Love or Hate পর্ব ৪১
|#
ইভেলিনা_তূর্জ
⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে
দরজায় উদয় হলো সেই মানবী, যাকে কেন্দ্র করে এই প্রলয়। রোজ দাঁড়িয়ে আছে। এতোক্ষণ যাবৎ সব শুনেছে।ইউভানকে চরম আঘাত করতে উদ্যত আদ্রিয়ান হঠাৎ থমকে গেলো। রোজ যে এতোক্ষণ যাবৎ এখানেই দাঁড়িয়ে ছিলো তার দুপক্ষেরই আজানা।রোজকে দরজায় দণ্ডায়মান দেখে ইউভানের ওষ্ঠাধরে এক পৈশাচিক ও তাচ্ছিল্যভরা হাসি ফুটে উঠলো।রোজ তাহলে এতোক্ষণ এখানেই ছিলো??ইউভান আদ্রিয়ানের কলার আলগা করে দিয়ে দুই হাত আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে ওপরে তুলে ধরলো।যেনো কোনো নাটকের ক্লাইম্যাক্স উপভোগ করছে এই পুরুষ।
রোজ এক অসহ্য ঘৃণায় আড়ষ্ট। সে ধীর পায়ে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ফুট স্বরে বলে উঠলো-
”আমি কি বাজারের কোনো পণ্য?পণ্যে আ… মি?”
রোজ ইউভানের ধূসর অগ্নিগোলকের মতো অক্ষীপলের দিকে স্থির তাকিয়ে রইলো। পরক্ষণেই এক আত্মঘাতী বিদ্রূপ রমণীর ওষ্ঠাধরে ফুটে উঠলো।
”হ্যাঁ! পণ্যই তো! আমাকে তো বাজারের পণ্যই বানিয়ে দিয়েছে এক গুণধর কাপুরুষ!”
আদ্রিয়ান বিচলিত হয়ে রোজের সন্নিকটে আসার চেষ্টা করলো।
”লিসেন্ট রোজ! এইসব কথায় তোমার কান দিতে হবে না! এইসব নিয়ে তোমার ভাবার প্রয়োজন নেই আর।ভাবতে হবেও না আর!”
ইউভান তখন সম্পূর্ণ নির্বিকার। দু’কদম পিছিয়ে গিয়ে বেসিনের ওপর নিজের দুই বলিষ্ঠ হাত ঠেকালো।মনে মনে এক অমোঘ ধ্বংসের উল্টো ক্ষণগণনা শুরু করলো- 5, 4, 3,2, … 1!
ঠিক তখনই কক্ষের নিস্তব্ধতা চূর্ণ করে এক প্রকান্ড চড় আছড়ে পড়লো ইউভানের গালে। ইউভান স্থির রইলো, যেনো এই প্রহারই ছিলো তার বহু আকাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তি।ইউভানতো জানতোই থাপ্পড় এসে তার গালেই পড়বে।এটা তো তারই প্রাপ্যে।বউ যার ফ্রি থাপ্পড়ও তার!রোজের হাত পাঁ রীতিমতো কাঁপতে লাগলো।রমণীর স্নিগ্ধরঙা নেত্রপল্লবে তখন বারিধারা জমে উঠেছে, যা অবাধ্য হয়ে না ঝড়লেও এক নিদারুণ ক্লেশ বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। রোজ ইউভানের শার্টের কলার বজ্রমুষ্টিতে খামচে ধরলো।দৃষ্টি এবার আদ্রিয়ানের দিকে ঘুরে গেলো।
”ভালোবাসেন আমায়? আমি বলেছি আমায় ভালোবাসতে? আমার মতো এই অযোগ্য মেয়েকে ভালোবাসা যায় বুঝি? বিয়ে করতে চান?ঠিক আছে!”
অতঃপর রোজ ইউভানের ধূসর অক্ষিপটে প্রগাঢ় দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো।অশ্রুকণা জমে ওঠার ফলে ইউভানের মুখাবয়ব এখন রমণীর চোখে ঝাপসা হয়ে এলো। যন্ত্রণার এক অতল সাগরের গভীর গহ্বরে রোজ আজ আরও নিমজ্জিত হচ্ছে।রোজ ইউভানের শার্টের নিম্নাংশ সজোরে খামচে ধরলো।তারপর বাক্যউক্তির পুনরাবৃত্তি ঘটালো।
”তবে তার আগে আমার কিছু হিসেব বাকি আছে একজনের কাছে!”
আদ্রিয়ান রোজের কাছে এসে বাধা দিতে চাইলো।
”ছেড়ে দাও রোজ! ওকে যা বলার আমি বলছি!”
রোজ এক হাত উঁচিয়ে আদ্রিয়ানকে থামিয়ে দিলো। তার তপ্ত ও কঠিন চাহনি যেনো আদ্রিয়ানের সমস্ত পৌরুষত্ত্বকে স্তব্ধ করে দিলো।
”আমাকে একটু সময় দিন এ্যা’ডশ! আমাকে আটকানোর বৃথা চেষ্টা করবেন না!”
আদ্রিয়ান চোয়াল শক্ত করে চোখ দুটো বুজে নিলো। এই মায়াবী নারীকে অবমাননা করার ধৃষ্টতা এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ গ্যাংস্টার ভোলকভকেও বিধাতা দেয় নি। রোজ একপ্রকার ইউভানের শার্টের নিম্নাংশ টেনে ওয়াশরুমের বাইরে পদার্পণ করলো।ইউভান আটকালো না।এদিকে রোজের পুরো শরীর আসাড় হয়ে এসেছে।এই বুঝি দেহ থেকে প্রাণ পাখিটা বের হয়ে না যায়।এতো সহজে রোজ মরবে না।যদি মৃত্যু এই প্রকান্ড নারীর দোড় গোড়ায় এসেও দাড়ায় তাহলে সে হিসেব চুকিয়ে তারপর মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবে।নাহলে আত্মার শান্তি মিলবে না। ইউভান তার পিয়ার্সিং করা ভ্রু খানিকটা উঁচালো।তবে বাঁধা প্রদান করলো না।রোজ যে শরীরের ভার আর সামলাতে পারছে না তা ইউভানের দৃষ্টির অগোচরে গেলো না।রোজ একবার ডিনার পার্টিকে কেন্দ্র করে বললো।
”এই মুহূর্তে আপনার আর আমার মাঝে কোনো তৃতীয় ব্যক্তি আমি চাই না! আপনার আর আমার মাঝে যেনো একটা পিঁপড়েও না আসে! পথ আটকাতে নিষেধ করবেন… নাহলে আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না!”
ইউভান তার প্রহরীদের দিকে এক অবজ্ঞার ইশারা করলো। কক্ষের বাইরে মোতায়েন করা সমস্ত সশস্ত্র রক্ষীদের আদেশ দিলো যেনো রোজের পথে কোনো বাধার প্রাচীর তৈরি না হয়।ইউভান এক ঝটকায় রোজের হাত সরিয়ে দিয়ে এক ক্ষিপ্রতায় রোজের কব্জি চেপে ধরলো।টানতে টানতে নিয়ে গেলো পাঁচতলায় নিজের কক্ষে। ডোর লক করে দিলো।এদিকে মন্সটার বিচ এর দরজার বাহিরে সবাই উপস্থিত। তবে কক্ষ ফুল সাউন্ড প্রুফ। তাই শব্দ বাহিরে যাওয়ার উপায়ন্তর নেই।
এদিকে পুরো রুম গুটগুটে অন্ধকার না হলেও চাঁদের আলোয় মুখাবয়ব স্পষ্ট দেখার ক্ষমতা রাখে।ইউভান টেনে এনে রোজকে ছুঁড়ে ফেললো মখমলের বিছানায়।এলোমেলো হয়ে উঠলো রমণীর শাড়ীর ভাঁজ।ইউভান শার্ট খুলে উদম শরীরের ঝুঁকলো রোজের সন্নিকটে।এদিকে নেত্রপল্লব দিয়ে অঝরে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো রমণীর।আর বাঁধ মানলো না।রোজ ফেলে দিলো তার শাড়ীর আঁচল।শাড়ির আঁচল সরাতেই মনস্টার বিচ এর অক্ষীপলের সামনে উ*ন্মুক্ত হলো রমণীর সেই দুগ্ধশুভ্র মসৃণ ত্বক,দেহের প্রতিটা বাঁক।রোজের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।ক্রন্দনরত অবস্থায় চিল্লিয়ে উঠলো।
“নিন! শেষবারের মতো নিজের কামনার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে নিন।এটাই তো চেয়েছিলেন আপনি!আমি আবারো আপনার কাছে নিজের সর্বাঙ্গ বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত হলাম।”
ইউভান ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ হলেও পরক্ষণেই তার ভেতরের জানো’য়ারটা হুঙ্কার দিয়ে উঠলো। রোজের গ্রীবাদেশে হাত রেখে সজোরে চুলের মুঠি চেপে ধরলো, ঠোঁটে ঠোঁটের মিলন ঘটালো।ক্ষিয়ৎকাল অতিবাহিত হতেই ইউভান রোজকে ছেড়ে দিলো।এক বাঁকা ও কদর্য হাসি হেসে একটা চেয়ার টেনে রোজের মুখোমুখি বসলো ইউভান। এক রাজকীয় দম্ভে পায়ের ওপর পা তুলে সিগারেটে আগুন ধরালো।সিগারেটে কয়েকটান মেরে হাত উঁচিয়ে রোজকে বলল-
”শুরু কর সুইটহার্ট, কাম অন! দ্যান আই উইল ফা*ক ইউ! হোয়াট ইউ ওয়ান্ট অ্যান্ড ইউ কান্ট ইমাজিন!”
রোজ দ্রুত আঁচল টেনে নিজের লজ্জা নিবারণ করলো ইউভানের নির্লিপ্ত দৃষ্টির সামনে রোজকে তখন এক ‘বিদীর্ণা বনলতা’র মতো মনে হচ্ছিলো যার পত্রপল্লব ঝরে পড়েছে পৈশাচিক ঝড়ে, অথচ কাণ্ডটি তখনও মহীরুহের মতো দণ্ডায়মান। রোজ দেখলো ইউভানের ধূসর অগ্নিগোলকের মতো নেত্রদ্বয়ে যেনো দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন।রোজের মন বলছে এখুনি মাটি খুঁড়ে তাতে শুয়ে পড়তে।বাঁচার ইচ্ছেটা যেনো আগের থেকে আরোও লোপ পেয়ে বসেছে।ভিতরটা চর্ণ*বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।কিভাবে বুঝাবে??কি করে বলবে,কি করে ইউভানকে চুপ থাকতে বলবে যে আপনার একটা তীক্ষ কথার ঝাঁঝ হৃদয়ে তীরের মতো ঢুকে।রোজ চরম ধৃষ্টতা দেখিয়ে এগিয়ে এলো তারপর আলতো হাতে ইউভানের দুই গাল স্পর্শ করলো।সিগারেটের ধুঁয়াটা আজ আরও অসহ্য লাগছে তার।এদিকে ঝাপসা হয়ে আসা আঁখিপল্লবে ইউভানে মুখটা দেখার চেষ্টা করলো।পারছে না স্বামী নামক পুরুষটার অবয়ব ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে উঠলো।
”কেনো করলেন এমন আপনি? কী দোষ করেছিলাম আপনার সাথে? আমার ভুল কী ছিলো?”
”কোনো ভুল নেই তোর! ছিলো আত্মার শান্তি!শূন্যতা গিলে গিলে এসেছি যে তাই তোকে দিয়ে শান্তি পেতে চেয়েছিলাম।প্রশান্তি”
রোজের হৃদয়ে তখন প্রলয়ঙ্করী ঝঞ্ঝা।সে তো জানেই এসব! তাহলে কেন বারবার এসব জানতে চেয়ে নিজের বিনাশ ঘটাতে চাইছে চিরতরে?স্ব-ইচ্ছায় চেয়েও পারছে না এই মানুষরূপি দানবটার থেকে দূরে যেতে।তাহলে কেনো নিজের বিনাশের পথটি নিজেই কণ্টকাকীর্ণ করে তুলছে?রোজ বলে উঠলো-
”শান্তি পেয়েছেন? অথচ একটিবার যদি সেদিন আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমায় বিয়ে করার কথা বলতেন, আমি কখনোই আপনাকে ফিরাতে পারতাম না ইউভান। রিক আলবার্টকে ফেরানোর মতো সাধ্য আমার হয়ে উঠতো না!”
রোজ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পুনরায় বিষাদমাখা কণ্ঠে বিদ্রূপ ছুঁড়ে দিলো-
”কিন্তু আপ…..আপনার উদ্দেশ্য ছিলো বিকৃত! আপনার উদ্দেশ্য ছিলো আমায় তিলে তিলে শেষ করার, আমায় যন্ত্রণা দেওয়ার! আপনি সফলও হলেন। হ্যাঁ, আজ আপনি সফল! হেরে গিয়েছিলাম আমি, আপনি আজ জেতার খাতায় নাম লিখিয়ে নিলেন। এই দেখুন, আপনার কাছে থাকলেও যন্ত্রণায় পুড়ে মরি, দূরে যাওয়ার কথা ভাবলে হৃদয় পুড়ে! আমার ভাগ্য আমার ঘৃণার চেয়েও নির্মম!তবে মনে রাখবেন সব কিছুর একটা শেষ আছে!বিয়ের প্রথম রাতে বলেছিলেন না নামাজে বসে সৃষ্টিকর্তার কাছে কি নালিশ জানিয়েছিলাম?? আমি কোনো নালিশ জানাইনি সেদিন! শুধু চেয়েছিলাম-একদিন এমনও দিন আসবে আপনারও কষ্ট হবে, অনূভুতি শূন্যেতা ছিঁড়ে খাবে আপনাকে।আমার থেকেও দশগুন যন্ত্রণা আপনার হবে।তবে সেদিন নিজের পাশে আপনি কাউকে পাবেন না।পাবেন না এই আমিটাকে যে আপনার যন্ত্রণা দেখে অঝরে কাঁদবে।আপনার পায়ের দৌড়গড়ায় এসে পড়বে।তবে সেদিন যেনো আপনার চোখ থেকে এক ফোঁটা অশ্রুও না গড়িয়ে পড়ে।আজ যেমন পাষাণ হৃদয় আপনার সেদিনও এই পাষাণত্ত্ব ধরে রাখতে যেনো পারেন এই কামনা করেছি। এটা আমার অভিশাপ না এটাই ছিলো আপনার প্রতি আমার প্রার্থনা।হয়তো-বা আশ্চর্য হলেন??তবে এটাই সত্য। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে সেদিন আপনার মৃত্যু কামনা করিনি।”
রোজ ইউভানের গাল ছেড়ে দিলো।আ…র আর একটু ধরে রাখতে ইচ্ছে করলেও আত্মা কেঁপে উঠলো মেয়েটার।পাড়লো না।মন চাচ্ছে ইউভানের পাষাণ বুকটা ছিঁড়ে ফেলতে,আঘাত করতে পুনঃরায়। যেই হৃৎস্পন্দনে কোনো অনুভূতি নেই,যেই বুকে অন্য নারীর স্পর্শ লাগে সেই বুকটাই ছিঁড়ে দেখতে!শ্বাস আঁটকে আঁটকে আসছে তাও নিজেকে প্রগাঢ় ধরে রেখে রোজ হোঁচট খেতে খেতে পিছাতে লাগলো।শাড়ির আঁচল লুটপাটি খাচ্ছে মেঝেতে।
”আমায় আগে কেনো বললেন না? আপনার স্রেফ একটা বাচ্চার দরকার? আলবার্ট বংশের উত্তরাধিকারীর প্রয়োজন? বিয়ের আগে বলে দিতেন! তাহলে এত তামাশার প্রয়োজন ছিলো না, আমিই দিয়ে দিতাম একটা বাচ্চা আপনাকে! তারপর মুক্তি নিয়ে নিতাম সারাজীবনের জন্য!”
ইউভান সিগারেটে এক গভীর টান দিতে গিয়েও রোজের কথা শুনে সহসা থেমে গেলো। কিছুক্ষণ এক অপার্থিব নীরবতায় রোজের দিকে চেয়ে থেকে পুনঃরায় অট্টহাসিতে ফেঁটে পড়লো, যা কক্ষের স্তব্ধতা চূর্ণ করে দিলো।আত্মা কেঁপে উঠলো রমণীর, রোজের চোয়াল সজোরে চেপে ধরলো ইউভান।
”তোকে শুধু শুধু কুত্তার বাচ্চা বলি না আমি? বান্দির বাচ্চা!ম্যানিউপুলেশন একদমি করবি না!”
ইউভান প্রায় পাগলের মতো হুঙ্কার দিয়ে উঠলো।
আমি তোর চোখের জলকে ঘৃণা করি!কাঁদতে নিষেধ করি না??”
“কিন্তু আপনার তো ভালো লাগার কথা!”
“লাগতো এখন লাগে না!হ্যাঁ তোকে কাঁদাবো আমি তুই শুধু কাঁদবি আমার দেয়া সুখের যন্ত্রণায়,আমার বাচ্চা প্রসবের যন্ত্রণায়।ব্যাস পৃথিবীরতে আর কোনো জানো’য়ারের অধিকার নেই তোকে কাঁদানো। এমন হলে সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিবো আমি।আকাশ পাতাল জমি এই যমদূতের অমানিশার আঁধারে কেঁপে উঠবো।দেখবে রিল আলবার্টের প্রোপার্টিতে চোখ তোলে তাকানোর পরিমাণ কতোটা ভয়াবহ হতে পারে। “
“কেনো! আমি কে আপনার??কে আপনি আমার??”
“জানি না!ডোন্ট নো!মুখ চিপে রক্ত বের করে ফেলবো এসব ফা*কিং কথাবার্তা মুখ থেকে বের করবি তো!”
রোজ অবশ হয়ে জিজ্ঞেস করলো “আমার জীবনটা এভাবে নষ্ট কেনো করলেন?” ইউভান ক্রোধে গর্জনরত অবস্থায় বলল- ”বললাম না প্রশান্তি! শান্তি মিলেছে! শান্তি! তোর চোখের জলেই শান্তি মিলতো আমার! তোর কোনো ভুল নেই। তোর ভুল আমার সামনে আসা, তোর ভুল চৌধুরী পরিবারের মেয়ে হওয়া!” মুহূর্তেই ইউভান এক আদিম জানো’য়ারের মতো রোজের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।রোজকে নিজের উরুর ওপর বসিয়ে নিয়ে তার গ্রীবাদেশ, ললাট আর গালে একের পর এক দংশন করতে শুরু করলো। পরপর চুমু খেতে লাগলো।চুমুর রেশ এতোটাই গভীর যে রমণীর সহ্য শক্তি প্রায় অবশ হয়ে এলো।রোজের ওষ্ঠাধর এমনভাবে গ্রাস করলো যেনো আজ সব অস্তিত্ব নিংড়ে নেবে। তীব্র যন্ত্রণায় রোজের চোখ ফেটে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। ইউভান রোজকে বিছানায় ছুড়ে ফেলে ক্যাবিনেট থেকে হুইস্কির বোতল নামিয়ে সরাসরি গলায় ঢাললো। আঙুল উঁচিয়ে হুঙ্কার দিলো- ”চুপ থাকতে চেয়েছিলাম! কিন্তু তুই আমার ভেতরের জানো’য়ারটাকে বারবার জাগিয়ে দিয়েছিস, তুই কি যে চিজ রোজ, আত্মার বিনাশ ঘটানোর মতো অপ্সরা তুই! আজ আমি বলবো, তুই চুপ থাকবি! কাঁদবি না! শুনতে চেয়েছিলি না? শোন! ডোন্ট প্যানিক ইয়োরসেলফ সুইটহার্ট! আই অ্যাম ব্যাডলি হাংরি ফর ইউ!আই ওয়ান্ট টু ফা’ক ইউ মোর!” ইউভান এবার সেই কালান্তক রহস্যের দুয়ার উন্মোচন করলো।শ্রাবণের রাতে কক্সবাজারের হওয়া পুরো ঘটনা বলতে লাগলো।বলতে লাগলো তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রথম সাক্ষাৎ এর সূচনালগ্ন। কিভাবে রোজ আগ্রহী হয়ে উঠেছিলো একটা কিলারের প্রতি!খুন করতে দেখার পরও রমণী একজন কিলার একজন বিধর্মী আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়ার কাছে নিজের নিরাপত্তা কামনা করেছিলো।ইউভান এইটুকুও বললো সেদিন রোজের বোরকা খোলার পর দুমিনিট শাড়ী পরিহিতা শরীরের প্রতিটা বাকঁ দেখেও কোনো কামনা জাগে নি।ছুঁয়ে দেখার আগ্রহ হয়ে উঠে নি মনে।আমানিশার সে যে ছিলো এক ধ্বংস।যদি একটাবারও সেদিন রোজকে ইউভান লালসার নজরে দেখতো, তবে ওই রুদ্ধ কক্ষেই রোজের বিনাশ ঘটতো। কিন্তু এই পুরুষের অনুভূতি ছিলো আমানিশার মতো তুচ্ছ। মারতে চেয়েছিলো রোজকে তার প্রত্যক্ষসাক্ষীকে, কিন্তু এক নারীদেহকে সরাসরি বীভৎসভাবে হত্যা করার কুৎসিত তৃষ্ণা সেদিন জেগে ওঠেনি ইউভানের।তাই বেছে নিয়েছিলো অন্য পথ এক সুপরিকল্পিত দুর্ঘটনা!”ইউভানের মুখ থেকে উচ্চারিত এই ধ্রুব সত্যটি রোজের মস্তিষ্কের নিউরনে যেনো সহস্র বিদ্যুৎশিখার মতো আছড়ে পড়লো। মাথার ভেতর এক অসহ্য যন্ত্রণা, যেনো তপ্ত সীসা ঢেলে দিচ্ছে কেউ। রোজ আর্তনাদ করে নিজের মাথা চেপে ধরলো।গলা শুকিয়ে এলো।রোজের এহন অবস্থার মাঝেও ইউভান বলে উঠলো।
“ট্রাকের নিচে পিষে মারতে চেয়েছিলাম তোকে! কিন্তু মরলি না তুই! জানতাম না তোর ওই ক্ষুদ্র শরীরে কই মাছের প্রাণ লুকানো! শেষবারের মতো যখন তোর শয্যাপাশে গেলাম প্রাণটুকু কেড়ে নিতে… তখন… কী ছিল তোর ওই চোখে?
“কী এক অলৌকিক সম্মোহন ছিলো তোর ওই বাদামী অক্ষিপটে!এক পলকের সেই অবশ করা চাহনিতেই আমার পাষাণ হৃদয় চূর্ণবিচূর্ণ করে দিলি বটে।”
ইউভান এক ঝটকায় রোজের চিবুক উঁচিয়ে ধরলো,পাষাণ পুরুষটার অক্ষীপটে তখন ধ্বংসের এক ন*গ্ন উল্লাস।
”বলেছিলাম না, বেঁচে থাকলে ধ্বংস করে ছাড়বো? তাই এক নতুন ধ্বংসরূপে তোর সামনে আবির্ভূত হলাম! কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিলাম সেদিনও আমি। মারতে না পেরে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, অথচ তুই কী জাদু জানিস রোজ তোর আগুনেই আজ আমি নিজে দাউদাউ করে পুড়ছি! কী এক অলৌকিক ছলনা তোর এই মায়াবী রূপে!”
ইউভান এড়িয়ে গেলো সেদিন কেনো তূর্জ হাউসে গিয়েছিলো তার ঘটনা বললো না রোজকে।যেনো ইউভান চায় না রোজ আর কোনো কিছু জানতে পারুক।
রোজের চোখের সামনে তখন কক্সবাজারের সেই রক্তভেজা পিচঢালা রাস্তা আর ট্রাকের তীব্র হেডলাইটের আলো যেনো জীবন্ত হয়ে উঠলো।রোজ জানতো হ্যাঁ রোজ জানতো তার মস্তিষ্কের ‘অ্যামনেশিয়া’র অন্ধকার বাসা বেঁধেছে। ইমরান চৌধুরী সত্যটা আড়াল করতে চাইলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কৌতূহলী রোজ গুগলে তার নিয়মিত সেবন করা ওষুধগুলো নিয়ে গবেষণা করে বহু আগেই জেনে গিয়েছিলো যে তার স্মৃতির এক বিশাল অংশ মুছে গেছে। কিন্তু ‘কেনো?’ আর ‘কীভাবে? তার উত্তর ছিলো রোজের সাধ্যের!
আজ সেই কুহেলিকা কেটে গেলো। রোজ শিউরে উঠে উপলব্ধি করলো তবে এই সেই হুডি পরিহিত রহস্যময় পুরুষ! প্রতি রাতে স্বপ্নের গোলকধাঁধায় যার পিছু পিছু রোজ হন্যে হয়ে ছুটতো, দু-বছর আগের সেই কালরাত্রিতে বাস্তবের পিচঢালা রাস্তায় সে ঠিক এভাবেই ধাবিত হয়েছিলো এই মানুষটির আকর্ষণে। দীর্ঘ দুই বছরের সেই দুঃস্বপ্নের মূল হোতা আজ রক্ত-মাংসে তার সামনে দাঁড়িয়ে। যাকে সে জীবনের অন্ধকার আকাশের ধ্রুবতারা ভেবেছিলো, সেই ছায়ামানুষটিই ছিলো তার মৃত্যুর পরোয়ানা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক পৈশাচিক ঘাতক।প্রতিরাতে স্বপ্নের যার পিছু পিছু হেঁটে যাকে ছোঁয়ার আগেই ঘুম ভেঙে যেতো।
সপ্নের এই সেই মূল কারণ!
রোজের নেত্রপল্লব ছাপিয়ে টপটপ করে অশ্রুধারা ঝরতে লাগলো। সহসা এক তীব্র ‘প্যানিক অ্যাটাক’ মেয়েটার সর্বাঙ্গ গ্রাস করলো। মেঝেতে বসেই নিজের মাথা দু-হাতে চেপে ধরে আর্তনাদ করে উঠলো-
“তাহলে এই সেই কারণ??”
ইউভান নিস্পৃহ পাথরের মতো চুপ রইলো।ওষ্ঠাধর আজ মৌন। আর কিছু বলার প্রয়োজন মনে করলো না!অনেক কিছু বলে ফেলেছে আজ।এইটুকুতে এই অবস্থা এই মেয়ের? ইউভান এক তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো।এখনো তো অনেক কিছু জানা বাকি। এই সত্য তো কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। এখনও যা অজানা, তা শুনলে এই রমণীর দেহের প্রাণপাখি হয়তো দেহত্যাগ করবে,সহ্য করতে পারবে না একাংশও!
ইউভান বিছানার উপর বসে অবলীলায় তিন চার বোতল হুইস্কির বোতল শেষ করলো অনায়াসে। ড্রাগের তীব্র নেশা স্নায়ুকে অধিকার করতে চাইলেও ইউভান নিজেকে সংযত করে হাতের পিঠ দিয়ে নাক ঘষলো। কিন্তু তার ভেতরের সুপ্ত বাসনা আর বাঁধ মানতে চাইল না। এক হিংস্রতায় মেঝেতে পড়ে থাকা রোজকে ছোঁ মেরে নিজের কোলে তুলে নিলো। রোজ এক অবশ আতঙ্কে ইউভানের কাঁধ সজোরে আঁকড়ে ধরতেই তার তীক্ষ্ণ নখ ইউভানের পেশিবহুল কাঁধে আঁচড় কাটলো। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়লো রোজ। ইউভান রোজকে বিছানায় আছড়ে ফেলে ক্ষিপ্রতায় রোজের সন্নিকটে ঝুঁকে পড়লো। রোজের গলদেশ থেকে লাবণ্যময় ঘ্রাণ এক নিঃস্বাসে নিজের ফুসফুসে টেনে নিলো ইউভান। পুরুষালি দেহের পরিচিত লেভেন্ডার ঘ্রাণে রোজের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো।তবে বাঁধা প্রয়োগ করলো না।করবেও না।এই শেষ স্পর্শেই যেনো তার মরণ হয়।যন্ত্রণার চরম শিখরে দাঁড়িয়েও রোজ যেনো এক বিচিত্র আবেগে ইউভানের বক্ষে নিজের নাক ঘষতে গোঙিয়ে উঠলো –
”ছুঁয়ে দিন আমায়! গভীরভাবে, ততটুকু গভীর যতটুকুতে আমার আত্মা আবেশে তৃষ্ণার্ত হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ভালোবাসা আশা করি না, আর করবও না! এটাই তো শেষবার, তাই নয় কি? যা ইচ্ছে করে নিন!”
‘শেষবার’ শব্দটা শোনামাত্রই ইউভানের ভেতরে এক পৈশাচিক রোষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।সহ্য করতে পারলো না।রোজের স্পর্ধার প্রসংশা না করে পাড়লো না।মাফিয়া বসের সান্নিধ্যে থেকে তাকে যখন যা খুশি বলে ফেলার স্পর্ধা শুধু এই নারীর মধ্যেই বিরাজ করে।ইউভানের সমস্ত সত্তা যেনো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলো। এক ঝটকায় রোজের গলা চেপে ধরে বিছানার সাথে পিষে দিলো এবং পরক্ষণেই মেয়েটার চুল মুষ্ঠো করে টেনে নিজের উরুর ওপর বসিয়ে দিলো। এক ক্রুদ্ধ ষাড়ের ন্যায় ফুঁসতে ফুঁসতে গর্জে উঠলো
”ফাক ইয়োর শেষবার! তুই কি খোদা? তুই কী করে জানলি এই বান্দি!এই তুই কী করে জানলি শেষবার নাকি না??” রোজ অসহ্য যন্ত্রণায় ইউভানের কাঁধে মুখ লুকিয়ে চোখ বুজে নুইয়ে পড়লো। ধরা গলায় ফিসফিস করে বললো। ”খোদা তো আপনিও নন! আপনিও কি তবে খোদায় বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন? মেনে নিলেন যে এক সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছেতেই পুরো সৃষ্টিজগৎ পরিচালিত হয়?” ইউভান তার রক্তচক্ষু রোজের চোখের ওপর স্থির রেখে বললো।
”তোর খোদাই তোকে আমার কাছে পাঠিয়েছে, এইটা তুই বিশ্বাস করিস তো?”
”সারাজীবন যদি যন্ত্রণাই দিতে চান, তবে এখন কী করে পারছেন ছেড়ে দিতে?”
”বিকজ অফ ইউ!আমার সাথে থাকতে হলে আমার পথে চলতে হবে!সাদরে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার ক্ষমতা থাকতে হবে।ভয়কে পরাজয় করে জয়ের পথে হাঁটতে শিখতে হবে।কঠোর সত্তার অধিকারীণি হতে হবে!”
রোজ মুখ কুঁচকে নিলো।”ঘৃণা হয় আমার!আমি তো কোনোদিনও এমন জীবন কামনা করিনি!”
“তুই যেমনটা চাস তেমন জীবন আমি কোনোদিনও দিতে পারবো না।কোনোকিছু ত্যাগ করা সম্ভব না!না ত্যাগ করতে পারবো সাম্রাজ্যে! তুই অনেক কিছু জানিস না,জানার প্রয়োজনও নেই!কারণ ইউভান কারোর সিম্প্যাথি গ্রহণ করে না!কখনো কখনো চাইলেও আমরা মরিচীকা থেকে বের হতে পারি না।হ্যাঁ জতোকে সুন্দর সংসার দিতে না পারলেও আগলে রাখার ক্ষমতা আমার আছে।
” আপনার সব ক্ষমতাই আছে!শুধু নেই ভালোবাসার!”
মুহূর্তেই রোজ ইউভানের গলার চেইন টেনে ইউভান সমেত বিছানায় শুয়ে পড়লো।আজ আর কিছু জানার আগ্রহ হলো না রোজের।ভিতরটা এক অজানা আশঙ্কায় জ্বলে উঠলো।চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো।ইউভান রোজের শাড়িরাংশ সরিয়ে দুগ্ধশুভ্র উদরে কামড়ে ধরতেই রোজ তীব্র আর্তনাদে কক্ষের স্তব্ধতা চূর্ণ করে দিলো। ইউভান আঁকড়ে ধরলো রোজের তাম্বী দেহ।
”যদি মে’রে ম’রে যাই যাস্ট ফরগিভ মি ডার্ক! আই উইল নেভার বিকাম আ জেন্টলম্যান ফর ইউ! নেভার!নেভার!নেভার!”
হঠাৎ!
হঠাৎ এক তিব্র আলোর ঝলকানি ধেঁয়ে এলো বেলকনি দিয়ে রুমে। রোজ আঁতকে উঠে চোখ বুজতেই ইউভান বহিঃরাগত পরিবেশে নজর দিতেই দেখলো পরপর দুটো মিসাইল আইল্যান্ডের সীমানার জলরাশিতে পড়েছে।পরপর দুটো পড়তেই পুরো দশতালা উচ্চতার রয়্যাল বিল্ডিং ভূমিকম্পে কম্পিত হলো।কেঁপে উঠলো ভূমি!দরজার বাহিরে গার্ডদের ছুটোছুটি টের পেলো ইউভান।প্রত্যেক ফ্লোরের ল্যান্ডলাইনগুলো সিগন্যাল দিতে শুরু করলো।ইমার্জেন্সি এলার্ম বেজে উঠেছে।ধূসর চোখে তখন আদিম জিঘাংসা। পরপর দুটো মিসাইল রয়্যাল বিল্ডিংকে লক্ষ্য করে না এলেও, আইল্যান্ডের জলসীমানায় পড়ার সাথে সাথেই সমুদ্রের বুকে এক ভয়ঙ্কর ঢেউ উঠলো।রয়্যাল বিল্ডিংয়ের প্রতিটি তলা এক অপার্থিব কাঁপুনিতে জর্জরিত হলো।
ওদিকে, ভলচার আইল্যান্ডের এই অতর্কিত হামলা আদ্রিয়ানের এক চরম অস্থিরতায় নিক্ষেপ করলো। সে কিছুতেই নিজেকে শান্ত করতে পারছিলো না।রোজ তার শুঁকতারা, ইউভাবের অধীনে! এই অপার্থিব যন্ত্রণা তার শিরদাঁড়া বেয়ে হিমশীতল স্রোত বইয়ে দিতে লাগলো।রোজ অন্য কারোর অর্ধাঙ্গিনী এই ধ্রুব সত্যটি মেনে নেওয়ার ধৃষ্টতা আদ্রিয়ানের হয়ে উঠছে না।
ঠিক তখনই, আইল্যান্ডের জলসীমানায় মিসাইলের বিস্ফোরণ আদ্রিয়ানের ট্র্যাকিং ডিভাইসে এক ইমার্জেন্সি এলার্ম এলো।
আদ্রিয়ানের ইশারায় তার প্রশিক্ষিত ‘লায়ন টিম’ মুহূর্তের মধ্যে আইল্যান্ডের দক্ষিণ প্রান্তের জলোচ্ছ্বাস বাহিত জলসীমায় একজোট হলো। আদ্রিয়ান এক আদিম ক্ষিপ্রতায় একটা AK-47 লোড করে তার বাহিনীকে আদেশ দিলো।
আইল্যান্ডের উত্তর দিকের মাটির নিচের গোপন বাঙ্কারে তুষার তার ‘স্পাইডার টিম’ সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিতে পড়ে গেলো।আলফা ইউভানের পরিকল্পনা মাফিক সব কিছু ঠিকঠাকই এগোচ্ছিলো,হঠাৎ এই আক্রমণ! আইল্যান্ডের পরিবেশে এক অস্বাভাবিকতা অনুভব করে তুষার দ্রুত তাদের স্পাইডার বাহিনীকে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিলো।দামিয়ান তার হাতে থাকা ওয়াকি-টকিতে ইউভানের সাথে যোগাযোগ করার নিষ্ফল চেষ্টা করলো। কিন্তু ইউভানের সিগন্যাল সম্পূর্ণ অচল হয়ে আছে।
রয়্যাল বিল্ডিংয়ের ইউভান তার কক্ষে এক দানবীয় রূপে আবির্ভূত হচ্ছে।বিছানা ত্যাগ করে সোজা ক্যাবিনেটের দিকে এগোলো। ড্রাগের তীব্র নেশা তার চোখেমুখে স্পষ্ট। পকেটে থাকা একটি সিরিঞ্জ বের করে তার ধমনীতে সরাসরি অ্যাড্রেনালিন আর এক বিশেষ ধরণের ড্রাগের মিক্সচার পুশ করলো।রোজ আটকানোর চেষ্টা করে কেঁদে উঠলো ইউভান যেনো ড্রাগ পুশ না করে। তবে তা তো হওয়ারি ছিলো।
ইউভানের চোখের মণি দুটো হঠাৎ করেই সম্পূর্ণ ধূসর থেকে কালচে লাল বর্ণ ধারণ করলো।আদিম ক্ষিপ্রতায় উদোম শরীরে একের পর এক গ্লক-১৭[ Glock-17]লোড করলো। কোমরের হোলস্টারে ছুরি আর পকেটে এক জোড়া স্মোক গ্রেনেড গুঁজে দিলো।পুরো মুখ ঢেকে নিলো কালো মুখোশে।মাথায় একটা ক্যাপ পড়ে রোজের হাত শক্ত করে চেপে ধরলো।
রোজ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইউভান রোজকে হায়া আর রাহার কাছে নিয়ে গেলো।রাহা তখন তার ভারী কালো বুটে মিনি রিভলভার ঢোকাচ্ছিলো।রাহা কিছু বলার আগেই ইউভান শুধু এইটুকু বললো।
“টেক ক্যায়ার অফ হার!গায়ে যেনো একটা আচঁও না লাগে।
এই একটা ভুল ইউভানের চতুর মস্তিষ্ক করে বসলো মূলত তাকে তার লক্ষ্য থেকে সরানোর একটা টোপ ছিলো মাত্র।যেখানে ভলচরে অ্যাটাক আসা দুষ্পাপ্যে বিষয় ছিলো।হটাৎ দুটো মিসাইলের অ্যাটাকে হামলে পড়লো ভলচরের শক্তিশালী দুবাহিনী। এই সুযোগটার অপেক্ষায় হয়তো-বা কেউ একজন ছিলো।পুরো লায়ন টিম।স্পাইডার টিম সহ সব স্নাইপার রা যখন সমুদ্রবন্দরে হামলার উপর নজর রাখবে তখনি রোজকে শিকার করা সহজ হয়ে পড়বে।হলেই তা।রাহা আর হায়ার অগোচরে কখন রোজ উধাও হয়ে পড়লো টেরও পেলো না।একজন অতি সুক্ষ্ম মস্তিষ্কের বিকৃত সত্তার নারী সফলও হলো।যতটুকু প্ল্যান করেছিলো তার বেশিই পেলো। আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন প্রভাবশালী নারী ব্যক্তিত্ব।অমানিশার বিষ যার অন্তরকে জ্বলাভূত করে রেখেছে।যার প্রত্যেকটা চাল পড়ে গোপনে।
জঙ্গলের সীমানার শেষ প্রান্তে,সমুদ্ররসনার সামনে সেখানে দুই মেরুর দুই দানব মুখোমুখি। ইউভান আর আদ্রিয়ান।
ইউভানের চোখের কালচে চাউনি আদ্রিয়ানকে ভস্ম করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখলেও, এই মূহূর্তে ব্যক্তিগত ঝামেলায় পাঁ দেয়া যাবে না।কেননা।যদি কোনো বোমা এই মূহূর্তে ভোলচরে পরে তাহলে পুরো দ্বীপের ভয়াবহ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।ঠিক সেই মুহূর্তেই এক অশুভ সঙ্কেত তাদের স্নায়ুযুদ্ধকে স্তব্ধ করে দিলো। আদ্রিয়ানের পকেটে থাকা হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ওয়াকিটকি আর ইউভানের ফোনের বিশেষ নোটিফিকেশন টোন একই ছন্দে বেজে উঠলো। আদ্রিয়ান ওয়াকিটকি ধরতেই-
অপহৃত শ্বেতপদ্ম ও এক রক্তিম মৈত্রী ইউসুফ আতঙ্কিত কণ্ঠস্বর ওয়াকিটকির স্পিকারে আদ্রিয়ানের কানে আছড়ে পড়লো।
”বস! ডার্ক জোন হ্যাকড! মিস রোজকে র্যাল বিল্ডিংয়ে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না! সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমুদ্রের উত্তর দিকে একটা আন-আইডেন্টিফাইড কয়েকটা স্পিডবোটের সিগন্যাল পাওয়া গেছে!”
মনস্টার ক্যাট লিডার ক্যাটরিনা ক্ল্যান তার নিজস্ব ডার্ক-নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভলচার দ্বীপের নিশ্ছিদ্র স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সিস্টেম হ্যাক করে ফেলেছে অলরেডি। রাডারের চোখে ধুলো দিয়ে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে আনিয়ে রেখেছিলো তার নিজস্ব ‘ব্ল্যাক-সাবমেরিন’।
ক্যাটরিনা জানতো, এই মুহূর্তে দ্বীপে যেকোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা মানেই ভলচার দ্বীপের মূল শাসনতন্ত্র বা ‘মাস্টার’ এর বিরুদ্ধাচরণ। কিন্তু এই নারী আজ সেই দুঃসাহসিকতার চরম সীমা অতিক্রম করে রোজকে রয়্যাল বিল্ডিং থেকে সরিয়ে গায়েব হয়ে গিয়েছে!
ইউভান যখন জানতে পারলো ক্যাটরিনা খোদ ‘মাস্টার’ এর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই আস্পর্ধা দেখিয়েছে,ক্যাটরিনা তো জানতো এই মুহূর্তে এমন বিশৃঙ্খলা ফলে তাকে চরম মূল্য চুকাতে হতে পারে।আজ ক’জনের বিরোধিতা করে বসলো এই নারী?? কামণার বিষাক্ত দহন তাকে কোন পর্যায় এনে দাঁড় করিয়েছে?? এতোগুলো শক্তিশালী টিমের বিরোধিতা করতে দু-বারও ভাবলো না!কি চরম ধৃষ্টতা! কি সূক্ষ্ম নারীবুদ্ধি!যার দিকে মনোনিবেশ ইউভান করেই নি!ইউভানকে টপকে রোজকে গায়েব করে দিলো ভোলচর আইল্যান্ডে! না লায়ন টিম আচঁ পেলো না স্পাইডার টিম!
চলবে??
একদিন পর আসবে পরবর্তী পর্ব! কি হতে চলেছে পরবর্তী পর্বে??রোজ কোথায় হতে পারে??শালী ক্যাট কোন ল্যাভেলের মহিলা ভাবা যায়!তাই তো নারীদের উপর বেশি নজর রাখা বেশি জরুরী।ইউভান ঠিকি বলে নারীজাতি মানেই বিষাক্ত!🔪🤧
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or Hate পর্ব ৩৬
-
Love or hate পর্ব ১২
-
Love or Hate পর্ব ৩৫
-
Love or Hate পর্ব ৩২
-
Love or hate পর্ব ২
-
Love or hate পর্ব ২৬
-
Love or hate পর্ব ৮
-
Love or hate পর্ব ২০
-
Love or Hate পর্ব ৩৩
-
Love or hate পর্ব ২১