Golpo কষ্টের গল্প পদ্মপ্রিয়া

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ১৮


#পদ্মপ্রিয়া

#পর্ব_১৮

#ঈশিতা_রহমান_সানজিদা

বর্ষাকালের শুরু কেবল, তবে বৃষ্টির বালাই নেই তেমন। সকালে আকাশে ঘন মেঘ দেখা দিলেও বেলা বাড়তেই রোদের তেজ বাড়ে। যা অষ্টম আশ্চর্যের বলে মনে হয় ফয়েজের কাছে। এসির নিচে বসেও শার্ট ভিজে যায় ঘামে, ওর গরমটা একটু বেশি। তবে এই মুহূর্তে ফয়েজের মাথাটা ভীষণ গরম হয়ে আছে। এসির টেম্পারেচার সর্বনিম্নতে দেওয়া তবুও মাথা ঠান্ডা হচ্ছে না। ফোন কানে নিয়ে দাঁত কিড়মিড় করছে, ওপর পাশে থাকা ব্যক্তিটি যদি সামনে থাকত নির্ঘাত কামড়ে দিত। সে অদম্য ইচ্ছা আপাতত মনের ভেতর দাফন করে দিতে হলো। কপালে ভাঁজ ফেলে বললো,’তোর মাথা ঠিক আছে হ্যাঁ? একথা দাদুকে বললে তার নাতনিকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাবে, বলবে তোমার মতো অকর্মণ্য নাত জামাই আমার লাগবে না। এমন লজিকলেস কথাবার্তা তাকে বলব আমি?’

আজমাঈন নিজেকে শান্ত করলো, এখন মোটেও উল্টাপাল্টা কথা বলা যাবে না। ঠান্ডা মাথায় ফয়েজ কে বোঝাতে হবে। সে অত্যন্ত কৌশলে বলে,’তুই আমার সেই কলেজ লাইফের বন্ধু, তোকে আমি কত সাহায্য করেছি বল? রুম ডেট করার জন্য রুম ও ম্যানেজ করে দিয়েছিলাম।’

একথা শুনে খেকিয়ে ওঠে ফয়েজ,’চুপ থাক বেয়াদব, আমার চরিত্রে দোষ দিতে আসবি না। ওসব মজা করে বলেছিলাম, এক সপ্তাহের বেশি কোন প্রেমই টিকলো না।’ এক প্রকার হুমকি দিয়ে বলে,’এসব বাজে কথা যদি কারো কানে যায় তোর প্যান্ট খুলে আমি মেট্রোরেলে ঝুলাব যাতে সবাই দেখতে পারে।’

আজমাঈন দেখল এতেও কাজ হচ্ছে না। ফয়েজ কে বোঝানো যাচ্ছে না। এবার কাকুতি মিনতি করে বলে, ‘প্লিজ দোস্ত!! তোর বউ কে দিয়ে কথা বলা, তবুও একবার জানাবে তো। তখন রিজেক্ট হলে মনকে শান্তনা দিতে পারব যে অন্তত বলেছিলাম।’

ফয়েজ পড়লো বিপাকে,’আচ্ছা ঝামেলা তো।’ টেবিলে হাত দিয়ে বাড়ি মারলো,’এই মুসিবত কিভাবে সামলাব? তুই আবার এক বেলার ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিস না যেন। তাহলে তোর বাপ আবার ডেকে নিবে আমাকে। তোদের যাঁতাকলে পড়তে চাই না। আমি সাহারাকে কিছু বলব না। যা বলার তুই নিজে এসে বল।’

আজমাঈন যেন আশার আলো দেখলো। খুশিমনে বললো,’কালকে দেখা হচ্ছে।’

‘এ্যাই থাম, আমার বউয়ের ক্লাস আছে, রাতে পড়াশোনা করে। ফ্রাইডে তে আসিস।’

আজ বুধবার, আরো দু’দিন অপেক্ষা করতে হবে। পরিবারের কারো উপর ভরসা নেই, নিজের কাজ নিজেকেই করতে হবে। হোটেলের কাজ চলমান, নূর আর আসেনি এদিকে। সেদিনের পর সব আলবিদা করেছে। এখন সে নিয়মিত মাদ্রাসায় যায়, পড়াশোনার পাশাপাশি টুকটাক ডিজাইনের কাজ করে। নিজের তৈরি ডিজাইনের একটা বই বানাবে বলে ঠিক করেছে নূর। কোন রঙের সাথে কোন ফার্নিচার যায় বা কোন লাইট ভালো মানায় তার একটা নকশা করবে নিজের নামে। এতে ওর কাজটা আরো সহজ হয়ে যাবে। এখন বলতে গেলে আজমাঈনের ওই ব্যাপারটা ভুলতে বসেছে নূর, কিন্তু তবুও মাঝে মাঝে মনে পড়লে খারাপ লাগে। তওবা করে, আল্লাহর কাছে মাফ চায়। সেদিনের ভুলটা নিজের বলে ভেবে নিয়েছে নূর। ওভাবে বাইরে যাওয়া তার উচিত হয়নি। তবে এখন খুব সতর্ক থাকে। ছাদে তার ছোট্ট বাগান, সকাল বিকাল যত্ন নেয়। চৌবাচ্চায় কয়েক রকমের পদ্ম ফোটে। সেগুলো তুলে এনে রুমে সাজিয়ে রাখে। এই ফুলটি ওর প্রিয়, ভীষণ পছন্দের। মাঝে মাঝে নিয়ে মাদ্রাসায় যায়, গাড়িতে করে একা একা কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে।

———–

বাড়িতে বসে আলোচনা করা রিস্কি, তাই সাহারা কে নিয়ে রেস্টুরেন্টে এসেছে ফয়েজ। ছিমছাম পরিবেশ, পিয়ানো বাজছে। খারাপ লাগছে না। রোমান্টিক ওয়েদার। সাহারা বেশ খুশি, অবশেষে ওর নিরামিষ স্বামীর পরিবর্তন হয়েছে। ওকে একটু সময় দিচ্ছে। এতে আনন্দ লাগছে ওর। তবে ফয়েজ ওর এই আনন্দে ছাই ঢালতে খুব কম সময় নিলো। বললো, ‘অর্ডার টা একটু পরে দিচ্ছি, আজমাঈন আসবে।’

সাহারা মুখটা ভোতা করে ফেললো,’উনি আসবে কেন?’

ফয়েজ সহজ গলায় বলে,’তোমার সাথে কথা বলতে।’

‘আমার সাথে!!’ নয়নে বিষ্ময় খেলে যায়,’আমার সাথে কি কথা বলবে? তার সাথে কখনও কথা বলেছি? এত কিসের কথা যে আমাকে মিথ্যা ঘুরতে যাওয়ার নাটক করে এখানে নিয়ে এলেন?’

সাহারার মুখটা কাঁদো কাঁদো হয়ে এসেছে। ফয়েজ ওর মনের ব্যথা বুঝতে পেরে বলে,’আমিই বলতাম, আসলে ও গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চাচ্ছে। তোমাকেই বলবে।’

‘কি বলবে? এত কথা ঘোরানোর দরকার কি? বললে বলেন, না বললে আমি যাই।’ উঠে দাঁড়াতেই ফয়েজ হাত ধরে ফেলে। নিচু গলায় বলে,’ও নূরকে বিয়ে করতে চায়, সে কথা বলতে আসছে।’

‘কিহ!!!’ সাহারার মনে হলো চেয়ার থেকে ধপ করে মেঝেতে পড়ে গেছে, না না আকাশ থেকে সোজা মাটিতে আছড়ে পড়েছে। মস্তিষ্ক ফাঁকা হয়ে গেল। ঘটনা বুঝতে কিছুক্ষণ সময় লাগলো, যখন বুঝতে পারলো তখন তেজ বেড়ে গেল। মুখ ঝামটা মেরে বললো,’অসম্ভব!! এটা কিছুতেই হতে পারে না। আমি হতে দিব না।’

‘কেন?’ কৌতুহলী হয়ে তাকায় ফয়েজ।

‘আপনার বন্ধু তো আপনার মতোই রসকষহীন হবে তাই না? আপনাকে মোটেও স্বামী বলে মনে হয়না আমার।’

‘কেন?’ আবার একই প্রশ্নে সাহারা বিরক্ত হয়ে আঙ্গুল তুলে বলে,’আজব!! বলে কেন!! কখনো আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলেছেন বিয়ে হওয়ার পর?’

ফয়েজ সরাসরি সাহারার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,’নাও তাকিয়েছি। এবার বলো।’

সাহারার রাগ দ্বিগুণ হলো,’আমি কি বলব? আপনি বলেন।’

‘কি বলব?’

‘আই লাভ ইউ!!’ কথাটা বলে থমকে গেল সাহারা। মুখে হাত আপনাআপনি চলে গেল। জড়োসড়ো হয়ে চেয়ারে বসে রইল। বোধহয় কেউ সুপার গ্লু দিয়ে ওর শরীর টাকে চেয়ারের সাথে আটকে দিয়েছে। ওভাবেই বসে রইল সে। ফয়েজ টেবিলে কনুই ঠেকিয়ে গালে হাত দিয়ে বলে,’এর ওজন অনেক? সামলাতে পারবে?’

সাহারা কথার অর্থ বুঝলো না, জবাবটাও দিলো না। ফয়েজ আর কিছু বললো না। এমনিতেই মেয়েটা লজ্জা পেয়েছে। মৃদু হেসে ফোন হাতে নিয়ে আজমাঈনকে ফোন করলো। ফরমাল ড্রেসে বাবু সেজে এসেছে সে। ফয়েজ হা করে দেখলো, ভাব দেখে বোঝা যাচ্ছে যে আজই পাকা কথা বলে যাবে। কি সুরত চেহারার, যেন ফুটন্ত ফুল। নাক সিঁটকায় ফয়েজ, কোন সুনামি আনতে চলেছে ছেলেটা আল্লাহ ভালো জানেন। আজমাঈন ওদের মুখোমুখি চেয়ারে বসলো। দু’জনের দিকে তাকিয়ে সৌজন্যমূলক হেসে সাহারাকে বলে,’ভালো আছেন?’

সাহারা মাথা ঝাঁকায়, এই ছেলের সাথে কষ্মিনকালেও কথা বলেনি। এখন এই ব্যাপারে কিভাবে বলবে, আর না করবে কিভাবে? তবে ওর কাজটা ফয়েজ সহজ করে দিলো। বললো,’তুই আসার আগেই ওকে সবটা বললাম, ও তো বলছে দাদু মানবে না। সুতরাং ক্যান্সেল।’

আজমাঈন বোকা বোকা চোখে সাহারার দিকে তাকায়। বলে,’কেন?’

এবার সাহারা মুখ খোলে,’জান্নাত আর আপনি দুজন আলাদা প্রকৃতির, এটা তো বুঝিয়ে বলতে হবে না। দাদু যেমন ছেলে চান তেমনটা আপনি নন। তাই আমি তাকে বললেও তিনি মানবেন না।’

আজমাঈন হাল ছাড়লো না,’আই ক্যান হ্যান্ডেল ইট।’

বিরক্ত হয় সাহারা,’কি হ্যান্ডেল করবেন? আর জান্নাত কে পছন্দ করলেন কীভাবে? ওকে দেখেছেন?’

‘হ্যাঁ!!’ কথাটা শুনে ঝটকা খেলো সাহারা,’কবে?’

‘সে এক প্রাচীন কাহিনী, পরে একসময় গল্প করব। কিন্তু আজ আপনি আমাকে বুদ্ধি দিন কি করলে আপনার দাদু রাজি হবে?’

‘আমার জানা মতে দাদু রাজি হবেন না, একজন ধার্মিক এবং ভালো মানুষের সাথে জান্নাতের বিয়ে দিতে চাচ্ছেন।’

‘আর আমি যদি নিজেকে তেমন ভাবে গড়ে তুলি তাহলে?’

এবারের ঝটকাটা ফয়েজ খেলো, ছেলের দম আছে বলতে গেলে। আঙ্কেল কে ফোন করে জানাতে হবে। এতদিনে তার ছেলের মনে লাড্ডু ফুটেছে। মনে মনে হেঁসে গড়াগড়ি খাচ্ছে ফয়েজ। কলেজ লাইফে যার মেয়ে পটাতে একদিনের বেশি সময় লাগেনি আজ সে বিয়ে করার জন্য নিজেকে কতটা পরিবর্তন করতে চাইছে। অবিশ্বাস্য কাহিনী। এরপর সাহারার কিছু বলার থাকে না। সে বলে,’আজই যাব?’

আজমাঈন খুশি মনে বলে,’কেন নয়?’

ফয়েজ বলে ওঠে,’অত তাড়া দেখ, আগে অর্ডার দেই। বিলটা পে করে দিস।’

প্রয়োজনের বাইরেও অর্ডার দিয়ে ভরে ফেলেছে ফয়েজ। ও জানে আজ আজমাঈন টু শব্দটি করতে পারবে না। এখান থেকে বেরিয়ে শ্বশুর বাড়িতে যেতে হবে। বউয়ের সাথে সাথে তাকেও গুছিয়ে কিছু বলতে হবে।

আজমাঈন কে বিদায় দিয়ে দু’জনেই রাশেদ সাহেবের বাড়িতে পৌঁছে যায়। ভেতরে ঢোকার আগে সাহারা আতঙ্কিত হয়ে বলে,’দাদুভাই যদি রাগ করেন? আমার আজ কেমন যেন ভয় করছে।’

‘ভয় পেও না আমি আছি।’

না বলে আসায় অনুপমা হন্তদন্ত হয়ে ছুটলো, মেয়ে জামাইকে আপ্যায়ন করার জন্য। কি থেকে কি করবেন বুঝতে পারছে না। ফয়েজ বললো,’কিছু করবেন না প্লিজ, আমরা বাইরে থেকে খেয়ে এসেছি।’

‘কিছু না খেলে যেতেই দিব না। আগে ঠান্ডা শরবত খাও।’

অনুপমা ছুটলো রান্না ঘরের দিকে। কাজের মেয়ে দুটোকে ফরমায়েশ দিতে লাগল। সাহারা দাদুর ঘরে উঁকি দিলো, সেখানে রাশেদ সাহেব নেই। তার ছোট্ট লাইব্রেরী যে বসে আছেন। কিছু কাজ সারছেন, নতুন অর্ডার এসেছে। ফয়েজ এবং সাহারা দু’জনেই উপস্থিত হলো। রাশেদ সাহেব কিছুটা অবাক হলেন, ‘তোমরা!! ভেতরে আসো। কি মুশকিল! বলে আসবে তো।’

দু’জনেই বসলো। ফয়েজ বললো,’একটা জরুরি কথা বলার জন্য এসেছি। বলতে পারেন খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ রাশেদ সাহেব চোখের চশমা খুলে রাখলেন। সামনের কাগজপত্র সরিয়ে রেখে ওদের দিকে মনোযোগ সহকারে তাকালেন,’গুরুত্বপূর্ণ কথা, আচ্ছা বেশ। বলো তাহলে শুনি।’

ফয়েজ সাহারা কে ইশারা করতেই সে আমতা আমতা করতে লাগলো। মুখটা কাচুমাচু করে বললো, ‘জান্নাতের বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি দাদু।’

‘আচ্ছা!! ভালো ছেলে পেয়েছিস? তোর মায়ের মতো আবার আউল ফাউল ছেলেকে ধরে এনেছিস নাকি?’

রাশেদ সাহেব হাসলেন। সাহারা বুঝলো দাদুভাই মজা করছে। তবে ওর মোটেও হাসি পেল না। আজমাঈনের নামটা কিভাবে বলবে তাও বুঝতে পারছে না। ফয়েজ ই বললো,’আমাদের ভুল বুঝবেন না দাদু। আমার বন্ধু আজমাঈন কে তো চিনেন, ওর পরিবার খুব ভালো। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের একে অপরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বলতে পারেন।’

বাকি কথাটা বুঝে নিয়েছেন রাশেদ সাহেব। তিনি অবুঝ নন যে ভেঙে চুরে কথা বলতে হবে। একটুতেই সব বুঝতে পারেন। তিনি ফয়েজ কে আর কিছু বলতে না দিয়ে নিজেই বলেন,’আজমাঈনের ইচ্ছে?’

‘হ্যাঁ, তবে নিজের বন্ধু বলে বাড়িয়ে বলছি না। ওর পরিবার আসলেই ভালো।’

রাশেদ সাহেব মাথা নাড়েন, সাহারার দিকে তাকাতেই সে মাথা নিচু করে ফেলে। দাদু যদি এখন বকাঝকা করে!! তেমন কিছুই হলো না। রাশেদ সাহেব ঠান্ডা মাথায় বলেন,’আজমাঈন ভালো ছেলে সেটা আমি জানি। কিন্তু তোমার বন্ধুর সাথে আমার মেয়ের বিস্তার ফারাক। কিভাবে পূর্ণ করবে সে? আমার ও নূরের ইচ্ছে সম্পর্কে তুমি জানো হয়তো।’

সাহারা মাথা তুলে বলে,’উনি নাকি নিজেকে বদলে ফেলবেন বলেছেন। মানে তুমি যেমন চাও তেমনটা হবেন!’

রাশেদ সাহেব নিরব হয়ে কিছুক্ষণ ভাবলেন। এদের দুজনের সাথে কথা না বলে সরাসরি আজমাঈনের সাথে কথা বলা ভালো। তাকে বুঝিয়ে না করা যাবে। রাশেদ সাহেব যেমনটা চাচ্ছেন তেমনটা কখনোই হতে পারবে না আজমাঈন। আংশিক হলেও পুরোপুরি হতে পারবে না। সে বললো,’আজমাঈন কে আমার সাথে দেখা করতে বলো। এ বিষয়ে তোমাদের সাথে আর কথা বলা ঠিক হবে না।’

গুরুগম্ভীর কন্ঠে দু’জনেই বুঝলো বরফ গলেনি। অন্য কথাবার্তা বলে ওরা বিদায় নিলো। তবে ওদের সমস্ত কথা গিলে নিয়েছে অনুপমা, শুধু কি তাই? স্বামীকে ফোন করে জানানো হয়ে গেছে। এরপর গিয়েছে রেহানা বেগমের কাছে। বলে,’মা আপনার মেয়ের জন্য একটা সম্বন্ধ এসেছে। তবে আমার তো উল্টোটা মনে হচ্ছে।’

রেহানা চোখমুখ কুঁচকে ফেলেন। এমনিতেই অনুপমার কথাবার্তা ওনার মোটেও পছন্দ নয়। এভাবে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বললে মেজাজ খারাপ হয়। তিরিক্ষি মেজাজে বলেন,’সোজাসুজি কথা বলো।’

‘কি আর বলব মা, আজমাঈনকে তো চিনেন। ওইযে সাহারার জামাইয়ের বন্ধু। তার উপর ওর হোটেলের কাজ করতে আপনার মেয়ে সেখানে গিয়েছিল। হয়তো তখন ওদের মধ্যে ভাব ভালোবাসা হয়েছে। এখন ওই ছেলে আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাচ্ছে। বুঝতে পারছেন বিষয়টা কতদূর গেছে?’

এমন খোঁচা মারা কথা শুনে গা জ্বলে উঠলো রেহানার,’তোমার কথায় আমার মেয়ের চরিত্রে দাগ লাগবে না। ওকে চিনতে তুমি ইচ্ছাকৃত ভুল করতেই পারো। তাই বলে সবাই তো ভুল করবে না।’

অনুপমা ভেংচি কেটে বলে,’শাক দিয়ে মাছ ঢাকার দরকার কি মা? আপনার মেয়ে যদি বিয়েতে রজি হয় তাহলে বুঝব সত্যি সত্যি এমন কিছুই হয়েছে।’

অনুপমা ধুপধাপ পা ফেলে বেরিয়ে গেল। রেহানা বেগম ঠিক করলেন এই বিষয়ে নূরকে জিজ্ঞেস করবে। তবে ঘটনা আগেই নূরের কাছে পৌঁছে গেছে। অনুভবের কানে বাতাসের ন্যায় খবর পৌঁছায়। আর এমন একটা খবর পেতেই দেরি করে না সে। ছুটতে ছুটতে নূরের ঘরের দরজা ধাক্কা দিতে শুরু করে। দরজা খোলাই ছিলো। নূরের শব্দ না পেয়ে ভেতরে ঢুকে দেখলো নেই। এই সময়ে নূর ছাদে থাকে মনে পড়তেই ছাদে ছুটলো।

চৌবাচ্চা থেকে সবে পদ্মফুল টা ছিঁড়েছে নূর। ভেজা ফুলটা গালে ছোঁয়াতেই মন ভরে গেল। পাশের টবে কতগুলো গোলাপ ফুটেছে। চমৎকার দেখতে লাগছে। পদ্ম ফুল টা হাতে নিয়ে এদিক ওদিক হাঁটতে হাঁটতে অনুভবের দেখা। দৌড়ে এসে হাঁপাতে লাগলো ছেলেটা। নূর জিজ্ঞেস করল,’কি হয়েছে, এভাবে ছুটছো কেন?’

অনুভব দুহাত হাঁটুতে ঠেকিয়ে কুঁজো হয়ে ঘনঘন নিশ্বাস ছাড়লো। অতঃপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললো,’ আবার তোমার বিয়ের কথা হচ্ছে ফুপি।’ শুকনো ঢোক গিলে বলে,’কার সাথে জানো?’

নূর কৌতুহলবশত বলে,’কার সাথে?’

‘দুলাভাইয়ের বন্ধু আছে না, যার হোটেলের ডিজাইন তুমি করেছ? তার সাথে, আজ আপু আর দুলাভাই এসে দাদুকে বলে গেছে। আর দাদু কালকে ওদের আসতে বলেছে।’

নূরের হাত থেকে পদ্মফুল টা পড়ে গেল। তার সাথে সাথে সেদিনের বিভৎস রাতের কথাও মাথায় এলো। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। শেষমেষ ওই ছেলেটা এমন একটা কাজ করলো? বাবার সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে তাই নূর ছুটলো রাশেদ সাহেবের ঘরের দিকে।

চলবে,,,

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply