Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪৭


দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ

পর্ব : ৪৭

jahirul_islam_mahir

🌿
“সকাল দশটা। এইমাত্র আদ্রিজার ঘুম ভেঙ্গেছে। চোখ ডলতে ডলতে উঠে বসে আদ্রিজা। পাশ ফিরে দেখে রায়হান ঘুমাচ্ছে। শরীরে একটা সুতো ও নেই তাঁর। তা দেখে আদ্রিজা নিজের শরীরের দিকে তাকায়। আহহহহ করে চিৎকার দিয়ে উঠে এবং চাদর দিয়ে শরীর ঢেকে নেয়। আদ্রিজার চিৎকারে রায়হানের ঘুম ভেঙ্গে যায়।”

—“কি হয়েছে বেয়াইন? সকাল সকাল এইভাবে চিৎকার দিলে যে ?”

“আদ্রিজা রায়হানের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।”

—“বেয়াইন are you okay?”

–“কাল রাতে আপনি আমার সাথে কি করছেন?”

–“বেশি কিছু করি নিই শুধু ২৭ বছরের জমাকৃত ডিএনএ সাপ্লাই দিয়েছি।”

“সাতাশ বছরের জমাকৃত ডিএনএ সাপ্লাই দেওয়ার পর ও বলছেন বেশি কিছু করেন নিই ?”

–“হুম।

–“তাঁর মানে কাল রাতে সত্যি সত্যি আমাদের মধ্যে ওইসব হয়েছে?”

–“হুম, হয়েছে।”

–“আপনার নামে আমি মামলা করবো। আপনি আমাকে জোর করে ধর্ষণ করেছেন।”

“আস্তগোফিরুললাহ আমি কখন তোমাকে ধর্ষণ করলাম?”

–“কাল রাতে।”

–“কাল রাতে যা হয়েছে তা দুজনের সম্মতিতে হয়েছে।”

–“আমি আবার কখন সম্মতি দিলাম?”

“ভুলে গেছো কাল রাতে যে আমাকে কাছে টেনে নিয়েছিলে। আমাকে টিশার্ট খুলতে বলেছিলে?”

—“আমি এইসব বলছি? আমার তো বিশ্বাস হয় না।”

-“জানতাম তোমার বিশ্বাস হবে না। তাই তো ভিডিও করে রাখছি। এক মিনিট ওয়েট করো।”

“বেডের কাণে পড়ে থাকা ট্রাউজার টা পড়ে নেয় রায়হান। বেড থেকে নেমে ল্যাপটপ টা হাতে তুলে নেয়। ভিডিও টা অন করে আদ্রিজার দিকে এগিয়ে দেয়। আদ্রিজা ভিডিও টা দেখতে থাকে”..

“ভিডিও টা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে আদ্রিজা রায়হান কে নিজের কাছে ডেকেছে। নিজেই রায়হানের ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়েছে।”

—“এইসব মিথ্যা এআই দিয়ে বানানো হয়েছে!”

–“এটা এআই না রিয়েল। রিয়েল ভাবেই তুমি আর আমি মিলিত হয়েছি।

“আদ্রিজা এক পলক রায়হানের দিকে তাকায়। তাঁর পর শরীরে চাদর পেঁচিয়ে ওয়াসরুমে চলে যায়। আদ্রিজার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে রায়হান।”

🌿
“সন্ধ্যা সাত টা। আদনান বেবিদের কে একটু পর পর চুমু দিচ্ছে আর বেবিদের সাথে কথা বলছে। আদনানের দিকে তাকিয়ে বেবিরা হেঁসে উঠে। আদনান আর বেবিদের এমন কান্ড দেখে আদ্রিয়ানা অন্য দিকে তাকিয়ে অভিমানী সুরে বলে”…

“বেবিদের কে পেয়ে বৌ কে ভুলে গেছে। আজকে আমাকে একটা চুমু ও দেয় নিই সব চুমু বেবিদের কে দিয়ে দিচ্ছে।”

“আদ্রিয়ানা এমন কথা শুনে আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকায়। আদ্রিয়ানা অন্য দিকে ঘুরে বসে আছে। আদনান বেবিদের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলে”…

“প্রিন্স আর প্রিন্সেস তোমাদের মাম্মাম কে আজকে একটা চুমুও দেওয়া হয়নি তাই তোমাদের মাম্মাম তোমাদের পাপার উপর রাগ করছে। তোমরা চোখ টা একটু বন্ধ করো আমি তোমাদের মাম্মাম কে চুমু দিয়ে রাগ টা ভাঙ্গাই ওকেই?”

“আদনানের কথা শুনে বেবিরা আরো জোরে হেঁসে উঠে। চোখ বন্ধ না করে আসিফের দিকে তাকিয়ে হাসছে বেবিরা। আদনান বেবিদের কে চুমু খেয়ে বেডের দিকে এগিয়ে যায়। আদ্রিয়ানার দুই পাশে দুই হাত দিয়ে আদ্রিয়ানার দিকে ঝুঁকে আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়। আদনানের সাথে আদ্রিয়ানা ও রেসপন্স করো। মিনিট দশেক পর ছেড়ে দিয়ে আদনান বলে”…

–“প্রিন্স আর প্রিন্সেসের মাম্মামের কি রাগ কমেছে ?

—“একটু কমেছে।

“আদনান আবার ও আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়।

🌿

“দেখতে দেখতে কেটে গেছে দুইটা বছর। আজ আরশিয়ান আধীর চৌধুরী আর আনাবিয়া অর্ণি চৌধুরীর দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। সেই উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাড়ির ছাদে ডেকোরেশন করা হয়েছে। সব মেহমানরা ও এক এক করে আসতে চলেছে। আদনান সবার সাথে কুশল বিনিময় করছে।”

“অপরদিকে আধীর রেডি হয়ে বসে আছে কিন্তু অর্ণি এখনো রেডি হয় নিই। আধা ঘন্টা ধরে অর্ণি কে রেডি করানোর বিথা চেষ্টা করে যাচ্ছে আদ্রিয়ানা। কিছুতেই রেডি করাতে পারছে না। অর্ণি পাপা পাপা করছে আর তাঁর ছোট ছোট পা দুটো দিয়ে পুরো রুমে দৌড়াচ্ছে। আদ্রিয়ানা কিছু টা বিরক্ত হয়ে বেডের উপর বসে পড়ে। অর্ণি এক পা এক পা করে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। রুমের দরজা লক থাকায় রুমে বাহিরে যেতে পারছে না তাই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পাপা পাপা বলে কান্না করছে।
আদনান দরজা ঠেলে রুমে ঢুকে দেখে অর্ণি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে আর আদ্রিয়ানা বেডে বসে আছে। আদনান অর্ণি কে কোলে তুলে নেয়।”

–“কি হয়েছে আমার প্রিন্সেসের? কাঁদছে কেনো?”

অর্ণি আদনান কে দেখে কান্না থামিয়ে দেয় আর তার দিকে তাকিয়ে থাকে। আদনান অর্ণির গালে চুমু খেয়ে বলে”..

–“পাপার প্রিন্সেস কাঁদে না। পাপা আছে তো।”

আদ্রিয়ানা বেডের উপর থেকেই আদনান কে উদ্দেশ্য করে বলে”..

— “আপনার মেয়ে কে রেডি করাতে পারছি না। কিছুতেই রেডি হচ্ছে না।”

“আদনান হাসে আর বলে”..
” তুমি রেডি হয়ে নাও আমার প্রিন্সেস কে “আমি আমি রেডি করাচ্ছি। আদনান অর্ণি কে নিয়ে বেডের উপর বাসায়। পাশ থেকে প্রিন্সেস ড্রেস নিয়ে অর্ণি কে পড়িয়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে অর্ণি কে রেডি করানো হয়ে যায়। নীল রঙের একটা প্রিন্সেস ড্রেস পড়ানো হয়েছে অর্ণি কে। মাথায় বেন্ড, দুই বছর বয়সে অর্ণি চুল গুলো পিঠে পড়েছে। প্রিন্সেস ড্রেসে অর্ণি কে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।”

–“মাশাআল্লাহ আমার প্রিন্স আর প্রিন্সেস কে তো অনেক সুন্দর লাগছে।”

“আধীর আর অর্ণি এক সাথে বলে”…
–“thnx পাপা।

–“wllc মাই ডিয়ার প্রিন্স এন্ড প্রিন্সেস।”

“আধীর আর অর্ণি এইবার ও এক সাথে বলে”..
–“পাপা তোমাকে ও খুব সুন্দর লাগছে।”

“আদনান বেবিদের সাথে কথা বলতে থাকে। ততক্ষণে আদ্রিয়ানা ও রেডি হয়ে নেয়। আদ্রিয়ানা আজকে নীল রঙের একটা ড্রেস পড়েছে। আদ্রিয়ানার ড্রেস আর অর্ণির ড্রেস সেম। আর আদনান আর আধীরের ড্রেস সেম। চারজন কে বেশ সুন্দর লাগছে।”

–“মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার তোমার কি হয়েছে ?”

–“হুম হয়েছে দেখুন তো আমাকে কেমন লাগছে?”

“আদনানের চোখ আটকে যায় আদ্রিয়ানার উপর। আদনান হা করে তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ানার দিকে। আদনানের অজান্তে আদনানের হাত চলে যায় বুকের বাঁ পাশে।”

–“মিস্টার পান্ডা সাহেব কোথায় হারিয়ে গেলেন?”

–“তোমার মধ্যে পাখি।”

“আদ্রিয়ানা একটা লজ্জা মিশ্রিত হাঁসি দেয়। তা দেখে আদনান বলে”…

–“মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার তাহলে চলো যাওয়া যাক?”

–“হুম চলেন।

“আদনান অর্ণি কে কোলে নিয়েছে আর আদ্রিয়ানা আধীর কে। চারজনেই রুম থেকে বের হয়ে ছাঁদের উদ্দেশ্য হাঁটা দেয়। মিনিট দুয়েকের মধ্যে আদনানরা ছাঁদে পৌঁছে যায়। ছাঁদে গিয়ে দেখে রায়হান আর আদ্রিজা স্টেজে দাঁড়িয়ে আছে। রায়হানের কোলে এক বছরের একটা ছেলে বাবু। যার নাম রাখা হয়েছে আরহাম আরিশ চৌধুরী।”

আদনান আর আদ্রিয়ানা বেবিদের কে নিয়ে স্টেজে উঠে। জন্মদিন উপলক্ষে দুই টা কেক আনা হয়েছে। একটা আধীরের জন্য আরেকটা অর্ণির জন্য। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে অনুষ্ঠান শুরু হয়।”

আদনান প্রথমে আধীর কে birthday wishes করে তাঁর পর অর্ণি কে birthday wishes করে।

আধীর আর অর্ণি হেঁসে উঠে আর আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে বলে”..

Thnx পাপা।
“পাপা, আমরা থুমাকে থুব ভালোবাতি।”

“আদনান তাঁর প্রিন্স আর প্রিন্সেসের গালে চুমু দিয়ে বলে”.. –“”আমিও তোমাদের দুজনকেই খুব ভালোবাসি।”

“এইবার আদ্রিয়ানা বেবিদের কে birthday wishes করে। বেবিরা আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে বলে”..
–“Thnx মাম্মাম।

“আদ্রিয়ানার পর রায়হান আর আদ্রিজা ও বেবিদের কে birthday wishes করে।”

“কেক কাটা হয়। আদনান আর আদ্রিয়ানা বেবিদের কে কেক খাইয়ে দেয়। বেবিরা ও আদনান আর আদ্রিয়ানা কে খাইয়ে দেয়। তাঁর পর রায়হান আর আদ্রিজা ও বেবিদের কে কেক খাইয়ে দেয়। রায়হান অর্ণি কে পার্সোনালইজড জুয়েলারি গিফট দেয়। আর আধীর কে গাড়ি গিফট করে। বেবিরা রায়হানের গলা জড়িয়ে ধরে বলে”..

–“Thnx ছোট পাপা।

–“Wlc মাই প্রিন্স এন্ড প্রিন্সেস।

“রায়হানের পরে এক এক করে সবাই অধীর আর অর্ণিকে কেক খাইয়ে দেয় আর গিফট দেয়। কেক কাটার পর্ব শেষ হলে খাওয়া দাওয়ার পর্ব শুরু হয়। খাওয়া দাওয়া করে অনেক মেহমান চলে যায় শুধু নিজেদের মেহমানরা থেকে যায়।”

🌿
“রাত দুই টা। আদনান ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে আধীর আর অর্ণি ফোন দেখছে আর আদ্রিয়ানা ঘুমিয়ে পড়েছে। আদনান টাওয়েল টা বারান্দায় মিলে দিয়ে বেডের দিকে এগিয়ে যায়। আধীরের দিকে তাকিয়ে বলে”…

–“প্রিন্স ওই পাশে যাও পাপা ঘুমাবো!”

–“পাপা ওই পাতে জায়গা আতে, থুমি ওই পাতে যাও।”

–“আমি তোমার মাম্মামের পাশে শুবো।”

–“নাহ মাম্মামের পাতে আমি তুবো।”

“আদনান এইবার চোখ গরম করে আধীরের দিকে তাকায়। আধীর ভয় পেয়ে সরে বসে। তা দেখে আদনান মুচকি হেসে অধীরের গালে চুমু খাই। তাঁর পর আদ্রিয়ানার পাশে শুয়ে আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে ফেলে। আদনান আর আদ্রিয়ানার এমন কান্ড দেখে বেবিরা হেঁসে উঠে। আরো মিনিট দশেক ফোন দেখার পর ফোন রেখে দিয়ে বেবিরা আদনানের পাশে শুয়ে পড়ে”!

“ভাই গল্পের রেসপন্স এতো কম কেন? গত পর্বে চারশো টাও রিয়েক্ট হয় নিই। এমন চলতে থাকলে তো হবে না। গল্প লিখাই বাদ দিয়ে দিতে হবে। আমি অসুস্থ। অসুস্থ শরীর নিয়ে গল্প লিখছি আশা করি রেসপন্স পাবো। বেশি বেশি রেসপন্স করো প্লীজ।

চলবে…

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply