Golpo romantic golpo বেলতুলি

বেলতুলি পর্ব ২৭


বেলতুলি – [২৭]

লাবিবা ওয়াহিদ

[অন্যত্র কপি সম্পূর্ণ নিষেধ]

–“নিবিড় ভাইরে রত্না আপায় অনেক বিরক্ত করত বইলা ভাইয়ে আমারে দিয়া আপার মোবাইল চুরি করাইছে। আমার পরিচিত চোরই আপার মোবাইল ডোবাত নিয়া গিয়া ফালাইছে।”

মৌনো বিস্ময়ের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেল। তাহলে ওই মোবাইল কোনো চোরই চুরি করেনি? সব নিবিড়ের বুদ্ধি? নিবিড়কে দিয়ে এত কূটচালও হয়? অস্ফুট স্বরে আওড়াল সে,
–“কিহ?”

–“হ। রত্নারে ভাইয়ে দুই চোক্ষে দেখতে পারে না। খালাম্মার জন্যই এসব অইতেছে। ভাই বাড়ি থেইক্কা ভাগছেও রত্না আপার লেইজ্ঞাই। মনে অয় না এই বিয়ার নাটক বেশিদিন চলব! ভাইয়ে যা জিনিস।”


আজ নাহিয়ানের দাওয়াত মৌনোদের বাড়ি। যোহরের নামাজের পর একদম সময়মতোই চলে এসেছে সে। রাত আটটায় তার রাজশাহীর বাস। আগামীকাল সকালে গিয়ে শহরে পৌঁছাবে৷ চলে যেত আগামীকালই। কিন্তু রিয়াজ ডাক্তার এবং রাজিয়া শেখ তাকে খুব অনুরোধ করলেন। নিবিড়ের মতো করে নাহিয়ানকেও ছোট থেকে বড় হতে দেখেছেন ওনারা। মৌনোর আবার কেন যেন ছোটোবেলায় নাহিয়ানের সাথে খুব জমত। নিবিড় মৌনোকে মারলে নাহিয়ান প্রতিবাদ করত, মশিউর সাহেবকে দিয়ে নিবিড়কে সে মাইর অবধি খাইয়েছে। এমন কি যখন ওরা বাইরে খেলত, নাহিয়ান পুলিশের ভয় দেখিয়ে মৌনোর থেকে অন্যান্য দুষ্টু বাচ্চাদের দূরে রাখত। কিন্তু বড়ো হতে হতে সেসব শুধু মধুময় স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই ভাই-বোনের মাঝে দূরত্বের অদৃশ্য দেয়াল দাঁড়িয়ে গেছে। এর শুরুটা হয়েছিল নাহিয়ানের কলেজ জীবন থেকে। সে সারাক্ষণ পড়াশোনায় ডুবে থাকত। কোচিং, কলেজ, নিজের পড়াশোনা আর মাঝেমধ্যে খেলাধুলা ছাড়া আর কাউকে সময় দেওয়া হতো না। তবে ছুটির দিনে মাঝে মাঝে মৌনোর সাথে দেখা হত, আড্ডা হতো। কে বলত মৌনোর থেকে নাহিয়ান সবে তিন বছরের বড়ো?

নিবিড় আর নাহিয়ান দুজনই দুই মেরুর মানুষ। নিবিড় রাগচটা স্বভাবের হলেও নাহিয়ানকে কখনো রাগতে দেখা যায়নি। সে বেশ ভদ্র স্বভাবের, ঝামেলা করতেও দেখা যায়নি। বেশ শান্তিপ্রিয় ছোটো থেকেই। এমনকি তার মারপিটের রেকর্ডও নেই এলাকায়। নিবিড় ত একদম এলাকা চুষে ফেলেছে ছোটো থেকে। সেই ছেলে ডিফেন্সে গিয়ে এতটা শুধরে গেছে বেশ ভাবনার বিষয়। কেউ বলবেও না নিবিড় ছোটোবেলায় এতটা মারকুটে ছিল।

প্রায় মাস পাঁচেক পর মৌনোর সাথে নাহিয়ানের দেখা। মৌনো অনুভব করল তাদের সেই পুরানো সম্পর্কতে কেমন জড়তা এসে গেছে। বিষয়টা শুধু তার ক্ষেত্রেই নয়, নাহিয়ানের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। রাজিয়া শেখ বললেন,
–“এ কী, ভাইজান আসেনি?”

–“না। আব্বা অন্য কাজে নীলক্ষেতে গিয়েছে। তার হঠাৎ বই পড়ার শখ হয়েছে, এজন্য কিছুদিন যাবৎ বইয়ের লিষ্ট করে অবশেষে গেলেন।”

এর মাঝে রিয়াজ সাহেবও চেম্বার বন্ধ করে ফিরলেন। তার কোলে এশা। গরমে হাঁপিয়ে গেছে যেন। আসার পর থেকেই শরবত চাইছে। রাজিয়া শেখ এত আয়োজনের মাঝে মেয়ের তাড়া দেয়া দেখে বেশ বিরক্তই হলেন। আজ রিমঝিম নেই, এতদিন ছুটিতে ছিল দেখে এখন থেকে গ্যাপ না নেওয়ার প্রচেষ্টায় আছে সে। জুনায়েদ এখনো স্কুলে। রাজিয়া শেখ বলেছিলেন একটায় ছুটি নিয়ে চলে আসতে, সেই ছেলেরও এখনো খোঁজ-খবর নেই। কখন কী লাগবে তার কোনো ঠিক আছে? অগত্যা, মৌনো তাই মায়ের পাশে থেকে গেল। সকাল থেকে যতটুকু পারছে মাকে সাহায্য করছে। এশাকে শরবতও মৌনোই বানিয়ে দিল। বাবাকেও দিল। টুকটাক কথাবার্তার মাঝে ওরা খাবার টেবিলে গিয়ে বসল। সার্ভে ব্যস্ত মৌনো আর তার মা। কিন্তু রিয়াজ সাহেব খাবারের পর বেশিক্ষণ বসতে পারল না। তার মোবাইলে এক নাগাড়ে কল আসছে। এই সময়ে তার একজন রোগী আসবে। এখনো পথেই আসবে, চলে আসবে কিছুক্ষণের মাঝে। তাই চেয়েও নাহিয়ানকে সময় দিতে পারল না। তিনি চলে যাওয়ার পর নাহিয়ান মৌনোর সাথে টুকিটাকি আলাপ করল।

–“জাবির কে চিনিস?”

জাবিরের কথা শুনে মৌনো লোকমা তুলল না। হতভম্ভ হয়ে তাকাল। নাহিয়ান হঠাৎ জাবিরের নাম নিচ্ছে কেন?
–“ওকে চেনে না এমন কে আছে?”

–“তোকে কি বিরক্ত করে?”

নাহিনের সন্দিহান গলা। মৌনো ভেতরে কিছুটা ভড়কে গেল। নাহিয়ান কী কিছু জানতে পেরেছে, বা টের পেয়েছে?

নিজেকে সামলে নিয়ে কিছু না বুঝতে দিয়ে বলল,
–“না তো। এমন কেন মনে হলো?”

নাহিয়ানের সন্দেহ তবুও কাটেনি। কোথাও একটা ‘কিন্তু’ এখনো আছে। ভেবেচিন্তে বলল,
–“গতকাল দেখলাম তুই যেই সময়ে ভার্সিটি থেকে ফিরিস জাবির তখন নতুন শার্ট পরে বাজারে দাঁড়িয়ে ছিল। বারবার চলন্ত বাসের দিকে তাকাচ্ছিল যেন তোরই অপেক্ষা করছে। এমনকি ওর চ্যালা মঞ্জু আর রিপনের মুখেও কিছুটা দূর থেকে তোর নাম শুনেছিলাম। তোকে ভাবী ডাকছিল।”

মৌনো ভীরু নজরে তাকাল। যথাসম্ভব নিজেকে ঠিক রেখে বলল,
–“বেশি ভাবছ ভাইয়া। এরকম কিছুই না। কতজনে কত কিছুই তো বলে, তাই বলে সত্যি হয়ে যাবে নাকি?” মৌনো হাসার চেষ্টা করল।

–“সাবধানে থাকবি। অবশ্যই কিছু হলে কাউকে না বলতে পারলেও আমাকে বলবি। বুঝেছিস? আমরা বড়ো হয়েছি, দূরে থাকছি ঠিকই.. আমি এখনো তোর সেই নীরব ভাইয়াই আছি। বুঝেছিস?”

মৌনো মাথা নাড়ায়। খেতে খেতে অনুভব করে নাহিয়ানের কথা-বার্তাও আজকাল নিবিড়ের মতো শোনায়। যদিও নাহিয়ানের কথায় এত একটা গাম্ভীর্য বোঝা যায় না। কিন্তু, নিবিড় তো নিবিড়ই। তার রিপ্লেসমেন্ট অসম্ভব! মৌনো মুহূর্তেই প্রসঙ্গ বদলে বলল,
–“কামরুল আসেনি যে? ওকেও তো দাওয়াত করেছিলাম। ও তো বলেছিল ঠিক সময়ে পৌঁছে যাবে।”

নাহিয়ান কিছু বলতে নিয়েও বলল না। বাড়িতে নীরব যুদ্ধ চলছে। সোফিয়া খানমের হাই প্রেশার উঠেছে। কামরুলের এই সংকটপূর্ণ সময়ে বাড়ির বাইরে এক কদম ফেলাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু নাহিয়ান হেসে মুখে বলল,
–“এমনিতেই। মায়ের কাজে একটু ব্যস্ত।”

ওদের কথাবার্তার মাঝে জুনায়েদ এলো। নাহিয়ানকে দেখতেই সে কোনোদিকে না তাকিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে গেল। জুনায়েদ নতুন ব্যাট কিনেছে। বেশ দামিও। সেটা নিবিড়কে দেখাতে পারেনি, তবে নাহিয়ান তো হাতের কাছেই আছে। স্কুল ব্যাগটা এখনো সদর দরজার কাছে গড়াগড়ি করছে। এ নিয়ে রাজিয়া শেখ শূন্য বকা দিতে দিতে রান্নাঘরে চলে যান।

মৌনো তখনো খাবার টেবিলে খাচ্ছে। এমন মুহূর্তে নাহিয়ানের মোবাইলে কল এলো। ফোনটা টেবিলেই রাখা। মৌনো উঁকি দিয়ে দেখল এটা নিবিড়। কল পরপর দুবার এলো। মৌনো ভাবল কল রিসিভ করে নিবিড়কে জানাবে যে নাহিয়ান এখানে নেই। যেহেতু নাহিয়ানের সাথে তার সম্পর্ক ভালো, সেহেতু তার মোবাইল থেকে নিবিড়ের কল রিসিভ করাটা সমস্যা নয়। যেই ভাবা সেই কাজ, মৌনো কল রিসিভ করল। বলতেই নিবে এমন সময়ই নিবিড় ওপাশ থেকে বলে উঠল,
–“কী শুনছি নীরব? বিয়ে ক্যান্সেল?”

এমন সময়ই নাহিয়ান এলো। মৌনো বিস্ময়ের সাথে নাহিয়ানের দিকে তাকাল। ফোন কানে দিয়েই অস্ফুট স্বরে বলল,
–“কার বিয়ে ভেঙেছে? কিসের বিয়ে নীরব ভাই?”

নিবিড় ওপাশ থেকে মৌনোর বিস্ফোরণ গলার প্রশ্ন শুনল। যেন মৌনো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। নাহিয়ান উত্তর দেওয়ার আগে নিবিড় জবাব দিল,
–“আমার এঙ্গেজমেন্ট ক্যান্সেল, মৌনো।”

পরপর নিবিড়ের নির্দেশে মৌনো নাহিয়ানের মোবাইল ফিরিয়ে দিল। দুই ভাই আলাপ করল। নাহিয়ান জানাল রত্নার বাবা নিজ উদ্যোগেই বিয়ে ভেঙেছেন। হবু বর খোঁজ-খবর নেয় না, বিয়ে সম্পর্কে তার কোনো মাথা ব্যথা নেই, এ বিষয়গুলোই অধিক আত্মসম্মানী রত্নার বাবাকে বেশ আঘাত করেছে। এরকম হওয়াটাও বেশ অস্বাভাবিক। সম্পর্কের মূল ডেফিনেশন হচ্ছে যোগাযোগ। দূরত্ব সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। নিবিড় প্রতিদিন না হোক, অন্তত সপ্তাহে একবার হলেও তো রত্না কিংবা তাদের খোঁজ-খবর নিতেই পারে। কিন্তু নিবিড় এসবের কিছুই করেনি। যা ভদ্রলোকের ইগোতে হার্ট করে। নিবিড়ের এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতে স্পষ্ট বোঝা যায়, নিবিড়ের এই বিয়েতে কোনো প্রকার আগ্রহ নেই। যেখানে ছেলেই বিয়েতে রাজি না, সেখানে তিনি তার মূল্যবান মেয়ে দিবেন কোন গ্যারান্টিতে। এরপর আর কি, সকাল সকাল ভদ্রলোক নিজে মুন্সী বাড়ি এসে তার বিয়ে বিষয়ক প্রত্যাখ্যান এবং আংটি ফেরত দিতে আসেন।

নিবিড়ের হাতে সময় ছিল না, তাই সে সংক্ষেপে শুনেই কল কেটে দিল। কিন্তু মৌনো তখনো হতবাক।
–“আসলেই বিয়ে ভেঙেছে?”

নাহিয়ান মৌনোকে পরখ করে বলল,
–“কেন? খুশি হলি বোধ হয়?”

মৌনো নিজের হাসি চেপে বলল,
–“কোথায়, একদমই না।”

–“নিবিড় ভাইকেও খুশি লাগেনি।”

মৌনোর মুহূর্তেই মুখের রং পালটে গেল। গতকাল না কামরুলের থেকে শুনল নিবিড়ের রত্নার প্রতি বিন্দুমাত্র অনুভূতি বা আগ্রহ নেই, তাহলে আজ কেন সে মন খারাপ করবে? এটা তো নিবিড়ের জন্য সুসংবাদ হওয়ার কথা। নাহিয়ান হঠাৎ হো হো করে হেসে দিল। তার যা পরীক্ষা করার, তা করে ফেলেছে। এমনকি উত্তরও তার সামনেই। নাহিয়ান সতর্ক চোখে একবার রান্নাঘরের দিকে পরখ করে গলা নামিয়ে বলল,
–“তুই না নিবিড় ভাইকে দেখতে পারিস না, পছন্দ করে ফেললি কবে?”

মৌনোর চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম।
–“ছি, নীরব ভাই। কিসব বলছ?”
–“ছি করে লাভ নেই। তোর চেহারাই আমাকে জবাব দিয়ে দিয়েছে। আমার থেকে লুকোবি?”

মৌনো চুপসে গেল। অস্বীকার করার অযুহাত খুঁজল, কিন্তু তার মস্তিষ্ক ফাঁকা। নাহিয়ান হেসে বলল,
–“গুড চয়েজ। ভালোই হলো তবে নিবিড় ভাইয়ের বিয়েটা ভেঙে।”

–“এমন কেন বলছ?”

–“যার ভাবী হবার কথা, সে এখনো নিবিড় ভাইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক পড়াশোনা কর, নিজের জন্য যোগ্য হ। এরপর নাহয় নিবিড় ভাই আসবে তোর হাত ধরতে।”

মৌনো জানে না কেন, তবে নাহিয়ানের এটুকু কথায় সে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল। তার মিইয়ে যাওয়া একপাক্ষিক ভালোবাসায় রং আসল। নিবিড় এখন পুরোপুরি সিঙ্গেল, এর মানে আশা এখনো আছে। মৌনো তার পড়াশোনার প্রতিও আগ্রহ পেল। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল, সে নিবিড়কে খুব বেশি না হলেও একটু করে তাকে টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করবে। যাতে কখনো তাদের মিল হলেও কেউ এটা বলতে না পারে নেভির বউ কম শিক্ষিত। সে খুব করে উপলব্ধি করছে, তার এই মুহূর্তে নাহিয়ানকে, তার মোটিভেশনের খুব প্রয়োজন ছিল। মৌনো তার প্রাণ জুড়ানো হাসি দিয়ে বলল,
–“ধন্যবাদ।”

–“তা কেন?”

–“এমনিই দিতে ইচ্ছা করল।”

নাহিয়ান হাসল। পরপর আবার বলল,
–“মা এজন্যই হাই প্রেশারে বাড়িতে বন্দী। মায়ের এই চরম বিপর্যয়ে বাবা নীলক্ষেত গেছেন শখ মেটাতে। এজন্য মা আরও ক্ষেপে আছেন। না জানি আজ আমাদের বাপ-ছেলের কপালে রাতের খাবার জুটবে কিনা।”

মৌনো হো হো করে হেসে দিল। আজ কেন যেন তার খুব হাসতে ইচ্ছে করছে, পাখিদের কিচিরমিচির শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে, আকাশ দেখতে ইচ্ছা করছে, এমনকি গাইতেও ইচ্ছে হচ্ছে। এই সুখ সুখ অনুভূতির কারণ কি নিবিড়ের বিয়ে ভেঙে যাওয়া? মৌনো বলল,
–“আমার এই অনুভূতির কথা নিবিড় ভাইকে কখনো বোলো না, নীরব ভাই।”

–“চিন্তামুক্ত থাক। তোর সিক্রেটস তোর ভাইয়ের কাছে সেইফ আছে।”

মৌনো মুচকি হেসে মাথা নাড়ায়। পরপর সোফিয়া খানমের কথাও মাথায় আসে।
–“বিকালে কামরুলকে পাঠিয়ো। ওর হাতে ধরে পায়েশ পাঠাব আন্টির জন্য। সুসংবাদ বলে কথা। মিষ্টি খাবার খেলে আন্টির প্রেশার কমে আসবে নাহয়।”

–“হাহা, এখনো দুষ্টু থেকে গেছিস। আচ্ছা ঠিক আছে, পাঠাব। তবে আমার ভাগেরটাও দিয়ে দিবি। তুই রাঁধতে পারিস, এটাই তো চরম অবাকের বিষয়। বড়ো হয়ে যাচ্ছিস। কবে জানি আরও কিছুটা বড়ো হয়ে আমার ভাইয়ের বউ হয়ে যাস।”

®লাবিবা ওয়াহিদ
চলবে~~~

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply