দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ৪৮
jahirul_islam_mahir
🌿
“পরের দিন সকালে মিষ্টি রোদের আলো মুখে পড়তেই ঘুম ভেঙ্গে যায় আদ্রিয়ানার। নিজের শরীরের উপর থেকে আদনানের হাত সরিয়ে নিয়ে বেড থেকে উঠে বসে আদ্রিয়ানা। পাশ ফিরে দেখে আদনান আর বেবিরা এখনো ঘুমাচ্ছে। আদ্রিয়ানা বেড থেকে নেমে ফ্রেশ হতে চলে যায়। মিনিট দশেকের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসে। বেডের দিকে তাকিয়ে দেখে আদনান আর বেবিরা এখনো ঘুমের রাজ্যে। আদ্রিয়ানা বেডের দিকে এগিয়ে যায়। প্রথমে মেয়ে আর ছেলের কপালে একটা চুমু খাই তাঁর পর আদনানের কপালে একটা চুমু খেয়ে নিচে চলে যায়। নিচে গিয়ে দেখে জোবাইদা আর আদ্রিজা নাস্তা তৈরি করছে। আদ্রিয়ানা রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে যায়। জোবাইদা আর আদ্রিজার হাতে হাতে সাহায্য করতে থাকে। আধা ঘন্টার মধ্যে নাস্তা তৈরি করা হয়ে যায়। ততক্ষণে রায়হান ও আরশ কে নিয়ে হাজির হয়। আরশ সবাই কে উদ্দেশ্য করে বলে”..
—“সবাই কে গুত মনির।”
“আরশের কথা শুনে সবাই হেসে উঠে। এবং এক এক করে সবাই আরশ কে গুড মর্নিং বলে।”
“রায়হান আরশ কে নিয়ে ডাইনিং রুমে বসে। এবং রাহিমের সাথে কথা বলতে শুরু করে। তা দেখে জোবাইদা আদ্রিয়ানা কে উদ্দেশ্য করে বলে”…
“আদ্রিয়ানা , আদনান আর বেবিরা কি এখনো উঠে নিই?
—“নাহ আম্মু।
–“এখনো ঘুমাচ্ছে ? কয়টা বাজে যা ডেকে নিয়ে আই।
“আদ্রিয়ানা হেঁসে বলে”…
–“ঠিক আছে আমি ডেকে নিয়ে আসছি।
“এই কথা বলে আদ্রিয়ানা রুমের দিকে পা বাড়ায়। দরজা ঠেলে রুমে ঢুকে দেখে আদনান আর বেবিরা এখনো ঘুমাচ্ছে। আদ্রিয়ানা বেডের দিকে এগিয়ে যায়।
“মিস্টার পান্ডা সাহেব শুনছেন ? ও মিস্টার পান্ডা সাহেব উঠে পড়ুন আটটা টা বেজে গেছে।”
“আদনান আর বেবি কারো কোন খবর নেই তাঁরা এখনো ঘুমের রাজ্যে। আদ্রিয়ানা এইবার আদনানের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে জোরে চিৎকার দিয়ে ডাকে”..
—“মিস্টার পান্ডা সাহেব…..
“আদনান শুয়া থেকে উঠে বসে। আর বেবিরা তো বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়। অর্ণি কোমরে হাত দিয়ে আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে”..
“মাম্মাম থুমাল তি তমস্যা? তকাল তকাল এইভাবে তাকের মত তা তা তরছো তেনো?”
—“আমি কাকের মতো কা কা করছি ?
–“অবশ্যই মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার।
“রাখেন আপনার মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার নিজে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হোন এবং বেবিদের কে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ করিয়ে নিয়ে নিচে আসেন সবাই আপনার জন্য আর আপনার প্রিন্স, প্রিন্সেসের জন্য অপেক্ষা করছে।”
–“মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার বেবিদের কে ফ্রেশ করিয়ে দাও।”
—“আমি পারবো না।”
–“তাহলে আমি একা দুইজন কে কেমনে ফ্রেশ করাবো? অনেক টাইম লেগে যাবে তো?”
–“তো?”
—“তো মানে ? তুমি একজন কে ফ্রেশ করিয়ে দাও আরেকজন কে আমি করিয়ে দিচ্ছি।”
–“আমি পারবো না। আপনার প্রিন্স আর প্রিন্সেস কে আপনি ফ্রেশ করিয়ে নিয়ে আসেন।
“এই কথা বলে আদ্রিয়ানা সামনের দিকে পা বাড়ায়। যা দেখে অর্ণি আদনানের কোলে বসে আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে”…
“তেখছো পাপা মাম্মা আমাতের কে একতু ভালোবাতে না। এই জন্য থুমাকে একটা নতুন মাম্মাম আনতে বলি। আর থুতি ওই তাগল মেয়ে টার তেমে পড়ে আতো।”
“মাই ডিয়ার প্রিন্সেস তোমার পাপা তোমার ওই পাগল মাম্মাম কে খুব বেশীই ভালোবাসে বুঝতে পারছো?”
“হুম এতন তালাতালি তেশ হয়ে নাও নয়তো মাম্মাম এতে আমাতের তে আবার বকবে।”
–“ঠিক বলছো। চলো ফ্রেশ হয়ে নিই।
“আদনান অর্ণি কে কোলে নিয়ে ওয়াসরুমে চলে যায়। আর্মি কে বেবি ব্রাশ আর টুথপেস্ট দিয়ে আধীর কে ও ওয়াসরুমে নিয়ে আসে। ব্রাশের টুথপেস্ট লাগিয়ে আধীরের হাতে দেয়। আধীর দাঁত ব্রাশ করা শুরু করে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে দুজনেই দাঁত ব্রাশ করা হয়ে যায়। আদনান এক এক করে দুইজন কে মুখ ধুয়ে দেয়। তাঁর পর নিজেও ব্রাশ আর টুথপেস্ট নিয়ে নিয়ে দাঁত ব্রাশ করে নেয়।”
–“মাই ডিয়ার প্রিন্স এন্ড প্রিন্সেস চলো তাহলে এইবার নিচে যাওয়া যাক।
“আধীর আর অর্ণি এক সাথে বলে”..
—“তলো পাপা।
“আদনান দুই বেবি কে নিজের দুই কেনে তুলে নিয়ে পা বাড়ায় নিচে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। সিঁড়ির কাছে যেতেই আধীর আর অর্ণি চিৎকার দিয়ে বলে উঠে”..
–“গুট মর্নিং ছোট পাপা, ছোট মাম্মাম, দাদা, দাদু তবাই কে গুট মর্নিং।”
“আধীর আর অর্ণির কথা শুনে সবাই হেসে উঠে বলে”..
–“গুড মর্নিং আমাদের প্রিন্স এন্ড প্রিন্সেস।”
“আদনান বেবিদের কে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসে। জোবাইদা সবাই কে নাস্তা দেয়। নাস্তা খাওয়া শেষে পুরুষেরা ডাইনিং রুমে বসে গল্প করতে থাকে। আর মেয়েরা রান্না করতে থাকে। দুপুর হয়ে গেলে যে যার রুমে চলে যায়। গোসল শেষে সবাই নিচে আসে। দুপুরের খাবার খেয়ে আবার ও যে যার রুমে চলে যায়।”
🌿
“সন্ধ্যা সাত টা। আদনান অর্ণি কে রেডি করাচ্ছে। অর্ণি কে জিন্স আর কিউট টপ পড়ানো হয়েছে। অনেক কিউট লাগছে অর্ণি কে। অর্ণি কে রেডি করানো শেষে আধীর কেও রেডি করিয়ে দেয় আদনান। ছেলে আর মেয়ের কপালে চুমু খেয়ে নিজে ও রেডি হয়ে নেয়। কালো প্যান্ট আর সাদা শার্ট পড়ে নেয়। হাতা হোল্ড করা। হাতে ব্র্যান্ডের ঘড়ি। মিররের সামনে দাঁড়িয়ে চুল গুলো সেট করে নেয়। পছন্দের পারফিউম টা স্প্রে করে নিজেকে শেষ বারের মতো মিররে দেখে দেয়। বেডের দিকে এগিয়ে গিয়ে বেবিদের সাথে দুষ্টুমি করতে থাকে। মিনিট পাঁচেক পর ড্রেসিং টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখে আদ্রিয়ানা হিজাব পড়ছে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আদ্রিয়ানা ও রেডি হয়ে যায়। মিররের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে শেষ বারের মতো দেখে নেয়।”
—“মিস্টার পান্ডা সাহেব চলুন।”
“আদ্রিয়ানার কথা শেষ হতেই বেবিরা এক সাথে বলে”..
—“পাপা তালাতালি তলো।”
–“হুম চলো।
“বেবিরা হেঁসে উঠে এবং আদনানের আগে আগে হাঁটা শুরু করে। আদনান আর আদ্রিয়ানা বেবিদের পিছু পিছু হাঁটে।”
“আদনান গাড়ি ড্রাইভ করছে। গাড়ির ব্রেক ধরে আদনানের কোলে বসে আছে অর্ণি। পাশের সিটে আদ্রিয়ানা আর আধীর বসেছে। কিছুদূর যাওয়ার পর আধীর আর অর্ণি এক সাথে বলে উঠে”…
—-“পাপা আরো ডুলে তাচাও।”
–“ওকেই মাই ডিয়ার প্রিন্স এন্ড প্রিন্সেস।”
“এই কথা বলে আদনান গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দেয়। আধীর আর অর্ণি হেঁসে উঠে বলে”…
–“আলো ডরে তাচাও পাপা আলো ডরে।”
“বেবিদের কথা বা শেষ হতে না হতেই আদ্রিয়ানা বলে উঠে”..
—“মিস্টার পান্ডা সাহেব আস্তে চালান প্লীজ আমার খুব ভয় করছে।”
“আদ্রিয়ানার এমন কথা শুনে বেবিরা বলে”..
—“ভিতুর তিম একটা।”
“আদনান গাড়ির স্পিড কমিয়ে দেয়। মিনিট দশেকের মধ্যে তাঁরা পৌঁছে যায় একটা সুন্দর পার্কের সামনে। আদনান অর্ণি কে কোলে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে গাড়ির অপরপাশে এগিয়ে যায়। গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে বলে”…
—“নামুন প্রিন্স এন্ড প্রিন্সেসের মাম্মাম।
“আদ্রিয়ানা আধীর কে নিয়ে নেমে দাঁড়ায়।”
—“চলো ভিতরে যাওয়া যাক।
—“তালাতালি তলো পাপা।
“আদনান টিকেট কেটে নেয়। আদ্রিয়ানা আর বেবিদের কে নিয়ে পার্কের ভিতরে যায়। পার্কের ভিতরে যেতেই আদ্রিয়ানার চোখ পড়ে ফুসকার উপর।
—“মিস্টার পান্ডা সাহেব ওই দেখেন ফুসকা।
“আদ্রিয়ানার কথা শেষ হতেই অর্ণি বলে”..
“পাপা ওই দেতো ফুতকার দোকানে একতা তুন্দর মেয়ে বতে আতে। ওই মেয়ে তাকে মাম্মাম হিতেবে আমাল পছনত হয়েতে। তলো ও তে পোপত তরি।”
“অর্ণির কথা শেষ হতেই আধীর বলে উঠে”..
–“মাম্মাম ওই দেতো তফির দোতানে একটা হ্যান্ডতাম তেলে বতে আতে।”
“আধীরের মুখে এমন কথা শুনে অর্ণি বলে”…
–“আধীরের বাততা আধীর এইসব কোন ধরনের তথা বলতিস তুই?”
–“তুই পাপা কে তেমন ধরনের তথা বলছিস তেমন।”
–“আমি বললে তুই ও বলবি?”..
–“হুম বলবো।”
–“নাহ তুই বলতে পারবি না।”
–“তুই তদি বলতে পারিত তাহলে আমি তেনো বলতে পারবো না? আমি ও বলবো।”
–“তোরে কিন্তু মার দিবো বলে দিলাম।
–“আমি তো মনে হয় চুপ করে থেকে তোর মার খাবো। তুই আমাকে একটা দিবি আমি তোরে তিন টা দিবো।”
“অর্ণি কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদনান অর্ণি আর আধীর কে শাসন করে। ভয়ে দুজনের চুপ হয়ে যায়। আদনান আদ্রিয়ানা আর বেবিদের কে নিয়ে পার্কের অন্য পাশে যায়। হাতে হাত রেখে পার্কে হাঁটছে এক জোড়া কপথ কপথি আর তাদের ভালোবাসার দুই চিহ্ন। কিছুদূর হাঁটার পর আধীর আর অর্ণির চোখ পড়ে একটা চকলেটের দোকানের উপর। তাই দুজনে একটা বলে উঠে”..
—“পাপা ওই দেতো তকলেট আমি তকলেট খাবো।
“আদনান ছেলে আর মেয়ে কে নিয়ে চকলেটের দোকানে যায়। ছেলে মেয়ের পছন্দ মতো বিভিন্ন ধরনের চকলেট কিনে নিয়ে দোকান থেকে বের হয়ে আসে।”
“দেখতে দেখতে রাত এগারোটা বেজে যায়। পার্ক ও বন্ধ হয়ে যায়। আদনান বেবিদের কে আর আদ্রিয়ানা কে নিয়ে বাড়িতে চলে যায়।”
চলবে…
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব : ৩৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩৭