কীভয়ংকরমায়া_তোর
পার্ট_৩০এর(বাকি অংশ)
লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু
কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ🚫❌
—কী হচ্ছে এসব তোমরা সবাই এমন বাইরের মানুষের পিছনে পড়ে আছো কেন? আমাকে কী চোখে পড়ছে না? আমার যে দেরি হচ্ছে যাচ্ছে সে দিকে দেখি কারোই খেয়াল নেই।
এই কথায় যেন পুরো নেওয়ার বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে গেছে।সকলে খাওয়া বাদ দিয়ে চুপ করে আছে।আহির চোখ টলমল করছে।মাথা নিচু করে বসে আছে সে।সে বাইরের মেয়ে?হাহ্ কী কপাল তার নিজের বাড়িতে নিজেরই মানুষের মুখে শুনতে হয় সে বাইরের মানুষ। আদ্রের রাগে শরীর জ্বলছে।রৌদ্র স্থীর হয়ে বসে আছে।কথাটা একদম তার বুকে লেগেছে।থতমত পরিবেশ একদম নীরব সব কিছু।
“ঠাসস”
নীরব পরিবেশে থাপ্পড়ে আওয়াজে চমকে সবাই সামনে থাকায়। ফাইজ রাগে ফোঁস ফোঁস করছে।রাগ কন্ট্রোল না করতে পেরে ফিহার গালে সজোড়ে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।ফিহা যেন নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারছে না। তার ভাই তাকে থাপ্পড় মেরেছে তাও একটা বাইরের মেয়ের জন্য?
—ভাইয়া তুমি আমাকে থাপ্পড় মেরেছো?তাও এই বাইরের মেয়ের জন্য?
সঙ্গে সঙ্গে কোনো কথা ছাড়ায় থাপ্পড় দাওয়া গালে আবারও থাপ্পড় বসালো ফাইজ।পারুল নেওয়াজ এগিয়ে এসে চোখ গরম করে ছেলেকে বলল
—কী হচ্ছে ফাইজ ও’কে এভাবে মারছিস কেন?
—এটা ওর প্রাপ্প যেটা দাওয়া উচিত তোমার কি়ংবা আব্বুর।এত পড়ালেখা করেও ওর ভিতর শিক্ষার অভাব আছে।
—ও ছোট মানুষ না বুঝে বলে ফেলেছে বুঝিয়ে বললেই হতো তাই বলে এভাবে মারবি?
—ও ছোট মানুষ? আম্মু তোমার আশকারা পেয়ে পেয়ে দিন দিন ও বেয়াদব হচ্ছে। যেখানে তোমার উচিত ও’কে আরো দুটা থাপ্পড় দিয়ে শিখে দাওয়া কখন কোথায় কাকে কীভাবে কী বলতে হয়। মানুষকে কেমনে সম্মান করতে হয়। সেখানে তুমি ও’কে ছোট বলে লায় দিচ্ছো?শুনো আম্মু তোমার শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি তোমার জন্য ও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আজকে যেটা ও করেছে না এটাতে ওর কোনো দোষ নেই সব দোষ তোমার কিছুটা আব্বুরও আছে। কারণ তোমরা ওকে ভালো শিক্ষা দিতে পারো নি।
কিছুটা তাচ্ছিল্য করে কথা গুলো বলে ফাইজ।পারুল নেওয়াজের কিছুটা লজ্জা লাগছে সবার সামনে ছেলে তাকে এভাবে বলতে পারলো?তাও একটা বাইরের মেয়ের জন্য? তার মেয়ে ভুল কোথায় বলেছে?মেয়েটাতো বাইরেরই।
এতক্ষণ টলমল করতে থাকা পানিটা এবার ঝরঝর করে পরতে লাগলো আহির চোখ দিয়ে ব্যস এতেই যেন রৌদ্র ধৈর্য্য বাদ ভাঙ্গল।বোনের হাত ধরে দাড়িয়ে গেলো।কোনো কথা ছাড়াই আহির হাত হাঁটতে নিলে আদ্র রৌদ্রের হাত চেপে ধরে।সঙ্গে সঙ্গে রৌদ্র গম্ভীর কন্ঠে বলে
—যে বাড়িতে আমার বোনকে অপমানিত হতে হয়েছে। সে বাড়িতে আর এক সেকেন্ডও আমি থাকবো না। যে বাড়িতে আমার বোনের জন্য ভালোবাসা নেই। সে বাড়ির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।থাকতে পারেও না। আমার বোনের জন্য আমি একাই যথেষ্ট।
সাথে সাথে আদ্রের বুক ধুপ করে উঠে। রৌদ্র এটা বলতে পারলো?ওদের এত বছরের বন্ধুত্বও ভেঙ্গে দিতে চাইছে?না রৌদ্র কখনোই এটা করতে পারে না আদ্র জানে তার ভাই কখনো মন থেকে এটা বলতে পারে না।আদ্র রৌদ্রের হাতে ছেড়ে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। পড়ে যেতে নিলে রৌদ্র ধরে নেয়।আদ্র হালকা হাসে।
—ও তোর বোন তোর বোন হিসেবে আছে এবং সারাজীবন থাকবে। তবে এটা ভুলে যাস না তোর বোনের আরো একটা না দু”দু’টো পরিচয় আছে।
রৌদ্র তাকায় আদ্রের দিকে যার চোখ মুখ এখন শক্ত রৌদ্র আর বুঝতে বাকি নেই এখন এখানে কী হবে।হাতে গুনা ২-৩ জোড়া চোখ ছাড়া বাকি সবাই আদ্রের দিকে কৌতূহল চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে।আদ্র ফিহার দিকে তাকয় আদ্রের এমন ভয়ংকর ভাবে তাকানো দেখে ফিহার বুক কেঁপে উঠে।আদ্র যেন চোখ দিয়েই ধ্বংস করে দিবে সব।
—ও কোনো বাইরে মেয়ে না। প্রথমত ও এই বাড়ির মেয়ে ফাহিরা নেওয়াজ আহিয়া। দ্বিতীয় ও এই বাড়ির বড় ছেলের বউ মিসেস আদ্র নেওয়াজ।আমার অর্ধাঙ্গিনী। আমার সম্মান। আর আজকে পর থেকে আমার অর্ধাঙ্গিনীকে নিয়ে যে আজেবাজে এ্কটা কথা বলবে তার সাথে সবার আগে আমার বোজা পড়া হবে।
আদ্রের কথায় যেন বাজ পড়ল পুরো নেওয়াজ বাড়িতে।ফিহার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না সে বার বার আহিকে দেখছে।পারুল নেওয়াজের মুখটায় আঁধার নেমে এসেছে যেন। তরিকুল নেওয়াজ এক দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
এটা উনার মেয়ে? উনার সেই ছোট্ট আহি? আজ কত বড় হয়ে গেলো।বাবা হয়েও চোখের সামনে নিজের মেয়ে থাকার শর্তেও উনি চিনতে পারে নি।আজ নিজেকে সত্যিই একজন ব্যর্থ বাবা বলে মনে হচ্ছে। ব্যর্থই তো এই মেয়ের জন্য তিনি কখনো কিছু করেছেন বলে মনে হয় না।পারুল নেওয়াজের জন্য মেয়েটার কাছেও যেতে পারতেন না।শত হোক নিজের অস্তিত্ব তো নিজের রক্ত একটু হলেও টান আছে।মেয়েটা হারিয়ে যাওয়ার পর উনার বুক হাহাকার করে ছিলো অনেক কিন্তু তিনি সেটা কাউকে দেখাতে বা বুঝাতে পারেন নি।রিসাকে তিনি ভালোবেসে বিয়ে করেন। পারুল নেওয়াজের সাথে বাবা জোর করে বিয়ে দেয়।পুরোনো ভাবনায় তিনি আর গেলেন না।এত বছর পর মেয়েকে পেয়েও কাছে যেতে পারছে না।তিনি দোটানায় ভুগছেন কোন মুখে নিজের মেয়ে বলে দাবি করবেন।কখনো তো তিনি বাবার দায়িত্ব পালনই করেন নাই।
আহি আড়চোখে বাবার দিকে একবার তাকিয়ে।ভেজা চোখে কেমন করে জানি হাসল।যা তরিকুল নেওয়াজ এর চোখে এড়ালো না।মেয়ের মুখের এমন হাসির মানে কী তিনি বুঝলেন।উনার বুকে হালকা ব্যথা অনুভব হল।
—আব্বু তুমি চুপ করে আছো যে?
আদ্রের কথায় আজিজ নেওয়াজ ইশারায় আহি’কে ডাকলেন। আহি এগিয়ে গেলো।আজিজ নেওয়াজ আহিকে বুকে নিয়ে মাথা হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ছেলের উদ্দেশ্য বললেন
—আমি দেখতে চাইছি আমার ছেলে তার দাওয়া কথা রাখতে পারে কিনা।আদৌ কী সে একজন আদর্শ স্বামী হতে পেরেছে কিনা।আহি আমার আরেক মেয়ে। ইয়ানার থেকে কম ভালোবাসি না ও’কে। বাবারা কখনো মেয়েকে চিনতে ভুল করে না।ওকে হসপিটালে প্রথম বার দেখেই চিনে পেলেছি।এবং কী আমাদের বাবা মেয়ের মধ্যে কথাও হয়ে গেছে।
আদ্র বাক্য হারা হয়ে গেছে।বড় ভাইয়ের কথায় তরিকুল নেওয়াজ আরো মাথা নিচু করে নিলেন।তিনি জন্ম দিয়েও চিনতে পারলেন না। আর উনার বড় ভাই ঠিকই চিনল।আসলে জন্ম না দিলে যে বাবা হওয়ায় যায় না আজ তিনি বুঝলেন।
—আদ্র বিদেশ যাওয়ার দিন আমি আর মা মিলে ওদের বিয়ে দিয়ে রাখি।আমার শর্ত অনুযায়ী আদ্র বিদেশ যায়।ও ওর কথা রেখেছে এবার বাবা হয়ে আমার কথা রাখার পালা।
আজ যেন নেওয়াজ বাড়ির মানুষ গুলোর অবাক হওয়ারই দিন।আজিজ নেওয়াজ এবার রৌদ্রকে ইশারা করলেন। রৌদ্র মাথা নেড়ে কিছু বুঝালো।
—বউ হবি আমার? দ্বিতীয় বার আবার তোকে বিয়ে করতে চাই!হবি আমার অর্ধাঙ্গিনী?তুই আমার খুব শখের বউ হয়ে থাকবি।তোর আদর যত্নের কোনো অভাব রাখবো না।অনেক ভালোবাসবো তোকে।নিজের থেকেও বেশি।সারাজীবন তোর কাছে মাথা নত করতে চাই।প্লিজ হয়ে যা না মিসেস আদ্র।
আহির হাত ধরে কথা গুলো বলে গেলো আদ্র।আহি অবাক না হয়ে পারছে না।এই লোক ছোট্ট বেলায় তাকে চকলেটর লোভ দেখিয়ে বিয়ে করে নিয়েছে।এখন আবার ভালোবাসার লোভ দেখাচ্ছে ২য় বার বিয়ে জন্য। যেভাবে আবদার করছে যেন আহি জানি না হলে তাকে ছেড়ে দিবে হুম?
—কী হল কী এতো ভাবছিস?
—আবার ধোকা দিয়ে পালিয়ে জাবেন না তো?
আদ্র হেঁসে ফেলে।আহির দুগালে আলতো করে হাত রেখে চোখ চোখ রেখে বলল
—কোথাও জাব না বউয়ের আঁচল ধরে সারাক্ষণ ঘুরব। দিবি তো সেই অনুমতি।
আহি লাজুক হেঁসে জড়িয়ে। ব্যস আদ্র পেয়ে গেছে তার উওর।আগলে নিলো প্রিয়শীকে।
[অনেক কষ্ট করে লেখলাম রেসপন্স করো। কেমন হয়েছে জানিও বাকি পর্বে নতুন কিছু আসবে]
চলবে,,,,,
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া তোর
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৪
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৮
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২৯
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৯
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৩
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর গল্পের লিংক
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৬
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২৫
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২৬