Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ সারপ্রাইজ পর্ব


দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ সারপ্রাইজ পর্ব

লেখক_Jahirul_islam_mahir

🌿

“ঢাকার একটা নামকরা কনসার্ট হল। আলো ঝলমলে স্টেজ, সামনে হাজার হাজার দর্শক। ব্যাকস্টেজে দাঁড়িয়ে আছে সেই মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরীর ছেলে আরশিয়ান আধীর চৌধুরী। বয়স ২৩, লম্বা ছয় ফুট, গায়ের রং ফর্সা, পরনে কালো শার্টের উপর ডেনিম জ্যাকেট, চুলগুলো এলোমেলো। হাতে গিটার।”

আজ আধীরের তৃতীয় তম কনসার্ট। আদনান চৌধুরীর ছেলে বলে কথা—এক্সপেক্টেশন আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু আধীর এসবের ধার ধারে না। ওর নেশা শুধু গানে।”

“অ্যানাউন্সার চিৎকার করে ওঠে”..
–“লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান, এখন আপনাদের সামনে আসছে দ্যা ভয়েস, দ্যা সেনসেশন, দ্যা রকস্টার… আরশিয়ান আধীর চৌধুরী!!!”

মুহূর্তে পুরো হল ফেটে পড়ে চিৎকারে। লাইট অফ হয়ে একটা স্পটলাইট পড়ে স্টেজের মাঝখানে। ধোঁয়ার ভিতর থেকে হেঁটে আসে আধীর। হাতে গিটার, মুখে কিলার স্মাইল।

“আধীর কে দেখা মাত্র সবাই আধীর! আধীর! বলে চিৎকার করতে থাকে, আর মেয়েরা আই লাভ ইউ আধীর! ম্যারি মি আধীর! বলে চিৎকার করছে।”

“শত শত ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বলছে। পোস্টার উড়ছে—”আধীর উই লাভ ইউ”, “আরশিয়ান ইজ মাই হার্ট”।

“আধীর স্টেজের মাঝে এসে দাঁড়ায়। এক হাতে গিটার, আরেক হাত কানে দিয়ে ভিড়ের চিৎকার শোনে। তারপর মাইক্রোফোনটা ঠোঁটের কাছে টেনে নিয়ে চোখ বন্ধ করে। পুরো হল পিনপতন নীরবতা।

“গিটারের তারে আঙুল ছোঁয়ায় আধীর। টুং… টাং… একটা সফট কর্ড। তারপর ওর ভরাট, জাদুকরি গলা ভেসে আসে:

“প্রেমেরি নীল ইশারাতে…!
“এলোমেলো হাওয়া”
“মনের মাঝে জাগালো”…
“আরো আরো চাওয়া”
“আগুন আগুন ভালোবাসা।
“নেভালে যে নেভে না….!!
“মন মানে না, মন মানে ,

“গানের প্রতিটা লাইন যেন তীরের মতো বিঁধছে দর্শকের বুকে। আধীর চোখ বন্ধ করে গাইছে, পুরো অ্যাটেনশন দিয়ে। ওর কপালের রগ ফুলে উঠেছে, গলার স্বরে কষ্ট, প্রেম, হাহাকার সব মিশে আছে।

“সামনের সারির মেয়েগুলো কাঁদছে। কেউ কেউ বুকে হাত দিয়ে শুনছে। ছেলেরাও চুপ। হাজার হাজার মানুষ, কিন্তু কারো মুখে টু শব্দ নাই। শুধু আধীরের গলা আর গিটারের সুর।

“গানের অ্যান্তরা শেষ হতেই আধীর চোখ খোলে। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে স্টেজের একদম সামনে চলে আসে। হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। দর্শকের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। তাঁর পর গানের শেষ লাইনটা ধরে:

“মন মানে না, মন মানে না, মন মানে, মান,….

“গান শেষ।
পুরো হল ফেটে পড়ে।
–“আধীর! আধীর! ওয়ান্স মোর! ওয়ান্স মোর!”

হাততালি, সিটি, চিৎকারে কান পাতা দায়। মেয়েরা কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করছে। ফুল ছুড়ে মারছে স্টেজে। গার্ডরা সামলাতে পারছে না ভিড়।

“আধীর উঠে দাঁড়ায়। ঘামে ভেজা চুলগুলো পিছনে ঠেলে দিয়ে মাইক্রোফোনে বলে,
–“ধন্যবাদ। তোমাদের ভালোবাসা না থাকলে এই আধীর কিছুই না। নেক্সট গান…”

কথা শেষ হওয়ার আগেই আবার চিৎকার। স্টেজের আলো নিভে যায়, আবার জ্বলে ওঠে নীল আলোয়। আধীর গিটার বাজানো শুরু করে পরের গানের জন্য।

আর পুরো কনসার্ট হল তখন একটাই নামে কাঁপছে—আধীর… আধীর…

🌿

“অপরদিকে চৌধুরী ম্যানশন, ড্রয়িংরুমে বিশাল ৮৫ ইঞ্চির টিভির দিকে মুখ করে সবাই বসেছে। সামনে আধীরের তৃতীয় তম সলো কনসার্ট লাইভ চলছে।”

“আদনান সোফার মাঝখানে আরাম করে হেলান দিয়ে বসেছেন। হাতে চিজ পাপকর্নের বড় বাটি। চোখ টিভিতে, ঠোঁটের কোণে চাপা গর্বের হাসি।

  • আদ্রিয়ানা আদনানের ডান পাশে বসেছেন। এক হাতে পাপকর্ন, আরেক হাতে কাজু বাদাম।”
    “অর্ণি সোফার সামনে কার্পেটে পা ছড়িয়ে বসেছে, যাতে টিভি ক্লিয়ার দেখা যায়। হাতে চিপসের প্যাকেট। ভাইকে দেখে লাফিয়ে উঠছে”..
    “আদ্রিজা আর রায়হান আদনানের বাম পাশে থাকা আরেকটা সোফায় বসেছেন। আদ্রিজার কোলে মিক্সড নাটস, রায়হানের হাতে কোল্ড ড্রিংকস। সেন্টার টেবিলে আরও চিপস, চকলেট, ফ্রুট জুস রাখা।”

“আধীরের গান শেষ হতেই রায়হান বলে”..
“ভাইয়া, আধীর তো স্টেজে আগুন ধরায় দিছে। স্ক্রিন দেখো, মেয়েগুলার কী অবস্থা!”

“রায়হানের কথা শেষ হতেই আদ্রিজা বলে”..
“পাঁচ বছর বয়সে ছোট গিটার নিয়ে বসতো, মনে আছে আপু? আজ দেখো, পুরা দেশ কাঁপাচ্ছে।”

“দেখতে হবে না কোন বংশের ছেলে, চৌধুরীদের রক্ত। স্টেজ ওর জন্যই বানানো।”

“রায়হান আর আদ্রিজার এমন কথা শুনে আদনান আর আদ্রিয়ানা মুচকি হাসে।”

“টিভিতে আধীর তখন ক্লোজআপে। দ্বিতীয় নাম্বার গান শুরু করার জন্য গিটারের তারে আঙুল রেখেছে, চোখে সেই কিলার কনফিডেন্স। নার্ভাসনেস নাই।

“ক্যামেরা যখন ক্রাউড দেখায়—”MARRY ME ADHEER” পোস্টার, মেয়েদের চিৎকার—তখন রায়হান আদনানকে উদ্দেশ্য করে বলে”..

“ভাইয়া গেটে দারোয়ান ডাবল করে দিয়ো। কাল থেকে বাড়ির সামনে লাইন লেগে যাবে।”

“আমার ছেলের পছন্দই শেষ কথা। ও যাকে পছন্দ করবে আমি তাঁকেই বৌমা হিসেবে মেনে নিবো।”

“সবাই হেসে ওঠে। টিভির নীল আলোয় চকচক করে চৌধুরী ফ্যামিলির মুখ। বাইরে চট্টগ্রামের পূর্ণিমার চাঁদ, আর ঘরে আধীরের গলার জোছনা।”

🌿

“চৌধুরী ম্যানশন যখন উৎসবে, তখন চট্টগ্রামের আরেকটা ফ্ল্যাটে একটা মেয়ে বালিশে মুখ গুঁজে পড়ে আছে। ল্যাপটপের স্ক্রিনে ফুল ব্রাইটনেসে চলছে আধীরের কনসার্ট লাইভ। রুমের লাইট অফ, শুধু ল্যাপটপের নীল আলোয় ইনায়া আরশিয়ার মুখটা লাল হয়ে আছে—লজ্জায়, এক্সাইটমেন্টে।

“হাতে পপকর্নের বাটি ধরা, কিন্তু একটা দানাও মুখে যায়নি গত ১০ মিনিটে। কারণ স্ক্রিনে তখন আধীর ক্লোজআপে। গিটারে আঙুল রেখে দ্বিতীয় গান শুরু করবে। চোখে সেই কিলার কনফিডেন্স, ঠোঁটের কোণে হালকা বাঁকা হাসি। আধীর টুং টুং শব্দ তুলে আবার ও গাইতে শুরু করে”..

“ভাসাবি প্রেমের ভেলা”….
“এসেছি তোকে নিয়ে ফিরবো বলে”..
“মনেরই পথ চিনে আয় না চলে”..
“ধরছে রে জ্বর বুকে..
“ছাড়ে না”…
“পারছে তোকে ছাড়া, নারে না।”

“লাইনটা কানে যেতেই ইনায়ার বুকের ভেতর ধক করে উঠলো। হার্টবিট এমন বেড়ে গেছে যে নিজের কানেই শুনতে পাচ্ছে—ধুকপুক ধুকপুক। গাল দুটো গরম হয়ে গেছে। ইশ! ছেলেটা এভাবে তাকায় কেন? মনে হয় যেন ল্যাপটপ ফুঁড়ে একদম ওর দিকেই তাকিয়ে গাইছে।

” উফ আল্লাহ! এই ছেলে মানুষ না আগুন? না না, আগুন না… বরফ! এত কুল কীভাবে হয় কেউ? আমি তো স্ক্রিন দেখেই গলে যাচ্ছি।”

“হঠাৎ ক্যামেরা ক্রাউডের দিকে ঘুরলো। “MARRY ME ADHEER” পোস্টার, মেয়েদের পাগলের মতো চিৎকার। ইনায়া সাথে সাথে ল্যাপটপের স্ক্রিনে হাত দিয়ে ঢেকে দিলো, যেন ওর আধীরকে আর কেউ দেখতে না পারে।”

“খবরদার! একদম তাকাবা না আমার আধীরের দিকে! ও শুধু আমার! উফ… কী বলছি আমি? আমি তো বড় হওয়ার পর ওর সামনেই যাইনি কখনো।”

“বলেই নিজেই লজ্জায় বালিশে মুখ লুকালো। কান পর্যন্ত লাল হয়ে গেছে। আরশিয়ার বান্ধবী তিশা দরজায় নক করে ঢুকেই এই অবস্থা দেখে হেসে ফেললো।”

“ওই ইনু! তুই আবার শুরু করলি? এই নিয়ে কয়বার বার লাইভ দেখতেছিস। বইন, তুই শেষ।”

” তি…তিশা! দরজা লাগা জলদি! নয়তো আম্মু এসে দেখে ফেলবে?

“আন্টি দেখবে? না-কি তোর আধীর? সে তো ঢাকায় স্টেজ কাঁপাচ্ছে। আর তুই এখানে বালিশ জড়ায় ধরে লাল হচ্ছিস। প্রেমে পড়লে মানুষ এত ঢং করে জানতাম না।”

“ঢং না! সত্যি! আমার হাত-পা কাঁপতেছে দেখ। এই যে গলাটা শুনলে… উফ! আমার তো মনে হয় আমি হার্ট অ্যাটাক করবো। তিশা, ওর সামনে গেলে আমি সেন্সলেস হয়ে যাবো শিওর।”

“টিভিতে আধীর তখন ফুল কনফিডেন্স নিয়ে গাইছে। হাজারটা ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বলছে ওর মুখে। ইনায়া ল্যাপটপের একদম কাছে মুখ নিয়ে গেলো, ফিসফিস করে বললো, –“আরশিয়ান আধীর চৌধুরী, তুমি জানোও না তুমি চট্টগ্রামের একটা মেয়ের ঘুম কেড়ে নিয়েছো। তোমার ওই চোখ… ওই হাসি… আমি শেষ!”

“চট্টগ্রামের একটা মেয়ের না ইনু সব মেয়ের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এই আধীর।”

–“ঠিক বলছিস! শুধু আমার না স”…

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আরশিয়া তাঁর আগেই তিশা বলে”..

“হইছে হইছে। এবার পপকর্ন খা। নইলে তোর ক্রাশ কে দেখতে দেখতে না খেয়ে মরে যাবি।

“খাবো না। খেতে গেলে ওকে মিস করবো। দেখ না কীভাবে তাকায়! মনে হয় বলতেছে, ‘ইনায়া, গানটা তোমার জন্য’।”

“ও বলছে গান টা তোর জন্য? এতো বেশি বুঝিস কেনো?”

“ইনায়া বালিশ ছুঁড়ে মারলো তিশার দিকে, কিন্তু চোখ স্ক্রিন থেকে সরলো না এক সেকেন্ডের জন্যও। বাইরে চট্টগ্রামের পূর্ণিমার চাঁদ, আর ঘরে একটা মেয়ে লজ্জায়, প্রেমে, এক্সাইটমেন্টে কাঁপছে।

আধীরের প্রতিটা লাইন, প্রতিটা এক্সপ্রেশন ওর বুকের ভেতর তীরের মতো বিঁধছে। এই প্রথম কারো জন্য এমন লাগছে। এটাই কি ক্রাশ? নাকি এর নাম ভালোবাসা? ইনায়া জানে না। শুধু জানে, স্ক্রিনের ওই ছেলেটা এখন ওর রাতের ঘুম, দিনের ভাবনা, সব।

” আধীর চৌধুরী… ইউ হ্যাভ নো আইডিয়া তুমি কী করেছো আমার। আমি তোমার কাছে যাবোই… যেভাবেই হোক।

ল্যাপটপের আলোয় চকচক করে উঠলো ইনায়ার চোখ। সেখানে লজ্জা আছে, পাগলামি আছে, আর আছে একরাশ জেদ।”

🌿

ব্যাকস্টেজ, ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা,
শেষ গানের শেষ নোটটা মিলিয়ে যেতেই পুরা হল ফেটে পড়লো চিৎকারে। “আধীর! আধীর! ওয়ান মোর! ওয়ান মোর!”

“স্টেজের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আরশিয়ান আধীর চৌধুরী। মুখে সেই কিলার স্মাইল। গিটারটা পিঠে ঝুলিয়ে দুই হাত তুলে ক্রাউডকে থামালো। তারপর মাইকটা ঠোঁটের কাছে এনে ভরাট গলায় বললো,

–“ঢাকা, ইউ হ্যাভ বিন অ্যামেজিং! থ্যাংক ইউ ফর দ্যা লাভ। গুড নাইট!”

“সাথে সাথে ঝপ করে সব লাইট অফ। স্পটলাইট নিভে গেলো। ধোঁয়ার ভিতর দিয়ে হেঁটে স্টেজ থেকে নামলো আধীর। কনফিডেন্ট, কুল, অ্যান্ড কমপ্লিটলি আনবদার্ড। এটা ওর তৃতীয় সলো কনসার্ট—নার্ভাসনেস শব্দটা ওর ডিকশনারিতে নাই।

“স্টেজ থেকে নামতেই আধীরের দিকে দৌড়ে এলো আরশ। চাচাতো ভাই হলেও বেস্টফ্রেন্ডের মতো, দুইজন সব সময় এক সাথেই থাকে। আরশের পিছু পিছু ম্যানেজার ও আসে।
—অল ইন ওয়ান। হাতে টাওয়েল, এনার্জি ড্রিংকস আর মুখে ১০০ ওয়াটের হাসি।

“ভাইইই! ইউ ওয়্যার ইনসেইন! পুরাই ফাটায় দিছো! স্টেজে আগুন ধরায় দিছো তুমি!”

“আধীর টাওয়েলটা নিয়ে ঘাড় মুছতে মুছতে বাঁকা হাসলো, –“ফাটাবো না তো কী? আধীর চৌধুরী নামটা এমনি হয় নাই।”

“সিরিয়াসলি ভাই! আমি ব্যাকস্টেজ থেকে ক্রাউড দেখতেছিলাম। মেয়েগুলা তো সেন্সলেস! “MARRY ME ADHEER” পোস্টার নিয়ে কান্নাকাটি করতেছে। সিকিউরিটি সামলাইতে পারতেছে না। তুমি যখন প্রথম গান টা গাইতেছিলা, পুরা হল পিন-ড্রপ সাইলেন্ট। তারপর যখন হাঁটু গেড়ে বসলা… উফ! আমার নিজেরই হার্টবিট মিস হয়ে গেছিলো।”

“আধীর এনার্জি ড্রিংকসে চুমুক দিয়ে ভ্রু নাচালো, –“তোরও? তুই না স্ট্রেইট?”

” আরে ধুর ভাই! আমি তোমার ভাই হিসাবে প্রাউড ফিল করতেছিলাম। বিলিভ মি, তুমি আজকে লেভেল আপ করে ফেলছো। ফার্স্ট কনসার্টেও এত ক্রেজ দেখি নাই। থার্ড কনসার্টে তুমি লিজেন্ড হয়ে গেছো।”

“ব্যাকস্টেজ ক্রুরা তখন ছুটে আসছে। কেউ ফুল দিচ্ছে, কেউ অটোগ্রাফ চাচ্ছে, কেউ ছবি তুলতে চাচ্ছে। আধীর সব হ্যান্ডেল করছে একদম কুল মুডে। কোনো তারা নাই, কোনো ভাব নাই।

” ভাই, ফোনটা দেখছো? ইনস্টা-ফেসবুক সব ব্লাস্ট! AdheerLive ট্রেন্ডিং এ ১ নাম্বার। টিকটকে তোর ক্লিপস ভাইরাল। আর ইউটিউবে লাইভ স্ট্রিমে ১০ মিলিয়ন ভিউজ ক্রস করে ফেলছে।

–“হুম। নরমাল।

“নরমাল?! ভাই তুমি মানুষ না রোবট? এত বড় শো শেষ করে তোমার চেহারায় একটা ক্লান্তির ছাপও নাই! অন্যদের দেখি শো শেষে হাঁপায়, তুমি দেখি আরও এনার্জেটিক।

আধীর আরশের কাঁধে হাত রাখলো, –“স্টেজ আমার ঘর, আরশ। ঘরে এসে কেউ ক্লান্ত হয়? বাই দা ওয়ে গাড়ি রেডি কর। বাসায় যাবো।”

” ইয়েস বস! বাট ভাই, একটা কথা। বাইরে ফ্যানদের যা অবস্থা… গেট দিয়ে বের হওয়া টাফ হবে। হাজার হাজার মানুষ ওয়েট করতেছে।

সো? লেট দেম ওয়েট। আধীর চৌধুরী ভিড় দেখে পিছনের দরজা দিয়ে পালায় না। চল, সামনে দিয়ে যাবো।

বলেই জ্যাকেটটা কাঁধে ঝুলিয়ে হাঁটা দিলো আধীর। পিছনে আরশ মাথা নাড়তে নাড়তে বিড়বিড় করলো, –“এইজন্যই তুই আধীর চৌধুরী। অ্যাটিটিউডের বাপ।”

ব্যাকস্টেজের দরজা খুলতেই বাইরের চিৎকারের আওয়াজ কানে এলো—”আধীর! উই লাভ ইউ!” আর আধীর মুখে সেই কিলার স্মাইল নিয়ে এগিয়ে গেলো। কনফিডেন্স, সুইগ আর স্টারডম—এই তিনটা শব্দই যেন ওর জন্য বানানো।

🌿

“ভোর ৮টা, চৌধুরী ম্যানশন, ঢাকা থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার ড্রাইভ শেষে কালো রেঞ্জ রোভারটা যখন চৌধুরী ম্যানশনের গেটে ঢুকলো, পূর্ব আকাশে তখন নরম রোদ। গেট খুলতেই আরশ হর্ন বাজালো—পিপ পিপ!

“গাড়ির শব্দ পেয়েই মেইন দরজা খুলে হুড়মুড় করে বেরিয়ে এলো পুরো ফ্যামিলি। সবার চোখে ঘুম, কিন্তু মুখে রাজ্যের হাসি। সারারাত জেগে ছিলো আধীরের জন্য।”

“গাড়ি থেকে নামতেই সবার আগে দৌড়ে এলো অর্ণি। –“আধীর ভাইয়া!” বলে ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। জমজ বোন, ২৩ বছর ধরে ছায়ার মতো লেগে আছে। চোখে পানি, মুখে হাসি।

“ভাইয়া তুমি তো পুরা স্টেজ কাঁপায় দিছো! আর মেয়ে গুলো তো তুমি বলতেই শেষ।”

“আধীর বোন কে জড়িয়ে ধরে চুলে হাত বুলিয়ে দিলো। তখনই এগিয়ে এলেন আদনান ছেলের কাঁধে হাত রাখলেন শক্ত করে। চোখে পানি, মুখে চাপা গর্ব।

“বাঘের বাচ্চা। পুরা দেশ কাঁপায় দিয়ে আসছিস। তুই আর অর্ণি আমার দুই চোখের মণি।”

“তোমার দোয়া ছিল আব্বু। তাই পারছি।

“আদ্রিয়ানা ছুটে এসে ছেলে কে জড়িয়ে ধরলেন। –“আয় বাবা, ঘরে আয়। সারারাত জার্নি করছিস। চোখ-মুখ শুকায় গেছে।”

“কথা গুলো বলতে বলতেই আঁচল দিয়ে আধীরের কপালের ঘাম মুছলেন।

“দাদা রাহিম লাঠিতে ভর দিয়ে এগিয়ে এলেন, পাশে দাদি জোবাইদা।

“রাহিম”..
” আমার দাদুভাই আসছে! কই আমার গানের পাখি? শুনলাম ঢাকা শহর নাকি তোর গলায় পাগল হয়ে গেছে?

“আধীর”..
দাদা, তোমার জন্য আর ছোট আব্বুর জন্য সব সম্ভব হয়েছে। তুমি আর ছোট আব্বু যদি আমার গান কে সাপোর্ট না করতে আর তোমাদের দোয়া না থাকলে আমি আজ এই আধীর হতে পারতাম না।”

“আধীরের কথা শেষ হতেই রায়হান বলে”..
–“বুকে আই বাপ।”

“জোবাইদা”..
” আয় ভাই, আয়। বাড়ির ভিতরে আয়। তোদের দুইজনের মুখ একদমই শুকিয়ে গেছে।”

“ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই টেবিল ভর্তি নাস্তা। পরোটা, গরুর কালা ভুনা, ডিম ভাজি, পায়েস, মিষ্টি—আধীর আর আরিশ দুজনেরই পছন্দের সব। পছন্দের জিনিস দেখে লোভ সামলাতে না পেরে ফ্রেশ হওয়ার জন্য দুজনে ছুটে গেলো রুমে। মিনিট দশেকের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে এসে খাবার টেবিলে বসে পড়লো। আধীর আর আরিশ খাচ্ছে আর অর্ণি ভাইয়ের পাশে বসে ভাই কে খোঁচাচ্ছে।”

“ওই, ওই যে মেয়েগুলা ‘ম্যারি মি’ লিখছিলো, তাদের মধ্যে থেকে তোমার কাকে বেশি পছন্দ হয়েছে?”

“তাঁদের সবাই কে আমার পছন্দ তবে আমার দর্শক হিসেবে…”

“আধীর এক চামচ পায়েস মুখে দিয়ে মুচকি হাসলো। অর্ণি ভ্রু নাচিয়ে খোঁচা দিলো—”উহু, দর্শক হিসেবে না। প্রেমিকা হিসেবে কাকে পছন্দ? বলো না ভাইয়া!”

“পুরো টেবিলে হাসির রোল পড়ে গেলো। আদনান পরোটা ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলল”.. “থাক, ছেলেটাকে শান্তিতে খেতে দে। সারারাত গাড়িতে, এখন আবার তোর জেরা।”

“আধীর পানির গ্লাসটা নামিয়ে রেখে বোনের মাথায় টোকা দিলো।
“শোন পাগলী, স্টেজের ওই লাখ লাখ আলো, ওই ‘ম্যারি মি’ লেখা প্ল্যাকার্ড—সব মিথ্যে হয়ে যায় যখন বাড়ি ফিরে তোর এই বকবক শুনি। যখন আব্বু আর ছোট আব্বুর চোখে গর্ব দেখি, আম্মুর আদর পাই, দাদা-দাদির দোয়া কপালে লাগে।”

“আদ্রিয়ানার চোখ ছলছল করে উঠলো। তিনি আধীরের পাতে আরেক টুকরো কালা ভুনা তুলে দিলেন। “পাগল ছেলে। খেয়ে নে।”

দাদা রাহিম হাসতে হাসতে বললেন, “দেখলে তো জোবাইদা? আমার সাপোর্ট এখন পুরো দেশের সুর হয়ে গেছে। কিন্তু ছেলের মনটা এখনও এই বাড়িতেই বাঁধা।”

“আধীর উঠে গিয়ে দাদাকে জড়িয়ে ধরলো। “দাদা, তুমি আর ছোট আব্বু আমার গান কে বেশি সাপোর্ট করছো কিন্তু ভালোবাসতে শিখিয়েছে এই ফ্যামিলি। স্টেজের হাজার হাততালির চেয়ে আব্বুর একবার কাঁধে হাত রাখা, আম্মুর একবার কপালের ঘাম মোছা—এইগুলাই আমার আসল অ্যাওয়ার্ড।”

অর্ণি এবার আর টিজ করলো না। চুপচাপ ভাইয়ের পাশে ঘেঁষে বসলো। ২৩ বছরের জমজ ভাই-বোন, একজনের নিঃশ্বাসের শব্দ আরেকজন বোঝে।”

“বাইরে তখন সকালের রোদ আরও নরম হয়েছে। ড্রয়িংরুমের জানালা দিয়ে সেই আলো এসে পড়েছে আধীরের ক্লান্ত কিন্তু তৃপ্ত মুখে।

“ভালোবাসা আসলে এটাই—যেখানে ফিরে এলে সব ক্লান্তি মুছে যায়। যেখানে হাজার মানুষের ‘ম্যারি মি’ চিৎকারের চেয়েও দামি হয়ে ওঠে মায়ের হাতের এক টুকরো পরোটা, বাবার চাপা গর্বের হাসি, আর বোনের আদুরে খোঁচা।”

“পাখিরা সারপ্রাইজ পর্ব কেমন লেগেছে অবশ্যই জানাবেন।
আর সিজন ২ কিন্তু খুব শীঘ্রই আসছে। অপেক্ষা করো পাখিরা।

  ~~"সমাপ্ত"~~

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply