Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পার্ব ৩১


কী ভয়ংকর মায়া তোর পার্ব ৩১

লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু

_কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌

দেখতে দেখতে নেওয়াজ বাড়িতে আহির কেটে গেলো পনেরো টা দিন।এই পনেরো দিন বেশ ভালোই কেটেছে তার।সকালে ফাইজের সাথে কলেজে যায়। আর আসার সময় রৌদ্র নামিয়ে দিয়ে যায় তাকে নেওয়াজ বাড়িতে। আদ্র এখন পুরোপুরি না হলেও কিছুটা সুস্থ হয়েছে।এই পনেরো দিনে আদ্র আহির কতশত দুষ্ট মিষ্টি মুহূর্তের সাক্ষী আদ্রের রুমের চার দেওয়াল।আদ্র অফিস যায় না ঘরে বসে সব কাজ সামাল দিচ্ছে। কলেজের ক্লাসটা এখন ফাইজ নিচ্ছে। ফাইজ কিছুদিনের মধ্যে আবারও বিদেশ যাবে। পড়ালেখা ফেলে মাঝপথে চলে এসেছে ভাই আর বোনের খবর পেয়ে।আহি ফিরে আসায় সবাই খুশি হলেও হতে পারেনি।দুটি মানুষ তারা আর কেউ নয় পারুল নেওয়াজ আর ফিহা।ফিহা তো সেদিন নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে রুমের সব জিনিসপএ ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো করে দিছে রাগে ক্ষোভে।আহির প্রতি পুরোনো ক্ষোভটা নতুন করে আবারও তৈরি হয়েছে ফিহার মনে।পারলে যেন চোখ দিয়েই সব ধ্বংস করে দিবে।আহি সবার সাথে স্বাভাবিক হতে পারলেও আজও তরিকুল নেওয়াজ এর সাথে হতে পারে নি।বাপ মেয়ে সামনাসামনি পড়লেও আহি এড়িয়ে চলে যায়।তরিকুল নেওয়াজ চেয়েও মেয়ের অভিমান ভাঙ্গাতে পারছে না।পারুল নেওয়াজের ভয়ে।

ঘড়ির কাটা সকাল নয়টার ঘরে।আহি একবারে কলেজ ড্রেস পড়ে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে হেলেদুলে রুম থেকে বের হলো নিচের যাওয়ার জন্য। হঠাৎ আদ্রের কথা মনে পড়তে আদ্রের রুমের দিকে হাঁটা দিলো।লোকটা নিশ্চয়ই ঘুমাচ্ছে। এটা এখন নতুন কিছু না এই পনেরো দিনে আদ্রের ঘুম দেরিতে ভাঙ্গে। কড়া ডজের ঔষধ খাওয়ার ফলে এমন ঘুম হচ্ছে। আহি আশেপাশে তাকিয়ে দেখল কেউ আছে কিনা।কেউ দেখলে কিনা কি ভাববে। নাহ কেউ নেই। আদ্রের দরজাও বেড়ানো আছে।আস্তে করে দরজাটা খুলে প্রথমে মাথাটা ডুকাল।বিচানায় খালি গায়ে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে আদ্র।কোমড় পর্যন্ত কম্পোর্ট দিয়ে ডাকা। আহি পা টিপে টিপে ভিতরে ডুকে দরজা বেড়িয়ে দিয়ে আদ্র মাথায় কাছে এসে দাঁড়ালো।ইশ ঘুমন্ত আদ্রকে কী যে কিউট লাগছে।চুল গুলো এলোমেলো হয়ে কপাল জুড়ে খেলা করছে।গোলাপি অধর জোড়া বাচ্চাদের মতো উল্টিয়ে রেখেছে।আহি এই মুহূর্তে ইচ্ছে করছে আদ্রের উল্টে রাখা অধর জোড়ায় একটা কামড় দিতে।তার কাছে ঠোঁট না এস্ট্রোবেরি মনে হচ্ছে। আর ঠোঁটের নিচের তিলটা আহ সৌন্দর্য হাজারগুন বাড়িয়ে দিল যেন। নিজের ফালতু ইচ্ছায় নিজেই লজ্জা পেয়ে গেলো।গাল দুইটা রক্তিম আভা ধারণ করেছে।কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে।

আহি ঝুঁকে আদ্রের এলোমেলো চুলগুলো আরো এলোমেলো করে দিল।উল্টিয়ে রাখা অধর জোড়ার দিকে তার কাঁপা কাঁপা হাতটা বাড়িয়ে দিল।হালকা করে চুয়ে দিল আদ্রের অধর জোড়া।তারপর কী মনে করে মুচকি হেঁসে আদ্রের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল।

—এই যে সাদা বিলাই শুনছেন?আমার ভালোবাসা হেরে গেছে আপনর পবিএ ভালোবাসার কাছে।এত ভালো বাসতে গেলেন কেন আমায়?এখন যে আপনাকে ছাড়া কিছুই বুঝে না আমার অবুঝ মন এর দায়বার কে নিবে হুম?

কথাটা বলে সরে আসতে নিবে এমন সময় দেখল।আদ্র ওর দিকে চেয়ে আছে।আহি চমকায় সেই সাথে ভরকে যায়।লোকটা কী এতক্ষণ জেগেই ছিলো নাকি?জেগে থাকলে সর্বনাশ লোকটা তার সব কথা শুনে নিয়েছে নাকি.?আহি পালা। যেই না আহি ভৌ-দৌড় দিতে যাবে।আদ্র বুঝে ফেলে মেয়েটার মতিগতি। দৌড় দাওয়ার আগেই আদ্র আহির হাত চেপে ধরে।আহি ভীতু দৃষ্টিতে তাকায় আদ্রের দিকে।আদ্র আহির ভীতু দৃষ্টি দেখে আদ্র মজাই পেলো।দুষ্ট হেঁসে বলল

—আরে পালাচ্ছিস কোথায়?আমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে আমার ইজ্জত লুটে নিয়ে এখন কেন পালাচ্ছিস?মনের ইচ্ছে অসম্পূর্ণ রাখতে নেই।এবার ঝটপট অসম্পূর্ণ কাজটা সম্পূর্ণ করে দিয়ে যা।এই যে আবার চোখ বন্ধ করছি তুই তোর কাজ কর।

কথাটা বলেই আদ্র সত্যিই চোখ বন্ধ করে ফেলল।তবে আহির হাত ছাড়ল না।আল্লাহ এই মুহূর্তে মাটি পাক করে দাও আহি ডুকে যাক।কেন যে এখানে আসতে গেলো।বদলোকটা অভিনয় জানে ভালো। কীভাবে ঘুমের অভিনয় করলো।আহির বুঝতেই পারে নি।

—কী হল খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেন?শুভ কাজে দেরি করতে নেই জানিস না?

—কি কি শে র অসম্পূর্ণ কাজের কথা বলছেন।আমি কিছু বুঝতে পারছি না। আমি তো আপনি উঠছেন কিনা দেখতে এসেছি।

তোতলাতে তোতলাতে কোনো রকম কথাটা বলেই একটা বেআক্কল মার্কা হাসি দিল বহু কষ্টে।আদ্র এবার চোখ খুলে সরাসরি আহির চোখের দিকে তাকিয়ে বল

—ওহ তাই নাকি?আচ্ছা আসছিস যখন এক কাজ কর সকাল সকাল মিষ্টি মুখ করিয়ে দে তাহলে আমার দিনটা ভালো যাবে।তাড়াতাড়ি একটা মর্নিং কিস দিয়ে দে তো।

এবার আহির মুখটা কাঁদো কাঁদো হয়ে গেছে।সে ভালো করে বুঝে গেছে সে সেচ্ছায় বাঘের খাঁচায় ডুকেছে।আজকে তার ছাড়া নেই।

—কোথায় দিতে হবে?

আদ্র অবাক হল আহি এত তাড়াতাড়ি মেনে নিবে যে ভাবেনি।একহাত তো বেন্ডেজ করা আরেক হাতে আহির হাত চেপে রাখা।আহিকে ধরে রাখা হাতটা ছেড়ে কোথায় দিতে হবে দেখাতে যাবে। সুযোগ পেয়ে আহি দিল ভৌ-দৌড়। আদ্র হা করে তাকিয়ে থাকল মেয়েটা তাকে বোকা বানিয়ে চলে গেলো?

—হাতের কাছে পাই বাঁদরামি ছুটাবো তোর।আমাকে ধোঁকা দাওয়ার মজা বুঝাবো হাড়ে হাড়ে।

পিছর থেকে আদ্র চেঁচিয়ে বলে উঠল।আহি শুনল তবে পাওা দিল না নিজের জীবন হাতে নিয়ে দৌড়াচ্ছে। এতক্ষণ আড়াল থেকে ফিহা সব কিছু দেখেছে।আহিকে ডুকতে দেখেই এখানে এসে আড়ি পাত ছিলো।আহির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে সাপের মত ফোঁস ফোঁস করতে করতে নিজেও চলে গেলো।


“আমি ডানা কাটা পরী “
“আমি ডানা কাটা পরী”

মাএই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছিল রৌদ্র। এখন বেলা ১১টা বাজে আদ্রের ফোন পেয়ে নেওয়াজ বাড়িতে এসেছে সে।
হঠাৎ গানে এই দুই লাইন শুনে আশেপাশে পাশে তাকল।দেখল ইয়ানা কিচেন থেকে হাতে কাপ নিয়ে আসছে আর গুনগুন করে গান গাইছে।আবার মাঝে মাঝে কাপে চুমুক দিচ্ছে।

—উম যেই না চেহারা নাম রাখছে তাহার পেয়ার।আবার দাবি করে সে নাকি ডাটা কাটা পরী।কই ডাটা কোনো ডাটা পানা তো আমি দেখছি না।বলিকি মেয়ে জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করো তোমার চোহারা দেখলে ভুতেও ভয়ে পালাবে কোন সুখে নিজেকে পরী মনে করো আবার যে সে পরী না একবারে ডাটা কাটা পরী।

হঠাৎ রৌদ্র কে দেখে চমকে উঠে ইয়ানা। রৌদ্রের কথা শুনে চোখমুখ কুঁচকে পেলে।এসব নতুন না এখন আর।এ কয়দিনে রৌদ্র কে সে ভালো করে চিনে নিয়েছে।বাঁদর মুখো কোথাকার শুধু তার পিছে পড়ে থাকে।ইয়ানাকে চোখমুখ কুঁচকে ফেলতে দেখে।রৌদ্র ইয়ানার হাত থেকে কাপটা ছো মেরে নিয়ে চায়ে চুমুক দিল।ইয়ানা হা করে তাকিয়ে আছে।রৌদ্র কয়েক বার চুমুক দিয়ে কাপ টা আবার ইয়ানার হাতে দিয়ে যেতে যেতে বলল

—চায়ের পরেরবার থেকে চিনি কম দিবে। অনেক মিষ্টি। আর ফাউ স্বপ্ন দেখা বন্ধ কর। তোমার যে চেহারা বিয়ের জন্য রিক্সা ওয়ালা আসে কিনা সন্দেহ।হুদাই নিজেকে শান্তনা দিয়ে লাভ নেই বাস্তবে ফিরে এসো।

ইয়ানা প্রথমে চায়ের দিকে তাকাল।তারপর রৌদ্রের যাওয়ার প্রাণে।লোকটা আসলেই পাগল সে তো চায়ে চিনিই দেয় নাই।বলে কিনা অনেক মিষ্টি। আর কী বলল ওর চেহারা খারাপ?ওর জন্য রিক্সা ওয়ালা আসে কিনা সন্দেহ?

—বাঁদর মুখো লোক নিজেকে কখনো আয়নায় দেখেছেন?আপনার থেকে হাজারগুন সুন্দর আছে আমার চেহারা।আর রিক্সা ওয়ালা আসতে হবে না আমার জন্য রাজপুত্র আসবে দেখে নিয়েন হুম”!

পিছন থেকে চেঁচিয়ে বলা ইয়ানার কথা গুলো শুনে রৌদ্র ঠোঁট বেঁকিয়ে হেঁসে বিরবির করে বলল

—রাজপুএ? উম রাজপুত্রই তো আসবে।

[সরি লেট করে দাওয়ার জন্য তোমরা তো জানোই আমি অসুস্থ বাম হাত দিয়ে লেখতে সময় লাগে।চাইলে কয়েক দিনের জন্য অফ রাখতে পারতাম কিন্তু এতে গল্প পিছিয়ে যাবে সব ভুলে যাবে।তাই বাম হাত দিয়ে একটু একটু করে লেখেছি কেমন হয়েছে বলিও। ]

চলবে.,,,,

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply