Golpo romantic golpo অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২ পর্ব ১১


অ্যারেঞ্জম্যারেজ২ — পর্ব ১১

অবন্তিকা_তৃপ্তি

তারপর. .বিশাল এক ব্যস্ততা শেষ করে তিতলির এক্সাম শেষ হয়েছে আজ। পরীক্ষার হল থেকে তিতলি বেরিয়েছে বন্ধুদের সঙ্গে। চৈতালি বের হয়েই: বরাবরের মতো বলল,

‘এই, ফুচকা খাবি তোরা? বন্ধ আছে এখন, ক্লাস খুলতেও অনেক দেরি।’

তিতলি অন্যমনস্ক ছিলো, বারবার ফোন দেখছিল। শোয়েবের আজ একটাও মেসেজ আসেনি। এই লোকটা কি সাপের পাঁচ পা দেখাচ্ছে না? এতবড় স্পর্ধা? তিতলিকে এটিটিউড দেখাচ্ছে? তিতলিও এটিটিউডের রানী। ও নাহয় এ কদিন শোয়েবের কল, মেসেজ কিছুরই রিপ্লাই করেনি, কল ব্যাক করেনি। তাই বলে শোয়েবও পাল্টা এমন করবে? ফাতরা পুরুষ মানুষ! তিতলির একদম এমন পুরুষ পছন্দ ছিলো না। আর এখন কিনা বিয়েই করে বসে আছে।

‘এই তিতলি? খাবি? কথা বলিস না কেন?’ —- চৈতালি বিরক্ত হয়ে তিতলিকে ঝাকাল। তিতলি সম্বিত ফিরে; মোবাইলটা আবার ব্যাগে রেখে দিয়ে বলল,

‘আজ না। আজ কাজ আছে। ও আসবে আজ।’

‘ও কে?নাম ধরে ডাকিস না কেন এখনো?’

চৈতালি বলতে; তিতলি বলল,
——‘নাম ধরে বলিনাই এখনো তেমন; অভ্যাসও নাই।’

চৈতালী ভ্রু কুচকায়——-‘আজকাল মর্ডার্ন যুগে কেউ স্বামীকে নাম ধরে ডাকে না? কি পুরনো যুগের চিন্তা তোর। শোয়েব ভাই কিছু বলে না? নাম ধরে ডাকার জন্যে?’

তিতলির মনে পরে গেল; ওদের বাসর রাতের কাহিনি। তিতলির মুখটা হঠাৎ কেমন লাল হয়ে আসে। ও মুখ লুকিয়ে; বলল, ———‘করেছিল, বাসর রাতে। আমি ডাকিনি তাও।’

‘বাসর রাতে? বাব্বাহ! ভার্জিনিটি তো শেষই আপনার। ওদিকে আমরা এখনো সিঙ্গেল।’

চৈতালী দুষ্টু ইঙ্গিতে কথাটা বলতে,তিতলি চোখ পাকায়,

‘কে বলেছে? আমি এখনো ভার্জিন। আমার জামাইর হেব্বি লজ্জা। কাছে আসলেই সরি বলেই মুখে ফ্যানা তুলে ফেলে। সে করবে এসব? কাভি নেহি।’

তিতলি এক্টিং করে কথাটা এমনভাবে বলল, যে চৈতালি হেসেই লুটিয়ে পরে তিতলির গায়ের উপর। শেষঅব্দি তিতলিও দম ফাটা হাসিতে ফেটে পরে। চৈতালি হাসতে হাসতে বলল, ——‘ছেলে মানুষ হয়ে এত লজ্জা? তুই মেয়ে হয়েও আগাতে হবে দেখছি।’

‘কে আগাবে? আমি? জীবনেও না।’ —- তিতলি ভাব ধরে বলল।

চৈতালি ভ্রু বাকায——‘কেন? আগালে কি হয়? দুজনেরই লাভ যেখানে, সেখানে এসব ইগো দেখিয়ে কি লাভ বল তো?’

তিতলি মুখ কুচকে, বিতৃষ্ণা নিয়ে বলল——‘তাও. .আমি এসবে নেই। ও আসলে আসবে কাছে। আমি তো যাব না। আমি তিতলি; আমি কেন যাব ওর কাছে আগেআগে। আমার একটা ওজন আছে না?’

তিতলি কথাটা বলতেই: চৈতালি ওর মাথায় চাপড় দিয়ে বললি,——-‘তুই-ই যাবি আগে। আমার কথাটা মিলায় নিস। আসি এখন। গাড়ি এসেছে আমার। বাই।’

তিতলি মাথাটায় হাত ঘষতে ঘষতে মুখ বাকায়——‘বাই।’

চৈতালি চলে গেলে তিতলিও হেঁটে বাসায় চলে আসে। কলেজ থেকে তিতলির বাসায় দুরুত্ব মাত্র ২ মিনিটের, হেটেই আসা যায়।
——————
বাসায় ফিরে গোসল করে ভাত খেয়ে তিতলি অনেকদিন পর একটা লম্বা ঘুম দিয়েছে। যখন উঠেছে তখন সন্ধা হয়ে গেছে। তিতলি এত ঘুমিয়েছে যে, চোখ-মুখ ফুলে গেছে একদম। ঢুলুঢুলুভাবে কোনরকমে বাথরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে অজু করে মাগরিবের নামাজ শেষ করলো। নামাজ পরে বিছানায় বসে আবার মোবাইলটা হাতে নিলো। শোয়েবের এখনো কোনও মেসেজ বা কল কিছুই নেই। তিতলির কেন যেন এবার ভীষন রাগ হলো। ও ডাইরেক্ট কল করল শোয়েবের সিমে। দু সেকেন্ড এর মাথাতেই শোয়েব কল রিসিভ করে।

বেচারা কোনরকমে ‘হ্যালো’ শুধু বলতে পেরেছিল,তিতলি পরপর খ্যাকিয়ে উঠে একপ্রকার,
-‘কই আপনি?’
-‘বাসায়। কেন?’
-‘আপনি বাসায়? আপনার না আজ আমাদের বাসায় আশার কথা চলো। আপনি ওই বাসায় কি করেন এখনো?’

-‘তারআগে বল; পরীক্ষা কেমন হয়েছে? সব কমন পড়েছিল?’
-‘গুল্লি মারি এই পরীক্ষাকে। আগে আমার কথার উত্তর দিন। আপনি এখনো ওই বাসায় কি করেন?’

-‘আরে এত রাগ কেন? জাস্ট চিল।’
-‘চিল করব আমি? সিরিয়াসলি? আপনি সারাদিনেও আজ একটা মেসেজ অব্দি করেননি। আর আমাকে বলছেন: আমি চিল করব?’
-‘মেসেজ করিনি? ওহ, হ্যা। ভুলে গেছিলাম। সরি।’

তিতলি এবার প্রায় কাঁদো-কাঁদো হয়ে গেল।
—-‘আপনি . .আপনি. আপনি এত খারাপ কেন? আমি আজ সারাদিন অপেক্ষা করেছি আপনার কল, বা মেসেজের। তাও দেননি। ঘুমানোর আগেও ভেবেছিলাম আপনি ঘুম থেকে উঠার আগেই চলে আসবেন। তাও আসেননি। আপনি. .আপনি. .’

তিতলি কেদে ফেলবে ভাব। শোয়েব ও তাড়াহুড়ো করে উঠে বসল,
——‘ইয়া খোদা। কাঁদছ নাকি, আসছি। আসছি আমি। কাঁদে না বাবা। আমি আসছি।’

তিতলি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কান্না আটকে মোবাইলটা কানে ধরেই ওভাবে দাড়িয়ে রইলো।ঠিক অল্পসময়ের মধ্যেই তিতলিকে হঠাৎ কেউ পেছন থেকে একহাতে জড়িয়ে ধরে ওর পেট টেনে ওকে নিজের দিকে টেনে নিলো।

তিতলি চমকে উঠেছে রীতিমত। পেছন ঘুরে চিৎকার করার আগেই; শোয়েব সতর্ক করল——‘এই আমি, আমি।’

তিতলি হতবম্ব। মোবাইল হাতে ঘড়ি দেখে। তারপর আবার অবাক চোখে শোয়েবের দিকে তাকাল——-‘আপনি?আপনি কই ছিলেন? এত দ্রুত এলেন কি করে?’

শোয়েব মৃদু হাসল——-‘তোমাদের বাসার ড্রইং রুমে ছিলাম। চা খাচ্ছিলাম আর আঙ্কেলের সাথে গল্প করছিলাম। বিশ্বকাপ নিয়ে।আংকেল আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করেন; ওদিকে আমি ব্রাজিল। সেটা নিয়েই কথা হচ্ছিল।’

তিতলি হা হয়ে শোয়েবের দিকে তাকিয়ে থাকে——-‘তাহলে. .আপনি যে বললেন বাসায় আছেন। মানে আপনাদের বাসায় আছে বললেন।’

শোয়েব ভ্রু বাকায়——‘আমি বলেছি বাসায় আছি। আমাদের বাসায় আছি বলিনি কিন্তু। ওটা তুমিই বেশি বুঝেছ।’

তিতলি চোখ পাকালো———‘আমার সাথে চালাকি করেন আপনি; তাইনা?’

শোয়েব হাসল পাল্টা। বলল———‘তুমিও তো করেছ চালাকি। তোমার এই চালাকির সাথে আমার চালাকি তো কিছুই না।’

তিতলি অবাক——-‘কি চালাকি করেছি আমি?’

শোয়েব তিতলির পেট চেপে ওকে আরও টেনে এনে নিজের সাথে। তিতলি হকচকিয়ে গেল এমনটা করাতে। চোখ বড়বড় করে শোয়েবের দিকে তাকালে, শোয়েব ওর চুল আলতো করে কানের পেছনে গুঁজে দিতে দিতে দুষ্টু কণ্ঠে বলল,

——-‘করেছো সুন্দরী, করেছো করেছো। রাজা-নাপিতের ওই গল্পটা কি ছিলো? হু?’

শোয়েব তিতলির দিকে লজ্জা দেওয়া দৃষ্টিতে তাকাতেই তিতলি সাথেসাথে লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিলো।লজ্জায় আই-ঢাই করে উঠে মিনমিন করে বলল,
—-‘ওটা স্রেফ একটা গল্প ছিলো। আর কি. .কিছু না।’

শোয়েব হাসে। তিতলির বেবি চুলের একটা গোছা আঙুলে প্যাচ লাগাতে লাগাতে সফ্ট ভয়েজে বলতে থাকে,
——-‘গল্প হলে ভালো। তবে আমি এটার একটা মানে বের করেছি। শুনতে চাও তুমি? লজ্জা পেওনা আবার।’

ইশ! তিতলিকে এবার পায় কে। ও লজ্জায় মরি-মরি হয়ে ধাক্কা দিল শোয়েবকে——‘না দোহাই লাগে; শুনব না আমি। ছাড়ুন আমাকে। প্লিজ।’

শোয়েব তিতলির ধাক্কা দেওয়া দুটো মখমলে হাত ধরে ফেলে——-‘আরে ধাক্কা দিয়ো না সুন্দরী। গল্পটা বলতে দাও আগে। তারপর নাহয় লজ্জা পেও। বলা শুরু করি তাহলে?’

তিতলি লজ্জায় কাপছে রীতিমত। শোয়েবের দিকে অসহায় চোখে তাকাতেই: শোয়েব ওকে টেনে এনে নিজের আরো কাছে এনে চেপে ধরে। তিতলির দুপাশের কোমড়ে হাত রেখে বলতে থাকে।

—-‘এক রাজা ছিলো তোমার গল্পে। রাজা নাকি রাজ্য জয় করবে। করতেই পারে; রাজা তো। কিন্তু রাজা রাজ্য জয় করার ব্যাপারটা নাপিতের সাথে কেন ডিসকাস করবে? তাই নাপিত রাজার কমনসেন্স দেখে হেসেছে রাজার উপর। গল্পটার এটা হচ্ছে সারমর্ম। শুনলে তুমি?’

তিতলি লজ্জায় শেষ, বাকিটা শোনার ওর মধ্যে আর এটুকু সাহসও নেই। ও শোয়েবের থেকে ছাড়া পেতে মরিয়া——-‘জি শুনেছি। কিন্তু আর শুনতে চাচ্ছি না আমি। ছাড়ুন না, প্লিজ।’

‘আরে, দাঁড়াও, দাঁড়াও। বাকিটা তো এক্সপ্লেইনও করিনি। বাকিটা বলতে তো দাও।’ — শোয়েব ওকে আরও কঠিন করে নিজের সাথে চেপে ধরে।

তিতলি অসহায় আজ ভীষণ। ও মাথাটা নামিয়ে ফেলল। কাঁপছে ওর হৃদয়টা। শোয়েব হুট করে এতটা নির্লজ্জ কেন হয়ে গেল? আগেই তো ভালো ছিলো, লাজুক-লাজুক। ইশ! কেন যে ওই গল্প শোয়েবের মতো লোককে বলতে গেছিল, ধুর! নিজের উপরই রাগ লাগছে। এখন লজ্জাটা পাচ্ছে কে, তিতলি ছাড়া।

শোয়েব তিতলির চুল কানের পেছনে গুঁজে, তিতলির চোখে চোখ রাখতেই তিতলি যেন হাসফাস করে উঠে কেমন। শোয়েব লো ভয়েজে বলল হঠাৎ———‘আমার রাজ্যটা তাহলে জয় করেই ফেলি; তিতলি? কি বলো?’

তিতলির বুকটা কেপে উঠে থরথরিয়ে। ও শোয়েবের চোখের দিকে একপল তাকাল। শোয়েব ওর চোখেই চেয়ে আছে। ওই চোখে কেমন একটা সমুদ্র ভাসছে। নীল, উত্থাল সর্বনাশা কোনো সমুদ্র দেখতে পাচ্ছে তিতলি। তিতলির শরীর কাপে। ও শোয়েবের থেকে চোখ নামিয়ে ফেলে, বলল কোনরকমে. . .
—‘

চলবে

সবাই রিঅ্যাক্ট-কমেন্ট করবেন। আমি আজ সবার কমেন্টের রিপ্লাই করব।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply