লাবিবা ওয়াহিদ
[অন্যত্র কপি সম্পূর্ণ নিষেধ]
কেনাকাটার জন্যে মৌরি এশাকে নিয়ে বেরিয়েছে। ওরা দুই বোন রিয়াজ সাহেবের চেম্বারের বাইরে দাঁড়ানো। কথা ছিল রিয়াজ সাহেবের সাথে বের হবে, কিন্তু দেখা যায় এই কাঙ্খিত মুহূর্তেই হঠাৎ রোগী এসে রাজি হয়। এখন সে চাইলেও না করতে পারলেন না রোগীকে। সামনে টাকা-পয়সা ভালোই খরচ হবে, তাই রোগী চাইলেও হাতছাড়া করা যায় না। অগত্যা তিনি মেয়েদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বললেন। কিন্তু এশা এদিকে চরম অধৈর্য, সে এই রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। তাকে ঠান্ডা জুস খাওয়াতে হবে, পাইপওয়ালা। বোনকে শান্ত করতে কাছাকাছি এক দোকান থেকে এশাকে জুস কিনে দিতেই চেম্বারের সামনে এক রিকশা থেকে থামল। এশা নিবিড়কে দেখে নিবিড় ভাই বলে চেঁচিয়ে উঠল।
নিবিড় ওদের দেখে এগিয়ে এলো। এই প্রথম নিবিড় আর মৌনো সামনা-সামনি। অন্তত নিবিড় আসার পর থেকে। মৌনো এতদিন পর নিবিড়কে এত কাছ থেকে দেখে শব্দ খুঁজে পেল না। কীভাবে কথা শুরু করবে সেটাও ভুলে গেল। নিবিড় একপলক মৌনোর দিকে তাকিয়ে বলল,
–“আঙ্কেল কল করে বলল তোদের শপিং-এ নিয়ে যেতে। আমার সাথে চল।”
মৌনোর নিঃশ্বাস আটকে গেল গলায়। নিবিড়ের সাথে সে শপিং করতে যাবে? এই অনাকাঙ্খিত খবরে সে অবাক হওয়ার সুযোগ পেল না। কোনো রকমে বলল,
–“আমি বাবার থেকে টাকা নিয়ে আসছি।”
নিবিড় শুধু ইতিবাচক মাথা নাড়াল। মৌনো যেতে যেতে শুনল পেছনে। এশা জুস খেতে খেতে নিবিড়কে বলছে,
–“ভাইয়া তোমার সেক্রেটারি কামরুল কোথায়?”
নিবিড় ভ্রু কুঁচকে বলল,
–“সেক্রেটারি?”
–“হুঁ। কামরুল ভাই-ই তো আমাকে মুখস্থ করাল সে সেক্রেটারি। নিবিড় ভাইয়ার সেক্রেটারি।”
নিবিড় আশপাশ তাকিয়ে বলল,
–“ও আমার সেক্রেটারি নয়।”
এশায় চিন্তায় পড়ে গেল। তাহলে কী কামরুল নিবিড় ভাইয়ের চ্যালা হয়? কিন্তু “চ্যালা” শব্দটা কেমন পচা শোনায়। এগুলা তো গুন্ডাদের জন্য ব্যবহৃত হয়। চ্যালা ছাড়া আর কি বলা যেতে পারে? ভাবতে ভাবতে তার জুসের প্যাকেট খালি হয়ে গেল। মুহূর্তেই সে কামরুলের ব্যাপারটা ভুলে জুসের চার মাথা ছিঁড়ল। এরপর পায়ের কাছে রেখে সেটায় লাফ দিল। মুহূর্তেই জুসের ভেতর থেকে ঠাস করে শব্দ হলো। সেই শব্দ পেয়ে এশা খিলখিল করে হেসে দিল।
মৌনো টাকা নিয়ে আসতেই নিবিড় রিকশা ডাকল। তার মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল চট্টগ্রামের কথা। তারা একই রিকশায় বসেছিল। নিবিড় তার খুব কাছে।
মৌনো অস্ফুট স্বরে বলল,
–“রিকশা কেন?”
কিন্তু সে বাকিটা বলার আগেই নিবিড় আরেকটা রিকশাও ডাকল। প্রথমটার দিকে ইশারা করে নিবিড় বলল,
–“উঠ।”
মৌনো ঠোঁট লালা দিয়ে ভেজাল। ভাগ্যিস পরের কথাগুলো বলেনি যে, নিবিড় কেন তার সাথে বসবে? বললে চরম মানহানি হয়ে যেত। মৌনো কোনোপ্রকার জবাব না দিয়ে এশাকে নিয়ে রিকশায় উঠল। নিবিড় অতি যত্নে হুড তুলে দিল। মৌনোর ওড়না রিকশার বাহির থেকে ভেতরে এনে দিল। মৌনো মুগ্ধতা চেপে বলল,
–“হুডের কী দরকার?”
–“রোদ লাগবে।”
বলেই নিবিড় পেছনের রিকশায় উঠে পড়ল। রিকশা চলতে শুরু করল। মৌনোর হৃদপিণ্ড অস্বাভাবিক গতিতে ওঠানামা করছে। বারবার মনে পড়ছে নিবিড় তার হুড তুলে দিয়েছে, ওড়না গুছিয়ে দিয়েছে। লোকটা গম্ভীর ছিল, গম্ভীরই থাকুক না.. তার কেন আবার জেন্টলম্যান হতে হবে? মৌনো শক্ত করে বুক খামচে বসে রইলো। এই অনুভূতিতে সে কবে যেন পাগলপ্রায় হয়ে যায়। এশা তখন চারিপাশ দেখতে ব্যস্ত৷ তার আপার দিকে একদমই ধ্যান নেই। পরপর হুডের ফাঁকা দিয়ে মৌনো নিবিড় কয়েকবার করে দেখে নেয়। নিবিড় মেরুদণ্ড শক্ত করে এক রিকশায় বসা। তার যা উচ্চতা, এতে রিকশার হুড তুললেও বেশ ভোগান্তিতে পড়বে। মাথা আঁটবে না। তা ভেবে মৌনো মুচকি হাসল। কত ধরণের খেয়াল যে আসে তার মাথায়।
মৌনো পথে জাবিরকেও দেখল। কিন্তু সে অন্য কাজে ব্যস্ত, রাস্তার দিকে বা মৌনোর দিকে খেয়াল করেনি। মৌনো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। আজকাল জাবির আবারও তার থেকে দূরে দূরে থাকা শুরু করেছে। কারণটা সম্ভবত নিবিড়। মৌনো খেয়াল করেছে যখনই নিবিড় বেলতুলিতে থাকে জাবির কোনো অকাজ করতে পারে না। মৌনোর ধারেকাছে তো একদমই ঘেঁষে না। এলাকার বাইরে হলে উত্যক্ত করে, আর নয়তো না। সে আবারও হুডের পেছন দিয়ে নিবিড়কে দেখল। বেশ ভাবসাব নিয়ে এখনো সেভাবেই বসা, আশপাশ ভালো করে নজরে রাখছে। মৌনো হাসল। মানুষটা নিজেও হয়তো জানে না, শুধুমাত্র তার উপস্থিতি দিয়ে সে কিভাবে মৌনোকে সুরক্ষা দিচ্ছে। মানুষটার কাছে সে কতটা সুরক্ষিত, সেটাই ভেবে যাচ্ছে। নিবিড় আজীবনের জন্য তার সুরক্ষা কবজ হলে কি মন্দ হতো?
মলে পৌঁছাতেই লিষ্ট অনুযায়ী মৌনো বেশ শপিং করল। এর মাঝে রিমঝিম কল করে জানাল দ্রুত বাড়ি ফিরতে, মেহমান এসেছে। নিবিড় তা শুনে চিন্তিত হয়ে বলল,
–“তুই না বলেছিলি পুরান ঢাকার কাচ্চি খেতে যাবি?”
মৌনোকে চরম হতাশ দেখাল। আজ কতদিন পর তার আবারও সুযোগ এসেছিল নিবিড়ের সাথে সময় কাটানোর। কিন্তু মুহূর্তেই তার সব পরিকল্পনা ধূলিসাৎ হয়ে গেল। অগত্যা, শপিং শেষে নিবিড় ওদের আবারও রিকশায় উঠিয়ে দিল। হঠাৎ কী মনে করে নিবিড় রিকশাকে অপেক্ষা করতে বলে কাছেরই এক দোকানে ঢুকে পড়ল। সেখান থেকে পানি, জুস, আইসক্রিম এগুলা কিনে আনল৷ লম্বা ধাপ ফেলে সে মৌনোর কাছে এসে সেগুলা ধরিয়ে দিয়ে বলল,
–“তুই শুরু থেকেই পানি বা অন্যকিছু মুখে দিসনি। পানিটা খা, হাইড্রেশন পাবি।”
মৌনো অবাক হলো। নিবিড় এতকিছু খেয়াল রেখেছে? মৌনো পানির মুখটা খুলতে চাইল। আজ এত শক্ত লাগছে কেন? নাকি নিবিড়কে দেখে তার সব শক্তি গায়েব হয়ে গেছে? নিবিড় ব্যাপারটা লক্ষ্য করে বলল,
–“দেখি, আমাকে দে।”
নিবিড় বোতলটা নিজের হাতে নিয়ে পানির মুখটা খুলে দিল। এশা তা দেখে নিজের জুসটাও নিবিড়ের হাতে ধরিয়ে দিল,
–“আমারটাও খুলে দাও ভাইয়া।”
নিবিড় খুলে দিল। পরপর সে রিকশার ভাড়াটাও মিটিয়ে দিল। মৌনোর দিকে তাকাতেই বলল,
–“তোরা যা তবে। মামা, সাবধানে চালাবেন। তাড়াহুড়োর কোনো দরকার নেই।”
রিকশা যখন চলতে লাগল মৌনো তখন হুডের পেছন দিয়ে বারবার নিবিড়কে দেখতে লাগল, ঠিক যতটা তাকে দেখা যায়।
বাড়ি ফিরে মৌনো চমকে উঠল। মেহমান আর কেউ নয়, ইয়ামিন আর তার স্ত্রী সালমা। মৌনো মামাকে দেখে ভয়ে পালাতে নিলে ইয়ামিন তার ব্যাগ ধরে টান দিলেন। চোখ-মুখে রাগের ফুলকি তুলে বললেন,
–“এই বেয়াদব! পালাচ্ছিস কোথায়? এতদিন তো দূরে ছিলাম, এবার তো মুখোমুখিম তুই কী ভাবছিস আমার হাত থেকে বাঁচা এত সোজা? নে ধর, চলে এলাম। এবার কই যাবি যা!”
মৌনো আমতা আমতা করে বলল,
–“বাইরে থেকে এসেছি মামা। একটু রুমে গিয়ে ফ্রেশ হতেই তো যাচ্ছিলাম।”
ইয়ামিন দাঁতে দাঁত চেপে বললেন,
–“বাহানা দিচ্ছিস? কোনো বাহানা চলবে না। তুই এক্ষুণি আমার সামনে এসে আমার সব প্রশ্নের জবাব দিবি। নয়তো রোদে দাঁড় করিয়ে তোর মুখ পাতিলের মতো কালো করে দিব।”
–“তাই করে দাও মামা, অনেক উপকার হতো।”
–“ওহ, ওটা তোর কাছে সহজ মনে হয়? ঠিক আছে তবে.. নিচতলা থেকে ছাদ, আবার ছাদ থেকে নিচতলা এভাবেই উপরনিচ করবি।”
এই পর্যায়ে মৌনোকে করুণ দেখাল। সে সামান্য বোতলের মুখ খুলতে পারে না সেখানে সে এই আজগুবি শাস্তি পেলে তো তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। অগত্যা, মামার থেকে পার পেতে সে রাজি হলো। পরপর তার মামীর দিকেও তাকাল। মৌনো তাকাতেই সালমা মুখ ফিরিয়ে নিল। এতে মৌনো ঢের বুঝে নিল, সালমা এখনো তাকে অপছন্দ করে। মৌনো আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। অনেক বলেকয়ে ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হওয়ার অনুমতি পেল সে। আধঘণ্টা পর গোসল সেরে এসে দেখল নিবিড় এসেছে। হাতে তার কয়েক প্যাকেট কাচ্চি। কাচ্চিগুলো সেই পুরান ঢাকার, সেই হোটেল নিবিড় ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ করে। মৌনো চমকে গেল, সে আশা করেনি নিবিড় তাদের জন্য কাচ্চি আনবে। নিবিড়ের সাথে তার চোখাচোখি হলো। নিবিড় মৌনোর দিকে তাকিয়ে বলল,
–“কাচ্চি খেতে চেয়েছিলি, এবার খেয়ে নে। আমি আসি।”
রাতে রিমঝিম আর রাহাত কলে কথা বলছে। রিমঝিম কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে বলল,
–“তোমাকে কিছু বলার ছিল।”
ওপাশ থেকে রাহাত প্রফুল্ল মনে বলল,
–“নিশ্চয়ই, বলে ফেলো।”
রিমঝিম কিছুটা ধাতস্থ হয়ে বলল,
–“কথাগুলো আমার পাস্টের ব্যাপারে। আমার মনে হলো বিয়ের আগে তোমার জানা দরকার।”
মনে হলো ওপাশ থেকে রাহাত নড়েচড়ে বসল। তবুও গলা তার আগের মতোই।
–“বলো রিমঝিম। আমি শুনছি।”
রিমঝিম ভরসা পেল। সে সময় নিয়ে বলতে শুরু করল,
–“আমি যখন ইন্টারে ছিলাম তখন আমার প্রেম ছিল “আবির” নামের এক ছেলের সাথে। ছেলেটা ছিল বখাটে। আমাদের এলাকার। তবে আমাকে বেশ সম্মান দিত। ভালোও বাসত। অল্প বয়সের আবেগ আমাকে সবকিছু ভুলিয়ে দিয়ে রঙিন জীবন দেখাতে শুরু করল। ওর সাথে আমার লুকোচুরি প্রেম, কলেজ থেকে লুকিয়ে ঘুরতে যাওয়া, ঝালমুড়ি খাওয়া সবই হয়েছিল। কিন্তু একদিন হঠাৎ বাবার কাছে আমার বিয়ের প্রস্তাব এলো। প্রায়ই আসত, তবে সেবার মনে হয়েছিল বাবা রাজি হয়ে যাবেন। আমি ভয় পেয়ে গেলাম, আবিরকে জানালাম। আবির দুই একদিন ভেবে আমাকে বলল যেন পালিয়ে আসি।”
রিমঝিম থেমে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। যেন গলা শুকিয়ে কাঠ কাঠ। ওপাশ থেকে নীরবতা। সে আবারও শুকনো গলা নিয়েই বলতে শুরু করল,
–“আমি আরও ভয় পেয়ে যাই, পালিয়ে যাওয়াটা আরও বড়ো সাংঘাতিক বিষয়। পালাব কেন্? আবির কী পারে না তার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিতে? কিন্তু আবির আমাকে বোঝাল, বাবা কখনোই আমাদের সম্পর্ক মানবে না। উলটো আমাকে জোর করে ধরে কোনো এক বড়োলোক পরিবারে বিয়ে দিয়ে দিবে। ওর ব্রেইনওয়াশ আমাকে ভালোই প্রভাবিত করল। আমি ওর কথা মতো দিকবিদিক না তাকিয়ে কিছু জামা-কাপড় আর স্বর্ণ নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। পালিয়ে গেলাম মধ্যরাতে। কিন্তু সেদিন যেই আবিরকে আমি চিনতাম সেটা সেই আবির ছিল না। সে সম্পূর্ণ অজানা একজন মানুষ।
আমরা যেদিন পালিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, আবির আমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে একটা নিরিবিলি গলিতে নিয়ে যায়। আমার অজান্তেই সে আমার কাছাকাছি আসে। তাকে আমি বোঝানোর চেষ্টা করি.. যে আমাদের বিয়ে হয়নি। কিন্তু..”
এমন মুহূর্তে রিমঝিমের গলা ভেঙে আসে। তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। সে কোনো রকমে নিজেকে শক্ত করে বলল,
–“তখন আমি আবিরের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে পারি। ওর উদ্দেশ্য ছিল আমাকে ফাঁদে ফেলে আমাকে সে ভোগ করে রাস্তায় ফেলে দিবে। আমার সৌন্দর্যের অহংকার সে ধুলোয় মিশিয়ে দিবে। সাথে যা স্বর্ণ, টাকা-পয়সা ছিল সেগুলোও নিয়ে যাবে। আমাকে খুব খারাপ ভাবে ছুঁয়েছিল ও। সেই মুহূর্তটা এত জঘন্য ছিল বলে বোঝাতে পারব না। কিন্তু আল্লাহর বিশেষ রহমতে ভয়াবহ কিছু হওয়ার আগেই নিবিড় ভাই, প্রণভ ভাইরা চলে আসে। ওরা আমাকে সুরক্ষা দেয়। সেই রাতেই কারো কোনো খবর ছাড়াই আমাকে ওরা নীরবে বাড়ি নিয়ে আসে। এলাকার মানুষ আজও জানে না, কী এক ভয়াবহ রাত কেটে গিয়েছিল। কি এক ঝড় বয়ে গিয়েছিল আমার ওপর দিয়ে। ভাগ্যিস, ওরা এসেছিল। আমাকে এক বড়ো বিপদ থেকে বাঁচিয়েছিল রাহাত। আমি তোমার হাত ধরে সেই রাত, সেই অতীত ভুলতে চাই। ভুলিয়ে দেবে না?”
®লাবিবা ওয়াহিদ
চলবে~~
[যারা গল্পটি পড়ছেন তারা রেসপন্স করবেন যেন বাকিদের ফিডেও গল্পটি পৌঁছায়। কেমন লেগেছে না জানালে আড়ি]
Share On:
TAGS: বেলতুলি, লাবিবা ওয়াহিদ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
বেলতুলি পর্ব ১৮
-
বেলতুলি পর্ব ৪
-
বেলতুলি গল্পের লিংক
-
বেলতুলি পর্ব ১
-
বেলতুলি পর্ব ১৫
-
বেলতুলি পর্ব ২
-
বেলতুলি পর্ব ১৪
-
বেলতুলি পর্ব ২২
-
বেলতুলি পর্ব ১০
-
বেলতুলি পর্ব ২৭