Golpo কষ্টের গল্প শেষ পাতায় সূচনা

শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪৯.২


শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪৯.২

সাদিয়াসুলতানামনি

বাবার কেবিন থেকে বের হয়ে করিডরে বসার জন্য পা বাড়াতেই মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নেয় জিনিয়া। কিন্তু তখনই এক জোড়া বলিষ্ঠ হাত তাকে আগলে নেয় নিজের সাথে। ছেলের জন্য দুঃশ্চিন্তা থেকে মি.শেখও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে, ডাক্তার আপাতত ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে রেখেছেন। তার বাবার কাছে বর্তমানে রয়েছে তার মা।

জিনিয়ার কেবিনের মধ্যে কেমন গুমট লাগছিল বলে, বাহিরে এসেছিল বসার জন্য। কিন্তু গত ১৪/১৫ ঘন্টা ধরে না খাওয়া ও ভাইয়ের টেনশনে সেও বেশ দূর্বল হয়ে পড়েছে। আজ জিনিয়ার ভার্সিটি ছিলো বিধায় সকাল আটটার দিকে কোনমতে নাস্তা করে ভার্সিটিতে ছুট লাগিয়েছিল।

ভার্সিটিতে থাকা অবস্থাতেই জাওয়াদের গু”লি লাগার খবর পায় সে। এরপর তো আর কারো খাওয়ার মনমানসিকতা থাকে না। এতক্ষণ ধরে না খাওয়ার ফলস্বরূপ মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিলে তার প্রিয় পুরুষটি তাকে আগলে নেয়। জিনিয়া আস্তে আস্তে মাথা তুলে তাকিয়ে, প্রিয় পুরুষটিকে দেখতে পেলে সে ঠোঁট উল্টে কেঁদে দেয়। টনি তাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেই আস্তে আস্তে হেঁটে একটা চেয়ারে বসিয়ে দেয়।

পূর্ণতার রাতে বাসায় চলে যেতে হয়েছে। তাজওয়াদ কান্নাকাটি করছিলো দীর্ঘক্ষণ মা’কে না দেখে। হসপিটালে জাওয়াদের বাবা ভর্তি থাকায় তার সাথে মিসেস শেখ থাকবেন। আর জাওয়াদের হয়ে থেকেছে জিনিয়া। টনি পূর্ণতাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে, তারপর নিজে কোনমতে একটু শাওয়ার নিয়ে আবারও ছুট লাগিয়েছে হসপিটালে। পূর্ণতা অনেক বলে-কয়েও জিনিয়াকে কিছু খাওয়াতে পারেন নি। আর নাই বা পেরেছেন মিসেস শেখকে খাওয়াতে।

টনি ধীরে সুস্থে সময় নিয়ে জিনিয়াকে শান্ত করে। বিভিন্ন ভাবে সান্ত্বনা দিয়ে তাকে কান্না করতে নিষেধ করে। জিনিয়ার কান্না থামতেই টনি অন্য একটা চেয়ারের উপর রাখা ব্যাগ থেকে একটা স্যান্ডউইচ বের করে সেটা জিনিয়ার মুখের সামনে ধরে। জিনিয়া শুরুতে খেতে না চাইলে টনি একটু আবেগীয় হয়ে বলল–

—জীবনে না আমায় কেউ কখনো খাইয়ে দিয়েছে, না আমি কাউকে খাইয়ে দিয়েছি। আসলে তেমন কোন আপন মানুষ আমার ছিলোই না, যে খাইয়ে দিবে আমায় বা আমি দিবো। আজ প্রথমবার কাউকে খাইয়ে দিচ্ছি, প্লিজ আমার জন্য হলেও একটু খাও। যতদিন না জাওয়াদ ভাইয়ার সুস্থ হচ্ছে, ততদিন তোমাকেই তো দেখতে হবে আঙ্কেল-আন্টিকে। প্লিজ একটু খাও সোনা।

টনির থেকে এহেন কথা শুনে জিনিয়া আর মানা করতে পারে না। সে চুপচাপ খাবারটা খেতে থাকে। অর্ধেকটা স্যান্ডউইচ খাওয়ার পর হঠাৎই জিনিয়া টনিকে প্রশ্ন করে উঠে–

—আপনি খেয়েছেন কিছু?

টনি যদিও আসার পথে যেই ক্যাফের থেকে জিমিয়ার জন্য স্যান্ডউইচ নিয়ে এসেছিল, সেখান থেকেই হালকা কিছু খেয়ে এসেছিল। কিন্তু আজ অতিরিক্ত ছোটাছুটির কারণে তার মুখটা একদমই শুকিয়ে একটুখানি হয়ে রয়েছে।

টনি স্মিত হেঁসে বলে–

—হ্যাঁ, খেয়েছি। তুমি খাও তো।

জিনিয়া স্যান্ডউইচ থেকে আরেকটা বাইট নিয়ে চিবুতে চিবুতে বলে–

—আরো এনেছেন স্যান্ডউইচ?

—হুম আরো একটা আছে। এটা শেষ করো। কফিও এনেছি তোমার জন্য।

জিনিয়া তার হাতেরটা শেষ করার পর টনি তাকে বাকি স্যান্ডউইচটাও এগিয়ে দেয়। জিনিয়া র‍্যাপারটা খুলে স্যান্ডউইচটা টনির মুখের সামনে ধরে। টনি হালকা হেঁসে জিনিয়ার হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলে–

—আমি আসার সময় খেয়ে এসেছি। তুমি খাও এটা, সারাদিন খাওনি। এখন একটা স্যান্ডউইচ খেলে কিছু হয় নাকি।

জিনিয়া জেদী গলায় বলল–

—হয়েছে তো। পেট ভরে গিয়েছে আমার। আর আপনি জানেন না আমি কতটুকু খাই। এটা খান আপনি। দেখুন আপনি যেমন আজ প্রথম খাইয়ে দিলেন কাউকে, ধরতে গেলে আমিও প্রথমই খাওয়াচ্ছি কাউকে। প্লিজ নিন না জুনায়েদ।

জিনিয়া টনিকে জুনায়েদ বলে ডাকে। টনি নামটা নাকি তার পছন্দ নয়, মেয়ে মেয়ে লাগে তার কাছে। টনি খেতে চায় না, কিন্তু জিনিয়া জোর করে তাকে খাইয়ে ছাড়ে। এগারো বছর বয়সে মা হারানোর পর আজ এত বছরে পর কেউ তাকে খাইয়ে দিচ্ছে। মাঝে কেটে যাওয়া বছরগুলো আপনজন হীন, নিঃসঙ্গ, একাকী কাটিয়েছে সে।

বিদেশে যাওয়ার পর তার বাবা সপ্তাহ বা মাসান্তরে এক আধবার ফোন দিলেও পাঁচ বছর আগে তার চরিত্রহীন ফুফাতো বোনকে বিয়ে না করার কারণে সেই বাবাও তার খোঁজ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। একই শহরে থাকে, অথচ কানাডা থেকে সে এসেছে শোনার পরও আজ কতগুলো মাসে একবারও তার বাবা ফোন দিয়ে বাড়ি ফিরতে বলেনি। ভাসা ভাসা খবরের মাধ্যমে টনি জানতে পেরেছে, তার বাবার বিজনেসে নাকি ধ্বস নেমেছে। উপরওয়ালা হয়ত সাথে সাথে মজলুমকে সহায়তা করেন না, কিন্তু যখন সহায়তা বা ন্যায্যা বিচার করেন তখন মজলুম ব্যক্তি সেই বিচারে এত খুশি হয়ে যায় যে, পূর্বের সকল দুঃখ-কষ্ট ভুলে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

টনি পুরোটা স্যান্ডউইচ জিনিয়ার হাতেই খায়। তারপর দু’জনে চেয়ারে বসে কফি খেতে খেতে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে টনি বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। জিনিয়া তার বাবার কেবিনে ঢুকে গিয়ে কেবিনের ছোট্ট সোফায় গুটিয়ে শুয়ে পড়ে।


আজ সারাদিন পাপার কথা বলতে না পারার কারণে তাজওয়াদের মনটা অত্যধিক খারাপ। সেই মন খারাপের রেশ টেনে আজ তার ঘুমও আসছে না। সাধারণত, তার মন খারাপ হলে পূর্ণতা সেটা নিমিষেই টের পেয়ে যায়। এবং পরবর্তীতে তাজওয়াদের মন ভালো করার জন্য নানান পন্থা অবলম্বন করে তাকে হাসায়। কিন্তু আজ পূর্ণতাও চুপচাপ হয়ে রয়েছে।

তাজওয়াদ মায়ের মুখ দেখেই বুঝে গিয়েছে তার মতো আজ তার মাম্মারও মন খারাপ। পূর্ণতা প্রতিদিনের মতো তাজওয়াদকে বুকে নিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করে। বেশ অনেকক্ষণ তাজওয়াদ কোন সাড়া শব্দ না করায় পূর্ণতা ভাবে সে হয়ত ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু পূর্ণতাকে অবাক করে দিয়ে তাজওয়াদ হুট করেই তার বুক থেকে মাথা তুলে বলে–

—মাম্মা…

এত রাত হয়ে যাওয়ার পরও তাজওয়াদকে ঘুমাতে না দেখে পূর্ণতা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে–

—তাজ, তুমি এখন ঘুমাওনি?

—ঘুম আচছে না মাম্মা।

—কেনো সোনা? এই তো মাম্মা তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তোমার কি খারাপ লাগছে কোথাও?

—না মাম্মা। আসুলে আমাল মনতা একতু স্যাড স্যাড।

—তা কোন কারণে আমার তাজের মনটা স্যাড স্যাড?

—পাপাল জন্য। আজ সালাদিন পাপাল সাথে কতা না বলাল কালণে তাজেল মনতা স্যাড স্যাড। মাম্মা, পাপাকে একতা ফোন দাও না। তাজওয়াদ ওয়ান্স টু টকড উইথ পাপা।

কাঁদো কাঁদো মুখ করে কথাটা বলে তাজওয়াদ। জন্মের পর পাঁচটা বছর বাবার সংস্পর্শ না পেয়ে বড় হওয়া তাজওয়াদ, হুট করে বাবা নামক মানুষটির সাথে পরিচিত হওয়ার পর তাদের দু’জনের মাঝে এতটা গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে যে, এখন একটা দিনও সে তার পাপার সাথে কথা না বলে থাকতে পারে না।

তাছাড়া জাওয়াদও নিজের আসল পরিচয় ছেলেকে দেওয়ার আগেই তাজওয়াদকে নিজের স্নেহ, মায়া, মমতা দ্বারা এমনভাবে আপন করে নিয়েছে যে, পাপা জাওয়াদ অথবা ভালো আঙ্কেল জাওয়াদ উভয় জাওয়াদকেই তাজওয়াদ ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছে।

পূর্ণতা ছেলের মাথাটা আবারও নিজের বুকের উপর রেখে আস্তে আস্তে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। তার নাকের পাটা ইতিমধ্যে তিরতির করে কাঁপা শুরু করে দিয়েছে। প্রচন্ড বেগে ধেয়ে আসা কান্নাটা চেপে রাখার জন্য পূর্ণতা নিজের ঠোঁট দাঁত দ্বারা চেপে ধরে রাখে। তার আজ ভাগ্যের প্রতি ভীষণ অভিযোগ করতে ইচ্ছে করছে।

ভালোই তো ছিল তারা মা-ছেলে। তাহলে ভাগ্য কেন আবারও তাদেরকে সেই শ্যাম পুরুষের সাথে জড়িয়ে দিলো? তার বাচ্চাটা তো বাবা ছাড়া ভালোভাবেই বড় হচ্ছিল, তাহলে কেন ভাগ্য তাদের দু’জনকে একে অপরের মুখোমুখি করলো? করলো তো করলো এখন আবার কেন কেড়ে নিতে চাচ্ছে? তার সন্তান নিজের পিতার সাথে কথা বলতে না পেরে মন খারাপ করে রয়েছে, অথচ সে জানেই না তার পিতা এই মুহূর্তে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

পূর্ণতা তাজওয়াদকে ঘুম পাড়ানি গান শুনিয়ে ঘুম পাড়ায় বহু কষ্টে। তাজওয়াদের ঘুমাতে ঘুমাতে আজ বারোটা বেজে গিয়েছে। তাজওয়াদ ঘুমিয়ে পড়তেই পূর্ণতা বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। তারপর টলমল পায়ে হেঁটে ওয়াশরুমে গিয়ে ড্রেস পাল্টিয়ে অজু করে আসে। জায়নামাজ বিছিয়ে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করে মোনাজাতে তীব্র কান্নায় ভেঙে পড়ে। স্বামী জাওয়াদ থেকে একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সে কষ্ট আর অবহেলা ছাড়া কিছুই পায়নি। সে অস্বীকার করছে না, এর দায়ভার তার নিজেরই। কিন্তু এরপরেও সে যখন সবার মন জোগাড় করে সংসার করতে চাইলো, একটা কালবৈশাখী ঝড় এসে তার সবকিছু করে দিয়ে গেলো।

পূর্ণতা দীর্ঘক্ষণ ব্যয় করে জাওয়াদের সুস্থতার জন্য দোয়া চায়। প্রায় সারাদিন কান্নাকাটি করার কারণে শরীর ভীষণ ক্লান্ত থাকার দরুন জায়নামাজেই মাথা রেখে কখন যে পূর্ণতা ঘুমিয়ে যায় সে নিজেও টের পায় না।

ভোরের দিকে ফোনের রিংটোনের আওয়াজ ও আজানের সুরে পূর্ণতার ঘুমটা ভেঙে যায়। সে তড়িঘড়ি করে শোয়া থেকে উঠে ফোনটা রিসিভ করে যা শুনে তাতে তার আত্মায় প্রশান্তির বাতাস বয়ে যায়। একটু আগে জাওয়াদের জ্ঞান ফিরেছে। আপাতত তাকে অভজার্ভেশনে রাখা হয়েছে। জিনিয়াই ফোন করে তাকে খবরটি দেয়। ফোন কেটে দিয়ে পুনরায় অজু করে এসে পূর্ণতা নামাজে দাঁড়িয়ে যায়। ফরজ সালাত গুলো শেষ করে দুই রাকাত শোকরানা সালাত আদায় করে সে রবের কাছে মন-প্রাণ থেকে শুকরিয়া আদায় করে।

নামাজ শেষ করে সে নিচে এসে হসপিটালে থাকা সবার জন্য বাসার সবার জন্য নাস্তা বানানো শুরু করে। একা হাতেই কয়েক পদের নাস্তা বানিয়ে আরিয়ান ও আহনাফ সাহেবের জন্য টেবিলে নাস্তা সাজিয়ে রেখে বাকিগুলো টিফিনবাক্সে ভরে নেয়। তারপর নিজে রেডি হয়ে প্রথমে টিফিনবাক্সটাকে গাড়িতে রেখে এসে, পুনরায় বাসায় এসে ঘুমন্ত ছেলেকে কোলে তুলে নিয়ে গাড়ির ব্যাকসিটে সুন্দর মতো শুইয়ে দেয়।

সকাল তখন মাত্র সাতটা বেজে আর কয়েক মিনিট বেশি হবে হয়ত। শনিবার হওয়ায় স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি আজও বন্ধ। চাকুরীজীবী মানুষেরাও এখনও তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়নি। সকালের স্নিগ্ধ পরিবেশ উপভোগ করতে করতে পূর্ণতা সিদ্ধান্ত নেয়, আজ সে একাই ড্রাইভিং করে হসপিটালে যাবে।

টনি আসে সাড়ে আটটায়। আজ আর টনির জন্য অপেক্ষা না করেই পূর্ণতা একা একাই গাড়ি চালিয়ে রওনা হয় হসপিটালের উদ্দেশ্যে। এলাকার রাস্তা পেছনে ফেলে তার গাড়ি যখন মেইন রাস্তায় উঠে তখন সে মনযোগ দিয়েই গাড়ি চালাতে শুরু করে। হঠাৎই সে মিরর ভিউ গ্লাসে খেয়াল করলে দেখতে পায় তার গাড়ির পেছনে বেয়ে বড়সড় একটা ট্রাক।

পূর্ণতা ট্রাক টিকে আগে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের গাড়িটাকে একটু চাপিয়ে নেয়। তবে অবাক করার বিষয় হলো, ট্রাকটি তার গাড়ি অভারটেক তো করেই না বরং তার গাড়ির একপাশে সজোরে ধাক্কা দেয়। গাড়িতে এত জোরে ধাক্কা লাগার কারণে তাজওয়াদের ঘুম ভেঙে যায়। পূর্ণতা কিছু বুঝে উঠার আগেই ট্রাকটি আবারও এসে পূর্বের থেকেও জোরে একটা ধাক্কা দেয়।

ধাক্কাটা এতটাই জোরদার ছিল যে, পূর্ণতা সিটবেল্ট পরা অবস্থাতেও স্টেয়ারিংয়ের সাথে গিয়ে তার কপাল বারি খায়। তাজওয়াদও ভয় পেয়ে কাঁদতে শুরু করে দেয়। ছেলেকে কাঁদতে দেখে পূর্ণতা এবার শক্ত হাতে স্টেয়ারিং পরিচালনা করতে থাকে। সে বুঝে যায় তার উপর আবারও অ্যাটাক হয়েছে। এবং এটাও বুঝতে পারে যে, তাকে বারবার অ্যাটাককারী তার উপর সর্বক্ষণ নজর রাখছে। সে ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লেতে গুগল ম্যাপ অন করে দ্রুত হাতে হসপিটালে পৌঁছানোর অন্যান্য রাস্তাগুলো চেক করতে থাকে।

বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই সেই এমন একটা সরু রাস্তা ম্যাপে দেখতে পায়, যেখান দিয়ে তার গাড়ি ঢুকলেও ট্রাকটি ঢুকতে পারবে না। পূর্ণতা আর কাল বিলম্ব না করে ইউ টার্ন নিয়ে অপজিট পাশের রাস্তায় চলে যায়, ট্রাকটি নিজের ডাইরেকশন ঘুরাতে ঘুরাতে পূর্ণতা গাড়ির স্পিড হাইয়ে তুলে ম্যাপে দেখানো গলিতে ঢুকে পড়ে। এবং এবারের মতোও সে বড় ধরণের ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পায়। একটা গলির ভেতরে গাড়ি থামিয়ে পূর্ণতা ছেলেকে অভয় বাণী দিয়ে শান্ত করায়। তারপর আবারও রওনা হয় নিজের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

হসপিটালে আসতে আসতে তাজওয়াদ আবারও ঘুমিয়ে পড়লে পূর্ণতা জিনিয়াকে ফোন দিয়ে নিচে আসতে বলে। জিনিয়া আসার পর সে তাজওয়াদকে তার কোলে দিয়ে গাড়ি পার্ক করে আসে। জাওয়াদকে রাখা কেবিনের সামনে আসলে জিনিয়া জানায়, জাওয়াদের ভোরে জ্ঞান ফেরার পর সে বারবার পূর্ণতাকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠছিল বলে, ডাক্তাররা তাকে ঘুমের ঔষধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে। নয়টার দিকে জাওয়াদের ঘুম ভাঙলে তখন একে একে সবাই দেখা করতে পারবে।


—ম্যাম, তাজওয়াদ তো স্কুলে নেই। বাসা থেকে নাকি ড্রাইভার এসে তাঁকে স্কুল ছুটির আগেই নিয়ে গিয়েছে আপনার অসুস্থতার কথা বলে।

তাজওয়াদকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে ক্লাস টিচারের থেকে এমন কিছু কথা শুনে টনি তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণতাকে জানায়। পূর্ণতা টনির কথা শুনে হতভম্ব হতেও ভুলে যায়।

ছেলের চিন্তায় পাগল হয়ে পূর্ণতা চেঁচিয়ে বলল–

—কি বলছো তুমি এসব? ড্রাইভারকে কখনো আমি পাঠিয়েছি তাজওয়াদকে আনতে? হয় তুমি, নাহয় আমি, নাহয় ওর পাপা যায় ওকে আনতে স্কুল থেকে। আমরা কেউ যায়নি আজ তাহলে ওকে কে আনতে গেলো আমার অসুস্থতার কথা বলে?

[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]

শব্দসংখ্যা~১৮০০
~চলবে?

[আবার কে তাজওয়াদকে কিডন্যাপ করলো? গেস করুন তো আপনারা। একটা হিন্ট দিবো? আপনারা যাকে ভাবছেন সে নয় কিন্তু।🤭😁

এই পর্বে বেশি বেশি রেসপন্স করলে একটা সারপ্রাইজ রেডি হচ্ছে আপনাদের জন্য। 🙈🤭

ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply