হামিদাআক্তারইভা_Hayat
মাঝে কতদিন কেটেছে? এই দুই থেকে আড়াই মাস হবে হয়তো। আর কী কী বদলেছে সবার জীবনে? আড়াই মাস আগে যেমন ছিল তেমনই আছে নাকি বদলেছে কিছু? অনেক কিছুই বদলেছে। সেই চৌধুরীর বাড়ির মেজ ছেলের বড় ছেলে সাহেবি জীবন ছেড়ে হয়েছে এক সাধারণ স্বামী। বউয়ের জন্য কড়া রোদে দাঁড়িয়ে থাকে সে । গরমে শরীর ঘেমে পরনের জামা-কাপড় লেপ্টে যায় শরীরে তবু যেন কোনো ক্লান্তি নেই শরীরে। কায়নাতের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে গত সপ্তায়। ওদের পরীক্ষার ডেট চেঞ্জ করা হয়েছিল। এখন প্রায় পরীক্ষা শেষের দিকে, ঘণ্টা পড়বে হয়তো। মাথার উপর কড়া রোদে শরীর পুড়ে যাচ্ছে তার, তবু খানিক হেঁটে পাশের কোনো দোকান কিংবা গাছের নিচে দাঁড়ায়নি। সেখান দিয়ে মহিলা মানুষের ভিড়। দূর থেকে এক বৃদ্ধা মহিলা ওকে বেশ অনেকটা সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এক সময় দুর্বল শরীরটা নিয়ে অর্ণর পাশে এসে দাঁড়ালেন। গম্ভীর অর্ণ আড়চোখে তাকে দেখে দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই তিনি শুধান,
“এই রইদের ভিতর দাঁড়াইয়া আছো কেন? গাছের নিছে গিয়া দাঁড়াও।”
অর্ণ বলল,
“সমস্যা নেই।”
“তুমি আমার নাতির মতন। আমার কথা হুনো।”
অর্ণ আড়চোখে দূরে গাছ গুলোর দিকে তাকিয়ে বলল,
“ওদিকে অনেক মানুষ।”
বৃদ্ধা মহিলা যেই গাছের নিচে পাটি ভিজিয়ে বসেছিলেন সেখানে নিয়ে গেলেন ওকে। পরীক্ষা হলের বাইরে সরু রাস্তার ধার হতে খানিক দূরেই দোকান আর বিশাল গাছের সারি। পাটির উপর মহিলা কাঁথা সেলাই করছিলেন বাচ্চাদের। এই বয়সে এসে তাকে কাঁথা সেলাই করতে দেখে অর্ণ একটু অবাক হলো বটে। মহিলা পানির বোতল অর্ণর দিকে এগিয়ে দিলেন। অর্ণ বসে লম্বা শ্বাস টেনে শার্টের হাতা দিয়েই কপালের ঘাম মুছল। বোতলের অর্ধেক পানি শেষ করতেই মহিলা বললেন,
“তুমারে ৩দিনই এই জায়গায় রইদে দাঁড়াইয়া থাকতে দেখছি। কার লাইগা দাঁড়াই থাকো? ছুটো বইন পরীক্ষা দেয়নি?”
অর্ণ খুব সংক্ষিপ্ত স্বরে জবাবে বলে,
“আমার স্ত্রী পরীক্ষা দিচ্ছে।”
“ওই বোরকা পরা মাইয়া তুমার বউ?”
“জি।”
“বিয়া হইছে কয়দিন?”
“৮ বছর।”
বৃদ্ধা বাকরুদ্ধ হয়ে অর্ণর দিকে তাকালেন। হাতের সেলাই থেমে গেছে ততক্ষণে।
“মাইয়ার বয়স তো কম মনেহয়। কেমনে এত তাড়াতাড়ি বিয়া করছ?”
“পরিবার দিয়েছে।”
“মাইয়ার বয়স কত?”
অর্ণ কায়নাতের বয়স বলতে গিয়ে কী মনে করে যেন ফোন বের করে আজকের তারিখটা দেখে নিল। জুলাই মাসের ২৩ তারিখ আজ। অর্থাৎ…!
অর্ণ ঠোঁট প্রসারিত করে হাসল। বৃদ্ধার প্রশ্নের জবাব দেয়া আর হলো না। ছুটির ঘণ্টা পড়েছে। অর্ণ তাড়াতাড়ি উঠে গেটের নিকট এগিয়ে গেল একটা ঠান্ডা পানির বোতল কিনে। প্রায় মিনিট দশেক পর গেটের সামনে দেখা মিলল নীল রঙের বোরকায় আবৃত নারীর ক্লান্ত দুচোখ। কায়নাত অর্ণকে দেখতে পেয়েছে। প্রত্যেকদিনের মতো ছুটে এসে আজ জড়িয়ে ধরেনি। অর্ণ ভিড় সরিয়ে কায়নাতের কাছে গেল। বাড়িটা এই দুই মিনিটের রাস্তা বলে আর গাড়ি নিতে হয় না। অর্ণ তবু ভাবল রিকশা নেবে একটা কিন্তু কায়নাত বারণ করায় আর তা নিতে হয়নি। অর্ণ বাজার করেছিল কায়নাতকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিয়ে। সেই বাজারের ব্যাগ একটা মুদির দোকান থেকে নিয়ে অন্যহাতে কায়নাতের হাত চেপে ধরল। কায়নাত কপাল কুঁচকে উকি মেরে ব্যাগটা দেখে প্রশ্ন করল,
“কে বাজার করে দিল?”
অর্ণ বলল,
“আমি করেছি।”
কায়নাত অবাক হয়ে বলল,
“আপনি বাজার করেছেন? কত টাকা খরচ করলেন?”
“৬ হাজার।”
কায়নাত পলক পিটপিট করে ব্যাগটার দিকে একবার তাকিয়ে অর্ণর দিকে তাকাল। ছোট একটা ব্যাগে বাজার তাও আবার ৬ হাজারের? নিশ্চিত লোকটাকে বুদ্ধু পেয়ে সবাই ঠকিয়ে দিয়েছে। মনেমনে কায়নাত কপাল চাপড়ে ধরল। এমনিতেই এখানে আসার পর এত গুলো টাকা খরচ হয়েছে। অর্ণর মায়া না হলেও কায়নাতের মায়া হয় এত উল্টো-পাল্টা খরচ করতে।
“আপনাকে না বলেছি এভাবে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবেন না। এখান থেকে এইটুকু রাস্তা তো আমি একাই যেতে পারি। এত কষ্ট করে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো মানে হয়?”
অর্ণ উত্তর দিল না। চুপচাপ হেঁটে চলল। এতে বিরক্ত হলো মেয়েটা। হাত ঝাঁকিয়ে বলল,
“রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তো আপনি কালো হয়ে গেছেন। আয়নায় নিজের চেহারা দেখেছেন একবার?”
“কেন, কালো হলে বুঝি আপনার স্বামীর প্রতি ভালোবাসা কমে যাবে?”
“তা কেন কমবে? তাই বলে রোদে দাঁড়িয়ে থাকবেন? আপনার কষ্ট হয় না? আমার খারাপ লাগে খুব। জানালা দিয়ে দেখি তো কিভাবে কড়া রোদে দাঁড়িয়ে থাকেন। এমন করবেন না আর।”
“তুমি পরীক্ষা রেখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকো? থাপ্পড় চেনো?”
কায়নাত মুখ বাঁকাল। ওরা এসে থামল একটা ছোট-খাটো বাড়ির দরজার সামনে। বাড়ির উঠোনটা বেশ বড়। উঠোনের দুই পাশে দুটো দুই রুমের ফ্ল্যাট বলা চলে। একপাশ অর্ণ ভাড়া নিয়েছে আর অন্যপাশে অন্য পরিবার থাকে। ঘর গুলোর চারপাশে দেয়াল থাকলেও ছাদটা টিনের। আশেপাশে এর চেয়ে ভালো বাড়ি অর্ণ খুঁজে পায়নি। ওরা বাড়ি ফিরতেই ওই পাশের ঘরের বারান্দা থেকে রাকিব ভাইয়ের বউ মাথার বেণী দুলিয়ে গলা চওড়া করে বলল,
“কিগো সুন্দরী, পরীক্ষা কেমন হলো?”
কায়নাত বিরক্তিতে চোয়াল শক্ত করল। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল পেছনে। নজর বুলাল ময়নার শরীরে। কী বিশ্রী ভাবে শাড়ি পরে এই মহিলা। একদম পাতলা কাপড়ের ব্লাউজ তার মধ্যে ব্লাউজের গলা ইয়া বড়। এর থেকে কিছু না পরাই তো ভালো। কায়নাত ভেবে পায় না মহিলার স্বামী কেন বউকে কিছু বলে না। গ্রাম এলাকায় কেউ এভাবে খোলা-মেলা ভাবে চলে নাকি?
“ভালো হয়েছে ভাবি।”
বিরক্তি চেপে কায়নাত উত্তর দিয়ে পিছু ঘুরে ঘরের ভেতর চলে গেল। ঘরে এসে দেখল অর্ণ লেবুর সরবত বানাচ্ছে। কায়নাত গায়ের বোরকা খুলে বিছানায় শুয়ে পড়ল। যেই গরম পড়েছে বাইরে! বৃষ্টি হয় না গত সপ্তা থেকে। অর্ণ সরবত এনে খাওয়াল ওকে। কায়নাত সোজা হয়ে বসল। অর্ণ বলল,
“আগে হাত-মুখ ধুইয়ে এসো নাহলে গোসল সেরে বের হও, ভালো লাগবে।”
কায়নাত চোখ কটমট করে বলল,
“আপনাকে বাড়ি ছাড়া করব আমি।”
“আমি আবার কী করলাম?”
“গ্রামে কী বাড়ির অভাব ছিল? এই বাড়ি ভাড়া নিতে গেছেন কেন?”
“রেগে যাচ্ছ কেন? কী হলো আবার?”
“ওই পাশের ঘরের ভাবির অবস্থা দেখেছেন?”
অর্ণ বোকার মতো মাথা নাড়িয়ে বলল,
“দেখিনি তো। কারোর সাথে চুল টানাটানি করে ঝগড়া করেছে? তুমি পড়া বাদ দিয়ে এসব দেখো?”
কায়নাত মুখ কুঁচকে উঠে দাঁড়াল। জামা-কাপড় নিয়ে ছুটল গোসল খানায়। এই লোকের সাথে কথা বলে শান্তি নেই। অর্ণ বাজারের ব্যাগ ঘরের একপাশে রেখে কায়নাতের পিছু ছুটল। উঠোনের এক কোনায় ইটের তৈরি বড় গোসল খানা। কায়নাত সবে ভেতরে ঢুকে দরজা লাগাবে এমন সময় অর্ণ তাড়াতাড়ি পা ফেলে দরজা টেনে ধরল। ঘাড়ে একটা গামছা পেঁচিয়ে এসেছে সে। কায়নাত বোকার মতো জিজ্ঞেস করল,
“কী হলো?”
অর্ণ বলল,
“তুমি এত পাষাণ বেয়াদব মহিলা। আমি যে রোদে এত কষ্ট করে দাঁড়িয়ে ছিলাম চোখে দেখোনি? সাইড দাও গোসল করব আমি।”
“আমি যে ঢুকলাম!”
“তুমিও চলো।”
কায়নাতকে কিছু বলার সুযোগ দিল না। ভেতরে ঢুকে দরজা আটকে দিল।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো। কায়নাত আর অর্ণ দাঁড়িয়ে আছে মির্জা বাড়ির সামনে। কায়নাত মায়ের সাথে দেখা করবে। অর্ণ ওকে এখানে রেখে বাইরে বের হবে একটু। এই চুক্তি করেই বাইরে আসা তাদের। মিলি বেগম উঁচু পেট নিয়ে বাড়ির দরজা খুলে দিতেই গাল ভরে হাসলেন ওদের দেখে। অর্ণ সালাম দিল তাকে। ভেতরে প্রবেশ করার পর ঘরে গিয়ে বসল ওরা। অর্ণ হাত ঘড়িতে সময় দেখে কায়নাতকে বলল,
“আমি না আসা অব্দি এই বাড়ির বাইরে যাওয়ার দরকার নেই। আমি এসে নিয়ে যাব তোমায়।”
কায়নাত মাথা নাড়িয়ে সায় দিলে অর্ণ বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। ঊষা বেগম মিলি বেগমের ঘরে আসেন। এসে দেখেন মা মেয়ে মিলে গল্প করছে। তিনি মেকি হেসে চেয়ার টেনে বসলেন। কায়নাতকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে বললেন,
“এই বাড়ি থাকতে আবার বাড়ি ভাড়া নেয়ার কী দরকার ছিল? জামাইরে একটু বুঝিয়ে বললেই তো হত।”
কায়নাত একবার মায়ের দিকে তাকাল। খুব নরম গলায় বলল,
“উনি আমার কথা শুনতেন না।”
“কেন শুনত না? যে টাকা খরচ করে ভাড়া নিয়ে থাকছিস সেই টাকা আমাদের দিলেই তো হত। নিজের বাড়ি মনে করে থাকতে পারতি, কোনো অসুবিধা হত না। রান্নার কষ্ট করতে হত না।”
কায়নাত হতবুদ্ধির ন্যায় মামির দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। মিলি বেগম লজ্জায় চাপা স্বরে বললেন,
“আপা, কেমন কথা বলছ এসব? এই বাড়ি থাকতে গেলে টাকা দিতে হবে কেন? এটা ওরও বাড়ি।”
ঊষা বেগম খোঁচা মারলেন।
“নিজের বাড়ি বললেই কী আর নিজের বাড়ি হয়ে যায়? তুমি পেটে ধরেছ ওকে? সোহেল ওর জন্মদাতা বাপ লাগে?”
“ছি! তুমি আমার ঘর থেকে বের হও। বাজে কথা বলবে না আমার মেয়ের সামনে।”
“সত্যি কথা বললেই তোমাদের গায়ে নুনের ছিটা লাগে।”
তিনি বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। মিলি বেগম লজ্জায় মেয়ের চোখে চোখ রাখতে পারলেন না। কায়নাত শুকনো ঢোক গিলে ঠোঁট ভিজিয়ে নিল। ব্যথা কী হচ্ছে বুকে? ছোট্ট হৃদয়ে কী আদতে লেগেছে খানিক আঘাত? লাগেনি হয়তো! লাগার কথাও নয়। এমন ধরনের কথা শুনতে শুনতে সে অভ্যস্ত। কায়নাত গাল ভরে হাসল। মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল বিছানায়। পেটে আঙুল দিয়ে আঁকি-উকি করতে করতে বলল,
“বলো তো মা, আমার ভাই হবে নাকি বোন?”
মিলি বেগম বললেন,
“কী হলে বেশি খুশি হবি?”
“আল্লাহ যাকে দিবেন তাকে নিয়েই খুশি মা।”
মিলি বেগম হাসলেন। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। দেখলেন মেয়েকে ভালো করে। আগের চেয়ে কত মোটা হয়েছে মেয়েটা। গায়ের রংটাও বেশ উজ্জ্বল হয়েছে।
“জামাইকে নিয়ে আব্দুর ভাইয়ের কত অভিযোগ শুনেছি। তোকে তো আমার কাছে পাঠিয়েই দেবেন বলেছিলেন। হ্যা রে, জামাই কী আসলেই মারধর করে তোকে?”
কায়নাত খিলখিল করে হেসে উঠল। বলল,
“উনি আমায় মারবে? আমায় মারার মতো সাহস তার আছে মা?”
“খুব ভালো?”
“খুব। তোমার ধারণার চেয়েও খুব।”
এতেই সন্তুষ্ট তিনি। অর্ণকে তিনি দেখেছেন, খুব শান্ত স্বভাব ছেলেটার। একটু শক্ত-পোক্ত চোয়াল হলেও বেশ ভদ্র। “মা” সম্বোধন ছাড়া কথাই বলে না। অথচ এই অর্ণ কোনোদিন লতা বেগমকে “মা” বলে ডাকেনি। তার রুচিই হয়নি কোনোদিন মা বলে সম্বোধন করতে। কায়নাত মুখে স্বীকার করলেও ও না বলা যন্ত্রণা গুলো ও বুঝে। মধ্যরাতে বুকের ভেতর ঝাপটে জড়িয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। বুঝায় সব ঠিক আছে। কিন্তু সবার জীবনে সব কিছু তো ঠিক থাকে না। কোনো না কোনো দিক থেকে সবাই ভঙ্গুর।
••
চৌধুরী বাড়ি
বাড়ির সকলে অর্ণর কাণ্ড দেখে কপাল কুঁচকে রেখেছে। প্রেম ড্রয়িংরুমে পায়ের উপর পা তুলে সোফায় বসে আছে। সুহা নাক ফুঁসছে ওর পাশে বসে বসে। প্রেম সরু চোখে তাকাল ওর দিকে। ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
“তোর দুলাভাই লাগি আমি, পা টিপে দিতে এত কষ্ট লাগে? তোকে কিছু খাওয়ায় না আমার শাশুড়ি?”
সুহা দাঁত চেপে প্রেমের পা টিপে দিতে দিতে বলল,
“নেহাত আপনি আমার বোনের জামাই, নাহলে এতক্ষণে আপনার গলা টিপে ধরতাম।”
“ভালো করে টিপে দে। তোদের দুলাভাই হতে গিয়ে কত ঝড় সহ্য করতে হলো আমার।”
জয়া সামনে এসে বুকে হাত গুঁজে দাঁড়াল। সুহাকে বলল,
“তুই ওঠ তো সুহা। দুলাভাই তো আমারও হয়, আমিও নাহয় একটু টিপে দেই?”
প্রেম শুকনো ঢোক গিলল জয়াকে দেখে। বড় ভাইকে যেভাবে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরায় এই মেয়ে, তার পেছনে লাগলে খবর আছে। সহসা পা গুটিয়ে নিল প্রেম। আয়েশি ভঙ্গিতে বসে বুক টানটান করে বলল,
“এক গ্লাস সরবত নিয়ে এসো শালি সাহেবা।”
জয়া মাথা নাড়িয়ে গেল। প্রেম অবাক হলো বটে। এই মেয়ে এত সহজে প্রস্তাব গ্রহণ করল যে? যেই ঘাড়ত্যাঁড়া!
জয়া একটু পরেই হাতে এক গ্লাস সরবত নিয়ে এলো। মিষ্টি হেসে প্রেমের দিকে বাড়িয়ে দিল। প্রেম কপাল কুঁচকে সরবত হাতে নিয়ে একটু মুখে দিতেই মুখ ব্যাঙ-এর মতো করে লাফিয়ে উঠল। সরবত নাকি শুকনো মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে দিয়েছে। সুহা আর জয়া হাসতে হাসতে সেখানেই বসে পড়েছে। প্রেমকে ওভাবে লাফাতে দেখে রেখা বেগম দৌঁড়ে এলেন।
“এভাবে লাফাচ্ছ কেন? কী হয়েছে?”
প্রেম কোনোমতে বলল,
“আম্মা..”
“কী?”
সুহা চট করে বলে ফেলল,
“জয়া দুলাভাইকে শুকনো মরিচের সরবত খাইয়েছে।”
রেখা বেগম জয়াকে ঝাড়ি মেরে পানি এনে দিলেন প্রেমকে। ইতোমধ্যে সেখানে নিধি এসে হাজির হয়েছে। জয়া একটু ভয় পেল নিধিকে দেখে। বিয়ের পর থেকে মেয়েটা একটু খিটখিট করে বেশি।
“কী হয়েছে?”
সুহা সব বলার পরও নিধি জয়াকে কিছু বলল না। প্রেমকে জিজ্ঞেস করল,
“আপনি ওদের পেছনে লাগতে যান কেন?”
প্রেম মুখ একটু করে বলল,
“শালি থাকার মানে কী তাহলে?”
“আমাকে জ্বালাবেন না একদম। উপরে যান, ভাইয়া আপনাকে ডাকছে।”
প্রেম সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গিয়ে একবার পিছু ফিরে জয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“তোমার জামাইকে দিয়ে যদি তোমায় আছাড় না খাইয়েছি তাহলে আমার নাম পাল্টে রাখব।”
জয়া মুখ বাঁকাল।
“নাম পাল্টে ‘মদনকুমার’ রেখে দেব।”
নুসরাতের বিয়ের পর যখন সবাই খুলনা ফিরে আসছিলেন, তখন প্রেম এক অবাক কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছিল। বাপ-চাচাদের সাথে তর্কে না গিয়ে সোজা নিধিকে টেনে-হিচড়ে কাজী অফিসে গিয়ে জোর করে বিয়ে করে নিয়ে এসেছিল। বাড়িতে জানাজানির পর অবশ্য একটু ঝামেলা হয়েছিল, কারণ নিধির বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল একজনের সাথে। এখন হঠাৎ করেই নিজের বাড়ির ছেলের সাথে এমন সম্পর্ক মানতে কষ্ট হচ্ছিল। আর নিধি? অভিমানে গোটা ১৫ দিন প্রেমের সাথে কথা বলেনি। জোর করেই পরিবারের সাথে চলে এসেছিল খুলনায়। বউয়ের রাগ ভাঙাতে লম্বা একটা সময় লেগেছে তার। ডাক্তারি জীবন ছেড়ে বউয়ের পিছু পিছু ঘুরতে হয়েছে। দুই ভাইকে নিয়ে সবাই খুব পচায়। এক অর্ণ, সে পারলে বউকে কোলে নিয়ে ঘুরে সব সময়। অন্যদিকে প্রেম, সে বউয়ের লেউটা বললে ভুল হবে না।
•••
অনেক রাত হয়ে গেছে। তবু অর্ণ আসেনি কায়নাতকে নিতে। মেয়েটা ঘুমিয়ে গেছে মায়ের ঘরে। সোহেল মির্জা কায়নাতকে দেখে কিছু বলেননি, বরং বাড়ি ফিরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে অন্যঘরে ঘুমোতে গেছেন। রাত প্রায় ১টার কাটা ছুঁয়েছে। মির্জা বাড়ির দরজায় শব্দ হচ্ছে সমান তালে। নিস্তব্ধ রাত্রিতে ভেসে আসছে হুড়হুড় শব্দস্বর। ঊষা বেগম দরজা খুলে দেখলেন কায়নাতের দেবর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি প্রেমকে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার পর কায়নাতকে ঘুম থেকে উঠানো হলো। কায়নাত প্রেমকে দেখে জিজ্ঞেস করল,
“আপনার ভাই কোথায়?”
প্রেম উসখুস করে মিনমিন গলায় বলল,
“ভাইয়া…মানে…ভাইয়া..”
কায়নাত অস্থির হলো। উত্তেজিত হয়ে বলল,
“কী হয়েছে উনার? উনি কোথায়?”
“ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হয়েছে সন্ধ্যায়। দাদা আমায় আপনাকে নিতে পাঠাল।”
( খালি আমারই একটা জামাই নাই। সবাই খালি জামাই নিয়ে লুতুপুতু করে আর আমাকে এসব দেখতে হয়। আমার জন্য একটা স্বার্থ ভাইয়ের মতো পাত্র খুঁজো প্লিজ। বিয়ে করা টা খুব দরকার।😭)
চলবে..?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩১.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৫৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২০