Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আন প্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪৪


দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ

পর্ব : ৪৪

জাহিরুলইসলামমাহির

🌿
“লাইটিং এর আলোয় ঝলমল করছে পুরো চৌধুরী বাড়ি। কারণ আজ চৌধুরী বাড়ির ছোট ছেলে জাবির রায়হান চৌধুরীর গায়ে হলুদ। বাড়ির ছাদ টা বেশ বড় হওয়ায় ছাঁদেই হলুদের ডেকোরেশন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের নামি দামি বিজনেস ম্যানদের কে ও ইনবাইট করা হয়েছে।”

“রাত এগারোটার দিকে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়। রায়হান আর আদ্রিজা কে স্টেজে নিয়ে বসানো হয়। প্রথমে রাহিম আর জোবাইদা স্টেজে উঠে। রায়হান আর আদ্রিজা দুজনেই রাহিম আর জোবাইদা কে সালাম করে। রাহিম আর জোবাইদা রায়হান আর আদ্রিজা কে হলুদ সুঁইয়ে স্টেজ থেকে নেমে আসে। তাঁর পর আদনান আর আদ্রিয়ানা স্টেজে উঠে। দুজনে রায়হান আর আদ্রিজা কে হলুদ সুঁইয়ে দেয়। হালকা কিছু খাইয়ে দিয়ে দু’জন কে টাকা দেয় আদনান। আদনান আর আদ্রিয়ানা স্টেজ থেকে নামার পর এক এক করে সবাই হলুদ সুইয়ে দিতে থাকে। হলুদ সুয়ানো শেষ হলে ড্যান্সের পর্ব শুরু হয়। রায়হান আদ্রিজা দুজনেই ড্যান্স করে। রাত তিনটার দিকে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হলে যে যার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ে।”

🌿
“পরের দিন রাত আটটায় রায়হান আর আদ্রিজা কে স্টেজে এনে পাশাপাশি বসানো হয়। কাজী সব কিছু লিখে নিয়ে বিয়ে পড়ানো শুরু করেছে। সব কিছু শেষে কাজী প্রথমে রায়হান কে কবুল বলতে বলে”…

“আলহামদুলিল্লাহ কবুল কবুল কবুল।”

“কাজী এইবার আদ্রিজা কে কবুল বলতে বলে। আদ্রিজা মিনিট দুয়েক সময় নিয়ে বলে “….

“আলহামদুলিল্লাহ কবুল কবুল কবুল”

“সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠে। তিন কবুলের মাধ্যমে রায়হান আর আদ্রিজা বাঁধা পড়ে বিয়ে নামক এক পবিত্র বন্ধনে।”

🌿
“বাসর ঘরে বৌ সেজে বসে আছে আদ্রিজা। রায়হানের আসার অপেক্ষা করছে। মিনিট পাঁচেক পর আদ্রিজার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রায়হান বাসর ঘরে প্রবেশ করে। রুমের দরজা লক করে এগিয়ে যায় বেডের দিকে। আদ্রিজার সামনে বসে ঘোমটা টা উপরে তুলে। আদ্রিজা একটা লজ্জা মিশ্রিত হাঁসি দেয়। রায়হান বুকের বাঁ পাশে হাত দিয়ে বেডের উপর থেকে ফ্লারে পড়ে যায়।”

–“হায় মে তো মার গিয়া।”

“আদ্রিজা রায়হানের দিকে একটা বালিশ ছুঁড়ে মেরে বলে”….

“বেয়াই বেড থেকে যেহেতু নেমেই গেছেন সেহেতু আর বেডে উঠা লাগবে না।”

“বেডে উঠা লাগবে না মানে?”

“বেডে উঠা লাগবে না মানে আপনি বেডে ঘুমাতে পারবেন না।”

“তাহলে আমি কোথায় ঘুমাবো?”

—“ফ্লারে?”

–“আমি ফ্লারে ঘুমাবো?”

–“হুম।”

“রুম আমার বেড আমার অথচ আমাকেই বেডে ঘুমাতে দেওয়া হচ্ছে না?”

–“হুম।”

“রায়হান কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিজা আবার বলে উঠে”..
“দেখুন আমার খুব ঘুম পাচ্ছে আমি এখন ঘুমাবো। আমাকে ডিস্টার্ব করবেন না।”

—“মানে কি? আজকে আমাদের বাসর। বাসর না করে”…

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না রায়হান তাঁর আগেই আদ্রিজা বলে উঠে”..

“কানের কাছে একদমই ঘেন ঘেন করবেন না বলে দিলাম।”

“রায়হান বেডের উপর উঠে বসে। আদ্রিজার দিকে কিছু টা ঝুঁকে আদ্রিজা কে ডাকে”…

“বৌজান ও বৌজান শুনছো?”

“আদ্রিজা শুনে ও না শুনার ভান করে শুয়ে আছে।”

“বৌ গো এক টা ছেলের বাসর রাত নিয়ে অনেক স্বপ্ন থাকে। ঠিক তেমন আমার ও আছে। আমার স্বপ্ন গুলো কে এইভাবে মাটি চাপা দিয়ে দিও না। বাসর টা করতে দাও না প্লীজ।”

“আদ্রিজা ঘুমের ভান ধরে শুয়ে আছে। রায়হান আদ্রিজা কে আরো কয়েকবার ডাকে কিন্তু আদ্রিজা কোন সাড়া দেয় না। ভাঙ্গা মন নিয়ে বেড থেকে নেমে দাঁড়ায় রায়হান। আদ্রিজার দিকে তাকিয়ে বলে”…

“আমার বাসর রাতের স্বপ্ন গুলো নষ্ট করে শান্তিতে ঘুমানো হচ্ছে তাই না। তোমার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছি ওয়েট।”

“রুমে থাকা সাউন্ড বক্সে ফুল সাউন্ডে গান চালিয়ে দেয় রায়হান। গানের সাথে সাথে নিজেও চিৎকার করে গান গাইতে শুরু করে”…

“সাতাশে দিছি পা, আর কবে বাসর করবাব।”
“লেট করলে হবে দেরিররর, হবে ইসনু কুলু করবাম।”
“ঘুম আসে না ভালো লাগে না বেকায় দ্যা বেরাম।”

“আমায় বাসর করতে দাও, বাসর করতে দাও, বাসর করতে দাও বৌ জান।
“আমায় বাসর করতে দাও, বাসর করতে দাও, বাসর করতে দাও বৌ জান।”

“বালিশ দিয়ে কান চেপে ধরে শুয়ে আছে আদ্রিজা। আর রায়হান গান গাইছে আর ড্যান্স করছে।”

🌿
“পরের দিন সকালে আদ্রিজার ডাকে রায়হানের ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম ঘুম চোখে শুয়া থেকে উঠে বসে রায়হান। আদ্রিজার দিকে তাকাতেই আদ্রিজা একটা লজ্জা মিশ্রিত হাঁসি দেয়।”

–“গুড মর্নিং রায়হান।”

–“হুম গুড মর্নিং।”

“আদ্রিজা হাতে থাকা টাওয়েল টা রায়হানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে”…
“গোসল করবেন না বেয়াই? এই নিন টাওয়েল।”

“গোসল করবো কেন? কাল রাতে তো আমাদের মধ্যে গোসল করার মতো কিছুই হয় নিই।”

“তা জানি তাঁর পর ও সকাল সকাল গোসল করা ভালো।”

–“আমার এতো ভালোর প্রয়োজন নেই।”

“এই কথা বলে রায়হান ফ্রেশ হতে চলে যায়। মিনিট দশেক পর ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসে। টাওয়েল দিয়ে হাত মুখ মুছে নেয়। তাঁর পর দুজনেই নিচে চলে যায়।”

🌿
“অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে আদনান। কালো প্যান্ট, কালো শার্ট পড়ে নেয়। মিররের সামনে দাঁড়িয়ে চুল গুলো সেট করে নেয়। পছন্দের পারফিউম টা স্প্রে করে নেয়। ব্লেজার টা পড়ে নিজেকে শেষ বারের মতো মিররে দেখে নেয়। তাঁর পর এগিয়ে যায় আদ্রিয়ানার দিকে। আদ্রিয়ানার কপালে একটা গভীর চুমু খাই।”

“আসছি বৌ। আজকে ফিরতে দেরী হতে পারে।”

“তাড়াতাড়ি আসার চেষ্টা কইরেন। আপনাকে ছাড়া আমার ভালো লাগে না।”

“ওকেই মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার।”

“এই কথা বলে আবার ও আদ্রিয়ানার কপালে চুমু খাই আদনান। আদ্রিয়ানা ও আদনানের কপালে একটা চুমু খাই।”

—“আসছি তাহলে?”

—“সাবধানে যাবেন।

–“হুম।

“আদনান বের হয়ে যায় অফিসের উদ্দেশ্যে।”

🌿
“সন্ধ্যা সাত টা। আদনান এইমাত্র বাসার ফিরছে। রুমে প্রবেশ করতেই বড়ো সড়ো একটা শখ খাই আদনান। আদ্রিয়ানা ফ্লারে পড়ে আছে। আদনান ছুটে যায় আদ্রিয়ানার কাছে। আদ্রিয়ানা পাশে বসে আদ্রিয়ানার মাথা নিজের কোলে তুলে নেয়।”

“সানফ্লাওয়ার কি হয়েছে তোমার? কথা বলো সানফ্লাওয়ার। কথা বলছো না কেনো?”

“এই সানফ্লাওয়ার এই কথা বলো। কি হয়েছে তোমার ? কথা বলছো না কেন? তোমার পান্ডার নিঃশ্বাস আটকে আসছে কিন্তু। সানফ্লাওয়ার কথা বলো না প্লীজ।”

“আদ্রিয়ানা কোন কথা বলছে না। আদনান পাগলের মতো হয়ে যায়। আদনানের মাথা কাজ করা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। আদনান বড় বড় নিশ্বাস নিচ্ছে। চোখ গুলো কেমন লাল হয়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে এক্ষুনি কান্না করে দিবে। আদ্রিয়ানা প্রথমে এক চোখ খুলে আদনানের দিকে তাকায়। তাঁর পর দ্বিতীয় চোখ খুলে তাকায়। আদনানের অবস্থা দেখে হো হো করে হেঁসে উঠে আদ্রিয়ানা।”

“আদ্রিয়ানা কে হাসতে দেখে আদনান কেমন জানি হয়ে যায়। শুধু ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে আদ্রিয়ানার দিকে। আদ্রিয়ানা আদনান কে জড়িয়ে ধরে। আদনান এইবার হাউ মাউ করে কেঁদে দেয়। ফলে আদ্রিয়ানা আদনান কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। মিনিট পাঁচেক পর ছেড়ে দিয়ে আদনানের দুই গালে হাত রেখে বলে”…

“মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরী কান্না করছে, ভাবা যায়?”

“আদনান কিছু বলে না। শুধু ড্যাবড্যাব করে আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে থাকে। দেখে বুঝা যাচ্ছে এখনো একটা ঘুরের মধ্যে আছে সেই।”

“আদ্রিয়ানা নিজের কান ধরে বলে”…
–“সরি জামাই জান। আমার এমন টা করা একদমই উচিত হয় নিই। আর কখনোই এমন হবে না।”

“আদনান আদ্রিয়ানার কে জড়িয়ে ধরে”..
“মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার আমাকে কখনো ছেড়ে যেও না প্লীজ। তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না।”

“আচ্ছা মিস্টার পান্ডা আমাদের বেবি হওয়ার সময় যদি আমার”…

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা তাঁর আগেই আদনান বলে উঠে”…
–“এমন টা বলো না সানফ্লাওয়ার।”

–“জন্ম যখন হয়েছে মৃত্যু তো একদিন হবেই।”

“তা ঠিক। আল্লাহ যেন আমার মৃত্যু টা আগে দেয়। নয়তো তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না।”

“আপনি যেমন আমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবেন না ঠিক তেমনি আমিও আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। বাঁচলে দুইজনে একসাথে বাঁচবো আর মরলে দুজনে এক সাথে মরবো।”

—“হুম।

“এখন ছাড়েন আর গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসেন।”

“আর কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকি না তাঁর পর ফ্রেশ হবো নে।”

“আগে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসুন। তাঁর পর সারা রাত জড়িয়ে ধরে রাইখেন।”

“তাহলে একটা চুমু দাও তাঁর পর যাবো।”

“আদ্রিয়ানা আদনানের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট দুটো ডুবিয়ে দেয়। আদ্রিয়ানার সাথে আদনান ও রেসপন্স করে। মিনিট পাঁচেক পর আদ্রিয়ানা ছেড়ে দিতে চাইলে আদনান আরো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আদ্রিয়ানার ঠোঁট।”

“আদনানের বেবির জন্য কিছু ইউনিক নাম বলো যাও প্লীজ। জাহির আদনান চৌধুরী আর আদ্রিয়ানার আদ্রি চৌধুরী দুজনের নামের সাথে মিল করে বইলো। ছেলের নাম ও বলবা মেয়ের নাম ও বলবা ওকেই।

“আগের পর্বে রেসপন্স এতো কম কেন? রেসপন্স এতো কম হলে তো গল্প লেখার উৎসাহ পায় না। বেশি বেশি রেসপন্স করো প্লীজ।”

সময়ের অভাবে রিচেক দেওয়া হয় নিই

চলবে…

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply