Golpo romantic golpo প্রিয়তার পূর্ণতা

প্রিয়তার পূর্ণতার পর্ব ১৫


প্রিয়তার_পূর্ণতার

Nadia_Afrin

১৫

ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে আছে ঘর।কারেন্ট আছে।তবে আমি লাইট বন্ধ করে বারান্দায় বসে আছি।ক‍্যান্ডেল জ্বলছে।বাইরে বাতাস ভীষণ।
তবে এই আগুনের গায়ে বাতাস লাগছেনা।চারপাশ কারেন্ট দ্বারা আবৃত।
কিছুটা হ‍্যারিকান টাইপ।বই পড়ছি সেই আলোয়।খোলা চুল আমার উড়ছে ভীষণ।
ভালো লাগছে।এমন পরিবেশে বই পড়তে ভালো লাগে আমার।
হঠাৎ ঘরের কারো ঢোকার শব্দ হলো।
পেছন ফিরলাম আমি।কোনো অবয়ব এগিয়ে আসছে আমার দিকে।
বুকটা ধ্বক করে উঠলো।কে আসছে?মনে একটু ভয় কাজ করে।বরাবরই ভুতে বিশ্বাসি আমি।
কাঁপা স্বরে বললাম,”কে?”

সে কোনো জবাব না দিয়ে আরো এগিয়ে আসতে নিল।আমার হৃদস্পন্ধন বাড়ছে ক্রমাগত।
উঠে দাঁড়িয়ে সবেই চিৎকার দিব চোখ বুজে,এমনই সময় কেউ চেপে ধরে আমার মুখ।
আমায় এবার পায় কে!
ভয়ে আতঙ্কে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছি।এরপর আর কিছু মনে নেই।

জ্ঞান ফেরে প্রায় মাঝরাতে।
উঠে দেখি হাতে ক‍‍্যানোলা পড়ানো।স‍্যালাইন চলছে।
আমার হাত ধরে রেখেছে প্রলয়।
ধীর স্বরে প্রলয়কে ডাকলাম।ও আমার দিকে তাকালো।
বললাম,”আমার কী হয়েছে?”

“আপনি এতো ভিতু বুঝতে পারিনি।”

“মানে?”

“মানে আপনি রুম অন্ধকার করে বারান্দায় বসে বই পড়ছিলেন ক‍্যান্ডেল জ্বালিয়ে। আমি যেতেই মুখ না দেখে ভুত ভেবে জ্ঞান হারিয়েছেন।”

আমি মনে করতে লাগলাম সবটা।
ফট করে বললাম,”ওহ ওটা আপনি ছিলেন?কথা কেন বলছিলেন না?আপনি আমার মুখ কেন চেপে ধরেছিলেন?”

“দেখছিলাম আপনি কী করেন।মানে উপস্থিত বুদ্ধি দেখতে চাচ্ছিলাম।
যখন দেখলাম চ‍্যাঁচাবেন তখন মুখ ধরেছি।নাহলে লোকে আপনায় ভিতু ভেবে হাসাহাসি করতো যে।”

নিজের কান্ডে লজ্জাই পেলাম।
শ্বাস টেনে বললাম,”মোটেও আমি ভিতু নই।শুধু একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।”

প্রলয় ভ্রু বাকিয়ে বলল,”তাই নাকি?ভিতু নন অথচ ভয় পেয়ে এমন জ্ঞান হারিয়েছেন যে ডাক্তার ডেকে স‍্যালাইন দিতে হলো।
বাই দ‍্যা ওয়ে ডাক্তার বলল আপনি নাকি ভীষণ উইক আছেন।প্রেশার লো।
খান না নাকি ঠিক মতো?”

বললাম,”খাই তো।মাঝেমধ‍্যে একটু অনিয়ম হয়ে যায়।”

“এটাই তো ভালো নয়।এখন থেকে দেখছি আপনার প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে।
আপনি বসুন আমি আপনার জন্য খাবার নিয়ে আসছি।”

প্রলয় নিচে গেল।যাওয়ার আগে স‍্যালাইন খুলে দিয়ে গেল।শেষ হয়ে গেছে।
আমি ধীরে ধীরে নামলাম বিছানা থেকে।ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে বারান্দায় দাঁড়ালাম।এখান থেকে কিচেন সহ নিচের সবকিছু স্পষ্ট দেখা যায়।
প্রলয় কিচেনে গিয়ে ঢাকনা সরিয়ে দেখলো একটুও খাবার নেই।
ভাত আছে।তাতেও পানি দেওয়া।ফ্রিজেও কিছু নেই।
ওর কপালে বিরক্তির ছাপ পড়লো দেখলাম।
চিৎকার করা শুরু করলো।সবাইকে ডাকছে।
আমি তড়িঘড়ি নিচে এসে ওর শার্টের হাতা খামচে ধরে বললাম,”থাক না।কবির ভাই বাড়িতে।প্লিজ খাবার নিয়ে কোনো ঝামেলা করবেন না।এর চেয়ে লজ্জার কিছু হয়না।”

প্রলয় চোখ রাঙিয়ে বলল,”লজ্জাতো ওদের পাওয়া উচিৎ।”

আরো জোরে ডাকতে লাগলো।মা, রিপা,সুমা আপু এলো।মা ঝাঁড়ি দিয়ে বলল,”কী সমস্যা?এতো রাতে সাড়ের মতো চিৎকার করছিস কেন?”

“খাবার কোথায় ?”

“খাবার কোথায় মানে?খাবার আমাদের পেটে।”

প্রলয় রাগে মাথা চেপে ধরে বলল,”আমাদের খাবার কোথায়?কিছু নেই কেন?”

মা এবার অবাকের স্বরে বললেন,”সে কী!আমাদের মানে?তুই ও খাসনি বাবা?আমিতো ভেবেছি তুই খেয়েছিস।
এজন্য বেঁচে যাওয়া খাবার গুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছি।এমনিতেও সকালে নষ্ট হয়ে যাবে।ফেলতেই হবে।তাই ভাবলাম এখনি ফেলে দেই।বউমার কাজ এগিয়ে রাখি।এমনিতেই অসুস্থ বেচারা।”

প্রলয় যেন আরো জ্বলে উঠলো।রাগে চোখ-মুখ শক্ত করলো।চোখ বন্ধ করে নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে বলল,”তাহলে প্রিয়তার খাবার কোথায়?”

মা এবার বললেন,”ও খাবে আবার?দুপুরে বাটি ভর্তি মাংস একা খেলো।ভেবেছি রাতে আর খাবেনা।আমরা ঐ খাবার খেলে তো দুদিন না খেয়েই থাকতাম।”

প্রলয় এবার চিৎকার করেই বলল,”কমনসেন্সলেস মাথা খারাপ লোকজন কোথাকার!
দুপুরে খেলে তাই রাতে খাবেনা ও?
আমিতো তোমাদের জনম শত্রু।আমার কথা ভাবোনি মানলাম।কিন্তু অসুস্থ এই মেয়েটার কথা তো ভাবতে পারতে।তোমরা কী মানুষ আদৌতে?
শুনলেই তো ডাক্তার বলল ও অনেক উইক।ঠিক মতো খেতে হবে।তারপরও রাখলেনা কোন আক্কেলে?”

মা এবার আর কোনো জবাব দিতে পারলোনা।
পরিস্থিতি সামলাতে সুমা আপু এগিয়ে এসে বলল,”ভুল হয়ে গেছে ভাই।ক্ষমা করে দে।কাল থেকে তোর বউকে ঠিক মতো খাওয়াস।আমি নিজে দায়িত্ব নিয়ে প্রিয়তাকে খাওয়াবো।
আজ ছেড়ে দে প্লিজ।মা এমনিতেই অসুস্থ।আর চ‍্যাঁচামেচি করিসনা।কবির শুনতে পেলে কী ভাববে বল!”

মা মুখ বাকিয়ে বললেন,”প্রলয় অহেতুক আমাদের দোষ ধরছে।কে জানবে ওর বউয়ের সেবায় না খেয়ে থাকবে ও!”

“বাড়ির লোক হিসেবে তোমাদের উচিৎ ছিল অসুস্থ মেয়েটার পাশে থাকা।মা তোমার অসুস্থায় তো প্রিয়তা সেবা করলো।তাহলে তুমি কেন করলেনা ওর?
নিজের বেলায় ষোলো আনা তাইনা?”

তখনই হঠাৎ সেখানে এলো কবির ভাই ও তার ছেলে।এসেই চোখ কচলে বলল,”কী হয়েছে?এতো রাতে প্রলয় চিৎকার করছে কেন?
এ‍্যানিথিং সিরিয়াস?”

মাকে দেখলাম প্রলয়ের দিকে তাকিয়ে সমানে ইশারা করে যাচ্ছে কবির ভাইকে কিছু না বলতে।সত‍্যিই তো।এটা মান সম্মানের বিষয়।
আমি আগ বাড়িয়ে বললাম,”কিছুনা ভাইয়া।প্রলয়ের একটা জরুরি পেপার্স পাচ্ছেনা এজন্য জিজ্ঞেস করছে আর কী।”

প্রলয় ত‍ৎক্ষণাৎ বলল,”মিথ‍্যা কেন বলছেন?সত‍্যটা বলুন।ওরা একটু লজ্জা পাক।তবুও যদি এদের শিক্ষা হয়।”

“কী হয়েছে?”

“এই মহিয়সী মহিলা গুলো একটা মহান কাজ করেছে।আমার আর প্রিয়তার জন্য খাবার না রেখেই নিজেরা খেয়ে ভাতে পানি দিয়েছে।তরকারি ডাস্টবিনে ফেলেছে।”

কবির ভাই বলল,”সে কী মা!
খাওয়ার টেবিলেও তো আমি আপনাকে প্রিয়তার কথা জিজ্ঞেস করলাম।আপনি বললেন প্রিয়তা খেয়েছে।”

মা মাথা নিচু করলো।
সুমা আপু আবারো প্রলয়ের হাত ধরে বলল,”বললে তো আর উঠে আসবেনা ভাই।ক্ষমা করে দে এবারের মতো।
বাড়ি থেকে একটু দূরে যে রেস্টুরেন্টটা আছে,সারারাত খোলা থাকে যে।ওখান থেকে বরং ড্র্রাইভারকে দিয়ে কিছু আনিয়ে নিয়ে খেয়ে নে রাতটার মতো।
আর এমন হবেনা।অথবা বিস্কুট,মুড়ি,ব্রেড বা ফল খেয়ে থাক।”

প্রলয়ের মুখ কিছুটা স্বাভাবিক দেখালো।ঠিক তখনই কবির ভাই বলল,”মেয়েটা এমনিতেও অসুস্থ।ভাত না খেলে হয়?
ভাতের শক্তি কী অন‍্য কিছুতে পাওয়া যায়?
এই অসুস্থ শরীর নিয়ে আবার বাইরের খাবার খাবে?
এরচেয়ে বরং তুমি,মা আর রিপা মিলে ওদের দুজনের জন্য কিছু একটা রান্না করো।
খেয়ে প্রিয়তা ঔষধ খাবে।ডাক্তার খেতে বলেছে যে।”

সুমা আপু বিষ্ময়ের স্বরে বলল,”আমরা রান্না করবো এখন?”

“হ‍্যা করবে।ভুলটা তোমরা করেছো,সমাধানটাও তোমাদের দিতে হবে।”

মা বললেন,”পারবোনা আমি।পরের মেয়ের জন্য আমি এতো রাতে রাধতে পারবোনা।”
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।

“তাহলে তো আমিও কখনো অসুস্থ হলে আপনারা আমার দিকে ফিরেও তাকাবেননা দেখছি।আমিও তো পরের ছেলে।”

মা কিছু বলতে নিলে সুমা আপু মাথা নাড়িয়ে নিষেধ করলেন।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,”কী রাধতে হবে?”

যেন এদের জান কুরবানি করতে বলা হয়েছে।কথা বলার ধরণটা এমন।

কবির ভাই কিছুক্ষণ ভেবে বলল,”ডাক্তার প্রিয়তাকে শাক-সবজি বেশি খেতে বলেছে।
তো একটা কাজ করো তোমরা,কয়েক পদের সবজি মিশিয়ে অল্প তেল মসলায় একটা খিচুড়ি করে ফেলো।
এতে আলাদা করে তরকারি রাধতেও হলোনা আর প্রিয়তাও একটা হেলদি খাবার পাচ্ছে।”

“এতোরাতে সবজি মিক্সড খিচুড়ি?”

“হ‍্যা সুমা।কেন কোনো আপত্তি আছে?”

আমতা আমতা করে বললেন,”না মানে কয়েক পদের সবজি সঙ্গে আবার চাল-ডাল দিলে অনেক হয়ে যায়।ওতো ওরা খেতে পারবেনা।এরচেয়ে বরং আলু ভাতে দিলে,,,,”

সঙ্গে সঙ্গে কবির ভাই বলে উঠলো,”সমস‍্যা নেই।লেট নাইটে খাওয়ার অভ‍্যাস আছে আমার।
আমি খাবো,প্রিয়তা আছে প্রলয় আছে।”

পাশ থেকে সুমা আপুর ছেলে বলল,”বাবা আমিও খাবো।আই লাইক ইট।”

“এইতো হয়েই গেল।এবার চটপট রেধে ফেলো দেখি।”

উপায় না পেয়ে তিনজনা বিরবির করতে করতে কিচেনে গেল।
আমি প্রলয়কে ফিসফিস করে বললাম,”একটু বেশিই হয়ে গেল না?এতো রাতে ঘুম থেকে ওদের তুলে এনে রান্না করানো হচ্ছে।”

প্রলয় চোখ রাঙালো।
আমি নুয়ে গেলাম।কবির ভাই মুচকি হেসে বলল,”প্রলয় প্রিয়তা ফিল্ডে নতুন।ব‍্যাটিং করা সহজেই বুঝবেনা।
শুধু রেফারি হয়ে দেখছে।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব‍্যাটিং বোলিং দুইটাই শিখে নেবে।”

কী বলল কিছুই বুঝলাম না।

সোফায় বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম।রান্নাঘরে প্রচন্ড ঝামেলা হচ্ছে।মা পেয়াজ কাঁটবেনা।সুমা আপুকে কাঁটতে বলছে।সুমা আপু আবার রিপাকে বলছে।
সবজি কাঁটবেনা কেউ।সবাই শুধু চাল ধুতে চাচ্ছে।এভাবেই চলছে।
আমি একবার প্রলয়কে বলেছিলাম ওদের গিয়ে আমি হেল্প করতে চাই।প্রলয় চুপচাপ বসে থাকতে বলেছে।

প্রায় দেড়ঘন্টা পর রান্না হলো।
হাড়ি সহ টেবিলে রেখে মা বললেন,”নাও খেয়ে উদ্ধার করো।
প্লেটে বেড়ে দিয়ে খাইয়ে দেব নাকি?”

প্রলয় উঠে দাঁড়িয়ে বলল,”তার দরকার নেই।আমরা নিজেরা খেতে জানি।”

বসলাম গিয়ে টেবিলে।প্রলয় বেড়ে দিল।মা ও আপু দাঁড়িয়ে রইলেন।খেতে বললাম তাদের।ওরা একবার নিজেদের দিকে চোখাচুখি করে বসে গেল।
সবাই মিলেই খাওয়া হলো।ভালোই রেধেছে।হাড়ি সাবার।
যে যার মতো উঠতে লাগলেন।
আমায় বললেন,”নাও রেধে দিয়েছে।খাওয়াও শেষ।এবার নিশ্চয় শরীরে শক্তি ফিরে এসেছে তোমার।এঁঠো থাল-বাটি মেজে ধুঁয়ে রাখবে।সকালে রিপার কলেজ আছে।আমারও কিছু কাজ আছে।সুমা ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যাবে।সকালে উঠেই রান্না বসাবে।এগুলো ধোঁয়ার সময় পাবেনা।কাজের বুয়ারা কাল আসবেনা।ছুটি দিয়েছি দুদিনের।এ দুদিনের সব কাজ তুমি করবে।”
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।

কথাটি বলেই মা রিপা ও সুমা আপুর দিকে তাকালো।ওরা শয়তানি হাসলো।ওদের হাসি দেখেই বুঝে গেছি আমি।আসলে আমায় শিক্ষা দিতে একাজ করেছে।আমি সেদিন মায়ের সঙ্গে তর্ক করেছি এজন্য প্রতিশোধ নিচ্ছে আরকি!

প্রলয় বলল,”কার অনুমতিতে ছুটি দিয়েছো?
এজন‍্যই হয়ত আন্টি কল করেছিল আমায়।ব‍্যস্ত থাকায় রিসিভ করতে পারিনি।ভেবেছিলাম বাড়ি গিয়ে কাল কথা বলে নেব।
ছুটি কেন দিলে?কার অনুমতিতে দিলে?”

“প্রলয় তুই ভুলে যাচ্ছিস তোর মা এখনো জীবিত আছেন।তুই সংসারের উপার্জনের ব‍্যক্তি হলেও এ বাড়ির গুরুজন বা কর্তা কিন্তু আমিই।
আমার মতামতের একটা গুরুত্ব আছে।
এছাড়াও ওরা টানা কাজ করছে।ওদেরও তো একটু ছুটির প্রয়োজন।বিশ্রাম নিতে মন চায়।কাজের লোক বলে ওদের প্রতি জুলুম করতে পারিনা আমরা।”

প্রচন্ড অবাক হলাম আমি।মা কিনা আন্টিদের সুবিধা ভাবছেন।অথচ বাড়িতে দেখি সারাটাদিন তাদের কথা শোনায় ও খামাখা খাটায়।

প্রলয় বলল,”দরধ উতলে যে সাগর হয়ে যাচ্ছে।যাকগে!তোমার যেহেতু এতোই মায়া আর তুমি যেহেতু কর্তাই, তো বাড়ির কর্তাই বরং এ দুটো দিন বাড়ির সব কাজ করবে।”

কবির ভাই ও তাল মিলিয়ে বলল,”ঠিকই বলেছে প্রলয়।প্রিয়তাও অসুস্থ।এক বেলা খেয়ে নিশ্চয় একদম সুস্থসবল হতে পারবেনা।
তাই মা অর্থাৎ কর্তারই দায়িত্বটা নেওয়া ভালো হবে।সঙ্গে তার দুজন মেয়ে তো আছেই।দুজনই বরং মায়ের সঙ্গে সাহায্য করবে।সুমাকে কাল ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যেতে হবেনা।ওর বাবা চলে এসেছে।এবার থেকে এসব দায়িত্ব ওর বাবার।সুমা বরং সকালে উঠে রান্না চাপাবে।মা আর রিপা অন‍্যান‍্য কাজ করবে।”

মা ঘাবড়ে গিয়ে বললেন,”তা কী করে হয় কাল তো আমার এক বাড়িতে দাওয়াত আছে।ঐযে সোহেলের বোনের বিয়ে।”

“সে তো দুপুরের দাওয়াত।সকালের কাজ,রান্না করে যাবে।”

রিপা বলল,”আমি কোনো কাজ করতে পারবোনা।কাল আমার কলেজ আছে বললাম না।”

“তোহ ঠিক আছে।কলেজ থেকে এসে রাতের খাবার রান্না করবি তুই।”

রিপা আল্লাদি স্বরে বলল,”ভাইয়া আমি না তোর একটা মাত্র অবিবাহিত ছোটবোন।আমায় দিয়ে এতো কাজ করাবি?”

“হ‍্যা বোন আমার।একমাত্র অবিবাহিত বোন বলেই করাচ্ছি।যাতে বিবাহিত করে দিতে পারি তোমায়।
কাজবাজ শিখে রাখ। ভবিষ্যতে কাজে দেবে।কে বলতে পারে,তোর বিয়ের পর তোর মায়ের মতোই একজন শাশুড়ি পেলি।”

মা কথা ধরলেন।
“কেন কেন?আমি কী খারাপ শাশুড়ি নাকি?তোর বউকে এতো ভালো রেখেছি।রাজার রাজ‍্যে রেখেছি।তবুও এ কথা?”

“রেখেছো তো রাজার রাজ‍্যেই।তবে সেই রাজ‍্যের রাজা তোমরাই।আর আমার বউকে দাসী বানানোর ধান্ধা।
বাদ দেই সব কথা।ঝামেলা চাইনা।রাত অনেক হয়েছে।সকালে আমার কাজ আছে।প্রিয়তাকেও ঔষধ খেয়ে রেস্ট নিতে হবে।
সকালে যেহেতু তোমাদের তাড়া আছে তো বাসনগুলো মেজে রাখো তিনজনে মিলে।যেভাবে রান্না করলে,সেভাবে একাজটাও করো।”

প্রলয় আমার হাত ধরে নিয়ে গেল।
কবির ভাইও তার ছেলেকে নিয়ে চলে গেল।
মা,রিপা আর সুমা আপুকে দেখলাম রাগে ফসফস করছে।
থালা বাসন সব জড়ো করতে লাগলেন।বাসনের যেন পাহাড় করে ফেলেছে।এনাদের বদ অভ‍্যাস এইটা,অকারণে জিনিস এঁঠো করা। তরকারির চামচ একেকবার একের ধোঁয়া প্লেটে রাখবে।একটায় হাত ধুচ্ছে।কোনোটায় কাঁটা রাখবে।আবার কোনোটায় হাড়।
এভাবেই সব মাতিয়ে নিয়ে খায়।মাজতে গিয়ে বাসনের পালা পড়ে যায়।এবার বুঝবে মজা।মানুষকে অত‍্যাচার করার শাস্তি ভোগ করুক।

দু-বোনকে দেখলাম থাল মাজছে।মা ধুচ্ছে আর নানান কথা বলছে আমায় নিয়ে।একপ্রকার অভিশাপ বলা যায়।

শুনেও না শোনার ভান করে ঘরে ঢুকে গেছি।
রাত আর বেশিদূর নেই।তবুও ঘুমোতে হবে।
প্রলয় শুয়ে পড়েছে।
আমি কী যেন মনে করে ড্রয়ার খুললাম।প্রলয়ের সেই পেপার্সগুলো দেখতে লাগলাম।কী যেন কম কম মনে হচ্ছে।সেদিন দেখতে মনে ছিল না।
বুকের মাঝে ধ্বক করে ওঠে আমার।
প্রলয়কে ডেকে বললাম,”একটু দেখুন তো এখানে আপনার সব পেপার্স গুলো আছে নাকি।”

প্রলয় নেড়েচেড়ে বলল,”আমার কেনা জমির দলিলগুলো নেই।কোথায় গেল?আপনি নিয়েছেন?”

“নাহ।আমি নিয়ে কী করবো?”

“তাহলে গেল কোথায়?”

ভাবনায় পড়ে গেলাম।
অপরাধী মনে হচ্ছে নিজেকে।অজান্তেই হয়তবা উনার কোনো ক্ষতি করে দিলাম আমি।

বললাম,”হয়ত এমনটা আমার জন্য হয়েছে।
আমি খুবই দুঃখীত।”

“এটা কেন মনে হচ্ছে আপনার?”

সেদিনের বিষয়টি প্রলয়কে বললাম।তার কপালে চিন্তার ভাঝ দেখা দিল।হয়ত আমায় বকা দিত।কিন্তু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আর পারলোনা।অলরেডি কাঁদতে শুরু করেছি আমি।
ওর মায়া হলো হয়ত।বলল,”কাঁদবেননা।কিচ্ছু হবেনা।উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কিছু বলা যাবেনা।আগে ঘরে সিসিটিভি ছিল।বিয়ের পর আপনি আসাতে খুলে ফেলেছি আপনার প্রাইভেসির জন্য।
দেখা যাক কী হয়।চিন্তা করবেননা আমি সামলে নেব সব।”

উনি শুয়ে পড়তে বলল আমায়।ওপাশ ফিরে জড়সড় হয়ে শুয়ে পড়লাম।
প্রলয় আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।শান্ত হতে বলছে আমায়।ঘুমোতে বলছে আমায়।
ধীরে ধীরে গভীর নিদ্রায় তলিয়ে গেলাম।
স্বপ্ন দেখছি আমি অন্ধকারের মাঝে দাঁড়িয়ে আছি বারান্দায়।কেউ একজন ধীরে ধীরে আমার কাছে আসছে।কী ভয়ানক চেহারা তার।নাক দিয়ে রক্ত আসছে।চোখ নেই।গলা কাঁ*টা।

ভয়ে চোখ খুলে চিৎকার করে প্রলয়ের বুকের ওপর হামলে পড়েছি।
প্রলয় হতভম্ব।মিনিট দুয়েক সময় দিল আমায়।ভয়ে কাপছি আমি।প্রলয় আলতো হাতে আমার পিঠ ছুয়ে বলল,”ঠিক আছেন?বাজে স্বপ্ন দেখেছেন?”

মাথা তুলে তাকালাম ওর দিকে।মাথা ঝাঁকিয়ে জবাব দিলাম।
হঠাৎ ঘরে ঠক করে শব্দ হলো।আমি আৎকে উঠে এবার প্রলয়ের গলা জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে মুখ লুকিয়েছি।
প্রলয় চারপাশে তাকিয়ে বলল,”একটা বই নিচে পড়ে গেছে শেলফ থেকে।রিল‍্যাক্স।ভয়ের কিছু নেই।”

কিন্তু এবার আমি এতোটাই ভয় পেয়েছি যে কথা কানেই নিচ্ছিনা।ওভাবেই রয়েছি।প্রায় মিনিট পাঁচেক পর একটু ধাতস্থ হলাম।
মাথা তুলে তাকাতেই দুজনের চোখে চোখ পড়লো।
রাতটা ছিল জোসনার।জানালার থাই দিয়ে জোসনার মৃদু আলো এসেছে ঘরে।
দুজন দুজনকে দেখতে পাচ্ছি।প্রলয় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আমার দিকে।
আনমনেই সে বলে ফেলল,”আপনি ভীষণ সুন্দরী প্রিয়তা।ভীষণ স্নিগ্ধ ও কোমল আপনি।”

আমি লজ্জায় লাল হয়ে উঠলাম যেন।
ধীরে ধীরে সরে এলাম তার কাছ থেকে।ওপাশ ফিরে মুচকি মুচকি হাসছি।
প্রলয় সোজা শুয়েই তার একহাত আমায় শরীরের ওপর দিল।বলল,”ভয় নেই ঘুমিয়ে জান।আমি আছি আপনার পাশে।সর্বক্ষণ আমি আপনার ছায়া হয়ে থাকবো প্রিয়তা।কখনো একলা ছাড়বোনা।”

আমি নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছি।গভীর ঘুম এটা।শান্তির,আনন্দের।আমার পাশে থাকা মানুষটি আমায় ভরসা দিয়েছে।
তবে এই ঘুমটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলোনা আমার।কে জানতো এই ঘুমটাই কাল হয়ে দাঁড়াবে।
পরের দিন এরা যা করলো তাতে আমার ঘুমটাই যেন উড়ে যায়।

ইবই,,,,ওর রুপ আমায় মুগ্ধ করেছে। ওর চোখের পানি আমার আগুন হৃদয়কে শান্ত করেছে। ওর অসহায় দৃষ্টি আমার বুকে ঢেউ তুলেছে। ওর কন্ঠ আমায় পাগল করেছে। ওর রেশমি কালো চুল আমার মন কেড়েছে। ওর নমনীয়তা আমায় ধ্বংস করেছে ফাহিম। ভালোবাসার জন্য আর কী চাই বল?”
ক্রয়ের লিংক,,,পড়ুন, ই-বুক “প্রেমনেশা”
https://link.boitoi.com.bd/k9mh

এক চমৎকার কিছু আসতে চলেছে গাইস।

প্রিয়তার পূর্ণতা টাইপ গল্প আরেকটি পড়তে আমার #বড়োজা বইটি কিনতে পারেন মাত্র ২৯৯ টাকায়।
প্রতারিত হওয়া এক নারীর বিষয়ে জানতে পারবেন।
অর্ডার করুন বইবাড়ি রোম্যান্টিক বুকশপ বা যেকোনো বুকশপে।
জিতে নিন বুকমার্ক ও চিঠি।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply