Golpo ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ ডিফেন্স রিলেটেড

ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ২০


ক্যাপ্টেনভিহানআরভিদ

লেখনীতে_সাদিয়া

পর্ব_২০

২k রিয়েক্ট যত তাড়াতাড়ি পূরণ করবেন এই পর্বে পরবর্তী পর্ব তত তাড়াতাড়ি আসবে। নয়তো ৪/৫ দিন দেরি হবে।
কামিলি বিছানায় বসে কাঁদছে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে। ভিহান ভাই তার সামনেই দাঁড়ানো। খুব কাছে। দুজনের মাঝে অল্প দূরত্ব। সরে আসারও উপায় নেই। কারণ কামিলি হাত বাড়িয়ে ভিহান ভাই এর টিশার্ট চেঁপে ধরে রেখেছে। ভিহান ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে পকেট থেকে একটা বড় চকলেট বের করে দিলো ওর সামনে। নরম সুরেই বলল,

“আর কখনো এমন করবি না। রাহা তোর ছোট বোন হয়। কথা বলার সময় বিষয়টা মাথায় রাখবি। আমি যেন এই ধরনের কিছু আর না দেখি।”

কামিলি আপু কিছু বলছে না। মাথা নিচু করে সেই ভিহান ভাই এর টিশার্ট ধরেই কাঁদছে। যেন সে চাইছে ভিহান ভাই তার কাছ থেকে না যাক।

দরজার আড়াল থেকে এমন দৃশ্য দেখে রাহার সত্যি কষ্টে নিশ্বাস আটকে এলো। কামিলি আপুর সাথে ভিহান ভাই কে দেখে কোনো এক অদ্ভুত কারণে তার বুকে সুচালো ব্যথা অনুভব করল। বিষাক্ত কিছু একটা বোধহয় কলিজায় কামড়ে ধরেছে। ঠিক ভাবে তাকাতেও পারছে না সে ঝাপসা চোখের কারণে। দমফাটা কষ্টে ওরা দেখার আগেই রাহা লুকিয়ে সেই জায়গা থেকে চলে এলো।

নিজের ঘরে বসে সেই কখন থেকে কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে মেয়েটা কিন্তু পারছে না। বারবার হাতে থাকা টিস্যু টা ভিজে যাচ্ছে ওর। ওই দৃশ্যটা মনে হতেই বুকে চিনচিনে ব্যথা গাঢ় হচ্ছে। কোনো ভাবেই নিজেকে বুঝাতে পারছে না মনস্তাত্ত্বিক কারণে। আশ্চর্য সামান্য একটা ঘটনা অথচ সে স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারছে না। কেন? কোনো কারণ খুঁজেও হদিস পায় না বোকা রাহা। রক্ত লাল ঠোঁট গুলি ভেঙ্গে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলে,

“আপনি খুব খারাপ ভিহান ভাই। সত্যি আপনার চরিত্রে সমস্যা আছে।”

এরপর দুইদিন রাহা কিছুটা গুটিয়ে যায়। মুখটা ভার ভার করে থাকে। সবচেয়ে পরিবর্তনটা আসে ভিহান ভাই এর ক্ষেত্রে। লোকটার থেকে যথেষ্ট দূরে দূরে থাকার চেষ্টা চালায় সে। এই দুদিনে একটা টু শব্দ করেনি উনার সাথে। বিষয়টা ভিহান একদিন পার হতেই খেয়াল করেছে। কিন্তু এতটা গুরুত্ব দেয় নি নিজের আঘাত এবং কাজের প্রেশারে। কিন্তু আজ বিকেলে তাড়াহুড়া করে যখন সিঁড়ি দিয়ে নিজের রুমে যাচ্ছিলো। তখন গাধাটা নামছিলো। তাকে দেখেই সিঁড়ির একেবারে অন্য পাশ দিয়ে মিশে মিশে এসেছে অথচ একবারও তার দিকে তাকিয়ে দেখেনি। বিষয়টা হুট করে মস্তিষ্কে গেঁথে গেলো ভিহানের। চোখমুখ কুঁচকে সে থমকে দাঁড়ালো। ঘাড় বাঁকিয়ে দেখল রাহা কি করে তাকে এড়িয়ে চলে গেলো। মুহূর্তে ভেতরটা ব্যগ্র হলো ভিহানের। এক অশান্তি উড়ে এসে বসল তার পিঞ্জিরায়। মেয়েটা তাকে ইগনোর করছে? কিন্তু কেন? চোয়াল শক্ত হয়ে এলো ভিহানের। বড্ড অস্থির হলো মন পিঞ্জিরা। ওভাবে পিছু ঘুরে থাকা অবস্থায় ডাকলো,

“রাহা।”

সেই ডাক রাহা শুনেও না শুনার ভান করে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেলো। বিষয়টা ভিহানের মেজাজ তুঙ্গে তুলার জন্যে যথেষ্ট। দাঁত কটমট করে বলল সে, “তোকে ডাকছি স্টুপিড।”

রাহা একবারও ঘুরে তাকালো না। সে উল্টো রাফিকে ডাকতে ডাকতে বলল, “রাফি বাগানে খেলতে যাবি?”

এবার ভিহান আর সহ্য করতে পারে না। ভীষণ রাগে চিৎকার করে ডেকে ওঠে, “রাহাআআ..”

এই পর্যায়ে মেয়েটা কেঁপে ওঠে। চমকে পিছন ফিরে তাকায় ভিহান ভাই এর দিকে। টগবগ করে ফুটতে থাকা রাগী লোকটা কে দেখে ঢোক গিলে সে। বোকা বোকা সরল চাউনি দিয়ে তাকিয়ে থাকে ভিহান ভাই এর দিকেই। ভিহান ওর দিকে রক্তাভ চোখে চেয়ে কটমট করে বলে,

“আমার রুমে আসবি দরকার আছে।”

এরপর আর একটুও দাঁড়ায় না। হিংস্র একটা চাউনি দিয়েই হনহন করে চলে যায়। রাহা কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে মুখ ভেংচায়। যাবে না। কিসের ঠেকা পড়েছে তার যাওয়ার? কথা না শুনলে কি করবে কি করবে গন্ডারটা? খেয়ে তো আর ফেলতে পারবে না।

বেশ কিছু সময় গড়ায়। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসে তবে রাহা আসে না। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে সে রাহার নাম্বারে ম্যাসেজ করে।

“দুই মিনিটের মাঝে তোকে আমার রুমে না পেলে কাঁচাই চিবিয়ে খাবো।”

ফোনটা রাখতে রাখতেই কল এলো শারহানের।

“ইয়ার, ব্যথা কেমন?”

“বুকে প্রচন্ড ব্যথা।”

ভিহানের কাঠখোট্টা গলা শুনে ওপাশের শারহান বোধহয় বিস্মিত হলো। সন্দিহানি গলায় প্রশ্ন করল, “কিরে ভাই বুঝলাম না আঘাত পেয়েছিস পিঠে আর ব্যথা বুকে?”

“কারণ বুকের ভেতর থাকা ছোট্ট প্রজাপতি টা বড্ড জ্বালাচ্ছে।”

“ও। ওই তোর কুতকুতি পাখি..”

ভিহান হিংস্র সুরে চিবিয়ে ওঠল, “হোয়াট দ্যা..”

“সরি সরি বাপ। ভুল হয়ে গিয়েছে। তো তোর ওই অবুঝ পাখি কি করেছে?”

“ছোট্ট পাখিটা বোধয় আস্তেধীরে বড় হচ্ছে। সময় লাগছে তবে ব্যাপার না। আমি ভিহানের ধৈর্য আছে।”

“ধৈর্য? তাও আবার তোর? হাহ্, তোর ওই ধৈর্যটা বোধহয় তোর ওই টুনটুনি পাখির জন্যেই আছে। আর বাদবাকি কোনো কিছুতেই না।”

ভিহান এক নজরে তাকিয়ে আছে ল্যাপটপে থাকা রাহার একটা ছবির দিকে। আদুরীটা আদর আদর ভঙ্গিতে কি ভাবে হাসছে। ল্যাপটপে তখন লঘু আওয়াজে বেজে চলছে একটা গান।

” o re piya
o re piya haye,
o re piya haye,
o re piyaaa…”

ভিহান কানে ফোন খুঁজে দাঁড়িয়ে সেই ছবির দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। যেন এই মেয়েকে সারাজীবন দেখে গেলেও তৃষ্ণা মিটবে না ওর। রাহার আদুরে মুখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট নাড়িয়ে বিড়বিড় করে ভিহান,

“তুই আমার অতৃপ্ত এক বাসনা রাহা,
যাকে আমি নিজের করে পেলেও এই একজীবনে তৃপ্তি মিটবে না।”

ও পাশ থেকে শারহান বারবার ডাকে অথচ ভিহান নিজের হুঁশে নেই। এক সময় রুক্ষ গলায় বলল, “গরুর মতো না চাবলিয়ে যা বলার বলে ফোন কাট।”

“লে হালুয়া, এতো তাড়া কেন তোর বাপ? বিয়েও তো করিসনি নাহলে মানতাম বাসর করার জন্যে হেদিয়ে মরছিস।”

“সেটাই।”

অবাক হয়ে জানতে চাইলো শারহান, “মানে?”

“মানে বাসর করার জন্যে হেদিয়েই মরছি আমি। কিন্তু লিটল বাটারফ্লাই টা বড়ই হতে চাইছে না।”

শারহান বোধহয় মজা পেলো। রসিকতার সুরে বলল,
“তো তুই কি টেনে বড় করে ফেলবি নাকি?”

“ও বড় না হলে যে আমি মরবো।”

“কেন রে ভাই ইয়েতে.. না মানে শরীরে কি জ্বলন ধরেছে?”

“চোখের সামনে এমন আদুরে একটা প্রজাপতি ঘুরঘুর করলে শান্ত থাকা যায়?”

শারহান বেশ অবাক হয়। চুপচাপ সেকেন্ড কয়েক নীরব থেকে বলে,
“তা অবশ্য ঠিক। যা কিউট তোর… “

ওর কথা কেড়ে নিয়ে সঙ্গেসঙ্গে গর্জে ওঠল ভিহান, “বাইন…দ, জিহ্ব টেনে ছিঁড়ে ফেলবো।”

ফোনের ওপর পাশ থেকে শারহান ভয় পেলো সেই হুমকি তে। আর কেউ না জানলেও সে জানে প্রয়োজনে এই ছেলেটা কতটা দানব হতে পারে। তা না হলে ওমন আঘাত নিয়েও কে আরো ১০ টা মানুষ কে কুপোকাত করতে পারে একাই? ভাবতেই গা কাটা দিয়ে ওঠে ওর। রয়েসয়ে বলে,

“শান্ত হো ভাই মজা করছিলাম।”

“এমন মজা দ্বিতীয় বার করতে আসলে গেড়ে ফেলবো তোকে রাস্কেল।”

“থাক ভাই গাড়াগাড়ি করতে হবে না। আমার মেয়ের অভাব পড়ছে না যে তোর ওই পিচ্চি টুনটুনি নিয়ে টানাটানি করবো।”

“ওকে নিয়ে আর কিছু বলবি না, তাকাবিও না ওর দিকে।”

“ঠিক আছে ভাই। তোর বাসর করার জন্যে হেদিয়ে মরা বউয়ের দিকে তাকাবো না আমি। সামনে গেলে আমি শারহান ভুলে যাবো আমার দুটি চোখ আছে। এবার হয়েছে?”

সে কথার জবাব দিলো না ভিহান। বরং শক্ত রুক্ষ গলায় বলল, “আই নো তুই কোনো ইনফরমেশন দিতেই কল দিয়েছিস আমায়।”

“শালার চিস একটা তুই।”

“যা বলার চটপট বল।”

“পরশুদিন ওরা মিট করতে যাচ্ছে।”

“কোথায় জেনেছিস?”

“হুম।”

এরপর আরো কিছুক্ষণ দুজন আলাপ করে শেষ করলো। ফোন কেটে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল দুই মিনিটের জায়গায় বিশ মিনিট হয়েছে বেয়াদব টা আসার খবর নেই। মেজাজ টা একটুতেই বিগড়ে গেলো ওর। দাঁতে দাঁত কেটে রুম থেকে বের হলো। করিডোরে আসতেই দেখতে পেলো মা কে। ভারী গলায় বলল,

“রাহা কোথায় মা?”

আফসানা বেগম উপরে তাকিয়ে জবাব দিলেন, “এখুনি তো দেখলাম এখানে। কোথায় পিরপির করছে কে জানে। মেয়েটা কি এক জায়গায় বসে থাকার মানুষ?”

“ওকে আমার রুমে আসতে বলো। এখুনি।”

আফসানা বেগমের কপালে কিছুটা ভাঁজ পড়ল। দেখলেন ছেলে উনার একটু রেগে। ভ্রুকুটি করে তিনি প্রশ্ন করলেন, “কেন বাবা? আবার কি করেছে ও?”

“ওকে আগে আমার কাছে আসতে বলো।”

“কিরে বাপ রেগে আছিস কেন? বাচ্চা মানুষ হয়তো কিছু করেছে। তাই বলে এমন রাগ করবি?”

“…

“কেন ডাকছিস ওকে বল?”

ভিহান মুখটা বেশ গম্ভীর রেখে রাশভারী কন্ঠে হুট করে জবাব দিলো “কানে ধরাবো। আমার রুমে আসতে বলো ইডিয়েটা কে।”

লম্বা লম্বা কদমে ভিহান আবারও চলে গেলো নিজের ঘরে। এদিকে আফসানা বেগম কিছুটা থমকে যান। এই ছেলের কি এক স্বভাব কিছু হতে না হতেই মেয়েটাকে কান ধরিয়ে দাঁড় করে রাখে। ভিহানের এই স্বভাব যে নতুন এমনটা নয়। রাহার ছোটবেলা থেকেই এমন করে আসছে ছেলেটা। এমন করে কি হয় ছেলেটার সে নিজেই জানে।

সেই যে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা আটকে দিয়েছিলো রাহা এখন অবধি খুলে নি। জিদ করে সন্ধ্যার পরপর রাতের খাবার খেয়ে এসে নিজের রুমে ঘাপটি মেরেছে। আসার সময় কিছু বাড়তি খাবারও নিয়ে এসেছে যেন আর নিচেই যেতে না হয়। পড়তে বসার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ মনে হলো তার ডোরা ঘরে নেই। আঁতকে ওঠল ওর হৃদয়। বাচ্চাটা কোথায় গেলো? এতক্ষণ তো তাকে ছাড়া থাকার কথাই নয়। কোথায় গেলো বাচ্চাটা? এমনিতেই পড়াতে মন বসে না ফাঁকিবাজ রাহার। তারউপর কোনো একটা চিন্তা ভেতরে ঢুকে গেলে সেটা শেষ না হওয়া অবধি অন্য কিছুই তার ভালো লাগে না। মেয়েটা আসলেই অবুঝ সরল তবে জেদি টাইপের।

রাহা চুপচাপ কিছু সময় অপেক্ষা করে ঘরের এ মাথা থেকে ওমাথা পায়চারি করতে করতে। কিন্তু এক ঘন্টা হয়ে যাওয়ার পরেও ডোরা আর রুমে আসে না। এবার আর তার মন মানে না। ডোরা কে সে বড্ড ভালোবাসে। তাকে ছাড়া রাতে তার একটুও ঘুম হয়না। বাচ্চাটাও তো তার উম ছাড়া ঘুমাতে পারে না। এত সময় তো তাকে ছাড়া থাকার কথাও নয়। কি হলো বাচ্চাটার? অগত্যা রাহা নিজের সব টুকু জেদ রাগ ভুলে গিয়ে ছুটল ডোরা কে খুঁজার জন্যে।

রাতের ডিনার হয়ে গিয়েছে সবার। এখন হয়তো যার যার রুমে চলে যাবে। রাহা তন্নতন্ন করে সারা বাড়ি খুঁজে নিলো অথচ ডোরার টিকিটিরও দেখা পেলো না। এবার রাহা আরো অস্থির হলো। কেঁদে দিবে দিবে অবস্থা ওর। সারা বাড়ি সবার রুমে খুঁজেও যখন ডোরা কে পাওয়া গেলো না তখন থমকালো রাহা। মাথায় এলো শুধু একটা ঘরই। ভিহান ভাই এর ঘর। কিন্তু ওই লোকটার সাথে সে কথা বলতে চায় না। এমন ইচ্ছা কেন হয়েছে তার সে নিজেও সেটা উপলব্ধি করতে পারে না। চোখের সামনে যখনই ভাসে ভিহান ভাই কামিলি আপুর কাছাকাছি থেকে আহ্লাদ নিয়ে কথা বলেছে তখনি ভেতরটা অস্থির হয়। অজানা এক অভিমান তাকে বলে ভিহান ভাই এর থেকে দূরে থাকতে। ক্ষীণ মন খারাপ হৃদয়ে ঝেঁকে বসে। এমন হওয়ার কারণও তার অজানা।

ডোরা গেলো কোথায়? ও তো একা বাড়ির গেইটের বাহিরেই যায় না। তবে? একমাত্র ভিহান ভাই এর ঘরে দেখা হয়নি। আচ্ছা লোকটা কি তাকে উনার কাছে যাওয়ার জন্যে বাধ্য করতেই ডোরা কে নিজের কাছে রেখেছে? রাহার কপাল কুঁচকে আসে। কিন্তু লোকটা তো ডোরা কে এত পছন্দ করে না। সবসময় নিজের থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। কাছে ঘেঁষতে চাইলে নিষ্ঠুর পাষাণের মতো তাড়িয়ে দেয়। তবে?
রাহা কিছুক্ষণ ভিহান ভাই এর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ভাবে। নিজেকে আর বুঝাতে না পেরে শক্ত মনেই দরজায় টোকা দেয়। ভেতর থেকে জাঁদরেল লোকটার গভীর কন্ঠ শুনা যায়,

“দরজা খোলা।”

রাহা ঢোক গিলে নিজেকে শক্ত করল। ওই খাডাস লোকটার সামনাসামনি হবে না সে। ঢুকবেই না উনার রুমে। কি ভেবেছে সে যখন যা বলবে তাই হবে?

রাহা নিজেকে শক্ত দেখানোর অভিনয় করে গলা কাঁশল। রুমে না ঢুকে দরজার সামনে গিয়ে বড় গলায় বলল,

“ডোরা, আমার সোনাবাচ্চা। কোথায় তুই? মাম্মাম ডাকছে। জলদি আয়।”

ভেতর থেকে কোনো কথা শুনা যায় না। ডোরার কোনো আওয়াজও পাওয়া যায় না। রাহা একটু সময় অপেক্ষা করে। কিন্তু ডোরা আসে না ভিহান ভাইয়েরও সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না। গলাটা রুমে ভেতর বাড়িয়ে দিতে দিতে বলে,

“ডোরা, মা..”

কথা শেষ করার আগেই একটা হাত ঝড়ের গতিতে তার হাতটা ছু মেরে টেনে আনে রুমের ভেতর। চোখের পলকে অন্য হাতে দরজা লাগিয়ে পাশের দেওয়ালেই চেঁপে ধরে শক্ত করে। ঘটনাটা এত দ্রুতগতিতে হয়ে গেলো যে রাহা কিছু না বুঝে আতঙ্কে খিঁচে রইল দেওয়ালের সাথে চেঁপে। নিশ্বাসটাও বুকের গহীনে আটকে রইল।

ভিহান ওর পিছনে হাত গলিয়ে রাহার লম্বা চুল পেঁচিয়ে নেয় নিজের হাতে। মুখটা একটু উপরে তুলে হিসহিসিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“সাহস খুব বেড়েছে না তোর? আমাকে ইগনোর করিস কোন কলিজায় ইডিয়েট?”

চুলের ব্যথায় নিভু গলায় বলে রাহা, “আহ, লাগছে। ছাড়ুন আমার চুল।”

এক হাতে ভিহান ওর চুল পেঁচিয়ে রেখেছে। অন্য হাত দিয়ে ওর থুতনি উপরে তুলে জানতে চায়,

“আগে আমার প্রশ্নের জবাব দে।”

“ভা..ভালো হচ্ছে না কিন্তু ভিহান ভাই। আমার চুল ছাড়ুন। আমি কিন্তু ব..বড়বাবার কাছে বিচার দিবো।”

“তোর বড় বাবা কি করবে আমার? তুই আমাকে ইগনোর করছিস কেন সেটার জবাব দে আগে। এরপর দুনিয়ার সবার কাছে গিয়ে বিচার চাস।”

রাহা জবাব দেয় না। নিজেকে ছাড়ানোর জন্যে নড়াচড়া করে। কিন্তু পাষাণ লোকটার থেকে ছাড়া না পেয়ে দমে যায়। রাহা কে চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভিহান চুলে ওর হাতের বাঁধন ঢিল করে দেয়। নরম সুরে বলে,

“তাকা আমার দিক।”

রাহা তাকায় না। চুপচাপ নিচু মাথায় দাঁড়িয়ে থাকে। ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ভিহান কিছুক্ষণ সবটা পর্যবেক্ষণ করে। এরপর পেঁচিয়ে ধরা চুল থেকে হাতটা খুলে আলতো করে ঘাড়ের পিছনে গলিয়ে দেয়। নিচু মুখটা কিছুটা উপরে তুলে নিজের দিকে। কোমল স্বরে বলল,

“রাহা তাকা আমার পানে। কি হয়েছে বল?”

এমন নরম নরম কন্ঠ শুনে আহ্লাদী রাহার কেন যেন কান্না পেলো। নিজের কান্না আটকানোর জন্যে নাক টানতে টানতে বলল,

“আমার.. আমার ডোরা কে দিয়ে দিন। আমি ঘর..ঘরে যাবো।”

রাহার কান্না আটকানোর দৃশ্যটা ভিহান এক নজরে দেখে গেলো। স্মিত হাসলোও বোধহয় ওর আহ্লাদী দেখে। তবে সেটা রাহা দেখতে পেলো না। ভিহান নরম গলায় বলল,

“কি হয়েছে পাগলি? বল আমায়। রাগ করেছিস আমার উপর?”

“….

“কিছু করেছি আমি?”

“…..

“চুপ করে না থেকে বল কি হয়েছে। রেগে আছিস কেন জেদ্দি মেয়ে?”

রাহা নাক টানে অনবরত। যেন এখুনি নাকের পানি তে ভেসে একাকার হবে মেয়েটা। বারবার জিজ্ঞেস করার পরও যখন রাহা মুখ ফুটে কিছু না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। তখন ধৈর্যশীল ভিহানও দীর্ঘশ্বাস ফেলে। অদম্য সাহসী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সৈনিক টাও বাচ্চা একটা মেয়ের কাজে নিজের পরাজয় স্বীকার করে বলে,

“ঠিক আছে হয়তো আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়েছে। এবার তাকা আমার দিকে। অনেক চকলেট দিবো আদুরী।”

ভিহান ভাই এর মাঝেমাঝে এই আদুরী ডাকটা এত মনোমুগ্ধকর আর আদর আদর লাগে যে হৃদয় ছোঁয়ে যায় শীতল আবেশে। কিন্তু এই মুহূর্তে চুপ করে থাকলো না লোভী রাহাও। নাক ফুলিয়ে হুট করে শক্ত গলায় জবাব দিলো সে,

“কক্ষনো না। আমি আপনার থেকে চকলেট এই জীবনে নিবো না। রাহা প্রমিস করেছে।”

রাহার লাল নাক ফুলানো ভাব আর দৃঢ়ভাবে কথায় থমকায় ভিহান। ভ্রু আর কপাল একেবারে কুঁচকে ওঠে ওর। সেকেন্ড কয়েক গভীর নয়নে দেখে রাহার জেদি ভাবটা। কথায় আছে বুদ্ধিমানের জন্যে ইশারায় যথেষ্ট। ভিহানের বিষয়টা চট করে ধরতে সময় লাগলো না। নিজের ভাবনায় ঠোঁট কামড়ে হাসল।

এবার কিছুটা ধারালো গলায় বলল, “এদিক তাকা স্টুপিড।”

লোকটার এই শাণিত কন্ঠ চিনা রাহার। তাই বেশি সময় নষ্ট না করে রঙ্গিম চোখ নিয়ে তাকায় ভিহানের দিকে। ভিহান কিছুক্ষণ নীরবে চোখের তৃষ্ণা মিটিয়ে বলল,

“কামিলির সাথে আমাকে দেখে কি জেলাস ফিল করছিস তুই?”

কপাল কুঁচকে বিস্মিত ভাবে তাকালো রাহা।
“জেলাস? জেলাস ফিল করতে যাবো কেন আমি?”

“তাহলে ইগনোর করছিস কেন?”

“করছি না।”

“আমি দেখছি তুই করছিস।”

“না।”

“তাহলে বিকেলে আমাকে দেখে সিঁড়ির ওপাশে কেন গেলি? আমি ডাকার পরও কেন আসলি না?”

“….

“কিরে জবাব দে।”

“আমার ডোরা কে দিয়ে দিন। আমি চলে যাবো।”

ভিহান রাহার মুখটা দেখে নিয়ে চুপচাপ এগিয়ে গেলো। নিজের কার্বাড খুলে দিতেই ধবধবে সাদা লোমশ ডোরা মোটা লেজ নাড়াতে নাড়াতে দৌড়ে এগিয়ে গেলো নিজের মায়ের কাছে। রাহা হতবাক রূপে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। মানে কতবড় খচ্চর খবিশ একটা লোক হলে তাকে এই রুমে আনার জন্যে তুলতুলে ডোরা কে নিজের কার্বাডে লুকিয়ে রাখে? ডোরা মায়ের কাছে এসে ঘেঁষাঘেঁষি করতেই রাহা দ্রুত ওকে কোলে তুলে নিলো।

“আমার সোনা মা। কতক্ষণ তোকে ডেকেছি। তুই এখানে কেন এলি? ওই কারখানাটার ভেতরে থাকতে তোর কষ্ট হয়েছিলো নারে মাম্মাম?”

রাহা হাত বুলাতে বুলাতে ডোরাকে চুমু খায়। তা দেখে দাঁত কটমট করে ওঠে ভিহান। এক ঠুনকো হিংসেয় শরীর জ্বলে। ক্ষিপ্ত ভঙ্গিতে রাহার আর ওর কোলে থাকা ডোরার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে,

“শালা বিড়ালের বাচ্চা। এখন পর্যন্ত ইডিয়েট টাকে না বড় করতে পারলাম আর না কলিজায় ঢুকিয়ে একটু আদর করতে পারলাম। অথচ তোকে বাচ্চা বানিয়ে বসে আছে। আবার ওর কোলে বসে আদরও খাচ্ছিস। স্টুপিডের বাচ্চা একটা স্টুপিড বিড়াল।”

রাহা নাক ফুলিয়ে কাঁদো কন্ঠে জিজ্ঞেস করে, “আপনি আমার ডোরা কে ওখানে আটকে রেখেছিলেন কেন?”

“তোকে এখানে আনার জন্যে।”
ভিহান ভাই এর সহজসরল স্বীকারোক্তি দেখে রাহার মুখ হা হয়ে গেলো। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইল সে।

“এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন ইডিয়েট?”

“আমাকে এখানে আনার জন্যে আপনি ওই নিষ্পাপ ডোরাকে এমন শাস্তি দিবেন?”

“কান না টানলে যে মাথা আসে না।”

রাহা স্তব্ধ হয়ে গেলো ভিহান ভাই এর এমন জবাব আর গা ছাড়া ভাব দেখে। নাক ফুলিয়ে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,

“আপনি খুব খারাপ ভিহান ভাই। খুব খারাপ।”

“আই নো। বাট সেটা বুঝতে তোর সময় দরকার। বড় হওয়া প্রয়োজন।”

রুষ্ট কন্ঠে বলল রাহা, “আপনি কি দেখতে পান না ভিহান ভাই আই এম সেভেন্টিন।”

ভিহান প্যান্টের দুই পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ওভাবেই কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়া অনায়াসে বলল,

“অথচ ব্রেনের দিক দিয়ে টোটালি জিরো।”

রাগে দুঃখে চিৎকার করতে ইচ্ছা হলো রাহার। শুধু সামনে জল্লাদ টা আছে বলে সেটা পারলো না। সুতরাং বিরক্ত তিক্ত অভিব্যক্তি প্রকাশ করলো শুধু। যা দেখে নিগূঢ় ভাবে হাসল ভিহান। কিন্তু বুঝা গেলো না ঠোঁটটাও প্রসারিত হয়েছে কিনা!

ডোরা কিছু সময় নীল নীল চোখে মায়া মায়া নজরে তাকিয়ে দেখল নিজের মা কে। হয়তো জানতে চাইলো তার মাম্মাম রেগেছে কেন। অতঃপর শরীরের উম নিয়ে একটু সময় যেতেই নেমে পরার জন্যে ছটফট করল। রাহা ডোরা কে নামিয়ে দিয়ে বলল,

“ডোরা চল আমাদের রুমে। এখানে থেকে মুড নষ্ট করার দরকার নেই।”

ডোরা লোমশ লেজ নাড়িয়ে দুই কদম এগিয়ে গেলো। রাহা পা বাড়ানোর আগেই খপ করে ধরল ভিহান ওর কব্জি। মাকে চলতে না দেখে লেজ নাড়িয়ে ডোরা কি মায়া নিয়ে তাকালো ভিহানের দিকে। যেন নিষ্পাপ চাউনি দিয়ে বলতে চাইলো, “আমার মাম্মাম কে কেন আটকেছো তুমি?”

অথচ ডোরার নীলচে চোখের মায়া মায়া দৃষ্টি উপেক্ষা করে পাষাণ লোকটা ওর দিকে তর্জনী আঙ্গুল উঁচিয়ে বলল,

“লিসেন ডোরা ফোরা, তোর মাম্মামের সাথে আমার এডাল্ট কথা আছে। ইউ ক্যান গো নাউ।”

অবুঝ ডোরা নির্লিপ্ত চাউনি দিয়ে কিছুসময় তাকিয়ে রইল ভিহানের দিকে। অতঃপর ভিহান একটু জোরে “আউট” বলতেই বাচ্চাটা কেমন লেজ গুটিয়ে সামান্য দরজার ফাঁক দিয়ে চলে গেলো।

রাহা একেবারে বিমূঢ় হয়ে গেলো। ডোরা টাও হয়েছে মায়ের মতো। এই জাঁদরেল টাকে ভীষণ ভয় পায়। দেখেছো কিরকম চুপচাপ তাকে বাঘের কাছে রেখে চলে গেলো? সেলফিস বাচ্চা একটা।

ভিহান রাহার ভোতা মুখের দিকে তাকায়। হাসি আসতে চাইলেও আটকে রাখে। এমন সময় রাহা নির্বোধের মতো প্রশ্ন করলো,

“এডাল্ট কথাটা আবার কি ভিহান ভাই?”

ভিহানের এতো হাসি পেলো যে নিজের ঘাড়টা বাঁকিয়ে মুখের হাসি আড়াল করলো। সে তো ভুলেই গিয়েছে তার প্রেয়সী যেনতেন কোনো প্রেয়সী নয়। আস্তো স্টুপিড একটা বলদ। এই নাদান বাচ্চাটাকে যে সবকিছুই শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে হবে। লম্বা শ্বাস ফেলে শক্ত গলায় বলে ভিহান,
“এবার বল তোর রেগে থাকার কারণ কি কামিলি?”

রাহা ইতস্তত বোধ করে।

“কা..কামিলি আপু হতে যাবে কেন?”

“নয় কি?”

“না।”

“গুড তবে আয়।”

“কোথায়?”

ভিহান জবাব দেয় না। রাহার হাত টেনে নিজের কার্বাডের একটা ড্রয়ার খুলতেই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায় রাহা। চোখ বড়বড় করে চোয়াল ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সর্বনাশ ভিহান ভাই এর ড্রয়ারে এত চকলেট কেন? তাও আবার সব তার পছন্দের চকলেট?

রাহা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল ড্রয়ার ভর্তি চকলেটের দিকে। বিস্ময় নিয়ে বলল, “ভিহান ভাই আপনি তো চকলেট খান না?”

“নো।”

“তাহলে এত চকলেট কেন আপনার ড্রয়ারে?”

“একটা ইডিয়েটের জন্য।”

রাহা সরু চোখে তাকালো ভিহান ভাই এর দিকে। ঠোঁটের কোণটা খানিক স্মিত দেখে সন্দেহ করলো সে। কথাটা কি লোকটা কোনো ভাবে তাকে বলল?

কপাল আরো কুঁচকে এলো রাহার। মনে পড়ল সেই দৃশ্য। আবারও অভিমান টা গাঢ় হলো। মেকি রাগ দেখিয়ে ঘাড় ফিরিয়ে নিলো ও।

ভিহান রাহার সবচেয়ে পছন্দের চকলেট টা ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “ধর।”

রাহা হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মেয়েটার ছোট্ট ছোট্ট জেদ বড্ড ভালো লাগে ওর। তাই নিজেই প্যাকেট টা ছিঁড়ল। সেটা রাহার সামনে ধরে বলল, “বাইট দে।”

“….

“ইডিয়েট কি বলছি তোকে?”

“খাবো না।”

“হোয়াই?”

রাহা জবাব দেয়না। লোভী মেয়েটা মনে পাথর চাঁপা দিয়ে চকলেট না নিয়েই ফিরে যেতে চায়। তখুনি হাত টেনে নিজের কাছে আনে ভিহান। ফিসফিস করে জানতে চায়,
“আগে বল আমার থেকে চকলেট না নেওয়ার কারণ কি?”

রাহা জবাব দেয় না। ভিহানের উদ্দেশ্য সফল হয়। মেয়েটা সত্যিই কামিলির সাথে তাকে দেখে জেলাস? ওকে চকলেট দিয়েছে বলে আর তার থেকে চকলেটই নিবে না চকলেট লোভী রাহা? ভিহান ওর পুরো মুখে নজর বুলাতে বুলাতে স্ফীত হাসে। নিজের ঘাড়টা খানিক ঝুঁকিয়ে রাহার মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ায়। হিসহিস করে বলে,

“ট্রাস্ট মি, তুই যে আমার উপর রাগ করেছিস এই কারণে আমি বিন্দুমাত্র রেগে নেই। বরং খুশি হয়েছি।”

ভিহান ভাই কে নিজের এতো কাছে দেখে শ্বাস আটকে আসে রাহার। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থেকে পলক ঝাপটায়। ক্ষীণ আওয়াজে প্রশ্ন করে,

“ক..কেন?”

ভিহান ঠোঁটটা অতি সামান্য টানলো পিছনের দিকে। এরপর ওর নাকটা তর্জনী দিয়ে ছুঁয়ে আবারও সোজা হয়ে দাঁড়ালো। বেশ স্বাভাবিক কন্ঠে জবাব দিলো,

“নিজে খুঁজে বের করিস। অর্জন করে নেওয়া জিনিসের তৃপ্তি অন্যরকম। মূল্যটাও হয়ে ওঠে অমূল্য।”

রাহা চুপচাপ শুনে যায় ভিহান ভাই এর কথা। মানেটাও খুঁজার চেষ্টা করে সে।

ভিহান এবার সটান দাঁড়িয়ে থেকে তর্জনী আর বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে আলতো করে রাহার গালের দুই পাশে থুতনি টা চেঁপে ধরে। মুখটা খানিক উপরে তুলে গা হীম করা কন্ঠে বলে ওঠে,

“এদিক তাকা। আমার চোখের দিকে।”

রাহা ঢোক গিলে তাকায় ভিহান ভাই এর শান্ত অতল গভীর চোখের দিকে। গা টা কেমন কেঁপে ওঠে।

নরম কন্ঠে বলে ভিহান ভাই, “তোর কি মনে হয় আমি কখনো মিথ্যে বলি?”

রাহা বোকার মতো দুই পাশে মাথা নাড়ায়। ভিহান সেভাবেই ওর দিকে ঘার নুয়িয়ে জানায়, “বকা দিয়েছিলাম ওকে। তাই চকলেট দিতে গিয়েছি। স্রেফ সান্ত্বনা দিতে। আর কিচ্ছু না। এর বেশি কিছু ভাবিস না।”

রাহা জবাব দেয় না। ভিহান ভাই এর দিকে তাকিয়ে থাকে। সে নিজেও এর বেশি কিছু ভাবেনি। শুধু একটা খারাপ লাগা কাজ করেছে তার ভেতর। একটা অস্বস্তি অনুভব করেছে দৃঢ় ভাবে।
নিজের হাত ছাড়িয়ে চকলেট টা এগিয়ে দিলো ভিহান, “চকলেট খাবি নাকি সামি রাফি কে দিয়ে দিবো?”

রাহা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। চকলেটের ঘ্রাণ তার জিহ্ব পানিতে টইটুম্বুর হয়ে গেলো। সে ছু মেরে নিয়ে নিলো চকলেট টা। আর কিছু না ভেবেই কামড় দিয়ে মুখ ভর্তি চকলেট নিয়ে নিলো। আয়েশ করে খেতে খেতে সেটা এগিয়ে দিলো ভিহান ভাই এর দিকে। বুক টানটান করে দাঁড়িয়ে থাকা ভিহান গম্ভীর স্বরে বলল,

“আজ না। অন্য দিন অন্য ভাবে নিবো।”

অন্য ভাবে? কিভাবে? রাহার ভ্রু সংকুচিত হলো। তবে মুখ নাড়ালো কমলো না। ভিহান গভীর নয়নে ওর ঠোঁট নাড়ানো দেখে শুকনো ঢোক গিলল। গলার এডামস অ্যাপল টা উঠানামা করলো ওর। অসহায় বোধ করলো ভিহান।

মুখ ঘুরিয়ে রুক্ষ গলায় বলল এবার, “এখন যা।”

রাহাও চকলেট হাতে নিয়ে চলেই যাচ্ছিলো। পরক্ষণে এসে আদুরে ভঙ্গিতে আবদার জুড়ে বসল,

“চকলেট গুলি নিয়ে নেই ভিহান ভাই।”

আপন মনে জবাব দিলো ভিহান, “এমন আদুরে স্বরে আবদার করলে চকলেট কেন আমার জানটাও দিয়ে দিবো তোকে আদুরী।”

“ও ভিহান ভাই নিয়ে যাই?”

মুখে কিছু না বলে ভিহান ভাই সটান দাঁড়িয়ে থেকে ইশারায় দেখাতেই খুশিতে আত্মহারা হলো মেয়েটা। খুব চেষ্টায় দুই হাতে যতগুলি ওঠল সেগুলিই তুলে নিলো। বেশিরভাগ ড্রয়ারে পরে থাকতে দেখে অসহায় করুণ মুখে পাশে থাকা ভিহান ভাই এর দিকে তাকাতেই তপ্ত শ্বাস ঝাড়ে ভিহান। বিড়বিড় করে বলে, “ইডিয়েট।”

এরপর শক্ত গলায় জানায়, “আমি দিয়ে আসবো তোর রুমে। এবার যা।”

রাহা উচ্ছ্বাস আর হাত ভর্তি চকলেট নিয়ে চলে গেলো। সেদিকে তাকিয়ে ভিহান ফিসফিস করে বলল, “আমার হৃদয় আর অস্তিত্বের সবটা জুড়ে শুধু তোর বিচরণ বাটারফ্লাই।”

সকাল থেকে বাড়িতে হইহুল্লোড় শুরু হয়েছে। কারণ ভিহান ভাই জানিয়েছে আজ বিকেলে ঘুরতে নিয়ে যাবে। কাজিন মহলে যেন ঈদের আনন্দ শুরু হয়েছে। অথচ কেউ ঘুণাক্ষরের জানতে পারলো না এই ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান কেন করা হলো। এতে কোন ফাঁদ লুকিয়ে রাখলো কাঠখোট্টা চতুর বুদ্ধিদীপ্ত একটা লোক।

চলমান….

পাখিরা কিছুদিন পর আমার পরীক্ষা শুরু হবে। এই মাসেই। তাই গল্প দিতে আমার লেইট হবেই। মানতে পারলে পড়বেন না পারলে পড়বেন না। কিছুদিন আমি দেরি করে গল্প পোস্ট করলে যদি আপনাদের সমস্যা না হয় তবে আপনাকে স্বাগতম। না হলে শেষ হলে পড়বেন। আমি গল্প না দিলে আমায় কথা শুনাতে পারবেন অথচ দিলে আপনারা রেসপন্স করবেন না এটা আসলেই অন্যায় করা আমার সাথে। টাস্ক পূরণ হলে তাড়াতাড়ি দিতে আগ্রহ পাবো। নয়তো আমি আমার সময় মতোই দিবো। কারণ আমি জানি প্রতি পর্বে কত ভিউ হয় কত রীচ হয়। অথচ রিয়েক্টের বেলায় আপনাদের কৃপণতা। তাই রিয়েক্ট তাড়াতাড়ি পূরণ করে দিবেন তাহলে তাড়াতাড়ি গল্প দেওয়ার আমি খুব চেষ্টা করবো। নয়তো আমি আমার সময় মতোই গল্প দিবো। আমার কথা রুক্ষ মনে হলে আমি দুঃখিত।

হ্যাপি_রিডিং

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply