পদ্মপ্রিয়া
পর্ব_৩
ঈশিতারহমানসানজিদা
এভাবে অপরিচিতদের সাথে কথা বলা ঠিক নয়, পরপুরুষের সাথে তো নয়ই। একথা মনে প্রাণে মানে নূর, তাই নিজের কাজ সম্পূর্ণ না করেই দৌঁড় দেয়। ড্রাইভার কাকা গাড়িতে ওর জন্য অপেক্ষা করছিল। দরজা খুলে বসে ঠাস করেই দরজা আটকে দিলো। আজমাঈন চেয়ে চেয়ে দেখল শুধু। রেঞ্জ রোভার স্পোর্ট সাদা রঙের গাড়িটি মুহূর্তেই ছুটে বেরিয়ে গেল। মেয়েটার ভেতরে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেল। ফয়েজ গাড়িটি ভালো ভাবে দেখতে দেখতে বললো,’চোর হতে পারে বুঝলি, গাড়ির লাইট বা কোন কিছু খুলে নিয়ে গেল নাকি!!’
‘ছাগল, চোর কখনো এত দামি গাড়িতে চড়ে?’ কথাটি বলে সেও এদিক ওদিক দেখতে লাগলো। ও বুঝেছে যে মেয়েটি কিছু খুঁজছিল, কিন্তু কি? তাই এদিক ওদিক চোখ বুলিয়ে দেখতে লাগলো সে।
‘হতে পারে গাড়িটাও চুরি করেছে!’ ফয়েজের কথায় এবার বেশ বিরক্ত হয় আজমাঈন,’উদ্ভট চিন্তা ভাবনা বাদ দে, তুই যে লোম ছাড়া ভেড়া এটা অন্তত আমি বুঝে গেছি।’
‘এই এই, শুধু শুধু রাগ করছিস, আরে ভাই চুরির বিষয়ে তো বাপকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা যায়। লোভ কখনও বলে কয়ে আসে না।’
মাথা নাড়ে আজমাঈন,’এত দামি গাড়ি চুরি করে কেউ টিকে থাকতে পারে? এনি ওয়ে, আমার মাথা খাস না। অনেকটা জার্নি করতে হবে।’
‘আমাদের বাসায় থেকে যা নাহয়, তোর আঙ্কেল ছবি দিলে একেবারে পেমেন্ট করে তারপর ফিরে যাস।’
‘ইম্পসিবল, বাসায় ঝামেলা লেগেছে খুব, বাপের জমি তো সব বিক্রি করে দিয়েছি এজন্য আমার উপর ক্ষেপেছেন। শান্ত করতে হবে তো।’
ফয়েজ বেশ ভাব নিয়ে বলে,’তাতে কি হয়েছে, ওই গ্রামে কি সারাজীবন থাকবে নাকি? পৃথিবী এখনও নতুন করে চেনা বাকি বন্ধু! তবে সব জমিই কি খেয়ে ফেলেছিস?’
আজমাঈন গাড়িতে বসতে বসতে বললো,’আরে নাহ, বসতবাড়ি সহ দশ বিঘা আছে। তাও খ্যাক খ্যাক করতেছে। আরে বাপ, ছেলের স্বপ্ন পূরণ করবে তো নাকি? কাইষ্ঠা বাপ!!’
ফয়েজ শরীর দুলিয়ে হাসে। এই বাপ ছেলেকে চেনা দায়। ভালোবাসা ঠিকই আছে কিন্তু দিনরাত ঝগড়া করতেই থাকবে। নিজস্ব গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি আছে আজমাঈনের বাবার। আজমাঈনের ইচ্ছে লাক্সারি হোটেল দিবে। জমি আরো আগেই কিনেছিলেন ওর বাবা। ঝগড়াঝাঁটি করে সে জমি হাতিয়ে নিয়ে সে নয় মাস আগে ওই জায়গায় ইট পুতেছে আজমাঈন। তাতেও ক্ষ্যান্ত হয়নি, টাকায় শর্ট পড়ায় বাপ দাদার শেষ সম্পত্তি ও বিক্রি করে দিয়েছে। ওর ভাষ্যমতে এত জমি রেখে কি হবে যদি কাজে না লাগে। বাকি দশ বিঘা থাকলেই এনাফ। কিন্তু ওর বাবা এখনও মানতে পারেনি বিষয়টা। তিনি দিনরাত ছেলের সাথে ঝগড়া করেন অথচ নিজেই অনুমতি দিয়েছেন। আজমাঈনের হোটেলের পাঁচতলা কমপ্লিট, ডেকোরেশন করা বাকি শুধু। তবে এখনই সে কিছু করবে না। আগে নিজেদের নতুন বাড়ির ডেকোরেশন করে দেখতে হবে রাশেদ সাহেবের উপর ভরসা করা যায় কিনা। যদি ভালো হয় তাহলে হোটেলের জন্য বুকিং দিবে। আজমাঈন এসব নানা চিন্তাভাবনা মাথায় নিয়ে ঘুরে। হোটেলের পাঁচতলা আপাতত করবে আর বাকি পাঁচতলা করতে পরবর্তীতে লোন নেওয়া যাবে। বাপের টাকা থাকতে আপাতত লোন নেয়নি। এই ঘটনা নিয়ে বাপ ছেলের কলহ নিত্যনতুন নয়।
ফয়েজের বাসা নারায়ণগঞ্জে, একসাথে ভার্সিটিতে পড়েছে দুজন। তখন থেকেই প্রগাঢ় বন্ধুত্ব দু’জনের। বলতে গেলে কলিজার বন্ধু। ফয়েজ কে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আজমাঈন বাড়ির পথ ধরে। ট্রাফিক জ্যাম পেরিয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে ঘন্টা দুয়েক লাগলো। বাড়ির কাজ ধরার পর থেকেই নতুন ভাড়া বাসায় উঠেছে ওরা। বাসাটা ওদের নতুন বাড়ির পাশে, বাড়ির কাজ ঠিকমত হচ্ছে কিনা তা দেখেন আজমল শিকদার। লুঙ্গি আর ফতুয়া গায়ে জড়িয়ে মিস্ত্রীদের এটা ওটা অর্ডার দিয়ে যান শুধু। এটা এখানে রাখো, এতো বালু দিচ্ছ কেন হ্যান ত্যান কত কথা। সবাই বিরক্ত হলেও কাজ করে যাচ্ছে। তার জহুরি নজর থেকে এক টুকরো ইট ও কেউ সরাতে পারে না।
আজমাঈন যখন ফিরলো তখন সাড়ে তিনটা বাজে। বাসায় বেশ থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান। মা বোনের দেখা নেই। কাজের মেয়েটা দরজা খুলে দিয়েছে। কাউকে নিজের উপস্থিতি বুঝতে না দিয়ে নিজের রুমে গিয়ে গোসল সেরে নিলো সে। পাতলা টিশার্ট আর ট্রাউজার পড়ে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে ডাইনিং এ বসলো। হাঁক ছেড়ে বললো,’ওমা কোথায় তুমি? খিদে পেয়েছে।’
তাহমিনা হকচকিয়ে রুম থেকে বের হলো, ছেলেকে দেখে জিজ্ঞেস করলো,’কখন আসলি? বাবার সাথে দেখা করেছিস?’
‘নাহ, আজমল শিকদার কোথায়?’
তাহমিনা দ্রুত খাবার বাড়তে লাগলো,’মিস্ত্রী দিয়ে বাগান ঠিক করতেছে।’ গলার স্বর কিছুটা উঁচু করে ছোট মেয়েকে ডাকলেন,’আইশা, বাবাকে ডেকে নিয়ে আসো। এখনও খায়নি।’
একটু বাদেই আইশা এসে ভাইয়ের পাশে বসে। নিজের প্লেটে খাবার বাড়তে শুরু করলে আজমাঈন জিজ্ঞেস করে,’তুই এখনও খাওয়া দাওয়া করিস নি কেন?’
আইশা খানিকটা বিরক্ত স্বরে বলে,’তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম ভাবছ? তা নাহ, একবার খেয়েছি এখন আবার খিদে পেয়েছে।’
আজমাঈন মাথা নাড়ে, এদের এতটুকু কথা ছোঁয়ানো যায় না। ছ্যাত ছ্যাত করে ওঠে সবাই। আজকাল সবাই তাকে ইগনোর করতে পারলে বাঁচে। টেবিলে চোখ বুলিয়ে দেখলো, আয়োজন তেমন কিছু না। পাবদা মাছের ঝোল, লাল শাক ভাজি আর পাতলা ডাল। নিশ্চয়ই আজ ওর কিপটে বাপ বাজার করেছে, এজন্যই খাবারের এই অবস্থা। কিছু করার নেই, এসবই গোগ্রাসে গিলতে হবে। আইশা অলরেডি খাওয়া শুরু করে দিয়েছে।
ওদের খাওয়ার মাঝেই আজমল শিকদার ঘরে এলেন। পরনের লুঙ্গিটা একহাতে উঁচু করে ধরে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন। চড়াও হলেন আইশার উপর,’তোকে বলেছি না যে জানালা দিয়ে ষাঁড়ের মতো চেঁচিয়ে আমাকে ডাকবি না? সবাই কি বলে বলতো?’
‘কি বলে?’ মেয়ের এমন দায়সারা জবাবে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। কিছু বলতে গিয়ে ছেলেকে দেখে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দেন,’ওহ বুনো শেয়াল টাও আছে দেখছি। তা আমার জমি গুলো খেয়ে মন ভরেনি তোমার বাপ? এখন শান্তিতে ভাত খাচ্ছ কেন?’
জমি বিক্রি করার পর থেকে আজমাঈনকে দেখলেই তিনি একই কথা বলেন। খাওয়া থেকে শুরু করে জামাকাপড় নিয়ে খোটা দিতে বাঁধে না তার।
‘মা তোমার স্বামী কে থামতে বলবে?’ আজমাঈনের কথায় আরও চটলেন তিনি,’মায়ের স্বামী তোর কি হয়?’
আজমাঈন খেতে খেতে জবাব দেয়,’খালু!!’
ব্যস আগুন যেটুকু ধরতে বাকি ছিলো সেটুকু ও ধরে যায়। খলবলিয়ে উঠেন তিনি। তার এই অবস্থা দেখে আইশা বলে,’আব্বু তুমি একটু থামবে? নাকি আমি খাওয়া ছেড়ে উঠে যাব?’
উনি অসন্তুষ্ট নয়নে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,’তুই আমার বাড়িতে কি করিস? যা শ্বশুর বাড়ি যা, বসে বসে বাপের অন্ন ধ্বংস করার ধান্দা?’
‘আমাকে তো বিয়েই দাওনি আব্বু, বিয়ে তো আপুর হয়েছে।’
‘ওহ, তোর বিয়ে দেইনি? ঠিক আছে ভাত খা ভাত খা। পারলে দুই ভাইবোন আমার কলিজা ছিঁড়ে খা।’
বিলাপ করতে করতে তিনি বাথরুমে ঢুকলেন। গায়ে এখনও কাঁদা লাগানো। ছেলে আজ সারাদিন বাইরে ছিলো। বড় ছেলেকে একটু বেশি ভালোবাসেন কিনা, তাই দুপুরে তিনিও না খাওয়া। অথচ ছেলে এসেই গিলতে বসেছে। এজন্য ক্ষেপেছেন তিনি। আসলে জমি বিক্রি করার পর মাথা গেছে আজমল শিকদারের। কথায় কথায় কেমন খিটমিট করে ওঠেন। হাতমুখ ধুয়ে টেবিলে এসে দেখেন তাহমিনা ব্যতীত কেউ নেই। চেয়ার টেনে বসে বলেন,’হারামি দুটো চলে গেছে!! কি পোলাপান জন্ম দিলাম যে বাপের দুঃখ বুঝে না।’ আফসোসের সুর শোনা গেল। তাহমিনা স্বামীর কর্মকাণ্ডে যারপরনাই হতাশ। একটা মানুষ যে এতটা কিপটে হতে পারে তা আজমল শিকদার কে দেখলে বোঝা যায়। লাল শাক ভাজি দিয়ে ভাত মাখাতে মাখাতে তরকারির বাটির মাছগুলো গুনে ফেলেন আজমল। চারটা মাছ দেখা যাচ্ছে। তাহমিনা তার পাতে মাছ দিতে নিলেই তিনি থামিয়ে দিলেন,’মাছ দিও না পাতে, রাতের জন্য রেখে দাও।’
‘চিন্তা করো না, মাছ শেষ হয়ে গেলে সমস্যা নাই। রাতে রান্না করে নিব।’
‘অ্যাহ!! টাকা তো গাছে ধরে। মাছ না দেখলেই তোমার পুত্র বলবে ডিম ভেজে দাও। এতো খরচ করা যাবে না এখন। ওদের জন্য মাছ রেখে দাও। আমি ডাল ভাজি দিয়ে খেতে পারব। বুড়ো হলে কি হবে, রুচি আছে এখনো!’
তাহমিনার মাথায় হাত,’তোমার টাকা পয়সার কম কিসে? তারপরও এমন কিপ্টেমি কর কেন? ছেলে বড় হয়েছে, ক’দিন পরে বিয়ে করবে। নতুন বউ এসে যদি এসব দেখে কি ভাববে?’
আজমল ব্যঙ্গ করে বলেন,’আহ, কি আর বলবে! তোমার এই ছেলেকে কেউ মেয়েই দিবে না দেখে নিও।’
এমন অবুঝ মানুষের সাথে কথা না বাড়ানোই ভালো। তাহমিনা কিভাবে এই লোকের সাথে ত্রিশ বছর ধরে সংসার করছে তা একমাত্র তিনিই জানেন। হতাশ হয়ে তিনি খাবার বেড়ে দিচ্ছেন। খাওয়া শেষে আজমল উঠে বলেন,’ত্রিশ বছর ধরে একটা একটা মাছ বাঁচিয়ে ওই টাকা দিয়ে ব্যবসা দিয়েছি। অতো সোজা না হু! আর কতকিছু যে বাদ দিয়েছি তা তো জানো না। খালি শাড়ি গয়না নিয়েই পড়ে থাকতে জানো।’
বলতে বলতে তিনি রুমে চলে গেলেন। এটা বাড়ি তো নয়, যেন রণক্ষেত্র। আজমল সাহেব কে একমাত্র ওনার বড় মেয়েই সামলাতে পারে। তাহমিনা ভাবলেন একবার বড় মেয়েকে আসতে বলবেন। স্বামী কে সোজা করে দিয়ে যেতে বলবেন।
রাতে খাবার টেবিলে বসে নূরের মন খারাপ দেখে দৃঢ় চোখে চাইলেন রাশেদ সাহেব। মেয়ে তো কখনো এমন মুখ আধার করে থাকেনা। বুঝলেও সবার সামনে প্রশ্ন করলেন না। বাবা মেয়ের একান্ত কথাবার্তা সকলের আড়ালেই হয়। সাইমন বাদে সকলেই উপস্থিত। খাওয়ায় ব্যস্ত সবাই। নূর প্লেটে হাত নাড়াচাড়া করছে। রাশেদ সাহেব গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,’কাল তৈরি হয়ে থাকিস মা, তোর ড্রাইভিং লাইসেন্স এর প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা। এটায় পাশ করলেই লাইসেন্স কনফার্ম।’
রেহানা চমকালেন, স্বামী তার এতদূর চলে গেছেন! জিজ্ঞেস করেন,’ও ড্রাইভিং শিখলো কবে?’
জবাবটা সাহারা দিলো,’এমা, তুমি তো কিছুই জানো না দাদু। জান্নাত তো তিন বছর ধরে ড্রাইভিং শিখছে। আসলে বেশি বেশি প্র্যাকটিস করেছে। ওর লাইসেন্স তো হয়েই যাবে।’
রেহানা রাশেদ সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘আমাকে না জানিয়ে এতদূর চলে গেলে? আজকাল আমাকে তো তেমন কেউ মনে হয় না তোমার!’
রেহানার গম্ভীর মুখ দেখে কিছু বলেন না রাশেদ সাহেব। সাহারা নিরবতা থামাতে বললো,’দাদু ভাই
তুমি জান্নাত কে আইফোনের নতুন মডেল দিয়েছ, আমাকে কবে দিবে তাই বলো?’
‘আরে দেব দেব, তুমি তো আমার ডার্লিং। কবে নিবে তাই বলো?’
অনুভব এতক্ষণ চুপ থাকলেও এবার মুখ খোলে,’বাহ, সবাইকে সব দেওয়া হচ্ছে। আমি কি তাহলে?’
রাশেদ সাহেব সবাইকে আশ্বাস দিয়ে বলেন,’আচ্ছা সবাইকে ছুটির দিন মার্কেটে নিয়ে যাব।’
অনুপমার এসব কথাবার্তা মোটেও ভালো লাগছে না। নেহায়েৎ শ্বশুর কে ভয় পায়। নাহলে কিছু বলত সে। যে মেয়ে কোথাও বের হয়না তাকে আবার ড্রাইভিং শিখিয়েছে। শ্বশুর মশাইয়ের বুড়ো কালে এই আদিখ্যেতা ভালো লাগে না তার। এত দামি একটা গাড়ি কিনে দেওয়াতে মুখ ফসকে কিছু কটু বাক্য ব্যায় করেছিল। সেদিন রাশেদ সাহেবের ঝাড়ি খেয়ে আর মুখ খোলেনি। এজন্য এদের মাঝে খুব একটা থাকে না অনুপমা। নিজের ছেলে মেয়ে মেয়ে ছাড়া আর কিছু ভাবে না সে। আজ একটু সাহস সঞ্চয় করে বলেন,’নূরের বয়স ই বা কত বাবা? এখন যদি নিজ থেকে ড্রাইভিং করে আর কোন দূর্ঘটনা ঘটে? মানে আপনি তো ওকে একটু বেশি ভালোবাসেন।’
রাশেদ সাহেব হেসে বলেন,’হায়াত, মউত, দূর্ঘটনা সব আল্লাহর হাতে বউ মা। যদি কপালে লেখা থাকে তাহলে ঘরে বসেই তোমার এক্সিডেন্ট হতে পারে। তাই না? সুতরাং এসব নিয়ে না ভাবাই ভালো।’
অনুভব তাতে সায় দিয়ে বলে উঠলো,’এক্সাটলি দাদু, আমি একটা ভিডিও তে দেখেছি একটা ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে গিয়ে কয়েকজন মারা গেছে।’
ছেলের আগ বাড়িয়ে বলা কথাগুলো পছন্দ করলো না অনুপমা। মুখ ফিরিয়ে নিয়ে খাওয়া শেষ করে চলে গেলেন। রাশেদ সাহেব মেয়েকে বলেন,’তোর সঙ্গে কিছু কথা আছে মা, বড় অর্ডার এসেছে। ডিজাইন গুলো দেখতে হবে তোকে। আজ পর্যন্ত যতগুলো ডেকোরেশন ঠিক করেছিস সবাই পছন্দ করেছে।’
নূর মাথা নাড়ে শুধু। খাওয়া শেষে রাশেদ সাহেবের সাথে আজমাঈনের দেওয়া ছবিগুলো দেখতে থাকে। খুব মনোযোগ দিয়ে সবকিছু দেখে বলে,’ডিজাইন বুক থেকে কয়েকটি সিলেক্ট করে রাখব। কালকে দিয়ে দিব।’
নূরের মাথায় হাত রেখে রাশেদ সাহেব জিজ্ঞেস করেন,’তোর কি কিছু হয়েছে? মন খারাপ কেন?’
নূর কোন সংকোচ ছাড়াই বললো,’আপুর দেওয়া ডায়মন্ডের রিং টা হারিয়ে গেছে আব্বু। তোমার অফিস থেকে বের হতেই দেখলাম হাত মোজার ভেতর পোকা ঢুকেছে। বের করার জন্য মোজা খুলতেই রিং সহ খুলে গিয়ে কোথায় যে পড়লো! আর খুঁজেই পেলাম না।’
কৌশলে এড়িয়ে গেল আজমাঈনের কথা। মুখ ভার করে বললো,’আপু শুনলে কষ্ট পাবে।’
‘ধুর বোকা মেয়ে, রাহা কিছুই বলবে না। হারিয়ে তো ইচ্ছে করে ফেলিসনি তাই না?’
‘অনেক শখ করে কিনে দিয়েছিল আপু, একটু কষ্ট তো পাবেই।’
‘এত চিন্তার কিছু নেই, তুই ডিজাইন গুলো সিলেক্ট করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়। কাল তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে থাকিস। আমি নিয়ে যাব।’
রাশেদ সাহেব চলে যেতেই নূর বিছানা ঠিক করে নেয়। মাথায় পেঁচানো সাদা রঙের ওড়না খুলে শুয়ে পড়ে। হাতের আঙ্গুলের ভাজে তার ফিঙ্গার ট্যালি কাউন্টার। যতক্ষণ পর্যন্ত না ঘুম আসবে ততক্ষন পর্যন্ত সে দোয়া পড়তে থাকবে।
অপরদিকে আজমাঈ খাটের উপর চুপচাপ বসে আছে। হাতে তার একটা ডায়মন্ড রিং। আলোতে কেমন চিকচিক করছে। গভীর চিন্তায় মগ্ন সে। তবে সে বুঝতে পারছে যে এটা ওই মেয়েটির রিং। গাড়িতে উঠে বসার আগে পায়ের নিচে পড়েছিল, তাই তুলে এনেছে। এসব বিষয়ে ফয়েজ কে কিছু বলেনি নাহলে মাথা খেত। তবে এটি কিভাবে ফিরিয়ে দেওয়া যায় সে বিষয়ে ভাবছে। মেয়েটিকে কোথায় পাওয়া যাবে? রাশেদ সাহেবের অফিসের নিচে কি করছিল মেয়েটা? সেখানে গেলেই কি মেয়েটির দেখা পাবে? এসব চিন্তায় ঝিম মেরে বসে রইল। কখন যে আজমল শিকদার এসে ওর পাশে দাঁড়িয়েছে তা খেয়াল করেনি সে।
হঠাৎ করেই উনি বলে উঠলেন,’বউয়ের জন্য অগ্রিম আংটি গড়িয়েছ তাই না। বাহ্, বুনো শেয়াল দেখি শহুরে শেয়ালে পরিণত হয়েছে।’
চলবে,,,,,,
Share On:
TAGS: ঈশিতা রহমান সানজিদা, পদ্মপ্রিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE