেয়। ভাবছে সে, আজমাঈনের ব্যপারটা কি শেয়ার করবে? এমন কোন কথা নেই যা নূর ওর বাবাকে বলেনি। তবে আজ কেমন যেন হাঁসফাঁস লাগছে। মনের অস্বস্তি কাটাতে বলেই ফেললো,’তুমি ওই ছেলেটাকে ভালো করে চিনো তো?’

‘কোন ছেলে?’

‘ওইযে আজমাঈন নামের ছেলেটা।’

হঠাৎ করেই রাশেদ সাহেব নড়েচড়ে বসলেন। মেয়ের দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকেতেই নূর কেমন শান্ত হয়ে গেল। সামনের রাস্তায় চোখ রেখে ধীরে ধীরে সবকিছু বলে ফেললো। সব শুনে রাশেদ সাহেব বলেন,’এসব কাকতালীয় ব্যাপার, তোকে বাজে বা অন্যরকম কিছু ইঙ্গিত করেছে কিনা সেটা বল।’

এক প্রকার লাফিয়ে উঠলো নূর,’না না আব্বু তেমন কিছু নয়, ভাবছি আমার সাথে কেন এমন ঘটনা ঘটছে? আর ওই ছেলেটার সাথেই বা কেন হচ্ছে?’

রাশেদ সাহেব মেয়েকে শান্ত করতে বলেন,’এসব ব্যাপারে ভাবলে চলবে? আজ একজন তো কাল আরেকজন, এভাবেই তো কাজ করতে হয়। এতকিছু পাত্তা না দিয়ে সবকিছু ইগনোর করে মন দিয়ে কাজ করবি। কেউ কিছু বললেই বা কি? আমি তো আছি, বুড়ো হলে কি হবে হাতের জোর আছে।’

শেষের কথায় হাসে নূর,’তা তো দেখতেই পাচ্ছি, আজ কতদিন ধরে বুকে ব্যথা বলতো? আমাকে তো বলনি কখনো?’

আর কথা বলেন না তিনি, মেয়ের চিন্তায় এই অবস্থা শুনলে রাগারাগী করবে খুব। তারচেয়ে বরং তার ডক্টর বন্ধু কে সবকিছু খুলে বলবেন। সাথে নাতনির জন্য পাত্র ঠিক করে দিতেও বলবেন। তার ডক্টর বন্ধুটি চমৎকার, বলার সাথে সাথে পাত্রের সন্ধান দিয়ে দিলেন। ছেলে অস্ট্রেলিয়ান আইটি কোম্পানিতে চাকরি করে। হ্যান্ডসাম স্যালারি এবং পরিবার ও খুব ভালো। চাইলে কথা বলে দেখবেন, তবে বাড়িতে গিয়ে দেখাদেখি না করে ছেলে মেয়ে আলাদা দেখা করলে বেশ ভালো হবে এও বললেন। আগে ছেলেমেয়ে রাজি হোক তারপর বাকি কথা।

বাড়ি এসে একথা তুলতেই অনুপমা রাজি হয়ে গেল। শ্বশুরকে অপছন্দ করলেও তার সিদ্ধান্ত বা পছন্দ খুব ভালো। নিজেদের লোক খারাপ ভাববে না অবশ্য। মেয়েকে তিনি আগে থেকেই সতর্ক করে দিলেন, ছেলে যেহেতু এত বড় কোম্পানিতে জব করে তাহলে নিশ্চয়ই হ্যান্ডসাম হবে খুব। তাই বেছে বেছে সবচেয়ে সুন্দর গাউন টা বের করে দিলেন। পরে যেন পাত্রের সাথে দেখা করতে যায়। রাশেদ সাহেব নিজেই যাবেন সাহারার সাথে, দুই চারদিনের মধ্যেই কথাবার্তা মোটামুটি হয়ে গেছে। এখন দেখা করলেই হবে।
সাহারা যখন রেডি হচ্ছে তখন দরজায় নূর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। মুখে তার লাজুক হাসি। আয়নায় নূরের মুখ দেখেই জিজ্ঞেস করলো,’এই তুই হাসছিস কেন?’
নূর মুখটা আগের মতো করে ফেললো। কাছে এগিয়ে এসে বললো,’হাসছি না তো, তোমাকে দেখে সুন্দর লাগছে তাই আরকি।’
সাহারা হিজাব ঠিক করে বিছানায় বসে পড়লো, ‘এতো ভয় লাগছে কি বলব তোকে, আমি এখন বিয়ে করব না।’

‘আব্বু যেহেতু দায়িত্ব নিয়েছে তাই চিন্তা করো না, নাহলে ভাইয়া বোকাসোকা কাউকে দেখে বিয়ে দিয়ে দিবে।’
সাহারা গাল ফুলিয়ে বলে,’মজা করবি না, এই তুই চল আমার সাথে।’

নূর দু-কদম সরে গিয়ে বলে,’ওরে বাবা আমি যাবনা, আমি তো আরো বোকা, কথাই বলতে পারি না। তুমি যাও।’
বলেই সে এক দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল। নূরের এমন হম্বিতম্বি দেখে হেসে গড়াগড়ি খেল সাহারা। নূর একটু বেশি সহজ সরল। তবে সাহারা তা নয়, মা বাবার সামনে সে ভদ্র মেয়ে। কিন্তু ভার্সিটিতে সে অতি ফাজিল মেয়ে নামেই পরিচিত। কথায় বেশ চটপটে, কিন্তু বিয়ের বেলায় ফুস। এখানেই ওর ভয়, ক্লাসমেটদের কারো বিয়ে হয়নি। এত তাড়াতাড়ি কেউই বিয়ে করবে না, সবাই চাকরি করবে তারপর বিয়ে। সাহারার বিয়ে হলে ওকে নিয়ে টিটকারী করতে ভুলবে না কেউ। যার বাবার এত টাকা, তার বিয়ে এত তাড়াতাড়ি!! শহরে তো এমনটা হয় না। তবে ওরা তো আর জানে না যে সাইমন লোভের তোড়ে এসব করছে।
সাহারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বের হয়, রাশেদ সাহেব নাতনির হাত ধরে গাড়িতে বসেন। আজ সে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। দেখে মনে হচ্ছে আগের চেয়ে সুস্থ হয়েছেন।


ক্যাফেটা সুন্দর, চারিদিকে কেমন নিরবতা। বিকেলের রোদে কেমন চিকচিক করছে। ফুলদানিতে তাজা ফুল রাখা, ঘ্রানে চারিদিক ম ম করছে। লাইট ব্লু রঙের টিশার্ট আর জিন্স পরা আজমাঈন। পা নাচাতে নাচাতে হাতের ঘড়িতে সময় দেখে নিলো, তারপর ফয়েজের দিকে তাকায়। সাদা শার্ট পরে ভদ্র সেজেছে সে। বাইরে যা গরম তাই সাদার বিকল্প নেই। ফয়েজের দিনে চারবার গোসল করতে ইচ্ছে করে, কিন্তু সে সময় কোথায়? সকালে বের হয়ে সন্ধ্যায় ফিরে। দিন দিন সবকিছু কেমন অসহ্য লাগছে।
এইযে সে এখন বিয়ে করতে চায় না, কিন্তু কে শোনে কার কথা। বাবা মায়ের হাউকাউ শুনে আসতে হলো। ভেবেছে দেখে শুনে কথা বলে রিজেক্ট করে দিবে। রাশেদ সাহেব কে দেখে বুঝল তাও হবে না বুঝি। তবে এই পর্যায়ে দু’জনেই বেশ অবাক হয়েছে। সাহারা কাচুমাচু হয়ে দাদুর হাত ধরে বসে আছে। এই পাহাড়সম ছেলে দুটো কে দেখে তার একটু ভয় ভয়ই করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাশেদ সাহেব বলেন,’তোমরা বোধহয় চমকে গেছো! কিন্তু আমি সবই জানতাম। তোমার বাবার সাথে কথা হওয়ার পরই সব জেনেছি।’

আজমাঈন বলে উঠলো,’হোয়াট আ কোইনসিডেন্স!!’

রাশেদ সাহেব মাথা নাড়েন,’তা তো বটেই, আসলে আল্লাহ কখনো কখনো এমন ঘটনা ঘটায় যা আমরা নিতে পারি না। অবিশ্বাস্য মনে হয়।’

ফয়েজ বলে,’আই ক্যান্ট থিঙ্ক সো!! এতো ছেলে থাকতে আপনি ঘুরে ফিরে আমার কাছেই এলেন!’ চমৎকার করে হাসে ফয়েজ। সাথে সাহারা ব্যতীত সবাই তাল মেলায়। ঘটনা কিছুটা বুঝে আসে ওর। রাশেদ সাহেব শুরু করলেন,’নাতনি আমার খুবই আদরের বুঝেছো, তাই আমিই নিয়ে এলাম। দেখাশোনা করার ব্যাপার আছে আজকাল।’ একটু থেমে বলেন,’আমিই বলি নাহয়, তোমার ব্যাপারে সব জানি তো। আসলে ও এখন বিয়ে করতে চাইছে না।’

কথাটা শুনে স্বস্তি পেলো ফয়েজ, কেননা এতো একটা বাচ্চা মেয়ে, কতই বা বয়স হবে? যেখানে ওর নিজেরই সাতাশ চলছে। আরো বছর দুয়েক পর বিয়ে করার ইচ্ছা ছিলো। তাও চাকুরিজীবী কাউকে, এখন এই ছোট মেয়েকে বিয়ে করে কোলে পিঠে করে মানুষ করবে নাকি? সে সময়ই বা কোথায়? জবাব দেওয়ার আগেই রাশেদ সাহেব বলেন,’ওর নাম সাহারা, পড়াশোনায় বেশ ভালো। চাকরি করার ইচ্ছা আছে। কিন্তু ছেলেটা তো শোনে না। বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।’

‘এখনই বিয়ে, বিষয়টা বুঝলাম না আঙ্কেল?’ আজমাঈন প্রশ্ন করলো।

‘সেটা পারিবারিক ঝামেলা, এখন বলতে পারছি না তবে আস্তে আস্তে জানতে পারবে। তোমার বাড়িতে নূর আতরের বোতল ফেলে এসেছে শুনলম?’

আজমাঈন চমকে তাকায়, সামান্য কথাটা বলে দিয়েছে!! এই মেয়ের দেখছি পেটে কিছু থাকে না। মাম্মাস বয় কথাটা অনেক শুনেছে সে, পাপা কা পারিও শুনেছে। তবে এ মেয়ে তো পাপাস গার্ল। আংন্টির কথাও বোধহয় বলে দিয়েছে। সে আমতা আমতা করে বলে,’জ জি আঙ্কেল, ওনারা চলে আসার পর আমার বোন দিলো। যদি জানতাম আপনার সাথে আজ দেখা হবে তাহলে দিয়ে যেতাম।’

রাশেদ সাহেব মৃদু হেসে বলেন,’সমস্যা নেই, পরবর্তীতে আমি যখন যাব নিয়ে আসব। ওর খুব পছন্দের তো।’
এরপর ফয়েজ কে বলেন,’এবার বলো তোমার কি ইচ্ছা?’

‘জি!! আপনি রাজি?’

‘রাজি না হলে কি আসতাম? আমি চাই ওকে ভালো ছেলের হাতে তুলে দিতে। আসল কথা শোনো, আমার নাতনি বিয়ের পর পড়াশোনা করতে চায়। জব করতে চায়, তোমার পরিবার কে বিষয়টা জানিয়েছি তাদের কোন আপত্তি নেই। এবার তোমার কথা ভেবে বলে ফেলো।’

এরপর তেমন কথা হয়না, সাহারা সারাটা সময় মাথা নিচু করে বসে থাকে। ওর দিকে ফয়েজ, আজমাঈন কেউই তাকায়নি এখনও। মনে হচ্ছে ওকে শুধু শুধু নিয়ে আসা হয়েছে। টুকটাক কথাবার্তা শেষ করে সবাইকে বিদায় জানিয়ে বাড়ির পথ ধরে ফয়েজ। হঠাৎ করেই আজমাঈন হেঁসে উঠল। হাসতে হাসতে একদম শুয়ে পড়লো যেনো। ফয়েজ রাগি স্বরে বললো,’বলদের মতো হাসছিস কেন? পাগল হয়ে গেলি?’
অনেক কষ্টে হাসি থামিয়ে বলে,’আমার মাথা পুরো ঘুরছে ভাই, ঘুরে ফিরে তুই আর আমি সেই এক জায়গায় গেছি। এখন এই মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে পারবি তুই?’

ফয়েজ দাঁত কটমট করে বলে,’পিচ্চি মেয়েকে এরা বিয়ে দিতে চাইছে কেন বলতো? আবার কিছু বলছেও না। বোধহয় কোন প্রেমের অঘটন ঘটিয়েছে তাই তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে চাচ্ছে।’

‘ওভার থিঙ্কিং ভালো নয়, তাছাড়া আঙ্কেল যথেষ্ট বুঝদার মানুষ যতটুকু দেখলাম। মনে হয় না এমন কিছু। আজকালকার মেয়েরা এতোটা বাধ্য নয় যে প্রেমিক ছেড়ে বাবা মায়ের কথায় বিয়ের পিঁড়িতে বসবে। আমি বলি কি, তুই আরেকটু সময় নে। মেয়েটার সাথে তো আলাদা কথা বলতে পারলি না।’

‘ধুর কথা, বাড়িতে বিয়ের জন্য যেভাবে চাপ দিচ্ছে। আরেকটু হলে চ্যাপ্টা হয়ে যেতাম। বিরক্ত লাগছে সবকিছু।’

আজমাঈন ভাবুক হয়ে বলে,’একটা কথা ভেবে দেখেছিস? আঙ্কেলের মেয়ে আর নাতনি এক বয়সি। অদ্ভুত না?’
ফয়েজ দাঁত খিচিয়ে বলে,’আঙ্কেল বলেছিস না? এখন ওই মেয়েকে তুই বিয়ে কর, তারপর দুজনে মিলে সম্পর্ক বদলাই।’

আজমাঈন সোজা হয়ে বসে,’বেশ তো, ভালো বলেছিস। তাহলে তুই আমার কি হবি? ও মাই গড, তুই আমার আঙ্কেল হয়ে যাবি।’ হাসি যেন আরো বাড়ে। ফয়েজ ওর বাহুতে ঘুসি মারে থামার জন্য। কে থামে, এতো হাসির বিষয়ে না হাসলে পাপ হবে। ওকে থামাতেই ফয়েজ বলে ওঠে,’ওনার মেয়ের আতরের বোতল কোথায়? দেখলাম তো সাথে করে নিয়ে এসেছিস।’
থামলো আজমাঈন,’এতো সুন্দর ঘ্রাণ, জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে গায়ে মেখেছি। আমার দেখাদেখি শিকদার সাহেব ও মেখেছেন। তারও ভালো লেগেছে। এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে গেলে মেখে যায়। পকেটে ছিলো, দেখিনি।’

‘শালা, তোরা বাপ বেটা দুটোই বাটপার। এখন অনলাইন থেকে অর্ডার করে দে।’

‘কাজ হবে না, বিদেশি জিনিস। দেশে পাওয়া গেলে তো হয়েই যেত।’

ফয়েজ ধড়ফড়িয়ে ওঠে,’এখন কি করবি শালা, তোকে তো!!’

এক হাতে স্টিয়ারিং ধরে আরেক হাতে এলোপাথাড়ি থাপ্পড় মারতে লাগলো ফয়েজ। আজমাঈন প্রাণ পণে ঠেকানোর চেষ্টা করছে। এসবের মধ্যে খেই হারিয়ে ফেলে ফয়েজ। সামনে আসা গাড়িটি হঠাৎ খেয়াল হতেই জোরে ব্রেক কষে। দু’জনেই সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ল। খানিক বাদে মাথা তুলতেই চোখে ঝাঁপসা দেখলো। সাদা রঙের গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ, ওদের ক্ষতি না হলেও গাড়ির সামনের লাইট গুলো হয়তো গেছে। আজমাঈন মাথা ঝাড়া দিয়ে ওঠে, দ্রুত বের হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে। লোকজন জড়ো হয়ে গেছে। ফয়েজ বেচারা ভয়ে ভয়ে নামে, আজ উত্তম মধ্যম খাবেই ওরা। তবে গাড়িটি কেমন চেনা চেনা লাগছে।

‘এটা ওই মেয়েটার গাড়ি না?’

আজমাঈন ওর মাথায় টোকা দিয়ে বলে,’ওই মেয়ে কি হ্যাঁ? নূরের গাড়ি, গিয়ে দেখি ভেতরে বসে কি করছে।’

কুরিয়ার সার্ভিস অফিসের সামনেই গাড়ি পার্কিং করছিল নূর, এরই মধ্যে হুট করে গাড়িটা এসে পড়ায় তাল হারিয়ে ফেলে। কি থেকে কি করবে বুঝতে পারে না। এখনও স্টিয়ারিং ধরে চোখ বন্ধ করে বসে আছে। তখনই আজমাঈনের কন্ঠা ভেসে আসে, ‘এক্সকিউজ মি নূর, আপনি কি আমার কথা শুনতে পারছেন?’
চট করে চোখ মেলে তাকায় সে, আবার এই ছেলে!! মাথাটা ঘুরে ওঠে নূরের। এই ছেলে কেন বারবার ওর সামনে আসছে!! ওরা কি ইচ্ছে করে আসছে নাকি এটা কোন কাকতালীয় ব্যাপার?

চলবে,,,,,,

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply