Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত ২ পর্ব ১৫


তোমাতেই_আসক্ত ২

পর্ব:১৫

তানিশা সুলতানা

“পারেনই ওই একটা জিনিস। ধমকাতে আর চাপকে গাল লাল করে দিতে। আর কিছু পারেন না কি?

আবরার ওয়েটারকে ডাকে। সে আসতে আসতে জবাব দেয়
” বেশি কথা একদম পছন্দ নয় আমার।

“আর আমি চুপ করে থাকতে পারি না।

ওয়েটার চলে আসে। তার হাতে মেনুকার্ড।
আবরার তা না দেখেই বলে
“আইসক্রিম স্টবেরি ফ্লেভার।

ওয়েটার চলে যায়। আদ্রিতা ভ্রু কুচকে বলে
” আপনি কি করে জানলেন আমার আইসক্রিম পছন্দ?
নজর টজর রাখেন না কি আমার ওপর?
প্রেমে পড়ে গিয়েছেন?
শুনুন স্পষ্ট ভাষায় বলছি। আই হ্যাভ এ বয়ফ্রেন্ড। প্রেমে পড়লে শুধুই দুঃখ পাবেন আমায় পাবেন না।।

আবরার দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকায়। ঠোঁট খানাও একটু বাঁকালো মনে হচ্ছে।
দুই হাত মাথার পেছনে রাখে। অদ্ভুত ভঙ্গিমায় চোখ দুটো বন্ধ করে মাথা নারায়।
এবং সেই সঙ্গে হাঙ্কি স্বরে বলে
“I’m Attracted to you
And want to be intimate with you

আদ্রিতা বেষম খেলো। পর পর কয়েকবার কাশি দিতেই আইসক্রিম চলে আসে।
আবরারের কথার প্রসঙ্গে পাল্টা জবাব না দিয়ে টপাটপ আইসক্রিম মুখে পুরতে থাকে।
রেশমের মতো চুল গুলো উড়ছে। ঠোঁটের আশেপাশে আইসক্রিম লেগে গিয়েছে। জিভ দিয়ে সেগুলো চেটে খাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই সঙ্গে রেস্টুরেন্ট এর সাউন্ড বক্সে হালকা আওয়াজে গান বাজছে

” কি আবেশে মন তারে বারে বারে দেখে
তবু মেটে না তৃষ্ণা
সে যে পথ চলে
বুকে ঝড় তোলে জেগে ওঠে মনে ঘুমনো আশা

আবরার পূণরায় আঁখি পল্লব বন্ধ করে নেয়। ধৈর্য শীল পুরুষ সে নয়। আর না হাতে অহরহ সময় আছে। একটু পরেই তাকে যেতে হবে। রেসস রয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন বিজনেস এর ফাস্ট ডিল।
চোখ খুলে প্রথমেই হাত ঘড়িতে সময় দেখে নেয়। পরপর তাকায় আদ্রিতার মুখ পানে। এখনো জিভ বের করে রয়েছে।মেজাজ চটলো কি আবরারের?
সামনে থাকা কাঁটাচামচ খানা আদ্রিতার দিকে তাক করে বলে
“স্টপ ইউওর ফাঁকিং ড্রামা। otherwise আই উইল কিলল ইউ

আদ্রিতা ভ্রু কুচকে ফেলে।
” ড্রামা কোথায় করছি?
খাচ্ছি তো।

“আর খেতে হবে না৷

বলেই দাঁড়িয়ে পরে। এবং আদ্রিতার ডান হাত খানা মুঠো করে ধরে তাকে টানতে টানতে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যায়। বিলটাও দেয় না।
” সব সময় এমন হিরোগিরী দেখানোর কি আছে? শরীরের হাতির মতো শক্তি আছে বলে আমাকে মশা ভেবে যখন তখম টানাটানি শুরু করেন মেনে নিলাম। তাই বলে আইসক্রিম এর বিলটাও দেবেন না? সেখানেও নেতামি?
আবার যাইয়েন ঠ্যাং ভেঙে হাতে ধরিয়ে দিবে

আবরার যেনো শুনলো না৷ সে গাড়ির দরজা খুলে ধাক্কা মেরে আদ্রিতাকে গাড়িতে বসায়। তারপর নিজেও সিটে বসে পড়ে। কোনো রকমে সিটবেল্ট লাগিয়ে স্ট্রাট করে গাড়ি।
স্পিড যত ছিলো বোধহয় সব টুকু দিয়ে চালাতে শুরু করে।
আদ্রিতার হাত পা থেকে শুরু করে কলিজা পর্যন্ত কাঁপছে। সে আবরারের হাত খানা শক্ত করে ধরে অনবরত বিলাপ বকে যাচ্ছে

“ইয়া আল্লাহ
আমি এতো তাড়াতাড়ি মরতে চাই না। এখনো বিয়ে করা বাকি। বরের আদর খাওয়া বাকি৷ বাচ্চা কাচ্চার মুখ দেখা বাকি৷
এসব না দেখে ম/র/তে চাই না।।
আপনি যে হিরো আমি বুঝতে পেরেছি। সুপার হিরো আপনি। সাকিব খানের আগে আপনার স্থান। শাহরুখ খানও আপনার কাছে ফেইল।
এখন দয়া করে স্পিড কমান।
আল্লাহ যদি এই যাত্রায় বাঁচিয়ে দেয় আর জীবনেও আপনার গাড়িতে উঠবো না প্রতিজ্ঞা করলাম।

হঠাৎ গাড়ি থেমে যায়। আদ্রিতা জোরে জোরে শ্বাস টানতে থাকে। এতোক্ষণ চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে বিলাপ বকছিলো। এবার পিটপিট করে চোখ খোলে। নাহহহ বেঁচে আছে সে।
আবরারের হাত খানা ছেড়ে কয়েকবার আলহামদুলিল্লাহ আওড়ায়।
তারপর পাশে তাকাতেই দেখতে পায় আবরার নেই। যাহহ বাবা কোথায় গেলো?
আদ্রিতাকে অচেনা জায়গায় ফেলে চলে গেলো না কি?
ভয়ে কলিজা কাঁপে।
তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে নামে৷ দেখতে পায় অনেক মানুষের সোরগোল। মেয়েরা ছোট ছোট জামা পড়ে ঘুরছে। কেউ কেউ চুমু খাচ্ছে তাদের পার্টনারকে।
আদ্রিতা আসতাগফিরুল্লাহ বলে চোখ নামিয়ে নেয়।
এতো ছোট জামা এরা কেমনে পড়ে ভাই?

” হেই আদ্রি
এ’ম মনা
আবরার তাসনিন’স ফ্রেন্ড।

আদ্রিতা মেয়েটার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখতে থাকে। সেও ছোট্ট একটা জামা পড়েছে। তবে সুন্দর লাগছে।

“চলো আমার সাথে।

মেয়েটা আবারও বলে
” কোথায় যাবো? আবরার ভাইয়া কোথায়?

“গেলেই দেখতে পাবে। চলো

মেয়েটা আদ্রিতার হাত টেনে তাকে নিয়ে যায় রেস এর ওইখানে।।সেখানে তো মানুষের ভিড় আরও বেশি। সকলের মুখে তাসিন নামটা ভাসছে। কেউ কেউ হাতে আবরারের ছবি রেখেছে। কেউ কেউ নাম লিখেছে।
মানে ওদের কনফিডেন্স যে আবরারই জিতবে৷

বিশাল বড় মনিটরে দেখা যাচ্ছে ১৫ টা বাইক পাশাপাশি সারিতে দাঁড়িয়ে আছে। মানে তারা রেসের জন্য প্রস্তুত। এতোজনের মধ্যে আবরারকে চিনতে অসুবিধা হয় না আদ্রিতার। কেনোনা এই কালো রংয়ের বাইক আবরারের ছাড়া আর কারো হতেই পারে না। আর হেলমেট জ্যাকেট সব কিছুতে এতোটা অসুন্দর আর কাউকে লাগতেই পারে না।
আদ্রিতার ভাবনার মাঝেই রেসস শুরু হয়৷ ফুল স্পিডে বাইক গুলো চলতে শুরু করে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে উপস্থিত মানুষদের চিৎকার চেঁচামেচি। কেউ কেউ নাচতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই৷
একজন মাইক্রো ফোনে অনবরত জানিয়ে চলেছে তার বাইকটা এগিয়ে আছে। সে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে এসব।
আদ্রিতা শুধু তাকিয়েই আছে। তার চিন্তা অন্য জায়গায়৷ যদি এই মুহুর্তে বাইকটা নিয়ন্ত্রণ হারায় তাহলে আবরার তাসনিন এর কি অবস্থা হবে?
বুক কেঁপে ওঠে। শুকনো ঢোক গিলে আঁখি পল্লব বন্ধ করে ফেলে। মাথা ঘুরছে, সেই সঙ্গে শরীর ঘেমে যাচ্ছে। খুব বড়সর অসুখ এই মুহুর্তে উপস্থিত হচ্ছে আদ্রিতা ঠিক বুঝতে পারছে৷ যখন তখন পড়ে যাবে সে ঠাসস করে।
হঠাৎ সকলের খুশির চিৎকার চেঁচামেচি ভয়ানক হয়ে ওঠে।।কোনো একটা বিষয় নিয়ে তারা ভয় পাচ্ছে।
আদ্রিতা চোখ খুলতে পারছে না তবুও জোর করে চোখ খুলে। দেখতে পায় আবরার তাসনিন বাইক চালাচ্ছে না বরং হাওয়ায় ভাসিয়ে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।
পেছনের বাইক গুলোর হদিশ নেই।
এতে আদ্রিতার অসুস্থতা আরও বাড়তে থাকে। অদ্ভুত ভয় হৃদয়ে বাসা বাঁধে। মনে হচ্ছে এই মুহুর্তে সে বাঁচবে না। তার আবরার তাসনিন আর থাকবে না।
সেও থাকবে না।
গোলাপি অধর নেরে কয়েকবার আবরার বলে ডাকে আদ্রিতা।।
আবরার উইনার স্পটে পৌঁছে গিয়েছে। চলন্ত বাইক থেকে লাফিয়ে পড়ে। হাতে পায়ে মাথায় অনেকটাই ব্যাথা পায়।
আর বাইকটা গিয়ে লাগে অন্য একটা গাড়িতে। মুহুর্তেই বিকট শব্দে আগুন জ্বলে ওঠে।
আদ্রিতা পড়েই যাচ্ছিলো আবরার তার কাছে গিয়ে জড়িয়ে নেয় বুকের মধ্যে।
বড্ড অস্থির স্বরে বলে
“পাখি হোয়াট হ্যাপেন্ড?
এ’ম ফাইন। ওপেন ইউওর eyes এন্স সী।

আদ্রিতা চোখ খুললো না।
শুধু বিরবির করে বললো
” আবরার আবরার

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply