অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৫৫] (শেষ অর্ধেক)
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
রুম জুড়ে পিনপতন নীরবতা, শুধু ফুলের সুবাস চারিদিকে ম-ম করছে।
সেই নিরবতা ভেঙ্গে অস্ফুট অবুঝ বালকের ন্যায় আবদার করে বসল,
“চলনা একটু বাসর করি। বেশি না একটু প্লিজ প্লিজ।”
অগ্নিদগ্ধ নয়নে তাকালো ন্যান্সি।এই লোকটা এমনভাবে বাসর করতে চাচ্ছে যেনো এটা খেলার কিছু, যখন ইচ্ছে তখনই করতে পারবে।
চোখে চোখেই লোকটাকে শাসিয়ে বলে ওঠে ন্যান্সি,
“বাসর কি হাতের মোয়া ? যে আপনি চাইলেন আর আমি করতে দিলাম?”
আফরিদ দুর্বল হেসে কপালের একপাশ চুলকে হাস্কিটুনে বলে,
“যা,বোকা বান্দি,বাসর মোয়া হতে যাবে কেন? এটা তো হচ্ছে এক্সারসাইজ! বিস্তারিত জানতে হলে করতে হবে।”
অধরষ্টো কিঞ্চিৎ ফাঁক হয়ে এলো কন্যার। হৃদয় আঙিনায় কেউ যেনো ঢাক ঢোল পিটিয়ে চলেছে। উপরে উপরে রাগ দেখালেও ভেতরে ভেতরে মন জমিনে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে আঁকাবাঁকা পথ ধরে।
“ভালো হচ্ছে না কিন্তু! আপনি এখুনি বের হন বাড়ি থেকে!”
আফরিদ বের তো হলোই না উল্টো স্যুটটা খুলে শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে আওড়ে,
“জোর জবরদস্তি আমার পোষায় না রেএএ। যদি জোর করতে পারতাম তাহলে দিন তিনবার তোকে শাওয়ার নিতে হতো।”
এহেন কথায় পরিপ্রেক্ষিতে কি বলা যায় খুঁজে পেলো না কন্যা! লজ্জায় কান লাল হয়ে আসছে তা ঠিকই বুঝলো।
আফরিদ বাতাসের বেগে ছুটে এসে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ল বিছানায়।
হকচকালো মেয়েটা, কিন্তু তাতে বিন্দুমাত্র ভাবান্তর নেই নষ্ট পুরুষের।
“উফ্, ছাড়ুন অসভ্য লোক! বলেছিলাম ডিভোর্স দেব কিন্তু আপনি তো দেখছি!”
ডিভোর্সের কথায় চোখ নামিয়ে বুকে লেপ্টে থাকা ছিপছিপে গড়নের মেয়েটাকে দেখল আফরিদ। কোনো রূপ সতর্ক বার্তা ছাড়াই লালাভ গালে কামড় বসিয়ে চোখ বুজে।
“চুপচাপ ঘুমা, ওভাবে তাকিয়ে থাকলে আমার সিস্টেমে লাইট অফ অন হয়।”
নাক মুখ কুঁচকে ফেলল ন্যান্সি। এই লোকের মুখে লাগাম নেই। আল্লাহ মাবুদ জানে একটা মানুষ এতটা লাগামহীন কিভাবে হতে পারে?
“খ্রিস্টানের বাচ্চা রে তোর রবের কাছে একটু বুদ্ধি চেয়ে নে। আমার মন বোঝার মতো বুদ্ধি যাতে দেয় তোকে।”
ন্যান্সি হাপুস নয়নে চেয়ে রইল আফরিদের নিখুঁত মুখপানে।
বুকে মাথা রেখেও স্পন্দন শুনতে পাচ্ছে না ন্যান্সি। থমকালো, চমকালো স্থির হয়ে কর্ণপাত করল বক্ষে। উঁহু শুনতেই পাচ্ছেনা!
“আপনার স্পন্দন শুনতে পাচ্ছিনা, আফরিদ!”
আফরিদ হাসলো কি-না জানা নেই,তবে হাতের বাঁধন আরো জোড়ালো হলো তার। ওভাবেই আষ্টেপৃষ্ঠে নিজের সাথে পিষ্ট করে অস্ফুট স্বরে ধ্বনিতে হলো,
“আমি মানুষ নই, তাই শুনতে পাচ্ছিস না! মানুষ হলে ঠিকই শুনতে পেতি!”
সবেগে আফরিদের বুকের বাঁ পাশে ঘুষি বসালো ন্যান্সি। ব্যথা পেয়ে ‘আউচ’ শব্দ করে হেসে ফেলল আফরিদ।
মনে মনে শখানেক গালি ছুঁড়ল ন্যান্সি।
🌼🌼
ঘুমন্ত ন্যান্সি জেগে উঠেছে , নিজেকে উন্মুক্ত বুকে দেখে ধীরে ধীরে উঠে বসলো। দৃষ্টি তার ঘুমন্ত যুবককে মুখ পানে।
এলোমেলো হয়ে ঘুমোচ্ছে তার নষ্ট পুরুষ। আফরিদ এহসান। কতটা শান্ত দেখাচ্ছে। অথচ এই লোকটা জেগে থাকলে সকলকে অশান্ত করে ছাড়ে, বিশেষ করে তাকে তো নাকানিচোবানি খাইয়ে ছাড়ে।
“উঠে পড়ুন এহসান সাহেব।”
মেয়েলি স্বরটা শুনে মৃদু হাসলো আফরিদ। দু’হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ন্যান্সি কে। ছেড়ে দিলেই বুঝি প্রজাপতির ডানা মেলে উড়ে যাবে দূরে কোথাও।
কেমন ঘুম জড়ানো কন্ঠে ওঠে,
“ঘুমোতে দে আমি অনেক দিন ঘুমাই না।”
ন্যান্সি নির্বাক , সত্যি কি আফরিদ তাকে ছাড়া এতটা উগ্র হয়ে উঠেছে?
ন্যান্সি মোটেও তাকে চায়না না, তাহলে কেন কষ্ট হয়? আফরিদ যে এক পাপী এক নিষ্ঠুর মানুষ। তবে কেন তার জন্য এতটা মায়া ন্যান্সির? কষ্ট হয় ন্যান্সির।
“ছাড়ুন।”
আফরিদ কে ছেড়ে উঠে বসলো ন্যান্সি। কাল পুরোটা রাত আফরিদ ন্যান্সির পা মালিশ করে দিয়েছে! পায়ের ব্যথায় ছটফট করছিল শুধু। ন্যান্সি তখন আরামসে ঘুমিয়ে কাটিয়েছে।
এরপর কি হলো হঠাৎ আফরিদ উঠেই দ্রুত রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ল। যাওয়ার সময় একটাই কথা বলে গিয়েছে। বাংলাদেশ ফিরে যাচ্ছে।
ন্যান্সি আঁতকে উঠে। জানালার কাছে বসে ছিল। কিছুক্ষণ আগের কথা গুলো ভাবছে। একটা মানুষ ঠিক কতটা ভালোবাসতে পারে তা আফরিদকে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারতো না ন্যান্সি। কতটা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসে যাচ্ছে লোকটা, অথচ তার বিনিময়ে কষ্ট উপহার দিচ্ছে মেয়েটা!
ইদ্রান আর স্মাইলির সঙ্গে কথা হয়নি জঙ্গল থেকে ফেরার পর।
না এগুলোতে তাকে সময় নষ্ট করলে চলবে না,এই মূহুর্তে দ্রুত মিস্টার আলবার্ট কে খুঁজতে হবে। কোথায় আছেন কি করছেন খুঁজতে হবে। কিন্তু কোথায় খুঁজবে?এই অচেনা শহরে যতটুকু সম্ভব খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে, ন্যান্সি যে দিশেহারা পথিক!
🌿_🌿
লুসিফার যাকে ব্ল্যাক ওয়ার্ল্ডে এল এ বি নামেই জানে। বেশীরভাগ খারাপ কাজের সাথেই জড়িত সে। কিন্তু ব্ল্যাক ওয়ার্ল্ডে মাফিয়া কিং কে সেটা এখনো অজানা । কিন্তু এমন কেউ আছে যার হয়ে লুসিফার এলেন ইদ্রান বড় বড় কান্ট্রি গুলোর ওয়ার্ড মাফিয়াদের সঙ্গে তার ওঠবোস করে। প্রাইম মিনিস্টার থেকে প্রত্যেকটা বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তার আলোচনা চলে। পুলিশের কাছে একটাও পাকাপোক্ত প্র’মাণ পাচ্ছে না।আর যারাই তার বিপক্ষে কিছু বলেছে পরের দিন তার লা’শ পাওয়া গেছে। সেই সব গুলো মানুষ কে মে’রে তাদের কপালে ঈগলের ট্যাটু করে দেওয়া হয়। সেই ট্যাটু লুসিফার এলেন ইদ্রান ওর ঘাড়েও রয়েছে।
এক মাত্র প্রমাণের অভাবে কেউ কিছু করতে পারছে না। নিজের পাওয়ার কাজে লাগিয়ে সবসময় বেঁচে যায় এল এ বি। পাওয়ার ফুল এই লোকটার উপর ঠিক কে আছে সেটাও খুঁজতে হবে তাদের।, পাওয়ার ফুল বিজনেস ম্যান,অর পাওয়ার ফুল সিক্রেট কি’লার।
এতক্ষণে থামলো ইস্ক্রিয়াস।তার ব্যায় করা বাক্য গুলো শুনে স্তম্ভ স্মাইলি।
স্মাইলি স্ফূর্ত ধ্বনি তুলল।
“কী? আপনি.. আপনি যা বলছেন তা কি স…
ইস্ক্রিয়াস আগে থেকেই জানতো স্মাইলি এত সহজে বিশ্বাস করবে না।তাই তো আগে থেকেই সবটা গুছিয়ে রেখেছিল। টেবিলের উপর ধুলো মাখা ফাইলটা তুলে নিল।ফু দিয়ে উড়িয়ে দিল উপরের ধুলোবালিছাই।
“এটা পড়ো।”
ফাইল ওপেন করল স্মাইলি। প্রতিটি জায়গায় রেড মার্ক করা এল এ বি নামটি।যত গুলো বেআইনি কাজ আছে তার জড়িয়ে আছে এই লোকটা। নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছে না স্মাইলি!কই স্মাইলির সঙ্গে তো কখনো
গলা উঁচু করে পর্যন্ত কথা বলে না? তবে কি ওইটা তার মুখো’শ?
“তুমি কি জানো তোমার মা কে সে প্যালেসে বন্দি করে রেখেছে?তার অবস্থা কতটা খারাপ হতে পারে আন্দাজ করতে পারো!”
বুকটা হো হো করে কেঁদে উঠে স্মাইলির। অশ্রু ঝরে অক্ষিপুট হতে।
“আমার মা কে বের করুন প্লিজ!”
“করব তবে তোমাকে একটা কাজ করতে হবে।”
“কী কাজ?”
বাঁকা হাসলো ইস্ক্রিয়াস।সে এবার যেটা করতে চলেছে তা আন্দাজও করতে পারবে না লুসিফার।
বড় দালান পার করে ভেতরে দু’টো ব্রিফকেস নিয়ে এলো স্মাইলি। ভেতরে কী আছে তা জানা নেই তার, তবে এতটা শিও্যর ইস্ক্রিয়াস কিছু একটা করবেই। ইদ্রান ব্যতিত তার রুমে কেউই প্রবেশ করতে পারবে না। তবে স্মাইলির কাছে পারমিশন রয়েছে যাওয়ার। ব্রিফকেস নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে স্মাইলি।আপাতত প্যালেসে কেউ নেই। পায়ে থাকা বিড়াল জুতোটা খচখচ আওয়াজ করছে।পা টিপে টিপে এগিয়ে যাচ্ছে স্মাইলি।দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল। পুরো রুমটি অন্ধকারে ডু’বে আছে।
ভেতরে ঢুকে সন্দিহান দৃষ্টিতে আশেপাশে আরো একবার চোখ বুলিয়ে নিল। মস্তিষ্ক জানান দিচ্ছে কেউ নেই।হাতে থাকা ব্রিফকেস টা নিয়ে লক করা ওয়াড্ররোবের মধ্যে লুকিয়ে রাখলো।
ঘন্টা খানেক পরেই প্যালেসে হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করে লুসিফার এলেন ইদ্রান। বারংবার ঢোক গিলছে সে পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা ইভান দ্রুত প্যালেসের দরজা বন্ধ করে দিতে বলল।লুসিফার বড় বড় কদম ফেলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল।আপাতত তাকে স্মাইলি কে নিয়ে বেরোতে হবে।রোজি কে কোলে তুলে নিচেই আসছিল স্মাইলি। ইদ্রান কে দেখে কিঞ্চিৎ অবাক হলো।
“আপনি..
“কাম।”
স্মাইলি কিছুই বুঝতে পারছে না। হঠাৎ এই ইদ্রান এতটা উত্তে’জিত হচ্ছে কেন?
“কী হয়েছে?”
“নো মোর ওয়ার্ডস।”
কোনো কথাই বলতে দিল না লুসিফার।আবারো দ্রুত গতিতে স্মাইলি কে নিয়ে ড্রয়িং রুমে চলে এলো। আকস্মিক খট করে প্যালেসের মেইন ডোর খুলে হামলে পড়ে ভেতরে এলো পুলিশ ফোর্স। গার্ড রা কিছু করবে তার পূর্বেই পুলিশ ফোর্স তাদের ঘিরে ধরে।
“ডোন্ট মুভ।”
রিভলবার ডিরেক্ট ধরেছে লুসিফার মাথার মধ্যে খানে। স্মাইলি চমকায়, তাকিয়ে আছে ইস্ক্রিয়াসের দিকে।
“দিস ইজ নট ফেয়্যার ইস্ক্রিয়াস!”
একপেশে হাসলো ইস্ক্রিয়াস।পকেট থেকে বের করে সামনে ধরে সার্চ ওয়ারেন্ট পেপার।
“এবার তুই তো গেলি লুসিফার।”
স্মাইলি অবাক নেত্রে চেয়ে রইল অনেক্ষণ।তার মানে কি ব্রিফকেস অন্য কিছু ছিল যেটাতে লুসিফার কে ইস্ক্রিয়াস অ্যারেস্ট করবে?
রাতটা ছিল ঘন তিমিরে আচ্ছন্ন। চাঁদ কোথাও নেই, আকাশে একফোঁটা আলো পর্যন্ত নেই। যেন পুরো পৃথিবীটাই হারিয়ে গেছে কোনো অদৃশ্য গহ্বরে। বাতাস থমকে আছে, গাছের পাতাগুলোও নড়ছে না, যেন তারাও এই নিকষ অন্ধকারের কাছে নত হয়ে গেছে।
বলিষ্ঠ শক্তপোক্ত পুরুষ কে কাবু করা কি এতটাই সহজ?উহু নয়তো তাই তো এতক্ষণ ধরে এক নাগাড়ে এল এ বি কে মেরেই চলেছে দিবাং, অথচ ছক চুল পরিমাণ নড়াতে পারলো না।একই ভঙ্গিতে বসে আছে সে!টু শব্দটি করেনি।মে’রে মে’রে ক্লান্ত হয়ে পাশে গিয়ে বসলো দিবাং।
“কী রে এল এ বি একটা মা’রও লাগেনি!”
হাসিতে ফেটে পড়ে লুসিফার। ভ’য়ংকর সেই হাসি কেঁপে উঠে দিবাং। নিস্তব্ধ এই নিপুন এলাকায় চারপাশে নীরবতা এত গভীর যে নিজের নিঃশ্বাসকেও বেমানান মনে হয়। দূরে একপাল নিশাচর পাখি উড়ে যাচ্ছে, ডানার ঝাপটায় বাতাসে এক মুহূর্তের জন্য এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়, তারপর আবার নিস্তব্ধতা।তখনই আগমণ ঘটে ইস্ক্রিয়াসের।
ইস্ক্রিয়াস গেইম খেলছে,লুসিফার কে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়নি। নিয়ে গেছে অন্য একটা জায়গায়। অন্ধকার সেই বন্ধ ঘরটি।যদি এই মূহুর্তে তাকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে সে খুব সহজেই বেরিয়ে আসতে পারবে।হি ইজ সাচ আ পাওয়ারফুল ম্যান।
পাশের একটি চেয়ার টেনে বসলো ইস্ক্রিয়াস।
“তারপর মিস্টার এল এ বি কেমন লাগছে পুলিশের আপ্যায়ন?”
এবারেও হেসে ফেলল লুসিফার। ফিসফিসিয়ে বললো।
“ইস্ক্রিয়াস ইউ আর অ্যা লুজার।ছে ইয়ার শেষমেশ আমার ওয়াইফকে ইউজ করলি?”
চকিতে চোখ তুলে তাকালো ইস্ক্রিয়াস।
স্মাইলি তার ওয়াইফ?কই সে তো এই ব্যাপারে কিছুই বলেনি!
“আজকের ডেইট টা লিখে নে ইস্ক্রিয়াস।তোর লাক টা ভীষণ ভালো ছিল তাই আমাকে ধরতে পেরেছিস।বাই দ্যা ওয়ে কাল সকাল ঠিক নয়টার দিকে আমি যাবো। মুক্ত আমি।”
কপালে ভাঁজ পড়লো ইস্ক্রিয়াসের। ব্যঙ্গ করে বলল,
“স্বপ্ন দেখ।”
হেসে ফেলল লুসিফার। চোখের চাহনি বড় হয়ে উঠে, মনে হচ্ছে কোঠা থেকে বেরিয়ে আসবে।
“আই মিন ইট।”
ইস্ক্রিয়াস খুব একটা গুরুত্ব দিল না।উঠে বাইরে বেরিয়ে গেল। দিবাং সাথে সাথে বেরিয়ে পড়ল , আবারো অন্ধকারে ডু’বে গেল রুমটা।
🌼🌼
বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা রাইসা বারংবার ঢোক গিলছে।
ইস্ক্রিয়াস কাছাকাছি আসা মাত্র অস্থির কন্ঠে বলল।
“কী ভ’য়ংকর ব্যাপার স্যাপার! লোকটার ভয়ডর নেই?”
ইস্ক্রিয়াস হেসে ফেলল।
“ওসব ছাড়ো। এবার খুশিতো ম্যাডাম?”
রাইসা উপর নিচে মাথা দোলায়।
“হ্যা একদম।”
ইস্ক্রিয়াস যখন বলেছে এল এ বি কে ধরেছে সেদিন থেকে বায়না ধরেছে তাকে দেখবে। ইস্ক্রিয়াস না করেও হলো না।রাইসা যাবেই যাবে।আর কিছু করার নেই ইস্ক্রিয়াসের, কিউটি পাই যাই বলল তাই করলো।রাইসা মুচকি হাসলো।
“চলো যাই!”
রাইসা ব্যস্ত কন্ঠে বলে উঠে।
“না না তোমাকে যেতে হবে না আমি পারব যেতে।”
ইস্ক্রিয়াস মনে জমা সঙ্কট দূর করতে বলল।
“আর ইউ শ্যিওর?”
“ইয়েস।”
রাইসা আড়চোখে আরো একবার সেইখানে দৃষ্টি বুলিয়ে এগিয়ে গেল।
🌿____🌿
রাতবিরেতে ন্যান্সির সাথে দেখা করতে এসেছে স্মাইলি।
কলিং বেল বাজতেই ন্যান্সি গিয়ে দরজাটা খুলে দিলো। স্মাইলি কে দেখা আশ্চর্য হলো ন্যান্সি।
“স্মাইলি তুমি এখানে? তুমি এখানে কি করছো?”
স্মাইলি তড়িঘড়ি করে ভেতরে ঢুকে এলো।
“ইলহাম আমি জানি না কি হচ্ছে, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমি খুব বড় ভুল করেছি।”
ন্যান্সি স্মাইলির কোনো কথার অর্থ বুঝে উঠতে পারছে না।
“এক মিনিট কি হয়েছে বলবে আমাকে?”
স্মাইলি হাঁপাতে হাঁপাতে বললো।
“আমি সত্যি চাইনি লুসিফার কে ধরে নিয়ে যাক। কিন্তু ইস্ক্রিয়াস নিয়ে চলে গেছে তাকে!”
চমকে উঠে ন্যান্সি। এইজন্যই বুঝি প্যালেসের সামনে এত এত গাড়ি দেখেছিল সে? সকাল থেকে কয়েকবার লুসিফারকে কল করার পরেও সে এই কারণে রিসিভ করেনি? ইদ্রানের সাথে জরুরী আলাপ আছে ন্যান্সির।কেন লোকটা তাকে মিথ্যে বলেছে এতদিন? সব প্রশ্নের জবাব চাই। বিস্মিত কন্ঠে বলে উঠে।
“কি ইদ্রান ভাইয়া কে নিয়ে গেছে?”
স্মাইলি কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। সন্দিহান কন্ঠে বলে।
“ইদ্রান ভাইয়া মানে? তুমি তাকে কিভাবে চেনো?”
মুখ ফসকে ন্যান্সি কথাটা বলে ফেলল। স্মাইলির সন্দিহান দৃষ্টি দেখে ন্যান্সি আমতা আমতা করে বলল।
“আগে তুমি বলো তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে?”
স্মাইলি কিছু বলতে যাবে তার পূর্বেই কাঁচের জানালা দিয়ে একটা গু’লি এসে ছিটকে পড়ে তাদের দিকে।
চিৎকার করে উঠল স্মাইলি ন্যান্সি এলোমেলো হাতে ড্রয়ার থেকে নিজের রিভলবার টা বের করে আনে যেটা ইদ্রান তাকে দিয়েছিল।
এলোমেলো হাতেই গুলি চালায়। কিছুদিন হয়েছে সবে রিভলবার চালাতে শিখেছে ন্যান্সি। এবার যে করেই হোক স্মাইলি কে বাঁচাতে হবে এবং নিজেকেও বাঁচাতে হবে তাকে।
ন্যান্সি দিশেহারা হয়ে স্মাইলি নিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে বাইরের দিকে দৌড়ায়। দৌড়াতে দৌড়াতে এসে পৌঁছেছে পার্কিং লটে।
একটা গাড়ির পিছনে চুপটি করে বসে আছে দু’জনে।
স্মাইলি হাঁপাতে হাঁপাতে শুধোয়।
“ইলহাম কে তুমি? সত্যি করে বলো?”
ন্যান্সি আমতা আমতা করে, কি বলবে খুঁজে পায়না। কিভাবে বলবে সে একজন মাফিয়ার ওয়াইফ,সেই মাফিয়া যার সাথে লুসিফার এলেন ইদ্রানের শত্রুতা। তাকে ব্যবহার করেই এখানে থাকছে ন্যান্সি। নিজের আসল পরিচয়টা তো লুকিয়ে গেছে মেয়েটা। আকস্মিক তাদের সামনে দু’জনে লোক এসে দাঁড়ালো। দু’জনেই রিভলবার তাক করে রেখেছে।
স্মাইলি ভয়ে কাঁপছে , ন্যান্সি আর স্মাইলি দুজনেই উঠে দাঁড়ালো।
স্মাইলি জানে না কি হতে চলেছে। ন্যান্সি নির্বাক।
ঝড়ের বেগে পিছন থেকে গুনে গুনে ঠিক দু’টো গুলি এসে বিঁধে লোক দুটোর কপালে।
ন্যান্সি পিছু তাকাতেই শিউরে উঠে। পরিচিত সেই মুখটি দেখে ভেতরে ভেতরে স্বস্তি ফিরল। অস্ফুট স্বরে ডেকে উঠল।
“ঈশান ভাইয়া?”
বাকি লোক গুলো আসার আগেই একের পর এক ফায়ার করলো ঈশান। এত গুলাগুলি, র’ক্ত দেখে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম স্মাইলির।
স্মাইলি এতটা স’হ্য করতে পারে না তার আগেই জ্ঞান হারালো। তাকে ধরে আনতে গিয়ে পা পিছলে নিচে হুমড়ি খেয়ে পড়ে ন্যান্সি। প্রচন্ড রকম ব্যথা পেলো পায়ের গোড়ালিতে। মূহুর্তের মধ্যে জায়গাটা লাল বর্ণ ধারণ করেছে। পা চেপে কঁকিয়ে উঠলো ন্যান্সি। ব্যাথায় নাক মুখ কুঁচকে আসছে আপনাআপনি।
“আহ্…
“ম্যাম!”
ঈশান আঘাতপ্রাপ্ত ন্যান্সি কে হাটু গলিয়ে কোলে তুলে নিল।
ওদিকে স্মাইলি জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে আছে মাটিতে।
“ভাইয়া স্মাইলি কে বাঁচান প্লিজ, আমাকে ছাড়ুন আপনি।”
“সরি ম্যাম সবার আগে আপনাকে বাঁচানো আমার দায়িত্ব।”
ন্যান্সি কে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে রাখলো ঈশান, পরক্ষণেই দৌড়ে গিয়ে স্মাইলি কে নিয়ে এলো।
চলবে………।✨
(📌 পরের পর্বে বাংলাদেশ। আপাতত ন্যান্সির স্পেনের যাত্রা এখানেই শেষ। ও হ্যাঁ সবাই পারলে দুটো করে কমেন্ট করবেন, পেইজের অবস্থা খারাপ!
(📌একটু রেসপন্স করবেন কেমন? যাতে পহেলা বৈশাখে আরেকটা পর্ব দিতে পারি।
আমার আইডি Farhana Nijum
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৬(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৫(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৮(শেষ অর্ধেক)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৪