তোমাতেই_আসক্ত ২
পর্ব:১৪
তানিশা সুলতানা
নিজের কালো রংয়ের গাড়ি খানার দরজা খুলতেই আবরার তাসনিন এর ফোন খানা বেজে ওঠে। বরই বিরক্তিকর বিষয়।
আবরার কপাল কুঁচকে গাড়িতে বসে। সিট বেল্ট লাগিয়ে পকেট থেকে ফোন বের করে। স্কিনে “মিস্টার চৌধুরী” দিয়ে সেভ করা নাম্বার খানা জ্বল জ্বল করছে।
কল খানা কেটে দিতে গিয়েও কি মনে করে রিসিভ করে। ব্লুটুথ কানে গুঁজে হ্যালো বলার আগেই ওপাশ থেকে ভেসে আসে খিটখিটে কন্ঠস্বর।
“তুমি আসলে চাইছো টা কি?
ওদের ফিরে আসার টিকেট বুকিং দিয়েছিলাম। ক্যান্সেল করেছো কেনো?
” ওকে দেখে তৃষ্ণা মেটে নি আমার।
I Want to see him for a few more days.
তেঁতে উঠলো আব্দুল রহমান। ফোনের ওপাশ থেকেই চিৎকার করে বলে
“বেয়াদব ছেলে। নিজেকে দেখেছো আয়নায়? নিজের চরিত্র এবং স্বভাব সম্পর্কে অবগত আছো?
আদ্রিতা ফুলের মতো পবিত্র।
তুমি কখনোই তাকে ডিজার্ভ করো না।
” আই নো দ্যাট
বাট সে আমারই।
কল রাখুন। আই এম বিজি।
“তুমি বাড়াবাড়ি করবে না।
“ভেবে দেখবো।
বলেই কল কাটে আবরার। ফোন খানা গাড়ির ব্যাক সিটে ছুঁড়ে ফেলে।
__
আদ্রিতা সাজুগুজু করে ফেলেছে ইতিমধ্যেই। সূর্য মামা ডুবে গিয়েছে। অন্ধকার নামতে শুরু করপছে সুইজারল্যান্ড শহরে। এমন মুহূর্তে আদ্রিতা বাসা থেকে বেরুবে।
বড় মা বা অহনা কাউকেই জানতে দিবে না। এ্যানিটাকে কক্ষে বন্দি করে রেখে এসেছে। নাহলে বিচ্ছুটা পিছু ছাড়বে না যে।
দরজা ওবদি যেতেই সিয়ামের সামনে পরে। কোথা থেকে ফিরলো বোধহয়।
আদ্রিতাকে চোরের মতো বেরুতে দেখে কবিতার সুরে বলে
” চললে কোথায় সুন্দরী
ভর সন্ধ্যা রজনী
খুঁজে পেয়েছো কি মনের মানুষ
সাজবে তার সজনী?
“ওহহ হো সিয়াম ভাই
কবিতা মিললো না তো।
আপনি বরং ছন্দ মেলানোর চেষ্টা করুন। আমি সেই ফাঁকে কফি খেয়ে আসি
বলেই সিয়ামকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
” আদ্রিতা কোথায় গেলো?
হঠাৎ কেউ পেছন থেকে বলে ওঠে। সিয়াম পেছন ঘুরে অহনাকে দেখে লাজুক হাসে।
“ওই একটু হাওয়া খেতে বেরিয়েছে। এখুনি চলে আসবে।
” আমিও হাওয়া খেতে যাবো।
চলুন
বলেই বেরিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। অনুভব করে পায়ের কাছে নরম তুলতুলে একটা ছানা। অহনা নিচু হয়ে এ্যানিকে কোলে তুলে নেয়৷ আতিয়া বেগম সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে বলে
“আদ্রিতা কোথায় রে?
এ্যানিকে রুমে বন্দী করে রেখেছিলো কেনো?
মায়ের কথার জবাব না দিয়ে অহনা বলে
” আম্মু আমি সিয়াম ভাইয়ার সাথে একটু বেরুচ্ছি। আদ্রিতাকে সাথে নিয়ে ফিরবো
মায়ের জবাবের আশা না করে বেরিয়ে যায়। পেছন পেছন সিয়ামও বের হয়৷
সুইজারল্যান্ড এর রাস্তা ঘাট পরিষ্কার। যানবাহনলর কোলাহল নেই। মৃদু বাতাস বইছে। জোছনা রাত।।আসমানে থালার মতো চাঁদ উঠেছে। জুরিখ নদীর টলটলে পানি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
অহনা আপন মনে হাঁটছে। তার চুল গুলো খুব বেশি বড় নয়। কাঁধ ছাড়িয়ে পিঠ ওবদি পড়েছে। গায়ের রংও ধবধবে ফর্সা নয়। স্বাস্থ্য একটু বেশি। হবে হয়ত ৫৫-৬০ কেজি।
সাজগোজের ব্যাপারেও পারদর্শী নয়। মুখের স্কিন খুব বেশি পরিষ্কার নয়। ব্রণের দাগ, ডার্ক সার্কেল এ ভরপুর।
কালো রংয়ের টিশার্ট পড়েছে। তার সঙ্গে কালো জিন্স। চুল গুলো উঁচু করে ঝুটি বাঁধা। গলায় একটা ওড়না ঝোলানো।
তবুও সিয়ামের ভালো লাগছে। চাঁদের আলোতে মেয়েটাকে বেশ সিদ্ধ লাগছে।
“অহনা
” আই ডোন্ট ফিল লাইক টেল্কইন। আই ফিল দ্যা মোমেন্ট অফ সাইলেন্স।
সিয়ামের আর কি বলার সাহস হয় না। সে চুপচাপ হাঁটতে থাকে অহনার পাশাপাশি।
বিরবির করে কবিতা আওড়াতে ভোলে না
“ওরেহহ আমার বাংলাদেশি
তুমি সোনা ইংরেজি বলো বেশি
বাংলা আমাদের মাতৃভাষা সেটা কি জানো না?
তুমি শুধু আমারই এটা কি মানো না?
আদ্রিতা বেজায় বিরক্ত। এই দেশের মানুষ গুলো বড্ড অমানবিক তার সাথে পাষাণ। ঠিক আবরার তাসনিন এর মতো।।
এই তো কিছুক্ষণ আগে একটা ট্যাক্সি ওয়ালাকে থামিয়ে বললো
“এবি কফিশপ যাবো।
শালার বেটা শালা পাত্তা না দিয়ে চলে গেলো। আদ্রিতা কি মাগনা যেতে চেয়েছিলো না কি? টাকাই তো দিতো।
ওই শালার জীবনেও বিয়ে হবে না। সারাজীবন সঙ্গী হীনতায় ভুগবে।
তারপর আরেকটা ট্যাক্সি আসলো।।তাকে বললো। ওই শালা আবার আরও ধরিবাজ। পাঁচ মিনিটের রাস্তার জন্য পুরো দুইশো ডলার নিলো।
আদ্রিতা তো ভেবেছিলো কতো না কতো দূর। কিন্তু যখন কাছাকাছিই নামিয়ে দিলো তখন খাঁটি বাংলা ভাষায় ট্যাক্সি ড্রাইভারকে কতো করে বোঝালো টাকা কম রাখতে। সে শুনলোই না। চকচকে দুইশো ডলারের দুইটা নোট নিয়ে চলে গেলো।
তারও বিয়ে হবে না।
মনে মনে বকতে বকতে হাঁপিয়ে গিয়েছে আদ্রিতা। সে চোখ মুখ কুঁচকে কফিশপে ঢুকে পরে।
এক কোণায় একটা ফাঁকা টেবিল পেয়ে সেখানে গিয়ে বসে।
এদিক ওদিক দৃষ্টি ঘুরিয়ে আবরার তাসনিনকে খোঁজার চেষ্টা চালায়। খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। কেনোনা গোটা শপ ফাঁকা। এক কোণায় সে বসে আছে। আর আরেক কোণায় পায়ের ওপর পা তুলে আবরার তাসনিন বসে আছে। চোখে সানগ্লাস, কালো শুট, ট্রাই, চুল গুলো জেল দিয়ে সেটআপ করা। পুরোই ফর্মাল লুক।
আদ্রিতা ডান হাত খানা বুকের বাম পাশে চেপে ধরে। শুকনো ঢোক গিলে বিরবির করে বলে
” এই হাতি আমায় মারবে না কি?
ইয়া আল্লাহহ তাকে একটু কম সুন্দর বানাতে পারলেন না?
আবরারের সামনে বসে আছে একটা মেয়ে৷ হাঁটুর একটু ওপর পর্যন্ত কালো ড্রেস পড়েছে। ফর্সা পা দুটে উন্মুক্ত। আবার এক হাত উঁচু জুতো পড়েছে। মুখে কেজি খানিক মেকআপ৷
তবে হ্যাঁ দেখতক বেশ সুন্দরী। ঠিক পুতুলের মতো।।
আদ্রিতার মন খানা খারাপ হয়ে যায়। সে গালে টেবিলে মাথা এলিয়ে দেয়। ঠোঁট ফুলিয়ে বলে ওঠে
“সুন্দর মানুষের সাথে এমন পুতুলকেই মানায়। আমার মতো পাগলকে কি আর মানাবে?
বড় মা জিতেছে তার ছেলের বউ সুন্দরী।
ভাবতে ভাবতেই দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। পার্স থেকে ফোন খানা বের করে মেয়েটার কিছু ফটো তোলে। তখনই আরও কিছু লোকের আগমন ঘটে কফিশপে। তারা আবরার তাসনিন এর সামনে বসে। কোনো একটা বিষয় নিয়ে জরুরি আলোচনা করতে থাকে। আদ্রিতা বিরক্ত হয়। একটা ওয়েটারও তার দিকে এগিয়ে আসছে না৷
মেনার্স নেই তাদের। মেনুকার্ড খানা খুলে দেখতে থাকে আদ্রিতা৷
আবরারের সাথে থাকা মেয়েটা আদ্রিতাকে খেয়াল করে এবং বলে
” স্যার দ্যাটস গার্ল ইজ ওয়াচিং অ্যাচ
আবরার দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে আদ্রিতার পানে তাকায়। মুহূর্তেই তার কুঁচকানো ভ্রু আরও কুঁচকে যায়। কোনো কিছু না ভেবেই গম্ভীর স্বরে বলে ওঠে
“দ্যা মিটিং এন্ডস হেয়ার ফর টু দে।
কারো কেনো অভিযোগ করার সাহস হয় না। নিজেদের ফাইলপত্র গুছিয়ে চলে যায়।
আদ্রিতা অবাক হয়। সবাই হঠাৎ চলে যাচ্ছে কেনো? পেছন ঘুরে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছু সময়।
তারপর সামনে ঘুরতেই আবরারকে দেখতে পায়।
চমকে ওঠে।
শুকনো ঢোক গিলে রিন রিনিয়ে বলে
“আপনার বউ দেখতে এসেছিলাম। শত হোক বড় ভাই লাগেন।
কাকে না কাকে বিয়ে করলো জানার অধিকার তো আছেই তাই না?
আবরার ট্রাই ঢিলা করতে করতে শক্ত গলায় বলে
” চাপকে গাল লাল করে দেওয়ার অধিকারও আমার আছে।
চলবে
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৬
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১১
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১১
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৪
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩৩
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১৩
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৮
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৯
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৪
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২১