রোদ্দুরেরছেঁড়ামানচিত্র
পর্ব_৫৬ (প্রথমাংশ)
নিলুফানাজমিননীলা
★★★
ক্যান্টিনের ভিড়ভাট্টার মাঝে রিনি আর তূর্ণার এই জগৎটা যেন সম্পূর্ণ আলাদা। রিনি পরম মমতায় তূর্ণাকে খাইয়ে দিচ্ছে, আর তূর্ণার নিষ্পাপ চোখজোড়া এক মুহূর্তের জন্য রিনির মুখ থেকে সরছে না। হয়তো অবচেতন মনে সে এই মায়াবী চেহারার মাঝেই তার হারানো মায়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে বেড়াচ্ছে।
তূর্ণা হঠাৎ রিনির হাতটা চেপে ধরে বলল,
“আর খাব না আম্মু।”
রিনি আদুরে গলায় শাসন করার সুরে বলল,
“কেন মামনি? আর সামান্য একটু খেয়ে নাও, শরীর খারাপ করবে তো।”
তূর্ণা নিজের ছোট্ট পেটে হাত বুলিয়ে মুখ কুঁচকে বলল,
“প্লিজ না! আমার পেটে একদম জায়গা খালি নেই আর।”
ওর আধো-আধো বুলি শুনে রিনির ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।
“আচ্ছা ঠিক আছে, আর খেতে হবে না। কিন্তু পানি কোথায়? পানির বোতল তো দেখছি না!”
তূর্ণার পানির তেষ্টা পেয়েছে বুঝে রিনি খালি বোতলটা হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। বলল,
“তুমি এখানেই বসো মামনি, আমি চট করে পানিটা ভরে নিয়ে আসছি।”
তূর্ণা বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়ল। রিনি দ্রুতপায়ে ওয়াটার ফিল্টারের দিকে এগোতে গিয়েই ঘটল বিপত্তি। দুই কদম যেতে না যেতেই সামনে থেকে আসা কোনো এক শক্ত বর্মের মতো শরীরের সাথে ঠাস করে ধাক্কা খেল সে। ধাক্কাটা এতটাই জোরালো ছিল যে রিনির মাথাটা মুহূর্তের জন্য ভনভন করে উঠল। হাতের বোতলটা মাটিতে পড়তে পড়তে বেঁচে গেল।
রাগে আর ব্যথায় রিনি ভ্রু কুঁচকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সামনে তাকাল। দেখল লম্বা চওড়া এক পুরুষ দাঁড়িয়ে। পরনে কুচকুচে কালো শার্ট আর প্যান্ট, নিখুঁতভাবে ইন করা। লোকটার জোড়া ভ্রু আর জেল দিয়ে পরিপাটি করে আঁচড়ানো চুল। রিনি নিজেকে সামলে নিয়ে কিছুটা কর্কশ স্বরে বলে উঠল,
“দেখতে পান না? ওভাবে হুট করে সামনে চলে আসলেন কেন?”
লোকটি বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে গম্ভীর চোখে রিনির দিকে তাকাল। শান্ত গলায় পাল্টা প্রশ্ন করল,
“একই প্রশ্ন যদি আমিও আপনাকে করি?”
রিনি যেন আকাশ থেকে পড়ল।
“কী অসভ্যের মতো কথা বলছেন? ভুল আপনি করলেন আবার তর্কেও আসছেন?”
রিনি যখন রাগে আরও কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই পেছন থেকে তূর্ণার উচ্ছ্বসিত চিৎকার শোনা গেল,
“পাপা!”
তূর্ণা দৌড়ে এসে রিনির সামনে দাঁড়ানো সেই রাশভারী লোকটাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। রিনির পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেল। কয়েক দিন আগে অস্পষ্ট ভিডিও কলে মেহরাব দেওয়ানকে দেখলেও, সামনাসামনি দেখে সে চিনতেই পারেনি। লোকটা আর কেউ নয়, স্বয়ং তূর্ণার বাবা।
মেহরাব দেওয়ান মেয়ের সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসে তার কপালে আলতো করে চুমু খেলেন। হাসপাতালের সেই ব্যস্ত সার্জারি শেষে তাঁর চোখেমুখে কিছুটা ক্লান্তির ছাপ থাকলেও মেয়ের জন্য সেখানে কেবলই মমতা। তিনি নরম গলায় বললেন,
“সরি মাম্মাম, আজ হাসপাতালে একটা ইমপর্টেন্ট সার্জারি ছিল, তাই ঠিক সময়ে আসতে পারিনি। তুমি কি কিছু খেয়েছো?”
তূর্ণা খুশিতে ডগমগ হয়ে উত্তর দিল,
“নো প্রবলেম পাপা! আম্মু আমাকে খাইয়ে দিয়েছে।”
আম্মু শব্দটা মেহরাবের কানে পৌঁছাতেই তাঁর জোড়া ভ্রু কুঁচকে একাকার হয়ে গেল। তিনি একবার তীক্ষ্ণ নজরে রিনির দিকে তাকালেন। তারপর তূর্ণাকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে ফিসফিসিয়ে শাসনের সুরে বললেন,
“তোমাকে তো নিষেধ করেছিলাম ওনাকে ওই নামে ডাকতে! মনে নেই?”
তূর্ণা অসহায়ভাবে মাথা নিচু করে আঙুল কচলাতে কচলাতে বলল,
“কিন্তু আম্মুই তো বলেছে ওনাকে আম্মু বলে ডাকতে।”
মেহরাবের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। নিজের ভেতরের রাগটা মেয়ের সামনে অনেক কষ্টে সংবরণ করে তিনি কিছুটা কড়া ভাষায় বললেন,
“আর ডাকবে না এই নামে। ওকে?”
তূর্ণার ছোট্ট মনটা মুহূর্তেই ভারাক্রান্ত হয়ে গেল। সে ম্লান মুখে জবাব দিল,
“ওকে।” তারপর রিনির হাত থেকে ওয়াটার বোতলটা নিয়ে ধীরপায়ে পানির ফিল্টারের দিকে এগিয়ে গেল।
রিনি এতক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পুরো দৃশ্যটা দেখছিল। মেহরাব সোজা হয়ে দাঁড়াতেই রিনি কিছুটা কুণ্ঠিত স্বরে বলল,
“আসলে সরি, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি।”
মেহরাব বেশ গাম্ভীর্যের সাথে জবাব দিলেন,
“অলরাইট। আমি মেহরাব দেওয়ান।” শান্ত গলায় নিজের নাম বলে পরিচয় দিল।
রিনি নিজেকে সামলে নিয়ে পরিচয় দিল,
“আমি রিনি হাওলাদার। আজই এই স্কুলে সাময়িক টিচার হিসেবে জয়েন করেছি।”
“ওহ, কংগ্রাচুলেশনস।”
“থ্যাংকস।”
মেহরাব দেওয়ান এবার সরাসরি রিনির চোখের দিকে তাকিয়ে কিছুটা ইতস্তত করে কিন্তু স্পষ্ট স্বরে বললেন,
“আপনি নাকি তূর্ণাকে অনুমতি দিয়েছেন আপনাকে আম্মু ডাকার জন্য?”
রিনি শান্তভাবে উত্তর দিল,
“জি। আসলে তূর্ণা এই বিষয়টা নিয়ে একটু বেশিই ইমোশনাল আর সিরিয়াস।”
কথাটা শোনামাত্রই মেহরাবের মুখভঙ্গি পাল্টে গেল। তাঁর কণ্ঠস্বরে ঝরে পড়ল শীতল কাঠিন্য। তিনি বললেন,
“তূর্ণা তো ছোট, সে সিরিয়াস থাকুক বা যা-ই থাকুক, আপনার মতো একজন শিক্ষিত মানুষের উচিত হয়নি এভাবে একটা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আস্কারা দেওয়া। আপনি তো নিশ্চয়ই অবুঝ নন?”
মেহরাবের এমন সরাসরি আর রূঢ় আক্রমণাত্মক কথায় রিনি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। সে ভাবতেই পারেনি প্রথম সাক্ষাতে কেউ এতটা রূঢ় হতে পারে। ওদিকে পানির বোতল হাতে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট তূর্ণা তার পাপা আর রিনি ম্যামের এমন তিক্ত কথোপকথন শুনে খুব কষ্ট পেল। গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে।
★★★
সকাল থেকে আরিয়ান ছায়ার মতো তৃণার পিছু পিছু ঘুরছে। ডাইনিং টেবিল থেকে বারান্দা আরিয়ান যেখানেই যাচ্ছে, তৃণা সেখান থেকে মুখ ঘুরিয়ে অন্য ঘরে চলে যাচ্ছে। তৃণার গাল দুটো অভিমান আর রাগে ফুলে আছে। আরিয়ানের বারবার শ্যামলিনী ডাকও আজ কাজ করছে না।
আসলে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে ঘণ্টাখানেক আগে। আরিয়ান তখন ওয়াশরুমে ছিল, আর তার ফোনটা বেডসাইড টেবিলে রাখা। তৃণা সাধারণত আরিয়ানের ফোন চেক করে না, কারণ তাদের মধ্যে সেই বিশ্বাসটা প্রবল। কিন্তু আজ নোটিফিকেশনের টুং শব্দটা শুনে কেন যেন তৃণার হাত নিশপিশ করে উঠল। নোটিফিকেশন বারে চোখ পড়তেই সে দেখল ‘মিরা’।
এই নামটা শোনামাত্রই তৃণার পিত্তি জ্বলে ওঠে। মিরাকে সে কোনোকালেই সহ্য করতে পারে না। তৃণা কৌতূহল সামলাতে না পেরে ফোনটা হাতে নিল, কিন্তু দেখল ফোন লক করা। আরিয়ান ওয়াশরুম থেকে বের হতেই তৃণা গম্ভীর মুখে প্রশ্ন করল,
“মোবাইলের পাসওয়ার্ড কী দিয়েছেন?”
আরিয়ান মুচকি হেসে বলল, “শ্যামলিনী।”
তৃণা এবার দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “আমি আপনাকে পাসওয়ার্ড দিতে বলেছি, রোমান্টিক কথা বলতে বলিনি।”
আরিয়ান শান্ত গলায় আবারও বলল, “আরে বাবা, শ্যামলিনী শব্দটাই আমার ফোনের পাসওয়ার্ড। ইংরেজিতে টাইপ করো।”
তৃণা কোনোমতে রাগ সামলে লকটা খুলল। কিন্তু চ্যাট বক্সে ঢুকতেই তার রক্ত টগবগ করে ফুটতে শুরু করল। মিরা একটা ঠোঁট কামড়ানো ইমোজি পাঠিয়েছে! তৃণা মুহূর্তের জন্য হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। রাগে কাঁপতে কাঁপতে সে নিজেই আরিয়ানের হয়ে টাইপ করল,
“কী সমস্যা?”
মিরা হয়তো ওপাশে অপেক্ষাতেই ছিল। সে ভেবেছে আরিয়ানই রিপ্লাই দিয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফিরতি মেসেজ এল,
“বেবি, তুমি আমাকে এত ইগনোর করো কেন? আমি কি সুন্দরী না? আমাকে দেখলে তো হাজারটা ছেলের ঘুম হারাম হয়ে যায়, আর তুমি কি না আমার মেসেজের রিপ্লাইও কখনো দাও না। যাক আজ একটা রিপ্লাই অন্তত পেলাম।”
তৃণা মেসেজটা পড়ে ফোনের ওপর নিজের হাতের মুঠো শক্ত করল। তার মনে হলো, এখনই গিয়ে মিরার ওই সুন্দর চেহারাটা আঁচড়ে দিয়ে আসে।
তৃণার ভেতরের ঈর্ষার আগুনটা দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। সে এক মুহূর্ত দেরি না করে মিরার মেসেজের রিপ্লাই দিতে আঙুল চালাল। কী কঠিন আর ঝঝালো ছিল সেই শব্দগুলো! টাইপ করল,
“কে তোর বেবি? আমার জামাইয়ের কি তুই জন্ম দিছিস যে তুই বেবি ডাকছিস? আর তোর মতো হারাম জিনিসকে দেখলে তো ছেলেদের রাতের ঘুম হারাম হবেই। বাই এনি চান্স যদি কখনো দেখি আমার জামাইকে মেসেজ দিছিস, তাইলে তোর মাথার চুলগুলো একটা একটা করে টেনে ছিঁড়ব, এই বলে দিলাম!”
মেসেজটা সেন্ড করেই ধপাস করে ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলল সে। ঠিক সেই মুহূর্তেই আরিয়ান ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে সামনে দাঁড়াল। তৃণা অগ্নিদৃষ্টিতে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে ফেটে পড়ল,
“মেয়েরা আপনাকে কেন মেসেজ দিবে হুহ? কী এমন মধু আছে আপনার মধ্যে যে ওই আপদটা আপনাকে বেবি বলে ডাকার সাহস পায়?”
আরিয়ান দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে তৃণার এই রণচণ্ডী রূপ বেশ উপভোগ করছিল। সে হালকা হেসে রসিকতার ছলে বলল,
“আমার মতো হ্যান্ডসাম ছেলেদের মেয়েরা মেসেজ দিবে এটা কি খুব অস্বাভাবিক কিছু, শ্যামলিনী?”
তৃণার রাগ এবার সপ্তম আসমানে পৌঁছে গেল। সে চিৎকার করে বলল,
“স্বাভাবিক? আপনার কাছে এটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে?”
আরিয়ান নিজের হাসিটা কোনোমতে চেপে রেখে ভাবলেশহীন মুখে বলল,
“হুম, অনেকটা তাই।”
তৃণার সহ্যক্ষমতা এবার সীমা ছাড়িয়ে গেল। সে আরিয়ানের শক্ত বুকে দুই হাত দিয়ে সজোরে এক ধাক্কা মারল। ধরা গলায় বলে উঠল,
“খুব তো শখ ললনা-দের মেসেজ পাওয়ার! তাহলে আজ থেকে আমার ধারেকাছে আসার একদম চেষ্টা করবেন না। ওই সুন্দরীদের নিয়েই থাকুন আপনি!”
বলেই সে আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। আরিয়ানের কোনো ডাক বা বারণ তোয়াক্কা না করে ঝড়ের বেগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল সে।
নিচে নামার সময় সিঁড়ির প্রতিটি ধাপে তৃণার রাগের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছিল। আরিয়ান পেছন পেছন এসে মাঝ সিঁড়িতে তৃণার হাতটা খপ করে ধরে ফেলল। অনেকক্ষণ মান ভাঙানোর চেষ্টা করে সে এবার কিছুটা কাতর স্বরে বলল,
“আর কতক্ষণ মুখ ফুলিয়ে রাখবে শ্যামলিনী? সত্যি বলছি, একদম ভালো লাগছে না এসব।”
তৃণা এক ঝটকায় হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে তিক্ত স্বরে বলল,
“কেন ভালো লাগবে না? যান না, আপনি গিয়ে তাদের সাথেই কথা বলুন যারা আপনাকে দিনরাত বেবি বলে সম্বোধন করে!”
আরিয়ান কাঁধ উঁচিয়ে শান্ত স্বরে বলল,
“আমি তো আর কথা বলি না। এখানে আমার দোষটা কোথায়?”
তৃণা এবার আরিয়ানের দিকে এমন এক দৃষ্টিতে তাকাল, যাতে কেবল অভিমান আর তেজ মিশে ছিল। সে কোনো উত্তর না দিয়ে এক হ্যাঁচকা টান দিয়ে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিল।
আরিয়ান তখন সিঁড়ির গোড়ায় বিমর্ষ মুখে দাঁড়িয়ে ভাবছিল কীভাবে তৃণার পাহাড়সম অভিমান ভাঙানো যায়। ঠিক তখনই পেছন থেকে কারো হাতের স্পর্শ পিঠে অনুভব করে সে পেছনে ফিরল। দেখল আদনান দাঁড়িয়ে আছে, তার ঠোঁটের কোণে বিদ্রূপাত্মক এক চিলতে হাসি।
আদনান বেশ রসিয়ে রসিয়ে দুষ্টুমি ভরা কণ্ঠে বলল,
“উফ! কী লজ্জা, কী লজ্জা! বাঘের মতো ভাই আমার, অথচ ভাবি তোমাকে সামান্য পাত্তা দিচ্ছে না? এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে বলো তো?”
আরিয়ান রাগী চোখে ছোট ভাইয়ের দিকে তাকাল। আদনান বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে নিজের শার্টের কলারটা একটু ভাব নিয়ে ঠিক করে বলল,
“আল্লাহর রহমতে আমি একটা বউ পাইছি বটে! সারাদিন আমাকে মাথায় তুলে নাচে। কী যে ভালো বউ আমার, আমার এক ইশারায় সে কুপোকাত!”
কথাটা বলতে বলতেই আদনানের চোখের সামনে সকালের সেই বিভীষিকাময় দৃশ্যটা ভেসে উঠল। সকালে আজ নৌশি তাকে এক লাত্থি মেরে খাট থেকে নিচে ফেলে দিয়েছিল। কোমরের সেই টনটনে ব্যথাটা এখনো কমেনি, কিন্তু বড় ভাইয়ের সামনে তো আর ইজ্জত বিলানো যায় না! তাই বীরদর্পে মিছে কথাগুলো বলে গেল সে।
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে বলল,
“কাটা গায়ে নুনের ছিটা দিতে আসছিস? সর সামনে থেকে, মেজাজ এমনিতে খারাপ হয়ে আছে।”
আরিয়ান চলে যেতে উদ্যত হতেই আদনান আবারও বিজ্ঞের মতো বাধা দিয়ে বলল,
“ভাইয়া, এই রাগ সহজে ভাঙবে না। আমি তো ভাবির চোখের আগুন দেখলাম! তবে চিন্তা কোরো না, এই কঠিন রোগের ঔষধ আমার কাছে আছে।”
আরিয়ান এবার সত্যি অবাক হয়ে থমকে দাঁড়াল। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
“ঔষধ মানে? কিসের ঔষধ?”
আদনান এদিক-ওদিক তাকিয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“আমার চেনা-শোনা একটা খুব ভালো কবিরাজ আছে।”
কবিরাজ শব্দটা শোনামাত্রই আরিয়ান ধমকে উঠল,
“কবিরাজ দিয়ে আমি কী করব? তুই কি পাগল হয়েছিস আদনান?”
“আরে ভাইয়া, রাগার আগে পুরো কথাটা তো শোনো!”
আদনান তাকে শান্ত করার ভঙ্গিতে হাত নেড়ে বলল,
“ওনার কাছে গেলে এমন এক বশীকরণ ঔষধ দিবে না, দেখবে ভাবি তোমার জন্য একদম পাগল হয়ে যাবে। সারাক্ষণ তোমার পেছন পেছন ঘুরবে। তুমি যা বলবে, ভাবি একদম তা-ই করবে। তোমাকে আর তোয়াজ করতে হবে না, উল্টো ভাবিই তোমার মান ভাঙাবে।”
আরিয়ান তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল,
“এসব কুসংস্কার আমি এক ফোঁটাও বিশ্বাস করি না।”
আদনান এবার শেষ চাল চালল। সে গম্ভীর হয়ে বলল,
“তোমাকে ভালো একটা বুদ্ধি দিলাম। এখন এই বয়সে যদি ভাবির হাতে নাস্তানাবুদ হতে চাও, তবে আমার কী! আর যদি চাও ভাবি তোমার বশ হয়ে থাকুক, তবে আজই চলো আমার সাথে।”
আরিয়ান কিছুক্ষণ গভীর চিন্তায় মগ্ন রইল। তৃণার সেই সকালের মেঘের মতো মুখ আর কর্কশ কথাগুলো মনে পড়তেই তার যুক্তিবাদী মনটা একটু দুর্বল হয়ে গেল। সে ইতস্তত করে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল,
“সত্যি কাজ হবে তো? নাকি গিয়ে আবার কোনো নতুন বিপদে পড়ব?”
আদনান এবার বিজয়ের হাসি হেসে বুক ফুলিয়ে বলল,
“হান্ড্রেড পার্সেন্ট গ্যারান্টি ভাইয়া! কাজ না হলে আমার কলার ধরে জুতোর বাড়ি দিয়ো।”
আরিয়ান একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের শার্টের হাতা ঠিক করতে করতে বলল,
“আচ্ছা ঠিক আছে, যখন এতই বলছিস চল আজই যাই। শেষ চেষ্টাটা করেই দেখি!”
চলবে…
Share On:
TAGS: নিলুফা নাজমিন নীলা, রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৫৩
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৩৭
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র বোনাস পর্ব (আদনান-নৌশি)
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৫৫
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ১১
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৫১
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৪৯
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২৭
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৩৫