Love_or_Hate
|#পর্ব_৪০|
ইভেলিনা_তূর্জ
⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে
আদ্রিয়ান ক্ষিপ্র গতিতে রোজের দিকে এগিয়ে এসে দুই হাতে তার সুকোমল গাল দুটো ঝাপটে ধরলো।
”কার ভালোবাসার আশা করছো শুঁকতারা ?একটা রে’পিস্ট এর?যে দিনের পর দিন শুধু অত্যাচার করে গিয়েছে তোমার উপর তার??”
“হ্যাঁ!আমি ঘৃণা করি!তবে সম্পর্ক তো অপবিত্র ছিলো না।অপবিত্র হাতে তো ছুঁয় নি।বিশ্রী প্রকৃতির নারী তো আমি, না চাওয়া সত্তেও এতো যন্ত্রণার হয় তার জন্যে। এর থেকে পরিত্রান পাওয়ার সাধ্যে আমার আছে কি-না জানা নেই।”
রোজ ঘাড় ঝটকিয়ে আদ্রিয়ানের হাত দুটো সরিয়ে দিলো।রমণীর নেত্রপল্লবে এখন একরাশ অবজ্ঞা আর আতঙ্ক।
”এভাবে স্পর্শ করবেন না আমাকে! অপবিত্র করবেন না আমায়! দয়া করে”
আদ্রিয়ান এক ম্লান ও দীর্ঘশ্বাসে হাহা করে হেসে উঠলো। সেই হাসিতে কোনো আনন্দ ছিলো না, ছিলো কেবল এক অনন্ত শূন্যতা।
”আমি? আমি তোমাকে অপবিত্র করবো?”
রোজ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। কেন জানি আদ্রিয়ানকে সে বড্ড বিশ্বাস করে। এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে আদ্রিয়ানই এমন এক মানুষ যার কাছে সে নিজের মনের আয়নাটা মেলে ধরতে পারে। রোজ কাঁপা কাঁপা হাতে টেবিল থেকে ওয়াইনের গ্লাসটি তুলে নিলো।বেঘোরে পুরোটা খেয়ে নিলো।
”আপনি আনানের মাম্মামকে কতটুকু ভালোবাসতেন এ’ডশ? নিশ্চয়ই অনেক?ভালোবাসা প্রতিটা স্পর্শ কেমন হয় আমি আজও উপলব্ধি করতে পারলাম না!”
আদ্রিয়ানের চোখের পর্দা নিমেষেই মুদে এলো।রোজের কথাগুলো জেনো আদ্রিয়ানকে মৃত্যুর দাঁড়প্রান্তে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার একমাত্র হাতিয়ার। কোনো এক অতল স্মৃতি যেনো পুরুষটাকে গ্রাস করতে চাইলো।
”এইসব প্রসঙ্গ এখন এনো না রোজ!”
”বলুন না! আমাকে জানতেই হবে!”
আদ্রিয়ান দুই হাতে নিজের মাথা চেপে ধরলো।
”ড্যাময়েইট জীবনের একত্রিশটা বছর আমি কোনো নারীর ছায়া পর্যন্ত মাড়াইনি। ভালোবাসার মতো তুচ্ছ অনুভূতির জন্য আমার ডিকশনারিতে কোনো জায়গা ছিলো না। কিন্তু হঠাৎ… হঠাৎ একজোড়া নিখুঁত বাদামী চোখ প্রতি রাতে আমার স্বপ্নে হানা দিতে শুরু করলো। এতো মায়াবী, এতো পবিত্র! আমি জানতাম না এই পৃথিবীতে আধেও সেই নারীর অস্তিত্ব আছে কি-না। “
”আমি আদ্রিয়ান শাহ ভলকভ কোনোদিন প্রেমে পড়িনি। কিন্তু আজ… আজ আমি একজনকে ভীষণভাবে চাই। এটা কি ভালোবাসা নাকি আসক্তি? গড ড্যাম ইট! একে ভালোবাসা বলে না রেডরোজ, ইট’স কল’ড অ্যা ফা*কিং অবসেশন!”
রোজ স্তম্ভিত হয়ে আদ্রিয়ানের এই রুদ্রমূর্তি দেখছিল। আদ্রিয়ান আবার বলতে শুরু করল।
”আনান আমার ছেলে নয় রোজ, কিন্তু আমিই ওর পাপা। বাট ওর মা কে , তা আমি জানি না।”
রোজের মস্তিষ্কে যেনো বজ্রপাত হলো। আনান তবে শুধু মাতৃহীন নয়, ছেলেটা তাহলে অনাথ?
”তুমি কি এতদিনেও বুঝতে পারোনি রোজ? আমি তোমার প্রতি প্রচণ্ডভাবে অবসেশড নিউ ইয়ারের রাতে তুরস্কের আকাশ-পাতাল সব ধ্বংস করে দিতাম যদি তোমাকে না পেতাম। যখন খবর পেলাম তুমি রাশিয়ায়,নিজের গালে নিজে থাপ্পড় মেরেছিলাম… কারণ
কারণ ওম্যান ট্র্যাফিকিং আমার একটা অংশ আছে!হ্যাঁ আমি পাপী!”
রোজ সোফার কোণে স্তব্ধ হয়ে রইলো।কি বলছে এসব আদ্রিয়ান?? হুশ আছে তো এই লোকের??আদ্রিয়ান রোজের গাল স্পর্শ করে চোখের জল মুছে দিয়ে নেশাতুর স্বরে বলল।
”ভালোবাসি তোমায় রোজ! সব ছেড়ে দেব আমি। ছোট্ট একটা সংসার সাজাবো তুমি, আমি আর আমাদের আনান।তুরস্কের ইস্তাম্বুলে,তুমি না বলেছিলে ওটা তোমার প্রিয় শহর।”
রোজ সোফা থেকে ছিটকে সরে গেলো। তার নেশাগ্রস্ত মস্তিষ্ক যেনো আসাড় হয়ে এলো।কি বা বলবে সে আদ্রিয়ানকে??যা করার যা বলার তো ইউভান তাকে বলেই দিয়েছে।ইউভানতো তাকে ডিভোর্স দিবে ছেঁড়ে দেয়ার কথাও বলেছে।জীবনটা বড়ই হাস্যকর হয়ে দাঁড়িয়েছে আজ।
অমানিশার আস্ফালন ঘটলো।রোজের কোনো হেলদুল ছিলোই না।এদিকে হঠাৎ বহুদিন পর রোজের মাথায় তিব্র যন্ত্রণা অনুভূত হতে লাগলো।যেনো মাথার গরম র’ক্ত গুলো টগবগিয়ে ফুটছে।এক অসহনীয় যন্ত্রণা,তবে রোজ নিজেকে সামলিয়ে নিলো।একটু একা থাকতে চাইলো,নিজের রুমের উদ্দেশ্য ওাঁ বাড়াতেই তার বলিষ্ঠ হাত বাড়িয়ে রোজকে আটকাতে চাইলো, এক অধিকারবোধে তাকে নিজের বুকের পাঁজরে পিষে ফেলতে চাইল। কিন্তু রোজ নির্বিকার,তবে এইটুকু সত্যি আদ্রিয়ানের প্রতি রোজের একটা টান আছে।মন বারবার বলে উঠে এই মানুষটা তার কাছের কেউ।র’ক্ত টানে।রোজ আদ্রিয়ানের প্রসারিত হাতের বাধা উপেক্ষা করে, ধীর, স্থির পদক্ষেপে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলো।তবে এতোক্ষণ যাবৎ চুপ করে থাকা আদ্রিয়ান ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ হলেও।অক্ষিপল্লব দুটো বুজে এলো, যেনো লায়ন গ্যাংস্টার নিজের ভেতরের ধেয়ে আসা প্রলয়কে প্রত্যক্ষ করছে। পরক্ষণেই, সংযমের সমস্ত বাঁধ এক লহমায় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেলো।ঠিক যেমন সাপের ও খোলোস পরিবর্তনের সময় আসে ঠিক তেমনি।
এক আদিম, পাশবিক গর্জনে কক্ষের নিস্তব্ধতা চূর্ণ করে দিতে লাগলো। হাতের কাছে যা পাচ্ছিলো ফুলদানী, কাঁচের টেবিল, মদের বোতল সবকিছুকে এক উন্মত্ত আক্রোশে আছড়ে ফেলতে লাগলো। কাঁচ ভাঙার তীক্ষ্ণ শব্দ আর আদ্রিয়ানের হুঙ্কার মিলেমিশে এক বিভীষিকাময় অর্কেস্ট্রায় জর্জরিত । কক্ষের বাইরে মোতায়েন করা দুজন সশস্ত্র গার্ড এই প্রলয়ঙ্করী শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো। তারা আদ্রিয়ানকে শান্ত করার নিষ্ফল চেষ্টা করলো, কিন্তু আদ্রিয়ান তখন আর কোনো মানুষ নয় যেনো সাক্ষাৎ এক যমদূত। তার সত্তার এই ভয়াবহ রূপান্তর দেখে গার্ডদের শিরদাঁড়া বেয়ে হিমশীতল স্রোত বইতে লাগলো।তাকে আটকানোর সাধ্যে আর কারোর নেই। আদ্রিয়ানের বাঁ হাত অভ্যস্ত ভঙ্গিতে তার কোমরে থাকা ওয়াকিটকি তুলে নিয়ে তার বাঁ হাত ইউসুফকে সংকেত পাঠালো। আদ্রিয়ানের ক্রোধ তখন চরম সীমায় পৌঁছেছে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক গার্ডের দিকে এক হিংস্র জানোয়ারের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো। দেয়ালে হেলান দিয়ে রাখা হকি স্টিকটা এক ঝটকায় তুলে নিয়ে, কোনো দ্বিধা না করে গার্ডটির ওপর প্রচণ্ড আঘাত হানতে শুরু করলো। প্রতিটি আঘাতের সাথে আদ্রিয়ানের মুখ দিয়ে এক এক একেকটা পৈ*শাচিক হুঙ্কার বেরিয়ে আসছিলো।
ততক্ষণ ধরে মারতে লাগলো যতক্ষণ না গার্ডের বলিষ্ঠ পুরুষালী দেহাংশ থেকে জীবনপ্রদীপ নিঃশেষ হয়।কেনো মারছে? কোনো কারণ নেই!মারছে শুধু মাত্র হিংস্রতায়। রক্তে ভিজে গেলো কক্ষের মেঝে, দেওয়ালে লাগলো রক্তের ছিটে।লায়ন লিডারের মুখের উপর এসে আছড়ে পড়লো।
ঠিক সেই মুহূর্তে ইউসুফ তড়িৎগতিতে কক্ষে প্রবেশ করে আদ্রিয়ানকে পেছন থেকে ঝাপটে ধরে উঠলো, “বস! কোল ডাউন! ফর গড ড্যাম স্যাক, কাম ডাউন! এখানে মোটেও ঝামেলা করা যাবে না!”
আদ্রিয়ানের বুকের ভেতর তখন এক প্রলয়ঙ্করী আগ্নেয়গিরি মতো ফুটছে। রোষের দহনে চোখ দুটো আগুনের গোলার মতো লাল হয়ে উঠেছে, যেন এই বুঝি চোখ ফেটে রক্তাশ্রু গড়িয়ে পড়বে।
এক ঝটকায় নিজের গায়ের শার্টটাই ছিঁড়ে ফেললো। পুরো শরীর ঘামে ভিজে একাকার, পেশিগুলো ক্রোধে থরথর করে কাঁপছে। উ*ন্মুক্ত পিঠে স্পষ্ট হয়ে উঠলো এক সুবিশাল ‘লায়ন ট্যাটু’!”কিং সাইজ বেডে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়লো।অনবরত মদ খেয়েই যাচ্ছে। এদিকে ইউসুফ বারণ করছে যেনো আর না খায়, আদ্রিয়ানের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখে ইউসুফ বসে পড়লো পাশে।গ্যাংস্টার ভোলকভের চোখে অশ্রু তাও এক নারীর জন্যে। দৃশ্যটা বড়ই বেমানান ঠেকলো তার।পুরুষরা তো কাঁদতে জানে না।আবার তার মতো একজন কঠোর ব্যক্তিত্তের পুরুষ!
ইউসুফ বলল_”পুরুষরা কি কাঁদতে জানে বস্!আপনি সত্যিই আজ আমাকে আশ্চর্য করে দিলেন।”
আদ্রিয়ানের উর্ধাঙ্গ নগ্ন শরীরটা ক্রোধের তাড়ণায় কাঁপছে। রুক্ষ হাসি হাসলো। কে বলেছে পুরুষরা কাঁদে না!
“যারা বলে পুরুষরা কাঁদে না তারা কি আলী (রা.)থেকেও বেশি সুপুরুষ?? তারা কি জানেনা আলী( রা.)স্বয়ং তার বিবির জন্যে কেঁদেছিলেন!”
“কিন্তু মা ফাতেমা তো আলী( রা.)অর্ধাঙ্গিনী ছিলেন।তবে আপনি কার জন্যে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছেন??”
মস্তিষ্কটা যেনো মুহূর্তেই ফেঁটে যাবে আদ্রিয়ানের। সার্প চোয়াল শক্ত হয়ে এলো।চোখের কোণের কালো তিল বরাবর পানি জমে আছে।
“একত্রিশ বছর বয়স জীবন মিলিয়ে যতটা না পাপ জমা হয়েছে আমার।একটা বিবাহিত নারীর মায়ায় পড়ে তার চেয়ে কয়েকশোগুন পাপ আমি আদ্রিয়ান করে বসে আছি।খোদা আমায় এ কেমন পাপের ভাগীদার বানিয়ে দিলো।আমি কি খুব বেশি দেরি করে ফেলেছিলাম??রোজের জীবনে প্রথম পুরুষ হয়ে খোদা কেন আমাকে পাঠালো না!”
“এক অবাধ্য মোহ! আমি তো ন*রকের কীট, তবে কেন আমার ভাগ্যে এই অপার্থিব মায়ার বিষ লিখে রাখা হলো?”
পুরো একটা হুইস্কির বোতল শেষ করে আদ্রিয়ান ইউসুফকে কড়া গলায় বললো।
“তোমার উপর একটা গুরুদায়িত্ব দিবো। “
“কি বস্”???
আদ্রিয়ান ঘাড়টা এপাশ উপাশ হেলালো।মুহূর্তেই ঘাড়ের হাড় থেকে এক মটমট শব্দধ্বনি ভেসে আসলো।
রাত তখন প্রায় নয়টা। রয়াল বিল্ডিংয়ের সুইমিং পুলের নীল জলে চাঁদের আলোর চেয়েও তীব্র হয়ে জ্বলছে ক্যান্ডেললাইটের আলো। ডিনার টেবিলের এক প্রান্তে বসে আছে ইউভান পড়নে গ্রে শার্ট,তিনটে বোতাম খোলা।মূলত এসব ক্যাটরিনার আয়োজন।ইউভানের উন্মুক্ত বলিষ্ঠ বুকে মোমের আলো ঠিকরে পড়ছে। ভেসে এলো এক উগ্র সুর। ক্যাটরিনা আসছে। পড়নে ল্যাভেন্ডার রঙের এক ফিনফিনে স্লিট-কাট নেটের ড্রেস। নারীদেহের অপার্থিব স্প’র্শকাতর স্থানসমূহ ছাড়া বাকি প্রায় সবটুকুই স্পষ্ট হয়ে আছে। উগ্র প্রসাধন আর লালসার দৃষ্টিতে যেনো কোনো লালস্য পৈশাচিক ভীতিকর আমন্ত্রণ।আঁধারের রাণী যার চাল চলন এতোটাই উগ্রতায় পরিপূর্ণ যে যেকোনো পুরুষকে বশিভূত করার সক্ষমতা রাখে। হাতে হুইস্কির গ্লাস নিয়ে গুনগুন করছে।
Cos you could be my dirty little secret
Be my dirty dealer!
You can put the x on me!
গান গাইতে গাইতে ইউভানের পেছনে এসে দাঁড়ালো,সামনে থাকা পুরুষকে একান্ত নিজের করে পাওয়ার তাড়নায় যেনো নারীদেহে বিষ ঢেলে দিয়েছে।এতোটা কাছে পাওয়ার সুযোগ আগে কখনো হয়ে উঠে নি।ইচ্ছাকৃত পড়নের ড্রেসের গলাটা খানিক নিচস্থলে নামিয়ে দিলো।ততটুকু যতটুকু ব’ক্ষস্থল আরো গভীরভাবে ভাসমান হয়।ইউভানের পিছনে এসে দাঁড়িয়ে খানিক নিচু নিচু হয়ে নিজের তপ্ত নিঃশ্বাস ইউভানের উ*ন্মুক্ত ঘাড়ের ওপর ফেললো।
“উফফ!গড সেক ড্যাম”তাড়নাময় কন্ঠে বিড়বিড়িয়ে ক্যাটরিনা ইউভানের শার্টের খোলা বোতামের ফাঁক দিয়ে হাত ধীরগতিতে ভেতরে প্রবেশ করাতে চাইলো। ঠিক তখনই ইউভান বজ্রমুষ্টিতে ক্যাটরিনার কব্জি চেপে ধরলো।
ক্যাটরিনা ফিক করে হেসে কামার্ত গলায় ফিসফিস করে বললো
”হেই বেবি,ধরলে কেনো। তুমি কি বুঝতে পারো না? তোমার উষ্ণতায় আমি গলে যেতে চাই।নিজেকে প্রবেশ করাতে চাই!আই ওয়ান্ট টু ফিল ইয়োর হিট!একটা চান্স তো দেয়াই যায় টু নাইট।”
ইউভান ওয়াইন গ্লাসে কপালে ঠেকিয়ে পাথরের মতো শীতল কণ্ঠে উত্তর দিলো।
”পুড়ে মরার জন্য?বিষাক্ত তুই।নষ্ট নারী!নষ্ট জিনিসের প্রতি রিকে বরাবরই অনীহা।”
“কাম অন ডেজার্ট কিং!এসব বলে লাভ হবে না।ন*ষ্ট বলে দূরো ঠেলে দিলে তোমার লস!”
“লস নেই রিকের জীবনে! লাভাংশ পুষি আমি।যেই মধু আমার আছে তা পৃথিবীতে অন্যে কারোর কাছে নেই।”
ক্যাটরিনা তিব্র এক পৈশাচিক হাসি হাসলো।এই নারীর মুখাবয়ব যেনো কোনো হিংস্র পশুর মতো ধারালো।”ব্লু ভেইল তোমার রুমে কেন গিয়েছিলো! ইচ্ছে তো করছে এখনই স্লাটটাকে শেষ করে দিই। কিন্তু ভলকভ-এর সাথে ঝামেলা করার রুচি নেই আমার।লায়ন লিডারের সাথে আমার এমনিতেও কোনো দন্ত নেই।”
ইউভান এক ক্ষিপ্রতায় ক্যাটরিনার চোয়াল সজোরে চেপে ধরলো। আঙুলের চাপে ক্যাটরিনার মুখমণ্ডল চেপে গেলো।তারপরেও মুখের উগ্র হাসি দমলো না।ইউভান এখন যাই করুক না কেনো। রাগ দেখিয়েও লাভ নেই।তাই ক্যাটরিনার বেশ ভালোই লাগছে।ইউভান দাঁতে দাঁত পিষে বললো।
”তুই আমাকে চিনিস না ক্যাট?ইউ নো মি বেটার!নষ্ট প্রকৃতির নারী আমার মোটেও পছন্দ নয়। তুই খুব ভালো করেই জানিস তোকে আমি কতটা অপছন্দ করি, টলারেট করছি, এটাই তোর ভাগ্য। এর চেয়ে বেশি কিছু পাওয়ার কথা ভাবলে জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলবো!” ক্যাটরিনা এক পৈশাচিক হাসিতে ফেটে পড়লো।ঠোঁট কামড়িয়ে ইউভানের ঠোঁটে চুমু খেতে যাবে তখনই দামিয়ান আর হায়ার পদশব্দ ভেসে এলো। ক্যাটরিনার কপাল কুঁচকে উঠলো। সে চেয়েছিলো ইউভানের সাথে একা সময় কাঁটাতে, কিন্তু এই উপদ্রবগুলো কেনো এলো?
কিন্তু আসল প্রলয় ঘটলো একটু পরেই। পুরো রুফটপ কাঁপিয়ে সেখানে প্রবেশ করল আদ্রিয়ান।ব্ল্যাক শার্টে অন্ধকার জগতের দেবদূতের মতো লাগছে।পাশে দু’জন গার্ডও উপস্থিত। আর তার ঠিক পেছনেই হেঁটে আসছে রোজ।
ইউভানের সর্বাঙ্গে যেনো এক নিমেষে আগুন ধরে গেলো। কেননা রোজের পড়নে ঘন সবুজ রঙের এক অপূর্ব সিল্কের শাড়ি। স্লিভলেস আর ব্যাকলেস ব্লাউজের জন্যে দু-হাত আর মখমলের মতো পিঠ সম্পূর্ণ ভাসমান। রোজ কোনোদিন স্লিভল্যাস ব্লাউজ পড়ে না, শাড়ির প্রতিটা ভাঁজে শরীরের সুপ্ত উ*স্কানি দেখে ইউভানের চোখের মণি আগুনের গোলার মতো লাল হয়ে উঠলো।রোজের স্পর্ধা দেখে ইউভান ক্রোধের তাড়নায় কাঁপতে লাগলো।এতো সাহস এতো সাহস!এভাবে আসার সাহস হলো কি করে!রমণীর শাড়ীর পরিহিতা নারীদেহের প্রতিটা ভাঁজ দৃশ্যমান হয়ে আছে।উদরস্থ সহ নাভীমূলও নজর এড়ালো না ইউভানের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির।রোজ আদ্রিয়ানের সাথে আসেনি।এসেছিলো হায়ার সাথে। মূলত হায়ার জোরাজোরিতে রোজ রেডি হয়েছে।আর আদ্রিয়ান রোজের রুম থেকে রোজকে সাথে করে নিয়ে এসেছে।রোজ তো জানতই ক্যান্ডেলাইট ডিনারটা ক্যাটরিনা আয়োজন করেছে।এখানে আসতে হবে ভেবে ঘৃণায় বমি উগ্রে বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়েছিলো মেয়েটার।
এদিকে আদ্রিয়ান এসেই টেবিলের প্রধান চেয়ারে আয়েশ করে বসলো। ক্যাটরিনাকে উদ্দেশ্য করে বিদ্রূপ ছুড়লো।
”পছন্দ হলো না ক্যাট! ডিনারটা আরও ‘হট’ হওয়া দরকার ছিলো। দিস ইজ টু চিপ ফর মাই টেস্ট!”
ক্যাটরিনা চোখ উল্টোলো।”ফা’ক অফ তুই নিজে আয়োজন করতে পারলি না!”
আদ্রিয়ান রোজকে ইশারা করলো তার পাশের চেয়ারে বসার জন্য। রোজ এসে বসলো ঠিক ইউভানের মুখোমুখি। ইউভান আর রোজের দৃষ্টি যখন একে অপরের সাথে ধাক্কা খেলো,রোজের বুকটা মুচড়ে উঠলো। চোখমুখ এখনো ফুলে আছে।
হায়াও আজকে একটা সুন্দর সিল্কের নেভি ব্লু শাড়ী পড়েছে।তবে মনটা ভারী হয়ে আছে।কেননা উপস্থিত নেই তুষার আর রাহা।হায়া কয়েকবার বলেছে রাহাকে ডিনারে আসতে তবে রাহা রাজি হয় নি।দামিয়ান ভ্রু উঁচিয়ে হায়াকে দেখলো।না মেয়েটা মুটেও অসুন্দর না।পাকিস্তানি মেয়ে বলে কথা সুন্দর হওয়ারি কথা। শাড়ীটাও বেশ মানিয়েছে।দামিয়ান কিছুটা গলা খাঁকড়িয়ে বলে উঠলো।
”বেহায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছো কেনো সুন্দরী? গিয়ে বসে আমাকে উদ্ধার করো জনাবা!”
হায়া চমকে তাকালো।এই নাক-উঁচু লোকটা তাকে সুন্দরী বলল?সূর্য তো আজও পূর্ব দিক দিয়েই উঠলো তাহলে?কিন্তু পরক্ষণেই দামিয়ান পুনঃরায় বলে উঠলো।
”এই তোমরা মেয়েরা কানে এতো বড় বড় পাহাড়ের মতো আর হাতির মতো মোটা দুল পরো কীভাবে? কান ছিঁড়ে যায় না!”
হায়া দাঁত কিড়মিড় করে বললো।
”উফ! আপনার কি আর কোনো কাজ নেই আমার পেছনে লাগা ছাড়া?”
”হপ! আমি কারো পেছনে লাগি না, লাগলে সামনাসামনিই লাগি”!
“এই আপনি আসলেই কোনো গ্যাংস্টার তো??নাকি ডেনমার্কের কোনো পাতিনেতা”!
” তুমি কিন্তুু আমার গ্যাংস্টার সত্তাকে আঘাত করছো বেহায়া!”
“জ্বি আপনিও আমার নামের পিন্ডি চটকানো বন্ধ করুন।হায়া নাম আমার! “
“হ্যাঁ বেহায়া!”
“উফফ!বললাম না হায়া”
“বেহায়া!”
“উফফ!ধ্যাৎ!”
দামিয়ান এবার ফিঁক করে হেসে ঠোঁট কামড়ে ধরলো। হায়ার অস্থিরতা যেনো উপভোগ করছে। নরম গলায় শেষমেশ বললো।
”আচ্ছা যাও, হানিয়া আমির তুমি!”
হায়া কানে হাত দিয়ে একরাশ বিরক্তি নিয়ে ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়লো।ডিনার টেবিলটা লাল লিনেন কাপড়ে ঢাকা।যেন আবরণের ওপর রূপোলি পাত্রে সুসজ্জিত রাশিয়ার সব থেকে দামী আর রাজকীয় পদগুলো। সালাদ অলিভিয়ের, বোরশ, চিকেন কিয়েভ, পেলমেনি আর বিফ স্ট্রোগানফ।
ইউভান রোজের দিকে তাকিয়ে প্লেট থেকে এক টুকরো বিফ মুখে নিয়ে এমন পা*শবিক ভঙ্গিতে চিবোতে লাগলো, যেনো কোনো জড় মাংসের পিস না, বরং জীবন্ত কোনো মানুষের হৃৎপিণ্ড চিবিয়ে নিঃশেষ করছে।অগ্নিধূসর অক্ষিগোলকে তখন লেলিহান শিখা দাউদাউ করে জ্বলছে, যা ডিনার টেবিলের মৃদু আলোকছটাকেও হার মানায়। খাওয়ার প্রতিটি মুহূর্তেই তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়ে আছে রোজের ফ্যাকাশে মুখপানে।কেঁদে কেঁদে কি অবস্থা করে রেখেছে মুখের।
রোজ একবার ভীত নেত্রপল্লব জোড়া তুলে সামনে তাকালো। দেখল ইউভানের পাথুরে দৃষ্টি তার অস্তিত্বকে যেনো ভস্ম করে দিচ্ছে। চামচ চেপে ধরা ইউভানের হাতের নীলচে রগগুলো আক্রোশে ফুলে উঠেছে।যেন যেকোনো মুহূর্তে কোনো প্রলয় ঘটে যাবে। পৈশা*চিক চাহনির তীব্রতায় রোজের গলদেশ দিয়ে একবিন্দু দানাও নামল না।
অপরদিকে আদ্রিয়ানের সুক্ষ্ম চাউনি একবার রোজের ওপর পড়লো। তো পরক্ষণেই ইউভানের রুদ্রমূর্তির ওপর গিয়ে আছড়ে পড়ছে।কে জানে আদ্রিয়ানের মস্তিষ্কে তখন কি তোলপাড় খাচ্ছে। এতো বড় ডিনার টেবিল, এতো প্রাচুর্যের মাঝে ছয়জন মানুষ উপবিষ্ট থাকলেও কারো মুখে একটা ‘টু’ শব্দ বের হচ্ছে না। কক্ষজুড়ে কেবল রূপোলি চামচের সাথে চিনা মাটির প্লেটের এক কর্কশ ঠোকাঠুকির শব্দ শোনা যাচ্ছে শুধু।
রোজের বুকটা যন্ত্রণায় দুমড়ে-মুচড়ে উঠলো। ইউভানকে বিফ খেতে নিষেধ করতে চেয়েও নিজের ওষ্ঠাধর উ*ন্মুক্ত করতে পারলো না। ডেনমার্কে থাকাকালীন লিসার কাছে সে শুনেছিলো গরুর মাংস আর বিড়ালের পশমে ইউভানের অ্যালার্জি। অথচ এই জেদী, পাষাণ পুরুষটাকে দেখো! বিফ খেয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দামিয়ান গলা খাঁকড়িয়ে হোস্টিং করতে লাগলো।যদিও দামিয়ান ব্রুস্টার প্যালেসের হোস্ট-ই।শার্টের হাতা গুটিয়ে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে এনাউন্সমেন্ট করতে লাগলো।
পুরো ডিনার নাইটের পিপলস দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এনাউন্সমেন্ট করলো।
”লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান!আমি দামিয়ান ড্রেক আপনাদের ব্রুস্টার প্যালেসের হোস্ট হিসেবে এক নতুন খেলার প্রস্তাব দিচ্ছি।
A Game!
দামিয়ান পুরো টেবিলের চারপাশ ঘুরে ঘুরে বলতে লাগলো।
“‘কার্ড পাসিং গেম’!”
হায়া চট করে বুঝে ফেললো দামিয়ান কোন খেলার কথা বলছে।
“লাভ কার্ড’স??”
”আমি সবাইকে কার্ড দিবো চার অফ হার্টস। প্লেয়াররা একজন অন্যজনের দিকে মুখ করে বসবে। প্রথম প্লেয়ার একটি কার্ড লাভ কার্ড দু ঠোঁটের মাঝে ধরে, অন্য প্লেয়ারকে চুমুর ভঙ্গিতে পাস করবে। নিয়ম একটাই কার্ডটি হাত দিয়ে স্পর্শ করা চলবে না।”
ক্যাটরিনা ঠোঁট কামড়িয়ে হাসলো।এইটাই সুযোগ ইউভানকে চুমু খাওয়ার।তড়িৎ গতিতে পায়ের উপর পাঁ উঠিয়ে বলে উঠলো।
“হেরে গেলে?”
আয়েশি ভঙ্গিতে বসে থাকা ইউভান রোজের দিকে দৃষ্টি রেখে বেজায় বিরক্ত কন্ঠে বললো।
” কার্ড পাসিং এর সময় কার্ডটি ঠোঁট থেকে পড়ে গেলে হেরে যাবে,আর সেই প্লেয়ারকে ‘ডেয়ার’ বা শাস্তি ভোগ করতে হবে!”
রোজ চেয়ার ছেড়ে উঠতে চাইলো।খেলবে না এসব খেলা সে।তবে দামিয়ান আটকিয়ে দিলো।একবার যেহেতু এসেই পড়েছে গেইম না খেলে যাওয়ার অনুমতি নেই।দামিয়ান একটা বড় কাঁচের বোল নিয়ে উপস্থিত হলো।সে আগে থেকে সব আয়োজন করেই রেখেছিলো।কাঁচের বোলের মধ্যে কয়েকটা সাদা কাগজ ভাঁজ করা।দামিয়ান বোল নিয়ে আসডে আসতে বলে উঠলো।
“উপস্থিত সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েকে দিয়েই না-হয় শুরু করা যাক!”
ক্যাটরিনা ভাবলো দামিয়ান রাশিয়ান রমণী ক্যাটরিনা ক্ল্যানকেই উপস্থিত সবচেয়ে সুন্দরী বলে দাবি করেছে।
“অফকোর্স! “
দামিয়ান ক্যাটরিনাকে পাশ কাটিয়ে রোজের পাশে গিয়ে স্থির হলো।দৃশ্যটা মন্সটার ক্যাট এর হজম হলে না। ক্যাটরিনার ভেতরে যেনো নীল বিষাক্ত শিখা জ্বলে উঠলো। ঈর্ষায় দাঁতে দাঁত পিষে নিজের নখগুলো টেবিলের কাপড়ে গেঁথে দিলো। অন্যদিকে হায়া এই প্রথম দামিয়ানের কোনো কাজে পরম তৃপ্তি খুঁজে পেলো।তার ফিঁক করে হেসে দিলো।
দামিয়ান রোজের সামনে বোলটি বাড়িয়ে ধরলো। রোজের হাত কাঁপতে লাগলো। অনিচ্ছা সত্ত্বেও একটা চিরকুট তুলে নিলো। কাগজটা খোলতেই দেখলো কালো কালিতে স্পষ্টাক্ষরে লেখা একটা নাম__ ‘রিক’!দামিয়ান হাসলো।নিজের বুদ্ধির উপর লাল সালাম দিলো একশোবার।ভাগ্যিস সবগুলো কাগজে আগে থেকে রিক লিখে রেখেছিলো।
ইউভান তার কালচে ওষ্ঠাধর কামড়ে ধরে দামিয়ানের হাত থেকে একটা ফোর হার্টস এর তাসের কার্ড তুলে নিলো।ধূসর চোখে।রোজ যা আশঙ্কা করলো তাই হলো।
”ভাইয়া, খেলবো না আমি! প্লিজ!”
দামিয়ান শান্ত স্বরে উত্তর দিলো, “কাম অন! ইট’স যাস্ট অ্যা গেইম!সিরিয়াস বিষয় নয়।” সে আদ্রিয়ানের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল, “আশা করছি কারোর কোনো প্রবলেম হওয়ার কথা না। তাই তো, বস?”
আদ্রিয়ান নিজেকে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে এনে পাথরের মূর্তির মতো বসে রইলো। ভেতরে তখন এক প্রলয়ঙ্করী তুফান বয়ে যাচ্ছে, অথচ বাইরে এক শীতল সমুদ্র। রোজ ব্যতীত উপস্থিত প্রত্যেকেরই জানা ছিলো এই খেলার নিয়ম।তাই এখানে বাঁধা দেয়া রুলস এর বাহিরে।বহিঃবিশ্বে বিভিন্ন ডিনার পার্টিতে এরকম খেলা হয়েই থাকে।
ইউভান তার ওষ্ঠাধরের মাঝে কার্ডটি চেপে ধরলো। ধীরে ধীরে রোজের দিকে ঝুঁকে এলো।ইউভানের মুখোমুখিই ছিলো রোজ।রোজ মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইলো।ইউভানের চোখে দৃষ্টি রাখতে ইচ্ছে করছে না।ইউভান নির্লজ্জের মতো ঠোঁট কামড়িয়ে হাসলো। রোজ আর উপায়ান্তর না পেয়ে তড়িৎ গতিতে কার্ড নিতে গিয়েই ইউভান নিজের ঠোঁটে চেপে ধরা কার্ড ছেঁড়ে দিলো আর রোজের ঠোঁটে গিয়ে স্পর্শ করলো ইউভানের ওষ্ঠাধরে।লজ্জা আর ইউভানের প্রতি অমোঘ ঘৃণা থেকে রোজ দ্রুত সরে এলো।যেই পুরুষটার আঘাত সহ্য করতে না পেরে তার এতো যন্ত্রণা হলো আর এদিকে সেই পুরুষ কি সুন্দর ডিনার ডেইটে এসেছে নিজের ফিয়্যান্স নিয়ে।ভাবতেও গাঁ গুলিয়ে এলো।
খেলার নিয়মে রোজ পরাজিত হলো। ক্যাটরিনা রুদ্রমূর্তির ন্যায় ফেটে পড়লো। ঈর্ষার বিষে নীল হয়ে সে টেবিলের ওপর সজোরে থাবা বসাতেই একটা জলের গ্লাস উল্টে ইউভানের শার্ট ভিজিয়ে দিলো। ক্যাটরিনা ত্বরিতগতিতে ইউভানের সন্নিকটে এসে তার শার্টের বোতামখোলা বুকের অনাবৃত অংশে টিস্যু ঘষতে ঘষতে প্রলুব্ধ স্বরে বলল, “সরি জান সরি! আমি ক্লিন করে দিচ্ছি, দেখি তো!”
সবার দৃষ্টি সেদিকেই গেলো।ইউভান দাঁতে দাঁত পিষে হুঙ্কার দিলো, “স্টপ ইট ক্যাট!”
রোজের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল।আত্মার দংশন ঘটলো। ক্যাটরিনার কৃত্রিম অধিকারবোধ আর ইউভানের নিস্পৃহতা হৃদপিণ্ডকে দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছিলো।এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে উন্মত্তের ন্যায় রুফটপের ওয়াশরুমের দিকে ধাবিত হলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বিধ্বস্ত প্রতিবিম্ব দেখে রোজের ভেতরকার ক্ষোভ এক আগ্নেয়গিরির ন্যায় ফেটে পড়লো। পাশের টিস্যু বক্স থেকে টিস্যু নিয়ে উন্মাদের মতো ছিঁড়তে লাগলো। পরক্ষণেই, আক্রোশের বশবর্তী হয়ে ক্রন্দনরত অবস্থায় ক্যাবিনেটের ওপর থাকা একটা শো-পিস তুলে সজোরে আয়নার ওপর আঘাত করলো। ঝনঝন শব্দে আয়নাটা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে রোজের পায়ের কাছে আছড়ে পড়লো।
হঠাৎ, নিস্তব্ধতা ছিঁড়ে এক তীব্র শিহরণ রোজের মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে গেলো। এক ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন বলিষ্ঠ পুরুষালী হাত আষ্টেপৃষ্ঠে রোজের খোঁপা করা চুলগুলো মুঠোর ভেতর নিয়ে টেনে ধরলো। একইসাথে অন্য একটা হাত নিষ্ঠুর দাপটে রমণীর ব*ক্ষস্থল চেপে ধরতেই রোজের সর্বাঙ্গ এক হাড়কাঁপানো ত্রাসে কেঁপে উঠলো। ভেজা শার্টের সবগুলো গুতোম খোলেই পেছন থেকে পুরুষালী নিঃশ্বাস রোজের কানের আছড়ে পড়লো।
”আজকাল হাতটা বেশি চলছে তোর! কী দিয়ে বাঁধবো? হ্যান্ডকাফ না বেল্ট? চুজ ওয়ান!”
রোজ যন্ত্রণায় নীল হয়ে নিজের শাড়ির নিম্নাংশ আঁকড়ে ধরে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বিড়বিড় করলো, “কেনো এসেছেন? আমি তো যাইনি আপনার কাছে!”
ইউভান আদিম ক্ষিপ্রতায় রোজের ব্লাউজটা কাঁধ থেকে হ্যাঁচকা টানে নামিয়ে দিয়ে তার উ*ন্মুক্ত কাঁধে কা’মুড় বসিয়ে দিলো। যন্ত্রণায় রোজ কঁকিয়ে উঠতেই ইউভান হিসহিসিয়ে বলে উঠলো।
”কেন পরেছিস এসব? এর শাস্তি কত ভয়াবহ হতে পারে কোনো আইডিয়া আছে তোর?”
রোজ অবজ্ঞার সুরে ধুঁকতে ধুঁকতে বললো, “কেনো? আপনার তো এসবই পছন্দ!”
ইউভানের হাতের মুঠি আরও শক্ত হলো, “আমার বেডরুমে কিছু না পরে থাকলেও আই হ্যাভ নো প্রবলেম… কিন্তু তুই এভাবে এলি কেন বান্দীর বাচ্চা? তার জবাব দে!”
”আমাকে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন মনে নেই বুঝি? আপনার আঘাতের যন্ত্রণায় আমি ম’রে যাচ্ছি আর আপনি তা ভুলে ডিনার পার্টিতে এসেছেন তাই না? সেই তামাশা দেখতেই এসেছি আমি! তামাশা দেখা হয়েও গিয়েছে!”
ইউভান ক্রোধের তাড়নায় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে রোজের উদরস্থ অংশ চেপে ধরে নিজের ব’ক্ষের সাথে পিষে ধরলো। এক মৃদু সিংহনাদ করলো।
”পেট, নেভেল আর কী কী দেখানোর বাকি রেখেছিস? এভাবে যেনো আর শাড়ি পরতে না দেখি আমি!”
রোজের ঠোঁটে আত্মঘাতী হাসি। শেষবারের মতো বিষাদমাখা কণ্ঠে বিদ্রূপ ছুঁড়ে দিলো।
”অধিকার থেকে বঞ্চিত করে অধিকার খাটানোটা হাস্যকর হয়ে যায়!”
ইউভানের ধৈর্যচ্যুতির শেষ সীমায় পৌঁছে গর্জে উঠলো।
”রোজ!রোজ!রোজ!…….শা’ট ইয়োর ফা*কিং মাউথ রোজ!”
ইউভান নির্লজ্জতার সবটুকু সীমা অতিক্রম করে রোজকে এক হ্যাঁচকা টানে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করালো। শার্টটা ততক্ষণে অবিন্যস্ত, ইউভানের পেশিবহুল নগ্ন বুকের মাঝে রোজকে সজোরে পিষে ধরতেই পুরুষালী ঘ্রাণ আর নিঃশ্বাসে রোজের শরীর সত্তা অবশ হয়ে এলো। ইউভান উন্মত্তের মতো রোজের কানের কাছে মুখ নিয়ে হিসহিসিয়ে উস্কানি দিলো
”এত যেহেতু জ্বলছে তোর… যা’স্ট কিস মি! বা’ইট মি! বা’ইট মি আ হান্ড্রেড টাইমস! পাগল করে দে আমায়!”
ইউভান অক্ষীপলের সামনে রোজের দেহান্তরের প্রতিটা ভাঁজ মরণনেশায় পাগল করে দিলো,ইউভান মাতাল উ*ন্মাদনায় হাতের বাঁধন মুহূর্তের জন্য শিথিল করতেই রোজ এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। অবিন্যস্ত শাড়িটা কোনোমতে গায়ে জড়িয়ে, অশ্রুসিক্ত চোখে ঘৃণা উগরে দিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলো। কিন্তু দরজার চৌকাঠে পা রাখতেই রোজের রক্ত হিম হয়ে গেলো।সামনে দাঁড়িয়ে স্বয়ং আদ্রিয়ান শাহ ভলকভ। রোজ চোখের জল মুছে এক লহমায় আদ্রিয়ানকে পাশ কাটিয়ে দৌড়ে দিলো।
রোজ চোখের আড়াল হতেই আদ্রিয়ানের ভেতরের হিংস্র জানোয়ারটা বেরিয়ে এলো। এক লাফে ওয়াশরুমের ভেতরে ঢুকে ইউভানের কলার খামচে ধরে সজোরে পর পর দুটো ঘুষি বসিয়ে দিলো। উন্মাদনায় মত্ত থাকায় অতর্কিত এই আঘাতে ইউভান টাল সামলাতে না পেরে মেঝের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো। ঠোঁটের কোণ ফেঁটে তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ইউভান তার উন্মাদ নয়নজোড়া একবার বন্ধ করে মেলে ধরলো, ঠোঁটের সেই রক্ত হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুছে এক পৈশাচিক হাসিতে ফেটে পড়লো।
পরক্ষণেই ইউভান এক দানবীয় ক্ষিপ্রতায় আদ্রিয়ানের কলার চেপে ধরে তাকে দেওয়ালের সাথে পিষে ধরলো। আদ্রিয়ানও ছাড়ার পাত্র না, ইউভানের গলা টিপে ধরে হাড়কাঁপানো এক চিৎকার দিলো
”বাঈনচো*! তোর সাহস কী করে হলো একটা মেয়ের জীবন নিয়ে এভাবে খেলার!”
ইউভান এক ঝটকায় আদ্রিয়ানকে ছেড়ে দিয়ে অদ্ভুত নিস্পৃহতায় বেসিনের ওপর গিয়ে বসলো।মুখে তখন এক কদর্য অট্টহাসি। আদ্রিয়ান মেঝেতে থুঃতু ছুড়ে নিজের শার্টের কলার ঠিক করতে করতে ঘৃণা উগরে দিলো।
”তোর লজ্জা করল না! এত নি*কৃষ্ট প্রকৃতির পুরুষ তুই! তুই কী করে করতে পারলি ইউভান নিজের বউকে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করতে? লজ্জা করলো না তোর? তুই এটাই চেয়েছিস, তাই না?”
ইউভান ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ হলো, সত্য নাকি মিথ্য তা বোঝার উপান্ত্য নেই। পুঃনরায় পৈশাচিক হাসিতে মেতে উঠে বললো।
”হ্যাঁ! করেছি ব্যবহার! আর আমার লজ্জাও করেনি! তুই যে বারবার আমার প্রপার্টিতে মুখ দিতে আসিস, তোর লজ্জা তখন কোন গাড়ির নিচে চাপা পড়ে যায়? মাদারচো* তো তুই! তুই একটা নোং*রা স্ল্যাট!”
আদ্রিয়ান গর্জালো, “নোংরা আমি না, নোংরা তোর মন! রোজ যদি জানতে পারে, তারপর তোর মুখও দেখতে চাইবে না!”
ইউভান এবার ধমকে উঠলো, “শাট আপ! তুই হয়তো জানিস না, রোজের খাতায় ঘৃণার সর্বোচ্চ স্তরে যার নামটা আছে, সে এই রিক আলবার্টই।সেই ঘৃণার খাতায় রিক নিজের নাম নিজে সেই কবে লিখিয়ে নিয়েছে।তাই নতুন করে আর কিছু অ্যাড হওয়ার নেই! আমি যেমন তেমন! আমার এই রূপ দেখেই রোজ অভ্যস্ত সেই শুরু থেকে। মিথ্যা মুখোশ পরতে হয় না আমার!”
আদ্রিয়ান ক্ষিপ্রগতিতে এগিয়ে এসে ইউভানের শার্টের কলার মুচড়ে ধরলো, তার চোখে তখন খু*নের নেশা।পৈশাচিক উৎফুল্লতা কেঁপে উঠলো।
”নিজের বউকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করেছিস!ফাইন। কিন্তু কান খুলে শুনে রাখ আমি আদ্রিয়ান শাহ ভোলকভ।কিং অফ লায়ন গ্রুপ। আই লাভ হার! ইয়েস, আই লাভ রোজ তুর্জ চৌধুরী! ডিভোর্স পেপার রেডি করবো, সাইন করে দিবি!”
ইউভান কোনো সুযোগ না দিয়ে আদ্রিয়ানের নাক বরাবর এক প্রচণ্ড ঘুষি মারলো। আদ্রিয়ানের নাক ফেঁটে রক্ত ছুটলো, কিন্তু ইউভান থামল না। বীভৎস রক্ত মাখা মুখে এক সাইকোপ্যাথিক উ*ন্মাদনায় হাসতে হাসতে বাক্যটি ছুঁড়ে দিলো
”দিব… তবে নয় মাস ডেলিভারির পর,যে-দিন আমার ছেলে তোকে ‘মামা’ বলে ডাকবে!”
চলবে??
রাহা তুষারকে মিস করছেন??এটা আগের পার্ট ছিলো। আমি শেষে আরও একহাজার শব্দ সংখ্যা এড করেছি এই আর কি.
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ১৮
-
Love or Hate পর্ব ৩৫
-
Love or Hate পর্ব ৩৭
-
Love or hate গল্পের লিংক
-
Love or Hate পর্ব ৩৩
-
Love or hate পর্ব ১১
-
Love or hate পর্ব ৭
-
Love or hate পর্ব ১৭
-
Love or Hate পর্ব ৩২
-
Love or hate পর্ব ৫