প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৬০
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
শেহের আরেক লোকমা আদির মুখে সঙ্গে সঙ্গে ভরে দিয়ে বলল,
“মার খাবি? চুপচাপ খেয়ে স্বার্থর কাছে গিয়ে ঘুমাবি।”
আদি দুহাত দিয়ে শেহরের গলা জড়িয়ে ধরে বলল,
“কেন?”
শেহের আড়চোখে নুসরাতের শক্ত চোয়াল দেখে ফিসফিস করে বলল,
“তুই যদি এখানে থাকিস তাহলে তোর জন্য ভাই কিংবা বোন কী করে এনে দিব?”
“আমার ভাই-বোন হলে তুমি আমায় আর আদর করবে না? নিচে ওই পাজি দাদি বলছিল তোমার যদি বাবু হয় তাহলে তুমি আমায় আর ভালোবাসবে না।”
শেহের মুচকি হেসে ওর মাথার চুল ঠিক করে দিতে দিতে বলল,
“উনি তোর দাদি হয়। আমার মা সে। বাবার উপর একটু রাগ করে আছে বলে এমন করে বলেছে।”
“তোমার মা আমায় ভালোবাসে না।”
“সবাই ভালোবাসবে, দাদিকে কদিন সময় দিতে হবে, বুঝলি?”
আদি লক্ষ্মী ছেলের মতন মাথা নাড়ল। খাওয়া-দাওয়া শেষে আদি নিজেই স্বার্থর কাছে যাওয়ার জন্য দাপাদাপি শুরু করল। স্বার্থ এসে ওকে নিয়ে যাওয়ার পর শেহের পা উঠিয়ে বসল নুসরাতের মুখো-মুখী। নুসরাত ভয় পাচ্ছে স্পষ্ট বুঝতে পারল শেহের। ভয় পাওয়ার-ই কথা। আজ অনেক গুলো বছর পর তার নতুন একটা সংসার হয়েছে। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে একটু কষ্ট হবে বটে। তবে নুসরাত সব চেয়ে বেশি নার্ভাস শেহেরের সামনে। একা একটা ঘরে দুজন। শেহের খুঁকখুঁক করে কেঁশে উঠল।
“রাতপাখি, গরম লাগছে না? মাথায় এত বড় ঘোমটা টেনে রেখেছ কেন?”
নুসরাত বলল,
“এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দাও।”
“আচ্ছা।”
এসির পাওয়ার বাড়ানো হলো। অনেকক্ষণ দুজন চুপচাপ বসে রইল বাক্য বিনিময় না করেই। শেহের ছটফট করছে—তা বেশ বুঝতে পারল নুসরাত। নিজেই মাথার ঘোমটা সরিয়ে গায়ের গয়না খুলতে শুরু করল। সব গয়না খুলে রাখল। নিঃশব্দে বিছানা ছেড়ে উঠে কাপড় নিয়ে ঢুকল ওয়াশরুমে। নুসরাতের অস্বস্তি হবে বলে বিছানার ফুল গুলো ঝেড়ে পুরো ঘর ঝাড়ু দিল সুন্দর করে। ততক্ষণে নুসরাত বের হয়েছে ওয়াশরুম থেকে। ঘরের অবস্থা দেখে বলল,
“কী করছ?”
শেহের ঝাড়ু রেখে দিয়ে বলল,
“তোমার খারাপ লাগতে পারে।”
“এসবের দরকার ছিল না।”
নুসরাত ভেজা চুল মুছে তোয়ালে ছড়িয়ে দিয়ে আসল। ঘরে এসে বলল,
“এসো।”
শেহের কপাল কুঁচকে বলল,
“কোথায়?”
“নামাজ পড়বে না? ওযু করে এসো।”
শেহের তাই করল। দুজন মিলে নামাজ শেষে বসল বিছানায়। শেহের বিছানা ঠিক করে দিয়ে বলল,
“অনেক ক্লান্ত তুমি, ঘুমাও একটু।”
নুসরাত অবাক চোখে তাকাল ওর দিকে। সে তো ভেবেছিল শেহের নিজের অধিকার চাইবে। কোনো পুরুষ কী নিজের ইচ্ছের কথা না ভেবে স্ত্রীর কথা ভাবে? শেহের ঘরের লাইট বন্ধ করে দিয়ে নুসরাতের পাশে এসে শুয়ে পড়ল। খানিকক্ষণ পর বুকে টেনে নিল বউকে। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কপালে ঠোঁট স্পর্শ করে বলল,
“আমায় এত নিচু চোখে দেখছ কেন? সব পুরুষ দেহ চায় না। তোমার চোখে যেদিন নিজের জন্য ভালোবাসা উপলব্ধি করতে পারব, সেদিন আশা করি আর অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন হবে না। ততদিন নাহয় এই বুকে অন্তত জড়িয়ে ধরার অনুমতি দিলে?”
নুসরাত চোখ বন্ধ করে রাখল ওর মাঝে। ওর কথা শুনে আলতো হাত ওর পিঠে রেখে বুঝিয়ে দিল নিজের মতামত। হাসল শেহের। ঝাঁপটে জড়িয়ে রাখল হালাল নারীর ছোট্ট দেহটা।
••
নিশাকে স্মৃতির সাথে থাকার জন্য বলা হয়েছে। এতে নিশা অবশ্য আপত্তি করেনি। তবে এই নিয়ে স্বার্থর খুব আফসোস! তার কথা আজ যদি নিশার সাথে ওর বিয়ে হত তাহলে দুজন একই ঘরে থাকতে পারত। নিশা কপাল কুঁচকে স্বার্থর অভিনয় দেখছে। ছাদের মৃদু বাতাসে দুলছে গায়ের কাপড়। স্বার্থ মুখ ভার করে বসে আছে। নিশা দীর্ঘশ্বাস ফেলল ওর নাটক দেখে। মুখের সামনে চলে আসা চুল গুলো কানের পিঠে গুঁজে মৃদু গলায় বলল,
“কবে বড় হবে বলো তো? তোমার বয়স তো আমার চেয়েও দ্বিগুণ অথচ ব্যবহার এমন বাচ্চাদের মতো কেন?”
“যেদিন আমি থাকব না সেদিন এই পাগলামো গুলোই মিস করবি।”
“আমায় ছেড়ে কোথায় যাবে তুমি?”
“যেখানে গেলে আমার ছাঁয়াও আর দেখতে পারবি না।”
নিশা শান্ত হয়ে তাকিয়ে রইল ওর দিকে। স্বার্থ অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে আছে। চোখে-মুখে কেমন অদ্ভুত অস্থিরতা। নিশা হাত বাড়িয়ে ওর চুলের ভাজে আঙুল রাখতেই স্বার্থ হুট করে ওর কোলে মাথা রাখল। চোখ তুলে তাকাল মেয়েটার মায়াবী টানা আখি পানে।
“চোখের আড়াল হলে নাকি মনের আড়াল হতেও বেশি সময় লাগে না। যদি কখনও চোখের আড়াল হই তাহলে কী আমায় মন থেকেও মুছে ফেলবি সোনা?”
নিশা মৃদু হেসে ঠোঁট টানল। স্বার্থর সারা মুখে ছোট ছোট স্পর্শ এঁকে বলল,
“আমার জীবনে কখনো তুমি ব্যতীত দ্বিতীয় পুরুষ আসেনি। যার জন্য কিশোরী বয়সে এই হৃদয়ে ঝড় উঠেছিল আজ এত বছর পর সেই ঝড় থামাব কী করে?”
“তোর বাবা আমাকে পছন্দ করে না মেয়ের জামাই হিসেবে। বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে আমার হাত ধরার সাহস তোর আছে?”
নিশা এই সময় চুপ করে গেল। খানিকক্ষণ পর বলল,
“আমার মা-বাবা নেই জানোই তো! আমাকে ওই বাড়ি নিয়ে আসা হয়েছিল আমি একদম বাচ্চা থাকতে। বাবাকে বাবা, মাকে মা আর ভাইয়াদের ভাইয়া ডাক যখন থেকে শুরু করলাম, তখনও জানতাম না তারা আমার রক্ত নয়। সময়ের সাথে সাথে যত বড় হতে শুরু করলাম ততই আদরের চাদরে মুড়িয়ে যেতে শুরু করলাম।”
নিশা হেসে ফেলল হঠাৎ করে। বলল,
“কোনোদিনও বুঝতে পারিনি এটা আমার পরিবার নয়। বাবা আমাকে খুব ভালোবাসে জানো? এই আমার কিছু হলে বাবা আর ভাইয়ারা অস্থির হয়ে যেত। জ্বর হলে বড় ভাইয়া সারারাত নিজের বুকের উপরে শুইয়ে ঘুম পাড়াত। আমার চার ভাইকে কত জ্বালিয়েছি সেটা তোমার থেকে ভালো আর কে জানবে? তারা আমার জন্য জানও দিতে প্রস্তুত। আমি যদি আমার সুখের জন্য তোমাকে চাই, আমার বিশ্বাস তারা আমায় ফিরিয়ে দেবে না।”
স্বার্থ নিশার হাতের তালুতে নাক ঘষল।
“তোকে খুব ভালোবাসি আমি। একটু দুষ্টুমি করি, কিন্তু জামাই হিসেবে কিন্তু মোটেও খারাপ না আমি।”
“তুমি বুঝি এর আগেও কাউকে বিয়ে করেছিলে?”
“করেছিলাম।”
নিশা চোখ পাঁকাল। স্বার্থ হেসে বলল,
“স্বপ্নে তোকে হাজার বার বিয়ে করেছি। সংসার করেছি তোর সাথে। আর সেই সংসারে আমার ছানা-পোনাও ছিল।”
নিশা ঠোঁট টিপে হাসল। ওর লাজে রাঙা গাল টেনে দিয়ে স্বার্থ বলল,
“সেই সংসার বাস্তবে বানাতে চাই। তুই, আমি আর আমাদের ছানা-পোনা নিয়ে।”
•••
সকাল সকাল সৈয়দ বাড়ি হইহুল্লোড় লেগে গেছে। নুসরাত চৌধুরী বাড়ি থাকতে কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা রান্না ঘরে কাটায়নি; অথচ আজ গত ৩ ঘণ্টা ধরে রান্না ঘরেই সময় দিচ্ছে সে। ফরসা মুখটা লাল টুকটুকে রূপ ধারণ করেছে। গরমে অবস্থা বেহাল। তানিয়া বেগম কাউকে রান্না ঘরে ঢুকতে দেননি। সব কাজ নুসরাতকে একা করতে বলেছেন। রান্না প্রায় শেষের দিকে। এমন সময় ছোট্ট আদি ঘুমঘুম শরীর নিয়ে হেলে-দুলে সিঁড়ি দিয়ে নামছিল। বাড়ি ভর্তি এত মানুষ দেখে কপাল কুঁচকে মাকে খুঁজল,পেল না। একদম নিচে এসে চিৎকার শুরু করল,
“মা? আম্মু তুমি কোথায়?”
সঙ্গে সঙ্গে এক মহিলা প্রচুণ্ড ক্রোধ নিয়ে ধমকে উঠলেন,
“এই ছেলে, সকাল সকাল চিৎকার করছ কেন?”
চমকে উঠল আদি। ভয়ে দুপা পিছিয়ে গেল সে। নুসরাতের কানে এলো এই শব্দ। কাজ রেখে দৌঁড়ে বের হলো রান্না ঘর থেকে। যিনি ধমক দিয়েছেন তিনি শেহেরের বড় ফুপু। নুসরাত চোখ মুখ শক্ত করে এগিয়ে এলো। ছেলেকে কাছে টেনে নিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“আপনি আমার ছেলেকে ধমকাচ্ছেন কেন?”
ফুপু সরু চোখে নুসরাতকে দেখে বলল,
“তো কী করব? সকাল সকাল এমন করে চিৎকার করছে কেন? বাপের বাড়ি পেয়েছে নাকি?”
“জি, এটা ওর বাবার-ই বাড়ি। ছোট মানুষ চিৎকার করবে বলেই এমন করে ধমকাবেন কোন সাহসে?”
“এই মেয়ে, এত চেটাং চেটাং কথা তো ভালোই পারো। নিজের সংসার ধরে রাখতে পারলে না? সেই এসে আমার শেহেরের গলায় ঝুলে পড়েছ।”
নুসরাত মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াল। শ্বাস ফেলে বলল,
“আপনাদের ছেলেই আমাকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়েছিল, আশা করি সব খুলে বলতে হবে না। আর রইল সংসারের কথা! সেই একই কথা তো আমি আপনাকেও বলতে পারি। আপনিও তো স্বামী ধরে রাখতে পারেননি ফুপু।”
ফুপু থমকে গেলেন এক পর্যায়। শেহেরের দাদি এগিয়ে এলেন। তানিয়া বেগম দাঁত চেপে বললেন,
“একদিনও তো হয়নি শ্বশুর বাড়ি এসেছ, এরই মধ্যে ঝগড়া শুরু করেছ? ফুপু শাশুড়ির সাথে বেয়াদবি করছ? বাপ-মা শিক্ষা দেয়নি নাকি?”
দাদি ধমকে উঠলেন বউকে,
“আহা, কী হচ্ছে তানিয়া? নতুন বউয়ের সাথে কেউ এমন ব্যবহার করে? আমি তো ওর কোনো দোষ দেখছি না! বিথি-ই তো ঝামেলা টা শুরু করল। অমন ফুটফুটে বাচ্চাটার সাথে কেমন ব্যবহার করল দেখোনি? নাতিটা তো তোমারই।”
“কীসের নাতি মা? কোন ছেলের না কার বাচ্চা সে আমার নাতি হতে যাবে কেন? আমার শেহের কী ওকে জন্ম দিয়েছে?”
নুসরাত শুকনো ঢোক গিলল। আদি ফ্যালফ্যাল করে দাদির দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো বাচ্চাটা বুঝতে পারছে না তিনি কী বলছেন। নুসরাত এর মধ্যে ছেলেকে রাখতে চাইল না। এত নোংরা নোংরা কথা ছেলের সামনে হচ্ছে ভাবতেও তার গা ঘিনঘিন করছে।
নুসরাত আদিকে নিয়ে অন্যদিকে পা বাড়ালে দেখা মিলল সিঁড়ি দিয়ে গম্ভীর মুখে নেমে আসছে শেহের। চোয়াল খানা খুব শক্ত। আদি ওকে দেখে ছুটে গেল। শেহের হাত বাড়িয়ে কোলে তুলে নিল। সবাই তখন চুপ করে গেছেন। ড্রয়িংরুম ভর্তি মানুষজনও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। শেহের নেমে এসে নুসরাতের পাশে দাঁড়াল। আদিকে নিচে নামিয়ে দিয়ে নুসরাতের একহাত চেপে ধরল নিজের হাত দ্বারা। তারপর মা এবং ফুপুর দিকে ফিরল। ভারী গোলায় জবাব দিল,
“আমি খুব অবাক হচ্ছি তোমাদের কথা-বার্তা শুনে। আমার স্ত্রীর অতীত নিয়ে যেখানে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই সেখানে তোমরা রীতিমত ওর শেকড় টেনে বের করছ। আমি তোমাদের সেই অধিকার দিয়েছি? কেনোই বা আমার ছেলের সাথে গলা তুলে কথা বলেছ ফুপু? ও কী করেছে?”
ফুপু অবাক হয়ে বললেন,
“তুই আমাদের দিকে আঙুল তুলছিস?”
“তুলছি, তার যথেষ্ট কারণ আছে।”
থেমে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা স্মৃতিকে ডেকে বলল আদিকে নিয়ে এখান থেকে যেতে। স্মৃতি ভাইয়ের কথা মতো আদিকে নিয়ে যাওয়ার পর শেহের ফের বলল,
“আমি ওর অতীতের সব কিছুই জানি। প্রতিটা সেকেন্ডে ওর সাথে কী হয়েছে সেটাও জানি। সব কিছু জেনে-বুঝেই আমি বিয়ে করেছি ওকে। আদিকে নিয়ে কেন তোমাদের সমস্যা হচ্ছে? আমাদের নিয়ে এত সমস্যা হলে বলো, চলে যাচ্ছি আমি আমার বউ-বাচ্চা নিয়ে। যেখানে আমার স্ত্রী এবং সন্তানের সাথে এহেন রুড বিহেব করা হয় সেখানে না থাকাই বেটার।”
দাদি বললেন,
“এমন কথা বলতে হয় না দাদুভাই। ভুল মানুষ মাত্রই হয়।”
“এটাকে কেমন ভুল বলে দাদি? আমি ওয়াদা করেছি কখনও ওদের চোখে পানি আসতে দেব না। সেই আমার ফ্যামিলির মানুষই যদি এমন করে তাহলে..”
ওকে থামিয়ে দিল নুসরাত। বলল,
“হয়েছে থামো। সকাল সকাল কী শুরু করলে তোমরা?”
তানিয়া বেগম মুখে আঁচল চেপে বললেন,
“এই মেয়েটা আমার ছেলের মাথা খেয়েছে। এখন আমাদের কারোর কথাই ওর সহ্য হয় না।”
নুসরাত বিরক্ত হয়ে তাকাল। মেয়েটা এত ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলতে পারে না।
“মা, আপনারা শুধু শুধু সকাল সকাল একটা বিশ্রী কাহিনি তৈরি করলেন। কাল থেকে শুনে যাচ্ছি আপনার ছেলেকে ফাঁসিয়েছি আমি। আমি কী কারণে আপনার ছেলেকে ফাঁসাতে যাব? আমার বাবার কী কম আছে? কীসের অভাব আমার বলুন তো?”
“এই মেয়ে, বড় বড় কথা বলবে না। একে তো আকাম করে বেড়াও এখন আবার সাধু সাজা হচ্ছে।”
শেহের শক্ত গলায় বলে,
“অনেক হয়েছে মা। আর একটা বাজে কথা বললে খুব খারাপ হবে। না জেনে-বুঝে যা-তা বলে যাচ্ছ কাল থেকে। নুসরাতকে নিয়ে এত সমস্যা হচ্ছে কেন তোমার? বাজে বকছ কেন তখন থেকে!”
তানিয়া বেগম কিছু বলতে গেলে শেহের ফের থামিয়ে দিল।
“হয়েছে।”
তারপর নুসরাতের হাত মুঠোয় নিয়ে সিঁড়ির দিকে উঠতে উঠতে বলল,
“তোমাকে কাজ করতে বলেছি আমি? সকাল সকাল গিন্নি সাজতে নিচে নেমেছ কেন? পা ভে*ঙে কিন্তু গলায় ঝুলিয়ে রাখব।”
••
সকলে তৈরি হচ্ছেন সৈয়দ বাড়ি যাওয়ার জন্য। নিচে গাড়ি অপেক্ষা করছে। জারা সবে নিজের মায়ের সাথে কথা বলে ফোন রেখেছে। বিছানার এক কোনায় নিধিকে জামা-কাপড় গোছাতে দেখে এগিয়ে এলো কাছে।
“সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছ?”
নিধি আড়চোখে ওকে দেখে বলল,
“সামনে মাসে আমার বিয়ে, দুদিন পর তো এমনিতেও যেতে হত।”
“আর প্রেম?”
নিধি মুচকি হেসে বলল,
“যারে ভালোবাইসা পরাণ পোড়ে, তারে ভালো না বাইসা যে আমারে ভালোবাসে তার কাছে যাওয়া ঢের ভালো।”
“সে কী ভালোবাসে না?”
“হয়তো না।”
“যে সিদ্ধান্তই নাও না কেন, ঠান্ডা মাথায় ভেবে নিয়ো। জীবন বারবার মানুষকে সুযোগ দেয় না নিধি।”
বিনিময়ে নিধি মুচকি হাসল কেবল। সময় ফুরিয়ে এলো। সবাই গাড়িতে উঠে রওনা হয়েছে। তবে অর্ণ বউকে যেতে দেয়নি সবার সাথে। সে আদালের বাইক নিয়ে বের হয়েছে। গায়ে কালো রঙের পাঞ্জাবী আর কায়নাত কালো রঙের মোটা সিল্কের স্টনের শাড়ি পরেছে। খোলা আকাশের নিচে ছুটে যাচ্ছে নীল রঙের বাইকটা। কায়নাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে জীবনের সব চেয়ে বিশ্বাস যোগ্য মানুষটাকে। বাইকে বসেও মেয়েটা শান্তি দিচ্ছে না অর্ণকে। কখনো ঘাড়ে নাক ঘষছে তো কখনো পেটে চিমটি কাটছে। বিরক্ত হয়ে অর্ণ একজায়গায় গাড়ি থামাল। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছন ফিরে বলল,
“রাস্তা ঘাটে দুষ্টুমি করতে নেই বউ। আমার তো একটা ইজ্জত আছে নাকি?”
কায়নাত মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“কীসের ইজ্জত? আপনার ইজ্জত সেই কবেই নেশার ঘোরে উড়িয়ে দিয়েছি।”
“তাই বলে এখানে এমন করছ কেন?”
“আপনার মাইন্ড খুব খারাপ। অসভ্য লোক, আদির জন্য কিছু নিতে চেয়েছি ভুলে গেছেন? আপনাকে না শপে নিয়ে যেতে বললাম?”
“এখন নিয়ে কী করবে? রাতে তো আমাদের সাথেই বাড়ি ফিরবে।”
“আপনি দিন দিন কীপটা হয়ে যাচ্ছেন। এই না মেয়ের জামাই বানাতে চান ওকে? আর এখনই এসব শুরু করে দিয়েছেন?”
অর্ণ ঠোঁট টিপে বলল,
“তুমি কী প্রেগন্যান্ট? বাবা হচ্ছি নাকি?”
বলেই চোখ টিপ মারল। কায়নাত ওর ঘাড়ে হালকা চাপড় মেরে বলল,
“বেশি কথা বলবেন না। তাড়াতাড়ি চলুন।”
ওরা সৈয়দ বাড়ি পা রাখতে না রাখতেই কোত্থেকে যেন স্বার্থ দৌঁড়ে এসে অর্ণর উপর এসে হামলে পড়ল। বলা চলে এক প্রকার কোলে উঠে এসেছে। কায়নাত হতভম্ব হয়ে দূরে সরে যেতেই স্বার্থ চিৎকার করে বলল,
“তোর বাপ এই বাড়ি এসেও আমাকে অপমান করতে ছাড়েনি সোনা। আমি কিন্তু পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহ**ত্যা করব!”
অর্ণ ঠেলে-ঠুলে ওকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে বলল,
“তোর কথাও সমস্যা আছে? সব সময় শরীরের সাথে লেপ্টে আসিস কেন?”
স্বার্থ পলক পিটপিটিয়ে খোঁপ করে অর্ণর হাত চেপে ধরে বাড়ির কোনায় যেতে যেতে বলল,
“এত বড় অপমান আমি সইতে পারব না। চল তোকে পরীক্ষা করে দেখাই আমার কোথাও সমস্যা আছে কিনা।”
কায়নাত লম্বা শ্বাস টেনে মাথা ঝাঁকিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করল। সব কিছু নরমাল থাকলেও শেহেরের মা কারোর সাথে বেশি কথা বলছেন না। এতে অবশ্য নুসরাতের কিছু যায়-না আসলেও চৌধুরী বাড়ির মানুষ ভালো নজরে দেখছেন না। শেহের যথাসম্ভব শ্বশুর বাড়ির মানুষদের আপ্যায়ন করছে। আদি ছুটছে নিজ মনে। ভালোই ভালোই পুরো অনুষ্ঠান শেষ হলো। অনেক আত্মীয় এসেছিলেন, সবাই দেখা-সাক্ষাৎ করে দোয়া করে গেছেন। যারা জানেন ভেতরকার খবর, বেশিরভাগ মানুষ নুসরাতকে বলেছে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। মেয়ে মানুষের একটু ধৈর্য না থাকলে জীবনে টিকে থাকা কষ্ট। এ কথার অর্থ নুসরাত ছাড়া আর কে ভালো জানে?
তারপর? তারপর অনুষ্ঠান শেষে নুসরাতদের নিয়ে চৌধুরী বাড়ির সবাই ফিরে গেলেন নিজ নীড়ে। ধরণীর বুকে আবার নতুন করে সূর্য উদয় হবে, আলোয় আলোকিত করবে—ঠিক তেমন করেই হয়তো একদিন নুসরাতের জীবন রঙে রঙিন হবে তার পুরো পৃথিবী।
(নেক্সট পর্ব থেকে রকেটের গতিতে গল্প আগাবে। কারেন্ট থাকে না, ফোনে চার্জও থাকে না। গল্প লিখতে বেশ কষ্ট হয়েছে।)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৬১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৫১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩১.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৬(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৭.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৮